Showing posts with label খামার. Show all posts
Showing posts with label খামার. Show all posts

গ্লাডিওলাস

Tuesday, September 7, 2010

বর্তমান সময়ে গ্লাডিওলাস ফুলের চাহিদা ব্যাপক। লাল, হলুদ, সাদা, গোলাপি, বেগুনি, ম্যাজেন্টাসহ নানা রঙের চমৎকার এই ফুল সবার কাছে প্রিয়। যে কোনো উৎসবে এই ফুলের উপস্থিতি দেখা যায়। টিনা, পুনম, ফ্রেন্ডশিপ, হোয়াইট ফ্রেন্ডশিপসহ বিভিন্ন প্রজাতির গ্গ্ন্যাডিওলাস ফুল রয়েছে। এই ফুল চাষ করে আপনিও আয়ের পথ সুগম করতে পারেন।

জমি নির্বাচন ও বপন পদ্ধতি : এই ফুল চাষের জন্য প্রায় সব ধরনের মাটিই উপযুক্ত। তবে বেলে ও কাদামাটিতে চাষ না করাটাই ভালো। বেশি জৈব পদার্থযুক্ত মাটিই গ্লাডিওলাস ফুল চাষের জন্য ভালো। যে জমিতে এই ফুল চাষ করা হবে তাতে যেন পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকে এ বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। এই ফুলের চারা সাধারণত কন্দ থেকে তৈরি হয়। কন্দ লাগানোর আগে জমি ভালো করে তৈরি করে নিতে হবে। কন্দের আকৃতির ওপর সাধারণত নির্ভর করে ফুলের আকার ও আকৃতি। বিঘাপ্রতি ২ থেকে ৩ টন গোবর সার, ৫০ কেজি সুপার ফসফেট ও ১৫ কেজি ইউরিয়া সার মিশিয়ে জমি তৈরি করে নিতে হবে। জমি তৈরি হয়ে গেলেই কন্দ রোপণ করা যায়।
সেচ ও আগাছা দমন : কন্দ রোপণের পর সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে সেটা যেন মাত্রাতিরিক্ত না হয়। আগাছা ভালোমতো পরিষ্কার করাটা জরুরি।
ফুল সংগ্রহ : এগাছ থেকে ফুল ৭০-৯০ দিনের মধ্যেই সংগ্রহ করা যায়। দুপুরে গাছ থেকে ফুল তোলা যাবে না। ফুল সংগ্রহ করতে হবে সকাল বা বিকেলে।

ফুল বাজারজাতকরণ : ফুলের সবচেয়ে বড় বাজার হচ্ছে শাহবাগ। এছাড়া দেশের সব জেলাতেই রয়েছে অসংখ্য ফুলের দোকান। আর এসব দোকানে বর্ণিল গ্গ্ন্যাডিওলাস ফুলের চাহিদা প্রচুর। এসব দোকানে ফুল সরবরাহ করে আয় করতে পারেন।

মাশরুমের বীজ উৎপাদন

Saturday, August 7, 2010


মাশরুম বিষয়ক সকল তথ্য জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কেন্দ্র, সাভার, ঢাকা এর সৌজন্যে আপডেট করা হয়েছে

ল্যাবরেটরীতে সাধারণত দুইটি পদ্ধতিতে মাশরুমের বীজ উৎপাদন করা যায়। যেমনঃ (১) টিস্যু কালচার পদ্ধতি (২) স্পোরকালচার পদ্ধতি। টিস্যুকালচার পদ্ধতিতে জাতের বিশুদ্ধতা বজায় রেখে রোগমুক্ত বীজ উৎপাদন করা সম্ভব। সুতরাং এখানে টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে মাশরুমের বীজ উৎপাদনের সংক্ষিপ্ত পদ্ধতি তুলে ধরা হল।


টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে মাশরুমের বীজ উৎপাদন পদ্ধতি ফ্লো চার্টঃ


পিডিএ মিডিয়া প্রস্তুত প্রণালীঃ

ল্যাবরেটরীতে টিস্যুকালচার করার পূর্বে পিডিএ মিডিয়া তৈরি করতে হবে। প্রতি লিটার পিডিএ মিডিয়ার জন্য নিম্নলিখিত উপকরণসমূহ প্রয়োজন।

১। গোলআলু - ২৫০ গ্রাম

২। এগার এগার - ২০ গ্রাম
৩। গ্লুকোজ - ২০ গ্রাম

৪। এসপারসিন - ২৫০ মিলিগ্রাম

পিডিএ তৈরিঃ
প্রথমে প্রয়োজনীয় পরিমাণ আলু নিয়ে উপরের ছাল ফেলে দিয়ে পাতলা করে টুকরো টুকরো করে ১ লিটার পানিতে ফুটাতে হবে। ৩০ মিনিট ফুটানোর পর আলু সিদ্ধ হলে পাতলা কাপড় দিয়ে ছেকে নিয়ে আলু ফেলে দিয়ে ঐ পানির সাথে উল্লেখিত পরিমাণ এগার এগার, গ্লুকোজ ও এসপারজিন মিশিয়ে আরও ১৫ মিনিট ফুটাতে হবে এবং মাঝে মাঝে নাড়ন কাঠি দ্বারা নেড়ে দিতে হবে। তারপর প্রতি টেস্ট টিউবে ১০ মিঃ লিঃ করে ভরে টেস্ট টিউবের মুখ ছিপি দিয়ে ভাল করে বন্ধ করতে হবে। অতঃপর অটোক্লেভ মেশিনে ১২০-১২১ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ১.১-১.৫ কেজি/সেঃ মিঃ প্রেসারে ২০ মিনিট জীবাণু মুক্ত করে নিতে হবে। তারপর উক্ত টেস্ট টিউব গরম অবস্থায় ৪৫ ডিগ্রী কোণে কাত করে ২৪ ঘন্টার সময় রেখে দিলে তা জমাট বেঁধে পিডিএ মিডিয়া তৈরি হবে।

পিওর কালচারঃ
পূর্বে প্রস্তুতকৃত পিডিএ মিডিয়াতে সুস্থ্য, সবল, রোগমুক্ত ও জুভেনাইল (Juvinile) অবস্থার মাশরুম ফ্রুটিং বডি সংগ্রহ করে ক্লিন বেঞ্চ এর ভিতরে সার্জিক্যাল ব্লেড দ্বারা কেঁটে সরিষা দানার মত সামান্য টিস্যু নিয়ে পিডিএ মিডিয়াতে সাবধানে নিডেল দ্বারা ঢুকিয়ে দিতে হবে। এখানে উল্লেখ্য যে, এ সমস্ত কাজগুলি জীবাণুমুক্ত পরিবেশে করতে হবে। তারপর উক্ত টেস্ট টিউবকে ২০-২৫০ সেঃ তাপমাত্রায় ৭-১২ দিন রেখে দিলে দেখা যাবে টেস্ট টিউবের ভেতর সাদা মাইসিলিয়ামে পূর্ণ হয়েছে। তখনই এটা স্টক কালচারে পরিণত হবে। এই স্টক কালচারকে পিওর কালচার বলা হয়।

মাদার কালচারঃ
মাশরুম সেন্টারে প্রধানতঃ দুই পদ্ধতিতে মাদার কালচার তৈরি করা হয়। (১) কাঠের গুড়া পদ্ধতি (২) গম পদ্ধতি

কাঠের গুড়া পদ্ধতিঃ

কাঠের গুড়ার মাদার কালচার তৈরি করতে নিম্নলিখিত উপকরণাদীর প্রয়োজনঃ (৩০০ গ্রামের ৪টি মাদার কালচারের জন্য)

উপকরণের নাম
পরিমাণ
কাঠের গুড়া ৪০০ গ্রাম
গমের ভূষি
২০০ গ্রাম
ক্যালসিয়াম কার্বনেট ৬০ গ্রাম
পানি ৫০%

উল্লিখিত পরিমাণ কাঠের গুড়া, গমের ভূষি, ধানের তুষ, চুন ও পানি মিশ্রিত করে পিপি ব্যাগে ৩০০ গ্রাম করে ভরে প্লাস্টিক নেক দ্বারা বেঁধে কাঠের লাঠি দ্বারা ছিদ্র করে কটন স্টপার দিয়ে মুখ বন্ধ করে ব্রাউন পেপার দিয়ে ঢেকে রাবার ব্যান্ড দিয়ে বেধে দিতে হবে। তারপর অটোক্লেভ মেশিনে ১২০-১২১ ডিগ্রী সেঃ তাপমাত্রায় ও ১.১-১.৫ কেজি/সি.মি. প্রেসারে ১ ঘন্টাকাল জীবাণুমুক্ত করতে হবে। অতঃপর পিওর কালচার থেকে সামান্য মাইসেলিয়াম খণ্ড উক্ত প্যাকেটে জীবানুমুক্ত অবস্থায় ইনোকুলেশন করতে হবে। পরে প্যাকেটগুলি গ্রোথ চেম্বারে ২০-২৫ ডিগ্রী সেঃ তাপমাত্রায় ১২-১৫ দিন রাখার পর মাইসিলিয়াম দ্বারা পূর্ণ হলে তা মাদার কালচার হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এছাড়াও মাদার কালচার তৈরির জন্য গম, জোয়ার এবং খড় ব্যবহার করা যায়।

গমের মাদার কালচার তৈরি পদ্ধতিঃ
কাঠের গুড়ার পরিবর্তে গম দিয়ে মাদার কালচার তৈরি করা যায়। বর্তমানে অত্র সেন্টারে এ পদ্ধতিতেও মাদার কালচার প্রস্তুত করা হয়ে থাকে।
প্রথমে ভাল গম ময়লা আবর্জনা ঝেড়ে ১২-১৪ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর ভাল করে ধুয়ে সমপরিমাণ পানিতে ৩০-৪৫ মিঃ এমনভাবে সিদ্ধ করতে হবে যেন গম যথেষ্ট নরম হবে কিন্তু ফেটে যাবে না। বেশি সিদ্ধ করা চলবে না। তারপর পানি ঝরিয়ে ঠান্ডা করে প্রতি কেজি গমের সাথে ১০০ গ্রাম চুন (ক্যালসিয়াম কার্বনেট) মিশিয়ে গমকে ঝরঝরে করে নিতে হবে। পরে পিপি ব্যাগে ৩০০ গ্রাম ওজনের গম ভরে নেক লাগিয়ে রাবার ব্যান্ড দ্বারা বেঁধে দিতে হবে। তারপর তুলা দ্বারা মুখ এটে ব্রাউন পেপার দিয়ে ঢেকে রাবার ব্যান্ড দিয়ে বাঁধতে হবে। প্যাকেটগুলোকে অটোক্লেভ ১২০-১২১ ডিগ্রী সেঃ তাপমাত্রায় ও ১.১-১.৫ কেজি/সি.মি. চাপে এক ঘন্টা জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে। উপরোক্ত নিয়মে পিউর কালচার দিয়ে ইনুকুলেশন করে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় রেখে দিলে ১০-১৫ দিনের মধ্যে সাদা মাইসেলিয়ামে ভরে গেলেই মাদার কালচারে রূপান্তরিত হবে।

তথ্যসূত্র : দি-এডিটর




কুমির রপ্তানি শুরু


অবশেষে ময়মনসিংহের ভালুকার কুমির রপ্তানি শুরু হয়েছে। গত ৪ জুন বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো খামারে উৎপাদিত কুমির বিদেশে রপ্তানি করা হয়। ময়মনসিংহের ভালুকায় অবস্থিত রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেড দেশের এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে এই প্রথম ৬৭টি হিমায়িত কুমির জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রপ্তানি করেছে। আগামী ডিসেম্বরে ছোট-বড় মিলিয়ে আরো প্রায় চার শ হিমায়িত কুমির বিদেশে রপ্তানি করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে। গত মার্চে ভালুকা থেকে কুমির রপ্তানির সব কিছু ঠিকঠাক থাকলেও প্রশাসনিক কিছু নিয়মের কারণে কুমির রপ্তানি প্রায় দুই মাস বিলম্বিত হয়।
রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেড প্রকল্পের অবস্থান ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে শালবনের ভেতরে উথুরা ইউনিয়নের হাতিবেড় গ্রামে। কুমির প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয় ২০০৪ সালে। ওই বছরের ২২ ডিসেম্বর মালয়েশিয়া থেকে প্রায় সোয়া কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৫টি কুমির আনা হয়। এর মধ্যে পুরুষ কুমির ছিল ১৩টি। আনার পরদিনই এগুলো বিশেষভাবে তৈরি পুকুরে ছেড়ে দেওয়া হয়। শুরুতে প্রকল্পের সাফল্য নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে সংশয় ও দুশ্চিন্তা ছিল। প্রথম দুশ্চিন্তা ছিল ডিম পাড়া নিয়ে। পরের দুশ্চিন্তা ছিল ডিম ফোটা ও বাচ্চা বড় হওয়া নিয়ে। ২০০৬ সালের আগস্টে প্রথমে দুটি কুমির ডিম দেয়। প্রথম প্রজনন বছরে ডিম ও বাচ্চার সংখ্যা কম হলেও ক্রমান্বয়ে এ সংখ্যা বাড়তে থাকে। ২০০৭ সালেও এখানের কুমিরের সংখ্যা ছিল ২০৭টি। ৬৭টি রপ্তানির পর বর্তমানে এখানে ছোট-বড় সাড়ে ৭০০ কুমির আছে। প্রকল্পে দিন দিন কুমিরের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। এবারের বর্ষা মৌসুমেও কুমির ডিম দেওয়া শুরু করেছে। গত ৩ জুন একটি কুমির ৫৪টি ডিম দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় এবং সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেডের ব্যাংকিং সহায়তায় এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। এ ছাড়া এবার কুমির রপ্তানিকালে হিমায়িত কুমির প্যাকিংসহ সংশ্লিষ্ট কাজে সহযোগিতা করেছে ঢাকার এনাম এন্টারপ্রাইজ। রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুশতাক আহম্মেদ বলেন, কুমির চাষ খুবই লাভজনক একটি প্রকল্প। কুমিরের কোনো কিছুই ফেল না নয়। এর চামড়া, মাংস, হাড়, দাঁত_সবই চড়া মূল্যে বিক্রি হয়। ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, স্পেনসহ বিভিন্ন দেশ এখান থেকে কুমির নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কুমির রপ্তানির সংখ্যা বাড়তেই থাকবে, যা দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

তথ্যসূত্র : দি-এডিটর

মৎস্য পোনা, খাদ্য ও পুকুর ব্যবস্থাপনা


নদী মাতৃক এ দেশ আমাদের বাংলাদেশ। ধান ও মাছের প্রাচুর্যতা ছিল বলেই এক সময় আমাদের মাছে ভাতে বাঙালি বল হত। বিভিন্ন সময়ে ধানের উচ্চফলনশীল জাতের অবিষ্কার হলেও মাছের ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে আছি। বিগত আশির দশকে প্রাকৃতিক অভয়াশ্রমগুলো বিভিন্ন কারণে সংকুচিত হয়ে আসে। পাশাপাশি কারেন্টজালের ব্যবহার এক ভয়বহ চিত্র তুলে ধরে আমাদের সামনে। এই জাল ব্যবহারের ফলে পানি থাকবে, মাছের অভয়াশ্রম থাকবে, পানির স্রোত থাকবে, খাল, বিল, নদীনালা, হাওড় বাওড় সবই থাকবে, থাকবে না শুধু মাছ। কারণ একটাই, কারেন্ট জাল। তাই আশির দশকে নানাবিধ কারণে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে মৎস্যসম্পদ বাড়ানোর লক্ষ্যে ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রায় ৮০০-এর মত মৎস্য হ্যাচারি গড়ে ওঠে।

পোনা সংগ্রহ : আশির দশকে বিভিন্ন হ্যাচারি কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে রেনু, রেনু থেকে পোনা আর পোনা থেকে বড় মাছের চাষের উপর সবাই জোর দিতে শুরু করে। ফলে নব্বই-এর দশকে মৎস্যশিল্পে ঘটে বিপ্লব। বর্তমানে এ শিল্প বিভিন্ন কারণে লোকসানের ভার বইতে বইতে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মেধা আর পরিশ্রম দিয়ে বিন্দু বিন্দু করে গড়া হ্যাচারি মালিকের চোখে আজ গাঢ় অন্ধকার। বেঁচে থাকার জন্য এ সময় আন্ত-প্রজননমুক্ত ব্রুড মাছের পোনা উৎপাদনের কথা বলা হচ্ছে। জোর দেয়া হচ্ছে হালদা, পদ্মা, যমুনার উৎস হতে পোনা সংগ্রহের মাধ্যমে ব্রুড তৈরি করাসহ আরও অনেক নীতিনির্ধারণী কথা। সরকারি আইনের কথাও বলা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বলতে চাই- আমাদের দেশে ছোট ছোট হ্যাচারি মালিকদের পক্ষে হালদা বা পদ্মা থেকে পোনা বা ব্রুড সংগ্রহ করা অসম্ভব ব্যাপার। সরকারি উদ্যোগে এসব পোনা সংগ্রহ করে হ্যাচারি মালিকদের সরবরাহ করার পাশাপাশি উন্নতমানের পোনা উৎপাদনকারী হ্যাচারিগুলোকে রেজিষ্ট্রিশনের আওতায় আনতে হবে। শুধু উন্নত ব্রুড সরবরাহ করলেই চলবে না, তা বাজারজাত করার জন্য সরকারের রাখতে হবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বিদেশ থেকে এখন কার্পজাতীয় মাছ আমাদের দেশে আসে। আর এই কার্পজাতীয় মাছ থেকে উৎপাদিত হয় কোটি কোটি পোনা। কিছুদিন ধরে শোনা যাচ্ছে- সরকার শুধু পাঙ্গাসের পোনা বা ব্রুড আনার পরিকল্পনা করছে বিদেশ থেকে, কিন্তু কার্পজাতীয় মাছের ক্ষেত্রে কোন সিদ্ধান- হয়নি। এক্ষেত্রে পাঙ্গাসের পোনা আমদানি করলে ৪/৫ বছর লাগবে প্রজননক্ষম হতে, আবার ডিমঅলা মাছ অনাও সম্ভব নয়। এটুকু বুঝতে বুঝতে অনেকটা সময় আমাদের পার হয়ে গেছে। তাই, বিদেশ থেকে মাছ আমদানিতে দেরি করা এখন আর ঠিক হবে না।

মৎস্য খাদ্য : মৎস্য খাদ্য উৎপাদনের মূল উপকরণের মধ্যে রয়েছে খৈল, কুঁড়া, শুটকি মাছের গুঁড়া, মিট এন্ড বোন উল্লেখযোগ্য। এরমধ্যে স্থানীয়ভাবে যোগান দেয়া হয় খৈল, কুঁড়া এবং অল্প পরিমাণে শুটকি গুঁড়া। বিদেশে শুটকির উচ্চমূল্য থাকার কারণে

কমমূল্যে মিট এন্ড বোন দিয়ে মৎস্য খাদ্য প্রস্তুত হয়। খাদ্য পরীক্ষা করলে হয়ত কাঙ্ক্ষিত প্রোটিন পাওয়া যেতে পারে কিন্তু মিট এন্ড বোন দিয়ে তৈরি খাদ্য মাছ কতটুকু হজম করতে পারে বা কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কিনা সে পরীক্ষার দাবি রাখে। মৎস্য খাদ্য প্রস্তুতে এসব উপাদান মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকারক কিনা তাও পরীক্ষা করে দেখা দরকার।

আমাদের দেশে রাইসমিলে উন্নতমানের কুঁড়া পাওয়া যায়। পোল্ট্রি ও মৎস্যশিল্পে রয়েছে এর ব্যাপক চাহিদা। দুঃখের বিষয় যে, এই কুঁড়া দেশের চাহিদা না মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করে। আর সেই কুঁড়া থেকে তেল তৈরি হয়ে ফিরে আসে আমাদেরই দেশে। আমরা কিন্তু সেই কুঁড়াই আবার বিদেশ থেকে কিনে আনছি আমাদের প্রয়োজন মেটাতে বেশি দামে। এদিকে সরকারের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

পুকুর ব্যবস্থাপনা: পুকুরের ভাল পরিবেশ বলতে বোঝায়- প্রতিবছর একবার করে পুকুরের তলা শুকিয়ে অথবা তলার মাটি ফেলে দিয়ে পুকুরকে সারা বছরের জন্য গ্যাসমুক্ত রাখতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পরিবর্তনের ব্যবস্থা ও সারা বছরই মাছ যাতে রোগমুক্ত থাকে সে ব্যবস্থা করতে হবে। অনেক খামারি মাছ চাষে কোন সমস্যা হলেই চুন ব্যবহার করেন বা অন্যকে করতে পরামর্শ দেন। এটা ঠিক না। পুকুরের পানিতে পি.এই -এর মাত্রা বেশি থাকার পরও চুন প্রয়োগ করলে পি.এইচ -এর মাত্রা আরও বেড়ে যায়। ফলে মাছ চাষে ক্ষতির সন্মুখিন হতে হয়। পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন কত থাকা দরকার, কত মাত্রা পর্যন- অ্যামোনিয়া মাছ চাষে সহায়ক তা শতকরা ৯৮ ভাগ মৎস্য খামারিরা জানে না। অপরীক্ষিত নানা ওষুধ দিয়ে খামারিরা মাঝে মাঝে ক্ষয়ক্ষতির সন্মুখিন হয়। তাই মৎস্য বিভাগকে নিতে হবে এইসব মৎস্য খামারিদের প্রশিক্ষণের দায়িত্ব। সমাধান করতে হবে তাদের নানা ধরনের সমস্যা।

তথ্যসূত্র: শাইখ সিরাজ রচিত ‘মাটি ও মানুষের চাষবাস’ গ্রন্থ থেকে সংগ্রহীত

দেশি পাবদার চাষ প্রযুক্তি


পাবদা মাছ একটি বিলুপ্ত প্রজাতির মাছ। এই মাছ অত্যন- সুস্বাদু এবং জনপ্রিয়। আমাদের দেশে বেশ আগে হাওড়-বাঁওড় -বিলে এই মাছটির পাওয়া যেত। কালের বিবর্তনে প্রাকৃতিক অভয়ারণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে এই মাছটি আমাদের দেশ থেকে বিলুপ্ত হতে চলেছে। আমরা এই মাছটিকে ব্যাপকভাবে উৎপাদনের জন্য অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ২০০২ সালে ব্যাপকভাবে পোনা উৎপাদনে সক্ষম হয়েছি। এই মাছটি উৎপাদন করতে গিয়ে বিভিন্ন হাওড়-বাঁওড় থেকে জীবিত ব্রুড মাছ সংগ্রহ থেকে শুরু করে, ভৌত অবকাঠামো গড়ে তোলা দক্ষ জনবল তৈরি করাসহ ২ বছর ধরে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে পোনা উৎপাদন ছিল অত্যন- ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয় বহুল একটি কাজ। সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণার হাওড়-বাঁওড় থেকে ব্রুড মাছ সংগ্রহ ছিল এক বিরাট ঝুঁকির কাজ। ৫% বেশি ব্রুড মাছ বাঁচানো সম্ভব হয়েছিল। তারপর এই মাছগুলোকে কৃত্রিম খাবারে অভ্যস- করারও ছিল এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। কারণ একটি পুষ্টিকর খাবার ছাড়া ব্রুড মাছ কখনও ভালমানের বাচ্চা জন্ম দিতে পারে না। আর সে জন্য এই মাছকে ধীরে ধীরে কৃত্রিম খাবারে অভ্যস- করানো ছিল এক বিরাট সাধনা এবং অভিজ্ঞতাও বটে। প্রতিটি দিনেই যেন এক নতুন নতুন অভিজ্ঞতায় পুলোকিত বোধ করছিলাম। অবশেষে মাছগুলো কৃত্রিম খাবারে অভ্যস- হল। অন্য কারো পরামর্শ বা প্রযুক্তি ছাড়াই ২০০০ সালে পরীক্ষামূলকভাবে পোনা উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছিলাম যা আমাদের পরিশ্রমকে সার্থক করে তুলেছে। তারপর ব্রুড থেকে রেনু, রেনু থেকে পোনা উৎপাদন হল। সারা দেশে পোনা বাজারজাত হল। এ থেকে সব খামারিরাই কৃত্রিম খাবারে অভ্যস- পোনা পেল। যা থেকে পরবর্তিতে ব্রুড মাছের সহজলভ্যতা এল। কিন্তু এর পেছনে কত গভীর নিরলস পরিশ্রম করতে হয়েছে তা শুধু আমিই জানি। অবশ্য আমি ব্যবসাও করেছি। এখন স্বল্প পরিসরে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে অতিসহজেই আমার প্রযুক্তিতে যে কেউ চাহিদা মাফিক পোনা উৎপাদন করতে সক্ষম হবে বলে আমার বিশ্বাস।

প্রজননক্ষম মাছ সংগ্রহ ও পরিচর্যা : পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, ১০/১১ মাস বয়সে একটি পাবদা মাছ প্রজননে সক্ষম হয়। সুস্থ ও সবল মাছ শতাংশ প্রতি পুরুষ ও স্ত্রী মাছ ৫০ : ৫০ অনুপাতে ৭০/৮০টি মজুদ করে নিয়মিতভাবে দেহের ওজনের ৫% হারে সম্পূরক খাবার দিতে হয়। ৩০% ফিস মিল, ৩০% সরিষার খৈল, ৩০% অটোকুড়া, ১০% ভূষি ও ভিটামিন প্রিমিক্্র সহকারে সম্পূরক খাবার তৈরি করা যায় অথবা বাজারের কৈ মাছের ফিড কাওয়ালেও চলবে।

প্রজননের জন্য উপযোগী স্ত্রী ও পুরুষ মাছ বাছাই : সাধারণত এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে আগষ্ট মাস পর্যন- পাবদা মাছের প্রজনন কাল। এই সময়ে স্ত্রী মাছের পেটে ডিম ভর্তি থাকে। এছাড়াও পাবদা স্ত্রী মাছের পাখনার কাঁটাগুলোর খাঁজগুলো খুব স্পষ্ট নয় যতটা না পুরুষের ক্ষেত্রে। প্রজনন করার জন্য মাছ ও মাছ বাছাইয়ের জন্য স্ত্রী মাছের উদরে ডিম ভর্তি দেখে পরিপক্কতা সম্পন্ন মাছ বাছাই করে নিতে হয়।

হরমোন ইনজেকশনের দ্রবণ তৈরি এবং ইনজেকশন দেওয়ার পদ্ধতি : কৃত্রিম প্রজননের জন্য প্রথমে মাছ বাছাই করতে হয়। এক্ষেত্রে সমপরিমাণ পুরুষ ও স্ত্রী মাছ বাছাইয়ের পর পি.জি. দ্রবণের ইনজেকশন দিতে হয়।

১. প্রথমে প্রজননক্ষম উপযোগী স্ত্রী ও পুরুষ মাছ সমন অনুপাতে হাপাতে ছাড়তে হবে।

২. প্রথম ইনজেকশনের সময় শুধুমাত্র স্ত্রী মাছকে ২/৩ মিঃ গ্রাঃ হারে অর্থাৎ ১ কেজি মাছের জন্য ৩ মিঃ গ্রাঃ পি.জি. এর দ্রবণ পাখনার কাটার নিচে প্রয়োগ করতে হবে।

৩. প্রথম ইনজেকশনের ৬ ঘন্টা পর প্রতি কেজি স্ত্রী মাছের জন্য ৪/৬ মিঃ গ্রাঃ হারে ২য় ইনজেকশন এবং একই সাথে ২য় ইনজেকশনের সময় পুরুষ মাছকে ৪/৬ মিঃ গ্রাঃ হারে ইনজেকশন দিতে হবে। ২য় ইনজেকশনের ৭/৮ ঘন্টার মধ্য সাধারণত প্রাকৃতিকভাবে প্রজনন ক্রিয়ার মাধ্যমে ডিম ছাড়ে।

দুটি পদ্ধতিতে পাবদা মাছের ডিম সংগ্রহ করা যায়-

১. হাপা পদ্ধতি : প্রথমে ১ সেঃ মিঃ ব্যাস ফাঁক বিশিষ্ট পলিথিন জাতীয় জাল দিয়ে একটি হাপা তৈরি করতে হবে। হাপার মাপ হবে দৈর্ঘ্যে ১২ ফুট প্রস্থে ৪ ফুট। উপরের অংশ খোলা হাপাটিকে এমনভাবে সিস্টার্ণে স্থাপন করতে হবে যেন সম্পূর্ণ হাপাটির নীচের অংশ অর্থাৎ তলার অংশ সিস্টার্ণের তলা থেকে কমপক্ষে ৬ ইঞ্চি উপরে থাকে। এরপর পুরুষ ও স্ত্রী মাছকে ইনজেকশন করে ১ : ১ অনুপাতে হাপায় ছাড়তে হবে। পরে পানির কৃত্রিম ঝর্ণা দিয়ে স্রোতের সৃষ্টি করতে হবে। এই জাতীয় এক একটি হাপায় ৬০/৭০ জোড়া পাবদা মাছ ইনজেকশন করে ছাড়া যেতে পারে। ইনজেকশন এমন সময়ে করতে হবে যেন মাছগুলো গভীর রাতে ডিম দেয়। কারণ, রাত যত গভীর হবে পাবদা মাছে ডিম দিতে তত স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে। গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন- মাছগুলো ডিম দেয়া শেষ করবে। ডিম দেয়া শেষ হলে ব্রুড মাছসহ হাপাটিকে সাবধানের সাথে তুলে নিতে হবে। যেহেতু হাপাটিতে ব্যবহৃত জালটি ১ সেঃ মিঃ ফাঁক বিশিষ্ট তাই মাছগুলো ডিম দেয়ার সাথে সাথে হাপার জালের ফাঁক দিয়ে ডিমগুলো সিস্টার্ণের তলায় পড়ে যাবে। পাবদা মাছের ডিম সামান্য আঠালো থাকা সত্ত্বেও হাপাটি পলিথিন জাতীয় জালের ব্যবহারের জন্য হাপার জালে ডিম আটকাবে না এবং হাপার নীচে পড়ে যাবে অর্থাৎ সিস্টার্ণের তলায় জমা হবে। ব্রুড মাছগুলো সরিয়ে নেয়ার পর সিস্টার্ণের তলায় থেকে সাইফনের মাধ্যমে ডিমগুলোকে একটি প্লাস্টিকের গামলায় সংগ্রহ করা হয়।

২. সিস্টর্ণ পদ্ধতি : এ পদ্ধতিতে পাবদা মাছের ব্রুড মাছগুলোকে পি.জি. হরমোন দিয়ে ইনজেকশন করে সরাসরি সার্কুলার ট্যাংক বা পানির হাউজে ছাড়তে হবে। পানির কৃত্রিম ঝর্ণা দিয়ে স্রোতের সৃষ্টি করতে হবে। বিকেলে পাবদা মাছকে ইনজেকশন দিলে শেষ রাতে ডিম দেয়া শেষ হবে। ডিমগুলো সাকর্ুলারের বা হাউজের মাঝখানে জমা হবে। জমাকৃত ডিমগুলোকে সাইফন পদ্ধতিতে প্লাস্টিক গামলায় একসাথে করতে হবে।

উপরোল্লিখিত ২টি পদ্ধতিতেই পাবদা মাছের ডিম সংগ্রহ করা যায়। তবে হাপা পদ্ধতিতে ডিম সংগ্রহ আমার কাছে বেশি উপযোগী মনে হয়েছে। নিবিড় পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে যে, সিস্টার্ণ পদ্ধতিতে ডিম দেয়ার পর পুরুষ পাবদা মাছ কিছু ডিম খেয়ে ফেলে। সাইফন পদ্ধতিতে প্লাস্টিকের গামলায় ডিমগুলোকে নিয়ে শীটের তৈরি ট্রে অথবা সিমেন্টের তৈরি সিস্টার্ণে রাখতে হবে। ট্রে বা সিস্টার্ণের পানির উচ্চতা হবে ৩-৪ ইঞ্চি। এই অবস্থায় ট্রেতে ছিদ্রযুক্ত পাইপ দিয়ে ঝর্ণার ব্যবস্থা করতে হবে। ২০ ঘন্টার মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হবে। বাচ্চা হওয়ার ৩ দিনের মধ্যে ডিম্বথলী শোষিত হয়ে রেণু পোনায় পরিণত হয়। বাচ্চা ফুটে বের হওয়ার ২৪ ঘন্টা পর ডিম্বথলী থাকা অবস্থায় খাবার খেতে পারে। এরা স্বগোত্রভোজী তাই প্রতি ৩ ঘন্টা অন-র অন-র খাবার দিতে হয়। খাদ্য হিসেবে এদের ক্ষুদ্র লাল কেঁচো ভাল করে ব্লেন্ডার করে এক থেকে দুই দিন খাওয়ানোর পর রেণুগুলোকে পুকুরে স্থানান-র করতে হবে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং মৎস্য বিজ্ঞানীগণ পাবদা মাছের পোনা উৎপাদনের উপরও কাজ করছেন। সমসাময়িক সময়ে কিন্তু তাদের উদ্ভাবিত পাবদা মাছের পোনা উৎপাদনের কৌশল আমার কাছে ততটা লাগসই প্রযুক্তি মনে হয়নি। অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন যে, পাবদা মাছের বেনুকে ১০/১২ দিন সিস্টার্ণে রেখে ১ ইঞ্চি সাইজ হওয়ার পরে নার্সারিতে স্থানান-রের কথা বলেন। কিন্তু এই পদ্ধতিতে কখনই একজন মৎস্য চাষি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পোনা উৎপাদন করতে পারবে না। কারণ-

ক. পাবদা মাছ স্বগোত্রভোজী বলে সিস্টর্াণে একটি অপরটিকে খেতে খেতে ১০/১২ দিন পরে এক দশমাংশ পোনাও আর অবশিষ্ট থাকবে না।

খ. যে পদ্ধতিতে ডিম সংগ্রহ করার কথা বিজ্ঞানীগণ বলে থাকেন সে পদ্ধতিতে পাবদা মাছ আশানুরূপ ডিম দেয় না।

আতুর পুকুর বা নার্সারি পুকুর প্রস্তুতির উল্লেখযোগ্য দিক :

১. আতুর পুকুর বা নার্সারি পুকুরে যাতে কোন প্রকার ব্যাঙ, সাপ বা অবাঞ্ছিত কোন প্রাণী না ঢুকতে পারে সে জন্য পুকুরের চারপাশ জাল দিয়ে ভালভাবে ঘের দিতে হবে।

২. নার্সারি পুকুরে অতিরিক্ত খাদ্য প্রয়োগ করা যাবে না।

৩. সপ্তাহে ২ দিন হররা টানতে হবে।

৪. নার্সারি পুকুরের খাদ্য হিসেবে ৫০% কুড়া এবং ৫০% শুটকি মাছের গুঁড়ো একসাথে মিশিয়ে প্রতিদিন রেনুর ওজনের ২০% প্রয়োগ করতে হবে।

৫. এরা সাধারণত রাতে খেতে পছন্দ করে। তাই উপরোল্লিখিত খাবারটি রাতে ২বার প্রয়োগ করা যেতে পারে।

পাবদা মাছের চাষ পদ্ধতি এখনও আমাদের দেশে ব্যাপকহারে প্রচলন ঘটেনি। এর কারণ হিসেবে পোনা উৎপাদনের লাগসই প্রযুক্তির অভাবের কারণেরই এমনটা হচ্ছে বলে আমার মনে হয়েছে। আমার এই পদ্ধতি অনুসরণ করে যে কেউ কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ পাবদা মাছের পোনা উৎপাদনে সক্ষম হবে এটা আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি। পাবদা মাছের একক চাষ অর্থাৎ এককভাবে পাবদা চাষ করলে এই মাছ খুব একটা বড় হয় না। সেক্ষেত্রে মিশ্র চাষে যেকোন মাছের সাথে চাষ করলে ৯/১০ মাসে এক একটি পাবদা মাছ ৫০ গ্রাম ওজন হয়ে থাকে। মিশ্র চাষে পাবদা মাছের মজুদ ঘনত্ব হবে শতাংশ প্রতি ৩০-৫০টি। তেলাপিয়ার সাথে পাবদা মাছ ভাল হয়ে থাকে এ কারণেই যে তেলাপিয়ার অবাঞ্চিত বাচ্চা পাবদা মাছ খেয়ে তাড়াতাড়ি বড় হয়।

তথ্যসূত্র: শাইখ সিরাজ রচিত ‘মাটি ও মানুষের চাষবাস’ গ্রন্থ থেকে সংগ্রহীত

বাড়ির আঙ্গিঁনায় হরিণ পালন

Monday, August 2, 2010


প্রকৃতির এক সুন্দরতম বন্য প্রাণীর নাম হরিণ। এর রঙ-চঙা শরীর আবাল-বৃদ্ধ বনিতা সকলের নিকট আকর্ষণীয়। দেশের অধিকাংশ মানুষ যদিও হরিণ সচক্ষে দেখার সুযোগ পান না তবুও ছবির হরিণ প্রায় সকলেরই চেনা। যে শিশুটি সদ্য কথা বলতে শিখেছে সেও কিন্তু হরিণ নামের পশুটিকে শব্দে শব্দে চিনে নেয়। আর অর জ্ঞানের প্রারম্ভেই "হ"-তে হরিণ শিখে নেয় এবং রঙিন ছবির পশুটিকে তার আরো কাছে এন দেয়। হরিণ আজ আর দেশের সকল বনে-জঙ্গলে নেই। এদের আবাসমূল এখন চিড়িয়াখানায় আর সুন্দরবনে। অতি কম সংখ্যায় হলেও, তবু কিন্তু কিছু কিছু সৌখিন ব্যক্তি বাড়ির আঙ্গিঁনায় হরিণ পালন করে থাকেন।

বন্য প্রাণী বনাম গৃহপালিত পশুঃ
প্রাচীনকালে মানুষ তাদের ক্ষুধা নিবারনের জন্য বন্য পশু শিকার করত। সে সময় বন্য পশু শিকার নিতান্তই প্রয়োজনের তাগিদে ছিল, শখ বা বিনোদনের জন্য নয়। এক সাথে কয়েকটি প্রাণী ধরতে পারলে, প্রয়োজনমত জবাই করে বাকীগুলো ভবিষ্যতের জন্য গৃহে আবদ্ধ করে রাখতো। সেই ধ্যান-ধারনা থেকেই সম্ভবতঃ বন্য প্রাণী নিজ গৃহে লালন পালনের সূত্রপাত ঘটে। গৃহে আবদ্ধ বন্য প্রাণীদের মধ্যে কিছু প্রজাতি মানুষের বশ্যতা স্বীকার করে নেয় এবং মানুষের কাছে থেকেই বংশবিস্তার করতে থাকে। এ প্রসংঙ্গে পবিত্র আল কুরআনের সুরা ইয়াছিনে আলাহ পাক এরশাদ করেছেন।
"আমি চতুম্পদ জন্তুগুলোকে ওদের বশীভূত করে দিয়েছি; কতক তাদের খাদ্য আর কতক তাদের বাহন, তবুও কি তারা কৃতজ্ঞ হবে না"
গরু মহিষ ভেড়া ছাগল মাংসের জন্য আর ঘোড়া, গাধা, খচ্চর, হাতী বোঝা বহনের কাজে লাগানোর জন্য জঙ্গল থেকে ধরে এনে গৃহপালিত করা হয়েছে। সঙ্গত কারনেই হরিণ পালন অবাস্তব একটা ধারনা নয়।

বাংলাদেশের বন্য প্রাণী হরিণঃ
মানুষের বেঁচে থাকার জন্য যেমন গাছ-পালার প্রয়োজন, তেমনি গহীন অরণ্য আর বনাঞ্চলের নীরব-শান্ত পরিবেশও বনের জীব-জন্তুদের জন্য অতীব প্রয়োজনীয়। অরণ্যের শোভা হচ্ছে নানা জাতীয় বৃ আর উদ্ভিদ। সৃষ্টিকর্তার অপার মহিমায় বৈচিত্রময় বনে নানা ধরনের পশুপাখির সমারোহ ঘটেছে। কিন্তু দূরদর্শীতার অভাব আর খামখেয়ালী চিন্তা-ভাবনার ফলে বনরাজিকে ক্রমশঃ নিশ্চিহ্ন করে চলেছে সেরা জীব মানুষরাই। এক সময় এ দেশের বিভিন্ন বনাঞ্চলে বিশেষ করে ঢাকা, ময়মনসিংহ, টাংগাইল, জামালপুর, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, পার্বত্য-চট্টগ্রাম ও সিলেটে ছিল মায়াভরা ডাগর চোখের মনোমোহিন দৃষ্টির হরিণদলের প্তি পদচারণা।
আগে এদেশে বেশ কয়েক প্রজাতির হরিণ ছিল। তম্মধ্যে চিত্রা, সাম্বার, পারা, বারশিংগা ও মায়া হরিণ উলেখযোগ্য। অথচ বর্তমানে কেবল চিত্রা হরিণই চোখে পড়ে, তাও কেবল সুন্দরবন অথবা চিড়িয়াখানাগুলোতে। জানা যায় সিলেটের বনাঞ্চল ও চা বাগানে আগে মায়া হরিণ বিচরণ করতো। এরা নম্র স্বভাবের আর ভয় পেলেই কুকুরের মত "ঘেউ ঘেউ" করতো। অথচ এখন আর বনের মাঝে বা চা বাগানের সঙ্কীর্ন আঁকা-বাঁকা পথে এদের দেখা যায় না। চট্টগ্রাম অঞ্চলে অনেকেই সৌখিনতার বসে মায়া হরিণ পালন করতেন। হয়তো এমন হতে পারে অদূর ভবিষ্যতে, বর্তমানের চিত্রা হরিণও অন্যান্য প্রজাতির হরিণের মতন এ দেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। যেহেতু চিড়িয়াখানাগুলোতে চিত্রা হরিণ অত্যন্ত সহজে পোষা সম্ভব হচ্ছে সেহেতু বসতভিটায়ও হরিণ পোষা বাস্তব দিক থেকে সম্ভব।

অর্থনৈতিক দিক বিবেচনায় হরিণ পালনঃ
হরিণ পালন বেশ লাভজনক। গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া এবং হাঁস-মুরগির মাংসের তুলনায় হরিণের মাংস অবশ্য অনেক বেশি ব্যয়বহুল। সম্ভবতঃ সেটা অনেকটা দুষপ্র্যাপ্যতার কারণেই হবে। সে সুযোগটা কাজে লাগিয়ে বসতভিটায় হরিণ পালনের মাধ্যমে আয়-রোজগার করার ধ্যান-ধারনা তাই হয়েতো অবাস্তব কিছু হবে না।
* হরিণ পালন আমাদের সমাজে আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। যে বাড়ীতে হরিণ পালিত হয় সে বাড়ির মালিকের পরিচিতি সর্বত্র ছড়িয়ে যায়। এই পরিচিতিতে তিনি অবশ্যই আনন্দিত ও গৌরবান্বিত হন মনে মনে। সেই সাথে আগন্তুক বা জনসাধারনও বিনোদনের খোরাক পান। আর বিশেষ করে ছোট ছেলে মেয়েদেরতো সীমাহীন আনন্দের উৎস হয় এই হরিণ-হরিণী।
* পশমযুক্ত হরিণের চামড়া যা ফ্যানসি স্কিন (Fancy skin) হিসাবে ঘরের দেয়ালে শোভা বর্ধন করে তার কিন্তু মূল্য যথেষ্ট। এছাড়া চামড়াজাত বিভিন্ন প্রকারের অতি মূল্যবান পণ্য তৈরিতে হরিণের চামড়া ব্যবহৃত হয়। দেশে বিদেশে ঘরের পরিবেশ সুশোভিত করতে হরিণের ফ্যানসি চামড়া অতি কাঙ্খিত একটি উপকরণ।
* হরিণের শিং যে কতো বৈচিত্রময় ও কাব্যিক হতে পারে তার একমাত্র দৃষ্টান্ত হচ্ছে সে নিজেই। পুরুষ হরিণের এক জোড়া শিং ড্রয়িং রুমের অবরবকে আভিজাত্য আর সৌন্দর্যের আবরণে রূপময় করে তোলে। উলেখ্য যে প্রজনন ঋতুতে হরিণের মাথায় শিং গজায় এবং এক সময় তা আবার স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতে খসে পড়ে। ফলে সখের বশে হরিণ পালন করা হলে তা থেকে প্রতি বছরই এক জোড়া শিং উপহার পাওয়া যায়।

বসতবাড়ীতে হরিণ পালন ও পরিচর্যাঃ
কৃষিভিত্তিক এদশের মানুষ বহুকাল ধরেই গরু, মহিষ, ভেড়া, ছাগল পালন করে আসছে। তাদের এ বাস্তব অভিজ্ঞতা ও চিন্তা-ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে তৃনভোজী আলোচ্য এই আকার্ষণীয় প্রাণীটিকে লালন পালন ও পরিচর্যার জন্য উদুদ্ধকরণ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ছাগল পালনের ন্যায় হরিণ পালনও একটি সহজসাধ্য ব্যাপার। আমাদের দেশের আবহাওয়া হরিণ পালনের জন্য যথেষ্ট অনুকূল। পরিচর্যার ক্ষেত্রে তেমন কোনো জটিলতা না থাকলেও এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ পশুচিকিৎসক ও পশুপুষ্টিবিদগণ সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করতে পারবেন। বর্তমান বিশ্ব এখন প্রযুক্তির চরম সীমায় উপস্থিতি। এমতবস্থায় হরিণ পালনকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উন্নয়নের কাঠামোতে অন্তভূক্ত করা যায় কীনা সেটা সম্ভবতঃ ভাববার সময় এসেছে। সরকার ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা এ বিষয়ে যথাযথ গুরুত্ব আরোপ করলে হয়তো একটা দিক নির্দেশনা পাওয়া যেতে পারে।

হরিণ সংরক্ষণে প্রয়োজন গণ সচেতনতাঃ
বন্য প্রাণী হরিণ আমাদের জাতীয় সম্পদ। বর্তমানে পরিবেশ বিপর্যয়ের শিকার হয়ে এ প্রাণীর জীবন বিপন্ন হতে চলেছে। অর্থলোভী হিংস্র শিকারীদের দুর্বার আকর্ষন এখন অসহায় মায়াবী হরিণ কুলের উপর। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ব্যাপকহারে হরিণ শিকারের সংবাদ প্রায়শঃ দেখা যাচ্ছে যা আমাদের দেশের জন্য সত্যিই অত্যন্ত হতাশা ও উদ্বেনের বিষয়। পত্রিকান্তরে জানা যায় "শীতের শুরুতেই সংঘবদ্ধ শিকারীদের তৎপরতা শুরু হয়। অহরহ উদ্ধার করা হয় জীবিত অথবা মৃত হরিণ ও হরিণের চামড়া। সমপ্রতি হরিণ শিকারের ১ হাজার ফাঁদসহ একটি ট্রলার আটক করা হয়েছে। পূর্ব সুন্দরবনের শরনখোলা রেঞ্জের দুবলারচরে প্রতিবছর হিন্দু সমপ্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী উৎসব রাসমেলা উদযাপিত হয়ে থাকে। এই মেলাকে উপল্য করে এক শ্রেণীর দুবৃত্ত যারা শিকারী নামে অভিহিত মেতে ওঠে হরিণ শিকার যজ্ঞেও। শিকারীদের ফাঁদে আটকে পড়া হরিণের পায়ের গোড়ালীতে মারাত্মক ক্ষত হয়। মাঝে মধ্যে এসব দুষকৃতকারীদের কেউ কেউ ধরা পাড়লেও অধিকাংশই রয়ে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে। সুন্দরবনে অন্যায়ভাবে প্রতিদিন কত হরিণ শিকার হচ্ছে তার কোনো খতিয়ান পাওয়া যায় না। প্রাকৃতিক গুরুত্বের কারণে সুন্দরবনকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ঘোষনা করা হয়েছে। একটি সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বস্তরের জনগণের সচেতনতা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাই, অবিলম্বে সুন্দরবনের হরিণ রক্ষার পাশাপাশি দেশের চিড়িয়াখানাগুলোতে ব্যাপকভাবে হরিণের প্রজনন ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। চট্টগ্রাম অঞ্চলের হরিণ প্রজনন কেন্দ্রের আদলে আভয়ারণ্যগুলোতে হরিণের প্রাকৃতিক বিচরণ ভূমি সৃষ্টি করতে হবে। উৎসাহী ও অভিজ্ঞ চাষীদের মাঝে হরিণ শাবক বিলির ব্যবস্থাও নেয়া প্রয়োজন। হয়তবা সেদিন আর বেশি দূরে নয় যখন কৃষকের বসতভিটা হাঁস-মুরগি ও গরু-ছাগলের পাশে মায়াবী হরিণ-হরিণী কৃষক কূলের মনকে কাব্যিক করে তুলবে।

লেখক: মোঃ আনোয়ারুল কাদির
প্রশিক্ষক (পশুসম্পদ), ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমী, সিলেট।
তথ্যসূত্র: পোলট্রি, পশুসম্পদ ও মৎস্য বিষয়ক মাসিক পত্রিকা ‘খামার’

হরিন পালনের নীতিমালা

বনের চিত্রল হরিণ এখন থেকে ঘরে ও খামারে পোষা যাবে। তবে এ জন্য পালনকারীকে হরিণের বসবাস উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এ জন্য একটি নীতিমালা অনুমোদন করেছে। এতে বন বিভাগকে হরিণ পোষার অনুমতির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এবং এর জন্য ফি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বন বিভাগ দেশের বিভিন্ন বন অফিস থেকে হরিণ পোষার অনুমোদন দিতেও শুরু করেছে।

পরিবেশবাদীরা মনে করছেন, ঢালাওভাবে হরিণ পালনের অনুমতি দিলে এর অপব্যবহার হতে পারে। বন্য হরিণ আরও বিপন্ন হতে পারে। বাংলাদেশ বন্য প্রাণী আইন (সংরক্ষণ, সংশোধন), ১৯৭৪-এর আওতায় চিত্রল হরিণ পোষাসংক্রান্ত নীতিমালা-২০০৯ অনুমোদন করেছে সরকার। তবে চিত্রল ছাড়া অন্য কোনো হরিণ পোষা যাবে না। কেউ অন্য হরিণ পুষলে তাঁর বিরুদ্ধে বন্য প্রাণী আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগে বন্য পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় হরিণ লালন-পালনের অনুমোদন দিত। এ ক্ষেত্রে বন বিভাগের কাছ থেকে প্রাথমিক অনুমোদন নিতে হতো। এই নতুন নীতিমালায় চিত্রল হরিণ লালন-পালন ও ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে।

নীতিমালার একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হচ্ছে, চিত্রল হরিণ পাওয়া যায় এমন বনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে এই হরিণ পোষা যাবে না। ব্যক্তি পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১০টি চিত্রল হরিণ পোষা যাবে। এর বেশি হলে খামার হিসেবে অনুমতি নিতে হবে। বন বিভাগ ও চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী হরিণ বিক্রি করতে পারবে। তবে হরিণ কিনতে হলে বন বিভাগের কাছ থেকে ‘পজেশন সার্টিফিকেট’ নিতে হবে।
পরিবেশ ও বনসচিব মিহির কান্তি মজুমদার এ ব্যাপারে বলেন, ‘হরিণ পালনের জন্য নীতিমালা অনুমোদিত হলেও বন বিভাগ আপাতত কোনো হরিণ বিক্রি করবে না। দেশে ব্যক্তিগত পর্যায়ে যে হরিণগুলো রয়েছে, ওই হরিণগুলোকে ক্রয়-বিক্রয়ের বৈধতা দেওয়া হবে।’
খামার ছাড়া অন্যত্র অর্থাৎ ব্যক্তিগতভাবে বা বাসাবাড়িতে চিত্রল হরিণ পোষার অনুমোদন ফি ধার্য করা হয়েছে ৫০০ টাকা। মহানগর এলাকায় প্রতি খামারের জন্য অনুমোদন ফি দুই হাজার টাকা। জেলা সদর এলাকায় প্রতি খামারের জন্য ফি আড়াই হাজার টাকা। অন্য এলাকায় খামারের জন্য ফি দুই হাজার টাকা। প্রতিটি হরিণের জন্য পজেশন ফি ১০০ ও নবায়ন ফি বছরে ১০০ টাকা।

খামারের হরিণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট বন সংরক্ষক ও ব্যক্তিগত হরিণের ক্ষেত্রে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে বার্ষিক প্রতিবেদন দিতে হবে। হরিণ পরিণত হলে তার মাংস খাওয়া যাবে। তবে বাচ্চা প্রসব করলে বা মারা গেলে ঘটনা ঘটার ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের কাছে তা জানাতে হবে। হরিণের মাংস বা কোনো অঙ্গ স্থানান্তর করতে হলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে স্থানান্তর অনুমোদন নিতে হবে। কাউকে হরিণ দান করতে হলেও বন বিভাগকে অবহিত করতে হবে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় দুই লাখ চিত্রল হরিণ রয়েছে। চিত্রল হরিণের মূল বসতি এলাকা সুন্দরবনে রয়েছে প্রায় দেড় লাখ। নিঝুম দ্বীপে রয়েছে ১২ থেকে ১৫ হাজার। এ ছাড়া চর কুকরিমুকরি, বাঁশখালীসহ উপকূলীয় বনে বিচ্ছিন্নভাবে হরিণের বসতি রয়েছে।

গাভীর খামার ব্যবস্থাপনা


বাংলাদেশে প্রতিবছর দুধের চাহিদা ১২·৫২ মিলিয়ন মেট্রিক টন, উৎপাদন হচ্ছে প্রতিবছর ২·২৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন, ঘাটতি প্রতিবছর ১০·২৪ মিলিয়ন মেট্রিক টন। চাহিদার আলোকে আমাদের দেশে ছোট-বড় প্রায় ৪৭,৭১০টি ডেইরি খামার গড়ে উঠেছে। বর্তমানে শংকর জাতের গাভী পালনের মাধ্যমে দুগ্ধ খামার স্থাপন একটি লাভজনক ব্যবসা। ফলে গাভী পালনে উন্নত ব্যবস্থাপনা, সঠিক প্রজনন, সুষম খাদ্য, রোগদমন ও প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে খামারিদের জানা প্রয়োজন।
ভালজাতের গাভীর বৈশিষ্ট্য-
মাথাঃ হালকা ও ছোট আকার, কপাল প্রশস্তô, উজ্জ্বল চোখ, খাদ্যের প্রতি আগ্রহ।
দৈহিক বৈশিষ্ট্যঃ দেহের সামনে দিক হালকা, পিছনের দিক ভারী ও সুসংগঠিত, দৈহিক আকার আকর্ষণীয়, শরীরের গঠন ঢিলা।
পাজরঃ পাজরের হাড় স্পষ্ট, হাড়ের গঠন সামঞ্জস্যপুর্ণ।
চামড়াঃ চামড়া পাতলা, চামড়ার নীচে অহেতুক চর্বি জমা থাকবে না, চামড়ার রঙ উজ্জ্বল, লোম মসৃণ ও চকচকে হবে।
ওলানঃ ওলান বড় সুগঠিত ও দেহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, বাটগুলো একই আকারের হবে। চারবাট সমান দূরত্বে ও সমান্তরাল হবে। দুগ্ধশিরাঃ দুগ্ধশিরা মোটা ও স্পষ্ট, তলপেটে নাভীর পাশ দিয়ে দুগ্ধশিরা আঁকাবাঁকাভাবে বিস্তৃত থাকবে।

খামার ব্যবস্থাপনাঃ খামার ব্যবস্থাপনা এক প্রকার কৌশল যার মাধ্যমে খামারের সম্পদ, সুযোগ ও সময়ের সমন্বয় ঘটানো যায়। সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনার সুফল হল- ১· সম্পদের মিতব্যয়িতা ২· স্বল্প সময়ে ফললাভ ৩· স্বল্প সময়ে অধিক উৎপাদন ৪· শক্তি ও শ্রমের অপচয় রোধ ৫· উৎপাদনে গুণগতমান ও উৎকর্ষতা লাভ।

সাধারণ ব্যবস্থাপনাঃ গাভী তার গুণগতমান উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়ে থাকে। কিন্তু গাভীর বংশানুক্রমিক গুণগতমান যতই ভাল হোক এর ব্যবস্থাপনা সমন্ধে বিশেষ যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। দৈনন্দিন পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষা, বিজ্ঞান সম্মত বাসস্থান, সুষম খাদ্য সরবরাহ, সঠিক প্রজনন, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ইত্যাদি উন্নত গাভী পালনের মৌলিক বিষয়।

বাসস্থানঃ পারিবারিক পর্যায়ে বা খামার পর্যায়ে গাভী পালন করতে হলে গাভীর জন্য ভাল বাসস্থান প্রয়োজন। গাভীকে বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থা যেমন- ঝড়, বৃষ্টি, অতিরিক্ত ঠাণ্ডা ও গরম এবং অন্যান্য নৈসর্গিক দৈব দুর্বিপাক, পোকামাকড়, চোর, বন্য-জীবজন্তু হতে রক্ষা করার জন্য যথোপযুক্ত বাসস্থান বা গোয়ালঘর প্রয়োজন। আমাদের আবহাওয়ার আলোকে ঘরে প্রচুর আলো বাতাস চলাচলের জন্য ঘরটি উত্তর-দক্ষিণমুখী হওয়া বাঞ্চনীয়। কোন অবস্থাতেই যেন ঘরে স্যাঁতস্যাঁতে অবস্থা যেন না থাকে। এতে ঘরের মেঝেটি ইট বিছানো থাকলে ভাল হয়। ঘরের দুর্গন্ধ ও মশামাছি দমনের জন্য মাঝে মাঝে জীবাণুনাশক দ্বারা ধোয়া প্রয়োজন।

গবাদিপশুর বাসস্থান দুই ধরণের হতে পারেঃ ১· উন্মুক্ত বা উদাম ঘর ২· বাঁধা ও প্রচলিত ঘর।

বাঁধা ঘরের বৈশিষ্ট্যঃ এই পদ্ধতিতে গরুর গলায় দড়ি বা লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে পালন করা যায়। গাভীর খাদ্য, পানি গ্রহণ এবং দুধ দোহন একই স্থানে করা যায়।

সুবিধাঃ বাঁধা থাকে বিধায় গাভীর দুধ দোহন সহজ হয়, প্রতিকূল আবহাওয়ায় পশু নিরাপদ থাকে, কৃত্রিম প্রজননের জন্য বেশ সুবিধাজনক, নির্ধারিত অল্প জায়গায় পশু পালন করা যায়।

অসুবিধাঃ এই পদ্ধতিতে ঘর তৈরি খরচ বেশি, পশুর সহজে ঘোরাফেরার ব্যবস্থা থাকে না, এতে পশুর ব্যয়াম না হওয়াতে বিভিন্ন ধরনের রোগ হবার সম্ভাবনা থাকে, একই জায়গায় দিনরাত্রি বাঁধা থাকে বলে মেঝে স্যাঁতস্যাঁতে থাকে।

বাঁধা ঘরের নকশাঃ এই পদ্ধতির গো-শালায় পশু সব সময় বাঁধা অবস্থায় থাকে। এজন্য গো-শালা যাতে সহজে পরিস্কার করা যায় সেদিকে লক্ষ্য রেখে ঘর তৈরি করা প্রয়োজন। প্রচলিত গো-শালা দুই ধরনের হয়-

একসারি বিশিষ্ট গো-শালাঃ অল্প সংখ্যক গবাদি পশুর জন্য একটি লম্বা সারিতে বেঁধে পালনের জন্য এই গো-শালা তৈরি করা হয়। প্রতিটি পশুকে পৃথক রাখার জন্য জিআইপাইপ দিয়ে পার্টিশন দেয়া হয়, পার্টিশনের পাইপ লম্বায় ৯০ সে·মি· এবং উচ্চতায় ৪৫ সে·মি· হওয়া প্রয়োজন, একটি গরুর দাঁড়াবার স্থান ১৬৫ সে·মি·, পাশের জায়গা ১০৫ সে·মি·, খাবার পাত্র ৭৫ সে·মি· এবং নালা ৩০ সে·মি· হওয়া প্রয়োজন, একই মাপে পশুর সংখ্যা অনুযায়ী জায়গা নির্ধারণ করে গো-শালা তৈরি করা হয়, গো-শালা হবে একচালা বিশিষ্ট ঘর, ঘরের ছাদ প্রায় ৩০০ সে·মি· উঁচুতে করতে হয়।

দুই সারি বিশিষ্ট গো-শালাঃ অল্প জায়গায় অধিক পশুপালনের জন্য এ ধরণের গো-শালা তৈরি করা হয়, এ ধরনের গো-শালায় পশুকে দুভাবে রাখা যায়, মুখোমুখি পদ্ধতি ও বাহির মুখ পদ্ধতি। মুখোমুখি পদ্ধতিতে দুই সারি পশু সামনাসামনি থাকে। দুইসারি খাবারের পাত্রের মাঝখানে ১২০ সে·মি· চওড়া রাস্তôা থাকে- যা পাত্রে খাবার দেবার জন্য ব্যবহার করা হয়, একটি গরুর জন্য দাঁড়ানোর জায়গা ৫·৫ ফুট, পাশের জায়গা ৩·৫ ফুট।

সুবিধাঃ একই সাথে দুইসারি পশুকে সহজে খাবার ও পানি সরবরাহ করা যায়, দুধ দোহনের জন্য অধিকতর আলো পাওয়া যায়, পশু নিজ জায়গায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, পরিচর্যাকারী সহজে চলাফেরা করতে পারে।

একটি গাভীকে নিম্ন তালিকা অনুসারে খাদ্য সরবরাহ করতে হবেঃ কাঁচা ঘাস (সবুজ ঘাস) ২০-৩০ কেজি, দানাদার খাদ্য মিশ্রণঃ ১৮-২০% প্রোটিন সমৃদ্ধঃ ১ম ৩ কেজি দুধ উৎপাদনের জন্য- ০৩ কেজি, পরবর্তী প্রতি কেজি দুধ উৎপাদনের জন্য-০·৫ কেজি, লবণ-৫০-৬০ গ্রাম, পরিস্কার পানি-প্রয়োজন মত।

পরিচর্যাঃ গাভীর সঠিক পরিচর্যা না করলে উন্নত জাতের গাভী পালন করেও গাভীকে সুস্থ সবল উৎপাদনক্ষম রাখা সম্ভব হবে না। ফলে গাভী হতে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ দুধ, মাংস পাওয়া যাবে না এবং গাভী পালন অলাভজনক হবে।

দুধ দোহনঃ গাভীর দুধ দৈনিক ভোরে একবার এবং বিকালে একবার নির্দিষ্ট সময়ে দোহন করতে হবে। দুধ দোহনের পূর্বে গাভীর উলান ও দোহনকারীর হাত পরিস্কার পানি দিয়ে ভালভাবে ধুয়ে নিতে হবে।

প্রজননঃ গাভীর বংশানুক্রমিক গুণগতমান উন্নয়নের জন্য সুষ্ঠু পরিকল্পিত প্রজনন ব্যবস্থা অবলম্বন করতে হবে। যে ষাড়ের মা, দাদী, নানী যত বেশি পরিমাণ দুধ দেয় তার বাচ্চার দুধ উৎপাদনের ক্ষমতা ততই বেশি হয়। তাই যখন গাভী গরম হবে তখন গুণগতমানসম্পন্ন ষাড়ের বীজ দ্বারা নিকটস্থ কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র হতে গাভীকে প্রজনন করিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

খামারের রেকর্ড সংরক্ষণঃ খামারের লাভক্ষতি নিরূপণ আয়-ব্যয়ের সঠিক হিসাবের উপর নির্ভরশীল। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য পরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিয়য়ে মূল্যায়ন করা দরকার। খামারের উৎপাদিত পণ্যের হিসাব, ক্রয়, বিক্রয়, জন্ম, মৃত্যু এবং কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রমের জন্য সঠিক তথ্য রক্ষাকল্পে রেকর্ড সংরক্ষণ করা অত্যাবশ্যকীয়।

উন্মুক্ত বাসস্থানে নিম্নোক্ত হারে জায়গার প্রয়োজনঃ

পশুর ধরণ ঘরে প্রতি পশু স্থান প্রতি পশুর জন্য মুক্ত স্থান খাদ্যপাত্র
বাড়ন্ত বাছুর ২·৫-৩ বর্গ মিটার ৫-৬ বর্গ মিটার ৩৭-৫০ সেন্টিমিটার
গাভী ৩-৩·৫ বর্গ মিটার ৮-১০ বর্গ মিটার ৫০-৬০ সেন্টিমিটার
গর্ভবতী গাভী ১০-১২ বর্গ মিটার ১৮-২০ বর্গ মিটার ৬০-৭০ সেন্টিমিটার

-কৃষিবিদ সোহরাব জিসান

তথ্যসূত্র: শাইখ সিরাজ রচিত ‘মাটি ও মানুষের চাষবাস’ গ্রন্থ থেকে সংগ্রহীত

গরুর ক্ষুরারোগ




আমাদের দেশে অনেকেই শুধু গরু পালনের দ্বারাইজীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। কিন্তু এই গরু পালনের ক্ষেত্রে মূল সমস্যা হলো প্রাণীরবিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়া। যেসব রোগ গবাদি পশুর ক্ষেত্রে দেখা যায় তার মধ্যে ক্ষুরারোগটি সব থেকে মারাত্মক। এ রোগটি ভাইরাসঘটিত। দ্বি-খন্ডিতক্ষুর আছে এমন যেকোনো প্রাণীর দ্বারাই এ রোগটি সংক্রমিত হতে পারে। মানুষ ও পশুরচিকিৎসা বিজ্ঞানে এ যাবৎ আবিষ্কৃত রোগের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক সংক্রামক রোগ। এইরোগের ভাইরাস আক্রানত্ম পশু হতে চল্লিশ মাইল দূরবর্তী তার টার্গেটে পশুকে আক্রান্তকরতে পারে। এ রোগে বড় গরুর মৃত্যুর হার কম হলেও বাছুরেরক্ষেত্রেমৃত্যুর হার শতকরা ৭০ ভাগ পর্যন্ত দেখা গেছে। সবচেয়ে বড় কথা সঙ্কর জাতের গরুতে এরোগের সংক্রমণ অত্যন্ত বেশি। যা এ খাতে বিনিয়োগ ও জাত উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে দারুনভাবেব্যাহত করছে। আমাদের দেশেক্ষুরারোগটিচার রকমের ভাইরাস দ্বারা হয়ে থাকে।

সব ঋতুতে দেখাগেলেও শীত ও বর্ষা ঋতুতেক্ষুরারোগটিপ্রকোপ বেশি দেখা যায়। যে কোনো বয়সের গুরুরদেহে রোগটি সংক্রমিত হলেও বাছুরের দেহে রোগটি সংক্রমণ হলে বাছুরটি মারা যেতে পারে।গরুর শরীরে এই ভাইরাস প্রবেশ করার ২-৮ দিনের মাথায় এ রোগের লক্ষণ দেখা যায়। এ রোগহলে যেসব লক্ষণ দেখা যায় তা হলো-

* গরুর শরীরেপ্রচন্ড জ্বর হয়। দেহের তাপমাত্রা ১০৬ ডিগ্রি পর্যন্ত হতে পারে।
* আক্রান্ত পশুরমুখ ও নাক দিয়ে লালা ঝরতে থাকে এবং তা দড়ির মতো ঝুলতে থাকে।
* গরুর নির্জীবহয়ে যায় এবং কোনো কিছু খেতে চায় না।
* দুধ দেয়া গরুহলে দুধের পরিমাণ কমে যায়।
* মুখের ভেতর ছোটছোট পানি ফোস্কা পড়ে। এ ফোস্কাগুলো পরবর্তীতে মিশে গিয়ে বড় ধরনের ক্ষতের বা ঘায়েরসৃষ্টি করে।
*পানির মতোফোস্কাগুলো ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফেটে যায়। ফেটে লাল দগ দগে ঘা হয় এবং জিহ্বার ওপরেরচামড়া উঠে যায়।
* গরু খোঁড়াতেশুরু করে। খেয়াল করলে দেখা যাবে যে ক্ষুর ও চামড়ার সংযোগ স্থলে পানি ফোস্কা ঘা হয়।মনে হয় ক্ষুরটা খসে পড়েছে। গরুর পায়ের ক্ষুরগুলো অস্বাভাবিক লম্বা হয়ে যায়। তখনদেখা যায় গরু ঠিকভাবে হাঁটতে পারে না।
* দুধ দেওয়া গাভীআক্রান্ত হলে গাভীর বাঁটের ওপরে বা পাশে ছোট ছোট পানি ফোস্কা পড়ে। তার পরে ঠুনকোরোগ হয় এবং বাঁট থেকে দুধ বের হয়ে আসে।
* সপ্তাহখানেকপর্যন্ত গরু কিছু খাবার খেতে পারে না। শরীরের ওজন কমে যায়।
* দুধালো গাভীরদুধ দেয়ার ক্ষমতা কমে যায়।
* গর্ভবতী গাভী এরোগে আক্রান্ত হলে অনেক সময় বাচ্চা গর্ভপাতের ফলে নষ্ট হয়ে যায়।
* হালের বলদআক্রান্ত হলে গরুর কার্য ক্ষমতা কমে যায়।
* গায়ের লোমগুলোঅস্বাভাবিক লম্বা হয়ে যায়। এ রোগের বিস্তার বা সংক্রমণ এক পশু থেকে অন্য পশুতেযেভাবে হয়ে থাকে তা হলো-
* এ রোগে আক্রান্তপশুর মুখ দিয়ে প্রচণ্ড লালা ঝরে। লালার সাথে এ রোগের ভাইরাস বেরিয়ে আসে। এ লালাযেখানে পড়ে সেখানে ধূলিকণার সাথে মিশে বাতাসে উড়ে বেড়ায় ও বাতাসের গতি যে দিকে থাকেসেদিকে সংক্রমিত হতে থাকে।
* আক্রান্তপ্রাণীর সাথে সুস্থ প্রাণী রাখলে বা সংস্পর্শে আসলে সুস্থ প্রাণীটিও আক্রান্ত হয়।
* আক্রান্তপ্রাণীর যারা সেবা বা দেখা শোনা করেন তাদের মাধ্যমেও এ রোগটি ছড়ায়।
* রোগাক্রান্ত মৃতপ্রাণী যেখানে সেখানে ফেলে দিলে মৃত প্রাণীর দেহ মাটির সাথে মিশে গিয়েও রোগটি ছড়িয়েথাকে।
* আক্রান্ত গাভীরদুধ যখন তার বাছুর খায় তখন দুধের মাধ্যমে বাছুরে রোগটি সংক্রমিত হয়। ক্ষুরারোগেরচিকিৎসা সম্বন্ধে আমাদের দেশে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছু ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে যা এরোগে আক্রান্ত পশুর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এমন কি এর জন্য অনেক আক্রান্ত পশু সহজেইমারা যায়। ভ্রান্ত ধারণাগুলো হলো-
* এ রোগে আক্রান্তহলে গরুকে কাদায় দাঁড় করিয়ে রাখতে হবে।
* অনেক সময় গরুরগলায় মাদুলি জুলিয়ে রাখলে এ রোগ সেরে যাবে।
* মনে করা হয়খারাপ বাতাস লেগে এ রোগ হয়।
* এ রোগ হলেগোয়ালে ধোঁয়া দিলে রোগ সেরে যায়। সুতরাং ক্ষুরারোগে আক্রান্ত হলে ওপরে বর্ণিতকাজগুলো কোনোভাবেই করা যাবে না এবং আশপাশের কেউ যাতে না করে তার জন্য ব্যবস্থা নিতেহবে।

প্রতিরোধমূলক কিছুব্যবস্থা বা পদক্ষেপ নিলে এ রোগটি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকে না বললেই চলে।প্রতিরোধকমূলক ব্যবস্থাগুলো হলো-

* গরুকে নিয়মিতটিকা দিতে হবে।
* বাছুরের বয়স যখনচার মাস হবে তখন তাকে ক্ষুরারোগের প্রথম টিকা দিতে হবে। তারপর ৬ মাস পরপরনিয়মিতভাবে টিকা দিতে হবে।
* গর্ভবতী গরুকেটিকা দেয়ার ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে, ৬ মাস গর্ভকালীন অবস্থায় থাকা পর্যন্ত টিকাদেয়া যায়।
* এ রোগ যদি কোনোগ্রামে বা গোয়ালে হয় তবে অসুস্থ গরুগুলোকে আলাদা করে রাখতে হবে।
* এ রোগে আক্রান্তগরুর খাবারের পাত্রগুলো সুস্থ গরুর জন্য যাতে ব্যবহার না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতেহবে।
* অসুস্থ গরুরযিনি সেবা করেন তিনি যেন সুস্থ গরুর কাছে না যান।
* অসুস্থ গরু যেনহাটে কেনাবেচা না হয় তার জন্য স্থানীয়ভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে। এ রোগটিতে গরুআক্রান্ত হলে প্রতিকার হিসেবে যে কাজগুলো আমাদের করতে হবে তা হলো-
* যে খামারে যখন এরোগটি শুরু হয়ে যায় তখন কাপড় কাচা সোডার ৪% জলীয় দ্রবণ?তৈরি করে গোয়াল ঘরে ছিটাতেহবে। তাহলে এ রোগের ভাইরাস ২ মিনিটের মধ্যে মরে যাবে।
* সোহাগা গরমকড়াইয়ে ভেজে নিয়ে তারপর পাটায় বেটে নিতে হবে। এরপর মধু দিয়ে অথবা ৮ গ্রাম সোহাগায়২০ মিলিলিটার গ্লিসারিন এবং ৪৮০ মিলিলিটার পানি মিশিয়ে দ্রবণ?তৈরি করে গরুর মুখেদিনে ৩-৪ বার মাখাতে হবে।
* পায়ের ঘায়েরজন্য ১ লিটার পানিতে ১ গ্রাম পটাশিয়াম পারমাঙ্গানেট মিশিয়ে পানি দিয়ে গরুর ক্ষুরভালো করে দুয়ে নরম কাপড় দিয়ে মুছে দিয়ে মাছি নিয়ন্ত্রক মলম লাগিয়ে দিলে ঘা তাড়াতাড়িসেরে যাবে।
* মুখ, পাপরিষ্কার করার পর সালফার পাউডার লাগাতে হবে।
* ভাতের মাড়, ধানের কুঁড়া, খুদের ভাত এবং বিভিন্ন রকমের সুষম খাবার আক্রান্ত গরুকে খেতে দিতেহবে। খাবারের সাথে খনিজ লবণ, ভিটামিন মিশিয়ে খাওয়াতে হবে এতে অসুস্থ প্রাণীর শরীরেরস্বাস্থ্যহানি দূর হয়।
* ঘা যদি বেশি হয়তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গরুর প্রতি কেজি ওজনের জন্য পেনিসিলিন ইনজেকশনপ্রয়োগ করতে হবে।
* দ্বিতীয় পর্যায়েসংক্রমণ দূর করার জন্য ডায়াডিন/ভেসাডিন/স্ট্রেপ্টোপেনএসব অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশনদিতে হবে।
* এ ছাড়াও বিভিন্নবেদনানাশক হিসেবে প্যারাসিটামল ইনজেকশান দেয়া যেতে পারে। ক্ষুরারোগ আমাদের দেশেরগবাদি পশুপালনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অন্তরায়। তবে আমাদের সচেতনতাই পারে এ ধরনেরসমস্যা থেকে রেহাই দিতে।

কৃষিবিদ পলাশ সরকার
সূত্র : AIS

মনের উঠোনে

সাম্প্রতিক সংযোজন

মোবাইল থেকে দেখুন

আমাদের দেশ এখন আপনার মুঠোফোনে, মোবাইল থেকে লগইন করুন আমাদের দেশ

দ র্শ না র্থী

দ র্শ না র্থী

free counters

কে কে অনলাইনে আছেন