Showing posts with label মসল্লা. Show all posts
Showing posts with label মসল্লা. Show all posts

মসলা চাষে বেশি লাভ

Friday, December 17, 2010


প্রান্তিক কৃষকরা কম খরচে মসলা চাষ করে বেশি লাভবান হচ্ছেন। রান্নার অন্যতম উপাদান মসলার মূল্য বৃদ্ধি এবং জমিতে উৎপাদন বেশি পাওয়া কৃষকরা মসলা চাষ শুরু করে দিয়েছেন। বাড়ির আঙ্গিনাসহ পতিত জমিতে মসলা চাষ করা যতে পারে। মসলার মধ্যে রয়েছে পেঁয়াজ, রসুন, আদা, হলুদ, মরিচ ও ধনিয়া। দেশে মসলার উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে মসলার চাহিদা পূরণ, বাজার মূল্য স্থিতিশীল রাখাসহ মসলা রপ্তানির সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে। বাউফল উপজেলায় বর্তমান অর্থবছরে মসলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে_ পেঁয়াজ ১২৫ হেক্টর, রসুন ১৫০ হেক্টর, আদা ৪৫ হেক্টর, হলুদ ৩০০ হেক্টর, মরিচ ২ হাজার ২০০ হেক্টর এবং ধনিয়া ১০০ হেক্টর। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে মোট ৪ হাজার ১২.৫ মেট্রিক টন। জলোচ্ছ্বাসের পানির সঙ্গে প্রতি বছর জমিতে বেশি পলি পড়ায় মরিচ, রসুন পেঁয়াজের আশাতীত ফলন হয়। কালাইয়া মাহিনুর বেগম (৩৫) তার বাড়ির আঙ্গিনায় ৩ শতাংশ জমিতে হলুদ চাষ করেছেন। পরিবারের ১ বছরের হলুদের চাহিদা পূরণের পর বাকি হলুদ বিক্রি করবেন। গত ১০ বছর ধরে হলুদ চাষ করছেন মাহিনুর বেগম। তার দেখাদেখি এলাকার অনেকেই হলুদ চাষ করছেন। চরওয়াডেল এলাকা আহসান হাবিব পরীক্ষামূলকভাবে হলুদ চাষাবাদ করে বেশ লাভবান হচ্ছে। তিনি কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে হলুদ চাষ করেন। জৈব সার প্রয়োগের মাধ্যমে অল্প জমিতে বেশি হলুদ চাষ করা যায়। পতিত উঁচু মাঝারি জমি বেলে দোআঁশ মাটিতে হলুদ ও আদা চাষ করা যায়। প্রতি বছর বৈশাখ মাসে হলুদ রোপণ করা হয়, পরবতী ১ বছর পর বৈশাখ মাসে হলুদ তুলতে হয়। বর্তমান বাজারে হলুদের মূল্য প্রতি কেজি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা। শীত মৌসুমে ধনিয়া চাষ করে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকতা আনছার উদ্দিন জানান, প্রত্যন্ত এলাকার পরিবার মসলা চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। কৃষি বিভাগ আইপিএম ও আইসিএম ক্লাব মাধ্যমে আমন চাষের পাশাপাশি মসলা চাষে কৃষককে ধারণা প্রদান করে আসছে। দু'শতাধিক চাষিকে মসলা চাষের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, কৃষকদের মসলা চাষে বেশি জোর দেওয়া উচিত। কেননা, ৩ শতাংশ জমিতে ধান রোপণ করলে যে ফলন হয়, এর আর্থিক মূল্য হবে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকা। ধানের পরিবর্তে মসলা চাষ করলে যে ফলন হবে তার আর্থিক মূল্য হবে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে দৈনিক মাথাপিছু ৩৮ গ্রাম মসলার প্রয়োজন। সে হিসাবে বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২০ লাখ মেট্রিক টন। দেশে মোট ৩.১৬ লাখ হেক্টর জমিতে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ মেট্রিক টন মসলা জাতীয় ফসল উৎপাদিত হয়। দেশের চাহিদা পূরণ করতে অবশিষ্ট মসলা আমদানি করতে হয় এবং প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়।


তথ্য সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন, তারিখ: ১১-১২-২০১০

আদার পোকা দমন ব্যবস্থাপনা

Thursday, December 16, 2010


আদা বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মসলা জাতীয় ফসল। এটি পুষ্টিমানে সমৃদ্ধ এবং এর ঔষধি গুণাগুণ রয়েছে। এতে লিপিড, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, মিনারেল, ভিটামিন, পটাশিয়াম এবং ফসফরাস রয়েছে। গ্যাস্ট্রিক, ঠাণ্ডা ও কাশিসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে আদা ব্যবহার করা হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী ২০০৫-০৬ সালে বাংলাদেশে প্রায় ১৪ হাজার ২৯৪ হেক্টর জমিতে আদার চাষ হয়েছে। মোট উৎপাদন প্রায় ১.৭৩ লাখ মেট্রিক টন এবং হেক্টরপ্রতি গড় উৎপাদন ১২.০৮ মেট্রিক টন। রাইজোম ফ্লাই আদার একটি প্রধান ক্ষতিকারক পোকা। এর আক্রমণে আদার ফলন ব্যাপকভাবে কমে যায়।

পোকার বৈশিষ্ট্য : পূর্ণ বয়স্ক পোকা লম্বা পা-বিশিষ্ট। দেহ কালো, পাখা স্বচ্ছ এবং ধূসর দাগযুক্ত। পাখা বিস্তৃত অবস্থায় এর আকার ১৩-১৫ মি.মি.। পূর্ণতাপ্রাপ্ত লার্ভা ক্রিমের মতো সাদা, পা-বিহীন, প্রস্থে ৯.৫ মি.মি. এবং প্রস্থ ১.৯৫ মি.মি.।

ক্ষতির প্রকৃতি : ডিম থেকে বের হওয়ার পর সদ্যজাত লার্ভা রাইজোম ছিদ্র করে ভেতরে ঢুকে এবং রাইজোমের অভ্যন্তরীণ অংশ খায়। আক্রান্ত গাছ হলুদ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে রাইজোমে পচন ধরে। আক্রমণের মাত্রা বেশি হলে গাছ থেকে কোনো ফলন পাওয়া যায় না। এ পোকা আদার রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ পোকা ডিম পাড়া এবং বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হওয়ার জন্য ছত্রাক আক্রান্ত আদা গাছ পছন্দ করে। রোগাক্রান্ত রাইজোমের মধ্যে পোকার লার্ভা এবং পিউপা দেখা যায়। এ ছাড়াও পূর্ণ বয়স্ক পোকাগুলো আদা গাছে ব্যাকটেরিয়াল উইল্টের বাহক হিসেবে কাজ করে।

জীবনচক্র : পূর্ণ বয়স্ক স্ত্রী পোকা গাছের গোড়ায় মাটির ছোট ঢেলার নিচে, মাটির ফাটলে অথবা মাটিতে একটি একটি করে অথবা গুচ্ছাকারে (প্রতি গুচ্ছে ৬ থেকে ১০টি) ডিম পাড়ে। ডিমগুলো ছোট এবং সাদা। ২ থেকে ৫ দিন পর ডিম ফুটে লার্ভা বের হয়। লার্ভাগুলো ১৩ থেকে ১৮ দিন খাওয়ার পর রাইজোমের মধ্যেই পিউপায় পরিণত হয়। পিউপা ১০ থেকে ১৫ দিন পর পূর্ণ বয়স্ক পোকায় পরিণত হয়। এর জীবনচক্র সম্পন্ন হতে প্রায় ৪ সপ্তাহ সময় লাগে।

দমন ব্যবস্থাপনা : স্বাস্থ্যবান এবং রোগমুক্ত রাইজোম বীজের জন্য নির্বাচন করতে হবে। ফসল সংগ্রহের সময় লার্ভা ও পিউপাসহ পচা রাইজোম সংগ্রহ এবং ধ্বংস করে ফেলতে হবে। গাছের গোড়ার মাটি নিয়মিত উলট-পালট করতে হবে কারণ পোকা মাটিতে ডিম পাড়ে। যেহেতু রোগাক্রান্ত রাইজোমে পোকার আক্রমণ হয় এ জন্য ফসলকে রোগমুক্ত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

অত্যধিক আক্রান্ত এলাকায় আক্রমণের শুরুতে নিম্নলিখিত কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে- কার্বোসালফান (মার্শাল ২০ ইসি, সানসালফান ২০ ইসি, জেনারেল ২০ ইসি বা অন্য নামের) অথবা ফেনিট্রোথিয়ন (ফেনিটকস ৫০ ইসি, সুমিথিয়ন ৫০ ইসি, ইমিথিয়ন ৫০ ইসি, সোভাথিয়ন ৫০ ইসি বা অন্য নামের) প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলি হিসেবে।

মরিচ

Thursday, October 21, 2010


মরিচ কী জিনিস, ইউরোপীয়রা তা জেনেছে খুব বেশিদিন আগে নয়_ এমন ধারণা বিলকুল ভুল। চূর্ণকৃত গোলমরিচ খাওয়ার অভ্যাস তাদের দীর্ঘদিনের। গ্রিক ও রোমান সভ্যতার যুগে ঝালযুক্ত খাবারের প্রচলন ছিলো। ইউরোপে গোলমরিচ আমদানি হতো এশিয়ার মসলা দ্বীপপুঞ্জ থেকে। আর এই বস্তুটিই সচল রেখেছিলো আলেকজান্দ্রিয়া, জেনোয়া ও ভেনিস বন্দরের অর্থনীতিকে। মধ্যযুগে এসে গোলমরিচ বনে যায় বিলাসী পণ্য। তখন শস্যের বিনিময়ে এটি কিনতে হতো এবং সেজন্য আলাদা ভাড়া আর করও গুনতে হতো। অটোমান সাম্রাজ্যের উত্থানের ফলে এশিয়াতে আসার ভূমি ও নৌপথগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিলো। যে কারণে ভারতে পৌঁছার নতুন পথ খুঁজতে শুরু করলো ইউরোপীয় বণিকরা। উদ্দেশ্য ছিলো_ গোলমরিচ ছাড়াও অন্যান্য আকর্ষণীয় মসলা এবং রেশম ও আফিম সংগ্রহ করা।

ভারতে পেঁৗছার পশ্চিমাভিমুখী রাস্তা খুঁজে পেতে ক্রিস্টোফার কলম্বাস ১৪৯২ সালে যাত্রা শুরু করেছিলেন স্পেন থেকে। ইউরোপের রন্ধনকে নিশ্চিত করাই ছিলো তার লক্ষ্য, রন্ধনের কোনো পরিবর্তন নয়। কিন্তু ঘটনাক্রমে তার এ সফরের মাধ্যমেই ইউরোপের রান্নার প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন সূচিত হয়েছিলো। ইতালিয়ান নাবিক কলম্বাসের ভারত পৌছানোর সৌভাগ্য আর হয়নি। নতুন যে জায়গায় তিনি গেলেন, সেখানে সন্ধান পেলেন এক অভিনব রঙিন বস্তুর (যার বাংলা নামকরণ মরিচ)। কয়েক বছরের মধ্যেই দক্ষিণ ইউরোপের খাবারে মরিচের স্বাদ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিলো। এই মরিচ ভারত, চীন এবং থাইল্যান্ডের রন্ধন প্রণালীতেও বিপস্নব ঘটিয়ে দিতে খুব একটা সময় নেয়নি।

মরিচ শব্দের ইংরেজি হচ্ছে 'চিলি'। উচ্চারণ অভিন্ন হলেও বানানে রয়েছে রকমফের (Chili, Chilli, Chile, Chile Pepper) । কিন্তু বানান ও নামে কী আসে যায়! বৈশ্বিকরণ গল্পের আগ্রহ-সঞ্চারক অধ্যায় হলো মরিচ। এতো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ইতিহাস পৃথিবীর অন্য কোন খাবারেরই নেই। কতো অঞ্চলের, কতো লোক যে এখন মরিচ ভক্ষণ করছে, তার কোন সঠিক পরিসংখ্যান নেই। চীন, ভারত কিংবা থাইল্যান্ডের মরিচপ্রেমীকে জিজ্ঞেস করলে উত্তর একটিই আসবে, 'মরিচ আমাদের দেশজ বস্তু, আমাদের মাতৃভূমির অবিচ্ছেদ্য অংশ। পুরোপুরি মিশে আছে আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে। ইউরোপ ও আমেরিকায় মরিচ আসক্তের সংখ্যা কম, কিন্তু তারাও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে ঝালের ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে।

কয়েকশ কোটি লোকের পেট ভরায় ধান এবং গমের মতো শস্য। এগুলোর সঙ্গে মরিচের কোন তুলনা চলে না, এমনকি আলুর সঙ্গেও নয়। কিন্তু মূল উপকরণে ঝাল যুক্ত করে গরিবী খানাতেও একটু বড়লোকি আমেজ দিতে মরিচের জুড়ি নেই। কোটি কোটি লোকের কাছে মরিচই একমাত্র বিলাসী উপকরণ, যা তারা নিত্যদিন যোগাড় করতে পারে। এশিয়ার বস্তি থেকে শুরু করে পশ্চিম আফ্রিকার গো-চরণ ভূমিতেও বস্তুটির দেখা মেলে। বর্ণিল খোসার ভেতরই যতো রহস্য। রাসায়নিকগুলো ঝাল উৎপাদন করার মাধ্যমে নিজের প্রতি মানুষকে আসক্ত করে ফেলে। বিখ্যাত ভারতীয় কুক মধুর জেফরি মনে করেন, একবার ঝাল খাবারের স্বাদ নিলে আর পেছনে তাকানোর উপায় নেই। আস্তে আস্তে অভ্যাসে পরিণত হবে। ঝাল না খেলে তখন আর ভালোই লাগবে না।

উৎস দক্ষিণ আমেরিকায়, অধিকাংশ মরিচ বিশেষজ্ঞই এ ব্যাপারে একমত। চিলি নামের দেশটিই তো তার বড় প্রমাণ। ছয় হাজার বছর আগেও দক্ষিণ আমেরিকায় মরিচ উৎপাদিত হতো এবং এর বেচাকেনা চলতো। ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্টরির আর্কিওবায়োলজি বিভাগের পোস্ট ডক্টরাল ফেলো লিনডা পেরি ক্যারিবীয় অঞ্চলসহ ভেনিজুয়েলার মরিচের মাইক্রোফসিল চিহ্নিত করেছেন। এই ভদ্রমহিলার দেয়া তথ্যানুসারে, ৬ হাজার ২শ' ৫০ বছর আগে ইকুয়েডরের দক্ষিণাঞ্চলে মরিচের আবাদ হতো। তখন পর্যন্ত ইকুয়েডরের দক্ষিণাঞ্চলে জংলি মরিচের দেখা মেলেনি। পেরু কিংবা বলিভিয়া থেকে মরিচ গিয়েছিলো এই দেশটিতে। পুরো দক্ষিণ আমেরিকা জয় করার পর সেন্ট্রাল আমেরিকাতে পৌছুতেও খুব বেশি সময় লাগেনি এটির। লিনডা পেরি গবেষণায় পেয়েছেন যে, মরিচ সবার আগে ব্যবহার করেছিলো ব্রাজিল।

মরিচ ক্যাপসিকাম বর্গে অন্তভর্ুক্ত এবং নাইটশেড পরিবারের সদস্য। একই পরিবারে রয়েছে টম্যাটো, আলু ও বেগুন গাছ। ক্যাপসিকামের ২৫টি প্রজাতির মধ্যে মাত্র পাঁচটির আবাদ হয়। দক্ষিণ আমেরিকায় অধিকাংশ বনমরিচের দেখা মেলে এখনও। ক্লাসিক বাঁকা লাল অথবা সবুজ মরিচের ব্যবহার হয় মেক্সিকোর রান্নায়। থাইল্যান্ডের লোকজন যেটি ব্যবহার করে সেটি দেখতে বুলেটের মতো, কিন্তু নাম 'বার্ডস আই'। কোনো কোনোটি দেখতে মটর কিংবা হূৎপিন্ডের মতো রং পাল্টে হয়ে যায় একেক স্তরে একেক রকম। তবে মরিচের সাধারণ রঙগুলো হলো_ বিবর্ণ লাল, হলুদ, কালো, উজ্জ্বল কমলা এবং লেবু সবুজ। নিউ মেক্সিকো ইউনিভার্সিটির চিলি পিপার ইনস্টিটিউটের পল বসল্যান্ডের মন্তব্য, হাজারো রকমের মরিচ আছে। নিত্য-নতুন ধরন আবিষ্কৃত হচ্ছে প্রায়ই। মিষ্টি সবুজ ও হলুদ মরিচ এবং ক্যাপসিকামের ব্যবহার হয় সালাদে। অনেকে বেছে নেয় সরাসরি তরকারি হিসেবে।
পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষ দিকে কলম্বাস পৌঁছুলেন ক্যারিবীয় অঞ্চলে। আমেরিকা জুড়ে তখন মরিচের ব্যাপক প্রচলন। আবিষ্কৃত জগৎ থেকে ফিরে আসার সময় ভয়ংকর স্বাদযুক্ত নতুন মসলাটি নিতে ভুললেন না কলম্বাস। নিজেরা এর প্রেমে পড়েননি খুব দ্রুত, কিন্তু বংশবিস্তার করান সোৎসাহে। পতর্ুগীজ বণিকরা এটি ছড়িয়ে দিয়েছিলেন পশ্চিম আফ্রিকা, ভারত এবং পূর্ব এশিয়ায়। কলম্বাসের আমেরিকা পৌঁছানোর ৩০ বছরের মধ্যেরই ভারতের পশ্চিম উপকূলে পর্তুগীজ উপনিবেশ গোয়ায় তিন ধরনের মরিচ চাষ করা হয়েছিলো। থাইল্যান্ডে কিছুদিনের উপস্থিতিতে পর্তুগীজরা স্থানীয়দের খ্রিস্টান বানাতে সমর্থ না হলেও রান্নাঘরে ঠিকই বিপস্নব ঘটিয়ে দিয়েছিলো। ইউরোপীয় ব্যবসায়ীরা মরিচ নিয়ে গিয়েছিলেন জাপান, ইন্দোনেশিয়া, তিব্বত ও চীনে। ৫০ বছরের মধ্যে মরিচ ছড়িয়ে পড়ে পুরো ইউরোপে। ঝাল মরিচ আসার কারণে ভারতে গোলমরিচের ব্যবহার এক পর্যায়ে প্রায় উঠেই গিয়েছিলো।

মাঝে মরিচের ব্যবহার প্রায় ভুলতেই বসেছিলো ইউরোপ। সাম্প্রতিক সময়ে অভ্যাসটা আবার ফিরে এসেছে ইন্ডিয়ান ও থাই রেস্টুরেন্টগুলোর কল্যাণে। ব্রিটিশদের কাছে ভারতীয় খাবার এখন খুবই পছন্দের। সময় ও সুযোগ পেলেই তারা ভারতীয়দের দোকানে ঢু মারে। ২০০১ সালে ব্রিটেনের বিদেশমন্ত্রী রবিন কুক তার পছন্দের খাবারের নাম বলতে গিয়ে চিকেন টিক্কা মাসালার উলেস্নখ করেছিলেন। এ খাবারটি এখন ব্রিটিশ নারীরাও তৈরি করতে পারেন। চিকেন, ক্রিম ও টমেটোর সঙ্গে মরিচসহ অন্যান্য মসলা মিশ্রণ করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক হাজার বছর আগে মরিচের প্রচলন শুরু হলেও এখন তারা নিজেদের তৈরি খাবারে খুব একটা ঝাল দেয় না। তবে ভোজনরসিকদের সপ্তায় অন্তত একদিন মেক্সিকান খাবার চাই-ই চাই। মেক্সিকান খাবারে যে ঝাল থাকে সে কথা সবাই জানে।

ঝাল পরিমাপেরও ব্যবস্থা আছে। আমেরিকান কেমিস্ট উইলবার ১৯১২ সালে ঝাল মাপার স্কেল আবিষ্কার করেন। তার নামানুসারেই নামকরণ হয়েছে স্কভিল হিট ইউনিটস (এস এইচ ইউ)। পৃথিবীর অনেক মরিচের এসএইচইউ হচ্ছে শূন্য। ইতালিয়ানরা পাস্তা তৈরিতে ৫০০ এস এইচ ইউ-এর পিপারোনসিনো নামক মরিচ ব্যবহার করে। থাইল্যান্ডের রান্নায় ব্যবহার করা মরিচের গড় এসএইচ ইউ এক লাখ। দুই লাখের বেশি হলে যে চোখ দিয়েই জল ঝরবে। ঝালের রেকর্ডটি দীর্ঘদিন ধরে রেখেছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার এক বাণিজ্যিক মরিচ ব্যবসায়ী। তার ক্ষেতে উৎপাদিত হচ্ছিলো ৫ লাখ ৭৭ হাজার এসএইচইউ'র মরিচ। উৎপাদিত বস্তুর নাম দিয়েছিলেন তিনি 'রেড সাবিনা'।

আগের সব রেকর্ড মস্নান করে দিয়েছে ভারতের 'ভূত জলোকিয়া'। যার বাংলা অর্থ ভূত মরিচ। এর দেখা মেলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে। সেনা শহর তেজপুরের ডিফেন্স রিসার্চ ল্যাবরেটরি ২০০০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঝালের শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করে বসে। প্রথমে তাদের কথা কেউ কানেই তুলছিলো না। ২০০৫ সালে ঝালের তীব্রতা পরীক্ষা করতে রাজি হয় নিউ মেক্সিকো চিলি ইনস্টিটিউট। ফলাফল আসে অবিশ্বাস্য, ৮ লাখ ৫৫ হাজার এসএইচইউ। এখানেই শেষ নয়, নাগাল্যান্ডের আদিবাসীরা 'নাগা চিলি' নামের এক প্রকার মরিচ খায়, যার এসএইচইউ ১০ লাখেরও (আনুমানিক) বেশি। আদিবাসীরা শখে খায় না এটি, তরকারি রান্না করে নিয়মিতভাবে। তবে নাগা চিলির ঝালের তীব্রতা এখনো পরীক্ষিত হয়নি। খুব শিগগিরই এটিকে পাঠানো হবে নিউ মেক্সিকো চিলি ইনস্টিটিউটে।

তেজপুরের ডিফেন্স রিসার্চ ল্যাবরেটরির পরিচালক আরবী শ্রীবাস্তবা টাইম ম্যাগাজিনকে জানিয়েছেন, ভূত জলোকিয়া (ঠযঁঃ লড়ষড়শরধ) ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে খুবই জনপ্রিয়। মরিচের রাজা বলা হয় এটাকে। বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে এই মরিচকে ঘিরে উৎসবও হয়। অদ্ভুত কথা বলেছেন তিনি-টিয়ার গ্যাসে ভূত জলোকিয়া ব্যবহার করা যেতে পারে। দাঙ্গার সময় একটি ছেড়ে দিলে এক কিলোমিটার অঞ্চলে আর কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার আগে সৈন্যদের একটি খাইয়ে দিলে দ্বিগুণ তেজে যুদ্ধ করবে। তবে সতর্ক সংকেত শুনিয়েছেন, 'অনভ্যস্ত কাউকে খাওয়ালে টয়লেট হয়ে যাবে তার স্থায়ী ঠিকানা। পাঁচ সেন্টিমিটার লম্বা ভূত জলোকিয়ার রঙ পোড়াটে হলুদ। স্বাভাবিক মরিচের তুলনায় এটি ব্যবহার করতে হয় এক-দশমাংশ। আনাড়ি যে কেউ একটি চিবিয়ে খেলে সারাদিনের জন্য তার জিহবাটাকে অচেতন মনে হতে পারে। ক্রিস্টোফার কলম্বাস আমেরিকা থেকে আলু ও ট্যামেটোসহ অনেক শাক-সবজি নিয়ে গিয়েছিলেন স্পেনে, কিন্তু কোন কিছুই মরিচের মতো এতো দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। পাঁচশত বছর পর মরিচ আজ সারা বিশ্বে রাজত্ব করছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে; ঝালের প্রতি আমাদের এতো মোহ কেন? যে জিনিস খেলে আমরা আহত হই, সেই জিনিস আমরা খাই কেনো? প্রশ্ন দুটির সুনিশ্চিত উত্তর কারওই জানা নেই।

এলাচ

Thursday, October 7, 2010

এলাচ ফুল

এলাচি এক প্রকার মসলা জাতীয় সুগন্ধি ভেষজ গাছ। এলাচ শুধু রান্নার স্বাদই বাড়ায় না৷ পানের স্বাদও বাড়ায়৷ তাছাড়া এলাচের অনেক ভেষজ গুণ রয়েছে৷ যা আমাদের শরীরে নানা সমস্যা দূর করে৷ চলুন এলাচ দু রকমের হয়৷ বড় এলাচ ও ছোট এলাচ৷ বড় আর ছোট দুই প্রকারের এলাচই শারীরিক নানা সমস্যা দূর করে৷ এলাচ খেলে কি লাভ হবে তা জেনে নিই৷

* চোখ জ্বালা: চোখ জ্বালা হলে এলাচের দানার সঙ্গে সম পরিমাণ চিনি মিশিয়ে পিষে ঐ গুড়োটা খান উপকার পাবেন৷
* প্রস্রাবে দোষ: যদি আপনর ঠিকমত প্রস্রাব না হয় তাহলে এলাচ গুড়োর সঙ্গে মধু মিশিয়ে খান সুফল পাবেন৷
* বমি কমায় : যদি অনরবত বমি হয় তাহলে এলাচের চোকলা পুড়িয়ে ঐ ছাইটা মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খান উপকার পাবেন৷
* কৌষ্ঠকাঠিন্য ও জ্বর কমায়: এলাচ, বেল, দুধ জলের মধ্যে মিশিয়ে ভাল করে গরম করুন৷ দুধটা গরম করতে করতে যখন অর্ধেক হয়ে যাবে৷ তখন গ্যাস বন্ধ করুন৷ ঐ দুধটা উপকার পাবেন৷ কৌষ্ঠকাঠিন্য কমবে৷ জ্বরও সেরে যাবে৷
এছাড়া এলাচ হিং এর সঙ্গে মিশিয়ে ওর মধ্যে সন্ধক নুন এর জল, এরেন্ডীর তেলের সঙ্গে মিশিয়ে যন্ত্রনার স্থানে লাগান৷ ব্যথা কমে যাবে৷


অন্যান্য স্থানীয় নাম-
বাংলা: এলাচি,
ইংরেজী: Cardamom, Malabar cardamom, Ceylon cardamom
বৈজ্ঞানিক নামঃ Elettaria cardamomum
পরিবারঃ Zingiberaceae (Ginger family)
বৈজ্ঞানিক শ্রেনী বিন্যাস এইভাবে -
Scientific classification
Kingdom: Plantae
(unranked): Angiosperms
(unranked): Monocots
(unranked): Commelinids
Order: Zingiberales
Family: Zingiberaceae
Genus: Elettaria Maton
Species: E. cardamomum
Binomial name :Elettaria cardamomum (L.) Maton

রসুন

Saturday, August 21, 2010


রান্নার উপকরন হিসেবে রসুনের ব্যবহার আবহমান কাল থেকেই। শুধু রান্নায় স্বাদের তারতম্য আনার জন্য নয়, রসুনের পুষ্টিগুণও রসুনকে পৌঁছে দিয়েছে উপাদেয় মসলার তালিকায়। তাই রান্নার অনুষঙ্গের পাশাপাশি রসুন(Garlic) স্বাস্থ্য ভাল রাখার মন্ত্র হিসেবেও কাজ করছে।
রসুনে রয়েছে ময়শ্চার, প্রোটিন, ফ্যাট, মিনারেল ফাইবার ও কার্বোহাইড্রেট। ভিটামিন ও মিনারেলের মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, থিয়ামিন, রিবোফ্লোভিন, ভিটামিন সি। এছাড়া আয়োডিন, সালফার ও ক্লোরিনও রয়েছে অল্প পরিমানে।
  • রসুন ক্ষুধা মন্দা তৈরী করে।
  • অ্যাজমা, কানে কম শোনা প্রভৃতি থেকে সুরক্ষা করে রসুন।
  • রসুন ফুসফুস, ব্রঙ্কিয়াল টিউব, সাইনাসের গহ্বরে মিউকাস জমতে দেয়না।
  • টিউবার কিউলোসিস, নিউমোনিয়া, হুপিং কাশির মতো অসুখে রসুন উপকারী।
  • রসুন ঘা, আলসার সহজে সারায়।
  • হজমে গোলমাল যেমন আমাশয় ও কৃমির সমস্যাতেও এটি উপকারী।
  • ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করতেও রসুন উপযোগী।
  • রক্ত সঞ্চালন সঠিক রেখে শরীরে টক্সিন কমায়।
  • ক্যানসার প্রতিরোধক হিসেবেও রসুনের সুনাম রয়েছে।

# রসুনের অপকারীতা
রসুন বেশী খেলে অনেক সময় মাইগ্রেনের সমস্যা দেখা দেয়।
  • রসুন থেকে অ্যালার্জি হতে পারে।
লক্ষ্য রাখুন
  • রসুন নরম হয়ে গেলে বা সবুজ রঙ দেখা দিলে সেই রসুন কিনবেন না। কারণ এসব রসুনের কার্যগুন নষ্ট হয়ে যায়। কেনার সময় মাঝারি আকারের রসুন কিনুন।
  • বন্ধ পাত্রে না রেখে খোলা পাত্রে রসুন রাখুন। ভুলেও রেফ্রিজারেটরে রসুন রাখবেন না। এতে করে রসুন নরম হয়ে যাবে।
  • কাঁচা রসুন স্বাস্থ্যকর নয়। ভাজার জন্য বা কারি পেস্টের জন্য রসুন ব্যবহার করা হয়।

আদা


মসলা জাতিয় ফসলের মধ্যে আদা (Ginger) অন্যতম। আদা (Zingiber officinale) খাদ্যশিল্পে, পানীয় তৈরীতে, আচার, ঔষধ ও সুগন্ধি তৈরীতে ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও মুখের রুচি বাড়াতে ও বদহজম রোধে আদাশুকিয়ে চিবিয়ে খাওয়া হয়। এছাড়াও সর্দি, কাশি, আমাশয়, জন্ডিস, পেট ফাঁপায় আদা চিবিয়ে বা রস করে খাওয়া হয়।অন্যান্য ফসলের চেয়ে আদা চাষ করা লাভজনক।আদার প্রধান উপকারিতা এই যে, এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আদা চা ক্লান্তি দূর করে। এটি শরীরে উষ্ণতা বাড়ায়। ফলে যাদের পিত্ত সমস্যা আছে তাদের এটি কম খাওয়া উচিত।

বাংলাদেশের টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী, পঞ্চগড় ও পার্বত্য জেলাগুলোতে ব্যাপকভাবে আদা চাষ হয়ে থাকে।আদা বীজ রোপণের প্রায় ৭-৮ মাস পর ফসল পরিপক্ক হয়। আদা এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে মে মাস পর্যন্ত রোপণ করা হয়। সাধারণত ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে আদা উত্তোলন করা হয়। আদায় আমিষ ২·৩%, শ্বেতসার ১২·৩% , আঁশ ২·৪% , খনিজ পদার্থ, ১·২% পানি ৮০·৮% ইত্যাদি উপাদান বিদ্যমান।

দারুচিনি


এলাচের পাশাপাশি রান্নায় ব্যবহার করা হয় দারুচিনি। দারুচিনিতে অল্প পরিমাণে প্রোটিন, প্রচুর পরিমাণে মিনারেল এবং ভিটামিন রয়েছে। দারুচিনি রক্তে কোলেস্টেবল ২ ঘন্টার মধ্যে ১০% কমায়। দারুচিনিতে রয়েছে এসেনশিয়াল অয়েল অ্যান্টি মাইক্রোবায়াল যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। দারুচিনির নিউট্রিশন প্রপার্টির জন্য ব্লাড সুগার কমে। আর্থারাইটসের জন্য দারচিনি খুবই উপকারী। ব্লাডার ইনফেকশন কমাতে সাহায্য করে দারুচিনি গুড়ো ইউটেরাসকে শক্ত করতে সাহায্য করে। এর গুড়ো মাড়িতে লাগালে মেয়েদের প্রজনন ক্ষমতা বাড়ে। খাওয়ার আগে দারচিনি খেলে পেট ঠিক থাকে। দারচিনি রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রেখে হার্টকে সুস্থ রাখে।

রসুন

Saturday, August 7, 2010


ভূমিকা:

রসুন একটি অতি প্রয়োজনীয় মসলা ফসল। এর নানা রকম ভেষজ গুণ রয়েছে।

পুষ্টিমূল্যঃ

রসুনে আমিষ, প্রচুর ক্যালসিয়াম ও সামান্য ভিটামিন ‘সি’ থাকে।
ভেষজ গুণঃ
১) কৃমি নাশক
২) শ্বাস কষ্ট কমায়
৩) হজমে সহায়তা করে
৪) প্রস্রাবের বেগ বাড়ায়
৫) শ্বাসনালীর মিউকাস বের করে দেয়
৬) এ্যাজমা রোগীর উপশম দেয়
৭) হাইপারটেনশন কমায়
৮) চুল পাকানো কমায়
৯) শরীরে কোলেস্টেরল লেভেল কমায়।

ব্যবহারঃ

মসলা হিসেবে রসুন ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া বিভিন্ন আচার ও মুখরোচক খাবার তৈরিতে রসুনের ব্যবহার রয়েছে।

উপযুক্ত জমি ও মাটিঃ

জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ ও সহজেই গুড়া হয় এমন মাটি রসুনের উপযোগী।

জাত পরিচিতিঃ

অনুমোদিত জাত নেই। স্থানীয় জাত চাষ করা হয়।

বীজ বপনঃ

শুকনো রসুনের বাহিরের সারির কোয়া লাগানো হয়। ১৫ সে.মি. দূরত্বে সারি করে ১০ সে.মি. দূরে ৩-৪ সে.মি. গভীরে রসুনের কোয়া লাগানো হয়। প্রতি হেক্টরে ৩০০-৩৫০ কেজি বীজ রসুনের প্রয়োজন হয়।

সার ব্যবস্থাপনাঃ

রসুনে হেক্টর প্রতি সারের পরিমাণ হলো-গোবর ১০ টন, ইউরিয়া ২০০ কেজি, টিএসপি ১২৫ কেজি, এমওপি ১০০ কেজি, জিংক সালফেট ২০ কেজি, বোরাক্স ১০ কেজি ও জিপসাম ১০০ কেজি। জমি তৈরির সময় সমুদয় গোবর, টিএসপি, জিংক সালফেট, বোরাক্স ও জিপসাম মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। রসুন লাগানোর ৩০ দিন ও ৬০ দিন পর যথাক্রমে ১ম ও ২য় কিস্তির উপরি সার প্রয়োগ করা হয়। প্রতিবারে প্রতি হেক্টরে ১০০ কেজি ইউরিয়া ও ৫০ কেজি এমওপি সার প্রয়োগ করা হয়।

সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনাঃ

মাটিতে রসের অভার থাকলে মাঝে মাঝে সেচ দিতে হবে। প্রতিবার সেচ দেয়ার পর মাটি নিড়ানি দিয়ে কুপিয়ে ঝুরঝুরে করে দিতে হবে। আগাছা দেখা দিলে তা পরিষ্কার করতে হবে।
পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা:
পোকার নাম : থ্রিপস
ভূমিকা : থ্রিপস ছোট আকারের পোকা বলে সহজে নজরে আসে না কিন্তু' পাতার রস চুষে খায় বলে অধিক আক্রমণে পাতা শুকিয়ে গাছ মরে যায় ও ফলন কম হয়।
পোকা চেনার উপায় : স্ত্রী পোকা সরম্ন, হলুদাভ। পুরম্নষ গাঢ় বাদামী । বাচ্চা পোকা হলুদ অথবা সাদা । এদের পিঠের উপর লম্বা দাগ দেখা যায়।
ক্ষতির নমুনা : রস চুষে খায় বলে পাতা রূপালী রং ধারণ করে অথবা ক্ষুদ্রাকৃতির বাদামী দাগ বা ফোটা দেখা যায়। আক্রমণ বেশী হলে পাতা শুকিয়ে মরে যায়। কন্দ আকারে ছোট ও বিকৃত হয়।
অনুকুল পরিবেশ : বিকল্প পোষকের উপস্তিতি।
জীবন চক্র : স্ত্রী পোকা পাতার কোষের মধ্যে ৪৫-৫০ টি ডিম পাড়ে। ৫-১০ দিনে ডিম হতে নিম্ফ (বাচ্চা) বের হয়। নিম্ফ ১৫-৩০ দিনে দুটি ধাপ অতিক্রম করে । প্রথম ধাপে খাদ্য গ্রহণ করে এবং দ্বিতীয় ধাপে খাদ্য গ্রহণ না করে মাটিতে থাকে । এরা বছরে ৮ বার বংশ বিস্তার করে এবং স্ত্রী পোকা পুরুষ পোকার সাথে মিলন ছাড়াই বাচ্চা দিতে সড়্গম ।
ব্যবস্থাপনা : সাদা রংয়ের আঠালো ফাঁদ ব্যবহার ক্ষেতে মাকড়সার সংখ্যা বৃদ্ধি করে এ পোকা দমন করা যায়। অনুমোদিত কীটনাশক নির্ধারিত মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে।

রোগ ব্যবস্থাপনা
রোগের নাম : পার্পল ব্লচ/ব্লাইট
ভূমিকা : এ রোগ পেঁয়াজের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। যে কোন বয়সে গাছের পাতা ও কান্ড আক্রান্ত হয়। অধিক আক্রমনে পেঁয়াজে ফুল আসে না ও ফসল কম হয়। আক্রান্ত বীজ বেশিদিন গুদামে রাখা যায়না । বাজার মূল্য কমে যায়।
রোগের কারণ : অল্টারনারিয়া পোরি ও স্টেমফাইলিয়াম বট্রাইওসাম নামক ছত্রাকদ্বয় দ্বারা এ রোগ হয়ে থাকে।
ক্ষতির নমুনা : কান্ডে প্রথমে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পানি ভেজা হালকা বেগুনী রংয়ের দাগের সৃষ্টি হয়। দাগগুলি বৃদ্ধি পেয়ে বড় দাগে পরিণত হয় এবং আক্রান্ত স্থান খড়ের মত হয়ে শুকিয়ে যায়। আক্রান্ত পাতা ক্রমান্বয়ে উপরের দিক হতে মরতে শুরু করে। পাতা বা কান্ডের গোড়ায় আক্রান্ত স্থানের দাগ বৃদ্ধি পেয়ে হঠাৎ পাতা বা বীজবাহী কান্ড ভেঙ্গে পড়ে এতে বীজ অপুষ্ট হয় ও ফলন কম হয়।
অনুকুল পরিবেশ : বৃষ্টিপাত হলে এ রোগ দ্রত বিস্তার লাভ করে।
বিস্তার : আক্রান্ত বীজ, গাছের পরিত্যাক্ত অংশ ও বায়ুর মাধ্যমে এ রোগ বিস্তার লাভ করে।

ব্যবস্থাপনা :
- রোগ প্রতিরোধী বা সহনশীল জাত ব্যবহার
- রোগমুক্ত বীজ ব্যবহার
- ফসল পর্যায় অনুসরন করা অর্থ্যাৎ একই জমিতে পর পর কমপক্ষে ৪ বছর পেঁয়াজ না করা
- পেঁয়াজ গাছের পরিত্যাক্ত অংশ, আগাছা ধ্বংশ করা
- অনুমোদিত ছত্রাক নাশক নির্ধারিত মাত্রায় প্রয়োগ করা ।

রোগের নাম : কান্ড পঁচা
রোগের কারণ : স্ক্লেরোসিয়াম রলফসি ও ফিউজারিয়াম নামক ছত্রাক দ্ধারা এ রোগ হয়।
ভূমিকা : যে কোন বয়সে গাছ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। কন্দ ও শিকড়ে এর আক্রমণ দেখা যায়। আক্রান্ত কন্দে পচন ধরে এবং আক্রান্ত কন্দ গুদামজাত করে বেশী দিন রাখা যায় না।
ক্ষতির নমুনা : আক্রান্ত গাছের পাতা হলদে হয়ে যায় ও ঢলে পড়ে । টান দিলে আক্রান্ত গাছ খুব সহজে মাটি থেকে কন্দসহ ( পেঁয়াজ) উঠে আসে। আক্রানত স্থানে সাদা সাদা ছত্রাক এবং বাদামী বর্ণের গোলাকার ছত্রাক গুটিকা (স্ক্লেরোসিয়াম ) দেখা যায়।

অনুকুল পরিবেশ : অধিক তাপ ও আর্দ্রতা পূর্ণ মাটিতে এ রোগ দ্রত বিস্তার লাভ করে। ক্ষেতে সেচ দিলেও এ রোগ বৃদ্ধি পায়।
বিস্তার : এ রোগের জীবাণু মাটিতে বসবাস করে বিধায় সেচের পানির মাধ্যমে ও মাটিতে আন্তঃ পরিচর্যার সময় কাজের হাতিয়ারের মাধ্যমে এ রোগের বিস্তার হয়।
ব্যবস্থাপনা :
- আক্রান্ত গাছ তুলে ধ্বংশ করতে হবে।
- মাটি সব সময় স্যাঁত স্যাঁতে রাখা যাবে না।
- আক্রান্ত জমিতে প্রতি বছর পেঁয়াজ /রসুন চাষ না
করা
- অনুমোদিত ছত্রাক নাশক নির্ধারিত মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে।

ফসল সংগ্রহঃ

রসুন গাছের পাতা শুকিয়ে বাদামী রং ধারণ করলে ঢলে পড়ে তখন রসুন তোলার উপযোগী হয়। গাছসহ রসুন তোলা হয় এবং ঐ ভাবে ছায়াতে ভালভাবে শুকিয়ে মরা পাতা কেটে সংরক্ষণ করা হয়। প্রতি হেক্টরে ১০-১২ টন ফলন পাওয়া যায়।

সূত্র: ইউরো বাংলা


ভূমিকা:

শুকনা ও কাঁচা উভয় মরিচই বাংলাদেশে অত্যন্ত জনপ্রিয় মসলা ফসল হিসেবে পরিচিত।

পুষ্টিমূল্যঃ

শুকনো মরিচে আমিষ, প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘সি’ থাকে।

ভেষজ গুণঃ

নিয়মিতভাবে কাঁচা মরিচ খেলে মুখে ‘ঘা’ হয় না।

ব্যবহারঃ

রান্না-বান্না ও মুখরোচক খাবার তৈরি ছাড়াও মরিচ বিভিন্ন ধরনের আচার তৈরির উপাদান হিসেবে ব্যবহার হয়। অনেকে মরিচের আচারও করে থাকেন।

উপযুক্ত জমি ও মাটিঃ

প্রচুর আলো-বাতাস এবং পানি, সেচ ও নিকাশের ব্যবস্থা আছে এমন দো-আঁশ মাটি মরিচ চাষের জন্য উপযোগী।

জাত পরিচিতিঃ

ঝাল ও মিষ্টি এ ধরনের মরিচ দেখা যায়। ঝাল মরিচের মধ্যে বগুড়া, চাঁদপুরী, ফরিদপুরী উল্লেখযোগ্য। এছাড়া কামরাংগা, আকালী ও কালো মরিচ খুব ঝাল।

চারা তৈরিঃ

জমি ভালভাবে চাষ ও ও মই দিয়ে ও আগাছা বাছাই করে ৩ ও ১ মিটার আকারের বীজতলা করে সেখানে বীজ বপন করা হয়। শীতকালের জন্য ভাদ্র-আশ্বিণ মাসে ও বর্ষা মৌসুমের জন্য ফাল্গুন-চৈত্র মাসে বীজতলায় বীজ বপন করা হয়। চারা ১০ সে.মি. উঁচু হলে রোপণের উপযোগী হয়।

চারা রোপণঃ

আগাছা পরিষ্কার করে ৪-৫ টি চাষ ও মই দিয়ে জমি প্রস্ত'তির পর চারা রোপণ করা হয়। চারা রোপণে সারি থেকে সারির দূরত্ব ৬০-৭০ সে.মি. ও চারা থেকে চারার দূরত্ব ৩০-৪০ সে.মি. রাখা হয়। চারা বিকেলে লাগাতে হবে এবং ২-৩ দিন সকাল বিকাল পানি দিতে হবে।

সার ব্যবস্থাপনাঃ

মরিচের জমিতে প্রতি হেক্টরে গোবর ১০ টন, ইউরিয়া ২৫০ কেজি, টিএসপি ২০০ কেজি এবং এমওপি সার ১৫০ কেজি প্রয়োগ করা হয়। জমি তৈরির সময় সমুদয় গোবর, টিএসপি ও ৫০ কেজি এমওপি সার প্রয়োগ করা হয়। চারা রোপণের ২৫ দিন পর ৮৪ কেজি ইউরিয়া ও ৩৪ কেজি এমওপি সার প্রথম উপরি প্রয়োগ করা হয়। লাগানোর ৫০ দিন পর ২য় ও ৭০ দিন পর তৃতীয় কিস্তি-র উপরি সার প্রয়োগ করা হয়। ২য় ও ৩য় কিস্তি-র প্রতিবারে ৮৩ কেজি ইউরিয়া ও ৩৩ কেজি এমওপি সার প্রয়োগ করা হয়।

সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনাঃ

জমিতে রসের অভাব হলে সেচ দিতে হবে ও পানি নিকাশের ব্যবস্থা রাখতে হবে। আগাছা দেখা দিলে তা পরিষ্কার করতে হবে এবং উপরি সার প্রয়োগের সময় কোদাল দিয়ে কুপিয়ে আলগা করে দিতে হবে।

পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা:

পোকার নাম : সাদা মাছি
ভূমিকা : খুব ছোট আকারের এ পোকা পাতার রস চুষে খায়। ফলে গাছের বাড়বাড়তি ব্যহত হয়। তাছাড়া এ পোকা কালো সুটি মোল্ড নামক ছত্রাক পাতায় জন্মাতে সহায়তা করে এবং ভাইরাস রোগ ছড়ায়।
পোকা চেনার উপায় : সাদা রংয়ের এ পোকা গাছের পাতার নিচের দিকে থাকে। লম্বায় ১ মিলিমিটারের চেয়ে সামান্য বড়। গাছের পাতা সামান্য নাড়া দিলে উড়ে চলে যায়। এ সকল পোকার শরীর সাদা মোম জাতীয় পদার্থ দ্বারা ঢাকা থাকে।
ক্ষতির নমুনা :
- পাতার নিচের দিক হতে প্রাপ্ত বয়স্ক ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক (নিম্ফ) পোকা পাতার রস চুষে খায় ফলে পাতা কুঁচকে যায় এবং গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
- আক্রমণে প্রথমে পাতায় সাদা বা হলদেটে রং দেখা যায় পরে দাগগুলো একত্রে হয়ে সবুজ শিরাসহ পাতা হলুদ হয়ে যায়।
- এ পোকা খাওয়ার সময় আঠালো মিষ্টি রস নি:সরণ করে বিধায় ঐ আঠাতে কালো ছত্রাক জন্মাতে সহায়তা করে।
- এ পোকা ভাইরাস রোগ ছড়ায়।
অনুকুল পরিবেশ : উষ্ণ ও শুষ্ক আবহাওয়া এ পোকা বিস্তারের জন্য সহায়ক।
জীবন চক্র : এ পোকা সাধারনত পাতার নিচের দিকে অতি ক্ষুদ্র সাদা ডিম পাড়ে। ডিম পরে বাদামী রং ধারণ করে ও ৩-১৭ দিন পর ডিম ফুটে নিম্ফ (বাচ্চা ) বের হয়। বাচ্চা সবুজাভ সাদা, ২-৬ সপ্তাহ নিম্ফ অবস্থায় থেকে পূর্ণাঙ্গ পোকায় পরিণত হয়। পূর্নাঙ্গ পোকা ১০-১৫ দিন বাঁচে।
ব্যবস্থাপনা : হলুদ রংয়ের আঠালো ফাঁদ ব্যবহার করতে হবে। প্রতি লিটারের ৫ গ্রাম কাপড় কাঁচা সাবান মিশিয়ে সেপ্র করতে হবে।
- অনুমোদিত কীটনাশক নির্ধারিত মাত্রায় ব্যবহার করতে হবে।

পোকার নাম : থ্রিপস
ভূমিকা : এটি একটি ক্ষুদ্র পোকা। আক্রমণ বাহির হতে বোঝা যায় না বিধায় ক্ষতির সমূহ সম্ভাবনা থাকে। সুতরাং মাঝে মাঝে ক্ষেত পরিদর্শন করে ফসলের অবস্থা দেখে আগে থেকেই ব্যবস্থা নিতে হবে।
পোকা চেনার উপায় : থ্রিপস অতি ক্ষুদ্র একটি পোকা যা খালি চোখে কোন মতে দেখা যায়। এ পোকা পাতার রস চুষে খায়। ফলে অধিক আক্রমণে পাতা কুঁচতে যায় এমনকি গাছ থেকে কোন ফুল ফল নাও আসতে পারে। এ পোকা ভাইরাস রোগও ছড়ায়।
ক্ষতির নমুনা
- নিম্ফ (বাচ্চা )ও পূনাঙ্গ পাতার রস চুষে খায় বলে পাতা কুঁকড়িয়ে যায় এবং অনেকটা নৌকার মত দেখায়।
- পোকার আক্রমনে পাতা বাদামী রং ধারন করে।
- নতুন ও পুরাতন উভয় পাতায় আক্রমন করে।

অনুকুল পরিবেশ : উষ্ণ ও শুষ্ক আবহাওয়া ।
জীবন চক্র : পূর্ণ বয়স্ক পোকা ৪৫-৫০টি ডিম পাড়ে। ৫-৬ দিনে ডিম থেকে নিম্ফ (বাচ্চা) বের হয় এবং নিম্ফ ৭-৮ দিন পর পূর্নাঙ্গ পোকায় পরিণত হয়। র্পূনাঙ্গ পোকা ৩১ দিন পর্যন বাঁচে। পাতা নাড়াচাড়া করলে এরা উড়ে পালায় ।
ব্যবস্থাপনা : সাদা রংয়ের আঠালো ফাঁদ ব্যবহার
- মাকড়সা এ পোকা খায় বিধায় এর সংখ্যা বাড়ানো গেলে সহজেই থ্রিপস দমন করা যায়।
- অনুমোদিত কীটনাশক সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ ।

পোকার নাম : জাব পোকা
ভূমিকা : র্পূনাঙ্গ ও নিম্ফ (বাচ্চা) পাতা, ফুল, কচি ফল ও ডগার রস চুষে খায়। অধিক আক্রমনে গাছের বাড় বাড়তি কমে যায় ও ফলন কম হয়। এ পোকা ভাইরাস রোগ ছড়ায়।
পোকা চেনার উপায় : জাব পোকা অতি ছোট, দেহ নরম ও উজ্জ্বল কাল রংয়ের হয়ে থাকে। পাখাওয়ালা জাব পোকা উড়তে পারে কিন্তু' নিম্ফ বা পাখা বিহীন উড়তে পারে না । এরা দল বদ্ধ ভাবে বাস করে।
ক্ষতির নমুনা : পূর্নাঙ্গ ও নিম্ফ পাতা, ফুল কচি ফল ও ডগার রস চুষে খায়।
- পাতা কুঁকড়ে যায়, গাছের বৃদ্ধি ও ফুল, ফল ধারণ বাধাগ্রস' হয়
- এ পোকা থেকে নি:সৃত মধুরসে কালো শুটি মোল্ড ছত্রাক জন্মায়।
অকুকুল পরিবেশ : বাতাসে আদ্রতা বেশী ও মেঘলা আকাল
জীবন চক্র : এ পোকা কোন যৌন মিলন ছাড়াই ১০-১২ দিনের মধ্যে ৮-৩০ টি নিম্ফ জন্ম দিতে পারে। নিম্ফ অবস্থা ৫-৮ দিন থাকে। পাখা বিহীন জাব পোকা ২৪ ঘন্টার মধ্যে বাচ্চা দিতে পারে। এরা সারা বছর বংশ বিস্তার করে।
ব্যবস্থাপনা : আক্রমনের প্রাথমিক অবস্থায় হাত দিয়ে পিষে মেরে ফেলা ।
- লেডি বার্ড বিটলের পূর্নাঙ্গ ও কীড়া (গস্নাব) এবং সিরফিড ফ্লাই এর কীড়া জাব পোকা খায় বিধায় এদের সংরক্ষণ ও সংখ্যা বাড়ানো গেলে জাবপোকা অতি দ্রত খেয়ে ফেলে ।
- অনুমোদিত কীট নাশক ব্যবহার করা

পোকার নাম : ফলছিদ্রকারী পোকা
ভূমিকা : এ পোকার মথ নিশাচর এবং রাতের আলোতে আকৃষ্ট হয়। পোকার কীড়ার আক্রমণে মরিচ ছিদ্র যুক্ত দেখায় ও বাজার মূল্য কমে যায।
পোকা চেনার উপায় : মা পোকাকে (মথ) সাধারনত রাত ছাড়া দেখা যায় না । কীড়াকে (বাচ্চা) ফলের মধ্যে দেখা যায়। কীড়া লম্বায় প্রায় ২ ইঞ্চি। কীড়ার গায়ের রং কালচে ধূসর থেকে হালকা বাদামী এবং শরীরের উভয় পার্শ্বে লম্বালম্বি হালকা কাল ও বাদামী রংয়ের দাগ দেখা যায়।
ক্ষতির নমুনা : কীড়া ফলের বোটার কাছে ছিদ্র করে ভেতরের অংশ খায়।
- একটি পোকা একাধিক ফলে আক্রমন করতে পারে এবং ফলের ভেতর কীড়ার বিষ্ঠা ও পচন দেখা যায়।
- আক্রান্ত ফল অসময়ে পাকে।
অনুকুল পরিবেশ : বিকল্প পোষকের উপস্থথি'তি ।
জীবন চক্র : মথ পাতার নিচে ২০০-৩০০ ডিম পাড়ে। ৩-৪ দিনে ডিম ফোটে কীড়া বের হয়। ছোট কীড়া একত্রে থাকে তবে বড় হলে সারা মাঠ ছড়িয়ে পড়ে। কীড়া ১৪-১৬ দিন পর পুত্তলিতে পরিণত হয়। পুত্তলি ২-৩ ইঞ্চি মাটির গভীরে থাকে। ১০-১৫ দিন পর পুত্তলি হতে পূর্ণাঙ্গ মথ বের হয়। জীবনচক্র সম্পন্ন করতে ৩০-৩৫ দিন লাগে । এরা বছরে ৮বার বংশ বিসতার করে।
ব্যবস্থাপনা : জমি থেকে ডিম ও কীড়া সংগ্রহ করে নষ্ট করা।
- প্রতি বিঘায় ১৫ টি হারে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে পুরুষ মথ মেরে ফেলা।
-প্রতি সপ্তাহে একবার করে পরজীবী পোকা; ট্রাইকোগ্রামা কাইলোনিজ ব্যবহার (প্রতি হেক্টরে ১ গ্রাম ডিম) করা।
- অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহার করা।

নাম : চওড়া মাকড়
ভূমিকা : এদের পা ৮ টি বলে মাকড় বলে । বালিকণার মত ক্ষুদ্র বলে দেখা যায় না কিন্তু এদের আক্রমণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে থাকে।
মাকড় চেনার উপায় : মাকড় অতি ক্ষুদ্র, খালি চোখে দেখা যায় না, রং সাদা বা হলদে । এরা পাতার নিচে মধ্য শিরা ঘিরে দলবদ্ধভাবে বসবাস করে। দেহ নরম, ডিম্বাকৃতির। এরা কাঁকড়ার মত দেখায়।
ক্ষতির নমুনা : পাতার নীচে থেকে রস চুষে খায় ফলে পাতার শিরার মধ্যকায় এলাকার বাদামী রং ধারণ করে ও শুকিয়ে যায়।
- আক্রান্ত পাতা কুঁকড়িয়ে যায় এবং কচি পাতার নীচের দিকে বেঁকে পেয়ালা আকৃতির হয়ে যায় ও পাতা সরু হয়।
- ব্যাপক আক্রমণে পাতা ভেঙ্গে যায়।
- ফলন ব্যাপকভাবে কমে যায়।
অনুকুল পরিবেশ : বিকল্প পোষক।
জীবন চক্র : স্ত্রী মাকড় পাতার নীচে ৩০-৭৬ টি ডিম পাড়ে। ২-৩ দিনের মধ্যে ডিম থেকে কীড়া বের হয়। ২-৩ দিন পর কীড়াগুলো নিম্ফে পরিণত হয় এবং ১ দিন পর পূর্ণাঙ্গ মাকড়ে পরিণত হয়। পূর্ণাঙ্গ স্ত্রী মাকড় ৮-১৩ দিন বাঁচে ও পুরুষ মাকড় ৫-৯ দিন বাঁচে।
ব্যবস্থাপনা : আক্রমণের শুরুতে হাত দিয়ে আক্রান্ত পাতা সংগ্রহ করে ধ্বংশ করতে হবে।
- প্রতি লিটার পানিতে নিম তেল ৫ মিলি এবং ৫ মিলি ট্রিকস্‌ মিশিয়ে পাতার নিচের দিকে সেপ্র করতে হবে।
- পাইরিথ্রয়েড জাতীয় কীটনাশক প্রয়োগ যথা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে।
- অনুমোদিত মাকড়নাশক প্রয়োগ করতে হবে।

রোগ ব্যবস্থাপনা

রোগের নাম : ক্ষত, এনথ্রাকনোজ বা ডাইব্যাক
রোগের কারণ : কলিটোট্রিকাম ক্যাপসিসি নামক ছত্রাক দ্ধারা এ রোগ হয়।
ভূমিকা : এ রোগের আক্রমণে গাছ বড় হয় না, পাতায় দাগ পড়ে ও ডগা থেকে শুরু হয়ে পুরো গাছ মরে যেতে পারে। মরিচে আক্রমন হলে মরিচের ফলন কম হয় এবং রং বিবর্ণ হওয়ায় বাজার মূল্য কমে যায়।
ক্ষতির নমুনা : চারা ও বয়স্ক গাছের পাতা , ডাল, ফুল ফল আক্রান্ত হয়।
- আক্রান্ত পাতা ঝরে যায় ও ডগা উপর হতে মরতে শুরু করে।
- আক্রান্ত গাছ ফ্যাকাশে বর্ণ ধারণ করে, দুর্বল হয়ে যায় ও ফল ধারণ ক্ষমতা কমে যায়।
- ফলের উপর গোলাকার কাল দাগ পড়ে এবং দাগের চারিদিকে গাঢ় হলুদ রিং বা বলয় থাকে। এ দাগ বৃদ্ধি পেয়ে ফল পঁচিয়ে দেয় ও ঝরে পড়ে।
- আক্রান্ত গাছ দ্রত মরে যায়।
অনুকুল পরিবেশ : আদ্র আবহাওয়া ও অধিক বৃষ্টিপাত এ রোগ বিস্তারে সহায়তা করে।
বিস্তার : গাছের পরিত্যাক্ত অংশ , বিকল্প পোষক হতে বায়ু, পানি, ইত্যাদির মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে। তাছাড়া বীজের মাধ্যমে ও এ রোগের বিস্তার হয়।
ব্যবস্থাপনা : সুস্থ' গাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হবে।
- আক্রান্ত গাছের পরিত্যাক্ত অংশ ধ্বংশ করতে হবে।
- অনুমোদিত ছত্রাকনাশক দ্ধারা বীজ শোধন করে বীজ বপন করতে হবে।
- ক্ষেতের রোগের আক্রমণ দেখা মাত্র অনুমোদিত ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করতে হবে।

রোগের নাম : পাতা পঁচা
রোগের কারণ : চুয়ানিফোরা নামক ছত্রাকের আক্রমনে এ রোগ হয়।
ভূমিকা : ক্ষেতে আক্রমণ বেশী হলে সম্পূর্ণ ফসল নষ্ট হয়ে যাবার সম্ভাবনা আছে। এ কারনে রোগের আক্রমনের শুরু থেকেই সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।
ক্ষতির নমুনা : চারা ও বয়স্ক গাছের শাখা প্রশাখা, পাতা ফুল ও ফল এ রোগে আক্রান্ত হয়। প্রথমে পাতায় পানি ভেজা দাগ দেখা যায়। পরে এ দাগ বৃদ্ধি পায় ও আক্রান অংশ বিবর্ণ হয়ে কালচে রং ধারন করে এবং পাতা দ্রত পঁচে যায়। অনুকুল পরিবেশে ৫-৭ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ গাছ মরে যেতে পারে।
অনুকুল পরিবেশ : উচ্চ তাপ মাত্রা ও স্যাঁত স্যাঁতে আবহাওয়ায় এ রোগ দ্রত ছড়ায় ।
বিস্তার : বায়ু , আক্রান্ত অংশের মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়।
ব্যবস্থাপনা : ফসলের পরিত্যাক্ত অংশ নষ্ট করতে হবে। গাছ আক্রান্ত হওয়া মাত্রই অনুমোদিত ছত্রাক নাশক সেপ্র করতে হবে।

রোগের নাম : লিফ কার্ল
রোগের কারণ : একপ্রকার ভাইরাস
ভূমিকা : যে কোন বয়সের গাছ আক্রান্ত হতে পারে তবে বয়স্ক গাছই বেশী আক্রান্ত হয়। পাতা কুঁকড়িয়ে যায় বলে গাছের সাধারণ বৃদ্ধি ব্যহত হয় ও ফলন কমে যায়।
ক্ষতির নমুনা :
- আক্রান্ত গাছের পাতা কুঁকড়িয়ে যায় ও সাধারণ পাতা অপেক্ষা পুরণ হয়।
- গাছের পর্ব মধ্য ছোট হয় ও গাছ খাট আকারের হয়।
- ফুল ও ফল ধারণ ক্ষমতা কমে যায়।
- ভাইরাস আক্রান্ত গাছ মরে যায় না তবে পুনরায় স্বাভাবিক ও হয় না ।
অনুকুল পরিবেশ : বিকল্প পোষকের উপস্থি'তি
বিস্তার : পোকা দ্বারা এ রোগের বিস্তার ঘটে।
দমন : আশে পাশের সোলানেসি পরিবারের অন্যান্য পোষক উদ্ভিদ ধ্বংশ করতে হবে।
- অনুমোদিত কীটনাশক সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে।

ফসল সংগ্রহঃ

ফুল আসার পর ১৫-২০ দিনের মধ্যে কাঁচা মরিচ তোলা হয়। তবে মরিচের রং লাল হলে তুলে রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা যায়। প্রতি হেক্টরে ফলন কাঁচা ১০-১১ টন ও শুকনো ১.৫-২.০ টন।

সূত্র: ইউরো বাংলা


হলুদ চাষ


ভূমিকা:

হলুদ মসলা হিসেবে একটি জনপ্রিয় এবং বহুল ব্যবহৃত মসলা ফসল। এছাড়াও হলুদের অনেক ভেষজ গুণও রয়েছে।

পুষ্টিমূল্য:

এতে আমিষ, চর্বি এবং প্রচুর ক্যালসিয়াম, লৌহ ও ক্যারোটিন থাকে।

ভেষজগুণঃ

- পাকস্থলীর গ্যাস নিবারণ করে;
- মুত্রনালীর রোগ নিবারণ করে থাকে;
- ক্ষত শুকাতে ও থাকে;
- ব্যাথা নিবারণে ব্যবহৃত হয়।

ব্যবহার:

মসলা হিসেবে বিভিন্ন প্রকার রান্নার কাজে হলুদ ব্যবহার করা হয়। রুপ চর্চায়ও এর ব্যবহার রয়েছে।

উপযুক্ত জমি ও মাটিঃ

সব ধরনের মাটিতে হলুদ চাষ করা যায়। তবে দো-আঁশ ও বেলে-দো-আঁশ মাটি হলুদ চাষের জন্য অতি উত্তম।

জাত পরিচিতিঃ

ডিমলা ও সিন্দুরী নামে বাংলাদেশে দু’টি উন্নত জাত রয়েছে। ডিমলা জাতটি স্থানীয় জাতের তুলনায় ৩ গুণ ফলন বেশী দেয়।

বীজ বপন:

চৈত্র মাস কন্দ লাগানোর উপযুক্ত সময়। সাধারণতঃ ১৫-২০ গ্রাম ওজনের ১-২টি ঝুঁড়ি বিশিষ্ট কন্দ লাগাতে হয়। ৫০ সে.মি. দূরে দূরে সারি করে ২৫ সে.মি. দূরে দূরে ৫-৭ সে.মি. গভীরে কন্দ লাগাতে হয়। প্রতি হেক্টরে ২৫০০ কেজি কন্দ প্রয়োজন হয়। কন্দ লাগানোর পর ভেলী করে দিতে হয়।

সার ব্যবস্থাপনাঃ

জমির উর্বরতার উপর সারের পরিমাণ নির্ভর করে। সাধারণতঃ প্রতি হেক্টরে সারের পরিমাণ হলোঃ গোবর ৪-৬ টন, ইউরিয়া ২০০-২৪০ কেজি, টিএসপি ১৭০-১৯০ কেজি, এমওপি ১৬০-১৮০ কেজি, জিপসাম ১০৫-১২০ কেজি ও জিংক সালফেট ২-৩ কেজি। জমি তৈরির সময় সমুদয় গোবর, টিএসপি, জিপসাম, জিংক সালফেট ও ৮০ কেজি এমওপি সার মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হয়। কন্দ লাগানোর ৫০-৬০ দিন পর ১০০-১২০ কেজি ইউরিয়া ভেলী হালকাভাবে কুপিয়ে প্রয়োগ করে আবার ভেলী করে দিতে হয়। ১ম কিস্তি-র ৫০-৬০ দিন পর দ্বিতীয় কিস্তির- এবং আরও ৫০-৬০ দিন পর তৃতীয় কিস্তি-র সার উপরি প্রয়োগ করতে হয়। ২য় ও ৩য় কিস্তি-র উপরি সার হিসেবে প্রতি হেক্টরে প্রতিবারে ৫০-৬০ কেজি ইউরিয়া ও ৪০-৪৫ কেজি এমওপি সার প্রয়োগ করতে হয়। ২য় ও ৩য় কিস্তি-র সার সারির মাঝে প্রয়োগ করে কোঁদাল দিয়ে কুপিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে এবং সামান্য মাটি ভেলীতে দিতে হবে।

বীজ বপন:

চৈত্র মাস কন্দ লাগানোর উপযুক্ত সময়। সাধারণতঃ ১৫-২০ গ্রাম ওজনের ১-২টি ঝুঁড়ি বিশিষ্ট কন্দ লাগাতে হয়। ৫০ সে.মি. দূরে দূরে সারি করে ২৫ সে.মি. দূরে দূরে ৫-৭ সে.মি. গভীরে কন্দ লাগাতে হয়। প্রতি হেক্টরে ২৫০০ কেজি কন্দ প্রয়োজন হয়। কন্দ লাগানোর পর ভেলী করে দিতে হয়।

সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপণাঃ

মাটিতে রস না থাকলে মাঝে মাঝে সেচ দিতে হবে। বৃষ্টির পানি যাতে গাছের গোড়ায় না জমে সেজন্য নালা করে পানি বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। আগাছা দেখা দিলে তা পরিষ্কার করতে হবে। তবে সার উপরি প্রয়োগের সময় আগাছা পরিষ্কার করে প্রয়োগ করা ভাল।

পোকমাকড় ব্যবস্থাপনা

পোকার নাম : ডগা ছিদ্রকারী পোকা
ভূমিকা : কান্ড আক্রমণ করে বলে গাছের বৃদ্ধি ব্যহত হয়। ফলে উৎপাদন কম হয়।
পোকা চেনার উপায় : এ পোকার মথ (মা) কমলা হলুদ রংয়ের এবং পাখার উপর কালো বর্ণের ফোটা থাকে। কীড়া হালকা বাদামী বর্ণের। গায়ে সুক্ষ্ণ শুং থাকে।
ক্ষতির নমুনা : পোকা কান্ড ছিদ্র করে ভিতরের দিকে খায় বলে পাতা হলুদ হয়ে যায়। নেক সময় ডেড হার্ট লঙ্গন দেখা যায়। আক্রান্ততা কান্ডে ছিদ্র ও কীড়ার মল দেখা যায়।

অনুকুল পরিবেশ : আদ্র আবহাওয়া।
জীবন চক্র : স্ত্রী মথ পাতা বা গাছের নরম অংশে ডিম পাড়ে। ৭ দিনে ডিম থেকে কীড়া বের হয় এবং ২-৩ সপ্তাহ কীড়া অবস্থায় থাকে। পুত্তলি ধাপ সম্পন্ন করতে ১ সপ্তাহ লাগে। এরা বছরে ৩ বার বংশ বিস্তার করে।
ব্যবস্থাপনা : আক্রান্ত ডগা তুলে ফেলা ও সম্ভব হলে পোকার কীড়া ধরে মেরা ফেলা। প্রতি লিটার পানিতে ৪ মি.গ্রা. হারে বিটি মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। অধিক আক্রমণে অনুমোদিত কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে।

পোকার নাম : রাইজোম স্কেল পোকা
ভূমিকা : এ পোকা রাইজোম (হলুদ) আক্রমণ করে বলে ক্ষেতের আইল থেকে সহজে বুঝা যায় না। ফলে প্রভূত ক্ষতি সাধিত হয়।
পোকা চেনার উপায় : পূর্ণাঙ্গ স্কেল পোকা উজ্জল হলুদ বর্ণের এবং শরীর গোলাকার । এদের শরীর মোমের মত স্কেল দ্ধারা আবৃত থাকে।
ক্ষতির নমুনা : ফসলের শেষ পর্যায়ে রাইজোম এ পোকার আক্রমণ দেখা যায়। পূর্নাঙ্গ ও নিম্ফ পোকা রাইজোমের রস চুষে খায় বলে রাইজোম আকারে ছোট হয়। রাইজোম কুঁচকে যায় ও অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা কমে যায়। আক্রান্ত রাইজোম গুদামে রাখলে সেখানে পচন ধরতে পারে।
অনুকুল পরিবেশ : আর্দ্র আবহাওয়া।
জীবন চক্র : স্ত্রী পোকা রাইজোমের উপর হলুদ রংয়ের ডিম পাড়ে। ৭-৮ দিনে ডিম থেকে নিম্ফ (বাচ্চা) বের হয়। ২৪ দিন পর নিম্ফ পূর্ণাঙ্গে পরিণত হয়। এদের জীবনচক্র সম্পন্ন করতে ৩১-৩৫ দিন সময় লাগে। বছরে এরা ১০ বার বংশ বিস্তার করে।
ব্যবস্থাপনা : জুলাই- আগস্ট মাসে আক্রান্ত রাইজোম তুলে ধ্বংশ করতে হবে। স্কেল আক্রান্ত রাইজোম বাদ দিয়ে গুদামজাত করতে হবে। মাঠে আক্রমণ দেখা দিলে ও গুদামে রাখার পূর্বে অনুমোদিত কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে।
পোকার নাম : বিছা পোকা
ভূমিকা : এ পোকার কীড়া ছোট অবস্থায় একত্রে থাকে ও বড় হলে পুরো মাঠে ছড়িয়ে পড়ে বিধায় প্রাথমিক অবস্থায় এদের দমন করা উচিৎ।
পোকা চেনার উপায় : এটি মথ জাতীয় পোকা এবং কীড়ার শরীর লোমে ঢাকা থাকে। কীড়াগুলো ক্ষতিকারক।
ক্ষতির নমুনা : এ পোকার আক্রমণ মাঝে মাঝে দেখা যায়। কীড়া পাতা ও গাছের নরম অংশ খায় । আক্রমনের মাত্রা বেশী হলে পুরো গাছ পাতা বিহীন হয়।
অনুকুল পরিবেশ : বিকল্প পোষক।
জীবন চক্র : স্ত্রী মথ ৪১২-১২৪১ টি ডিম পাড়ে। ৮-১৬ দিনে ডিম হতে কীড়া বের হয়। কীড়া ছোট অবস্থায় দলবদ্ধ থাকে কিন্তু বড় হলে পুরো মাঠে ছড়িয়ে পড়ে। কীড়া অবস্থায় ৪ সপ্তাহ থাকার পর পুত্তলিতে পরিণত হয়। ১-২ সপ্তাহ পুত্তলি অবস্থা কাটানোর পর পূর্ণাঙ্গ মথ বেরিয়ে আসে। মথ ১ সপ্তাহ বাঁচে।
ব্যবস্থাপনা : আলোর ফাঁদ দিয়ে মথ আকৃষ্ট করে মারা। কীড়া দলবদ্ধ থাকা কালীন সংগ্রহ করে হাত দিয়ে পিষে মারা। ক্ষেতের মাঝে কঞ্চি পুঁতে পাখি বসার ব্যবস্থা করলে মথ, কীড়া ইত্যাদি ধরে খায়। শিকারী গান্ধী ও পরজীবী পোকা সংরক্ষণ। আক্রান্ত ক্ষেতের চারিদিকে নালা করে কেরোসিন মিশ্রিত পানি রাখলে কীড়াগুলো ঐ পানিতে পড়ে মারা যায়। সময়মত আগাছা ও মরা পাতা পরিষ্কার করা। নুমোদিত কীটনাশক নির্ধারিত মাত্রায় ব্যবহার করা।

পোকার নাম : থ্রিপস

ভূমিকা : এ পোকা ছোট কিন্তু' পাতার রস চুষে খায় বিধায় গাছ দূর্বল হয়ে পড়ে। সে কারনে ক্ষেতের মধ্যে পাতা বিবর্ণ দেখালে কাছে গিয়ে মনোযোগ সহকারে দেখা উচিৎ , তা না হলে ফলন অনেক কমে যাবে।
পোকা চেনার উপায় : আকৃতিতে খুব ছোট । স্ত্রী পোকা সরু, হলুদাভ। পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ গাঢ় বাদামী । বাচ্চা সাদা বা হলুদ । এদের পিঠের উপর লম্বা দাগ থাকে।

ক্ষতির নমুনা : এরা রস চুষে খায় বলে আক্রান্ত পাতা রূপালী রং ধারণ করে । আক্রান্ত পাতায় বাদামী দাগ বা ফোঁটা দেখা যায়। অধিক আক্রমণে পাতা শুকিয়ে যায় ও ঢলে পড়ে। রাইজোম আকারে ছোট ও বিকৃত হয়।
অনুকুল পরিবেশ : বিকল্প পোষক।
জীবন চক্র : স্ত্রী পোকা পাতার কোষের মধ্যে ৪৫-৫০ টি ডিম পাড়ে।
৫-১০ দিনে ডিম হতে নিম্ফ (বাচ্চা) বের হয়। নিম্ফ ১৫-৩০ দিনে দুটি ধাপ অতিক্রম করে । প্রথম ধাপে খাদ্য গ্রহণ করে এবং দ্বিতীয় ধাপে খাদ্য গ্রহণ না করে মাটিতে থাকে । এরা বছরে ৮ বার বংশ বিস্তার করে। এবং স্ত্রী পোকা পুরুষ পোকার সাথে মিলন ছাড়াই বাচ্চা দিতে সক্ষম ।
ব্যবস্থাপনা : সাদা রংয়ের আঠালো ফাঁদ ব্যবহার। ক্ষেতের মাকড়সার সংখ্যা বৃদ্ধি করে এ পোকা দমন করা যায়। অনুমোদিত কীটনাশক নির্ধারিত মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে।

রোগ ব্যবস্থাপনা

রোগের নাম: লিফ ব্লচ
রোগের কারণ : ট্যাফরিনা নামক ছত্রাক।
ভূমিকা : সাধারনত গাছ একটু বড় হলে এ রোগ দেখা যায়। এ রোগের আক্রমন বেশী হলে পাতা শুকিয়ে যায় বলে খাদ্য তৈরীর অভাবে হলুদ উৎপাদনের পরিমান কমে যায়।
ক্ষতির নমুনা :
- পাতার উভয় পৃষ্ঠায় প্রথমে ছোট, ডিম্বাকৃতির, চৌকোনাকৃতির বা অনিয়মিত বাদামী রংয়ের দাগ পড়ে।
- দাগগুলো দ্রত বৃদ্ধি পেয়ে ও একত্রিত হয়ে সমস্ত পাতা হলুদ করে ফেলে
- সমস্ত গাছ ঝলসানোর মত মনে হয় এবং ফলন কম হয়।
অনুকুল পরিবেশ : বিকল্প পোষক
বিস্তার : আক্রান্ত রাইজোম ( হলুদ) ও বায়ুর সাহায্যে এ রোগ ছড়ায়।
ব্যবস্থাপনা : অনুমোদিত ছত্রাক নাশক নির্ধারিত মাত্রায় প্রযোগ করতে হবে।

ফসল সংগ্রহঃ

সাধারণতঃ লাগানোর ৯-১০ মাস পর পাতা শুকিয়ে গেলে হলুদ সংগ্রহ করা হয়। প্রতি হেক্টরে ২৫-৩০ টন কাঁচা হলুদ পাওয়া যায়।

সূত্র: ইউরো বাংলা

পেঁয়াজ চাষ


পুষ্টিমূল্যঃ

এতে প্রচুর ক্যালসিয়াম ও সামান্য ভিটামিন ‘সি’ আছে।

ভেষজ গুণঃ
১) উত্তেজক হিসেবে কাজ করে
২) প্রস্রাবের বেগ বাড়ায়
৩) শ্বাসনালীর মিউকাস কমায়
৪) ঋতুস্রাব বাড়ায়
৫) হজমি নালার জ্বালা কমায়
৬) রক্ত পরিশোধন করে
৭) এ্যাজমা ও কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়
৮) পোকার কামড়ে বিশুদ্ধ মধুসহ প্রলেপ দিলে জ্বালা কমায়
৯) কাঁচা পেঁয়াজের রস চুলের বৃদ্ধিতে সহায়ক।

ব্যবহারঃ

তরকারীতে মসলা হিসেবে ব্যবহার ছাড়াও বিভিন্ন মুখরোচক খাবার তৈরিতে পেঁয়াজের ব্যবহার রয়েছে।

উপযুক্ত জমি ও মাটিঃ

উর্বর বেলে-দো-আঁশ মাটি পেঁয়াজ চাষের জন্য অতি উত্তম। বর্ষায় পেঁয়াজ চাষের জন্য উঁচু জমি দরকার যেখানে বৃষ্টির পানি জমেনা। জমিতে সেচ ও পানি নিকাশের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

জাত পরিচিত:

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে এ পর্যন্ত পেঁয়াজের তিনটি উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এ গুলো হচ্ছে,বারি পেঁয়াজ-১, বারি পেঁয়াজ-২, বারি পেঁয়াজ-৩। এর ভেতর বারি পেঁয়াজ-২ এবং বারি পেঁয়াজ-৩ খরিপ মৌসুম অর্থাৎ গ্রীষ্মকালে চাষের উপযোগী।

চারা তৈরি:

৩ ও ১ মিটার আকারের প্রতি বীজতলার জন্য ২৫-৩০ গ্রাম বীজের প্রয়োজন হয়। পেঁয়াজ রবি ও খরিপ মৌসুমে চাষ করা যায়। খরিপ মৌসুমে চাষের জন্য জুলাই-আগষ্ট (শ্রাবণ-ভাদ্র) ও রবি মৌসুমে চাষের জন্য ফেব্রুয়ারী-মার্চ (মাঘ-ফাল্গুন) মাসে বীজ তলায় বীজ বপন করতে হয়। জমির আগাছা পরিষ্কার করে ভালভাবে চাষও মই দিয়ে ৩ত্ম১ মিটার আকারের বীজতলা করে এক সপ্তাহ রাখা হয়। বীজ বপনের পূর্বে আগের দিন সন্ধ্যায় বীজ ভিজিয়ে রেখে পরের দিন তুলে ১ ঘন্টা রৌদ্রে শুকিয়ে তারপর বীজতলায় বপন করতে হবে। বীজ বপনের পর ঝুরঝুরে মাটি দিয়ে বীজ ঢেকে দিতে হবে। বীজ বপনের পরদিন বেডে ছায়ার ব্যবস্থা করতে হবে। দিনের বেলা বীজতলা ঢেকে রাখতে হবে এবং রাত্রে খোলা রাখতে হবে। প্রয়োজনে ঝরনা দিয়ে পানি দিতে হবে।

চারা রোপনঃ

৫ টি চাষ ও মই দিয়ে জমি তৈরি করা হয়। ১৫ ও ১০ সে.মি. দূরত্বে চারা রোপন করা হয়। বর্ষার সময় ১ মিটার চওড়া ও ১৫ সে.মি. উঁচু বেড তৈরি করে চারা রোপণ করা হয়। দুই বেডের মাঝে ৩০ সে.মি. চওড়া পানি নিকাশের নালা রাখা হয়। ৪০-৪৫ দিন বয়সের চারা লাগানোর উপযোগী হয়।

সার ব্যবস্থাপনাঃ

পেঁয়াজের জমিতে প্রতি হেক্টরে গোবর ৮-১০ টন, ইউরিয়া ২৫০-২৭০ কেজি, টিএসপি ১৯০-২০ কেজি এবং ১৫০-১৭০ কেজি এমওপি সার প্রয়োগ করা হয়। জমি তৈরির সময় ১৬০-১৭০ কেজি ইউরিয়া ও বাকী সমুদয় সার মাটিতে মেশাতে হয়। চারা রোপনের ২০ দিন পর বাকী ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করা হয়।

সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনা:

জমিতে রসের অভাব থাকলে সেচ দিতে হবে। বর্ষা মৌসুমে যাতে বৃষ্টির পানি দাঁড়াতে না পারে সেজন্য নিকাশ নালা রাখতে হবে। জমি আগাছামুক্ত রাখতে হবে। সেচের পর জমি নিড়ানি দিয়ে আলগা করে দিতে হবে। পেঁয়াজের কন্দ উৎপাদনের ক্ষেত্রে ফুলের কুঁড়ি দেখামাত্র ভেঙ্গে দিতে হবে।

পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা:

পোকার নাম : থ্রিপস
ভূমিকা : থ্রিপস ছোট আকারের পোকা বলে সহজে নজরে আসে না কিন্ত পাতার রস চুষে খায় বলে অধিক আক্রমণে পাতা শুকিয়ে গাছ মরে যায় ও ফলন কম হয়।
পোকা চেনার উপায় : স্ত্রী পোকা সরু, হলুদাভ। পুরুষ গাঢ় বাদামী । বাচ্চা পোকা হলুদ অথবা সাদা । এদের পিঠের উপর লম্বা দাগ দেখা যায়।
ক্ষতির নমুনা : রস চুষে খায় বলে পাতা রূপালী রং ধারণ করে অথবা ক্ষুদ্রাকৃতির বাদামী দাগ বা ফোটা দেখা যায়। আক্রমণ বেশী হলে পাতা শুকিয়ে মরে যায়। কন্দ আকারে ছোট ও বিকৃত হয়।
অনুকুল পরিবেশ : বিকল্প পোষকের উপস্থিতি।
জীবন চক্র : স্ত্রী পোকা পাতার কোষের মধ্যে ৪৫-৫০ টি ডিম পাড়ে। ৫-১০ দিনে ডিম হতে নিম্ফ (বাচ্চা) বের হয়। নিম্ফ ১৫-৩০ দিনে দুটি ধাপ অতিক্রম করে । প্রথম ধাপে খাদ্য গ্রহণ করে এবং দ্বিতীয় ধাপে খাদ্য গ্রহণ না করে মাটিতে থাকে । এরা বছরে ৮ বার বংশ বিস্তার করে এবং স্ত্রী পোকা পুরুষ পোকার সাথে মিলন ছাড়াই বাচ্চা দিতে সক্ষম ।
ব্যবস্থাপনা : সাদা রংয়ের আঠালো ফাঁদ ব্যবহার ক্ষেতে মাকড়সার সংখ্যা বৃদ্ধি করে এ পোকা দমন করা যায়। অনুমোদিত কীটনাশক নির্ধারিত মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে।

রোগ ব্যবস্থাপনা:
রোগের নাম : পার্পল বস্নচ / ব্লাইট
ভূমিকা : এ রোগ পেঁয়াজের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। যে কোন বয়সে গাছের পাতা ও কান্ড আক্রান্ত হয়। বেশি আক্রমনে পেঁয়াজে ফুল আসে না ও ফসল কম হয়। আক্রান্ত বীজ বেশিদিন গুদামে রাখা যায়না । বাজার মূল্য কমে যায়।
রোগের কারণ : অল্টারনারিয়া পোরি ও স্টেমফাইলিয়াম বট্রাইওসাম নামক ছত্রাকদ্বয় দ্বারা এ রোগ হয়ে থাকে।
ক্ষতির নমুনা : কান্ডে প্রথমে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পানি ভেজা হালকা বেগুনী রংয়ের দাগের সৃষ্টি হয়। দাগগুলি বৃদ্ধি পেয়ে বড় দাগে পরিণত হয় এবং আক্রান্ত স্থান খড়ের মত হয়ে শুকিয়ে যায়।
- আক্রান্ত পাতা ক্রমান্বয়ে উপরের দিক হতে মরতে শুরু করে।
- পাতা বা কান্ডের গোড়ায় আক্রান্ত স্থানের দাগ বৃদ্ধি পেয়ে হঠাৎ পাতা বা বীজবাহী কান্ড ভেঙ্গে পড়ে এতে বীজ অপুষ্ট হয় ও ফলন কম হয়।
অনুকুল পরিবেশ : বৃষ্টিপাত হলে এ রোগ দ্রত বিস্তার লাভ করে।
বিস্তার : আক্রান্ত বীজ, গাছের পরিত্যাক্ত অংশ ও বায়ুর মাধ্যমে এ রোগ বিস্তার লাভ করে।
ব্যবস্থাপনা :
- রোগ প্রতিরোধী বা সহনশীল জাত ব্যবহার
- রোগমুক্ত বীজ ব্যবহার
- ফসল পর্যায় অনুসরন করা অর্থ্যাৎ একই জমিতে পর পর কমপক্ষে ৪ বছর পেঁয়াজ না করা
- পেঁয়াজ গাছের পরিত্যাক্ত অংশ, আগাছা ধ্বংশ করা
- অনুমোদিত ছত্রাক নাশক নির্ধারিত মাত্রায় প্রয়োগ করা ।

রোগের নাম : কান্ড পঁচা
রোগের কারণ : স্ক্লেরোসিয়াম রলফসি ও ফিউজারিয়াম নামক ছত্রাক দ্ধারা এ রোগ হয়।
ভূমিকা : যে কোন বয়সে গাছ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। কন্দ ও শিকড়ে এর আক্রমণ দেখা যায়। আক্রান্ত কন্দে পচন ধরে এবং আক্রান্ত কন্দ গুদামজাত করে বেশী দিন রাখা যায় না।
ক্ষতির নমুনা : আক্রান্ত গাছের পাতা হলদে হয়ে যায় ও ঢলে পড়ে ।
- টান দিলে আক্রান্ত গাছ খুব সহজে মাটি থেকে কন্দসহ ( পেঁয়াজ) উঠে আসে।
- আক্রান্ত স্থানে সাদা সাদা ছত্রাক এবং বাদামী বর্ণের গোলাকার ছত্রাক গুটিকা (স্ক্লেরোসিয়াম ) দেখা যায়।
অনুকুল পরিবেশ : অধিক তাপ ও আর্দ্রতা পূর্ণ মাটিতে এ রোগ দ্রত বিস্তার লাভ করে। ক্ষেতে সেচ দিলেও এ রোগ বৃদ্ধি পায়।
বিস্তার : এ রোগের জীবাণু মাটিতে বসবাস করে বিধায় সেচের পানির মাধ্যমে ও মাটিতে আন্তঃ পরিচর্যার সময় কাজের হাতিয়ারের মাধ্যমে এ রোগের বিস্তার হয়।
ব্যবস্থাপনা :
- আক্রান্ত গাছ তুলে ধ্বংশ করতে হবে।
- মাটি সব সময় স্যাঁত স্যাঁতে রাখা যাবে না।
- আক্রান্ত জমিতে প্রতি বছর পেঁয়াজ /রসুন চাষ করা যাবে না।
- অনুমোদিত ছত্রাক নাশক নির্ধারিত মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে।

ফসল সংগ্রহঃ

সাধারণতঃ বর্ষা মৌসুমে ৩৫-৪৫ দিন এবং রবি মৌসুমে ৪০-৫৫ দিনের মধ্যে পেঁয়াজ তোলার উপযুক্ত হয়। রবি মৌসুমে পেঁয়াজের পাতা মরে গেলে (গলা চিকন হলে) গাছ সমেত পেঁয়াজ তুলে এনে পাতা শুকিয়ে মরা পাতা কেটে সংরক্ষণ করা হয়। প্রতি হেক্টরে ফলন রবিতে ১২-১৬ টন ও খরিপ ১০-১২ টন।

পুষ্টিমূল্য:

হলুদে আমিষ, চর্বি এবং প্রচুর ক্যালসিয়াম, লৌহ ও ক্যারোটিন থাকে।


সূত্র: ইউরো বাংলা



দা উৎপাদনেবীজ শোধনপ্রযুক্তি

Monday, August 2, 2010



আদা উৎপাদনেবীজ শোধনপ্রযুক্তি

‘পিলাই তোলা’ শব্দটি আমাদের সবারজানা।এরঅন্তরালে জড়িয়ে আছে একটি ফসলের নাম।আর তা হল নীলফামারী জেলা প্রসিদ্ধ অর্থকরী মসলাও ওষুধি ফসল আদা।এ জেলা ছাড়াও দেশের দিনাজপুর, রংপুর, টাঙ্গাইল, খুলনা, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি জেলায় আদারচাষাবাদ হয়।টাটকা আদায় শতকরা ২.৩ ভাগ প্রোটিন, ১২.৩ ভাগশ্বেতসার, ২.৪ ভাগ আঁশ, ১.২ ভাগ খনিজ পদার্থ, ৮০.৮ ভাগ পানি, রেজিন ইত্যাদি উপাদানবিদ্যমান।দেশের বাৎসরিকচাহিদা ৯৬.০০০ মে.টনের মাত্র ৪৩.০০০ মে. টন আদা উৎপন্নহয় যা চাহিদার তুলনায়খুবই কম।আদাচাষাবাদের প্রযুক্তিলব্ধ জ্ঞানের অভাবে কৃষক পর্যায়ে ফলস প্রতি হেক্টরে প্রায় ৩০থেকে ৪০ টনের পরিবর্তে কমিয়ে ৫.৫৪ টনে দাঁড়িয়েছে।কাজেই, উৎপাদনবাড়ানোর লক্ষে বীজ আদা শোধন প্রযুক্তি অত্যন্তজরুরি।
কেন আদা বীজ শোধন করবেন : সাধারণত ৪৫-৫০ গ্রাম আকারের বীজ আদাএপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে মে মাস পর্যন্ত রোপণ করা হয়।এ ক্ষেত্রে হেক্টর প্রতি২০০০-২৫০০ কেজি আদা বীজ প্রয়োজন।আদা বীজ উত্তমরূপে শোধন না করলে রইজম রট, পাতার ব¬াইড, রাইজম ফ্লাই, প্রভৃতি রোগ-বালাইয়েরপ্রাদুর্ভাব বেশি হয়।রাইজম রটের আক্রমণে প্রথমে আদা গাছের কাণ্ড হলুদ হয়েযায়; রাইজমপচে সম্পূর্ণ গাছ মারা যায়।মাটির আর্দ্রতা বেশি থাকায় এবং মাঝারি বৃষ্টিপাতের জন্যছত্রাকনাশক ¯েপ্র করেও এ রোগ দমন করা যায় না।ফলে মাঝারি উঁচু জমিতেফসল প্রায় শূন্যের কোঠায় দাঁড়ায়।পাতায় অনেক সময় ডিম্বাকৃতির দাগ দেখা যায়।দাগের মাঝে সাদা বা ধূসররঙ হয়।পরেআক্রান্ত পাতা শুকিয়ে যায় এবং গাছ মারা যায়।রোগাক্রান্ত রাইজম ও গাছে আদার প্রধান ক্ষতিকারকপোকা ‘রাইজমপ¬াই’ -এর আক্রমণবাড়ে।তাইরোগ-বালাইয়ের সংক্রমণ ঠেকাতে বীজ আদা শোধনের গুরুত্ব অনেক বেশি।
আদা বীজ শোধন প্রক্রিয়া : ৭৫-৮০ লিটার পানিতে ১০০ গ্রামডাইথেন এম-৪৫ মিশিয়ে -এর মধ্যে ১০০ কেজি আদা বীজ ৩০ মিনিট ডুবিয়ে রাখতেহবে।তারপরপানি থেকে বীজ আদা তুলে ছায়ায় শুকিয়ে জমিতে লাগাতে হবে।আদা লাগানোর আগে বীজ আদাএকটি ঝুড়িতে বিছিয়ে তার উপর খড় বা চটের থলে দিয়ে ঢেকে রাখলে আদার ভ্র“ণ বের হয়।এ রকম আদা থেকে দ্রুতগাছ বের হয়।
শোধিত আদা বীজ রোপণের প্রায় ৭-৮ মাস পর ফসল পরিপক্কহয়।সাধারণতডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে আদা উত্তোলন করা হয়।রোপণের পূর্বে রাইজম শোধন করলে ফসল ক্ষতিকারকরোগ জীবাণু ও পোকা-মাকড়ের হাত থেকে রক্ষা পায়।সেই সাথে বিজ্ঞানসম্মত অন্তঃপরিচর্যার মাধ্যমেফলন লক্ষ্যমাত্রা (৩০ থেকে ৩৫ টন/ হেক্টর) পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব।

-কৃষিবিদ মোঃ রবিউলইসলাম
সূত্র: ইত্তেফাক

পতিত জমিতে হলুদ চাষ



পতিত জমিতে হলুদ চাষ

হলুদগুলো দেখে মনটা ভরে গেল নিয়ামত আলীর।ভাঙ্গা হলুদের রঙ যেনসোনা রঙের মত চকচক করছে।ব্যপারটা প্রথমে তিনি বুঝে উঠতে পারেননি।অবহেলায় ফেলে রেখেছিলেনবাড়ির দক্ষিণপাশে পুকুর আর বাড়ির মাঝখানের বেশকিছুটা পতিত জমি।রুহুল মিয়ার পরামর্শেতিনি হলুদ চাষ করেন।এতে বীজের টাকা ছাড়া তেমন কোন খরচ নেই।হলুদের বীজ সংরক্ষণ করারকোন প্রয়োজনও নেই।
হলুদ একটি লাভজনক ফসল।এটা লাগানোর পর ৮ থেকে ১০ মাস সময় লাগেতুলতে।হলুদচাষ করতে গেলে সেচ, কীটনাশক এবং পরিচর্যার প্রয়োজন পড়ে না।অনুর্বর ভিটে মাটি অথবাপতিত বেলে দো-আঁশ মাটিতে হলুদ ভাল জন্মে।ভাল ফলন হলে ১ বিঘা জমিতে প্রতি বছর কাঁচা ২৫থেকে ৩০ মণ এবং শুকনো ১০ থেকে ১২ মণ হলুদ পাওয়া যায়।জমিতে ভালভাবে চাষ দিয়েপিলি তৈরি করে বীজ বপন করতে হয়।বীজ বপনের পর কখনও কখনও আগাছা পরিষ্কার করার দরকারহয়।জমি থেকেহলুদ তোলার পর গোড়ার সাথে মোথার অংশটুকুই হল বীজ।মাঘ-ফালগুন মাসে ক্ষেতথেকে হলুদ তোলার পর জমি ফেলে রাখতে হয় ২ থেকে ৩ মাস।বছরে একবার ফলন হয় বলেহলুদ চাষে কৃষকদের অনিহা।হলুদের বাজার দরও কম না।শুকনো আস্ত হলুদ ৮০ থেকে ৯০ টাকা হলেও শুকনোহলুদের গুঁড়া ১০০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে।বছরে যদি দুইবার হলুদ তোলা সম্ভব হলে এটি একটিলাভজনক ফসল হিসেবে বিবেচিত হত এবং চাষিদের জন্য ভাল হত।

-মাটি ও মানুষের কৃষি পাতা

গোলমরিচের চাষ পদ্ধতি-১




গোলমরিচের চাষ পদ্ধতি-১

গোলমরিচ একটি মসলা জাতিয় অর্থকরী ফসল।খাবারকে সুস্বাদু করতেএবং বিভিন্ন ভেষজ ওষুধের সাথে এর ব্যবহার দেখা যায় আমাদের দেশে।
সরকারের কৃষি বিভাগ গ্রামীণ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্নসময়ে উৎসাহদিয়ে আসছে গোলমরিচচাষে।যারফলে গ্রামীণ কৃষি পরিকাঠামোর অবস্থান অনুযায়ী সচেতন শিক্ষিত অর্ধশিক্ষিত চাষিরাগোলমরিচ চাষে এগিয়ে আসছে।গ্রামীণ অর্থনৈতিক ভিত সুদৃঢ় ও কম সময়ে অধিক উপার্জন পেতেগোলমরিচ এক অর্থকরী ফসল হিসেবে বিবেচিত।তাই গোলমরিচ চাষ করতে কৃষকের ক্ষেতপ্রস্তুত, চারা উৎপাদনও রোপণপ্রণালী, রোগপ্রতিরোধ, দ্রুত চারা উৎপাদনপদ্ধতি এবং ব্যবসায়িকভিত্তিতে গোলমরিচ চাষ নিয়ে আজকের এ প্রতিবেদন।
গোলমরিচ লতাজাতিয় উদ্ভিদ।পান গাছ, ওদাল, বেত ইত্যাদির মত গোলমরিচ এক পরাশ্রয়ীগাছ।এজন্যগোলমরিচের অন্য গাছের আশ্রয় প্রয়োজন।আম, সুপারী, কাঁঠাল, মান্দার, তেঁতুল, নারিকেল, তাল, সিলভার, অক, টিক, খেজুর ইত্যাদি গাছগোলমরিচের আশ্রয়ী হিসেবে ব্যবহার হয়।এছাড়া অমসৃণ ছাল থাকা গাছে গোলমরিচ গাছ ওঠারজন্য সুবিধা হয়।
গোলমরিচের চারা উৎপাদনপদ্ধতি : সাধারণত গোলমরিচের চারা ডালের কলম থেকে তৈরি করাহয়।গোলমরিচের গাছের গোড়ার অংশকে ‘রানার’বলা হয়।রানারের প্রতিটি গাঁটথেকে শিকড় বের হওয়ার স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে।রানারের প্রতি তিনটি গাঁটের একটি অংশ কেটে নিয়েআশ্রয়ী গাছের কাছে ‘সরা’লাগিয়ে দিতে হয়।মাটির সঙ্গে ৩ : ১ অনুপাতে দাগ দিয়ে একটি পালংতৈরি করে তাতে গোলমরিচের ডাল থেকে তিনটি গাঁটযুক্ত কলম কেটে লাগাতে হবে।এক থেকে দেড় মাস পর ওইকাটিং থেকে শিকড় বেরিয়ে আসবে।তখন পলিথিন ব্যাগে ৪ ইঞ্চি করে ৩ ভাগ দো- আঁশ মাটি ভর্তি করেওই শিকড়যুক্ত কাটিং থেকে সাবধানে উঠিয়ে পলিথিন ব্যাগে রোপণ করে দিতেহবে।রোপণেরপূর্বে বাঁশের কাঠি দিয়ে পলিথিন ব্যাগের মাটিতে গর্ত করে নিয়ে শিকড়যুক্ত কাটিংলাগাতে হবে।৪৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে একটি সুন্দর চারা গজাবে।সাধারণত চৈত্র-বৈশাখ মাসচারা উৎপাদনেরপক্ষে উপযুক্তসময়।
দ্রুত চারা উৎপাদনপদ্ধতি : ব্যবসায়িকভিত্তিতে গোলমরিচের চারা উৎপাদনেরজন্য দ্রুত চারাউৎপাদনপদ্ধতিকার্যকর।একটি গাছ থেকে বছরে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ টি চারা উৎপাদনকরা সম্ভব।এজন্য একটি ছায়াঘর তৈরি করতে হবে।প¬াস্টিকের তৈরি বিশেষধরনের শেডনেট ব্যবহার করে ছাউনিও তৈরি করা যায়।৬০ থেকে ৭০ শতাংশ বৃষ্টির পানি আটকানোর ক্ষমতাবিশিষ্ট এ নেটের মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ রোদ প্রবেশ করতে পারে।ঘরের বাঁশের খুঁটিরসারির উচ্চতা হতে হবে প্রতি ৩ মিটার এবং এবং দুপাশের খুঁটির উচ্চতা হবে ২মিটার।ঘরেরমধ্যে ১মিটার দূরত্ব বজায় রেখে ৭৫ সেন্টি মিটার গভীর এবং ৩০ সেন্টি মিটার প্রস্থেরনালা তৈরি করতে হবে।নালাগুলো বালিমাটি, কম্পোস্ট, কাঁঠালের গুঁড়ো এবং সারমিশ্রিত মাটি সমানভাগেমিশিয়ে ভর্তি করতে হবে।এখন ওই নালার এক ফুট অš-র অন্তর ভাল জাতের সুস্থচারা ‘মাতৃগাছ’হিসেবে রোপণ করতে হবে।দুই নালার মধ্যবর্র্তী জায়গার দুই মাথায় খুটিপুঁতে মাটির সঙ্গে আনুভূমিকভাবে একটি লম্বা বাঁশ বেঁধে দিন।এবারে একটি বেথু বাঁশের১.২৫ মিটার লম্বা টুকরোকে দুভাগে ভাগ করে প্রতিটি মাতৃগাছের গোড়ায় বসিয়ে মাঝেরবাঁধা আনুভূমিক বাঁশ হেলান দিয়ে রাখুন যাতে আধখানা বাঁশের টুকরো মাটির মাটির সঙ্গে৪৫ ডিগ্রি কোণ তৈরি করে।এবারে আধখানা বাঁশের টুকরোতে বালু কাঠের গুঁড়ো, কম্পোস্ট ১:১:১ অনুপাতেভালভাবে মিশিয়ে ভর্তি করুণ।গোলমরিচের প্রতিটি গাঁট মাটির সংস্পর্শে বেঁধেদিন, এর ফলেপ্রতি গাঁট থেকে শিকড় বেরিয়ে আসবে।৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে গোলমরিচের লতা আধখানা বাঁশের মাথাপেরিয়ে যাবে।এসময় লতার আগা কেটে নিন এবং গাছের গোড়ার তিনটি গাঁটের উপর লতাথেতলে দিন।তখন পাতার কোলে থাকা অঙ্কুর বাড়তে আরম্ভ করবে।১০ দিন পর থেতলানো পাতারউপরের লতাটি কেটে ফেলুন।এরপর প্রতিটি শেকড় গাঁট থেকে আলাদা করে কেটেফেলুন।৪ইঞ্চি পলিথিন ব্যাগে বালি-মাটি, কাঠের গুঁড়ো ও কম্পোস্ট সমানভাবে মিশিয়ে ওই একটি গাঁটযুক্তকাটিং রোপণ করতে হবে।সব সময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে শিকড় নষ্ট না হয়।পলিথিন ব্যাগকেছায়াযুক্ত স্থানে রাখতে হবে এবং দুতিন দিন পর পর পানি সেচ দিতে হবে।৩ সপ্তাহের মধ্যেকাটিংয়ে নতুন পাতা গাঁট থেকে ছাড়তে আরম্ভ করবে।এভাবে অতি কম সময়ের মধ্যে গোলমরিচের চারাউৎপাদনসম্ভব। (চলবে)

-আফতাব চৌধুরী, সিলেট

গোলমরিচের চাষ পদ্ধতি-২



গোলমরিচের চাষ পদ্ধতি-২
(পূর্ব প্রকাশেরপর)
বংশ বি¯-ার : গোলমরিচের বংশ বি¯-ার পদ্ধতি খুবই সহজ।গোলমরিচের বীজ থেকে বংশ বৃদ্ধি করাযায়।এতেউৎপাদনেআসতে বেশি সময়লাগে।গোলমরিচের গুণাগুণ মাতৃগাছের মত না-ও হতে পারে।সেজন্য সাধারণত অঙ্গজপ্রজননের মাধ্যমে গোলমরিচের বংশবৃদ্ধি করা হয়।সাধারণত এক মুকুল একপত্রীকাটিং -এ বংশবৃদ্ধি করাহয়।এ পদ্ধতিথেকে খুব সহজে গোলমরিচের চারা উৎপাদনকরা যায়।শাখা রোপণে গাছ তৈরি হয়এবং গাছগুলো খুব সহজে বড় হয়।
আশ্রয় গাছ হিসেবে মান্দার গাছ গোলমরিচের জন্য ভাল।এ গাছটি সোজাভাবে বাড়েএবং শাখা-প্রশাখার সংখ্যা কম থাকে।গাছের ছাল অমসৃণ এবং এ থেকে এক প্রকার আঁঠা জাতীয় পদার্থ বেরহয়।মান্দারগাছের শাখাগুলো যখন গোলমরিচ গাছের উচ্চতা সীমিত রাখার জন্য কাটতে হয়, তখন কোন অনিষ্ট হয়না।মান্দারশুটি জাতীয় গাছ।ফলে বায়ুমণ্ডল থেকে নাইট্রোজেন মাটিতে ধরে রাখতেপারে।এতেমাটি সমৃদ্ধ হয়।
চারা রোপণ পদ্ধতি : গোলমরিচের চারা দুই প্রকারে রোপণ করাযায়।যদিবাগানে সুপারি, নারকেল, আম, মান্দার, কাঁঠাল ইত্যাদি আশ্রয় গাছ হিসেবে ব্যবহারের গাছথাকে, তখন ওইগাছ থেকে দেড় হাত দূরে, দেড় হাত দৈর্ঘ্য, দেড় হাত প্রস্থ এবং দেড় হাত গভীর গর্ত করতেহয়।গোবর, পচনসার, বালিযুক্ত মাটি দিয়ে গর্তটি পূরণ করে চারা রোপণ করতেহয়।গাছ উঠারসুবিধার জন্য বাঁশের অবলম্বন দেয়া প্রয়োজন।
নতুন জায়গায় গোলমরিচের চাষ করতে হলে প্রথমে আড়াই হাত থেকে চারহাত দূরত্বে এক হাত দৈর্ঘ্য এক হাত প্রস্থ এবং এক হাত গভীর গর্ত করে উপরেউলে¬খ করা মতগর্ত পূরণ করতে হয় এবং সেখানে আশ্রয় গাছের দক্ষিণ দিক ছেড়ে চারা লাগাতে পারেন ওইএকই নিয়মে।প্রয়োজনে চারাগাছে ছায়া দেয়া উচিত।
সার প্রয়োগ : প্রতি গাছে নিু অনুমোদিত হারে সার প্রয়োগ করাউচিত।সারপ্রয়োগের উপযুক্ত সময় চৈত্র-বৈশাখ মাস।
যতœ :গোলমরিচের লতাগুলো দ্রুত বৃদ্ধির জন্য আশ্রয় গাছের সাথে বেঁধেদিতে হয়।গাছের গোড়া থেকে ৩ হাত উপর পর্যš- পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নরাখা প্রয়োজন।গোলমরিচ গাছ যাতে ৯ হাতের বেশি উঠতে না পারে সেদিকে খেয়ালরাখা দরকার।
জলবায়ু : গোলমরিচ চাষের জন্য উষ্ণ আদ্রতাযুক্ত জলবায়ু এবংসমানুপাতিকভাবে সম¯- বছর বৃষ্টি থাকা বিশেষ প্রয়োজন।উলে-খযোগ্যযে, গোলমরিচের পরাগ সংযোগ বৃষ্টির উপর নির্ভর করে।গোলমরিচ চাষের জন্যবার্ষিক ২৫০০ মিঃ মিঃ বৃষ্টি এবং ১০ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমানআবশ্যক।দীর্ঘদিন অনাবৃষ্টি অথবা খরা পরিস্থিতি গোলমরিচ চাষের জন্যখারাপ।
মাটি : অব্যবহৃত বা পতিত জমিতে উচ্চ জৈব সার বিশিষ্ট পানি জমেনা থাকা, পাহাড়ের লালমাটি গোলমরিচ চাষের জন্য বেশি উপযোগী।বন্যা কবলিত অঞ্চল ছাড়াবেলে দো-আঁশ মাটিতে গোল মরিচের চাষ করা যায়।আদ্রতাহীন মাটি গোলমরিচ চাষের জন্যঅনুপযোগী।
জাত : ১ (হাইব্রিড), কারিমুণ্ডা, বালনকাট্টা, কল¬ুভেলি¬, আরকুলপাম মুণ্ডাপ্রভৃতি।
রোপণে সময় : গোলমরিচ সাধারণত ভাল জাতের গাছ বা বীজ বৈশাখের ১০থেকে ১৫ দিন থেকে আষাঢ়ের ১০ থেকে ১৫ দিন পর্যš- চারা রোপণের উপযুক্ত সময়।
রোগবালাই : গোলমরিচে এক প্রকার ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণদেখা যায়।শ্রাবণ ও কার্তিক মাসে প্রতি ৫ লিটার পানিতে এক চা চামচ ‘এন্দোসালফার৩৫ ইসি’বাকুইনলফস বা ডাইমিথয়েট ৩০ ইসি প্রয়োগ করে সুফল পাওয়া যায়।এছাড়া ঝরে পড়া রোগেরজন্য বর্ষাকাল আরম্ভ হওয়ার আগে বরডক্স মিশ্রণ প্রয়োগ করতে হয়।
ফসল কাটা ও সংরক্ষণ : গোলমরিচের ছড়িতে যখন দুএকটি গোলমরিচহলুদ রঙের হয় তখন মই দিয়ে উপরে উঠে ফসল কেটে নিয়ে ছড়িগুলো মেলে রাখতেহয়।গোলমরিচগুলো পৃথক করে ৪-৫ দিন রোদে শুকাতে হয়।গোলমরিচ ভালভাবে শুকিয়েগেলে কালো ও আকারে ছোট হয় এবং তারপর বাজারজাত করতে হয়।
ব্যবসা-অর্থনীতি : গোলমরিচ রোপণের তিন বছর থেকে উৎপাদনশুরু হয়।যদিও ৭-৮ বছর থেকে পুরোপুরি উৎপাদনচলে আসে।প্রতি গাছ থেকে ৫-৬ কেজি কাঁচা গোলমরিচ উৎপাদনহয়।কাঁচা গোলমরিচ থেকে প্রায় ৩০ শতাংশ শুকনো গোলমরিচ পাওয়াযায়।অর্থাৎ, একটি গাছ থেকে গড়ে দেড় থেকে দুই কেজি শুকনোগোলমরিচ পাওয়া যায়।প্রতি কেজি ৫০০ টাকা হলে একটি গোলমরিচের গাছ থেকে ৭৫০ থেকে৮০০ টাকা উপার্জন করা যায়।হিসেব অনুযায়ী একটি গাছের জন্য খরচ প্রায় ৩৫ টাকা।সুতরাং খরচের তুলনায় লাভযথেষ্ট।
সম্ভাবনাময় গোলমরিচ চাষে কৃষকরা আরও উদ্যোগী হবেন।প্রতি জেলাতে কৃষিবিভিাগ গোলমরিচ চারা জোগান ও কৃষি বিভাগের খামারে গোলমরিচ চারা উৎপাদনকরা হয়।এ ব্যাপারে সচেতন কৃষকরা সংশি¬ষ্ট কৃষি বিভাগের সঙ্গেযোগাযোগ করতে পারেন।

-আফতাব চৌধুরী, সিলেট

মনের উঠোনে

সাম্প্রতিক সংযোজন

মোবাইল থেকে দেখুন

আমাদের দেশ এখন আপনার মুঠোফোনে, মোবাইল থেকে লগইন করুন আমাদের দেশ

দ র্শ না র্থী

দ র্শ না র্থী

free counters

কে কে অনলাইনে আছেন