Showing posts with label সার. Show all posts
Showing posts with label সার. Show all posts

কিভাবে ভেজাল রাসায়নিক সার শনাক্ত করবেন ?

Sunday, April 8, 2018


বর্তমানে আধুনিক কৃষি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় রাসায়নিক সার একটি অত্যাবশ্যকীয় উপকরণ হিসাবে বিবেচিত। তবে ভালো ফনল পাওয়া জমির স্বাস্থ্য ও উৎপাদনশীলতা ধরে রাখার জন্য সুষম মাত্রায় সার ব্যবহার করা অত্যান্ত প্রয়োজন। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা অর্জনের লক্ষে সারে ভেজাল দ্রব্য মিশিয়ে নকল সার বা ভেজাল সার তৈরি ও বিক্রি করছেন। কৃষকগণ জমিতে সার দেওয়ার আত্মতৃপ্তি লাভ করতে পারলেও ফসলের কাঙ্খিত ফলন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আসুন জেনে নেয়া যাক ভেজাল রাসায়নিক সার বলতে কি বুঝায়।

ভেজাল রাসায়নিক সার কি:
ভেজাল সার বলতে বুঝায় যে সারের মধ্যে যে পরিমান পুষ্টি থাকার কথা সে পরিমান না থাকা, সারের মধ্যে অন্য কোন অপদ্রব্য মেশানো অথবা সারের মত অপদ্রব্যকে সার হিসাবে বিক্রয় করা বা বিক্রয়ের উদ্দেশে দোকানে রাখা। এখানে পুষ্টি উপাদান বুঝা যাবে না কিন্তু পুষ্টি উপাদান আদৌ আছে কিনা তা বুঝা যাবে। মাঠ পর্যায়ে যে সার পাওয়া যায় সেগুলোর ভেজাল শনাক্তকরণের সহজ উপায় নিচে বর্ননা করা হল:-

ইউরিয়া সার:
১. লবণ মিশ্রিত থাকলে জিহব্বায় লাগালে লবণের স্বাদ পাওয়া যাবে।

২. একটি চা চামচে সামান্য পরিমাণ (বড় দানা ৪-৫ টি) ইউরিয়া নিয়ে মোমবাতির শিখায় গরম করলে অথবা তার সাথে সামান্য পানি ছাড়া কালি চুন (পান খাওয়া চুন) মিশিয়ে মোমবাতির আগুনে গরম করলে ঝাঁঝালো গন্ধযুক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাস (আগের রাতের মাংস, মাছ, ডিম খেয়ে সকালে প্রসাবে যে গন্ধ পাওয়া যায়) উৎপন্ন হবে অর্থাৎ সারে যে নাইট্রোজেন আছে তা নিশ্চিত হলো।

টিএসপি:
 ১. সঠিক টিএসপি সার জিহব্বায় দিলে বা দাঁত দিয়ে ভেঙ্গে দিলে অম্ল স্বাদযুক্ত ( পেটে গ্যাস্টিক বা গ্যাস হলে মুখ দিয়ে মাঝে মাঝে টক যে স্বাদ পাওয়া যায়)।

২. এক চা চামুচ টিএসপি সার ঠান্ডা পানিতে মেশালে সার সম্পন্ন দ্রবীভুত হয়ে ডাবের পানির মত পরিস্কার দ্রবণ তৈরী করবে। ভেজাল থাকলে ঘোলা দ্রবণ তৈরী করবে এবং অধিক ভেজাল থাকলে নিচে তলানি পড়বে।


ডিএপি সার:
 ১. হাতের তালুতে সামান্য ডিএপি সার নিয়ে তার মধ্যে সামান্য পান খাওয়া চুন মিশিয়ে বুড়ো আঙুল দিয়ে নাড়াচাড়া থাকলে অ্যামোনিয়া গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যাবে।

২. আধা চা চামুচ ডিএপি সার একটি জলন্ত মোমবাতি শিখায় গরম করতে থাকলে প্রথমে চটচট করে শব্দ হবে, গরম করা অব্যাহত থাকলে সার আস্তে আস্তে গলে বুদবুদ করে ফুটতে থাকবে এবং বুদবুদ করতে করতে শুকিয়ে যাবে, চামচে সাদা আবরণ দেখা যাবে। বুদবুদ উঠার সময় ঘ্রাণ নিলে তীব্র অ্যামোনিয়া গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যাবে।

এমওপি সার:
 ১. এমওপি সারের রঙ লাল হলেও এ হাতে লাগে না কিন্তু কোনো দ্রব্যে রঙ মেশালে ভিজা হাতে সে রঙ লাগবে।

২. হাতের তালুতে সামান্য এমওপি সার নিয়ে তার মধ্যে সামান্য পানি দিলে অনেক ঠান্ডা অনুভুত হবে এবং আঙুল দিয়ে নাড়াচাড়া করতে থাকলে আসল এমওপি সার গলে যেতে থাকবে।

৩. সার গলে যাওয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে যে আসল এমওপি সার আস্তে আস্তে গলে দানাগুলো ছোট হতে থাকলেও লাল রঙ দেখা যাবে। কিন্তু রঙ মিশ্রিত কোন জিনিস তার মধ্যে থাকলে প্রথমে লাল রঙ হয়ে উঠে যাবে, পরে ছোট কণায় আর লাল রঙ দেখা যাবে না। বালি কাঁচের গুড়া মিশ্রিত থাকলে তা মোটেও গলবে না।

জিপসাম সার:
 ১. জিপসাম সার সাদা পাউডারের মতো।

২. বাতাসের আদ্রতায় তুলা তুলা ভাব দেখা যায়। গায়ে তুলা তুলা ভাব না থাকলে বুঝতে হবে পানি মেশানো হয়েছে অথবা ভেজাল সার।

বোরন সার:
 ১. বোরন সার দেখতে হালকা মিহি পাউডারের মতো। আধা গ্লাস পানিতে এক চামচ বরিক এসিড বা সলুবর মিশালে সার সম্পন্নভাবে গলে যাবে এবং কোন তলানি পড়বে না।

২. সলুবর ওজনে হালকা বিধায় বরিক এসিড বা বোরাক্সের তুলনায় এর প্যাকেট দিগুন বড় হয়।


দস্তা সার:

 ১. মনোহাইড্রেট জিংক সালফেট দেখতে দানাদার কিন্তু হেপ্টাহাইড্রেট জিংক সালফেট স্ফটিকার বা আঁকাবাঁকা। হেপ্টাহাইড্রেট জিংক সার সম্পূর্নভাবে পানিতে গলে যায় এবং কোনো তলানি পড়ে না। কিন্তু মনোহাইড্রেট জিংক সার পানিতে সম্পূর্ন গলে না বরং দ্রবণ ঘোলাটে হয়।
২. যে কোনো ধরনের দস্তা সার হাতের তালুতে নিয়ে তাতে সামান্য পানি দিয়ে হাতের আঙুল দিয়ে নাড়াচাড়া করতে থাকলে সার গলতে থাকবে এবং হাতের পানি আস্তে আস্তে গরম হতে থাকবে। পানি যত গরম হবে বুঝতে হবে ওই সারের নমূনায় তত বেশি দস্তা আছে  অর্থাৎ সারটি ভালো দস্তা সার।
তথ্যসূত্রঃ সফল খামারী

সারের অপপ্রয়োগে জমির শক্তি কমছে

Tuesday, February 7, 2012


পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কৃষকেরা না জেনে জমিতে দ্বিগুণ সার প্রয়োগ করে আসছে। প্রয়োজন না থাকলেও এমনকি প্রতিযোগিতা করে অনেক জমিতে বেশি সার প্রয়োগ করে। ফলে একদিকে এই এলাকার জমির গুণাগুণ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উপজেলার কৃষি অফিসসহ একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, কৃষি বিভাগ ও কৃষকদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে এই এলাকার কৃষকেরা জমিতে সার প্রয়োগের মাত্রা সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাচ্ছেন না। সারের যথেচ্ছ ব্যবহার কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আশানুরূপ ফসলও ফলাতে পারছেন না কৃষকেরা। জমিতে সার প্রয়োগের সময় ও পরিমাণের কথা উল্লেখ করলে দেখা যায়, তারা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি সার প্রয়োগ করছেন। অন্য কৃষকের দেখাদেখি অনেকে প্রতিযোগিতা করেও অহেতুক বেশি সার প্রয়োগ করেন। সার ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে তারা কিছু জানেন না।

বাউফল উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আনছার উদ্দিন মোল্লা জানান, 'কৃষক অফিস আসতে চাচ্ছে না। বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরামর্শ দিলেও তারা এ পরামর্শ গ্রহণ করতে রাজি নয়। বিদেশে টাকার বিনিময় কৃষি সেবা গ্রহণ করেন। বাংলাদেশে ফিরে সেবা দিলেও এ সেবা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। মাটির গুণাগুণ সম্পর্কে কৃষকদের তেমন ধারণা নেই।' মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করায় জমির উর্বরাশক্তি হ্রাস পাচ্ছে। অনেকে জমিতে প্রতিবছর শুধু ধান উৎপন্ন করে। কিন্তু মাটি পরীক্ষা করে অর্থকরী অন্যান্য ফসলও চাষ করা যায়। এতে কৃষকের লাভ বেশি হতো। মাটি পরীক্ষার জন্য তাদের কাছে ওষুধ ও যন্ত্রপাতি রয়েছে। সামান্য ফি দিয়ে কৃষকরা মাটি পরীক্ষা করে নিতে পারেন। কারো একার পক্ষে ফি দেওয়া সম্ভব না হলে সমষ্টিগতভাবে ফি জমা দিতে পারেন। সরেজমিন দেখা গেছে, কৃষক হেমায়েত উদ্দিন জমিতে সার প্রয়োগ করছে। কতটুকু জমিতে কি পরিমাণ সার লাগবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যত বেশি সার প্রয়োগ করতে পারা যায় ততোবেশি ফল পাওয়া যাবে। উপজেলায় কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে সার বিতরণ করায় কৃষক জমিতে বেশি সার ব্যবহার করা হচ্ছে। ভালো ফলনের পূর্বশর্ত হলো ভালো বীজ। কিন্তু এই জেলার কৃষক ভালো বীজ পান না। সরকার চাহিদার তুলনায় মাত্র ৫ শতাংশ বীজ সরবরাহ করে। আর প্রত্যায়িত বীজ সরবরাহ করে মাত্র ১ ভাগ। বাকি বীজ কৃষকরা নিজেদের উৎস থেকে সংগ্রহ করেন। কৃষকরা জানেন না বীজ কিভাবে উৎপন্ন ও সংক্ষরণ করতে হয়।

সারের জন্য কৃষককে আর জীবন দিতে হবে না : শিল্পমন্ত্রী

Friday, September 24, 2010


অতীতের মতো সারের পেছনে কৃষককে ছুটতে হবে না বা সারের জন্য জীবন দিতে হবে না। চলতি বছরের জন্য সারের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ লাখ ৩১ হাজার মেট্রিক টন। চাহিদা পূরণের জন্য দেশে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশে থেকেও বেশি পরিমাণ সার আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার শিল্প মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে গত দেড় বছরে নিজের মন্ত্রণালয়ের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে এক সংবাদ সম্মেলনে শিল্পমন্ত্রী দীলিপ বড়ুয়া এ কথা বলেন। নর্থ-ওয়েস্ট এবং ভোলার শাহবাজপুর ফার্টিলাইজার প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে মন্তব্য করে দীলিপ বড়ুয়া বলেন, গ্যাস সরবরাহের কারণে কারখানা বন্ধ থাকলেও আসন্ন ইরি-বোরো মৌসুমে সারের কোনো সঙ্কট হবে না। এ জন্য সরকারের আগাম প্রস্তুতি রয়েছে।

৪৬ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আরো তিনটি নতুন সার কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বছরে ৫ লাখ ৭৭ হাজার ৫'শ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন তিনটি নতুন গ্যাস নির্ভর সার কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ইতিমধ্যে শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।

মন্ত্রী সাংবাদিকদের কাছে ৬ সেপ্টেম্বর অনুমোদন হওয়া জাতীয় শিল্পনীতি-২০১০ সম্পর্কে বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, এ শিল্পনীতির লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি শিল্প সমৃদ্ধ মধ্য আয়ের দেশে পরিনত করা। এছাড়া বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী করাও এ শিল্পনীতির অন্যতম উদ্দেশ্য। আমরা চাই জাতীয় আয়ে শিল্পের অবদান হোক ২৮ থেকে ৪০ শতাংশ।

সিএনজি চালিত থ্রি হুইলার সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী জানান, এটলাস (বাংলাদেশ) লিমিটেড দেশেই সিএনজি চালিত থ্রি হুইলার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ব লাভজনক কোনো কারখানা সরকার বেসরকারিকরণ করবে না। অল্প দিনের মধ্যেই আরো চারটি বন্ধ পাটকল চালু করা হবে।

বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা এবং চারদলীয় জোট সরকারের অপশাসন ও দুর্নীতির মধ্যে ক্ষমতা নিয়ে বর্তমান সরকার দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে বলেও মন্তব্য করেন দীলিপ বড়ুয়া।

আইপিএম (IPM)-সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা

Saturday, August 7, 2010


আই পি এম কি?

আই পি এম বা সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা বলতে পরিবেশকে দুষণমুক্ত রেখে প্রয়োজনে এক বা একাধিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ফসলের ক্ষতিকারক পোকা ও রোগ বালাইকে অর্থনৈতিক ক্ষতি সীমার নিচে রাখাকে বুঝায়, যাতে করে:
● পরিবেশ দূষিত না হয়।
● উপকারী পোকামাকড় সংরক্ষণ, বালাই সহনশীল জাত ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ব্যবহার এবং সর্বশেষ ব্যবস্থা হিসেবে বালাই নাশকের সময়োচিত ও যুক্তি সঙ্গত ব্যবহারকে নিশ্চিত করে।

আই পি এম-এর উপকারিতা কি?

● আই পি এম গ্রহনের ফলে উপকারী পোকা মাকড়, মাছ, ব্যাঙ, পশু, পাখী ও গুইশাপ প্রভৃতি সংরক্ষণ করা যায়।
● বালাইনাশকের যুক্তি সঙ্গত ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, যথেচ্ছ ব্যবহার না হওয়ায় উৎপাদন খরচ কমে।
● বালাইনাশকের পরবর্তী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রোধ করা সম্ভব হয়। এতে করে বালাইনাশক জনিত দুর্ঘটনা সহজেই এড়ানো যায়।
● ক্ষতিকারক পোকা-মাকড় বালাইনাশক সহনশীলতা অর্জন করার সুযোগ পায় না।
● বালাই- এর পুনরাবৃত্তি ঘটার সম্ভাবনা কম।
● সর্বোপরি পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং দুষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।

আই পি এম- এর পাঁচটি উপাদান:

১। উপকারী পোকামাকড় ও প্রাণী সংরক্ষণ:
ক. জৈবিক দমনে ব্যাঙ, চিল, পেঁচা, গুইসাপ, মাকড়সা, লেডী বার্ড বিটল, ক্যারাবিড বিটল, বোলতা, মিরিড বাগ, ওয়াটার বাগ, ড্যামসেল ফড়িং প্রভৃতি উপকারী পোকামাকড় ও অন্যান্য প্রাণী ড়্গতিকারক পোকা দমনে যথেষ্ট সাহায্য করে।
খ. উপকারী পোকামাকড়ের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য :
● ধান ক্ষেতের আইলে শিম ও শসা জাতীয় ফসল আবাদ করা ।
● জমিতে পরিমিত পরিমাণ পানি রাখা ।
● ফসল কাটার অন্তত: ৪/৫ ঘন্টা পর জমিতে লাঙল দেওয়া।
● ফসল কাটার পর আইলে কিছু খরকুটা বিছিয়ে দেওয়া।
● জমিতে বাঁশের বুষ্টার স্থাপনের মাধ্যমে বোলতা প্রতিপালন করা।
● বালাইনাশকের এলোপাতাড়ি ব্যবহার পরিহার করা।

২। বালাই সহনশীল জাতের চাষাবাদ:
ক্ষতিকারক পোকামাকড় ও রোগের আক্রমণ অনেকাংশে রোধ করতে পারে। যেমন-
● বি আর ২৬ : সাদা-পিঠ গাছ ফড়িং ও বস্নাস্ট রোগ প্রতিরোধশীল এবং পাতাপোড়া রোগ, বাদামি গাছ ফড়িং সবুজ পাতা ফড়িং আক্রমণে মধ্যম প্রতিরোধশীল। বাদামী গাছ ফড়িং ও সবুজ পাত ফড়িং আক্রমণে মধ্যম প্রতিরোধশীল ।
● ব্রি ধান ২৭: সাদা পিঠ গাছ ফড়িং এর আক্রমনে প্রতিরোধশীল। টুংরো, ব্লাস্ট, পাতাপোড়া রোগ এবং বাদামি গাছ ফড়িং ও পামরী পোকার আক্রমণে মধ্যম প্রতিরোধশীল ।
● ব্রি ধান ৩১: বাদামি গাছ ফড়িং পোকার আক্রমণে প্রতিরোধশীল এবং পাতা পোড়া ও টুংরো রোগে মধ্যম প্রতিরোধশীল ।
● ব্রি ধান ৩৫: বাদামি গাছ ফড়িং প্রতিরোধশীল এবং টুংরো রোগ মধ্যম প্রতিরোধশীল ।

৩। আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির ব্যবহার:

সুস্থ ‘বীজ, সঠিক দূরত্বে রোপন, সবল চারা, সুষম সার , আগাছা মুক্ত জমি, সঠিক পানি ব্যবস্থাপনা, সারিতে রোপণ ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি গ্রহনে অধিক ফলন পাওয়া যায়।

৪। যান্ত্রিক দমন পদ্ধতি:

● হাত জালের সাহায্যে পোকা ধরে মারা।
● আলোর ফাঁদে পোকা ধরা ।
● আক্রানত্ম পাতার আগা কেটে দেওয়া ।
● পাখি বসার জন্য ডাল পুঁতা ।
● হাত দিয়ে পোকার ডিম সংগ্রহ করে ধংশ করা । এসব পদ্ধতি ব্যবহারে বালাইকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

৫। রাসায়নিক দমন ব্যবস্থা:

● নিয়মিতভাবে অপকারী ও উপকারী পোকামাকড়ের উপস্থিতি জরিপ করা।
● সর্বশেষ ব্যবস্থা হিসেবে কেবল আক্রানত্ম জমিতে সঠিক বালাইনাশক, সঠিক সময় , সঠিক মাত্রায় ও সঠিক পদ্ধতিতে ব্যবহার করা ।

প্রথম ৪টি উপাদানের সাহায্যে ও যদি ক্ষতিকারক পোকা- মাকড় ও রোগের আক্রমণ দমিয়ে রাখা সম্ভব না হয়, কেবল তখনই সর্বশেষ ব্যবস্থা হিসেবে বালাইনাশক ব্যবহার করা র্অথাৎ পোকার সংখ্যা অর্থনৈতিক দ্বারপ্রান্তে (ইটিএল) পৌঁছে গেলে তখনই বালাইনাশক সঠিকভাবে ব্যবহার করা দরকার।

ধানের সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা নিম্নরুপ :


১. উপকারী পোকামাকড় ও প্রাণী সংরক্ষণ করুন

  • আইল ফসলের চাষ
  • বাঁশের তৈরি বুস্টার স্থাপন
  • পেস্টি সাইডের যথেচ্ছ ব্যবহার পরিহার করুন
  • ফসল তোলার পর আইলের উপর নাড়া বিছিয়ে দেয়া

২. বালাই সহনশীল জাতের চাষ করুন:

ব্রি ধান -২৭, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৩৫; বাদামি গাছ ফড়িং, পামরী, সাদা-পিঠ গাছ ফড়িং, টুংরো,বস্নাস্ট ও পাতা পোড়া, খোল পোড়া, কান্ডপচা রোগ।

৩. যান্ত্রিক উপায়ে দমন

  • আক্রান্ত পাতার অগ্রভাগ কর্তন করে
  • পোকার ডিম নষ্ট করা
  • হাত জালের সাহায্যে পোকা ধরে মারা
  • ডাল পুঁতে পাখি বসার ব্যবস'া করা
  • আলোর ফাঁদ ব্যবহার করে পোকা মারা
  • ফাঁদ পেতে ইঁদুর ধরে মারা

৪. আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি

  • সুস্থ বীজ ও চারা ব্যবহার করা
  • সুষম সার প্রযোগ
  • আগাছা বাছাই করা
  • সঠিক পানি ব্যবস্থাপনা
  • ফসলের সমকালীন চাষাবাদ
  • লাইন করে চারা লাগানো

৫. রাসায়নিক পদ্ধতিতে দমন: সর্বশেষ ব্যবস্থা হিসাবে বালাইনাশক নিয়ম মাফিক ব্যবহার করুন।

অধিক লাভ ও সুস্থ পরিবেশ- আইপিএম এর অবদান।

তথ্যসূত্র : দি-এডিটর


সুষম সার ব্যবস্থাপনা


● মানুষের মত গাছেরও বৃদ্ধির জন্য খাদ্যের প্রয়োজন আছে। সাধারণত: ফসলের খাদ্য উপাদান ১৬টি। তার মধ্যে গাছের মোট শুষ্ক অংশের শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ তৈরি হয় তিনটি উপাদানের (কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন) মাধ্যমে যা গাছ বাতাস ও পানি থেকে সংগ্রহ করে।

● বাকি মাত্র শতকরা ৫ ভাগ শুষ্ক অংশ তৈরি হয় ১৩টি উপাদানের (নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশ, সালফার, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ, তামা, জিংক, বোরণ, মলিবডিনাম ও ক্লোরিণ) মাধ্যমে যা গাছ মাটি থেকে সংগ্রহ করে থাকে।

● মাটিতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় উপাদানগুলোর মধ্যে বার বার ফসল আবাদের ফলে সাধারণত: নাইট্রোজেন ফসফরাস, পটাশ ও সালফারের ঘাটতি পড়ে।

● শস্য উৎপাদনে বিভিন্ন ধরণের সার মাটি ও শস্যের প্রকৃত প্রয়োজনের নিরীখে সঠিক পরিমানে প্রয়োগকে সুষম সারের ব্যবহার বলা হয়। সার নির্ভর কৃষি ব্যবস্থাপনায় সুষম সার সকল কার্যক্রমের মুখ্য।

● মাটি থেকে উদ্ভিদ যে পরিমান পুষ্টি গ্রহণ করে সেই পরিমান পুষ্টি পূরণের জন্য জমিতে যতটুকু সার প্রয়োগ করা প্রয়োজন তা না করার ফলে অব্যাহতবাবে জমির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে এবং দেশে কৃষি উৎপাদন দারুনভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। নিবিড় শস্য আবাদ এলাকায় বার্ষিক পুষ্টি হ্রাসের পরিমান ১৮০ থেকে ২৫০ কেজিরও অধিক বলে অনুমিত হচ্ছে।

● বাংলাদেশে উদ্ভিদের খাদ্য হিসেবে সারের ব্যবহার একবারেই সুষম নয়। বিশেষ করে দেমে পসফরাস, পটাশ ও সালফার ব্যবহারের পরিমান অত্যন্ত কম। নাইট্রোজেনের ব্যবহার প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু ফসফরাস ও পটাশের ব্যবহারের পরিমান তেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে না এমনকি কোন কোন বছর কমেও যাচ্ছে।

● শুধু নাইট্রোজেন সার ব্যবহার করে যে অতিরিক্ত ফসল পাওয়া যায় তার ফলে সঞ্চিত সহজলভ্য ফসফরিক এসিড, পটাশ ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান নিঃশেষ হয়ে যায়, যার ফলে ফসফরিক এসিড বা পটাসিয়ামের মতো বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি দেখা যায়। এই কারনে পরবর্তীকালে নাইট্রোজেন সার প্রয়োগ করে শস্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা যায় না। এ সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায় হচ্ছে মাটি পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সমূহ সঠিকভাবে বা সুষমভাবে প্রয়োগ করা।

● নাইট্রোজেন , ফসফরাস ও পটাস এই ৩টি উপাদান যখন সঠিক পরিমানে ব্যবহার হয় তখন এটি উদ্ভিদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

সুষম সার ব্যবহারের উদ্দেশ্য হলো:


ফসলেরফলনবৃদ্ধি আদি মাটির পুষ্টি ঘাটতি সংশোধন
ফসলের মান উন্নয়ন মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি
খামারের আয়বৃদ্ধি পরিবেশ ঠিক রাখা

মাটির উর্বরতা ও উৎপাদন ক্ষমতার পুনঃরুদ্ধার করণ।

সুষম হারে সঠিক পরিমান সার প্রয়োগ নিশ্চিত করার লক্ষে বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন। কৃষককে পরামর্শ দেয়ার সময় যে সকল প্রধান বিষয়, বিশেষভাবে বিবেচনা করা উচিত তা হলো:

<ফসল বিন্যাসে বর্তমান ফসলের প্রত্যাশিত ফলনের মাত্রা, নির্দিষ্ট জমির উর্বরতা, পুষ্টি উপাদানের অপরাপর উৎস (জৈব সার, সবুজ সার, ফসলের পরিত্যক্ত অংশ) প্রভৃতি বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে অজৈব সারের ধরণ ও পরিমান নির্ধারণ করা প্রয়োজন।


<বিভিন্ন প্রকারের সার প্রয়োগ পদ্ধতি ও সময়, সারে বিদ্যমান নির্দিষ্ট উপাদান সমূহের পরিমান, সারের ধরণ (জৈব সার, অজৈব সার, অদ্রবণীয় ইত্যাদি), সারের অবশিষ্ট পুষ্টির কার্যকারিতা এবং শস্য বিন্যাস ও ফসলের গড়ণ/বাড়নের পর্যায়ে তার প্রভাব এবং ফসল উৎপাদনের পরিবেশ (অর্থাৎ সেচ নির্ভর না বৃষ্টি নির্ভর) ইত্যাদি। ফসল উৎপাদনের একটি পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।

তথ্যসূত্র : দি-এডিটর

আশুগঞ্জে খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার সার


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানায় খোলা আকাশের নিচে বিভিন্ন সড়কে, ড্রেনে যত্রতত্র পড়ে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার সার। ধারণ ক্ষমতার দিগুণ মুজুদ রাখায় কারখানার বাল্ব স্টোরের টীনশেড দেয়াল ধসে প্রায় ২০ হাজার টন খোলা সার রাস্তা ও ড্রেনের উপর পড়ে বৃষ্টির পানিতে গলে ভেসে যাচ্ছে মেঘনা নদীতে। প্রতিদিনের উৎপাদিত সার ব্যাগিং করার জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা থাকলেও ৮২ হাজার টন খোলা সার মজুদ রাখার বিষয়টি রহস্যজনক। বর্তমানে নিয়মিত ব্যাগিং বন্ধ করে রবিবার এসব খোলা সার বস্ত্যবন্দি করার জন্য দরপত্র গ্রহণ করা হয়েছে।

সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, কারখানার বাল্ব স্টোরের ধারণ ক্ষমতা ৪০ হাজার টন হলেও সেখানে মজুদ রাখা হয়েছে ৮২ হাজার টন খোলা সার। অতিরিক্ত মজুদের কারণে গত বুধবার হঠাৎ বাল্ব স্টোরের দেয়াল ধসে প্রায় ২০ হাজার টন খোলা সার রাস্তা ও বড় ড্রেনের উপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। আর এসব সার বৃষ্টিতে গলে পানির সাথে ভেসে ড্রেন দিয়ে নদীতে চলে যাচ্ছে। কারখানা প্রতিষ্ঠার পর গত ৩০ বছরে বাল্ব স্টোরে এত খোলা সার মজুদ রাখার ঘটনা দেখা যায়নি। অপরদিকে সার কারখানার নিজস্ব ২টি ব্যাগিং গুদামের ধারণ ক্ষমতা ১৫ হাজার টন। এই ২টি গুদামে স্থান সংকুলান না হওয়ায় উৎপাদিত প্রায় ৩০ হাজার টন সার কারখানা ও কলোনীর বিভিন্ন সড়কে খোলা আকাশের নিচে মজুদ রাখা হয়েছে। ত্রিপল দিয়ে এসব সারের বস্তা ঢেকে রাখা হলেও বৃষ্টিতে ভিজে এবং রোদের তাপে সারের গুণাগুন নষ্ট হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকা ক্ষতির আশংকা করছে সাধারণ শ্রমিকরা। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের তেমন কোন তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। গত রবিবার সরজমিনে রির্পোট করার জন্য স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরা কারখানা গেটে গেলে তাদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তা জানান গত জুন মাসে আরো দু‘বার বাল্ব স্টোরের দেয়াল ধসে খোলা সার ড্রেনে পড়ে পানিতে ভেসে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

এ ব্যাপারে কারখানার মহা-ব্যবস্থাপক মোঃ ফরিদ উদ্দিন জানান, বর্ষা মৌসুমে সারের চাহিদা না থাকায় মজুদের পরিমাণ অনেকাংশে বেড়ে গেছে। বর্তমানে কারখানায় খোলা ৮২ হাজার টন ও বস্তাবন্দি ৫২ হাজার টনসহ মোট প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার টন সার মজুদ আছে। অতিরিক্ত মজুদের কারণে বাল্ব স্টোরের দেয়াল ধ্বসে পড়েছে। বৃষ্টির কারণে কিছু সার গলে নষ্ট হয়েছে। খোলা সার বস্তাবন্দি করতে দরপত্র গ্রহণ করা হয়েছে ।

জেলা সার সমিতির সহ-সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান জানান, আমদানিকৃত সার বাফার গুদামে মজুদ রাখায় অন্যান্য বছরের মত সেখানে এবার সার মজুদ রাখা সম্ভব হয়নি । অন্যান্য কারখানা যেহেতু বন্ধ সেহেতু সে সকল এলাকার ডিলারদের এখান থেকে সার সরবরাহ দেয়ার ব্যবস্থা নিয়ে ডিলারদের মাঝে সার বরাদ্দ বাড়িয়ে দেয়া এবং প্রায় অর্ধ লক্ষ টন সার অন্যত্র মজুদ করার ব্যবস্থা নেয়া হলেই একমাত্র এই সমস্যা সমাধান হতে পারে।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

ডায়মন্ড ব্যাকমথ ফসলের শত্রু

Monday, August 2, 2010

কপিজাতীয় সবজির জন্য এটা খুব ক্ষতিকর পোকা। বাঁধাকপি, ফুলকপি, ওলকপি, ব্রকলি, মূলা ও শালগমে এ পোকার আক্রমণ দেখ যায়। প্রাপ্তবয়স্ক ডায়মন্ড ব্যাকমথ দেখতে সরু, খুবই ছোট, ধূসর বাদামি রঙের।
লার্ভা দেখতে হালকা সবুজ, দেহে কালো লোম থাকে। স্বাভাবিক অবস্থা বিঘ্নিত হলে লার্ভা কুঁকড়ে যায়। আবার গাছ থেকে পড়ে গেলেও লার্ভা গোল হয়ে একটি রেশমের মতো সূতার সাহায্যে ঝুলতে থাকে। লার্ভা পাতা ও কুঁড়ি এমন ভাবে খায় যা দেখতে ছোট ছোট ছিদ্রের মতো হয়ে যায়। পূর্ণাঙ্গ পোকা কোনো ক্ষতি করে না।
পূর্ণ বয়স্ক মথ একত্রে তিনটি অতিক্ষুদ্র ডিম পাড়ে পাতার নিচের অংশে। ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে ক্ষুদ্র লার্ভা বা কীড়া বের হয়ে পাতা ছিদ্র করে ভেতরের কোষগুলো খেতে থাকে। আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে পরবর্তী ১০ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে বড় হয়ে পাতার বাইরের কোষও খেতে থাকে। এরপর কীড়া পাতলা সূতার মতো আবরণ দিয়ে নিজের শরীরের চার দিকে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে কোকুন তৈরি করে, যা দেখতে হালকা রেশমি জালের মতো মনে হয়। এই কোকুন পাতা বা কাণ্ডের সাথে লেগে থাকে এবং এর ভেতরেই পুত্তলী দশা কাটে। ডিম থেকে মথ পর্যন্ত জীবনচক্র সম্পন্ন হতে ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ সময় লাগে।
বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে বাঁধাকপির জন্য প্রতিকার ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন হয় যদি-
হ বীজতলায় ১০ ভাগের বেশি গাছ আক্রান্ত হয়, রোপণের পর থেকে মাথা বাঁধা শূরু হওয়া পর্যন্ত ৩০ ভাগ গাছ আক্রান্ত হয়। হ মাথা বাঁধা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ২০ ভাগের বেশি গাছ আক্রান্ত হলে এবং মাথা বাঁধা শেষ হলে বা পূর্ণতা প্রাপ্ত হলে ১০ ভাগের বেশি গাছ আক্রান্ত হলে। বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে ফুলকপি ও ব্রকলির জন্য প্রতিকার ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন হয় যদি-
হ বীজতলায় ১০ ভাগের বেশি গাছ আক্রান্ত হয়। হ রোপণের পর থেকে ১ম ফুল আসা পর্যন্ত ৫০ ভাগের বেশি গাছ আক্রান্ত হলে। হ ফুল ফোটা থেকে পূর্ণতা প্রাপ্ত হওয়া পর্যন্ত ১০ ভাগের বেশি গাছ আক্রান্ত হলে। পরিচর্যাগত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা। হ রোপণের আগে জমি তৈরির সময় গভীরভাবে চাষ করা। হ ফসল সংগ্রহের পর অবশিষ্টাংশ নষ্ট করা। হ রোপণের পর থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত ক্ষেতে বা এর আশপাশে বা আইলে সরিষাজাতীয় আগাছার নিয়ন্ত্রণ করা। হ আক্রান্ত ক্ষেতে ব্যাসিলাস থুরিনজিয়েনসিস ব্যবহার করা, এতে পোকা সাথে সাথে মরে না। পোকার খাবার অরুচি সৃষ্টি করে পোকাকে দুর্বল করে মেরে ফেলে। হ আক্রান্ত ক্ষেতে ট্রাইকোগ্রামা ব্যবহার করা। হ থেঁতলানো নিমের পাতা এক কেজি বা এক কেজি নিম বীজ ভাঙা ২ থেকে ৩ লিটার পানিতে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে আরো ২ থেকে ৩ লিটার পানি মিশিয়ে ১০ গ্রাম সাবান গুঁড়াসহ জ্বাল দিতে হয় মিশ্রণ না ফুটা পর্যন্ত। এরপর ঠান্ডা করে আরো ৫ লিটার পানি যোগ করে (মোট ১০ লিটার) ১০ গ্রাম তুঁত মিশাতে হয়। মিশ্রণটি ছেঁকে নিয়ে ক্ষেতে স্প্রে করলে এই পোকা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
হ ক্ষেত থেকে ফসল সংগ্রহের আগ পর্যন্ত কীটনাশক স্প্রে করা।


খোন্দকার মোঃ মেসবাহুল ইসলাম কৃষিবিদ

তথ্যসূত্র: শাইখ সিরাজ রচিত ‘মাটি ও মানুষের চাষবাস’ গ্রন্থ থেকে সংগ্রহীত

ইউরিয়া স্প্রেঃ আব্দুল আজিজ ফর্মূলা




মাটি ও মানুষের কৃষি ডেস্ক
ইউরিয়া ব্যবহারের আরেক ফর্মূলা রীতিমত সাড়া ফেলেছে। ক’দিন চ্যানেল আই সংবাদে প্রচারিত হচ্ছে বিষয়টি। ঘাটাইলের আব্দুল আজিজ নামের একজন কৃষক ইউরিয়া প্রয়োগের প্রচলিত সব পদ্ধতি বাদ দিয়ে পানিতে গুলিয়ে স্প্রে করছেন। আর এর মধ্য দিয়ে ইউরিয়ার ব্যবহার কমানো যাচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ ভাগ। কোথাও তার চেয়েও বেশি। এ পদ্ধতির চাক্ষুস সফলতা পেয়েছেন তিনি। জানা গেছে, প্রায় ১৬ বছর ধরে বিভিন্ন ফলফলাদির গাছে পানিতে ইউরিয়া মিশিয়ে প্রয়োগ করে আসছেন কৃষক আজিজ। এতে আনারসে ৫৬ শতাংশের এক পাখি (স্থানীয় হিসাব) জমিতে ৬ হাজার কেজি ইউরিয়ার চাহিদা মিটে যাচ্ছে মাত্র ৬০ কেজিতে, আবার উচ্চফলনশীল কুল যেমন বাউকুল, আপেল কুল কিংবা থাই কুলের ক্ষেত্রে এক একর জমিতে যেখানে প্রায় দু হাজার কেজি ইউরিয়া প্রয়োগ করে কৃষকরা সেখানে এ পদ্ধতিতে মাত্র ২০ কেজি ইউরিয়া প্রয়োগ করলেই পাওয়া যাচ্ছে কাঙ্ক্ষিত ফলন।
বিস্ময়কর এ তথ্য পাওয়ার পর মাটি ও মানুষের কৃষি’র পক্ষ থেকে ওই গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে বিষয়টির বাস্তôবতা। ঘাটাইলের শালিয়াবহ গ্রামের আব্দুল আজিজের হাত ধরে এ পদ্ধতি পৌঁছেছে অনেক দূর। এবার বোরো মৌসুমকে সামনে রেখে আব্দুল আজিজের ফর্মূলায় ইউরিয়া প্রয়োগ করছেন অনেকেই। তার কাছ থেকে অন্য কৃষকরা ইউরিয়া স্প্রে’র চুলচেরা হিসাব জেনে যাচ্ছেন। ১৬ লিটার পানিতে মাত্র ২০০ গ্রাম ইউরিয়া মিশিয়ে যে দ্রবণ তৈরি করা হচ্ছে তা স্প্রে মেশিনের মাধ্যমে ২০ শতাংশ জমিতে প্রয়োগ করা যাবে। এই প্রক্রিয়ায় দুই থেকে তিনবার প্রয়োগ করলেই মিটে যাবে এক মৌসুমে ধানে ইউরিয়ার প্রয়োজনীয়তা। সেখানে ২০ শতাংশ জমিতে তিন দফা ইউরিয়া প্রয়োগের মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রথম দফায় ১৬ লিটার পানিতে ২’শ গ্রাম, দ্বিতীয় দফায় ২৫০ গ্রাম এবং তৃতীয় দফায় ৩০০ গ্রাম সর্বমোট ৭৫০ গ্রাম ইউরিয়া প্রয়োগের। এই হিসেবে ৩৩ শতাংশের এক বিঘা জমিতে ইউরিয়ার প্রয়োজন হচ্ছে মাত্র ১ কেজির কিছু বেশি। প্রচলিত পদ্ধতিতে কৃষক যেখানে ১ বিঘা বোরো ধানের জমিতে ৪৫ থেকে ৫০ কেজি পর্যন্তô ইউরিয়া ছিটিয়ে আসছে সেখানে এই পরিমাণ শুধু নগণ্যই নয়, বিস্ময়কর বটে। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড· আব্দুল মজিদ বলছেন, বিষয়টি বিজ্ঞান বহির্ভূত নয় বরং এ পদ্ধতিতে প্রয়োগ করে ইউরিয়ার চাহিদা অনেক কমানো সম্ভব। তিনি সহযোগী বিজ্ঞানীদের নিয়ে ব্রি’র গবেষণা প্লটে প্রাথমিক পরীক্ষা নীরিক্ষার পর জানান, আব্দুল আজিজের পদ্ধতিতে ইউরিয়া প্রয়োগের মাত্রা ১ দশমিক ২। চারটি প্লটে ওই মাত্রার কাছাকাছি চার মাত্রায় ইউরিয়া স্প্রের পর তিনি জানান, আব্দুল আজিজের ইউরিয়া প্রয়োগ পদ্ধতি যথার্থই বিজ্ঞানস্মত এবং কার্যকর। কারণ, এই প্রক্রিয়ায় ধান গাছ পাতার অসংখ্য ছিদ্রের মাধ্যমে সরাসরি ইউরিয়া গ্রহণ করতে পারে। এতে খুব দ্রুতই গাছ পুষ্ট হয়ে ওঠে। যা ফলনের জন্যও ইতিবাচক। বিজ্ঞানীদের এই মন্তব্যের সঙ্গেও মাটির বিজ্ঞানী আব্দুল আজিজের মন্তôব্য মিলে যায়। আজিজ তার ভাষায় বলেছিলেন, গাছের তো মুখ কিংবা দাঁত নেই, তাই সে পাতার অসংখ্য ছিদ্রের মাধ্যমেই নাইট্রোজেন গ্রহণ করে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন-এ কর্মরত কৃষি প্রকৌশলী ইফতেখারুল ইসলামও আব্দুল আজিজের ইউরিয়া স্প্রে পদ্ধতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, ছিটিয়ে ইউরিয়া প্রয়োগ করলে ধান ফসলের জন্য তা ২০ ভাগেরও কম কাজ করে, গুটি ইউরিয়া প্রয়োগ করলে এর চেয়ে কিছুটা উপকার পাওয়া যায়। পক্ষান্তরে, মাত্রা অনুযায়ী ইউরিয়া স্প্রে করলে তার ফলাফল পাওয়া যাবে প্রায় শতভাগ। যেহেতু ধানের শেকড়ের অংশ উপরিভাগেই বেশি সেহেতু স্প্রে করা হলে সেটিই কার্যকরভাবে গ্রহণ করতে পারে। এদিকে এই প্রক্রিয়ায় মাটিতে নাইট্রোজেন ঘাটতি দেখা দিতে পারে কি-না জানতে চাইলে প্রকৌশলী ইফতেখারুল ইসলাম জানান, ইউরিয়া স্প্রে করা হলে তা শুধু ধান গাছেরর পাতাই গ্রহণ করে না, মাটিও তার প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রহণ করে। এর মধ্য দিয়ে মাটিতে মাত্রাতিরিক্ত ইউরিয়ার প্রয়োগ কমানো সম্ভব, যার মাধ্যমে মাটি ফিরে পেতে পারে তার হারানো উর্বরা শক্তি। তবে এ ক্ষেত্রে ইউরিয়া স্প্রের বেলায় মাত্রা নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে আরও কার্যকর গবেষণা হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে- বর্তমান সময়ে দেশে বছরে ইউরিয়ার মোট চাহিদা সাড়ে ২৮ লাখ মেট্রিকটন। এর মধ্যে সাড়ে ১৪ লাখ মেট্রিক টন আমদানি করা হচ্ছে আন্তôর্জাতিক বাজার দর হিসেবে যার মূল্য দাঁড়ায় ৮ হাজার কোটি টাকার উপরে। আমদানি ও অভ্যন্তôরীণ উৎপাদন মিলিয়ে বছরে ইউরিয়া প্রয়োগ করা হচ্ছে ১২ থেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার। যদিও সরকারি ভর্তূকির কল্যাণে সরকারের ৩০ থেকে ৬০ টাকায় কেনা ইউরিয়া কৃষক এখনও কিনতে পারছে কেজি প্রতি ১২ টাকায়, তারপরও দেশের প্রচুর অর্থ ব্যয় হচ্ছে কৃষির এই উপকরণ বাবদ। আব্দুল আজিজের পদ্ধটি যদি বিজ্ঞানসম্মতভাবে পুরোপুরি কার্যকর হয় তাহলে দেশ কৃষি আবাদে ইউরিয়ার ব্যবহার আশি ভাগ কমিয়ে আনতে পারবে বলে ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, পদ্ধতির যদি অর্ধাংশও সঠিকভাবে কার্যকর করা যায় তাহলেও ইউরিয়া আমদানির হাত থেকে রেহাই পাবে বাংলাদেশ। বাঁচবে কমপক্ষে ৮ হাজার কোটি টাকা। তবে এ বিষয়টি নিয়ে কার্যকর গবেষণাই এখন সময়ের দাবি।

তথ্যসূত্র: শাইখ সিরাজ রচিত ‘মাটি ও মানুষের চাষবাস’ গ্রন্থ থেকে সংগ্রহীত

লবণাক্ত ধানী জমিতে সারব্যবস্থাপনা


যে জমিতে চার ডিএস/মিটার বা এর অধিক মাত্রার লবণ থাকে কৃষিতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাকে লবণাক্ত মাটি বলে। বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় ১৩টি জেলায় (সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ভোলা, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার) ৮.৩০ লাখ হেক্টর আবাদি জমিতে বিভিন্ন মাত্রার লবণাক্ততা রয়েছে, যা ফসল উৎপাদনে হুমকিস্বরূপ।
লবণাক্ত জমিতে কী ঘটেঃ মানুষের ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের রোগীকে যেমন লবণ খেতে নিষেধ করা হয় এবং তার পরিবর্তে পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার (ডাবের পানি, কলা, গোল আলু) বেশি করে খেতে বলা হয়। সোডিয়ামসমৃদ্ধ লবণাক্ত জমির ক্ষেত্রেও কৃষি বিজ্ঞানীরা একই কথা বলে থাকেন। কেননা, অতিমাত্রায় সোডিয়াম লবণ থাকায় লবণাক্ত জমিতে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং ফলন কমে যায়। সোডিয়াম লবণের এই বর্ধিত মাত্রাকে প্রতিরোধ করতে এবং মাটির অন্যান্য খাদ্যোপাদানকে গাছের জন্য খাবার উপযোগী করতে অধিক মাত্রায় পটাশিয়াম সরবরাহের প্রয়োজন হয়। লবণাক্ততার কুফল প্রতিরোধে এবং মাটির ভৌত গুণাবলি উন্নত করার জন্য জৈব সার ব্যবহারের আবশ্যকতা দেখা দেয়।
লবণাক্ত ধানী জমিতে সার ব্যবস্থাপনায় বিশেষজ্ঞের পরামর্শঃ প্রথমেই চাষি ভাইদের করণীয় হলো মাটি পরীক্ষা করে জমিতে সারের চাহিদা জেনে নেয়া। এ ক্ষেত্রে মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মাঠপর্যায়ের অফিস থেকে সাহায্য নেয়া যেতে পারে। মাটি পরীক্ষাভিত্তিক রাসায়নিক সারের এই নিরূপিত মাত্রার সাথে অতিরিক্ত ৫ টন/হেক্টর জৈব সার বা ধৈঞ্চাসার ব্যবহার করলে প্রায় ১ টন ফলন বেশি পাওয়া যাবে। কেননা জৈব সারের মতো ধৈঞ্চাসারে নাইট্রোজেনের পাশাপাশি যথেষ্ট ক্যালসিয়াম এবং পটাশিয়াম রয়েছে। ধৈঞ্চার এই দু’টি উপাদান লবণাক্ত মাটির অতিরিক্ত সোডিয়ামকে প্রশমিত করে খাদ্যোপাদানের মধ্যে ভারসাম্য সৃষ্টি করে। ফলে ধানগাছের বাড়-বাড়তি ভালো হয় এবং ফলন বৃদ্ধি পায়। তাই জৈব ও রাসায়নিক সার সম্মিলিত ব্যবহার করলে ধানের ফলন বেশি পাওয়া যায়। অনুরূপভাবে ধানের পূর্ণ কুশি অবস্থা আসার আগেই যদি মাটি পরীক্ষাভিত্তিক সারের মাত্রার সাথে অতিরিক্ত ২০ কেজি হেক্টর পটাশিয়াম প্রয়োগ করা যায়, তবে জৈব-অজৈব সারের সমন্বয়ে প্রয়োগকৃত সারের চেয়েও বেশি ফলন পাওয়া যায়। এর কারণ হলো পটাশিয়ামসমৃদ্ধ রাসায়নিক সার থেকে অতি দ্রুত পটাশিয়াম লবণাক্ত মাটির সোডিয়ামের বাধাকে অতিক্রম করে গাছের ব্যবহার উপযোগী অবস্থায় আসে। ফলে ফলন বৃদ্ধি পায়।
চাষি ভাইদের আর্থিক দৈন্য এবং কৃষিজমির দুর্বল স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে কৃষি বিজ্ঞানীরা উপকূলীয় লবণাক্ত জমির জন্য ছাই চিকিৎসার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কেননা ছাইতে যথেষ্ট পটাশিয়াম রয়েছে। তাই ছাই প্রয়োগে ছাইয়ের পটাশিয়াম লবণাক্ত মাটির সোডিয়ামকে প্রশমিত করে ভারসাম্য তৈরি করে এবং ধানের ফলন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
বোরো মৌসুমে যে জমি লবণাক্ত (৮-৯ ডিস/মিটার) জমি আমন মৌসুমে জলমগ্ন হওয়াতে অলবণাক্ত (২-৩ ডিএস/মিটার) জমিতে পরিণত হয়। বৃষ্টির পানি বা সেচের মাধ্যমে মিষ্টি পানি জমিতে প্রবেশ করাতে পারলে লবণাক্ততা কমে গিয়ে তা স্বাভাবিক জমিতে পরিণত হওয়ায় মাটির সব খাদ্যোপাদানই ধানগাছ তখন সহজে গ্রহণ করতে পারে। তাই শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত সেচ প্রদান করেও লবণাক্ত ধানী জমির সার ব্যবস্থাপনা করা যায়।

আরমান হায়দার

তথ্যসূত্র: শাইখ সিরাজ রচিত ‘মাটি ও মানুষের চাষবাস’ গ্রন্থ থেকে সংগ্রহীত

ইউরিয়া স্প্রে করলে ফলনে প্রভাব পড়ে না!


ইউরিয়ার দ্রবণ স্প্রে করলে কাজ হয় না এবং এটা বিজ্ঞানসম্মতও নয়। ইউরিয়া পানিতে গুলিয়ে দ্রবণ তৈরি করার পর পানির সঙ্গে বিক্রিয়া করে অ্যামোনিয়াম হাইড্রো-অক্সাইড ও কার্বন ডাই-অক্সাইড হয়। ইউরিয়া দ্রবণ স্প্রে করার সময় অ্যামোনিয়া হাইড্রো-অক্সাইড ভেঞ্চ অ্যামোনিয়া গ্যাস ও পানি হয়। বিক্রিয়া রোদে ইউরিয়ার পানি স্প্রে করলে আরও দ্রুত ভেঙে অ্যামোনিয়া গ্যাস হবে। এই অ্যামোনিয়া গ্যাসের ঘনত্ব ৮ দশমিক ৫ এবং বাতাসের ঘনত্ব ১৪ দশমিক ৪। অতএব বাতাসের চেয়ে অ্যামোনিয়া গ্যাস হালকা বলে বাতাসে উড়ে যাবে। গাছের কাজের লাগবে না। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও আইএফডিসির গবেষণালব্ধ ফলাফল থেকে দেখা গেছে, ইউরিয়া ছিটিয়ে প্রয়োগ করলে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ ভাগ গাছ গ্রহণ করতে পারে। বাকি ৭০ থেকে ৭৫ ভাগ অপচয় হয়। ইউরিয়া বাতাসের সংস্পর্শে এলে ৬০ থেকে ৭০ ভাগ বাষ্পীভূত পদ্ধতিতে অ্যামোনিয়া গ্যাস, নাইট্রিফিকেশন, ডিনাইট্রিফিকেশন এবং নাইট্রোজেন ও নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাস হিসেবে উড়ে যায়। বাকি পাঁচ থেকে ১০ শতাংশ নাইট্রেট হিসেবে চুইয়ে ভূগর্ভের পানির স্তরে মিশে যায়। বাষ্পীভূত অপচয় রোধের জন্য গুটি ইউরিয়া মাটির গভীরে প্রয়োগ করা হয়। ইউরিয়ার পানি বাষ্পীভূত হয় বলে পাতা বা কাণ্ডের ভেতরের জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুতে পৌঁছাতেই পারবে না। সাধারণভাবে দেখা যায়, ইউরিয়া উন্মুক্ত অবস্থায় রাখলে গলে ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়। দুই· মাটিতে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করলে শিকড়ের নরম মূলত্বক দিয়ে রাসায়নিক প্রতিস্থাপন বিক্রিয়ায় অ্যামোনিয়াম আয়ন কর্টেক্সে প্রবেশ করে। ওয়াকারের তত্ত্ব অনুসারে শিকড়ের শ্বসন প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট কার্বন ডাই-অক্সাইড পানির সঙ্গে বিক্রিয়া করে কার্বনিক এসিড তৈরি করে। কার্বনিক এসিড ভেঙে হাইড্রোজেন আয়ন ও বাই-কার্বনেট আয়ন জোড়া সৃষ্টি হয়। এই আয়ন জোড়া কর্দমপৃষ্ঠে প্রতিস্থাপিত হয়ে হাইড্রোজেন আয়ন ও অ্যামোনিয়াম আয়ন দ্বারা স্থানান্তরিত হয়ে নতুন আয়ন জোড়া সৃষ্টি হয়। এই আয়ন জোড়া মূলের পৃষ্ঠের হাইড্রোজেন আয়নের সঙ্গে বিনিময় করে অ্যামোনিয়াম আয়ন মূলের মধ্যে প্রবেশ করে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার জন্য মাটির পরিবেশ প্রয়োজন। পাতা বা কাণ্ডে মাটির এই পরিবেশ সৃষ্টি হয় না। অপরদিকে পাতার ওপরে শক্ত কিউটিকলের স্তর থাকায় অ্যামোনিয়াম আয়ন প্রবেশ করতে পারবে না। পত্ররন্ধ্র দিয়ে অ্যামোনিয়াম আয়ন প্রবেশ করতে পারবে না, কারণ পত্ররন্ধ্রের কাজ হচ্ছে গাছের অতিরিক্ত পানি বের করে দেওয়া, বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ এবং অক্সিজেন ত্যাগ করা। উল্লেখ্য, ইউরিয়া থেকে অ্যামোনিয়াম আয়ন গ্রহণের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে শিকড়। অধিকাংশ গাছের পত্ররন্ধ্র পাতার নি্নপৃষ্ঠ থাকে বলে অ্যামোনিয়াম আয়ন প্রবেশ করতে পারবে না। তিন· গাছের অধিকাংশ পাতা তৈলাক্ত বলে পাতায় পানি অথবা ইউরিয়া স্প্রে করা পানি লেগে থাকে না। স্প্রে করার সঙ্গে সঙ্গে অ্যামোনিয়া উড়ে যায়, শুধু পানি নিচে পড়ে। দেশের ৮০ শতাংশ ইউরিয়া ধানক্ষেতে প্রয়োগ করা হয়। ধানের পাতায় ইউরিয়ার পানি লেগে থাকার প্রশ্নই ওঠে না। চার· ইউরিয়া বিষাক্ত পদার্থ বলে প্রয়োগের সময় গাছের কাণ্ড, পাতা ও শিকড়ে লাগলে পুড়ে যায়। এ জন্য কাণ্ড ও পাতা ভেজা অবস্থায় ইউরিয়া প্রয়োগ করা নিষেধ। শিকড় থেকে একটু দূরে প্রয়োগ করতে হয়। ইউরিয়ার ঘন দ্রবণ স্প্রে করলে পাতা ও কাণ্ড পুড়ে যেতে পারে। ইউরিয়া দ্রবণ স্প্রে করলে গাছের ভেতর প্রবেশ করবে না। তাহলে ঘাটাইলে ফলন ভালো হলো কেন? এর কারণ হলো, ওই এলাকা পাহাড়ি হওয়ায় মাটি উর্বর। প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো বরই, আম, জাম, কাঁটাল প্রভৃতি ফলগাছে কেউ কখনো সার দেয় না, কিন্তু ফল ধরে প্রচুর। আর ঘাটাইলের ওই গ্রামের মাটি উর্বর হওয়ায় ফলন বেশি হওয়াটা স্বাভাবিক। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, ইউরিয়া দ্রবণ স্প্রের কার্যকারিতা বিজ্ঞানসম্মত নয়।

ফরহাদ আহম্মেদ

তথ্যসূত্র: শাইখ সিরাজ রচিত ‘মাটি ও মানুষের চাষবাস’ গ্রন্থ থেকে সংগ্রহীত

জৈবসার তৈরির প্রস্তুত প্রনালী



জৈবসার তৈরির প্রস্তুত প্রনালী

বসত বাড়ীর জৈব সার কারখানা
মাটির গঠন ওগুণাগুণ ঠিক রাখতে হলে জৈব সার ব্যবহার করেই একে উৎপাদনক্ষম করতেহবে।তাইজৈব সার তৈরী ও সংরক্ষণের ব্যাপারেপ্রত্যেককৃষক ভাইয়ের যত্নবান হওয়া উচিত।সামান্য উদ্যোগ নিয়ে নিজস্ব সম্পদ কাজে লাগিয়ে প্রায় বিনাখরচে জৈব সার তৈরী করা সম্ভব।নিজস্ব শ্রম ও গৃহস্থলী থেকে প্রাপ্ত খড়কুটালতাপাতা, কচুরিপানা, ছাই, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা,
গোবরগো-চনা, বাড়িঘর ঝাড়ু দেয়া আবর্জনা ইত্যাদি পচিয়ে বা সংরক্ষণ করেপ্রত্যেক কৃষক বাড়িতে ছোটখাটো একটি সার কারখানা গড়ে তুলতে পারে।এই জৈব সার ব্যবহারেমাটির উৎপাদিকাশক্তি যেমন ঠিকথাকবে ঠিক থাকবে অন্যদিকে রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরশীলতাও কিছুটা হ্রাসপাবে।

গোবর সার সংরক্ষণপদ্ধতি
গরুর মলমূত্র একত্রে মিশিয়ে ও পঁচিয়ে যে সার তৈরী করা হয়তাই গোবর সার।এই সার বাংলাদেশের কৃষকের কাছে অত্যন্ত পরিচিত ও উত্তমমানের সার।এত অধিক পরিমাণ জৈব সার অন্য কোনো গৃহপালিত পশুপাখি থেকেপাওয়া যায় না।কিন্তু উপযুক্ত সংরক্ষণের অভাবে এত মূল্যাবান সারটির বিরাটঅংশ বিনষ্ট হয়ে থাকে।গ্রামাঞ্চলে দেখা যায় অযত্ন ও অনিয়মে গোবর জড় করে রাখাহয়।অনেকে গর্ত করে গোবর সংরক্ষণ করেন ঠিকই কিন্তু উপরে আচ্ছাদন না থাকায় রোদ ও বৃষ্টিরপানিতে নষ্ট হয়ে যায়।কাজেই এভাবে যে সার তৈরী করা হয় তা মাটি বা ফসলের জন্য কোনোকাজে আসে না।এ ছাড়া আজকাল গোবরকে জ্বালানি হিসাবেও ব্যাপকভাবে ব্যবহারকরা হচ্ছে।এতে সম্পদের একক ব্যবহারে জমিতে সারের ঘাটতি দেখাদিচ্ছে।অথচ এই গোবরকে বায়ো-গ্যাম হিসাবে ব্যবহার করার পরেও সারহিসাবে ব্যবহার করা সম্ভব।সরাসরি গোবরকে জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করার ফলেএক-তৃতীয়াংশ গোবর সার বিনষ্ট হচ্ছে।প্রতিদিন যেটুকু গোবর পাওয়া যায় তা সযত্নেসংরক্ষণ করা উচিত।কারন কাঁচা গোবর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা ঠিক নয়।আবার সাধারণত গোবরজমা করে রাখলেও সারের গুণগত মান নষ্ট হয়।

উন্নত পদ্ধতিতে যেভাবে গোবর সারতৈরী করবেন
১।গোয়াল ঘরের কাছাকাছি সামান্য উঁচু স্থান বেছে নিয়ে ১.৫মিটার চওড়া, ৩ মিটার লম্বা ও ১মিটার গভীর গর্ত তৈরী করুন।গোবরের পরিমাণ বুঝেগর্ত ছোট, বড় বা একাধিক গর্ত করতে পারেন।
২।গর্তের তলা ভালোভাবে পিটিয়ে সেখানে খড়/কাঁকর/বালি বিছিয়েনিন যাতে পানি সহজে শুষে নিতে পারে অথবা গর্তের তলা এবং চারপাশে গোবর দিয়ে ভালভাবেলেপে নিতে পারেন।গর্তের চারিদিকেই তলদেশের দিকে একটু ঢালু রাখতে হবে এবংগর্তের উপরে চারপাশে আইল দিয়ে উঁচু করে রাখতে হবে যেন বর্ষার পানি গর্তে যেতে নাপারে।
৩।গর্তের পাশ থেকেগোবর ফেলে গর্তটি ভরতে থাকুন অথবা গর্তটিকে কয়েকটি ভাগেভাগ করে কয়েক দিনে এক একটিঅংশ ভরে পুরো গর্ত ভরাট করা ভালো।
৪।গর্তে গোবর ফলারফাঁকে ফাঁকে পুকুর বা ডোবার তলার মিহি মাটি ফেলুন, এতে স্তর আঁটসাট হয়এবং সার গ্যাস হয়ে উবে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না।
৫।প্রায় দেড় মাস পর সারের গাদা ওলটপালট করে দিতেহবে।যদিগাদা শুকিয়ে যায় তবে গো-চনা দিয়ে ভিজিয়ে দিন কারণ, গো-চনাও একটিউৎকৃষ্টসার।
৬।গোবরের সাথে টিআসপি (ঞঝচ) ব্যবহার করলে জৈব সারের মান ভালো হয়।গোবরের গাদার প্রতি টনের জন্য ১৫-২০ কেজিটিএসপি ব্যবহার করতে পারেন।
৭।কড়া রোদে গোবর যেনশুকিয়ে না যায় আবার বৃষ্টিতে ধুয়ে না যায় সে জন্য গাদার ওপরে চালা দিয়েদিন।খড়, খেজুর পাতা কিংবা তালপাতা দিয়ে কম খরচে এই চালা তৈরী করতেপারেন।

এমনিভাবে সংরক্ষণের ২ মাসের মধ্যেইগোবর পচে উত্তম মানের সার তৈরী হয় যা পরবর্তীতে জমিতে ব্যবহার করার উপযোগীহয়।জৈবসার ব্যবহার করে রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভশীলতা কমিয়ে আনুন এবং পরিবেশ সংরক্ষণেসচেষ্ট হন।

প্রফেসর ডঃমোঃ সদরুলআমিন উদ্ভাবিত বায়োএক্টিভেটেড পদ্ধতিতে সহজেই ২৮ দিনে উন্নত মানেরকম্পোস্ট তৈরী করা।

কচুরি পানাদিয়ে কম্পোস্ট সার তৈরী
কম্পোস্ট তৈরীর আসল কাঁচামাল কচুরিপানা ছাড়াওখড়কুটা, ঝরাপাতা, আগাছা, আবর্জনা, ফসলের অবশিষ্টাংশ একত্রে মিশিয়ে পচানো হয়-যা থেকেউৎকৃষ্টমানের কম্পোস্ট উৎপাদন সম্ভব।বর্ষায় বাংলাদেশেডোবা-নালাসহ জালাঞ্চলগুলো কচুরিপানায় ভরে ওঠে।যার ফলে পানি দূষিত হয় এবং মশার উপদ্রববাড়ে।অথচ এই কচুরিপানাকেই আমরা কম্পোস্টের আসল কাঁচামাল হিসাবেগণ্য করতে পারি।আমরা সাধারণত দুটি পদ্ধতিতে কম্পোস্ট তৈরী করতেপারি-

১।স্তূপপদ্ধতি

স্তূপ পদ্ধতি
অতিবৃষ্টি ও বন্যাযুক্ত এলাকার জন্য স্তূপবা গাদা পদ্ধতিতে কম্পোস্ট সার তৈরী করতে হবে।বসতবাড়ির আশপাশে, পুকুর বা ডোবার ধারেকিংবা ক্ষেতের ধারে যেখানে বন্যার কিংবা বৃষ্টির পানি দাঁড়াবার কোন সম্ভাবনা নেইএমন জায়গাকে স্তূপ পদ্ধতিতে কম্পোস্ট সার তৈরীর স্থান হিসাবে নির্বাচন করতেহবে।স্তূপের উপরে চালা দিতে হবে অথবা গাছর নিচে স্থান নির্বাচনকরতে হবে যাতে রোদ-বৃষ্টি থেকে রক্ষা পায়।

স্তূপের আকার
এই পদ্ধতিতেগাছের ছায়ায় মাটির ওপর ৩ মিটার দৈর্ঘ্য ১.২৫ মিটার প্রস্থ ও ১.২৫ মিটার উচুঁ গাদাতৈরী করুন।আপনার সুবিধা অনুযায়ী এই মাপ কম-বেশি করতেপারেন।প্রথমত কচুরিপানা অথবা অন্যান্য আবর্জনা ফেলে ১৫ সে. মিটারস্তূপ তৈরী করুন।স্তর সাজানোর আগে কচুরিপানা টুকরা করে ২/৩ দিন রোদে শুকিয়েনিতে হবে।এবার সাজানো স্তরের ওপর ২০০ গ্রাম ইউরিয়া ও ২০০ গ্রামটিএসপি ছিটিয়ে দেয়ার পর স্তরের উপরিভাগে ২.৫/৫ সে. মি. পুরু করে কাদা ও গোবরেরপ্রলেপ দিয়ে দিন।এতে পচন ক্রিয়ার গতি যেমন বাড়বে অন্যদিকে সুপার কম্পোস্টতৈরী হবে।এভাবে ১.২৫ মিটার উঁচু না হওয়া পর্যন্ত ১৫ সে. মি. পুরুস্তর সাজানোর পর পর ইউরিয়া ও টিএসপি দিয়ে তার ওপর গোবর ও কাদা মাটির প্রলেপদিন।গাদা তৈরী শেষ হয়ে গেলে গাদার ওপর মাটির প্রলেপ দিয়ে ছাউনিরব্যবস্থা করুন।

কম্পোস্টস্তূপ পরীক্ষা
কম্পোস্ট স্তূপ তৈরী করার এক সপ্তাহ পর শক্ত কাঠি গাদারমাঝখানে ঢুকিয়ে দেখুন গাদা অতিরিক্ত ভেজা কিনা।যদি ভেজা হয় তবেগাদার উপরিভাগে বিভিন্ন অংশে কাঠি দিয়ে ছিদ্র করে দিনে যেন বাতাস ঢুকতেপারে।২/৩ দিন পর গর্ত বা ছিদ্রগুলো মাটি দিয়ে বন্ধ করেদিন।
আবার গাদা অতিরিক্ত শুকিয়ে গেলে ছিদ্র করেপানি অথবা গো-চনা ঢেলে দিন।এতে সার ভালো হবে।কম্পোস্ট তাড়াতাড়ি পচে সার হওয়ার জন্য স্তরসাজানোর ১ মাস পর প্রথমবার এবং ২ মাস পর দ্বিতীয় বার গাদার স্তরগুলো উল্টিয়েদিন।এসময় কম পচা আবর্জনাগুলো গাদার মাঝখানে রাখুন।আবর্জনা সার ঠিকমতো পচলে ধূসর বা কালো বর্ণধারণ করবে এবং আঙ্গুলে চাপ দিলে যদি গুঁড়া হয়ে যায় তবে মনে করবেন মাঠে ব্যবহারেরউপযোগী হয়েছে।উল্লেখিত পর্দাথের মাপগুলো যদি ঠিকমত দেয়া হয় তবে এ জাতীয়কম্পোস্ট গাদা ৩ মাসের মধ্যে উন্নতমানের সারে রূপান্তরিত হয়। (চলবে)

তথ্য সূত্র: শাইখ সিরাজ রচিত ‘মাটি ও মানুষেরচাষবাস’গ্রন্থ থেকে সংগ্রহীত

জৈবসার তৈরির প্রস্তুত প্রনালী - ২




জৈবসার তৈরির প্রস্তুত প্রনালী
২।গর্ত পদ্ধতি
গর্তপদ্ধতি
পানি দাঁড়ায় না কিংবা কম বৃষ্টিপাত এলাকা কিংবা শুকনোমৌসুমে গর্ত পদ্ধতিতে কম্পোস্ট তৈরী করা যঅয়।গাছের ছায়ার নিচে বাড়ির পেছন দিকে অথবাগোশালার পাশেই কম্পোস্ট গর্ত তৈরী করা সব দিক থেকে সুবিধাজনক।
আপনার প্রাপ্ত স্থানের সাথে সঙ্গতি রেখে গর্ত তৈরীকরুন।তবে ১.২৫ মিটার প্রস্থ, ১ মিটার গভীর ও ২.৫মিটার দৈর্ঘ্যের একটি গর্ত তৈরী করুন।
গর্তের তলায় বালু অথবা কাঁকর দিয়ে দরমুজ করে দিন যাতে জলীয়পদার্থ শোষণ করে নিতে পারে।প্রয়োজনে ধানের খড়ও বিছিয়ে দিতে পারেন, তাও সম্ভব না হলেগোবর কাদার সাথে মিশিয়ে গর্তের তলা এবং চারপাশে লেপে দিন।মনে রাখবেন গর্তেরওপর দিকে ভুমি থেকে খানিকটা উঁচু করে আইল তৈরী করে দিতে হবে যাতে কোন রকমে পানিগড়িয়ে গর্তে পড়তে না পারে।
এবার গাদাপদ্ধতির মতো করে গর্তে কচুরিপানা স্তরে স্তরে সাজিয়ে কম্পোস্ট তৈরীকরুন।অথবা গোয়াল ঘরে গোবর, গো-চনা, পাতা, আখের ছোবড়া, কলাপাতা যাবতীয়উচ্ছিষ্ট অংশ গর্তে ফেলুন।সম্ভব হলে গো-চনার সাথে কাঠের গুঁগা মিশিয়ে দিতে পারলে ভালহয়।
এমনি এক একটি স্তরের ওপর মাটির প্রলেপদিয়ে দিন।মনে রাখবেন, মাটির প্রলেপ দেয়ার আগে স্তর ভালভাবে ঠেসেদিতে হবে।গর্ত ভরাট না হওয়া পর্যন্ত এমনিভাবে স্তর তৈরীকরুন।
প্রত্যেকটি স্তর তৈরীর পর মাটির প্রলেপদেয়ার আগে পরিমান মতো ইউরিয়া সার ছিটিয়ে দিন।এরূপ একটি গর্তে তিনটন আবর্জনার জন্য ১/২ কেজি ইউরিয়া সারের প্রয়োজন হবে।গর্ত ভরাট হয়েযাওয়ার পর গোবর ও মাটি মিশিয়ে উপরিভাগে প্রলেপ দিয়ে দিন।
সার যাতে শুকিয়ে না যায় তা পরীক্ষা করতে হবে।গর্তের মাঝখানেছিদ্র করে দেখতে হবে, যদি শুকনো মনে হয় তবে ছিদ্র দিয়ে পানি ঢালতেহবে।জৈবপদার্থে পানির পরিমাণ ৬০-৭০ ভাগ থাকা বাঞ্ছনীয়।
এভাবে তিন মাস রাখার পর এই সার ব্যবহার উপযোগীহবে।

কম্পোস্ট ব্যবহারেরনিয়ম
ধান পাট, আলু, গম ও শাকসবজির মাঠে কম্পোস্ট ব্যবহার করা যায়।বেলেদোআঁশ, বারিন্দ্র ও লালমাটি এবং মধুপুরগড় এলাকার জন্য কাম্পোস্টবেশ কার্যকারী।কম্পোস্ট জমিতে ছিটিয়ে দেয়ার সাথে চাষ দিয়ে মাটির সাথমিশিয়ে দিন।

প্রত্যেকবাড়িতে জৈব সার কারখানা গড়ে তুলুন

লতাপাতা ওগাছগাছলি দিয়ে সবুজ সার তৈরী
সবুজ সার কী? এরকম প্রশ্ন উথাপিতহওয়া স্বাভাবিক।এ প্রশ্নের সহজতর জবাব হচ্ছে-কোনো উদ্ভিদকে সবুজ অবস্থায়চাষ দিয়ে মাটির সাথে মেশানোর ফলে পচে গিয়ে যে সার তৈরী হয়, তাকেই সবুজ সারবলে।অন্য কথায় বলা যায় যে, মাটির জৈব পদার্থের ক্ষয়পূরণ বা বৃদ্ধিরউদ্দেশ্যে একই স্থানে কোনো ফসল জন্মিয়ে সবুজ গাছগুলোকেব মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়াকেসবুজ সার বলে।জমিতে এই পদ্ধতিতে সবুজ সার ব্যবহারের ইতিহাস স্মরণাতীতকালথেকেই চলে আসছে।রোমানগণ সর্বপ্রথম মিশ জাতীয় শস্য সবুজ সার হিসাবে ব্যবহারকরেছেন।

সবুজ সার জাতীয় গাছরপরিচিতি
শুঁটি এবং অশুঁটি উভয় জাতীয় গাছ দ্বারাই সবুজ সার করাযায়।সবুজ সারের উপযোগী প্রায় ৩০টির মতো শুটি এবং ১০টির মতোঅশুঁটি জাতীয় শস্য রয়েছে।আমাদের দেশে সচরাচর শুঁটি জাতীয় গাছই সবুজ সার হিসাবেব্যবহারের জন্য চাষ করা যায়।এগুলোর মধ্যে ধৈঞ্চা, বরবটি, শণই প্রধান।এ ছারাশিম, খেসারি, মাশকলাই, মুগ, মটর, মসুর, ছোলা, সয়াবীন, চীনাবাদাম, অরহর প্রতৃতিও শুটি জাতীয় শস্য।অশুঁটি জাতীয় গাছেরমধ্যে রয়েছে ভুট্টা, ধান, গম, খোয়ার, ইক্ষু, সূর্যমুখী, বাজরা, তুলা, তামাক প্রভৃতি।

কিভাবে সবুজ সার প্রস্তুতকরবেন
বাংলাদেশে ব্যবহার উপযোগী দু্'একটি আদর্শ সবুজ সারজাতীয় ফসালের চাষ ও সবুজ সার প্রস্তুত প্রণারী সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করাযাক।

শুঁটি জাতীয় সবুজসার
শুঁটি জাতীয় সবুজ সারের উপযোগী গাছ সারা বছরই চাষ করাযায়, তবেশীতের সময় এর বাড় বাড়তি কম হয়।

ধৈঞ্চা
ধৈঞ্চা বাংলাদেশেরমাটি ও আবহাওয়াতে ভাল জন্মায়।দু-একটি চাষ ও মই দিয়ে ধৈঞ্চার বীজ বৈশাখ/জ্যৈষ্ঠ মাসে ঘনকরে বুনে দিন।বীজ বোনার আগে শিকড়ের শুঁটির সংখ্যা বৃদ্ধির জন্যহেক্টরপ্রতি ২০ কেজি বীজ ঘন করে ছিটিয়ে বুনে তা হালকা চাষ দিয়ে বীজগুলো মাটির নিচেফেলে দিন।কোনো প্রকার যত্ন ছাড়াই দেখবেন দু'মাসের মাধ্যে গাছেফুল দেখা দিয়েছে।তখনই গাছ সবুজহ সার তৈরীর উপযুক্ত হয়েছে ধরেনেবেন।গাছ বেশি লম্বা হয়ে গেলে ২/৩ টুকরা করে কেটে নিয়ে ঐক্ষেত্রে মই দিয়ে গাছ মাটির সাথে মিশিয়ে দিন ক্ষেত্রে সামান্য পানি থাকলে ধৈঞ্চা মইদেয়ার পর খুব সহজে কাদামাটির সাথে মিশে যায়।সাধারণত প্রথম চাষ দেয়ার ১০/১২ দিনের মাথায়পুনরায় চাষ ও মই দিন।দেখবেন মোট ১০/১৫ দিনের মাথায় ধৈঞ্চা গাছ মাটির সাথে মিশেগিয়ে সুবজ সারে পরিণত হয়েছে।ধৈঞ্চা সারের পর রোপা আমন ভালো জন্মায়- তাই ধৈঞ্চা চাষের পররোপা আমনের চাষ করুন।

শণ
শণ একটিউৎকৃষ্টসবুজ জাতীয় সার।ধৈঞ্চার অনুরূপ পদ্ধতিতে হেক্টরপ্রতি ৪০/৫০ কেজি বীজ ঘন করে উঁচু জমিতে বপনকরুন।শণগাছ দাঁড়ানো পানি সহ্য করতে পারে না।তাই ক্ষেতে নালা রাখুন।গাছ ১.২/১.৫ মিটারউঁচু বা ৭/৮ সপ্তাহ পর ফুল দেখা দিলেই ধৈঞ্চার মতো মই দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়েদিন।১৫দিন পর আবার মই দিয়ে ক্ষেতের পানির সাথে মিশিয়ে দিন।এমনি গাছ পচে যেতেসময় লাগকেব এক মাস।শণ গাছ পচে গিয়ে মাটিতে উৎকৃষ্টমানেরজৈব সার প্রস্তুত করে।

বরবটি
বরবটিও সবুজ সারহিসাবে চাষ করা যায়।যদিও বরবটি মানুষ ও পশুখাদ্য হিসাবেই বেশি চাষ হয় তথাপিচীনে সবুজ সার হিসাবে চাষে এর ফলন বেশি।
বরবটি উঁচু জমির শস্য।পানি দাঁড়ালে ভাল কখনও হয় না।লাল মাটির জন্যখাড়টি অত্যন্ত উপযুক্ত সবুজ সার।অত্যন্ত দ্রুত বর্ধনশীল বরবটি গাছে মাত্র ছয় সপ্তাহের মাঝেইফুল আসে এবং তখনই তা সবুজ সার হিসাবে ব্যবহারের উপযুক্ত হয়।ঐ সময় চাষ দিয়েমাটির সাথে মিশিয়ে দিয়ে সবুজ সার প্রস্তুত করতে হয়।

জৈব সারেরউপকারিতা
এখন কৃষি ক্ষেত্রের প্রেক্ষাপট অনেক বদলেছে।৬০-এর দশকের আগেএদেশে দেশী জাতের ধান আবাদ হতো।তখন যা উৎপাদন ছিলতাতেই আমাদেরচলে যেত।জনসংখ্যা বাড়ছে, খাদ্যের প্রয়োজন বাড়ছে, তাই ৬০-এর দশক থেকেআস্তে আস্তে শুরু হল সেচ আর রাসায়নিক সার ব্যবহারের।
গত ৩০ বছর থেকে পর্যায়ক্রমে একই জমিতে একই ফসলেরচাষ, রাসায়নিক সার ব্যবহার, জৈব সারের ঘাটতি- সব কিছু মিলে মাটি আজ তারউর্বরা শক্তি একেবারেই হারিয়ে ফেলেছে।আমরা উচ্চ ফলনশীল শস্যের চাষ করতে গিয়ে শস্যবেড়ে ওঠার জন্য তার যত্ন নিচ্ছি।খাবার দিচ্ছি এবং পরবর্তীতে তার কাছ থেকে কাঙ্খিত ফলনপাচ্ছি।কিন্তু মাটির জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ করছিকি?
মাটির খাদ্য হচ্ছে জৈব সার বা জৈব মিশ্রণ।গোবর একটি জনপ্রিয়বহুল প্রচলিত এবং উৎকৃষ্টমানের জৈব সার।জ্বালানি ঘাটতির কারণে মূল্যবান এই সারএখনজ্বালানি কাজে ব্যবহার হয়।ফসল সংগ্রহের পর খড়নাড়া কিংবা মোচা জমিতে রেখেই পুড়িয়ে মাটির সাথে মিশ্রিত দেয়া হত।পরবর্তীতে সেখানথেকে তৈরী হত মাটির খাদ্য।আজ এগুলো সবই ব্যবহার করা হয় অন্য কাজে।তাহলে মাটির খাদ্যেররইল কি? আমরা যদি গত ৩০ বছর ধরে রাসায়নিক সার ব্যবহারের পাশাপাশিজমির জন্য প্রয়েজনীয় পরিমাণজৈব সার ব্যবহারের ধারা অব্যাহত রাখতে পারতাম তবে সম্ভবতবলাযেত যে, আগামী ২০ বছরে বাংলাদেশের আবাদি জমিগুলো থেকে ফসলউৎপাদনেরমাত্রা বর্তমানের মতোই অব্যঅহত রাখা সম্ভব হবে।কিন্তুএকথা বলার মতো প্রেক্ষাপট আর নেই।বহু দিন ধরেপ্রচেষ্টার পর কৃষি বিজ্ঞানীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে বর্তমান সময়ে এসে আমরা খাদ্যেহয়তো স্বয়ংসম্পূর্ণ হবার পথে- এটি একটি বিরাট সাফল্য।৫৬ হাজার বর্গমাইলভূমির এই দেশে প্রায় ১৫ কোটি মানুষের খাদ্যের উৎপাদন চাট্টিখানি কথানয়।উৎপাদন এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে।শস্যেরসাথে মাটির সমন্বয় মোটামুটি ঠিক থাকলেও এর পরথেকে উৎপাদন হবে নিম্নমূখী।ফসলের এই উৎপাদনেরপ্রক্রিয়াশুরু হয়েছিল ২৫-৩০ বছর আগে যে ফলআমরা ভোগ করছি আজ।আজ যে পরিকল্পিত প্রক্রিয়া শুরু হবে সেই ফলাফল আসবে আগামীএক দু'দশক পর।কৃষি ক্ষেত্রের এ জাতীয় পরিবর্তন আসতে ২০-২৫ বছর সময় লেগেযায়।

তথ্য সূত্র: শাইখ সিরাজ রচিত ‘মাটি ও মানুষেরচাষবাস’গ্রন্থ থেকে সংগ্রহীত

মনের উঠোনে

সাম্প্রতিক সংযোজন

মোবাইল থেকে দেখুন

আমাদের দেশ এখন আপনার মুঠোফোনে, মোবাইল থেকে লগইন করুন আমাদের দেশ

দ র্শ না র্থী

দ র্শ না র্থী

free counters

কে কে অনলাইনে আছেন