Showing posts with label জানা-অজানা. Show all posts
Showing posts with label জানা-অজানা. Show all posts

ঘরের ভেতর গাছ! আপনার ঘর হোক সবুজময়, মন থাকুক সতেজ!

Sunday, April 15, 2018


জীবন বাঁচাতে অক্সিজেনের প্রয়োজন। কিন্তু শহরে যানবাহনের কালো ধোঁয়ায় অক্সিজেনের তুলনায় কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেশি। আবার যেখানে ২৫% বনভূমির প্রয়োজন সেখানে ১৭.৯২% বনভূমি রয়েছে। যে হারে গাছ বাড়ানো উচিত সে হারে গাছ বাড়ানোর জন্য আমরা আমাদের বাড়ির আশে-পাশে গাছ লাগাতে পারি। আর আমরা যারা শহরে থাকি তারা কিভাবে এতে অংশগ্রহণ করতে পারি? আমরা আমাদের বাসার বেলকনি বা ছাদে গাছ লাগাতে পারি। এমনকি আমরা ঘরের ভেতরেও গাছ লাগাতে পারি। আজ আলোচনা করব কীভাবে ঘরের ভেতর গাছ লাগাব এবং কোন গাছগুলো ঘরের ভেতর লাগানো যাবে।


প্রথমেই জেনে নেই কেন ঘরের ভেতর গাছ লাগাব:

  • ঘরের মধ্যেই প্রকৃতির ছোঁয়া যা আপনার মানসিক প্রশান্তি যোগাবে।
  • ঘরের ভেতরের দূষিত ক্ষতিকারক গ্যাস এবং পদার্থকে বিশুদ্ধ করে যা আপনার স্বাস্থ্যকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে।
  • ঘর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করার পাশাপাশি নিজের নান্দনিক রুচিশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো।
  • দেশে যে পরিমাণ বনভূমি প্রয়োজন তার ঘাটতি কিছুটা হলেও পূরণ করা।
  • চারা তৈরি বা বনসাই করে কিছু উপার্জন করা।

কোন গাছগুলো ঘরের ভেতর লাগানো যাবে:

ঘরের ভেতর গাছ লাগানোর জন্য বিভিন্ন ইনডোর প্ল্যান্টস রয়েছে। যেমন: মানিপ্লান্ট (গোল্ডেন পথোস), ক্যাকটাস, ক্রাউন অব থর্নস (কাঁটার মুকুট), এরিকা পাম, লেডি পাম, ব্যাম্বু পাম, ইংলিশ আইভি, রাবার প্ল্যান্ট, ড্রাকাইনা বা জ্যানেট ক্রেগ, স্নেক প্লান্ট,  পিস লিলি, অ্যালোভেরা, ইন্ডিয়ান ব্যাসিল (তুলসী), স্পাইডার প্ল্যান্ট, চায়নিজ এভারগ্রিন, স্পিয়ারমিন্ট (পুদিনা পাতা)

কীভাবে ঘরের ভেতর গাছ লাগাব:

ঘরের ভেতর ও বারান্দায় বা বেলকনিতে আমরা এই গাছগুলো টবে বা ছোট কন্টেইনারে লাগাতে পারি। যদি বারান্দা ছোট হয় তবে ঝুলিয়ে রাখতে পারি। আবার গ্রীলের সাথে বেঁধে রাখতে পারি। বাজারে বিভিন্ন ধরনের এবং বিভিন্ন সাইজের টব বা গাছ লাগানোর কন্টেইনার পাওয়া যায়। তবে আমরা আমাদের অপ্রয়োজনীয় বা ফেলনা কন্টেইনার, বক্স, গ্লাস, মগ, বোতল ইত্যাদিও ব্যবহার করতে পারি। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন দেখতে খারাপ না লাগে। সাধারণত দো-আঁশ মাটি এসব গাছের জন্য উপযুক্ত। টব বা কন্টেইনারে সার মেশানো মাটি ভরতে হবে। এর পর গাছ লাগাতে হবে।
গাছ লাগানোর পর সবচেয়ে জরুরি বিষয় হচ্ছে এর যত্ন নেওয়া। সপ্তাহে দুই দিন গাছগুলোকে আলো বাতাস দিতে হবে। এর জন্য যেখানে আলো বাতাস পর্যাপ্ত আসে সেখানে রেখে আবার পূর্বের স্থানে রাখতে হবে। সকাল ও বিকেলে প্রয়োজন অনুসারে পানি দিতে হবে। টবে যেন পানি না জমে থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
তথ্যসূত্রঃ সফল খামারী

যেভাবে তৈরী করবেন কোকেডামা

Saturday, April 7, 2018



হাওয়াই বাগান কোকেডামা শিরোনামের আর্টিকেল যারা ইতিমধ্যে পড়ে ফেলেছেন তারা নিশ্চয়ই কোকেডামা সম্পর্কে একটা ধারণা হয়ে গেছে তবু বলে নিচ্ছি কোকেডামা কি? সহজ কথায় এটা জুলন্ত বাগানের একটা পদ্ধতি যেখানে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় সিলিং কিংবা সমতল থেকে উপরে কোন কিছুতে গাছ ঝুলিয়ে রাখা হয়। সাধারনত বনসাই বানানোর জন্যে যেসব গাছ ব্যবহার করা হয় তা দিয়ে এই বাগান বানানো যায়। তবে অর্কিড দিয়ে কোকেডামা সম্ভব। আসুন দেখে নেয়া যাক কীভাবে কোকেডামা তৈরি করা যায়ঃ

প্রয়োজনীয় উপকরণঃ
  • প্রথমেই গাছ নির্বাচন। ছোট জাতের গাছ। মস সরাসরি সূর্যালোক সহ্য করতে পারেনা, তাই ছায়ায় বেড়ে উঠতে পারে এমন ইনডোর প্ল্যান্ট নির্বাচন করতে হবে। আমি ব্যাবহার করেছি ছোট ফার্ন, ঘাস, আর বেগুনী বর্ণের ফুলগাছ।
  • পিট মাটি (জৈব সার বিশিষ্ট পচা কালো মাটি, সাধারণত জলাধারের কাছে এ ধরণের মাটি পাওয়া যায়)
  • আকেডামা (বনসাই তৈরির জন্য ব্যাভহ্রত বিশেষ ধরণের পাথুরে মাটি অথবা একুরিয়ামের তলদেশে ব্যাবহার করা মাটি বিশেষ অথবা যে কোন ধরণের পাথুরে মাটি)
  • শুঁকনো মস
  • কেঁচি
  • তুলার সূতা
  • ঝুলানোর জন্য প্যাঁচানো সূতা, পাঁটের সুতা
  • দস্তানা
  • এক জার পানি
  • তাজা মস (পুরনো দেয়াল বা পচা কাঠ থেকে সংগ্রহ করতে পারেন)
কার্যপদ্ধতিঃ 
১। নির্বাচিত গাছের শিকড় থেকে সব মাটি আস্তে আস্তে উঠিয়ে ফেলতে হবে।
২। মাটি তৈরিঃ মাটি তৈরির জন্য (সাত (৭) ভাগ পিট মাটি এবং তিন (৩) ভাগ আকেডামার মিশ্রন তৈরী করতে হবে। পিট মাটি এবং আকেডামা একসাথে ভালোভাবে মেশাতে হবে। তারপর একে দুই হাত দিয়ে ধরে গোল বলের আকার দিতে হবে।
৩। বলটি এমনভাবে তৈরি করতে হবে যেন শেকড় মেলার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকে (গাছের শিকড়ের আকারে ছিদ্র করতে হবে)।
৪। একমুঠো শুঁকনো মস বা ঘাস বা খড় দিয়ে গাছের শিকড় গোলাকৃতির মত করে পুরোপুরি ঢেকে দিতে হবে।
৫। এরপর তুলার সূতা দিয়ে পুরোটা দুই তিন বার পেঁচাতে হবে।
৬। গাছ লাগানঃ এবার গোল বলের মাঝখানে একটা গর্ত করতে হবে। তারপর গাছটিকে সেখানে লাগাতে হবে। খেয়াল করতে হবে গর্তটা যেন শিকড়ের আকারে হয়।

৭। হুম!! এখন সবচেয়ে মজার পর্ব, মস বল তৈরির পালা। তাজা মস দিয়ে বাইরের পুরো আবরণটি ঢেকে দিতে হবে (কোন জায়গা যেন খালি না থাকে)। উপহারের জিনিষ যেভাবে মোড়ানো হয় বলটিকে প্যাঁচানো সুতা বা পাঁটের সুতা দিয়ে ঠিক একই ভাবে মোড়াতে হবে। আর ঝুলানোর সুবিধার জন্য সুতার একটি অংশ ইচ্ছানুযায়ী লম্বা রাখা যেতে পারে।

৮। ঝুলানোর পালাঃ ঝুলানোর জন্য অবশ্যই ছায়াময় স্থান নির্বাচন করা উচিত। এবার একটি হুক বা আংটার সাথে মস বলটিকে ঝুলিয়ে দিন।
৯। জল সেচনঃ প্রতিদিন সকালে একবার স্প্রে করার বোতল দিয়ে পানি দিতে হবে (যাতে শিশিরের মত একটা আদ্রতা তৈরি হয়)।
আকেডামা
শুঁকনো মস
তথ্যসূত্রঃ সৌখিন

হাওয়াই বাগান কোকেডামা

Friday, April 6, 2018


নিজের ঘরে সবুজের ছোঁয়া সবাই চায়। তাই অনেকে ঘরের এককোণে সাঁজায় নানা রকম ইনডোর প্ল্যান্ট দিয়ে। এসব ইনডোর প্ল্যান্ট দেয়ালে কিংবা জানালা বা বারান্দার গ্রিলে লাগানোর জন্য আছে নানা রকম পট। যেগুলো অনায়াসে ঝুলিয়ে রাখা সম্ভব।
কিন্তু সৌখিন বাগানীরাশুধু জানালা বা বারান্দায় গাছকে দেখতে চাননা তাই তারা বাগানকে সরাসরি সিলিংএ স্থান দিয়েছেন। এই বৈচিত্রময় এই শিল্পের নাম কোকেডামা,যার জন্মস্থান হচ্ছে জাপান।
ছোটবেলায় পাঠ্য বইতে ব্যাবিলনের শূন্যউদ্যান বা ঝুলন্ত বাগানের কথা অনেকেই পড়েছেন। প্রাচীন পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি হিসেবেই যাকে ধরা হয়। তখন কৌতুহল বশত মনে প্রশ্ন জাগত কেমন ছিল এই শূন্য উদ্যান, বাগান আবার শূন্যের উপর কিভাবে থাকে ?? নাকি দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল এ বাগান!!
যা হোক, ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায় খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ শতকের দিকে রাজা নেবুচাদনেজার তার সম্রাজ্ঞীর প্রেরনায় ইরাকের ইউফ্রেটিস নদীর তীরে এটি নির্মাণ করেন।৮০০ স্কয়ার ফিটের এই বাগানটি ছিল তৎকালীন সম্রাটের খাস উপাসনালয়ের ছাদে। মাটি থেকে বাগানের উচ্চতা ছিল ৮০ফিট । এই ভিত্তির উপরই ছিল পৃথিবীর সর্ববৃহৎ আর বিস্ময়কর বাগান। সেই থেকেই মূলত ঝুলন্ত বাগান ধারণার উৎপত্তি।
কোকেডামা কি?
কোকেডামা আসলে এক ধরনের বনসাই। জাপানিজ শব্দ কোকেডামা, বাংলায় এর মানে দাঁড়ায় সবুজ মসে ঢাকা গাছ। অন্যান্য বনসাই এর মত এর ইতিহাসও তেমন পুরনো নয়। নেরাই এবং কুসামোনো  নামক বনসাই থেকে কোকেডামার সৃষ্টি। নেরাই বনসাই প্রথমে শক্ত পাত্রে লাগানো হত, ফলে দীর্ঘদিন ধরে পাত্রে থাকার ফলে এর শিকড় পাত্রের আকার ধারণ করত। ফলে তা পাত্র থেকে বের করে আনলে আগের সেই পাত্রের আকৃতি বজায় থাকত। পরে তা সেখান থেকে বের করে সমান স্থানের উপর দাড় করিয়ে রাখা হত বা দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হত। পাত্রহীন বনসাইটি মস দিয়ে ঢাকা থাকত তাই এর আরেক নাম মস বল। মস লাগানোর ধারণা আসে মূলত কুসামোনো বনসাই থেকে। কুসামোনো বনসাই তৈরি করা হত বুনো ঘাস বা মস আর ফুলগাছ একই পাত্রে লাগানোর মাধ্যমে। পটের আকৃতি ছিল অন্যসব বনসাই থেকে সম্পূর্ণ আলাদা, যা সাধারণত পাঁথর কাঠ বা সিরামিক  দিয়ে তৈরী হত।
উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ
কোকেডামার সৃষ্টির ইতিহাস বনসাইয়ের সাথে অনেকটা সংশ্লিষ্ট। তাই কোকেডামা সম্পর্কে জানতে হলে বনসাইয়ের শুরুটা সম্পর্কে জানতে হবে, কোকেডামাও এক ধরণের বনসাই। আনুমানিক ৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দের দিকে বনসাইয়ের চর্চা শুরু হয়। পাত্রবিহীন বনসাই নেরাই চর্চার সূচনা হয় ১৬০৩  খ্রিষ্টাব্দে। আর নেরাইয়ের আধুনিকতম রূপ হচ্ছে কোকেডামা বা মসবল।

কি কি গাছ দিয়ে তৈরি হয়
কোকেডামা একধরণের বনসাই তাই, বনসাই তৈরিতে যেসব গাছ ব্যাবহার করা হয় কোকেডামা তৈরিতেও ঠিক একই রকম গাছ ব্যাবহার করা হয়। বরং কোকেডামার পরিধি আরেকটু বড়। ইনডোর প্ল্যান্ট, পাম কিংবা ঘাস জাতীয় গাছও কোকেডামা তৈরিতে ব্যাবহার করা হয়।
পরিচর্যা
পরিচর্যা অনেকটা বনসাইয়ের মতই। আর মাঝে মাঝে বলের উপর শুধু স্প্রে দিয়ে পানি দিতে হয়।

তথ্যসূত্রঃ সৌখিন

অসাধারণ উপায়ে কচুরিপানার উপর সবজি চারার চাষ

Friday, March 16, 2018


দেশের পশ্চাৎপদ দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠির একটি বড় অংশের বসবাস বরিশালের হিন্দু অধুষ্যিত আগৈলঝাড়া উপজেলায়। এ জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্যের জন্য উপজেলার একটি বড় অংশ জুড়ে নিম্ন জলাভূমি। বছরের বেশিরভাগ সময় এখানকার প্রায় সকল জমি জলমগ্ন থাকে। তাই এ অঞ্চলের বাসিন্দারা নিত্যপ্রয়োজনীয় ফসল আবাদের জন্য অসাধারণ উপায়ে কচুরিপানার উপর সবজি চারার চাষ করে আসছে।

ধাপগুলোতে প্রধানত লালশাক, পালংশাক, পুঁইশাক, ডাটা, মরিচ, করলা,  ঢেঁড়শ, হলুদ, শশা, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, আলুসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে থাকেন। প্রায় বার মাসই বিলাঞ্চলে এ ধরনের সবজি চাষ হয়ে থাকে। এ ছাড়াও করলা, বটবটি, সিম, পেঁপে,  লাউ, কুমড়া, মরিচ, বেগুনসহ নানা জাতের সবজির চারা করে তা বিক্রি করে। এ উপজেলার তিনটি গ্রামের প্রায় তিন শতাধিক পরিবার আজ নিজেদের ভাগ্য বদলিয়েছেন। আগৈলঝাড়া উপজেলার গোয়াইল গ্রামের মিরাজ বিশ্বাস দীর্ঘ ১৫ বছর, মোকসেদ বিশ্বাস ২৫, সিরাজ ২০, বেল্লাল হোসেন ১৫, তোফাজ্জেল হোসেন ২০ বছর, বাশাইল গ্রামের খালেক সরদার ২৬, ছোট বাশাইল গ্রামের সামচু সরদার ২৫ বছর ধরে ধাপের ওপর বিভিন্ন জাতের সবজির চারা করে তা বিক্রি করে সংসারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন। চাষী মিরাজ বিশ্বাস (৩৫) জানান, তার বাবাও সবজির চারা করে তা বিক্রি করেছেন। এখন তিনি (মিরাজ) এ ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পরেছেন। জৈষ্ঠ মাসের শেষেরদিকে বিভিন্ন জাতের সবজির চারা চাষের কার্যক্রম শুরু করা হয়। চাষীরা এ সময় বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কচুরিপানার বড় বড় দলকে সন্নিবেশিত করে রেখে দিলে কয়েকদিনের মধ্যেই তাতে পঁচন ধরে। পঁচন ধরা কচুরিপানাই হয়ে যায় ধাপ। প্রতিটি ধাপেই পর্যাপ্ত জৈবসারের কারনে সবজির চারাগুলো অত্যন্ত উর্বর হয়।  চাষী মোকসেদ বিশ্বাস (৫০) জানান, স্থানীয় বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে বিভিন্ন জাতের সবজির বীজ ক্রয় করে বাড়িতে মাচা বেঁধে সবজির বীজ দিয়ে চারা গজিয়ে তা ভাসমান ধাপের ওপর রাখা হয়। প্রত্যেকটি ভাসমান ধাপে চারবার চারা করা হয়। প্রথমবার একমাস পরিচর্যার পর চারাগুলো বিক্রি করে দেয়া হলেও পরবর্তীতে ১৫-২০ দিনের মধ্যেই চারা বিক্রি করা যায়। এভাবেই প্রতিটি ধাপে চারবার চারা করে তা বিক্রি করা হয়।

সবজির চারাগুলো এখান থেকে ফরিদপুর, চাঁদপুর, মাগুরা,  ফেনিসহ স্থানীয় হাটবাজারের পাইকাররা এসে ক্রয় করে নিয়ে যায়। চাষী তোফাজ্জেল হোসেন (৬৫) জানান, তাদের উৎপাদিত চারা ‘শ’ হিসেবে বিক্রি করা হয়।পরিচর্যাসহ তাদের একশ চারা বিক্রির উপযোগী করতে খরচ হয় দেড়শ টাকা। আর তা বিক্রি করা হয় তিন থেকে সাড়ে তিনশ টাকায়। তিনি আরো জানান, তাদের এ চারার ব্যবসায় বাড়ির গৃহিনীদের ভূমিকা অপরিসীম। স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, বাশাইল, গোয়াইল ও ছোট বাশাইল গ্রামে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ বছর আগে থেকেই ধাপের ওপর সবজির চারা করে তা বিক্রি করা হয়। ধাপের ওপর স্বল্পসময়ের মধ্যে এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে চাষীরা অধিক মুনাফা অর্জন করায় ওই তিন গ্রামের দেখা দেখি বর্তমানে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোর উন্মুক্ত জলাশয়ে একই পদ্ধতিতে সবজি চাষসহ সবজির চারা করে তা বিক্রির ব্যবসা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় তুলনামূলক ভাবে অনেকাংশে চাষাবাদ কম হচ্ছে। আগৈলঝাড়া উপজেলায় ধাপের ওপর স্বল্পব্যয়ে অধিক মুনাফা অর্জনের এ পদ্ধতি দেখে পার্শ্ববর্তী উজিরপুরের সাতলা, বাগধা, কোটালীপাড়ার বিশারকান্দি, ধারাবাশাইল, পিঞ্জুরী, মাচারতাঁরা, ডুমুরিয়া, তারাকান্দর, ছত্রকান্দা, রামশীল, জল্লা, কলাবাড়ী, শুয়াগ্রাম, সাতুরিয়া, আলামদি, নারায়নখানা, তালপুকুরিয়া,  সাদুল্লাপুর গ্রামের শতকরা ৮০ ভাগ লোক বর্তমানে ধাপের ওপর সবজি ও চারা চাষের ব্যবসাকে বেঁচে নিয়েছেন।

এ চাষে খরচ কম কিন্তু আয় বেশী হওয়ায় গরীব কৃষকদের মাঝে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রান্তিক চাষীদের ভাষ্যমতে, স্থানীয় কৃষি অফিস চাষীদের উদ্বুদ্ধ সহ অর্থনৈতিক সহযোগিতা করলে ধাপের ওপর সবজি চাষের ব্যাপকতা যেমন বাড়বে তেমনি চাষীদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারে সবজির চাহিদাও পূরন করা সম্ভব হবে।


তথ্য সুত্রঃ সফল খামারী

টু ইন ওয়ান গাছ

Wednesday, March 14, 2018


জমির উৎপাদন ক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যাবহার করার জন্য হাইব্রিড গাছের আবির্ভাব। এ ধরণের গাছগুলো উচ্চ ফলনশীল সেই সাথে আছে অধিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা। কৃষিবিদরা এ নিয়ে গবেষণা করে যাচ্ছেন নিরন্তর। আর প্রতি বছর আমরা নতুন নতুন হাইব্রিড গাছের সাথে পরিচিত হচ্ছি। কিন্তু একই গাছের উপরে একধরনের ফল আর মাটির নিচে অন্য ধরণের ফল উৎপাদিত হবে এ ধরণের দ্বিমাত্রিক গাছের কথা অনেকে চিন্তাই করেননি। সম্প্রতি এ ধরনের টু ইন ওয়ান গাছ উদ্ভাবন ঘটানোর মত কাজটা সম্ভব করেছেন বিজ্ঞানীরা । আলু গাছে টমেটো ফলানোর মত অদ্ভুদ কান্ড  ঘটিয়েছেন তারা । টমেটো আর আলুর সমন্বয়ে উৎপাদন  করেছেন হাইব্রিড উদ্ভিদ ।বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন “টমটেটো” বা “পমেটো”।
আলু এবং টমেটো একই গাছে উৎপাদন করার ধারনা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৭ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক ইন্সটিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট এ । যুক্তরাজ্যের গবেষকরা সম্প্রতি এই ধারণার সফল বাস্তবায়ন ঘটিয়েছেন। তারা একই গাছে উপরে টমেটো আর নিচে আলু ফলাতে সক্ষম হয়েছেন যাতে আলু ও টমেটোর স্বাদ অক্ষুন্ন থাকে। এই  কাজের জন্য তারা জিন প্রকৌশল নয় গ্রাফটিং বা জোড় কলমের আশ্রয় নিয়েছেন। চেরি টমেটোর সঙ্গে সাদা গোল আলুর জোড়  কলম পদ্ধতিতে আলু ও টমেটো একই গাছে উৎপাদন করা সম্ভব । । আলু ও  টমেটো একই গাছে ফলানোর পদ্ধতি বিশ্বের অনেক দেশে অনুসরণ করা হয়। নিউজিল্যান্ডেও টমটেটোর মত পটেটো টম নামের একটি উদ্ভিদের উদ্ভাবন করা হয়েছে। বাংলাদেশে এর প্রচলন শুরু হয়নি। যদি এ পধতি আমাদের দেশে অনুসরণ করা হতো তাহলে কৃষি ক্ষেত্রে বিশাল অর্জন হত কৃষকরা জমির সর্বোত্তম ব্যাবহার নিশ্চিত করে অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হতে পারত।

কিভাবে একই গাছে টমেটো এবং আলু ফলানো হয়ঃ  
আলু এবং টমেটো একই গাছে ফলানোর উপায় হচ্ছে আলু গাছে টমেটোর গ্রাফটিং পদ্ধতি ।
সাধারণত টমেটো এবং আলু একই ঋতুর ফসল । মৌসুমে এক একটি টমেটো গাছে প্রচুর পরিমান টমেটো ধরে কোনটা লাল কোনটা সবুজ , ফল পুরোপুরি পাকার আগেই গাছ মারা যায় এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাবার জন্য এবং অনেক টমেটো উৎপাদনের জন্য বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে একই গাছে টমেটো ও আলু উৎপাদন করতে উদ্যোগী হয়েছেন।  যাতে পরের বছর এর থেকে বেশি টমেটো পাওয়া যায়। একই গাছে দুই ফসল উৎপাদনের ফলে সময় যেমন বাঁচানো যায় তেমনি নিশ্চিত করা যায় জমির সর্বত্তম ব্যাবহার। এ জন্য মাটির উর্বরতা শক্তি সর্বাধিক হওয়া প্রয়োজন।  ।
জমিকে সর্বোত্তম ব্যাবহার করার জন্য এটা একটা দারুণ উপায়। আপনি প্রথমে আলু গাছ লাগাবেন এবং সেটাকে পরিণত হতে দেবেন । তারপর ফসল উঠানোর সময় সব আলু গাছ মুলসহ না উঠিয়ে কয়েকটি রেখে দেবেন । সেগুলোতে গ্রাফটিং এর মাধ্যমে হাইব্রিড গাছ টটোমেটো বা পমেটো তৈরি করা হবে।

প্রয়োজনীয় উপকরণঃ
১. প্রাপ্ত বয়স্ক আলু গাছ।
২. আলু গাছের কাণ্ডের সমান ব্যাস বিশিষ্ট টমেটো গাছ।
৩.  একটি ধারাল ছুরি অথবা কাঁটার।
৪. রেপিং টেপ

পদ্ধতিঃ
একটি প্রাপ্তবয়স্ক আলু গাছকে ( যাকে স্টক বলা হয়) মাটি থেকে প্রায় ১ ইঞ্চি উপরে ভি শেপ করে কেটে নিয়ে উপরের অংশটি ফেলে দিতে হবে।

অন্যদিকে একটি টমেটো গাছকে ( যাকে সায়ান বলা হয় ) মাটি থেকে ৬ থেকে ৭ ইঞ্চি কেটে আগাসহ উপরের অংশটি কেটে নিতে হবে । এ কাজের জন্য আলু গাছের সমান ব্যাস বিশিষ্ট টমেটো গাছ নিলে গ্রাফটিং করার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হয় । তারপর টমেটো গাছের কাটা অংশটি  আলু গাছের কাটা অংশটির উপর প্রতিস্থাপন কড়তে হবে। একে বলা হয় গ্রাফটিং ।
গ্রাফটিং করা অংশটি গ্রাফটিং রেপিং টেপ দিয়ে ভালোভাবে পেঁচিয়ে দিতে হবে। প্রতিস্থাপিত অংশ থেকে নতুন পাতা গজানোর আগপর্যন্ত রেপিং টেপ  খোলা যাবেনা ।

কেন গ্রাফটিং পদ্ধতি কার্যকরঃ
টমেটো এবং আলু উভয়ই একই গোত্রের মানে (nightshades) দীর্ঘ রাত্রির উদ্ভিদ এ কারনে এদের মধ্যে গ্রাফটিং পদ্ধতি বেশ কার্যকর। উভয় গাছেই থাকে আল্কালয়েড নামক একপ্রকার উপাদান যা তাদের পোকামাকড় থেকে রক্ষা করে। ফলে আলুর স্বাদ টমেটোতে প্রভাব বিস্তার করতে পারে কিন্তু বিজ্ঞানীরা চেরি টমেটোর সাথে সাদা আলুর গ্রাফটিং  করে এ প্রভাবমুক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। ।
সুবিধাঃ গ্রাফটিং সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এটা সময় এবং স্থান সাশ্রয়ী । একই গাছে আলু এবং টমেটো উৎপাদনের ফলে অর্থনৈতিক ভাবে অধিক লাভবান হওয়া সম্ভব ।

ছবি এবং তথ্যঃ ওয়েবসাইট

আমের জোড় কলম তৈরীর কলাকৌশল


সাধারনভাবে একটি গাছ থেকে আরেকটি নতুন গাছের জন্ম হওয়ার পদ্ধতিকে গাছের বংশবিস্তার বলে। অন্য কথায় যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গাছ যৌন কোষ বা তার অংগজ কোষ থেকে নতুন স্বতন্ত্র গাছ সৃষ্টি করে তাকে বংশবিস্তার বলে। বংশ বিস্তার সাধারনত ২ ধরনের হয়ে থাকে যথা-
১। যৌন বংশবিস্তার
২। অযৌন বংশ বিস্তার
যেহেতু ফল গাছ রোপণের মূল উদ্দেশ্য হলো ভালো, উন্নতমান ও মাতৃ গাছের গুনাগুন সম্পন্ন ফল পাওয়া। এ কারণে ফল গাছের ক্ষেত্রে যৌন পদ্ধতির তুলনায় অযৌন পদ্ধতির চার, কলম অধিক গুরুত্বপূর্ন। অযৌন বংশবিস্তার পদ্ধতিগুলোর মধ্যে ক্লেফট গ্রাফটিং বা ফাটল জোড় কলম এটি অন্যতম পদ্ধতি।

২। আমের জোড় কলম করার উপায়

প্রধানত জোড় কলম দুই ধরনের হয়ে থাকে যেমন :
  • সংযুক্ত জোড় কলম; সায়ন মাতৃগাছ হতে না কেটে রুটস্টকের সাথে জোড়া লাগানো হয়ে থাকে।
  • বিযুক্ত জোড় কলম; সায়ন মাতৃগাছ হতে কেটে এনে রুটস্টকের সাথে জোড়া লাগানো হয়ে থাকে।


৩। সংযুক্ত জোড় কলম
সংযুক্ত জোড় কলমের ভিতরে সংস্পর্শ জোড় (Contact grafting) কলমই প্রচলিত আছে। এটি সবচেয়ে পুরাতন পদ্ধতি। যদিও এই পদ্ধতিতে সফলতার হার বেশি তবু তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল ও বেশি পরিশ্রম লাগে বলে বর্তমানে সাধারণত এই পদ্ধতির চর্চা করা হয় না। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংযুক্ত কলম বাঞ্ছনীয়। যেমন, পেয়ারা বা রাম্বুটানের বিযুক্ত জোড় কলমের হার একেবারেই কম, কাজেই উইল্ট প্রতিরোধী জাতের সংগে কাঙ্ক্ষিত জাতের জোড় কলম করা হয় বেশি সফলতার পাওয়ার জন্য। সংযুক্ত জোড় কলমের পদ্ধতিগুলো নিচে বর্ণনা করা হলো।

৩.১ সংস্পর্শ জোড় কলম (Contact grafting)
৩.২ ভিনিয়ার গ্রাফটিং (Veneer grafting)

৩.১ সংস্পর্শ জোড় কলম (Contact grafting) এর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দিকগুলি
৩.১.১ রুটস্টক নির্বাচনঃ
  • সাধারণত ১ বৎসর বয়সের চারা নেওয়া হয়। তবে রুটস্টকের ব্যাস সায়নের মত হওয়া বাঞ্ছনীয়
  •  রুটস্টক অবশ্যই পলিব্যাগ অথবা মাটির পাত্রে হতে হবে
  • রুটস্টক রোগ বালাইমুক্ত, সতেজ, সবল হতে হবে


৩.১.২ সায়ন নির্বাচনঃ
কাঙ্ক্ষিত মাতৃগাছের সুস্থ, সবল ও চলতি মৌসুমের ডাল নির্বাচন করতে হবে। সায়ন, রুটস্টকের ব্যাসের সমান হওয়া ভাল।
৩.১.৩ সময়ঃ  গ্রীষ্ম-বর্ষাকাল (বৈশাখ-আষাঢ়)

৩.১.৪ সায়ন প্রস্তুতকরণঃ

v        প্রথমে সায়নের হালকা সবুজ ও ধুসরের মিশ্রণ স্থলে এক তৃতীয়াংশ কাঠসহ ৫-৭ সে. মি. এর মত বাকল তুলে ফেলতে হবে।
v        এর পর রুটস্টকের তেজদীপ্ত (সবুজ ও ধুসরের মিশ্রণ স্থলে) জায়গায় এবং ১-২ তৃতীয়াংশ কাঠসহ সায়নের কাটা অংশ সমপরিমাণ বাকল তুলে ফেলতে হবে।
v        এর পর রুটস্টক ও সায়নের কর্তিত অংশ দুটি পরস্পরের সঙ্গে জোড়া লাগাতে হবে।
v        দড়ি বা সুতলী দিয়ে জোড়াকৃত অংশ এমন করে বাধতে হবে যাতে জোড়ার মাঝে কোন ফাঁক না থাকে।

৩.১.৫ সতর্কতাঃ

v        রুটস্টক নতুন কুশি বের হলে ভেঙ্গে দিতে হবে।
v        রুটস্টকের পলিব্যাগ বা পাত্রে সার্বক্ষণিক ভেজা বা রস থাকতে হবে।
v        রুটস্টক বা সায়ন জোড়া লাগলে মাতৃগাছ হতে ধারালো চাকু দিয়ে এক অথবা ২-৩ বারে কেটে নামিয়ে আনতে হবে।
v        কলমটি কিছুদিন ছায়াতে রেখে দিতে হবে।
v        ২-৩ মাস পর রুটস্টকের উপরের অংশ কেটে দিতে হবে।

৩.২ ভিনিয়ার গ্রাফটিং (Veneer grafting)

সংযুক্ত জোড় কলমের ক্ষেত্রে পরবর্তীতে ভিনিয়ার পদ্ধতির কলম প্রচলন আসে। বর্তমানে প্রায় শতকরা ৮০ ভাগই আমের কলম ভিনিয়ার পদ্ধতিতে করা হয়। এই পদ্ধতিতে কাঙ্ক্ষিত জাতের গাছ থেকে সায়ন কেটে নিয়ে এসে রুটস্টকের সাথে বিশেষ পদ্ধতিতে জোড়া লাগানো হয়।

৩.২.১ সময়ঃ ভিনিয়ারের উপযুক্ত সময় বৈশাখ- জ্যৈষ্ঠ তবে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত করা যাবে।

৩.২.২ ফলঃ  আম, পেয়ারা, লেবু, কুল ইত্যাদি।

৩.২.৩ সায়ন এর বৈশিষ্টসমূহঃ

ভিনিয়ার গ্রাফটিং এর জন্যও একই ধরনের সায়ন অর্থাৎ-
(ক) সতেজ, সবল, সুস্থ, চলতি মৌসুমের ডাল নিতে হবে।
(খ) রোগ ও পোকামাকড় মুক্ত হতে হবে।
(গ) সায়ন অবশ্যই পরিপক্ক হতে হবে।
(ঘ) সায়ন শাখায় কুঁড়ি ঠিক ফোটা ফোটা অবস্থায় নিতে হবে।
(ঙ) সায়ন সাধারণত ৪-৬ ইঞ্চি হলে ভাল হয়।

 ৩.২.৪ রুটস্টক প্রস্ত্ততিঃ
ছয় থেকে বার মাস বয়সের রুটস্টক উত্তম। রুটস্টক অবশ্যই সতেব, সবল, রোগা ও পোকামাকড়মুক্ত হতে হবে। ম্যালফরমেশনযুক্ত রুটস্টক কখনও নেওয়া উচিত হবে না।
প্রথমে রুটস্টকের উপযুক্ত স্থানে অর্থাৎ-
v        যেখানে খয়েরী ও সবুজ রং এর মিশ্রণ ঘটেছে (তবে জোড়ার অংশ মাটির যত নিকটবর্তী হবে ততই ভাল) নির্দিষ্ট করতে হবে।
v        উক্ত জায়গায় প্রথমে ব্যাসের এক চতুর্থাংশ তেরছা করে ৩-৪ সে.মি. জায়গায় বাকলসহ কাঠ কেটে উঠাতে হবে।
v        পরবর্তীতে উক্ত কর্তিত অংশের নিচে একটি বিপরীতমুখী কাটা দিতে হবে।

৩.২.৫ সায়ন প্রস্ত্ততিঃ

v        অনুরুপভাবে সায়নের নিচের অংশে একটি ৩-৪ সে. মি. তেরছা কাটা দিতে হবে এবং এর বিপরীতে একটি কাটা দিতে হবে।
v        সায়নের সমস্ত পাতা একটু বোঁটা রেখে কেটে ফেলতে  হবে।
v        এখন সায়ন রুটস্টকের উপর এমন ভাবে বসাতে হবে যেন একটি অপরটির উপর মিশে যায়।
v        এরপর জোড়া লাগানো অংশ পলিথিন টেপ দিয়ে পেঁচিয়ে দিতে হবে।
v        এখন সম্পূর্ণ জোড়া লাগানো অংশ সায়নসহ পলিথিন দিয়ে ঢেকে চিকন দড়ি বা সুতলির সাহায্যে সহজ গিরা দিয়ে এমনভাবে বেঁধে দিতে হবে যেন প্রয়োজনের সময় সহজে পলিথিন খুলে পলিথিনের মধ্যে জমা থাকা পানি বের করে দেয়া যায়।
v        ৩০-৬০ দিন পর যখন সায়নের অগ্রভাগের পাতা হালকা সবুজাভ হবে তখন পলিথিনের আবরণ খুলে দিতে হবে এবং যখন সায়ন পুনরায় পাতা দেওয়া শুরু করবে তখন রুটস্টকের উপরের অংশ কেটে দিতে হবে।
v        ৬-৭ মাস পরে জোড়া লাগানো অংশ যখন সম্পূর্ণ লেগে যাবে তখন ধারালো ব্লেড দিয়ে কেটে পলিথিনের বাঁধন সরিয়ে ফেলতে হবে।


৪। সংস্পর্শ ও জোড় কলমের পর এখন কোন পদ্ধতি জনপ্রিয় হচ্ছে

হ্যাঁ সংস্পর্শ ও জোড় কলমের পর এখন ক্লেফট গ্রাফটিং (Cleft Grafting)এর প্রচলন জনপ্রিয় হচ্ছে।। এই গ্রাফটিং সহজ এবং রুটস্টকের যে কোন বয়সে করা সম্ভব। এ বিষয়ে অজ্ঞতার কারণে বর্তমানে নার্সারী পর্যায়ে এর প্রচলন কম। অনেক সময় বাজারে ক্লেফট গ্রাফটিং এর চারা বাজারে বিক্রয় করতে অসুবিধায় পড়েন কারণ এই গ্রাফটিং এ জোড়া অংশ এমন সুন্দরভাবে মিলিয়ে যায় যে ক্রেতারা চারাটি কলমের কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তবু্ও উত্তম বংশবিস্তার পদ্ধতি হিসেবে এখন থেকে ক্লেফট গ্রাফটিং এর প্রচলন বাড়ানো জরুরী।

৪.১ সময়ঃ
উপযুক্ত পরিবেশ ও সঠিক বয়সের সায়ন পেলে সার বৎসর ক্লেফট গ্রাফটিং করা যাবে। তবি উত্তম সময় এপ্রিল-জুন মাস। তবে সেচ ও ছায়ার ব্যবস্থা করা গেলে ফেব্রুয়ারী-মার্চ মাসেও করা যাবে।

৪.২ রুটস্টক ও সায়ন নির্বাচনঃ
রুটস্টকের বয়স বিশেষ করে আমের ক্ষেত্রে যে কোন বয়সের হতে পারে, তবে ১ বৎসর বয়সের রুটস্টকে কলম বেশি করা হয়। সায়নের বয়স পরিপুষ্ট হতে হবে। চলতি মৌসুমের ডালের পাতাগুলো যখন গাঢ় সবুজ হবে, ডালের ডগায় কুঁড়ি স্ফীত বা ফোটা ফোটা ভাব হবে এবং রোগ বালাই ও কীটপতঙ্গের আক্রমণ মুক্ত হবে, তখন ঐ ডালকে উপযুক্ত সায়ন হিসেবে বিবেচনা করা যাবে।

৪.৩ রুটস্টক ও সায়ন প্রস্ত্ততকরণ (১-২ বৎসর বয়সের ক্ষেত্রে)

v        সতেজ, সবল, সুস্থ রুটস্টক নিতে হবে।
v        মূল ও কান্ডের সংযোগস্থলের যথাসম্ভব কাছাকাছি কান্ডের সবুজ ও খয়েরী রং এর মিশ্রণ স্থানে রুটস্টকের মাথা কেটে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কাটা জায়গার নিচে যাতে অবশ্যই কিছু পাতা থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
v        কাটা মাথার মাঝ বরাবর পরে ধারালো চাকু দিয়ে আনুমানিক ৩-৪ সে.মি. পর্যন্ত চিরে দুভাগ করতে হবে।
v        পরিপুষ্ট সায়নের সমস্ত পাতা বোটা রেখে কেটে ফেলতে হবে।
v        এরপর সায়নের গোড়ার দিকে, দুই ধার তেরছা করে কাটতে হবে যেন সায়নের গোড়ার দিকটা ৩-৪ সে.মি. পর্যন্ত ক্রমশ মোটা থেকে পাতলা পাতের মত হয়।
v        এখন উভয় পাশে তেরছা করে কাটা গোড়ার এই পাতমত অংশটি রুটস্টকের ফাটলের ভিতর ঢুকিয়ে মাপমত বসিয়ে দিতে হবে। তারপর পলি টেপ দিয়ে শক্ত করে বেঁধে দিতে হবে।
v        এরপর জোড়া লাগানো অংশসহ সম্পূর্ণ সায়নটি পলি কভার দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।

৫। অন্যান্য পদ্ধতিঃ
স্টোন গ্রাফটিং (Stone grafting)

আসলে স্টোন গ্রাফটিং ক্লেফট পদ্ধতি থেকে তেমন আলাদা কিছু নয়। আমের চারার একেবারে ছোট অবস্থায় (৭-৩০ দিন বয়সে) অর্থাৎ যখন আটি চারার সঙ্গে সংযুক্ত থাকে ঐ সময় জোড়া কলম করাকেই স্টোন গ্রাফটিং বলে। এটি ক্লেফট পদ্ধতিতে ছোট চারার উপর করা হয়।

আমের স্টোন গ্রাফটিং এর ক্ষেত্রে যা মনে রাখতে হবে তা হলো
  • যেহেতু চারাগুলো খুবই নরম থাকে, তাই পাতলা ধারালো চাকু বা ব্লেড দিয়ে জোড়া লাগানোর জন্য কাটাকাটির কাজ করতে হবে।
  • স্টোন গ্রাফটিং এর চারার বৃদ্ধি প্রাথমিক পর্যায়ে কম তবে একেবারেই নিচে অর্থাৎ মাটির নিকটবর্তীতম জায়গায় করা যায় বিধায় গাছ ঝোপালো হয় ও অফসুট (জোড়া লাগার নিচের অংশে অনাকাঙ্ক্ষিত কচি ডগা) গজানোর সমস্যা কম হয়।
  • তবে মনে রাখতে হবে, রুটস্টক যতই কচি বা নরম হোক না কেন, সায়ন অবশ্যই আগের বর্ণনা অনুসারে পরিপুষ্ট, সঠিক বয়সের হতে হবে।


৬। আমের জোড় কলমের সফলতার জন্য কোন সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ন বিষয়গুলি

v        সায়না ও রুটস্টক বয়স ও আকার আকৃতির দিক থেকে পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। যেন তারা সহজে মিলে মিশে একাকার হতে পারে।
v         রুটস্টক অবশ্যই সঠিক বয়স ও তেজের হতে হবে।
v         সায়ন অবশ্যই সঠিক বয়স ও পরিপুষ্ট হতে হবে।
v         গ্রাফটিং অবশ্যই সঠিক সময়ে করতে হবে।

v         রুটস্টক ও সায়নের জোড়া এমনভাবে বাঁধতে হবে যাতে ভিতরে অবশ্যই যেন কোন ফাঁক না থাকে।

জাফরান ভেবে দইগোটা!

Wednesday, November 16, 2011


অনেক সময় নার্সারিতে দেখে ভালো লাগার চারাটি কিনে ফেলা হয়, এর পরিচয় না জেনেই। বিদেশি গাছের বেলায় তো প্রায়ই এমন ঘটে। আশ্চর্য ব্যাপার হচ্ছে, প্রকৃত নামের পরিবর্তে গাছটিকে যে নামে ডাকা হয়, সেই নামের গাছের সঙ্গে প্রকৃত গাছটির কোনো ধরনের সাদৃশ্য বা সম্পর্ক থাকে না।

এমন একটি গাছের নাম দইগোটা।একে আবার লটকনও বলে অনেকে। এই রঞ্জক উদ্ভিদটি এখানে ভুল করে জাফরান ভাবা হয়। কিন্তু আকার-আকৃতিতে গাছ দুটি একেবারেই আলাদা। আদতে জাফরান বেশ দুষপ্রাপ্য এবং নামীদামি সুগন্ধি। জানামতে, দেশে এখন পর্যন্ত জাফরান চাষের কোনো রেকর্ড নেই। বর্ষজীবী এই কন্দজ গাছ সাধারণত শীতের দেশেই জন্মে। সেখানকার পরিকল্পিত বাগানগুলোতে প্রাকৃতিকভাবে জন্মাতে দেখেছি।
ঢাকার কোনো পার্কে বেড়াতে গেলে দইগোটার গাছ দৃষ্টি এড়িয়ে যেতে পারে। কারণ, চোখে পড়ার মতো তেমন আকর্ষণীয় কিছুই থাকে না প্রায় সারা বছর। শুধু চিরুনির ফলার মতো খোলসওয়ালা লালচে রঙের কতগুলো ফল চোখে পড়ে গাছে। তা-ও আবার উপাদেয় কোনো ফল নয় বলে মানুষের উৎসাহ খানিকটা কম। তবে বর্ষার শেষভাগ থেকে হেমন্ত পর্যন্ত ঈষৎ গোলাপি রঙের ফুলগুলো ফুটতে থাকে।
লটকন বা দইগোটা (Bixa orellana) সারা দেশে রঞ্জক হিসেবেই চাষ হয়। কিন্তু দেশি ফল লটকা বা লটকনের সঙ্গেও এর কোনো সম্পর্ক নেই। ধারণা করা হয়, বীজের রং দই রাঙানোর কাজে বেশি ব্যবহূত হতো বলেই এমন নামকরণ। প্রাচীনকালে মানুষ যে কয়েকটি গাছ থেকে প্রাকৃতিক রং সংগ্রহ করত, দইগোটা তার মধ্যে অন্যতম। রঞ্জক উদ্ভিদ সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে গিয়েই প্রথমে এ গাছ সম্পর্কে জানতে পারি। ঢাকায় রমনা পার্ক, বলধা গার্ডেন, বোটানিক্যাল গার্ডেনসহ কারও কারও ব্যক্তিগত সংগ্রহেও দেখা যায়।
এটি ক্রান্তীয় আমেরিকার প্রজাতি। সতেরো শতাব্দীর দিকে স্প্যানিশদের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। গাছ ছোট, ঝোপাল, চার থেকে পাঁচ মিটার উঁচু ও চিরসবুজ। পাতা বড়। ফুল ফোটে শরৎ থেকে শীতের প্রথমভাগ অবধি। ফুল একসঙ্গে অল্প কয়েকটি ফোটে। দেখতে গোলাপি, ঈষৎ বেগুনি বা সাদাটে। পাপড়ির মাঝখানে হলুদ-সোনালি রঙের একগুচ্ছ পুংকেশর থাকে। ফল লালচে বাদামি, নরম কাঁটায় ভরা। বীজ লাল শাঁসে জড়ানো। এই বীজ থেকেই পাওয়া যায় রং।
এবার জাফরান প্রসঙ্গ। এরা পেঁয়াজের মতো পাতা ও কাণ্ডবিশিষ্ট বহুবর্ষজীবী গুল্ম। মাটির নিচে মূলে কন্দ ও অনেক শিকড় থাকে। অন্য নাম কুমকুম বা কুঙ্কুম। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে এই গণের ৬০টি প্রজাতি রয়েছে। জাফরান (Crocus sativus) স্বাদে তেতো, ঝাঁজালো, পিচ্ছিল ও সুগন্ধময়। দামি রান্নায় ও সুগন্ধের জন্য পরিমাণমতো ব্যবহার করা হয়। ভালো জাফরান রক্তাভ-পীত রঙের এবং পদ্মগন্ধযুক্ত। প্রাচীনকাল থেকেই কাশ্মীরে এ ধরনের উৎকৃষ্ট মানের জাফরান জন্মে। তা ছাড়া ইরান, ইতালি, ফ্রান্স ও স্পেনেও এর ব্যাপক চাষ হয়।
খাদ্যদ্রব্য ছাড়াও দামি প্রসাধন সামগ্রী হিসেবে জাফরান ব্যবহার্য। প্রাচীনকালে জাফরান গায়ে মাখা হতো শরীরের সৌষ্ঠব বাড়ানোর জন্য। ত্বক এর গুণে লাবণ্যময় হয়ে ওঠে। এ ছাড়া নানা রোগেও জাফরানের বহুমাত্রিক ব্যবহার লক্ষ করা যায়। চড়া মূল্যের কারণে ইদানীং জাফরানের ব্যবহার অনেক কমেছে।
এবার নিশ্চয়ই আর জাফরান ভেবে অন্য কোনো গাছ নিয়ে বাড়ি ফিরবেন না।

তথ্য সুত্র: প্রথম আলো , তারিখ: ১৫-১১-২০১১

মন রাঙানো লাল ঝুমকা

Tuesday, September 27, 2011


প্রবীণ বৃক্ষপ্রেমী জয়নাল আবেদিন একদিন ভরদুপুরে একটি অচেনা ফুল দেখাতে নিয়ে গেলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডে অবস্থিত ব্রিটিশ কাউন্সিলের উত্তর পাশের দেয়াল-লাগোয়া শিক্ষকদের আবাসিক ভবনের পেছনে গিয়ে দেখা মিলল ফুলগুলোর। ফুলগুলো এতটাই আড়ালে যে তাঁর অনুসন্ধানের প্রশংসা না করে উপায় নেই। চিনতে কষ্ট হলো না, এগুলো লাল ঝুমকা। বছর খানেক আগে মিরপুর উদ্ভিদ উদ্যানে দেখেছি। এই লতাও সেখান থেকে সংগৃহীত। তুলনামূলকভাবে দুর্লভ। আর কোথাও চোখে পড়েনি। তবে ঝুমকালতার আরও তিনটি প্রকরণ দেখেছি বিভিন্ন স্থানে। যে প্রকরণটি থেকে ট্যাং ফল হয়, সেটি দেখেছি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্মপ্লাজম সেন্টারে। সব প্রকরণের ফুল গড়নের দিক থেকে প্রায় একই রকম হলেও টক স্বাদের ফলওয়ালা প্রজাতিটি এ ক্ষেত্রে অনেকটাই ব্যতিক্রমী। ফলের রস থেকে শরবত বানানো যায় বলেই এমন নামকরণ। আর বেগুনি রঙের প্যাসিফ্লোরা সেরুলিয়া প্রকরণটির (ঝুমকালতা নামেই পরিচিত) ফুলগুলো প্রায় সারা দেশেই দেখা যায়, ফোটে বর্ষায়। নওয়াজেশ আহমদ ওয়াইল্ড ফ্লাওয়ার্স অব বাংলাদেশ গ্রন্থে জংলি ঝুমকা নামের আরেকটি ফুলের সন্ধান দিয়েছেন। এটি পার্বত্য চট্টগ্রামে সহজলভ্য। এরা একই প্রজাতির ফুল হলেও পাতার রকমফের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।

বসন্তের মাঝামাঝি সময় ঢাকায় মিরপুর উদ্ভিদ উদ্যান কার্যালয়ের পশ্চিম পাশে গেলে এই ফুল পাবেন। তত দিনে উদাল, মাধবী, রামডালুর মৌসুম শেষ; গ্লিরিসিডিয়াও রং হারিয়ে বিবর্ণপ্রায়। এই শূন্যতা ঘোচাতে সেখানে চারপাশ আলোকিত করে ফোটে লাল ঝুমকা ফুল (Passiflora coccinea)। একটি-দুটি নয়, অনেকগুলো। চারপাশে নিবিড় সবুজের ভেতর হঠাৎ লাল রঙের বর্ণিল উচ্ছ্বাস সত্যিই মনোহর। এই চটকদার রঙে আকৃষ্ট হয়ে আসে মৌমাছি, প্রজাপতি আর পাখিরা। পৃথিবীজুড়ে প্রায় ৫০ রকম ঝুমকালতার ফুল রয়েছে। সে তুলনায় আমাদের দেশেরগুলো হাতেগোনা। এখানে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় বেগুনি রঙের সুগন্ধি ফুলগুলো। পাহাড়ি প্রজাতিটি সমতলে খুব একটা দেখা যায় না। প্যাসিফ্লোরা বা প্যাশন ফ্লাওয়ার নামের এই ফুল এখন পৃথিবীর বিভিন্ন উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। ইংরেজি নাম স্কারলেট প্যাশন ফ্লাওয়ার এবং রেড প্যাশন ফ্লাওয়ার। আলোচ্য লাল ঝুমকা পাতার গড়নে অন্যান্য ঝুমকা থেকে অনেকটাই আলাদা।
বহুবর্ষজীবী লতানো গাছ, পাতা পুরু, লম্বা আয়তাকার, কিনারা অগভীরভাবে কাটা কাটা। ফুল ফোটার প্রধান মৌসুম চৈত্র থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত। গাঢ় লাল রঙের লম্বাটে পাপড়িগুলো ওপর-নিচে দুই স্তরে সুসজ্জিত থাকে। মাঝখানের একগুচ্ছ পরাগকেশর সাদা ও কালো রঙের। একসঙ্গে অসংখ্য ফুল ফোটে বলে অনেক দূর থেকেই আমাদের নজর কাড়ে। বর্ণবৈচিত্র্য তৈরির জন্য অন্যান্য বাগানেও প্রচুর পরিমাণে রোপণ করা প্রয়োজন। আদি আবাস আমাজনের ব্রাজিল, পেরু, বলিভিয়া অঞ্চল।

তথ্য সুত্র: প্রথম আলো , তারিখ: ১৯-০৪-২০১১

রংমিস্ত্রি থেকে ভাস্কর

Saturday, December 11, 2010


সাত-আট হাত দীর্ঘ একটি গাছ। গাছের ডালে বসে আছে দোয়েল, শ্যামা, ঘুঘু, টিয়া, ময়না, শালিকসহ নানা জাতের পাখপাখালি। গাছের নিচে বক, ডাহুক, ময়ূর, হরিণ, চিতা, হাতি ও রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ বন্য প্রাণীরা ঠাঁয় দাঁড়িয়ে। এসব প্রাণীর কোনোটাই রক্ত-মাংসের নয়, বালু-পাথর ও রড-সিমেন্টে তৈরি। এগুলোর নির্মাতা শহিদুল ইসলাম নামের এক তরুণ।
বয়স তাঁর ৩০ বছর। জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার খলিশাগাড়ি গ্রামে বাড়ি। এসব ভাস্কর্য বানাতে কারও কাছ থেকে শিক্ষা নেননি তিনি। দারিদ্র্যের কারণে শৈশবে পঞ্চম শ্রেণীর গণ্ডিই পেরোতে পারেননি। কিন্তু ভেতরে একটা শিল্পীসত্তা বুঝি ছিল। এমনিতে রংমিস্ত্রির কাজ করেন। বছর চারেক আগে হঠাৎ শখের বশে পশুপাখি বানানো শুরু করেন তিনি। কৃত্রিম এসব জন্তু-জানোয়ার স্থানীয় লোকজনের নজর কাড়ে। কেউ কেউ কিনে নেন কয়েকটা। স্থানীয় লোকদের উৎসাহ ও স্বীকৃতি জন্ম দেয় এক ভাস্করের।
দিনে মানুষের বাড়ি বাড়ি ঘুরে শহিদুল এখনো রংমিস্ত্রির কাজ করেন। সেটাই তাঁর মূল পেশা। আর রাতে রড-সিমেন্ট নিয়ে বসেন। দক্ষ হাতে গড়ে তোলেন একেকটা অবয়ব। তারপর চলে রং করার পালা। গ্রামীণ মেলায় সিমেন্টের এসব ভাস্কর্যের কেনাবেচা ভালো। শীতকালে মেলাকে সামনে রেখে বছরজুড়ে এসব বানান শহিদুল। তাঁকে সাহায্য করেন স্ত্রী মরিয়ম বেগম।
শহিদুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একটি ময়ূরের গায়ে রং করছেন তিনি। মরিয়ম রংতুলি, যন্ত্রপাতি এগিয়ে দিচ্ছেন। শহিদুল জানান, রড-সিমেন্ট দিয়ে আড়াই ফুট উঁচু, চার ফুট দীর্ঘ একটি বাঘ তৈরিতে তাঁর ১৫ দিন লেগেছে। মাঝারি আকৃতির একটি বাঘ বানাতে খরচ পড়ে দুই হাজার টাকা। আর বিক্রি করে পান সাড়ে তিন হাজার টাকা। ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হয় শাপলা ফুল।
শহিদুল বলেন, হামি অশিক্ষিত মানুষ। ভালো কোনো কিছু তৈরি করতে অনেক টাকা-পয়সা লাগে। হামরা গরিব মানুষ, দিনে যা রোজগার হয়, ওই দিন তা খাওয়া-খরচে শেষ হয়। আর বছরে একবার এই কাজের লাভ থেকে সংসারের বড় ধরনের কাজ করি। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে এই কামগুলো শুধু রাতে করি। দিনে অন্যের বাড়িতে রংমিস্ত্রির কাম করি।
পাশের মুন্দাল গ্রামের ঠিকাদার নুরুজ্জামান মৃধা বলেন, বড় একটি জিরাফ শহিদুলের কাছ থেকে মাত্র দুই হাজার ৪০০ টাকায় কিনেছি। শহর থেকে কিনতে গেলে পাঁচ হাজার টাকায়ও পাওয়া যেত না। বাড়ির পাশে রাখা ওই জিরাফে বসে শিশুরা সারা দিন খেলাধুলা করে।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তাইফুল ইসলাম তালুকদার বলেন, শহিদুল ইসলামের এই শৈল্পিক কাজ দিন দিন এলাকায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। নিরক্ষর হয়েও সে এত সুন্দর হাতের কাজ করে, দেখলে অবাক লাগে। তাকে সহায়তা করা দরকার, যেন সে আরও ভালো কিছু করতে পারে।

তথ্য সূত্রঃ নিঝুমদীপ

মাশরুম

Thursday, October 7, 2010


কয়েক হাজার মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীতে জন্ম নেওয়া ব্যাঙের ছাতা বা মাশরুমকে নিয়ে কিন্তু মিথের অভাব নেই। এমনও শোনা যায়, চাঁদের গ্রহণ কিংবা শিখার রসায়নে পৃথিবীতে জন্ম নেয় বৈচিত্র্যময় মাশরুম। মিথ যতই থাকুক, একটা ব্যাপারে ভোজন রসিকেরা একমত, মাশরুম জাতীয় ছত্রাক খেতে খুব মজা।

সব ছত্রাকই যে সুস্বাদু তা নয়। ছত্রাকের আসল আকর্ষণই হচ্ছে তার বৈচিত্র্য। কোনো ছত্রাক মানুষের জীবন বাঁচায় আবার কোনোটা সৃষ্টি করে বিষময় বিভ্রম। কোনো কোনো ছত্রাক ফাইভ স্টার হোটেলের ডিনারের মেন্যুতে অন্যতম আকর্ষণীয় পদ আবার কোনোটা সিদ্ধই হয় না!

আধুনিক মাশরুম কালচার পরিণত হয়েছে একটি লাভজনক ব্যবসায়। অবশ্য অনাদিকাল থেকেই প্রকৃতি উদারভাবে জন্ম দিয়েছে অসংখ্য মাশরুমের। এসব বন্য অথচ প্রায় বিশুদ্ধ মাশরুম সাধারণত জন্ম নেয় স্যাঁতসেঁতে জলময় জায়গায়।

গত দশকে খুব কম শস্যই মাশরুমের মতো সুপারসনিক দ্রুততায় বেড়েছে। বিশেষত পূর্ব ইউরোপ, জার্মানি, ফ্রান্স আর ইতালিতে মাশরুম চাষ বেড়েছে অবিশ্বাস্য হারে। এই দেশগুলোতে জন্ম নিয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় পেশাদার নার্সারি। এদের কাজই হচ্ছে পরিকল্পিত মাশরুম চাষ। এদের মধ্যে প্রতিযোগিতাটাও হচ্ছে সোজা বাংলায় হাড্ডাহাড্ডি। আমাদের বাংলাদেশেও আজকাল বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মাশরুমের চাষ হচ্ছে। স্যাঁতসেঁতে ভেজা আবহাওয়ায় জন্মালেও মাশরুমের প্রয়োজন একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ উষ্ণতা এবং আলো। যারা পেশাদার মাশরুম বিশেষজ্ঞ, তাদের বলা হয় মাইকোলজিস্ট। ইউরোপের অনেক জায়গায়ই এরা স্থানীয় ফার্মাসিস্টদের সঙ্গে একযোগে গবেষণা করছেন। তাদের কাজের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে, বিষাক্ত ছত্রাক চিহ্নিত করা।

মাশরুম জিনিসটা আসলে কি সেটা একটু জেনে নেওয়া যাক। মাশরুম হচ্ছে একধরনের স্বল্পস্থায়ী কিন্তু জটিল ছত্রাকদেহের ফলবতী অংশ। অন্যসব পরিচিত সাধারণ ফলের মতো এটাও পাকে, তবে সময় নেয় যথারীতি অল্প। অন্যসব ছত্রাকের মতো এটাও অবশ্যই পরজীবী। নিজ প্রয়োজনে পুষ্টিরস টেনে নেয় অন্য জীবদের থেকে।

অণু আকৃতির অনেক ছত্রাকই আমাদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার প্রাথমিক উপাদান। এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হচ্ছে পেনিসিলিয়াম। বিখ্যাত অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন সৃষ্টিতে পেনিসিলিয়ামের প্রয়োজনীয়তা সর্বাধিক। এছাড়া মদ তৈরির সময় যখন চিনিকে অ্যালকোহলে পরিণত করতে হয় তখন এক ধরনের ক্ষুদ্র ছত্রাকই আসল কাজটা করে দেয়।

মাশরুম গোত্রের সবচাইতে অভিজাত শ্রেণীটির নাম পযধসঢ়রমহড়হ। সেই চতুর্দশ লুইয়ের আমল থেকে ফ্রান্সে এর ব্যাপক আবাদ হচ্ছে, কিন্তু জনপ্রিয়তা কমেনি এতটুকু। বিশেষজ্ঞরা চেষ্টা করছেন মাশরুমের আরও কিছু উন্নত প্রজাতি আবিষ্কার করতে। মাশরুমের কোনো প্রজাতি কিন্তু সব জায়গায় জন্মে না। এক্ষেত্রে অয়েস্টার মাশরুম একমাত্র ব্যতিক্রম। আজকাল সাফল্যের সঙ্গে এই সুস্বাদু মাশরুম পৃথিবীর অনেক জায়গায় চাষ করা হচ্ছে। সারা ইউরোপে বন্য মাশরুমের প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার। ধারণা করা হয়, এদের মধ্যে মাত্র ১ হাজার ২০০ প্রজাতি খাবার উপযোগী। অবশ্য এর মানে এটা নয় যে, বাকি আর সবই বিষাক্ত। আসলে এদের তুলে এনে কেটেকুটে খাওয়াটা খুব সহজসাধ্য কাজ নয়। যেমন ফিল্ড মাশরুম আর হর্স মাশরুম শুধুমাত্র ব্রিটিশরাই হজম করতে পারে।

না জেনে, না চিনে মাশরুম খাওয়টা ভীষণ বিপজ্জনক। কিছু মাশরুম দেখতে সুন্দর আর আকর্ষণীয় হলেও কিন্তু বিষাক্ত। মোরেলস পাফবলস প্রজাতি এর ভিতরে পড়ে। কিছু মাশরুম আবার দেখতে ভীতিকর তবে স্বাদ অপূর্ব, যেমন সেপস্, চ্যানট্যারেলস। মেদ নিয়ে যারা অতিরিক্ত মাথা ঘামান, তাদের জন্য সুসংবাদ হচ্ছে, প্রায় সব মাশরুমই ক্যালরি ফ্রি। এদের অনেকেই ভিটামিন সি আর উদ্ভিজ আমিষে সমৃদ্ধ। স্বাদ বাড়াবার জন্য অনেকেই এদের চুবিয়ে রাখেন অলিভ অয়েলে। দুধ সংযোগে সিদ্ধ অথবা ঝলসানো মাশরুম এক কথায় অসাধারণ।

মনের উঠোনে

সাম্প্রতিক সংযোজন

মোবাইল থেকে দেখুন

আমাদের দেশ এখন আপনার মুঠোফোনে, মোবাইল থেকে লগইন করুন আমাদের দেশ

দ র্শ না র্থী

দ র্শ না র্থী

free counters

কে কে অনলাইনে আছেন