Showing posts with label মাছ চাষ. Show all posts
Showing posts with label মাছ চাষ. Show all posts

মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী

Tuesday, February 7, 2012



সুযোগ ও উদ্যম থাকলে যে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা যায় তার উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন নওগাঁর জাহাঙ্গীর আলম (৩০)। পেশায় একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি হলেও বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করছেন গ্রামের আরও ৫০জন দরিদ্র পরিবারের তরুণকে। পুকুর পাড়ে লাগিয়েছেন প্রায় ২৫০টি কলা গাছ। তিনি বলেন 'প্রথমে এলাকার তরুণদের সংগঠিত করে একটি সমবায় সমিতি গঠন করি। এরপর একটি পুকুরের ঝোঁপঝাড় পরিষ্কার ও পানি শোধন করে তাতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ছাড়ি এবং পুকুর পাড়ে প্রায় ২৫০টি দেশীয় মানিক কলার গাছ লাগাই। বর্তমানে পুকুরে থাকা প্রতিটি মাছের ওজন দেড় থেকে দুই কেজি। এ মুহূর্তে মাছ বিক্রি করলে প্রায় দেড় লাখ টাকার মাছ বিক্রি হবে।' গাছের দাম তো রয়েছেই। তার সফলতা এলাকায় অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে।

সিদ্ধান্ত হীনতায় ঝিনাইদহে বাঁওড় মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্পের শতকোটি টাকার সম্পদ লোপাট

Friday, September 24, 2010


মৎস্য ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের টানা হেঁচড়ায় বাঁওড় মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্প এখন বিরাণভূমি। অবকাঠামোসহ শত কোটি টাকার সম্পদের বেহাল দশা। চলতি ফিশিং মৌসুমে ৬ টি বাওড়ে না করায় লুটপাট হয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকার ৪ শ মেট্রিক টন মাছ। পথে বসেছে হাজার হাজার জেলে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ৬টি বাঁওড় বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় ‘বাঁওড় মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্প’ নামে ৩০ বছর মেয়াদে মৎস্য অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তরিত হয়।

এই প্রকল্পে ঝিনাইদহের ৫ টি ও যশোরের ১ টি বাঁওড়ে মাছ চাষ শুরু হয়। এগুলো হলো- ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার বলুহর ও জয়দিয়া বাঁওড়, মহেশপুর উপজেলার কাড়গড়া ও ফতেপুর বাঁওড়, কালীগঞ্জ উপজেলার মর্জাদ বাঁওড় ও যশোরের চৌগাছার বেড়গোবিন্দপুর বাঁওড়।

স্থানীয় জেলে সম্প্রদায় ও মৎস্যজীবিরা ৪০ শতাংশ হারে মালিকানায় বাঁওড়ের মাছ ধরার অনুমতি লাভ করে মৎস্য বিভাগের কাছ থেকে। বাঁওড় পাড়গুলোর নিবন্ধিত ১ হাজার জেলে পরিবারের প্রায় ৫ হাজার লোক জীবিকা নির্বাহ করতে থাকে। ৫ শ’ বিঘা জমির উপর এসব বাঁওড়ে গড়ে ওঠে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রেণু উৎপাদনকারী কেন্দ্রীয় মৎস্য হ্যাচারী। বিভিন্ন বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে রেণু বিক্রি ছাড়াও হ্যাচারীর রেণু সরকারি এই বাঁওড়ে দেয়া হয়।

মৎস্য বিভাগ বাঁওড় উন্নয়নের জন্য রাস্তা-ঘাট, হ্যাচারি বিল্ডিং, ব্রীজ, কালভার্ট ও পুকুর কাটে প্রায় ৫০ কোট টাকার। শতাধিক কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ করা হয় এ সব বাঁওড়ে। প্রতি বছর এসব বাঁওড় থেকে প্রায় ৫ শ’ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ সুলভে বাঁওড়ের রাণী (প্রাকৃতিক বিভিন্ন জাত) মাছসহ সু-স্বাদু মাছ পায়। এছাড়া দেশের মাছের চাহিদা পূরণে বড় ভূমিকা রাখে এসব পুরাতন বাঁওড়।

তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মৎস্য অধিদপ্তরের ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তি শেষ হয়ে যায়। ফলে জেলা প্রশাসক এক আদেশে বাঁওড়গুলি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকবে উল্লেখ করে মৎস্য বিভাগকে চিঠি দেয় এবং বাঁওড়ের মাছ ধরা ও ফিশিং কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। বাঁওড়গুলি তদারকি ও ব্যবস্থাপনার ক্ষমতা হারায় কর্তৃপক্ষ। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এসব বাঁওড়ে ফিসিং মৌসুমে মৎস্য আহরণ করা হয়নি। চলতি বছর এ সব বাঁওড়ে ৩ দফা ফিশিং না হওয়ায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ৪ শ’ মেট্রিক টন মাছ চোর চক্র ও প্রভাবশালী মহল লুটপাট করে নেয়।

ভূমি মন্ত্রণালয় গত মাসে বাঁওড়গুলি ওপেন লিজ দিতে টেণ্ডার আহবান করলেও দুটি মন্ত্রণালয়ের টানা হেচড়ায় তা বন্ধ রয়েছে। হঠাৎ করেই অভিভাবকহীন হয়ে পড়ছে বাঁওড় ও হ্যাচারী। জেলে পরিবারগুলো মাছ ধরার অনুমতি ও ‘জাল যার জলা তার’ সংক্রান্ত নীতির দাবি করলেও বিষয় গুলি থাকছে উপেক্ষিত। শত শত জেলে পরিবার হয়ে পড়েছে অসহায়।

মৎস্যজীবি যমুনা হালদার জানায়, ছেলে মেয়ে নিয়ে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। অপরদিকে প্রভাবশালীরা সব মাছ লুটপাট করছে।

কোটচাঁদপুর বলুহর বাঁওড় সহকারী ম্যানেজার সেলিম চৌধুরী জানান, ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তি শেষ হওয়ায় বাঁওড়গুলি এখন ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলে গেছে। বাঁওড়ের সব ধরণের ফিশিং কার্যক্রম বন্ধ বলে তিনি জানান।

ফতেপুর বাঁওড় ম্যানেজার আজগর আলী পিটিবি নিউজ ডটকমকে জানান, গত বছর ১৫ মেট্রিক টন মাছ আহরণ করলেও এবার ৩ মেট্রিক টন মাছ আহরণের পর সব কিছু স্থগিত হয়েছে।

কোটচাঁদপুর কেন্দ্রীয় মৎস্য হ্যাচারী কমপ্লেক্সের হ্যাচারী অফিসার তালেবুল ইসলাম পিটিবি নিউজ ডটকমকে বলেন, দুই মন্ত্রণালয়ের টানা হেচড়ায় কারণে মাছের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সেই সঙ্গে অবকাঠামোগত সম্পদগুলোও বেহাল দশায় রয়েছে।

ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক রমা রাণী রায় পিটিবি নিউজ ডটকমকে জানান, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বাঁওড়গুলো এখন ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে। বর্তমানে মৎস্য ও ভূমি এই দুই মন্ত্রণালয়ের বৈঠক ও কমিটি গঠিত হয়েছে।

বাঁওড় মৎস্য চাষ উন্নয়ন প্রকল্পের মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল খালেক পিটিবি নিউজ ডটকমকে বলেন, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে মৎস্য অধিদপ্তর সরকারের কাছে ৫০ বছরের জন্য আবারও আবেদন করেছে।

এচাড়া মৎস্য ও ভূমি আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা সরেজমিন তদন্ত ও পরির্দশন করার পরে প্রতিবেদন দিলে বিষয়টির সমাধান হবে। তিনি জানান, বর্তমানে বাঁওড়গুলির সবধরণের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কোটি কোটি মৎস্য আহরণ করা সম্ভব হয়নি।


সাতক্ষীরার কলারোয়ায় সার সংকট, হতাশ মাছ চাষীরা


সাতক্ষীরার কলারোয়ার মৎস্য চাষীরা রাসায়নিক সারের তীব্র সংকটের কারনে চরম বিপাকে পড়েছেন। ফলে চলতি মৌসুমে মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশংঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিগত চার মাসে প্রয়োজনীয় পঁচিশ মেট্রিক টন রাসায়নিক সারের বিপরীতে বরাদ্দ মেলেনি এক কেজিও। উৎপাদন ব্যহত হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছে এলাকার মাছ চাষীরা। মাছ চাষিরা জানান, তারা মৎস্য ঘেরে তাদের বিনিয়োগ করা অর্থ ঘরে তুলতে পারবেন কিনা তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কয়েকটি মৎস্য ঘেরে কর্মরত মাছ চাষিরা বলেন, সার সংগ্রহের জন্য তারা উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরে গেলে কৃষি কর্মকর্তা সাফ জানিয়ে দেন কৃষি বিভাগের জন্য বরাদ্দকৃত সার মৎস্য ঘেরে ব্যবহারের জন্য নয়।

উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, কলারোয়ায় বেসরকারী পুকুরের সংখ্যা সাত হাজার আটশ। যার আয়তন ৯শ ৪৭ দশমিক ৩৬ হেক্টর। এখানে চলতি মৌসুমে মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে দুই হাজার মে. টন। বেসরকারী মৎস্য খামার (বাণিজ্যিক) রয়েছে ৫০ হেক্টর আয়তন বিশিষ্ট ৩০টি। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা একশ ৫০ মেট্রিক টন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড নিয়ন্ত্রিত জলাশয়ের সংখ্যা ৮ টি। এক দশমিক ৭৭ হেক্টর আয়তন বিশিষ্ট এই জলাশয়ের মৎস্য উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পাঁচ দশমিক ৫০ মে: টন।

ধান ক্ষেতে সমন্বিত চিংড়ী সহ অন্যান্য মাছ চাষ হচ্ছে একশ হেক্টরে ৬০ টি ব্লকে বিভক্ত করে। সেখান থেকে ৩০ মে. টন মাছ উৎপাদনের আশা করছেন সংশ্লিষ্ট মৎস্য চাষীরা। দুই হাজার আটশ ১৪ টি মৎস্য ঘেরে গলদা সহ মিশ্র মৎস্য চাষে দুই হাজার একশ ৫১ হেক্টরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৯শ মে. টন।

উপজেলার সাতটি প্রাকৃতিক জলাশয়ে (খাল) ১৫০ হেক্টরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৪০ মে. টন। এ ছাড়া কলারোয়ায় ৬৫ দশমিক ৪২ হেক্টর আয়তন বিশিষ্ট তিনটি বাওড়ে এবার উৎপাদন লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ৪১ মে. টন। ছয়শ ৩০ হেক্টর আয়তন বিশিষ্ট আটটি প্লাবন ভূমিতে (বিল) উৎপাদন হতে পারে ৭০ মে. টন এমনটিই ধারণা সংশ্লিষ্ট মহলের।

উপজেলায় রয়েছে ১০টি বেসরকারী মৎস্য খামার (হ্যাচারী)। পাঁচ হেক্টর আয়তন বিশিষ্ট এই খামার গুলো হতে চার মে. টন মৎস্য পোনা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন পিটিবি নিউজ ডটকমকে জানান, প্রতি হেক্টর জলাশয়ে প্রতি মাসে মৎস্য চাষে প্রয়োজন দুই বস্তা (একশকেজি) ইউরিয়া, এক বস্তা (৫০ কেজি) পটাশ ও ফসফেট এক বস্তা (৫০ কেজি)।

সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা নির্মল কুমার ঘোষ পিটিবি নিউজ ডটকমকে বলেন, চলতি মৌসুমে কলরোয়া মৎস্য অধিদপ্তরের চাহিদাপত্রে গত চার মাসে ২৫ মেট্রিক টন রাসায়নিক সারের বিপরীতে এক কেজি সারও বরাদ্দ মেলেনি। প্রায় আড়াই লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত কলারোয়ার এই বিপুল জনসংখ্যার পুষ্টি চাহিদা মেটাতে কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশংঙ্কা প্রকাশ করলেন এই মৎস্য কর্মকর্তা।

 দেশি মাছের কৃত্রিম প্রজননে সাফল্য

Tuesday, August 31, 2010


বিলুপ্তপ্রায় ও বিপদাপন্ন দেশীয় কৈ, মেনি (ভ্যাদা), পাবদা, শিং ও মাগুর মাছের শুক্রাণু হিমায়িতকরণ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করে পুনরায় পোনা উৎপাদনে সফল হয়েছেন গবেষকেরা। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের ওই গবেষকেরা জানিয়েছেন, হিমায়িতকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১০০ বছর পরও ওই সব প্রজাতির মাছ পুনঃ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।
গতকাল সোমবার দুপুরে মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পড়েন প্রধান গবেষক অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম সরদার। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) অর্থায়নে এ গবেষণা করা হয়। ২০০৮ সালে এ গবেষণা শুরু হয় জানিয়ে তাঁরা দাবি করেন, বিশ্বে এ ধরনের গবেষণা এটাই প্রথম।
অধ্যাপক রফিকুল জানান, দেশীয় প্রাকৃতিক জলাশয়ের মাছ অত্যন্ত সুস্বাদু হলেও প্রতিনিয়তই আমরা চাষ করা মাছের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি। এ দেশে প্রায় ২৬৫ প্রজাতির মাছ থাকলেও প্রায় ২৫ প্রজাতির মাছ ইতিমধ্যেই জলাশয় থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। হুমকির সম্মুখীন আরও প্রায় ৫০ প্রজাতির মাছ। জলাশয় ভরাট ও আবাসন সৃষ্টির কারণে অন্যান্য প্রজাতির মাছের উৎপাদনও কমে যাচ্ছে। মৎস্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যমতে, ২০০৭-০৮ সালে দেশীয় শিং, কৈ ও মাগুর মাছের উৎপাদন ছিল প্রায় ৭৬ হাজার মেট্রিক টন, যা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই কম। এসব দিক বিবেচনা করেই হিমায়িতকরণ পদ্ধতিতে দেশীয় প্রজাতির কৈ, মেনি, পাবদা, শিং ও মাগুর মাছের বংশ সংরক্ষণের এ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন তাঁরা।
রফিকুল আরও জানান, হিমায়িত পদ্ধতি বর্তমান সময়ের হ্যাচারিতে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে উৎপাদিত পোনার চেয়ে ভালো। কারণ, কৃত্রিম প্রজননের ফলে পোনার মধ্যে ইনব্রিডিং (আত্মীয় সম্পর্কের মধ্যে প্রজনন) এবং হাইব্রিডাইজেশনের (সংকরায়ণ) সৃষ্টি হয়। ফলে উৎপাদন কমার পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব দিন দিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু হিমায়িত মাছের শুক্রাণু দিয়ে প্রজনন করালে দেশীয় প্রজাতির এসব মাছ বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পাবে।
গবেষণায় সহকারী হিসেবে ছিলেন ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী সংকর কুমার সাহা, মো. ফজলে মনোয়ার সরকার, মো. আবুল কালাম আজাদ ও মনিরুজ্জামান।

সূত্রঃ প্রথম আলো

কাঁকড়া পালন

Sunday, August 15, 2010


খুলনাপাইকগাছার কপোতাক্ষ পারের শিববাটি এলাকা। নদীর ধারের এ জায়গাটিতে অনেক ঘের, কেউ কেউ আবার পুকুরও বলে থাকে। এলাকাবাসী এসব ঘের বা পুকুরে দীর্ঘদিন ধরে কাঁকড়ার চাষ করছে। এমনই একজন চাষি রঞ্জন কুমার মণ্ডল (৩৮)।
কয়েক বন্ধুর সঙ্গে মিলেমিশে তিনি ব্যবসা শুরু করেছিলেন। যৌথ কারবারে সুবিধা করতে না পেরে নিজে হ্যাচারি করার উদ্যোগ নেন। এতেও নানা রকম বিপত্তি দেখা দেয়। এমন সময় পাইকগাছা নোনা পানি গবেষণা কেন্দ্র থেকে কাঁকড়া চাষের ওপর কয়েক দফা প্রশিক্ষণ নেন। শুরু করেন কাঁকড়া ফ্যাটেনিং বা কাঁকড়ার চাষ।

নিজের পাঁচ কাঠা জমির ওপর একটি পুকুরে তিনি কাঁকড়ার চাষ করছেন। তাও ১০-১২ বছর হবে। এই সময়ে তিনি এটাই করেন। এটাই তাঁর আয়ের একমাত্র পথ। স্ত্রী, একটি ছেলে, একটি মেয়ে এবং মাকে নিয়ে তাঁর পাঁচ সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণ; ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ তাতেই চলে। কেমন আয় হয়-জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, 'আয় সব সময় সমান হয় না। কখনো বেশি হয়, কখনো কম হয়। তবে যা-ই হয়, তাতে সংসার চলে যায়।' টাকার অঙ্কে এ আয়ের পরিমাণ কেমন, জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, 'মাসে পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকা আয় হয়।'
আয়ের হেরফের সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, 'গত সপ্তাহেও (মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে) তিনি কাঁকড়া বিক্রি করেছেন প্রতি কেজি ৭০০ টাকা দরে। আর বর্তমানে (জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ) এর দাম ৪০০ টাকা। এই দাম কমে যাওয়া মানে আয় কম হওয়া। কারণ, উৎপাদন খরচ তো কমছে না, বরং দিন দিন বাড়ছে।'

এখানকার প্রায় সবাই সারা বছর কাঁকড়ার চাষ করে। তবে ১০ বছরেরও বেশি সময়ের কাঁকড়াচাষি রঞ্জন জানান, 'জ্যৈষ্ঠ থেকে অগ্রহায়ণ মাস পর্যন্ত কাঁকড়ার ভালো চাষ হয়।' অপুষ্ট কাঁকড়া, যেগুলো রপ্তানি করা যায় না, সেগুলো তিনি ফড়িয়াদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে তাঁর ঘেরে ছাড়েন। সেগুলোকে পুষ্ট করে বাজারে বিক্রি করেন। কিঙ্কর মণ্ডলও একইভাবে কাঁকড়া চাষ করেন। শিববাটি এলাকায় বিঘাখানেক জমির ওপর তাঁর সাতটি পুকুর, যাতে তিনি কাঁকড়া চাষ করে চলেছেন বছর দশেক হবে। তিনি বলেন, 'আয় খারাপ না, চলে যায়।' যেহেতু কাঁকড়া রপ্তানি হয়, সেহেতু কাঁকড়া মরে গেলে ক্ষতি বেশি। আর দাম সব সময় ওঠানামা করে। এই দাম ওঠানামা বিদেশের বাজারের কারণে নাকি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে হয়, তা তাঁরা জানেন না।

একদা যে বাঁধ দেওয়া হয়েছিল নোনা পানি ঠেকানোর জন্য, পরবর্তী সময়ে সেই বাঁধ কেটে নোনা পানি প্রবেশ করিয়ে চিংড়ি চাষ শুরু হয়। স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে শুরু হওয়া এই চিংড়ি চাষ ছিল বাঁধের বাইরে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ এলাকায়। বিদেশি বাজার এবং অধিক মুনাফা থাকায় ১৯৮২-৮৩ সালের দিকে এর পসার বাড়তে থাকে। ধীরে ধীরে সাতক্ষীরা, খুলনা এবং বাগেরহাট জেলায় চিংড়ি চাষের সস্প্রসারণ ঘটে। সামাজিক দ্বন্দ্ব-সংঘাত-বৈরিতা ছাড়াও নোনা পানি আটকে বছরের পর বছর চিংড়ি চাষ করায় মাটি ও পানিতে ভয়াবহ মাত্রায় লবণাক্ততা বেড়েছে। আর নোনার প্রতিক্রিয়ায় কৃষি উৎপাদনে ধস নেমেছে।

লবণাক্ততার কারণে কেউ চাইলেও সহসা এসব জমিতে চিংড়ি চাষের পরিবর্তে অন্য কিছু চাষ করতে পারে না। জমি অন্য ফসল চাষের উপযোগী হতে কমপক্ষে এক বছর সময় লাগবে এবং প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হতে হবে, যাতে বৃষ্টির পানির চাপে মাটির লবণাক্ততা ধুয়ে এবং মাটির গভীরে গিয়ে মাটির ওপরের স্তরের লবণাক্ততা কমে যেতে পারে। একবার যে জমি চিংড়ি চাষের আওতায় আসে, তা আর চিংড়ি চাষমুক্ত হতে পারে না। বরং চিংড়ি চাষের ফলে পাশের জমিও লবণাক্ততার শিকার হয় এবং ওই জমির ফসল উৎপাদন ক্ষমতা ক্রমশ হ্রাস পায়। এতে পরের মৌসুমে পাশের জমিতেও চিংড়ি চাষ করা ছাড়া গত্যন্তর থাকে না। এভাবেই চিংড়ি চাষ এলাকার সম্প্রসারণও ঘটেছে।

এই অতিরিক্ত মাত্রার নোনা পানিতে অনেকেই কাঁকড়ার চাষ বা ফ্যাটেনিং করছেন। অবশ্য, কাঁকড়ার চাষ ও ফ্যাটেনিংয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে কাঁকড়া ফ্যাটেনিংকেই চাষ নামে অভিহিত করা হয়। কাঁকড়ার চাষ বলতে ছোট আকারের কাঁকড়াকে মোহনাঞ্চলের ঘেরে তিন থেকে ছয় মাস রেখে বাজারে বিক্রি করার উপযুক্ত করাকে বোঝায়। এ ক্ষেত্রে কাঁকড়া খোলস পাল্টাবে এবং কাঁকড়ার বৃদ্ধি হবে। পক্ষান্তরে ফ্যাটেনিংয়ের ক্ষেত্রে বাজারে বিক্রির উপযুক্ত আকারের অপরিপক্ব কাঁকড়াকে দুই থেকে চার সপ্তাহ ঘেরে রেখে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে কাঁকড়ার বিশেষ কয়েকটি জৈবিক বৈশিষ্ট্য তৈরি হয়। এই সময়ে কাঁকড়া খোলস পাল্টাবে না এবং বৃদ্ধিও হবে না।

অপরিপক্ব স্ত্রী কাঁকড়ার (গোনাড পরিপুষ্টভাবে তৈরি হয়নি এমন কাঁকড়া) আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা নেই বিধায় এগুলোকে ঘেরে দুই থেকে চার সপ্তাহ রেখে ভালো খাবার সরবরাহ করা হয় যাতে এগুলো পরিপক্ব হয় অর্থাৎ গোনাড পরিপুষ্টভাবে তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে এই পরিপক্ব স্ত্রী কাঁকড়ার চাহিদা ও মূল্য অনেক বেশি। কাঁকড়া সাধারণত মাংসাসি খাবার যেমন শামুক, ঝিনুক, চিংড়ি ও অন্যান্য কাঁকড়া এবং মাছ খেতে পছন্দ করে।

পুকুর নির্বাচন কাঁকড়ার জন্যে দো-আঁশ বা পলি দো-আঁশ মাটি সবচেয়ে ভালো। পুকুরের আয়তন ০.১-১.০ হেক্টরের মধ্যে হলে ভালো হয়। পুকুরের আয়তন ছোট হলে কাঁকড়া মজুদ করতে সুবিধা হয়। তা ছাড়া ব্যবস্থাপনার দিক দিয়েও সুবিধা। নোনা পানির উৎসস্থল যেমন_নদী বা সমুদ্রের কাছে হলে খুবই ভালো হয়। এতে জোয়ার-ভাটার সঙ্গে পানি ওঠানো-নামানো যায়। পুকুরের পানি উত্তোলনের জন্য গেট থাকা ভালো। কাঁকড়ার পলায়নপর স্বভাবের জন্য প্রায় ১ দশমিক ৫ মিটার উচ্চতার বাঁশের বানা (পাটা) দিয়ে পুকুরের চারপাশ ঘিরে ফেলা হয়। বানা প্রায় আধা মিটার মাটির নিচে পুঁতে দিতে হয়, যাতে কাঁকড়া পুকুরের পাড় গর্ত করে পালিয়ে যেতে না পারে। মাটির পিএইচের ওপর ভিত্তি করে পাথুরে চুন (CaCO3) গুঁড়া করে সারা পুকুরে ছিটিয়ে দেওয়া হয়। মাটির পিএইচ ৭ থেকে ৭ দশমিক ৫-এর মধ্যে থাকলে হেক্টরপ্রতি ১২৫ কেজি পাথুরে চুন দিতে হবে। চুন ছিটানোর পর পুকুরে জোয়ারের পানি তুলতে হবে এবং সাত দিন পর হেক্টরপ্রতি ৭৫০ কেজি জৈবসার (গোবর) প্রয়োগ করতে হবে। জৈবসার প্রয়োগের তিন দিন পর হেক্টরপ্রতি ২৫ কেজি ইউরিয়া এবং ১৫ কেজি টিএসপি সার প্রয়োগ করা হয়। অজৈব সার প্রয়োগের তিন থেকে চার দিন পর পুকুরে কাঁকড়া মজুদ করা হয়।

মজুদ ও খাদ্য ফ্যাটেনিংয়ের জন্য প্রতি হেক্টর ঘেরে ১০ হাজারটি অপরিপক্ব স্ত্রী কাঁকড়া মজুদ করা যায়। কাঁকড়ার ওজন ১৮০ গ্রাম বা তার বেশি হলে ভালো হয়। কারণ এ ওজনের কাঁকড়ার দাম সবচেয়ে ভালো পাওয়া যায়। মজুদের পর কাঁকড়ার জন্য নিয়মিত খাবার দিতে হবে। কাঁকড়ার খাবার হিসেবে শতকরা ২৫ ভাগ তেলাপিয়া মাছ এবং ৭৫ ভাগ গরু-ছাগলের ভুঁড়ি অথবা শতকরা ৫০ ভাগ তেলাপিয়া মাছ এবং ৫০ ভাগ বাগদা চিংড়ির মাথা (মাংসল অংশ) প্রতিদিন পুকুরে সরবরাহ করতে হবে। কাঁকড়ার দেহের ওজনের আট ভাগ হারে প্রথম সাত দিন এবং পরবর্তী দিনগুলোতে পাঁচ ভাগ হারে খাবার সরবরাহ করলেই প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়। ফ্যাটেনিংয়ের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি নয়, বরং গোনাডের পরিপুষ্টতাই মুখ্য বিষয়।

পানি পুকুরে কাঁকড়ার খাবার হিসেবে প্রচুর পরিমাণে প্রাণিজ মাংসল খাদ্য সরবরাহ করতে হয়, যা দ্রুত পচনশীল। তাই কাঁকড়ার পুকুরের পানির গুণাগুণ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বেশি। প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার সরবরাহ করলেও পানি নষ্ট হতে পারে। পানির গুণাগুণ যাতে নষ্ট না হয় সে কারণে এবং প্রয়োজনবোধে অমাবশ্যা বা পূর্ণিমার ভরা জোয়ারের সময় চার থেকে সাত দিন কাঁকড়ার পানি পরিবর্তন করতে হবে।

স্ত্রী কাঁকড়ার গোনাড পরীক্ষা ও আহরণ কাঁকড়া মজুদের ১০ দিন পর থেকে দুই-তিন দিন পর পর কাঁকড়ার গোনাড পরিপুষ্ট হয়েছে কি না তা পরীক্ষা করতে হয়। কাঁকড়াকে আলোর বিপরীতে ধরে দেখতে হবে যে, কাঁকড়ার ভেতর দিয়ে আলো অতিক্রম করে কিনা। যদি কাঁকড়ার ভেতর দিয়ে আলো অতিক্রম করতে না পারে তাহলে বুঝতে হবে গোনাড পরিপুষ্ট হয়েছে। বিপরীতে গোনাড পরিপুষ্ট না হলে কাঁকড়ার দুই পাশের পায়ের গোড়ার দিক দিয়ে আলো অতিক্রম করবে। সাধারণত গোনাড পরিপুষ্ট হলে পুকুরে পানি ওঠানোর সময় কাঁকড়া গেটের কাছে চলে আসে। পুষ্ট কাঁকড়া স্কুপনেট বা টোপ দিয়ে প্রলুব্ধ করে ধরতে হবে। কাঁকড়া সম্পূর্ণভাবে আহরণের জন্য পুকুরের পানি নিষ্কাশন করতে হবে। ধরার সঙ্গে সঙ্গে কাঁকড়াকে বিশেষ নিয়মে বেঁধে ফেলতে হবে। অন্যথায় কাঁকড়ার চিমটা পা ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। খুলনার পাইকগাছা ও সাতক্ষীরার দেবহাটায় কাঁকড়া চাষ বা ফ্যাটেনিং বহুল প্রচলিত। অনেক মানুষই এখন বিকল্প আয়ের চিন্তা থেকে কাঁকড়া ফ্যাটেনিং বা কাঁকড়ার চাষ করছে। তাদের আয়ও খারাপ হচ্ছে না।

বর্তমান কাঁকড়া চাষের পরিস্থিতি, বাজার ও প্রতিবন্ধকতা এখনও পর্যন্ত যথার্থভাবে কাঁকড়া চাষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেনি৷ প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, যথাযথ প্রশাসনিক নীতি এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শদান, আর্থিক সহায়তার সঠিক প্রয়োগের অভাবে বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত খুব অল্প জলাশয়েই কাঁকড়া চাষ হয়ে থাকে৷ সঠিক নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে বৈদেশিক বাণিজ্যিক সম্ভাবনার দরজা খুলে দেওয়া সম্ভব৷ কিন্ত্ত তার জন্য কিছু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এই মুহূর্তের জরুরী ৷

(১) কৃত্রিম ভাবে কাঁকড়ার ডিম ফোটানোর ব্যবস্থা করা, যাতে কাঁকড়া মজুতের সময় জোগান স্বাভাবিক থাকে ৷
(২) ৪০-৮০ গ্রামের জুভেনাইল কাঁকড়াগুলিকে বাজারে সরাসরি (দালালের মাধ্যমে নয়) বিক্রযোগ্য করে তোলা৷ আমরা সুন্দরবনে সামুদ্রিক কচ্ছপ ও অন্যান্য জীববৈচিত্রের উপস্থিতি সমীক্ষা করে দেখার সময় দেখা গেছে প্রতি বছর শীতকালীন অস্থায়ী বাজার তৈরী হয় বিভিন্ন খালের মুখে, সপ্তমুখীর কাছে৷ বাজার মানে দু-তিনটি নৌকা এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে৷এই সব নৌকার কাঠের পাটাতনের তলায় বরফ রাখা থাকে ৷ কাঁকড়াধরারা বাঘের ভয়, কুমিরের ভয়, সাপের কামড়ের ভয় সাথে করে সারাদিন সারারাত খাঁড়িতে বসে কাঁকড়া ধরে, তারপর অল্প কিছু টাকার বিনিময়ে নৌকাশুদ্ধ কাঁকড়া বিক্রি করে দেয় এই সব অস্থায়ী ভাসমান বাজারে৷ অন্যান্য মাছ ধরা নৌকাগুলোও তাদের মাছ এখানে বিক্রি করে৷ এখান থেকে Middle Man বা দালালদের মাধ্যমে রূপালি ফসল পৌঁছায় বাজারে৷ জীবনের কোনরকম ঝুঁকি ছাড়াই এই মধ্যবর্তী বিক্রেতারা প্রকৃত মাছমারাদের থেকে দ্বিগুন লাভ লুটে নেয়৷ তাই সরকারি তরফ থেকে Co-operative তৈরী করে এদের আর্থিক অনুদান দিয়ে নিজেদের বাজার নিজেরাই যাতে তৈরী করতে পারে তার ব্যবস্থা করা যেতে পারে৷
(৩) সদ্য খোলস ছাড়া কাঁকড়া যা ওয়াটার ক্র্যাব নামে পরিচিত এবং অপরিণত স্ত্রী কাঁকড়াগুলিকে প্রজনন অবস্থা পর্যন্ত পালন করা বা ফ্যাটনিং করার জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা করা ৷
(৪) রপ্তানিযোগ্য কাঁকড়াগুলির সঠিক বাজারের ব্যবস্থা করা৷ বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত বাজার, রাস্তা ও মিষ্টি জলের ব্যবস্থা আরও রপ্তানিকারকদের ডেকে নিয়ে আসবে- এটা নিশ্চিত ৷
(৫) জীবিত অবস্থায় ও প্রক্রিয়াজাত অবস্থায় কাঁকড়ার সঠিক রপ্তানীর ব্যবস্থা করা৷এর জন্য ইনস্যুলেটড/পারফোরেটেড অর্থাত ছিদ্রছাড়া এবং ছিদ্রযুক্ত পরিবহন ব্যবস্থা প্রয়োজন৷ প্রয়োজন ছোট ছোট দ্বিচক্রযানের (Two wheller) গাড়ী যা কিনা শুধুমাত্র এই ফসল পরিবহনের জন্য বিশেষভাবে নক্সা করা ৷

কাঁকড়া চাষের সতর্কতা (১) কাঁকড়া চাষের পুকুরের তলায় জমে থাকা বিষাক্ত ক্ষতিকর গ্যাস শুষে নেওয়ার জন্য উপযক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করতে হবে৷ জিওলাইট প্লাস দিতে হবে প্রতিটি ফ্যাটিনিং চাষের পর৷ এরা যেহেকু জীবিত খাবার এবং প্রোটিনযুক্ত খাবার খায় ফলতঃ খামারের তলায় অভুক্ত খাবার থেকে গ্যাস তৈরী হতে পারে৷ উপযুক্ত রাসায়নিক দিয়ে সেই অবাঞ্ছিত গ্যাসকে শোষণকরা সম্ভব হবে৷ প্রতি দু’বার ফসল তোলার পর পুকুরের তলায় জমে থাকা পলি তুলে ফেলে CaO বা পাথুরে চুন দিয়ে সাতদিন পুকুর ফেলে রাখার পর আবার জল ঢোকাতে হবে ৷
(২) কাঁকড়া গর্ত কেটে একস্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যেতে পারে৷ এই স্থানান্থর এড়াতে স্লুইশ গেট সহ খামারের চারদিকে বাঁশের পাটা ও নাইলন জালের বেড়া দিতে হবে, যা মাটির নিচে অন্ততঃ ২ফুট এবং মাটির উপরে অন্ততঃ ৩ফুট থাকবে৷ প্লাস্টিক সীট পাড়ের ওপর দিয়ে তার ওপর মাটি দিয়ে পাড় তৈরী করলেও কাঁকড়া পাড় ফুটো করে চলে যেতে পারবে না ৷

যেহেতু কাঁকড়া একে অপরকে খেয়ে ফেলতে পারে এই প্রবণতা এড়ানোর স্বর্থে নিয়মিত অতিরিক্ত খাদ্যের যোগান রাখা জরুরী৷ খোলক যত তাড়াতাড়ি শক্ত হবে ততই বিক্রয় উপযোগী হবে, সেই কারণে জলের গুণাগুণ উপযুক্ত মাত্রায় রাখা জরুরী৷ খামারে নরম কাঁকড়াগুলির প্রয়োজনীয় লুকানোর জায়গা রাখা জরুরী৷ ভাঙ্গা পাইপ, অব্যবহৃত টায়ার ইত্যাদি ব্যবহৃত হতে পারে লুকানোর আস্তানা হিসাবে, ১৫ সেমিঃ ব্যাসার্ধের লম্বা পাইপের টুকরাগুলি খামারের তলদেশে ছড়িয়ে রাখতে হবে৷ খামারের মাঝখানে উঁচু মাটির ঢিবি বানিয়ে তাতে লবণাম্বু উদ্ভিদের কিছু চারা যেমন বাণী, হেঁতাল, গেঁওয়া লাগালে কাঁকড়া যেমন স্বচ্ছন্দ বোধ করে তেমনি জলের অতিরিক্ত খাদ্য শোষণ করে নিয়ে জলকে দূষণমুক্ত রাখে৷ কাঁকড়া বিক্রিযোগ্য হলে গোণ বা কোটাল-এর সময় আঁটেলি বসিয়ে তা ধরা যেতে পারে অথবা দোন লাগিয়েও ধরা হয় ৷

কাদা কাঁকড়ার পরিবহন ফসল আহরণ পরবর্তী পরিবহন- আহরিত কাঁকড়া বাজারে নিয়ে যাবার আগে প্রতিটিকে বাঁধা হয় সরু নাইলন বা প্লাস্টিকের দড়ি অথবা ভিজে খড় দিয়ে, তার পরে ঝুড়িতে রাখা হয়৷ ঝুড়িগুলি ভিজে চটে বস্তা চাপা দেওয়া থাকে৷ যাতে জলীয়ভাব বজায় থাকে৷ এই ধরণের ঝুড়িতে যত বেশি বাতাস চলাচল করবে, তত বেঁচে থাকার হারও বাড়বে৷ পরিবহনের সময় জলীয়ভাব ঠিক রাখতে পারলে এক সপ্তাহ পর্যন্ত কাঁকড়াগুলি বেঁচে থাকে সর্বোপরি পরিবহনের সময় কখনই সরাসরি সূর্য়ের আলো না পড়াই ভালো ।

৫০ সেমিঃ ব্যাসার্দ্ধের একটি ঝুড়িতে প্রায় ৩০০-৫০০ গ্রাম কাঁকড়া (যার ক্যারাপেস ২.৫ সেমিঃ চওড়া) পরিবহন সম্ভব৷
যেহেতু শ্যাওলা/ ঝাঁঝি পচনশীল তাই অনেকসময় দূরবর্তী স্থানে ১০০% জীবিতপরিবহনের স্বার্থে মোহনার জলে তুলা ভিজিয়ে কাঁকড়া পরিবহনের ঝুড়িতে দিলে কাঁকড়ার নড়াচড়াও বন্ধ হবে৷ ভিজে কাঠের ভূষি প্রয়োগ করেও সুফল পাওয়া যায় কাঁকড়া রপ্তানীর ক্ষেত্রে৷ ৫০-১২০মিমি. চওড়া তার প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে আহরণের পর খোলামুখ পাত্রে ২০-৫৩ কিমি. সড়কপথে পরিবহন করে ৫৫-১০০% বাঁচার হার লক্ষ্য করা গেছে৷

বিশ্বকৃষি এবং খাদ্য সংস্থা (FAO) এর ১৬২ নং ধারা অনুযায়ী ২০০ গ্রামের কম এবং ১০ সেমি. এর কম চওড়া ক্যারাপেসওলা কাঁকড়া রপ্তানী যোগ্য নয়৷
কাঁকড়ার মোট ওজনের ৩৬-৩৮% দাঁড়া ও পা৷ ২২-২৪% খোলক, দেহের বাকী অংশে প্রাপ্ত মাংস ২৯-৩৬% ৷ আবার দাঁড়া ও পা-এর মধ্যে মাংসের পরিমাণ ৩৩-৪২%, যা পুরোটাই মাংসজ প্রোটিন হিসাবে খাওয়ার যোগ্য৷ মাংসের মধ্যে ভাল মাত্রায় প্রোটিন ও মুক্ত আমিনো আসিড আছে৷ প্রসেসিং সেন্টারে প্রাপ্ত কাঁকড়ার খোলস থেকে যে সমস্ত ব্যবসায়িক গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক পাওয়া যায় সেগুলি হল কাইটিন, কাইটোসান এবং গ্লুকোস আমিনো হাইড্রোক্লরাইড, বিশ্বের বাজারে যার মূল্য অপরিসীম৷

কাইটিন কাইটিন একটি প্রাকৃতিক জৈবরাসায়নিক পদার্থ যা আদপে শর্করার দীর্ঘশৃঙ্খল৷ বিভিন্ন প্রাণীর (যেমন চিংড়ি, কাঁকড়াইত্যাদির) বহিঃকঙ্কালে (খোলক) এটি প্রচুর পরিমাণে উপস্থিত থাকে৷ জাপানে কাইটিন খাদ্য হিসাবে ব্যবহার হয়৷ রোগ প্রতিষেধক ক্ষমতা বাড়াতে, বার্ধক্যের বিলম্বিত করতে, আরোগ্য লাভের পথে এবং জৈবছন্দ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে৷

উত্স- কবচী প্রাণীর খোলকই এর প্রধান উত্স৷ প্রকৃতপক্ষে কাঁকড়া ও চিংড়ির Processing Industry-র উদ্বৃত্ত খোলকজাত দূষণ নিয়ন্ত্রণের চিন্তা থেকেই কাইটিন শিল্পের ধারণা জন্মায়৷ বাগদার মাথার খোলকে ৩৯ শতাংশ এবং দেহের খোলকে ৩৬.৫ শতাংশ কাইটিন বর্তমান৷ কাদা কাঁকড়ার (Scylla serrata) দেহের খোলকে ১১.৭ শতাংশ, দাঁড়ায় ১০.৪ শতাংশ এবং উপাঙ্গে ১৬.১ কাইটিন পাওয়া যায়৷

প্রস্ত্ততি পদ্ধতি- কবচী প্রাণীর খোলকে কাইটিন ছাড়াও খনিজ পদার্থ ও প্রোটিন থাকে৷ প্রস্তুত প্রণালীর নীতি হল কাইটিনকে বাকী পদার্থ থেকে আলাদা করা৷
১) প্রথমে কাঁকড়ার খোলাকে গুঁড়ো করা হয়৷
২) গুঁড়ো পদার্থকে সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড দিয়ে বিক্রিয়া ঘটানো হয়৷ বিক্রিয়াজাত পদার্থকে ভাল করে ধুয়ে নেওয়া হয়৷ এর ফলে প্রোটিন পদার্থ মুক্ত হয়৷
৩) এর পর হাইড্রোক্লোরিক আসিডের সঙ্গে বিক্রিয়ার খনিজ পদার্থকে আলাদা করা হয়৷
৪) বিক্রিয়াজাত পদার্থ ধুয়ে আলাদা করে শুকিয়ে প্যাকিং করে রাখা হয়৷ এইভাবে প্রাপ্ত কাইটিন বহুদিন সংরক্ষণ করা যায়৷

পশ্চিমবঙ্গের সমুদ্র উপকূলে নানা প্রজাতির কাঁকড়া পাওয়া যায় যার মধ্যে কাদা কাঁকড়ার চাষ করা লাভজনক৷ বিশ্ববাজারে কাদা কাঁকড়ার চাহিদাও প্রচুর৷ এই অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে কাদা কাঁকড়া বা মেকো পাওয়া যায়৷ এগুলোকে সংগ্রহ করে দুধরনের কাঁকড়া চাষের মডেল খামার করা সম্ভব হয়েছে৷
সুন্দরবন এলাকায় জোয়ারভাটা প্লাবিত অঞ্চলে মাঝারি আকৃতির পুকুর (৪০মি.-৫০মি. লম্বা এবং ২০মি.- ২৫মি. চওড়া) খুঁড়ে খামার তৈরী করা হয়েছে৷ এইভাবে খনন করা পুকুরের মাঝে একটি চর রাখা প্রয়োজন যা পুকুরের তলদেশে গিয়ে মিশবে৷ চরটির নীচের আয়তন হবে ৮মি.x৪মি. এবং জলের ওপর জেগে থাকা পৃষ্ঠের আয়তন হবে ৪মি.x২মি.৷ পুকুরের চারপাশ ভালভাবে বাঁশের বেড়া বা নাইলনের জাল দিয়ে ঘিরে দেওয়া দরকার৷ একপাশে একটি জলবাহি নালা ও অপরপাশে নির্গমন নালা থাকবে ও এদের মুখ বাঁশের জাল দিয়ে আটকান থাকবে৷ জোয়ারের সময় জল জলবাহী নালা দিয়ে পুকুরে আসবে৷ পুকুরের মাঝের চরটির উচ্চতা এমন হবে যেন জোয়ারের সময় চরটি ডুবে যায় ও অন্য সময় জেগে থাকে৷ এই এলাকাতে কাঁকড়ারা গর্ত করে থাকে ও তাদের খাবার দেওয়া হয়৷ চর এলাকা ও পুকুরের চারপাশে কয়েকটি লবণান্বু উদ্ভিদ (ম্যানগ্রোভ) লাগানো দরকার, এতে কাঁকড়ার স্বাভাবিক বাসস্থান তৈরী হয়৷ এক্ষেত্রে জলের গভীরতা ১.৫মি.-২মি. রাখা দরকার৷

২-৩ সেমি. আকারের শিশু কাঁকড়া বিঘা প্রতি ৬০০-৬৫০টি চাষের পুকুরে ছাড়া হয়৷ লবণাক্ততা থাকা উচিত ৫-২০ পি.পি.টি.৷
যেহেতু এরা খাবার না থাকলে একে অপরকে খেযে ফেলে তাই নিয়মিত এদের খাবার দেওয়া দরকার৷ কাঁকড়া নিশাচর প্রাণী বলে সন্ধ্যার দিকে খাবার দেওয়া ভাল৷ এছাড়া জোয়ারের জলেও প্রচুর পরিমাণে কাঁকড়ার খাবার ভেসে আসে৷
কাঁকড়ারা ৫-৬ মাসে ২৫০-৩০০ গ্রাম ওজন লাভ করে তখন এদের ধরে বিক্রী করা যায়৷
কাদা কাঁকড়া ৫-৫০ পি.পি.টি. লবণাক্ততা সম্পন্ন জলে বেঁচে থাকতে পারে৷ কাঁকড়া চাষের জন্য যে জলাশয় নির্দিষ্ট করা হয় তাতে জোয়ার ভাঁটার আনাগোনা থাকলে ভাল৷

কাঁকড়ার খোলক শক্তকরণ চাষ (নরম কাঁকড়ার শক্ত হওয়া) এই ধরনের চাষের ক্ষেত্রে সদ্য খোলক বদলেছে এমন নরম কাঁকড়া সংগ্রহ করে তাদের ২০-৩০ দিন খামারে প্রতিপালন করা হচ্ছে৷ এর ফলে কাঁকড়ার খোলক শক্ত হয় এবং পুরুষ কাঁকড়া মাংসে ও স্ত্রী কাঁকড়া ডিম্বাশয়ে পরিপূর্ণ হয়৷ এই অবস্থায় কাঁকড়াগুলো বিভিন্ন রপ্তানীকারক সংস্থা কিনে নিচ্ছে৷ কাঁকড়ার খোলক শক্তকরণ খুবই লাভজনক, কারণ অতি অল্পসময়ে কম বিনিয়োগে প্রচুর লাভ করা যায়৷ প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে পরিপক্ক স্ত্রী কাঁকড়ার বাজারদর পুরুষ কাঁকড়ার চেয়ে অনেক বেশী৷

প্রকল্পাধীন খামারে চাষীরা নরম কাঁকড়া স্থানীয় বাজার থেকে সংগ্রহ করে প্রতিবর্গ মিটারে ২-৩টি করে কাঁকড়া ছাড়েন৷ স্ত্রী ও পুরুষ কাঁকড়া আলাদা আলাদা পুকুরে ছাড়া হয়৷ ছাড়ার সময় স্ত্রী কাঁকড়াগুলি ১৮০-২০০ গ্রাম ও পুরুষ কাঁকড়াগুলির ওজন ৩০০ গ্রাম ছিল৷ কাঁকড়াগুলিকে দৈনিক দেহের ওজনের ১০% হারে খেতে দেওয়া হচ্ছে৷ এই খাবার দুবার দেওয়া হচ্ছে৷ খাবারের মধ্যে মূলত শুকনো ও পরিত্যক্ত মাছ ও মাছের টুকরো ব্যবহার করা হয়েছে৷ নিয়মিত জল পরিবর্তন”খোলক শক্তকরণ” চাষের অত্যন্ত জরুরী বিষয়৷ মাঝে মাঝে,চুন ও জিওলাইট প্লাস ও পুকুরে দেওয়া হয়৷ দুটি চাষের মাঝে ১৫-২০ দিন অন্তর রাখা দরকার৷ সম্ভব হলে পুকুর শুকিয়ে পাঁক তুলে দেওয়া দরকার৷ নতুন জল ঢোকানোর পর জলের লবনাক্ততা, পি.এইচ., দ্রবীভূত অক্সিজেন ইত্যাদি দেখে কাঁকড়া ছাড়তে হবে৷

কাঁকড়ার বৃদ্ধিকরণ চাষ: দেড় থেকে দুইঞ্চি সাইজের শিশু কাঁকড়া স্থানীয় সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে কিনে খামারের পুকুরে প্রতি বর্গ মিটারে ৪টি সংখ্যায় ছাড়া হচ্ছে৷ কাঁকড়াগুলিকে দিনে দুবার শুকনো ও পরিত্যক্ত মাছ খাবার হিসাবে দেওয়া হচ্ছে৷ তিন খেকে চার মাসে কাঁকড়াগুলি ২০০-২৫০ গ্রাম ওজন প্রাপ্ত হলে তাদের বাজারজাত করা হচ্ছে৷
কাঁকড়ার একটি বৈশিষ্ট্য হল একে অপরকে খেয়ে ফেলা৷ সেজন্য চাষের পুকুরে কাঁকড়ার লুকোবার জায়গা হিসাবে পি.ভি.সি. পাইপ, ফাঁপা বাঁশের টুকরো ইত্যাদি রাখা হয় যাতে তারা আক্রমণকারী কাঁকড়ার থেকে বাঁচার জন্য আশ্রয় নিতে পারে৷ কাঁকড়া খামারের পুকুরগুলির চারপাশের নাইলন জাল ও পলিথিন শীট দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়৷ এছাড়া কাঁকড়াগুলিকে ছাড়ার আগে ০.৫% মিথিলিন ব্লু দ্রবণে দশমিনিট ডুবিয়ে নিয়ে তবে ছাড়া হয়৷ এর ফলে কাঁকড়ার দেহে কোন রোগ জীবাণু থাকলে তা খামারের জলে সংক্রমণ হবার আশঙ্কা থাকে না৷ প্রতিটি কাঁকড়া খামারে জল পরিবর্তনের ব্যবস্থা ছিল৷

মনোসেক্স গলদা চিংড়ি চাষঃ গুরুত্ব ও সম্ভাবনা


ভূমিকা
মনোসেক্স গলদা চিংড়ি চাষ ধারণাটা আমাদের দেশে একেবারেই নতুন। এমনকি অনেকে হয়তো মনোসেক্স গলদা চিংড়ি চাষ শব্দটার সঙ্গে খুব বেশি পরিচিতও নন। গলদা চিংড়ির ইউনিট প্রতি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গলদা চিংড়ি চাষের এই নতুন কলাকৌশল সকলের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া দরকার। এদেশের মাটি, পানি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ গলদা চিংড়ি চাষের জন্য খুবই উপযোগী হওয়ায় আমাদের দেশে গলদা চাষ দ্রুত সমপ্রসারিত হচ্ছে। অর্থনৈতিক দিক থেকে গলদা চিংড়ি চাষ খুবই লাভজনক হওয়ায় তা চাষিদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে গলদা চিংড়ি চাষের অবদান অনস্বীকার্য। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০০৬-২০০৭ অর্থ বছরে মৎস্য খাতের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ২৩% এসেছে গলদা চিংড়ি থেকে। বর্তমানে আমাদের দেশে প্রায় ১,৪৫,০০০ হেক্টর জমিতে গলদা চিংড়ি চাষ হচ্ছে। আর সেখানে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিয়োজিত আছে কয়েক লক্ষ শ্রমিক। সত্তর এর দশক হতে আমাদের দেশে গলদা চিংড়ি চাষ শুরু হয়ে বর্তমান সময় পর্যন্ত খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, যশোর, নড়াইল, পিরোজপুর, বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় চিংড়ি চাষ সমপ্রসারিত হয়েছে এবং প্রতিদিন নতুন নতুন চিংড়ি ঘের তৈরি হচ্ছে। মিঠা পানিতে এই চিংড়ি চাষ করা যায় বলে এটি বাংলাদেশের টেকনাফ হতে শুরু করে তেতুলিয়া পর্যন্ত যে সমস্ত জলাশয়ে বছরের ৬ মাস বা অধিক সময় ২-৩ ফুট পর্যন্ত পানি থাকে সেখানে গলদা চিংড়ি চাষ করা যায়। তাই অমিত সম্ভাবনাময় এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা দরকার। গলদা চিংড়ি চাষের আধুনিক কলাকৌশল ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। প্রচুর সম্ভাবনা থাকা সত্বেও বিশ্বের অন্যান্য চিংড়ি উৎপাদনকারী দেশের তুলনায় আমাদের দেশের গড় উৎপাদন অনেক কম। আমাদের দেশের চাষিরা এখন পর্যন্ত সনাতন বা উন্নত সনাতন পদ্ধতিতে গলদা চাষ করে আসছেন। যার ফলে গলদা চিংড়ি ঘেরের আয়তন বৃদ্ধি পেলেও উৎপাদন কাঙ্খিত পর্যায়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে না। অথচ ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে খাদ্যশস্য ও অন্যান্য জিনিসের উপর যে চাপ পড়ছে তা মোকাবিলার জন্য ইউনিট প্রতি উৎপাদন বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই। তাই মনোসেক্স গলদা চিংড়ি চাষ একটি সময়োচিত পদক্ষেপ। এই পদ্ধতিতে গলদা চিংড়ি চাষের মাধ্যমে মৎস্য শিল্পে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটিয়ে গলদা চিংড়ির বার্ষিক উৎপাদন বর্তমান উৎপাদনের তুলনায় কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব।

মনোসেক্স গলদা চিংড়ি চাষের ধারণা ও গুরুত্ব
মনোসেক্স গলদা চিংড়ি চাষ বলতে আলাদা আলাদা ভাবে শুধুমাত্র পুরুষ গলদা বা স্ত্রী গলদা চিংড়ি চাষ বুঝায়। আমাদের দেশের অধিকাংশ গলদা চিংড়ি চাষি ধান ক্ষেতে গলদা চিংড়ি চাষ করে থাকেন। বোরো ধান কাটার পর চৈত্র-বৈশাখ মাসে পুকুর তৈরি করে গলদার রেণু (পুরুষ-স্ত্রী একত্রে) ছাড়েন এবং শীত আসার আগে অর্থাৎ অগ্রহায়ণ/পৌষ মাসে চিংড়ি ধরে বিক্রি করেন। সেক্ষেত্রে ৬-৮ মাস পর্যন্ত গলদা চিংড়ি চাষের সময়। অনেক সময় সময়মতো রেণু (গলদা চিংড়ির পিএল) না পাওয়া বা চাষির ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে ঘেরে রেণু ছাড়তে দেরি হয় সেক্ষেত্রে চাষের সময় আরো কমে যায়। ফলে এই সময়ে চাষকৃত সকল গলদা চিংড়ি বিক্রির উপযোগী হয় না (স্থানীয় ভাষায় গ্রেডে আসে না)। সে ক্ষেত্রে চাষি আর্থিকভাবে ভীষণ ক্ষতিগ্রস্থ হন। এমনকি অনেক সময় চাষি গলদা চিংড়ি চাষে উৎসাহও হারিয়ে ফেলতে পারেন। সেক্ষেত্রে মানোসেক্স পদ্ধতিতে গলদা চিংড়ি চাষের মাধ্যমে এ সকল সমস্যা দূর করে উৎপাদন বৃদ্ধি করা যেতে পারে। গলদা চিংড়ির মধ্যে পুরুষ গলদা স্ত্রী গলদা চিংড়ির তুলনায় অতি দ্রুত বাড়ে ও ওজন অনেক বেশি হয়। প্রাকৃতিক ভাবে প্রাপ্ত একটি পুরুষ গলদা চিংড়ির ওজন ৪০০-৪৫০ গ্রাম পর্যন্ত হতে দেখা গেছে। অন্যদিকে স্ত্রী গলদা চিংড়ি ওজনে সর্বোচ্চ ১২০-১৫০ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। তাও অনেক সময়ের প্রয়োজন। গলদা চিংড়ি চাষে চাষিকে আর একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি নজর দিতে হয়। আর তা হলো গ্রেডিং পদ্ধতি। গ্রেডের সামান্য তারতম্যের কারণে চাষি আর্থিকভাবে ভীষণ ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারেন। একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি আরো পরিষ্কার হবে। ধরা যাক, একটি গলদা চিংড়ির ওজন (মাথাসহ) ৯০ গ্রাম। স্থানীয় গ্রেডিং পদ্ধতিতে এটি ২০ গ্রেডের মাছ এবং বর্তমান বাজার দর (২০ গ্রেডের মাছ ৪৫০ টাকা প্রতি কেজি) হিসাবে ঐ মাছটির দাম হবে ৪০.৫০ টাকা।
অন্যদিকে ঐ মাছটি আর মাত্র ১০ গ্রাম বেড়ে ১০০ গ্রাম হলে সেটি হবে ১০ গ্রেডের মাছ এবং বর্তমান বাজার দর (১০ গ্রেডের মাছ ৬৫০ টাকা প্রতি কেজি) হিসাবে ঐ মাছটির দাম হবে ৬৫ টাকা অর্থাৎ একটি মাছের ১০ গ্রাম ওজনের ব্যবধানে দামের পার্থক্য হচ্ছে ২৪.৫০ টাকা। আমাদের দেশের চাষিরা এই একটি ক্ষেত্রে দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। এই সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে মনোসেক্স গলদা চিংড়ি চাষ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। মনোসেক্স (সমস্ত পুরুষ) গলদা চিংড়ি চাষের মাধ্যমে যেমন প্রতিটি গলদা চিংড়ির একক ওজন বৃদ্ধি পায় তেমনি সামগ্রিক উৎপাদনও বৃদ্ধি পায়। এতে করে চাষি দুই দিকে উপকৃত হন।
১) প্রতিটি গলদা চিংড়ির একক ওজন বৃদ্ধির ফলে গলদা চিংড়ির আপ গ্রেডেশন ঘটে। আবার উচ্চতর গ্রেডে দামের অনেক বেশি পার্থক্য ঘটে। এক্ষেত্রে চাষি দারুণ উপকৃত ও লাভবান হতে পারেন।
২) সামগ্রিক উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে নীট মুনাফার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

মানোসেক্স গলদা চিংড়ি চাষের কলাকৌশল
পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, মনোসেক্স গলদা চিংড়ি চাষ মূলত সকল পুরুষ গলদা বা সকল স্ত্রী গলদা চিংড়ির পৃথক পৃথক চাষ পদ্ধতি। মনোসেক্স গলদা চাষ পদ্ধতিতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন বিশেষ করে যখন স্ত্রী-পুরুষ আলাদা করা হয়। এখন পর্যন্ত হ্যাচারীতে ১০০% পুরুষ বা ১০০% স্ত্রী গলদা চিংড়ির রেণু উৎপাদনের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। রেণু (পিএল) অবস্থায় গলদা চিংড়ির স্ত্রী-পুরুষ একত্রে থাকে এবং তা স্বাভাবিকভাবে পৃথক করা সম্ভব হয় না। এজন্য স্ত্রী-পুরুষ একত্রে নার্সারী পুকুরে চাষ করা হয়। এক্ষেত্রে একটি বিষয় স্মরণ রাখা প্রয়োজন যে, আমাদের দেশে গলদা চিংড়ি চাষে রেণু হতে কিশোর চিংড়ি (স্থানীয় ভাষায়-পিচ বলে) পর্যায় পর্যন্ত আসতে প্রায় ২ হতে আড়াই মাস বা কখনও কখনও তিন মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়। পরবর্তীতে চিংড়ি বিক্রি করতে আর মাত্র তিন মাস সময় বাকী থাকে। কারণ শীত শুরুর আগে চিংড়ি বিক্রি করতে না পারলে অনেক চিংড়ি ঘেরে পানির স্বল্পতা দেখা দেয় এবং শীতে চিংড়ি দৈহিক বৃদ্ধি হয় না বললেই চলে। তাই চাষিরা শীত মৌসুম শুরুর প্রাক্কালে ঘের হতে চিংড়ি বিক্রি শুরু করেন। কিন্তু যদি পিস হতে সময় বেশি লাগে তাহলে অবশিষ্ট সময়ে চিংড়ি কাঙ্খিত গ্রেডে পৌঁছায় না। এই অসুবিধা দূর করার জন্য নার্সারী ব্যবস্থাপনার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা প্রয়োজন। আবার অনেক চাষি রেণু নার্সারী না করেই সরাসরি ঘেরে ছেড়ে দেন। বিষয়টি মোটেও ঠিক নয়। নার্সারী পুকুরে উপযুক্ত পরিবেশ ও উন্নত পদ্ধতিতে চাষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রেণুকে যত দ্রুত সম্ভব পিচ (কিশোর) চিংড়িতে পরিণত করা প্রয়োজন। সাধারণত নার্সারী পুকুরে প্রতি শতাংশে ১০০০টি রেণু ছাড়া ভাল। রেণুর দ্রুত বৃদ্ধির জন্য উচ্চ প্রোটিন মান ও ক্যালরি সমৃদ্ধ সম্পূরক খাদ্য প্রয়োগ করা দরকার। নার্সারী পুকুরে চিংড়ি কিশোর অবস্থায় পৌছালে এটিকে পুরুষ-স্ত্রী আলাদা করা হয়। পূর্ণাঙ্গ গলদা চিংড়ির স্ত্রী-পুরুষ চেনার অনেক উপায় আছে যেমন স্ত্রী গলদা চিংড়ির চেয়ে পুরুষ গলদা চিংড়ি বেশি বাড়ে। তাই একই বয়সের পুরুষ চিংড়ি স্ত্রী চিংড়ির চেয়ে আকারে খানিকটা বড় হয়। শিরোবক্ষ (Cephalothorax) আকারে মোটা এবং বড় হয় আর নিম্নোদয় (Abdomen) অপেক্ষাকৃত সরু দেখায়। পুরুষ চিংড়ি সহজেই নজরে পড়ে এমন একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর দ্বিতীয় ভ্রমণপদ লম্বা, মোটা এবং দাঁড়া বিশিষ্ট। এই দ্বিতীয় বাহুর দ্বারা পুরুষ চিংড়ি স্ত্রী চিংড়িকে সঙ্গমকালে দৃঢ়ভাবে আলিঙ্গনে আবদ্ধ রাখে। স্ত্রী চিংড়ির মাথা ও দ্বিতীয় বাহু অপেক্ষাকৃত অনেকটা ছোট থাকে এবং নিম্নোদয়ের তলার দিকে ডিম ধারণের জন্য নিম্নোদয় অপেক্ষাকৃত চওড়া হয়। পিঠের খোলসগুলি বড় হয় এবং উভয় দিকে নেমে এসে ডিমগুলি ঢেকে রাখতে সাহায্য করে। পুরুষের জনন অঙ্গ পঞ্চম ভ্রমণপদের গোড়ায়, আর স্ত্রীর যৌন অঙ্গ তৃতীয় ভ্রমণপদের গোড়ায় অবস্থিত। পরিপক্ক স্ত্রীর মাথার নীচে ও পার্শ্বে গোলাপী রং/কমলা রং এর আভা দেখা যায়। পুরুষ চিংড়ির আরো কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যেমন, প্রথম উদর খন্ডের তলার খোলসের মাঝখানে একটা ছোট কাঁটার মত আর দ্বিতীয় সাঁতারের পায়ের ভেতরের দিকের পত্রের (Endopodite) গোড়ায় লোমের মত এ্যাপেন্ডিক্স ম্যাসকুলিনা (Appendix) দেখা যায়। জুভেনাইল অবস্থায় পরুষ চিংড়িকে এই এ্যাপেন্ডিক্স ম্যাসকুলিনা দেখেই সনাক্ত করতে হয়। কারণ তখন অন্যান্য বৈশিষ্ট্য ধরা পড়ে না। তাই স্ত্রী-পুরুষ পৃথক পৃথক করা অনেকটা অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করে। অভিজ্ঞ চাষি অতি সহজেই স্ত্রী-পুরুষ আলাদা করতে পারেন। আমাদের দেশে অনেকে পরীক্ষামূলকভাবে মনোসেক্স গলদা চিংড়ি চাষ করছেন। সেক্ষেত্রে চাষিরা শুধুমাত্র পুরুষ গলদা চিংড়ি চাষে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। কারণ পুরুষ চিংড়ি স্ত্রীর তুলনায় অনেক দ্রুত বাড়ে। কিন্তু স্ত্রী গলদা চিংড়ি চাষেরও যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে বলে মনে হয়। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আমাদের দেশে প্রতি বছর প্রায় ১১২.৫০ কোটি গলদা চিংড়ির পিএল এর প্রয়োজন। তাছাড়া গলদা চিংড়ির ঘেরের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধির কারণে এ চাহিদা দিন দিন আরো বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের দেশে এখন পর্যন্তও প্রাকৃতিক উৎস যেমন বিভিন্ন নদ-নদী হতে সংগৃহীত গলদা চিংড়ির রেণুর উপর নির্ভর করা হচ্ছে যা মোটেও সমীচীন নয়। প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আমাদের অবশ্যই এই পন্থা পরিত্যাগ করে হ্যাচারীতে রেণু উৎপাদন ও ব্যবহারের দিকে নজর দিতে হবে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই মানসম্মত ব্রুড (ডিমওয়ালা স্ত্রী চিংড়ি) প্রয়োজন। নদীতে অতি আহরণের ফলে এই ব্রুডের পরিমাণ কমে গেছে উল্লেখযোগ্য হারে। তাই গলদা চিংড়ি শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে অবশ্যই গুণগত মানসম্পন্ন ব্রুড তৈরি করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মনোসেক্স (শুধু স্ত্রী) গলদা চিংড়ি চাষের মাধ্যমে উন্নত গুণগত মানসম্পন্ন ব্রুড তৈরি করা যেতে পারে যা ভবিষ্যৎ রেণু উৎপাদন তথা গলদা শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করবে।

মনোসেক্স ও মিশ্র গলদা চিংড়ি চাষের উৎপাদনের তুলনা
আমাদের দেশের চাষিরা সাধারণত গলদা চিংড়ির স্ত্রী-পুরুষ একত্রে চাষ করে থাকেন। সেক্ষেত্রে চাষিরা প্রায়ই অভিযোগ করেন যে, তাদের ঘেরে স্ত্রী চিংড়ির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন অনেক কমে গেছে। আমাদের দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে বিশেষ করে খুলনা অঞ্চলে যে পদ্ধতিতে গলদা চিংড়ি চাষ হয়ে থাকে সেখানে হেক্টর প্রতি বার্ষিক গড় উৎপাদন ৬০০-৭০০ কেজি পাওয়া যায়। অনেক সময় এই উৎপাদন আরো কম হতে দেখা গেছে। অথচ আমাদের পাশ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতে হেক্টর প্রতি গড় উৎপাদন ১২০০-১৫০০ কেজি পাওয়া যায়। থাইল্যান্ডে এই উৎপাদন আরো অনেক বেশি। তাই উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে চাষিদের পর্যায়ে একটি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করলে উল্লেখযোগ্য সফলতা পাওয়া যেতে পারে। একই আয়তন ও আকারের দুইটি পুকুরে একই পদ্ধতি ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শুধু পুরুষ গলদা চিংড়ি এবং স্ত্রী-পুরুষ চিংড়ি একত্রে চাষ করে উৎপাদনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। স্ত্রী-পুরুষ একত্রে চাষ করে হেক্টর প্রতি উৎপাদন পাওয়া যায় ৬৯০ কেজি। অন্য দিকে শুধু পুরুষ গলদা চিংড়ি চাষ করে হেক্টর প্রতি উৎপাদন পাওয়া যায় ১১৩০ কেজি। এক্ষেত্রে নীট মুনাফা হেক্টর প্রতি যথাক্রমে ১,৯৫,৪২০ টাকা এবং ৩,৪৯,০০০ টাকা পাওয়া যায় যা প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে অনেক বেশি।

উপসংহার
বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে গলদা চিংড়ি চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে উন্নত ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ইউনিট প্রতি উৎপাদন বাড়ানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। শুধু গলদা চিংড়ি ঘেরের সংখ্যা না বাড়িয়ে যদি উৎপাদন দ্বিগুণ বা আরো অধিক বাড়ানো যায় সেদিকে নজর দেয়া প্রয়োজন। চাষি পর্যায়ে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার ও সমপ্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা দরকার। এ দেশের চাষিরা যতদিন পর্যন্ত আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্যোগী না হবে ততদিন পর্যন্ত কাঙ্খিত উৎপাদন সম্ভব নয়। তাই প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর প্রদর্শণী খামার স্থাপনের মাধ্যমে চাষিদের মাঝে আগ্রহ সৃষ্টি করা যেতে পারে। শুধু তাই নয় গলদা চিংড়ি চাষে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, আর্থিক ও কারিগরি সুবিধা সৃষ্টির মাধ্যমে চাষিদেরকে উৎসাহিত করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।

লেখক: সরোজ কুমার মিস্ত্রী
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, কালিয়া, নড়াইল।
তথ্যসূত্র: পোলট্রি, পশুসম্পদ ও মৎস্য বিষয়ক মাসিক পত্রিকা ‘খামার’

মৎস্য পোনা, খাদ্য ও পুকুর ব্যবস্থাপনা

Saturday, August 7, 2010


নদী মাতৃক এ দেশ আমাদের বাংলাদেশ। ধান ও মাছের প্রাচুর্যতা ছিল বলেই এক সময় আমাদের মাছে ভাতে বাঙালি বল হত। বিভিন্ন সময়ে ধানের উচ্চফলনশীল জাতের অবিষ্কার হলেও মাছের ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে আছি। বিগত আশির দশকে প্রাকৃতিক অভয়াশ্রমগুলো বিভিন্ন কারণে সংকুচিত হয়ে আসে। পাশাপাশি কারেন্টজালের ব্যবহার এক ভয়বহ চিত্র তুলে ধরে আমাদের সামনে। এই জাল ব্যবহারের ফলে পানি থাকবে, মাছের অভয়াশ্রম থাকবে, পানির স্রোত থাকবে, খাল, বিল, নদীনালা, হাওড় বাওড় সবই থাকবে, থাকবে না শুধু মাছ। কারণ একটাই, কারেন্ট জাল। তাই আশির দশকে নানাবিধ কারণে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে মৎস্যসম্পদ বাড়ানোর লক্ষ্যে ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রায় ৮০০-এর মত মৎস্য হ্যাচারি গড়ে ওঠে।

পোনা সংগ্রহ : আশির দশকে বিভিন্ন হ্যাচারি কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে রেনু, রেনু থেকে পোনা আর পোনা থেকে বড় মাছের চাষের উপর সবাই জোর দিতে শুরু করে। ফলে নব্বই-এর দশকে মৎস্যশিল্পে ঘটে বিপ্লব। বর্তমানে এ শিল্প বিভিন্ন কারণে লোকসানের ভার বইতে বইতে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মেধা আর পরিশ্রম দিয়ে বিন্দু বিন্দু করে গড়া হ্যাচারি মালিকের চোখে আজ গাঢ় অন্ধকার। বেঁচে থাকার জন্য এ সময় আন্ত-প্রজননমুক্ত ব্রুড মাছের পোনা উৎপাদনের কথা বলা হচ্ছে। জোর দেয়া হচ্ছে হালদা, পদ্মা, যমুনার উৎস হতে পোনা সংগ্রহের মাধ্যমে ব্রুড তৈরি করাসহ আরও অনেক নীতিনির্ধারণী কথা। সরকারি আইনের কথাও বলা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বলতে চাই- আমাদের দেশে ছোট ছোট হ্যাচারি মালিকদের পক্ষে হালদা বা পদ্মা থেকে পোনা বা ব্রুড সংগ্রহ করা অসম্ভব ব্যাপার। সরকারি উদ্যোগে এসব পোনা সংগ্রহ করে হ্যাচারি মালিকদের সরবরাহ করার পাশাপাশি উন্নতমানের পোনা উৎপাদনকারী হ্যাচারিগুলোকে রেজিষ্ট্রিশনের আওতায় আনতে হবে। শুধু উন্নত ব্রুড সরবরাহ করলেই চলবে না, তা বাজারজাত করার জন্য সরকারের রাখতে হবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বিদেশ থেকে এখন কার্পজাতীয় মাছ আমাদের দেশে আসে। আর এই কার্পজাতীয় মাছ থেকে উৎপাদিত হয় কোটি কোটি পোনা। কিছুদিন ধরে শোনা যাচ্ছে- সরকার শুধু পাঙ্গাসের পোনা বা ব্রুড আনার পরিকল্পনা করছে বিদেশ থেকে, কিন্তু কার্পজাতীয় মাছের ক্ষেত্রে কোন সিদ্ধান- হয়নি। এক্ষেত্রে পাঙ্গাসের পোনা আমদানি করলে ৪/৫ বছর লাগবে প্রজননক্ষম হতে, আবার ডিমঅলা মাছ অনাও সম্ভব নয়। এটুকু বুঝতে বুঝতে অনেকটা সময় আমাদের পার হয়ে গেছে। তাই, বিদেশ থেকে মাছ আমদানিতে দেরি করা এখন আর ঠিক হবে না।

মৎস্য খাদ্য : মৎস্য খাদ্য উৎপাদনের মূল উপকরণের মধ্যে রয়েছে খৈল, কুঁড়া, শুটকি মাছের গুঁড়া, মিট এন্ড বোন উল্লেখযোগ্য। এরমধ্যে স্থানীয়ভাবে যোগান দেয়া হয় খৈল, কুঁড়া এবং অল্প পরিমাণে শুটকি গুঁড়া। বিদেশে শুটকির উচ্চমূল্য থাকার কারণে

কমমূল্যে মিট এন্ড বোন দিয়ে মৎস্য খাদ্য প্রস্তুত হয়। খাদ্য পরীক্ষা করলে হয়ত কাঙ্ক্ষিত প্রোটিন পাওয়া যেতে পারে কিন্তু মিট এন্ড বোন দিয়ে তৈরি খাদ্য মাছ কতটুকু হজম করতে পারে বা কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কিনা সে পরীক্ষার দাবি রাখে। মৎস্য খাদ্য প্রস্তুতে এসব উপাদান মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকারক কিনা তাও পরীক্ষা করে দেখা দরকার।

আমাদের দেশে রাইসমিলে উন্নতমানের কুঁড়া পাওয়া যায়। পোল্ট্রি ও মৎস্যশিল্পে রয়েছে এর ব্যাপক চাহিদা। দুঃখের বিষয় যে, এই কুঁড়া দেশের চাহিদা না মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করে। আর সেই কুঁড়া থেকে তেল তৈরি হয়ে ফিরে আসে আমাদেরই দেশে। আমরা কিন্তু সেই কুঁড়াই আবার বিদেশ থেকে কিনে আনছি আমাদের প্রয়োজন মেটাতে বেশি দামে। এদিকে সরকারের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

পুকুর ব্যবস্থাপনা: পুকুরের ভাল পরিবেশ বলতে বোঝায়- প্রতিবছর একবার করে পুকুরের তলা শুকিয়ে অথবা তলার মাটি ফেলে দিয়ে পুকুরকে সারা বছরের জন্য গ্যাসমুক্ত রাখতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পরিবর্তনের ব্যবস্থা ও সারা বছরই মাছ যাতে রোগমুক্ত থাকে সে ব্যবস্থা করতে হবে। অনেক খামারি মাছ চাষে কোন সমস্যা হলেই চুন ব্যবহার করেন বা অন্যকে করতে পরামর্শ দেন। এটা ঠিক না। পুকুরের পানিতে পি.এই -এর মাত্রা বেশি থাকার পরও চুন প্রয়োগ করলে পি.এইচ -এর মাত্রা আরও বেড়ে যায়। ফলে মাছ চাষে ক্ষতির সন্মুখিন হতে হয়। পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন কত থাকা দরকার, কত মাত্রা পর্যন- অ্যামোনিয়া মাছ চাষে সহায়ক তা শতকরা ৯৮ ভাগ মৎস্য খামারিরা জানে না। অপরীক্ষিত নানা ওষুধ দিয়ে খামারিরা মাঝে মাঝে ক্ষয়ক্ষতির সন্মুখিন হয়। তাই মৎস্য বিভাগকে নিতে হবে এইসব মৎস্য খামারিদের প্রশিক্ষণের দায়িত্ব। সমাধান করতে হবে তাদের নানা ধরনের সমস্যা।

তথ্যসূত্র: শাইখ সিরাজ রচিত ‘মাটি ও মানুষের চাষবাস’ গ্রন্থ থেকে সংগ্রহীত

দেশি পাবদার চাষ প্রযুক্তি


পাবদা মাছ একটি বিলুপ্ত প্রজাতির মাছ। এই মাছ অত্যন- সুস্বাদু এবং জনপ্রিয়। আমাদের দেশে বেশ আগে হাওড়-বাঁওড় -বিলে এই মাছটির পাওয়া যেত। কালের বিবর্তনে প্রাকৃতিক অভয়ারণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে এই মাছটি আমাদের দেশ থেকে বিলুপ্ত হতে চলেছে। আমরা এই মাছটিকে ব্যাপকভাবে উৎপাদনের জন্য অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ২০০২ সালে ব্যাপকভাবে পোনা উৎপাদনে সক্ষম হয়েছি। এই মাছটি উৎপাদন করতে গিয়ে বিভিন্ন হাওড়-বাঁওড় থেকে জীবিত ব্রুড মাছ সংগ্রহ থেকে শুরু করে, ভৌত অবকাঠামো গড়ে তোলা দক্ষ জনবল তৈরি করাসহ ২ বছর ধরে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে পোনা উৎপাদন ছিল অত্যন- ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয় বহুল একটি কাজ। সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণার হাওড়-বাঁওড় থেকে ব্রুড মাছ সংগ্রহ ছিল এক বিরাট ঝুঁকির কাজ। ৫% বেশি ব্রুড মাছ বাঁচানো সম্ভব হয়েছিল। তারপর এই মাছগুলোকে কৃত্রিম খাবারে অভ্যস- করারও ছিল এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। কারণ একটি পুষ্টিকর খাবার ছাড়া ব্রুড মাছ কখনও ভালমানের বাচ্চা জন্ম দিতে পারে না। আর সে জন্য এই মাছকে ধীরে ধীরে কৃত্রিম খাবারে অভ্যস- করানো ছিল এক বিরাট সাধনা এবং অভিজ্ঞতাও বটে। প্রতিটি দিনেই যেন এক নতুন নতুন অভিজ্ঞতায় পুলোকিত বোধ করছিলাম। অবশেষে মাছগুলো কৃত্রিম খাবারে অভ্যস- হল। অন্য কারো পরামর্শ বা প্রযুক্তি ছাড়াই ২০০০ সালে পরীক্ষামূলকভাবে পোনা উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছিলাম যা আমাদের পরিশ্রমকে সার্থক করে তুলেছে। তারপর ব্রুড থেকে রেনু, রেনু থেকে পোনা উৎপাদন হল। সারা দেশে পোনা বাজারজাত হল। এ থেকে সব খামারিরাই কৃত্রিম খাবারে অভ্যস- পোনা পেল। যা থেকে পরবর্তিতে ব্রুড মাছের সহজলভ্যতা এল। কিন্তু এর পেছনে কত গভীর নিরলস পরিশ্রম করতে হয়েছে তা শুধু আমিই জানি। অবশ্য আমি ব্যবসাও করেছি। এখন স্বল্প পরিসরে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে অতিসহজেই আমার প্রযুক্তিতে যে কেউ চাহিদা মাফিক পোনা উৎপাদন করতে সক্ষম হবে বলে আমার বিশ্বাস।

প্রজননক্ষম মাছ সংগ্রহ ও পরিচর্যা : পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, ১০/১১ মাস বয়সে একটি পাবদা মাছ প্রজননে সক্ষম হয়। সুস্থ ও সবল মাছ শতাংশ প্রতি পুরুষ ও স্ত্রী মাছ ৫০ : ৫০ অনুপাতে ৭০/৮০টি মজুদ করে নিয়মিতভাবে দেহের ওজনের ৫% হারে সম্পূরক খাবার দিতে হয়। ৩০% ফিস মিল, ৩০% সরিষার খৈল, ৩০% অটোকুড়া, ১০% ভূষি ও ভিটামিন প্রিমিক্্র সহকারে সম্পূরক খাবার তৈরি করা যায় অথবা বাজারের কৈ মাছের ফিড কাওয়ালেও চলবে।

প্রজননের জন্য উপযোগী স্ত্রী ও পুরুষ মাছ বাছাই : সাধারণত এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে আগষ্ট মাস পর্যন- পাবদা মাছের প্রজনন কাল। এই সময়ে স্ত্রী মাছের পেটে ডিম ভর্তি থাকে। এছাড়াও পাবদা স্ত্রী মাছের পাখনার কাঁটাগুলোর খাঁজগুলো খুব স্পষ্ট নয় যতটা না পুরুষের ক্ষেত্রে। প্রজনন করার জন্য মাছ ও মাছ বাছাইয়ের জন্য স্ত্রী মাছের উদরে ডিম ভর্তি দেখে পরিপক্কতা সম্পন্ন মাছ বাছাই করে নিতে হয়।

হরমোন ইনজেকশনের দ্রবণ তৈরি এবং ইনজেকশন দেওয়ার পদ্ধতি : কৃত্রিম প্রজননের জন্য প্রথমে মাছ বাছাই করতে হয়। এক্ষেত্রে সমপরিমাণ পুরুষ ও স্ত্রী মাছ বাছাইয়ের পর পি.জি. দ্রবণের ইনজেকশন দিতে হয়।

১. প্রথমে প্রজননক্ষম উপযোগী স্ত্রী ও পুরুষ মাছ সমন অনুপাতে হাপাতে ছাড়তে হবে।

২. প্রথম ইনজেকশনের সময় শুধুমাত্র স্ত্রী মাছকে ২/৩ মিঃ গ্রাঃ হারে অর্থাৎ ১ কেজি মাছের জন্য ৩ মিঃ গ্রাঃ পি.জি. এর দ্রবণ পাখনার কাটার নিচে প্রয়োগ করতে হবে।

৩. প্রথম ইনজেকশনের ৬ ঘন্টা পর প্রতি কেজি স্ত্রী মাছের জন্য ৪/৬ মিঃ গ্রাঃ হারে ২য় ইনজেকশন এবং একই সাথে ২য় ইনজেকশনের সময় পুরুষ মাছকে ৪/৬ মিঃ গ্রাঃ হারে ইনজেকশন দিতে হবে। ২য় ইনজেকশনের ৭/৮ ঘন্টার মধ্য সাধারণত প্রাকৃতিকভাবে প্রজনন ক্রিয়ার মাধ্যমে ডিম ছাড়ে।

দুটি পদ্ধতিতে পাবদা মাছের ডিম সংগ্রহ করা যায়-

১. হাপা পদ্ধতি : প্রথমে ১ সেঃ মিঃ ব্যাস ফাঁক বিশিষ্ট পলিথিন জাতীয় জাল দিয়ে একটি হাপা তৈরি করতে হবে। হাপার মাপ হবে দৈর্ঘ্যে ১২ ফুট প্রস্থে ৪ ফুট। উপরের অংশ খোলা হাপাটিকে এমনভাবে সিস্টার্ণে স্থাপন করতে হবে যেন সম্পূর্ণ হাপাটির নীচের অংশ অর্থাৎ তলার অংশ সিস্টার্ণের তলা থেকে কমপক্ষে ৬ ইঞ্চি উপরে থাকে। এরপর পুরুষ ও স্ত্রী মাছকে ইনজেকশন করে ১ : ১ অনুপাতে হাপায় ছাড়তে হবে। পরে পানির কৃত্রিম ঝর্ণা দিয়ে স্রোতের সৃষ্টি করতে হবে। এই জাতীয় এক একটি হাপায় ৬০/৭০ জোড়া পাবদা মাছ ইনজেকশন করে ছাড়া যেতে পারে। ইনজেকশন এমন সময়ে করতে হবে যেন মাছগুলো গভীর রাতে ডিম দেয়। কারণ, রাত যত গভীর হবে পাবদা মাছে ডিম দিতে তত স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে। গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন- মাছগুলো ডিম দেয়া শেষ করবে। ডিম দেয়া শেষ হলে ব্রুড মাছসহ হাপাটিকে সাবধানের সাথে তুলে নিতে হবে। যেহেতু হাপাটিতে ব্যবহৃত জালটি ১ সেঃ মিঃ ফাঁক বিশিষ্ট তাই মাছগুলো ডিম দেয়ার সাথে সাথে হাপার জালের ফাঁক দিয়ে ডিমগুলো সিস্টার্ণের তলায় পড়ে যাবে। পাবদা মাছের ডিম সামান্য আঠালো থাকা সত্ত্বেও হাপাটি পলিথিন জাতীয় জালের ব্যবহারের জন্য হাপার জালে ডিম আটকাবে না এবং হাপার নীচে পড়ে যাবে অর্থাৎ সিস্টার্ণের তলায় জমা হবে। ব্রুড মাছগুলো সরিয়ে নেয়ার পর সিস্টার্ণের তলায় থেকে সাইফনের মাধ্যমে ডিমগুলোকে একটি প্লাস্টিকের গামলায় সংগ্রহ করা হয়।

২. সিস্টর্ণ পদ্ধতি : এ পদ্ধতিতে পাবদা মাছের ব্রুড মাছগুলোকে পি.জি. হরমোন দিয়ে ইনজেকশন করে সরাসরি সার্কুলার ট্যাংক বা পানির হাউজে ছাড়তে হবে। পানির কৃত্রিম ঝর্ণা দিয়ে স্রোতের সৃষ্টি করতে হবে। বিকেলে পাবদা মাছকে ইনজেকশন দিলে শেষ রাতে ডিম দেয়া শেষ হবে। ডিমগুলো সাকর্ুলারের বা হাউজের মাঝখানে জমা হবে। জমাকৃত ডিমগুলোকে সাইফন পদ্ধতিতে প্লাস্টিক গামলায় একসাথে করতে হবে।

উপরোল্লিখিত ২টি পদ্ধতিতেই পাবদা মাছের ডিম সংগ্রহ করা যায়। তবে হাপা পদ্ধতিতে ডিম সংগ্রহ আমার কাছে বেশি উপযোগী মনে হয়েছে। নিবিড় পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে যে, সিস্টার্ণ পদ্ধতিতে ডিম দেয়ার পর পুরুষ পাবদা মাছ কিছু ডিম খেয়ে ফেলে। সাইফন পদ্ধতিতে প্লাস্টিকের গামলায় ডিমগুলোকে নিয়ে শীটের তৈরি ট্রে অথবা সিমেন্টের তৈরি সিস্টার্ণে রাখতে হবে। ট্রে বা সিস্টার্ণের পানির উচ্চতা হবে ৩-৪ ইঞ্চি। এই অবস্থায় ট্রেতে ছিদ্রযুক্ত পাইপ দিয়ে ঝর্ণার ব্যবস্থা করতে হবে। ২০ ঘন্টার মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হবে। বাচ্চা হওয়ার ৩ দিনের মধ্যে ডিম্বথলী শোষিত হয়ে রেণু পোনায় পরিণত হয়। বাচ্চা ফুটে বের হওয়ার ২৪ ঘন্টা পর ডিম্বথলী থাকা অবস্থায় খাবার খেতে পারে। এরা স্বগোত্রভোজী তাই প্রতি ৩ ঘন্টা অন-র অন-র খাবার দিতে হয়। খাদ্য হিসেবে এদের ক্ষুদ্র লাল কেঁচো ভাল করে ব্লেন্ডার করে এক থেকে দুই দিন খাওয়ানোর পর রেণুগুলোকে পুকুরে স্থানান-র করতে হবে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং মৎস্য বিজ্ঞানীগণ পাবদা মাছের পোনা উৎপাদনের উপরও কাজ করছেন। সমসাময়িক সময়ে কিন্তু তাদের উদ্ভাবিত পাবদা মাছের পোনা উৎপাদনের কৌশল আমার কাছে ততটা লাগসই প্রযুক্তি মনে হয়নি। অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন যে, পাবদা মাছের বেনুকে ১০/১২ দিন সিস্টার্ণে রেখে ১ ইঞ্চি সাইজ হওয়ার পরে নার্সারিতে স্থানান-রের কথা বলেন। কিন্তু এই পদ্ধতিতে কখনই একজন মৎস্য চাষি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পোনা উৎপাদন করতে পারবে না। কারণ-

ক. পাবদা মাছ স্বগোত্রভোজী বলে সিস্টর্াণে একটি অপরটিকে খেতে খেতে ১০/১২ দিন পরে এক দশমাংশ পোনাও আর অবশিষ্ট থাকবে না।

খ. যে পদ্ধতিতে ডিম সংগ্রহ করার কথা বিজ্ঞানীগণ বলে থাকেন সে পদ্ধতিতে পাবদা মাছ আশানুরূপ ডিম দেয় না।

আতুর পুকুর বা নার্সারি পুকুর প্রস্তুতির উল্লেখযোগ্য দিক :

১. আতুর পুকুর বা নার্সারি পুকুরে যাতে কোন প্রকার ব্যাঙ, সাপ বা অবাঞ্ছিত কোন প্রাণী না ঢুকতে পারে সে জন্য পুকুরের চারপাশ জাল দিয়ে ভালভাবে ঘের দিতে হবে।

২. নার্সারি পুকুরে অতিরিক্ত খাদ্য প্রয়োগ করা যাবে না।

৩. সপ্তাহে ২ দিন হররা টানতে হবে।

৪. নার্সারি পুকুরের খাদ্য হিসেবে ৫০% কুড়া এবং ৫০% শুটকি মাছের গুঁড়ো একসাথে মিশিয়ে প্রতিদিন রেনুর ওজনের ২০% প্রয়োগ করতে হবে।

৫. এরা সাধারণত রাতে খেতে পছন্দ করে। তাই উপরোল্লিখিত খাবারটি রাতে ২বার প্রয়োগ করা যেতে পারে।

পাবদা মাছের চাষ পদ্ধতি এখনও আমাদের দেশে ব্যাপকহারে প্রচলন ঘটেনি। এর কারণ হিসেবে পোনা উৎপাদনের লাগসই প্রযুক্তির অভাবের কারণেরই এমনটা হচ্ছে বলে আমার মনে হয়েছে। আমার এই পদ্ধতি অনুসরণ করে যে কেউ কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ পাবদা মাছের পোনা উৎপাদনে সক্ষম হবে এটা আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি। পাবদা মাছের একক চাষ অর্থাৎ এককভাবে পাবদা চাষ করলে এই মাছ খুব একটা বড় হয় না। সেক্ষেত্রে মিশ্র চাষে যেকোন মাছের সাথে চাষ করলে ৯/১০ মাসে এক একটি পাবদা মাছ ৫০ গ্রাম ওজন হয়ে থাকে। মিশ্র চাষে পাবদা মাছের মজুদ ঘনত্ব হবে শতাংশ প্রতি ৩০-৫০টি। তেলাপিয়ার সাথে পাবদা মাছ ভাল হয়ে থাকে এ কারণেই যে তেলাপিয়ার অবাঞ্চিত বাচ্চা পাবদা মাছ খেয়ে তাড়াতাড়ি বড় হয়।

তথ্যসূত্র: শাইখ সিরাজ রচিত ‘মাটি ও মানুষের চাষবাস’ গ্রন্থ থেকে সংগ্রহীত

দেশি মাছ রক্ষার উপায়-৪

Monday, August 2, 2010


পুকুরে শোল ও টাকি মাছের পোনা উৎপাদন পদ্ধতিঃ আমি আগেই উল্লেখ করেছি- হ্যাচারিতে শোল মাছের পোনা চাপ প্রয়োগ পদ্ধতিতে উৎপাদন খুবই জটিল। অন্যদিকে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে শোল মাছের পোনা উৎপাদন করা খুবই সহজ। আমার অভিজ্ঞতার আলোকে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে শোল মাছের পোনা উৎপাদন পদ্ধতির বর্ণনা করছি-
ডিসেম্বর/জানুয়ারি মাসে পোনা উৎপাদনের জন্য পুকুর প্রথমে ভালভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। তারপর ২০/২৫ দিন এভাবে শুকিয়ে রাখতে হবে। এতে পুকুরের তলায় এক ধরনের ঘাস জন্মে। ঘাস জন্মালে পুকুরে পানি দিয়ে ভরতে হবে। এরপর পানির নীচে এসব ঘাস ধীরে ধীরে বড় হতে থাকবে এবং একসময় এই ঘাসগুলো পানির উপর ভেসে উঠবে। এ সময় কচুরীপানাও দেয়া যেতে পারে পুকুরে। তবে খেয়াল রাখতে হবে কচুরীপানায় যেন পুকুর ভরে না যায়। অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, পুকুরে ঘাস হয়ে গেলে কচুরীপানা দেয়ার প্রয়োজন নেই। পুকুরের চারদিকে কমপক্ষে ৫ ফুট উচ্চতায় জাল দিয়ে বেড় দিত হবে। অন্যথায় বর্ষাকালে শোল মাছ লাফিয়ে চলে যাবে। এরপরে পুকুরে শোল টাকি মাছ মজুদ করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রতি শতাংশে ৪টি শোল ও ১০টি টাকি মাছ মজুদ করা যেতে পারে। মজুদের পর খাদ্য হিসেবে কার্প জাতীয় মাছের ধানীপোনা দেয়া যেতে পারে। এছাড়া ছোট ছোট ব্যাঙ বা ব্যাঙাচি দেয়া যেতে পারে। ছোট ব্যাঙ অনেক সময় লাফিয়ে চলে যেতে পারে। সে জন্য ব্যাঙগুলোকে আধমরা করে দিতে হবে। ব্যাঙাচি দিলে আধমরা করার কোন প্রয়োজন নেই। ব্রুড শোল ও টাকি মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যাঙাচির তুলনা হয় না। এ জন্য ব্যাঙাচির চাষ করা যেতে পারে। ব্যাঙাচি উৎপাদন করাও খুব কঠিন কিছু নয়।
বৈশাখ মাসের প্রথম থেকে শোল ও টাকি মাছ বাচ্চা দিতে (বাইশ) শুরু করে। বাচ্চাগুলো এক ঝাঁকে থাকে। সপ্তাহখানেক বয়সের হলেই ঠেলা জালি দিয়ে বাইশ (পোনার ঝাঁক) ধরে সিস্টার্ণ বা হাউজে নিয়ে যেতে হবে। খাদ্য হিসেবে প্রথম ১/২ দিন কিছুই খেতে চায় না। তারপরে খাবার হিসেবে চিংড়ি শুটকির গুঁড়া ভালভাবে পিষিয়ে দিতে হয়। এভাবে ২/৩ দিনেই খাবারে অভ্যস্থ হয়ে ওঠে। এভাবে ১৫ দিন খাওয়ানোর পর পোনাগুলো প্রায় ২/৩ ইঞ্চি সাইজ হয়। এরপর পোনাগুলোকে চাষের জন্য অবমুক্ত করতে হবে।
শোল ও টাকি মাছের চাষ পদ্ধতিঃ আমাদের দেশে এখনও বাণিজ্যিকভাবে শোল বা টাকি মাছের চাষ পদ্ধতি চালু হয়নি। অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি- শোল মাছ সাধারনত খৈল বা কুড়া দিয়ে বানানো খাবার খায় না। তবে মরা টাটকা মাছ খেতে দিলে এরা খুব খায়। আমাদের দেশে বা-বতার নিরিখে শোল মাছের একক চাষের সম্ভবনা খুবই কম। কারণ এত কাঁচা মাছ বা শুটকির জোগান দেয়া প্রায় অসম্ভব। তবে যেকোন মাছের সাথে মিশ্রভাবে প্রতি ২ শতাংশে ১টি করে শোল মাছ দেয়া যেতে পারে। শোল মাছের চেয়ে পুকুরে টাকি মাছের চাষ করার একটা বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে। পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, শুটকি মাছের গুঁড়া মিশ্রিত খৈল ও কুড়া দিয়ে বানানো খাবার টাকি মাছ ভাল খায় এবং বেশ মোটাতাজাও হয় যা শোল মাছের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
শোল মাছ আমাদের দেশে এখন প্রায় বিলুপ্ত প্রজাতীর মাছ হয়ে যাচ্ছে। এ মাছটিকে উপরোল্লিখিত পদ্ধতিতে বাচ্চা ফুটিয়ে সরকারি উদ্যোগে মুক্ত জলাশয়ে ছাড়লে একদিকে যেমন এ মাছটির উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাড়বে অন্যদিকে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া শোল মাছটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা যাবে অনায়াসে। আবার টাকি মাছটিকেও উপরোল্লিখিত পদ্ধতিতে বাচ্চা ফুটিয়ে যেকোন মাছের সাথে শতাংশ প্রতি ১০টি মাছ অনায়াসে চাষ করে এর ব্যাপক উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।
এ· কে· এম· নূরুল হক, শম্ভুগঞ্জ, ময়মনসিংহ

তথ্যসূত্র: শাইখ সিরাজ রচিত ‘মাটি ও মানুষের চাষবাস’ গ্রন্থ থেকে সংগ্রহীত

ইলিশের প্রাচুর্য ফিরিয়ে আনতে হবে


বাংলাদেশের মানুষ ভোজন বিলাসী। আর এই পরিচয়ে প্রথমেই আসে মাছ এবং ভাতের কথা। অর্থাৎ, মাছে-ভাতে বাঙালি। ভোজনে পটু এই জাতির খাদ্য তালিকায় প্রথম পছন্দের মাছ হল ইলিশ। আবহমান বাংলার নিজস্ব যে পরিচয় তা হচ্ছে সাগর-মোহনা, নদ-নদী, বিল-ঝিল, হাওড়-বাওড়। এদেশের জলরাশির প্রতিটি কণা থেকে সোনার জন্ম হয়। জলে মাছ, জলে ফসল, জলেই দেশের কৃষিক্ষেত্র আজ পলি আচ্ছাদিত উর্বরা শক্তি। আমাদের দেশের জলরাশিতে সারাক্ষণ সূর্যরশ্মি পরে। এই রশ্মির আলোর প্রভাবে জলজ সম্পদ উৎপাদনে পরিপূর্ণ। যেজন্য এখনও জলজ সম্পদে টিকে আছে ৭৫০ প্রজাতির মাছ, ৭০ প্রজাতির চিংড়িসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী।
দেশের জাতীয় ও জননন্দিত মাছ হিসেবে ইলিশের সমাদর আদিকাল থেকেই। ইলিশ মাছ মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর কোলোষ্টরল কমাতে সাহায্য করে এবং উপকারী কোলোষ্টরলের পরিমাণ বাড়ায়। ইলিশে খাদ্যের প্রাণীজ আমিষের অবদান শতকরা ৯·৫ ভাগ। এবারে মৎস্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে দেশে ইলিশের উৎপাদন আমাদের আশার সঞ্চার করেছে। পত্রিকা সূত্রে জানা যায়, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে শতকরা ১১ ভাগ। শুধুমাত্র প্রজনন ক্ষেত্রগুলোতে ডিমওয়ালা মাছ সংরক্ষণ এবং জাটকা মারতে না দেয়াতে এবারের এই অধিক উৎপাদন। দেশের ১৪৩টি উপজেলা এবং ১৪১৯টি ইউনিয়নে প্রায় ৪·৫ লাখ স্থায়ী ও অস্থায়ী জেলে ইলিশ মাছ ধরলেও শুধুমাত্র ডিম ছাড়ার স্থান হিসেবে উপকূলীয় ৭টি জেলার ২০টি উপজেলার ৭ হাজার বর্গ কিঃ মিঃ উপকূলীয় এলাকা। এখানে প্রজনন মৌসুমে প্রজননক্ষম মাছ সংরক্ষণের কারণে এবারে অভূতপূর্ব উৎপাদন এসেছে। পঞ্চাশের দশকে আমাদের দেশে ইলিশের উৎপাদন ছিল ১ থেকে ১·৫ লাখ টন। পরে তা কমলেও ১৯৮০-৮১ সালে সেই উৎপাদন ১ লাখ টনে দাঁড়ায়। যদিও ১৯৮৬-১৯৮৭ সালে উৎপাদন হয় ২·৪২ লাখ টন।

ইলিশ মাছ আমাদের অর্থনীতিতে প্রথম থেকেই তার অবস্থান সুদৃঢ় করে নিয়েছে। ২০০১-০২ সালে ইলিশের উৎপাদন ছিল ২·৩০ লক্ষ টন। দেশের অর্থনীতিতে যার অবদান ছিল শতকরা ১৩ ভাগ। জিডিপি’ তে অবদান ছিল শতকরা ১·২৫ ভাগ। অর্থনীতিতে অবদানের পাশাপাশি মানবদেহের প্রয়োজনে ইলিশের অবদান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শরীরের পুষ্টি রক্ষা এবং বৃদ্ধির জন্য ইলিশ মাছের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। কেননা, প্রতি ১০০ গ্রাম ইলিশ মাছ থেকে পাওয়া যায়- ক্যালসিয়াম ০·১৮ গ্রাম, ফসফরাস ০·২৮ গ্রাম, লৌহ ২১৩ মিঃ গ্রাম। এছাড়া এই মাছের মাংশে খাদ্যউপাদান রয়েছে শতকরা ২·২ ভাগ আঁশ, ৫৩·৭ জল, ১৯·৪ বডি ফ্যাট এবং ২১·৮ প্রোটিন। যেজন্য ইলিশ মাছ স্বাদ ও মুখরোচক খাদ্য হিসেবে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে বাঙালির কাছে।

ইলিশ মাছ খাদ্যের খোঁজে এবং ডিম ছাড়তে লোনা জল থেকে মিষ্টি জলে আসে। ডিম ছাড়া শেষ হলে আবার ফিরে যায় লোনা জলে। আসা-যাওয়ার সময় ধরা পড়ে জেলেদের জালে। কখনও ইলিশ হয়ে, আবার কখনও জাটকা হিসেবে। এদেশের তাপমাত্রা, কার্বন-ডাই অক্সাইড, পি-এইচ, অক্সিজেন, জলের ক্ষারত্ব, ঘোলাত্ব স্রোত এবং প্রাকৃতিক খাদ্যের জন্য রয়েছে অনুকূল পরিবেশ। সাধারণত সাগরের মোহনা থেকে নদ-নদীর উজানে প্রায় ১৩০০ কিঃ মিঃ পর্য- ইলিশ মাছের বিচরণ ক্ষেত্র। স্থান-কাল ভেদে ইলিশ মাছের আকার যাই হোক না কেন, পুরুষের তুলনায় স্ত্রী ইলিশ মাছের আকার বড় হয়ে থাকে। একটি পরিপক্ক ইলিশ তার পরিণত অবস্থায় ৫ থেকে ২০ লাখ ডিম দিয়ে থাকে। বর্তমানে নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ার জন্য ইলিশের প্রজনন ক্রিয়ায় প্রভাব পড়েছে। সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাসে ইলিশ মাছ ডিম ছেড়ে থাকে। ভোলার ঢলচর, মনপুরা, নোয়াখালী জেলার হাতিয়ার, কালিরচর ও মৌলভীরচরকে ইলিশের প্রজনন এলাকা হিসেবে বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়।

২০০৮ সালে আমাদের দেশে ইলিশের উৎপাদন বিগত বছরের তুলনায় শতকরা ১১ ভাগ বেশি হলেও উৎপাদন ও সংরক্ষণের জন্য রয়েছে অনেক প্রতিবন্ধকতা। তার মধ্যে ফারাক্কার মরণ ছোবল, নদীগুলোতে পলি পরে ভরাট, মেঘনা নদীর মোহনার জায়গা বেহাত হয়ে যাওয়া, দেশের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং জলজ পরিবেশ দূষণের মত সমস্যা উল্লেখযোগ্য। তাছাড়া আমাদের জেলেদের লোভ ও অজ্ঞতার কারণে হাজার হাজার মেঃ টন জাটকা ধরে ইলিশের বংশ শেষ করে দিচ্ছে। তবে চলতি বছর এই সমস্যার মোকাবিলা করে আশানুরূপ আহরণ করা সম্ভব হয়েছে। এর পেছনে রয়েছে- জাটকা নিধন রোধ করা, ইলিশের আবাসস্থলকে সমুন্নত রেখে উৎপাদন করতে দেশের মৎস্য অধিদপ্তর নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করার ফলে এ বছরে এই সফলতা। জেলেদের বিকল্প আয়-রোজগারের ব্যবস্থা, জাটকা নিধন রোধকল্পে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। এখন শুধু ভৌত এবং অবকাঠামোগত অবস্থার পরিবর্তন এনে ইলিশ রক্ষার নানামুখী পরিকল্পনা হাতে নেয়া দরকার। মাছের উৎপাদন যা-ই বাড়-ক না কেন প্রতি বছর যেভাবে প্রায় ২৫ লাখ মানুষ দেশের মোট জনগোষ্ঠির সাথে যোগ হচ্ছে তাতে এই বাড়তি উৎপাদন মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়। ইলিশ মাছকে রক্ষা করতে হলে আমাদের করার আছে অনেক কিছু। নভেম্বর থেকে মে মাস পর্য- সময়ে মৎস্য সংরক্ষণ আইন-১৯৫০ (সংশোধিত) আইনের মাধ্যমে জাটকা ধরা নিষেধ আছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন বাজারে বছরের সব সময়ে জাটকা পাওয়া যায়। এজন্য প্রয়োজন সময়োপযোগী আইন প্রণয়ন এবং তা কার্যকর করা।

রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দে পদ্মা-যমুনা নদীর সঙ্গমস্থলে জলের বর্ণ দুধরনের। পদ্মার ঘোলা জল এবং যমুনার স্বচ্ছ জলের মিলনস্থানে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ বিচরণ করে থাকে। এখানে ইলিশের প্রজননক্রিয়া ভাল হয়। এই প্রজনন এলাকাকে সংরক্ষিত করতে হবে যাতে ইলিশের নিরাপদ অভয়াশ্রম হয়। জলদূষণ রোধে কঠোর ব্যবস্থা এবং ইলিশ রক্ষার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে জাটকা রক্ষায় আইনি প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয়
“আন্ত-সম্পর্কীত দপ্তর” স্থাপন করতে হবে। ইলিশ নির্ভর জেলেদের অবসরকালীন সময়ের জন্য কাজের ব্যবস্থা ও ইলিশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি এই মাছের গুরুত্ব বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। এছাড়া ইলিশ বিচরণ জলাশয়গুলোর নাব্যতা তৈরি করতে হবে এবং বর্ষার সময়ে বাড়তি জলের স্টকহোল্ড গড়ে তুলতে হবে। মেঘনার মোহনা দখলমুক্ত রাখতে হবে, তাহলেই ভবিষ্যতে স্বাচ্ছন্দ্যময় এক ইলিশ জোন গড়ে উঠবে।

গৌতম কুমার রায়, কুষ্টিয়া

তথ্যসূত্র: শাইখ সিরাজ রচিত ‘মাটি ও মানুষের চাষবাস’ গ্রন্থ থেকে সংগ্রহীত

দেশি মাছ রক্ষার উপায় -৫


(পূর্ব প্রকাশের পর)

গত বছর চিতল মাছের কৃত্রিম প্রজননের উপর কাজ করেছিলাম। বিভিন্ন মাত্রায় ডোজ দিয়ে চিতলের কৃত্রিম প্রজনন করতে গিয়ে দেখা গেছে, চিতল মাছকে পি·জি· হরমোন দিয়ে ইঞ্জেকশন করার পর স্ত্রী চিতল মাছ ডিম পাড়লে পুরুষ চিতলের ভূমিকা খুবই কম। একইভাবে ফলি মাছের ক্ষেত্রেও চাপ প্রয়োগ পদ্ধতিতে পুরুষ মাছকে কেটে র্স্পাম মিশাতে হয়। তাই চাপ প্রয়োগে ডিম বের করার পর পুরুষ চিতল/ফলি মাছের টেস্টিজ কেটে র্স্পাম মিশিয়ে সফলতা পেলেও নিম্নলিখিত কারণে এ পদ্ধতিটি লাগসই বলে আমার কাছে মনে হয়নি।

১· চিতল মাছের ডিমের পরিমাণ খুবই কম এবং ডিমের আকার বেশ বড়। এক একটি ডিমের আকার প্রায় ছোট মার্বেলের মত। একটি বড় চিতল মাছে ৩০০ থেকে ৫০০ ডিমের বেশি থাকে না।

২· প্রাকৃতিকভাবে ডিম দিতে প্রত্যেকবার পুরুষ চিতলের র্স্পামের জন্য একটি পুরুষ চিতল মাছ কাটতে হয় যা অল্প সংখ্যক ডিমের জন্য ঠিক নয়।

৩· চিতল মাছের ডিম ফুটতে তাপমাত্রাভেদে প্রায় ১৫ দিন সময় লাগে। অন্যদিকে কার্প বা রুই জাতীয় মাছের ডিম ফুটতে ১৮ থেকে ২৪ ঘণ্টার উপরে লাগে না। দীর্ঘদিন সিস্টার্ণে ডিম রেখে অল্পসংখ্যক বাচ্চা উৎপাদন করে ব্যবসায়িকভাবে খুব একটা লাভবান হওয়া যায় না।

এ সব বিভিন্ন কারণে চিতল মাছের কৃত্রিম প্রজননে আশাপ্রদ ফলাফল পাওয়া যায়নি। কৃত্রিম প্রজননের পাশাপাশি পুকুরে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতেও চিতল মাছের বাচ্চা ফুটানো হয়। দুটি পরীক্ষা থেকে দেখা গেছে প্রাকৃতিকভাবে পুকুরেই চিতল মাছের বাচ্চা ফুটানোই ভাল।

পুকুরে চিতল মাছের পোনা উৎপাদন পদ্ধতিঃ জানুয়ারির দিকে প্রথমে পুকুরকে ভালভাবে শুকিয়ে (১৫ দিন) রাখতে হবে। এর ফলে পুকুরের তলায় এক ধরনের ঘাসের সৃষ্টি হলে পানি দিতে হবে। পানি নীচের ঘাসগুলো আস্তেô আস্তে বড় হতে হতে এক সময় পানির উপর চলে আসবে। এভাবে প্রাকৃতিক আশ্রম তৈরি হবে পুকুরে। এ ভাবে মাস খানেক পর অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি মাসে পুকুরে চিতল মাছের মাতৃ মাছ এবং পুরুষ ব্রুড মাছ মজুদ করতে হবে। মজুদ ঘনত্ব হবে প্রতি শতাংশে সর্বোচ্চ ৩টি। ব্রুড মাছ মজুদের পর খাবার হিসেবে কার্প বা রুই জাতীয় মাছের ধানী পোনা পুকুরে ছেড়ে দিতে হবে। চিতল মাছ কিছুটা রাক্ষুসে স্বভাবের হলেও বড় মাছ খায় না। খাবার হিসেবে ছোট ছোট মাছ খেতে পছন্দ করে। কার্প জাতীয় মাছের ধানী পোনাও ছাড়াও তেলাপিয়ার ছোট ছোট বাচ্চা খেতে পছন্দ করে। সে জন্য পুকুর প্রস্তুতি এবং পানি দেয়ার পর কিছু সংখ্যক ব্রুড তেলাপিয়া ছাড়তে হবে। তাতে তেলাপিয়া প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে বাচ্চা দেয়া শুরু করবে। আর সে বাচ্চা চিতলের খাবার হিসেবে চলে যাবে।

চিতল মাছ সাধারণত এপ্রিলের শেষের দিকে অর্থাৎ জুলাই মাস পর্যন্ত অমাবস্যা বা পূর্ণিমার রাতে পুকুরে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে ডিম দিয়ে থাকে। আর সে জন্য প্রজনন প্রক্রিয়াকে তরান্বিত করার জন্য এপ্রিলের শেষ দিক হতে জুলাই পর্যন্তô পুকুরে শ্যালো মেশিন দিয়ে পানির প্রবাহ দেয়া উচিত। তাতে চিতল মাছের প্রজনন প্রক্রিয়ায় দ্রুত সাড়া দিয়ে ডিম পাড়া তরান্বিত হবে। চিতল মাছের ডিম আঁঠাল। আর সে জন্য চিতলের ডিম সংগ্রহের জন্য বিশেষ কিছু ব্যবস্থা অবলম্বন করতে হবে। ডিম সংগ্রহের জন্য কাঠের ফ্রেম বানিয়ে দিতে হবে। কাঠের ফ্রেম অনেকটা ছোট নৌকার মত এবং তা ডুবিয়ে রাখতে হবে। চিতলের ডিম সংগ্রহের জন্য এ ব্যবস্থা নিলেই চলবে। এ প্রক্রিয়াটি এপ্রিলের আগেই করে রাখতে হবে। মে মাস থেকেই চিতল মাছ ডিম পারতে শুরু করবে। সাধারণত বর্ষা মৌসুমের প্রতি অমাবস্যা বা পূর্ণিমা রাতে এরা ডিম পারে। অমাবস্যা বা পূর্ণিমার ২/৩ দিন পর কাঠ দিয়ে বানানো নৌকাটিকে পানির উপর তুলে দেখতে হবে ডিম দিয়েছে কি-না। যদি ছোট নৌকাতে ডিম দেখা যায় তাহলে ডিমসহ নৌকাটিকে নার্সারি পুকুরে স্থানান্তôরিত করতে হবে।

নার্সারি পুকুর প্রস্তুতিঃ চিতলের ডিমের সংখ্যা যেহেতু কম সেহেতু ছোট ছোট নার্সারি প্রস্তôাত করতে হবে। সাধারণত ৫ শতাংশের পুকুর নার্সারির জন্য নির্বাচন করতে হবে। প্রথমে পুকুর শুকিয়ে পুকুরের তলায় চাষ দিয়ে শ্যালো দিয়ে পরিষ্কার পানি ২/৩ ফুট পানি দিয়ে পূর্ণ করতে হবে। তারপর চিতলের ডিমসহ ছোট নৌকাটিকে নার্সারি পুকুরে খুব তাড়াতাড়ি করে সর্তকতার সাথে এনে ডুবিয়ে রাখতে হবে। যেহেতু চিতলের ডিম ফুটতে প্রায় ১৫ দিনের মত লাগে সেহেতু ডিম দেখে নার্সারি পুকুর প্রস্তুত করা ভাল। আর তা না হলে আগেই নার্সারি পুকুর প্রস্তুত হয়ে গেলে পানি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। পানি পরিষ্কার না হলে চিতলের ডিমে ফাঙ্গাস পড়তে পারে। এ ভাবে ডিম সংগ্রহ করে নার্সারিতে নেয়ার পর তাপমাত্রাভেদে ১২ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বের হবে। বাচ্চা ফুটার পর খাদ্য হিসেবে কার্প জাতীয় মাছের রেনু পুকুরে দিতে হবে। এখানে উল্লেখ করা দরকার যে, চিতলের বাচ্চা পূর্ণাঙ্গভাবে ফুটার পর পরই প্রায় ১/২ ইঞ্চি সাইজের হয়ে থাকে। এভাবে নার্সারি পুকুরে সপ্তাহ দুয়েক রাখার পর প্রায় ৩ ইঞ্চি সাইজের হয়ে থাকে। এরপর চিতলের পোনাকে চাষের পুকুরে ছাড়তে হবে। নার্সারি পুকুরে ১ ইঞ্চি থেকে ২ ইঞ্চি সাইজের ফাঁসের জাল রাখতে হবে যাতে সাপ আটকে যায়।

চিতলের চাষ পদ্ধতিঃ আমাদের দেশে এখনও চিতলের একক চাষ পদ্ধতি চালু হয়নি। পোনা প্রাপ্তির অভাবে মিশ্রভাবে বিচ্ছিন্নভাবে চিতলের চাষ শুরু হয়েছে। পরীক্ষা করে দেখা গেছে প্রতি ৫ শতাংশে অন্যান্য মাছের সাথে ১টি করে চিতল দিলে ১ বছরে প্রায় ২ কেজি ওজনের হয়ে থাকে। এর জন্য বাড়তি খাবারের প্রয়োজন নেই।

চিতলের রোগবালাইঃ নীবিড় পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে চিতল মাছের প্রজননের সময় পুরুষ চিতল মাছ স্ত্রী চিতল মাছের সাথে জড়াজড়ি করে একটি আরেকটিকে আক্রান্তô করে ফেলে। বিশেষ করে এদের মুখের দিকে কাঁটা বা বুকের নীচে কাঁটা দিয়ে একে অপরকে নিজের অজান্তেôই আক্রান্তô করে যা পরবর্তীতে সমস্তô শরীরে ক্ষত রোগ হিসেবে দেখা দিতে পারে। এজন্য প্রত্যেকবার ডিম দেয়ার পর পুকুরে পটাসিয়াম পার-ম্যাঙ্গানেট ছিটিয়ে দেয়া প্রয়োজন। এতে প্রজননের পর আক্রান্তô মাছগুলো দ্রুত আরোগ্য লাভ করবে। মিশ্র চাষে চিতলের রোগ বালাই নেই বললেই চলে।

উপরোল্লেখিত পদ্ধতি অনুসরণ করে করে যে কেউ চিতলের পোনা উৎপাদন করতে পারবে। যা মিশ্রচাষে খুব ভাল মুনাফা ঘরে আসবে পাশাপাশি চিতলের বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা যাবে।

- এ· কে· এম· নূরুল হক
শম্ভুগঞ্জ, ময়মনসিংহ

মনের উঠোনে

সাম্প্রতিক সংযোজন

মোবাইল থেকে দেখুন

আমাদের দেশ এখন আপনার মুঠোফোনে, মোবাইল থেকে লগইন করুন আমাদের দেশ

দ র্শ না র্থী

দ র্শ না র্থী

free counters

কে কে অনলাইনে আছেন