হাওয়াই বাগান কোকেডামা

Friday, April 6, 2018


নিজের ঘরে সবুজের ছোঁয়া সবাই চায়। তাই অনেকে ঘরের এককোণে সাঁজায় নানা রকম ইনডোর প্ল্যান্ট দিয়ে। এসব ইনডোর প্ল্যান্ট দেয়ালে কিংবা জানালা বা বারান্দার গ্রিলে লাগানোর জন্য আছে নানা রকম পট। যেগুলো অনায়াসে ঝুলিয়ে রাখা সম্ভব।
কিন্তু সৌখিন বাগানীরাশুধু জানালা বা বারান্দায় গাছকে দেখতে চাননা তাই তারা বাগানকে সরাসরি সিলিংএ স্থান দিয়েছেন। এই বৈচিত্রময় এই শিল্পের নাম কোকেডামা,যার জন্মস্থান হচ্ছে জাপান।
ছোটবেলায় পাঠ্য বইতে ব্যাবিলনের শূন্যউদ্যান বা ঝুলন্ত বাগানের কথা অনেকেই পড়েছেন। প্রাচীন পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি হিসেবেই যাকে ধরা হয়। তখন কৌতুহল বশত মনে প্রশ্ন জাগত কেমন ছিল এই শূন্য উদ্যান, বাগান আবার শূন্যের উপর কিভাবে থাকে ?? নাকি দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল এ বাগান!!
যা হোক, ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায় খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ শতকের দিকে রাজা নেবুচাদনেজার তার সম্রাজ্ঞীর প্রেরনায় ইরাকের ইউফ্রেটিস নদীর তীরে এটি নির্মাণ করেন।৮০০ স্কয়ার ফিটের এই বাগানটি ছিল তৎকালীন সম্রাটের খাস উপাসনালয়ের ছাদে। মাটি থেকে বাগানের উচ্চতা ছিল ৮০ফিট । এই ভিত্তির উপরই ছিল পৃথিবীর সর্ববৃহৎ আর বিস্ময়কর বাগান। সেই থেকেই মূলত ঝুলন্ত বাগান ধারণার উৎপত্তি।
কোকেডামা কি?
কোকেডামা আসলে এক ধরনের বনসাই। জাপানিজ শব্দ কোকেডামা, বাংলায় এর মানে দাঁড়ায় সবুজ মসে ঢাকা গাছ। অন্যান্য বনসাই এর মত এর ইতিহাসও তেমন পুরনো নয়। নেরাই এবং কুসামোনো  নামক বনসাই থেকে কোকেডামার সৃষ্টি। নেরাই বনসাই প্রথমে শক্ত পাত্রে লাগানো হত, ফলে দীর্ঘদিন ধরে পাত্রে থাকার ফলে এর শিকড় পাত্রের আকার ধারণ করত। ফলে তা পাত্র থেকে বের করে আনলে আগের সেই পাত্রের আকৃতি বজায় থাকত। পরে তা সেখান থেকে বের করে সমান স্থানের উপর দাড় করিয়ে রাখা হত বা দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হত। পাত্রহীন বনসাইটি মস দিয়ে ঢাকা থাকত তাই এর আরেক নাম মস বল। মস লাগানোর ধারণা আসে মূলত কুসামোনো বনসাই থেকে। কুসামোনো বনসাই তৈরি করা হত বুনো ঘাস বা মস আর ফুলগাছ একই পাত্রে লাগানোর মাধ্যমে। পটের আকৃতি ছিল অন্যসব বনসাই থেকে সম্পূর্ণ আলাদা, যা সাধারণত পাঁথর কাঠ বা সিরামিক  দিয়ে তৈরী হত।
উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ
কোকেডামার সৃষ্টির ইতিহাস বনসাইয়ের সাথে অনেকটা সংশ্লিষ্ট। তাই কোকেডামা সম্পর্কে জানতে হলে বনসাইয়ের শুরুটা সম্পর্কে জানতে হবে, কোকেডামাও এক ধরণের বনসাই। আনুমানিক ৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দের দিকে বনসাইয়ের চর্চা শুরু হয়। পাত্রবিহীন বনসাই নেরাই চর্চার সূচনা হয় ১৬০৩  খ্রিষ্টাব্দে। আর নেরাইয়ের আধুনিকতম রূপ হচ্ছে কোকেডামা বা মসবল।

কি কি গাছ দিয়ে তৈরি হয়
কোকেডামা একধরণের বনসাই তাই, বনসাই তৈরিতে যেসব গাছ ব্যাবহার করা হয় কোকেডামা তৈরিতেও ঠিক একই রকম গাছ ব্যাবহার করা হয়। বরং কোকেডামার পরিধি আরেকটু বড়। ইনডোর প্ল্যান্ট, পাম কিংবা ঘাস জাতীয় গাছও কোকেডামা তৈরিতে ব্যাবহার করা হয়।
পরিচর্যা
পরিচর্যা অনেকটা বনসাইয়ের মতই। আর মাঝে মাঝে বলের উপর শুধু স্প্রে দিয়ে পানি দিতে হয়।

তথ্যসূত্রঃ সৌখিন

শসার বাম্পার ফলনেও হাতবদলে ঠকছে চাষি

Thursday, April 5, 2018


তারাকান্দা  ঘুরে: দিন-রাত পরিশ্রম আর মূলধন বিনিয়োগ করে শসা উৎপাদন করছেন ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার চাষিরা। কিন্তু লাভ যাচ্ছে সব মধ্যস্বত্বভোগীর পেটে! ভোক্তারা ৩০ টাকায় প্রতিকেজি শসা কিনলেও চাষির পকেটে ঢুকছে মাত্র ৮-১০ টাকা।

হাতবদলে দাম তিনগুণ হলেও ঠকছেন মাঠের চাষি। ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার গোয়াতলা শসা বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়। এ উপজেলায় শসার বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না চাষি।

তারাকান্দা উপজেলা সদর থেকে কয়েক কিলোমিটার পথ এগোলেই গোয়াতলা শসা বাজার। শসার ভরা মৌসুমে বাজারটি জমজমাট। প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এখানকার চকনাপাড়া, গোয়াতলা, কাকনী, শিমুলিয়া, বারইপানাসহ বিভিন্ন গ্রামে ক্ষেত থেকে শসা তুলে মাঠে জড়ো করেন চাষিসহ এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। 

অনেকেই আবার সরাসরি স্থানীয় বাজারে পাইকারদের কাছে নিয়ে আসছেন। মাপামাপির কাজ শেষ হতেই পানিতে ধুয়ে শসা বস্তাবন্দি করা হচ্ছে। বিকেলে ট্রাক, পিকআপে করে এ শসা চলে যাচ্ছে ময়মনসিংহসহ বিভাগের বিভিন্ন বাজারে। 

পাইকার ও আড়তদারদের পদচারণায় গোয়াতলা বাজারটি সরগরম। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, প্রতিদিন বাজারটিতে গড়ে দেড় থেকে দুই হাজার মণ শসা বিকিকিনি হয়। 

রোববার (০১ এপ্রিল) বিকেলে স্থানীয় তারাকান্দা উপজেলার এ বাজারে বাংলানিউজকে পাইকারি বিক্রেতা এনামুল হক (৪০) বলেন, শসা বেশ সুস্বাদু সবজি। সালাদে শসার কদর যেমন রয়েছে তেমন পুষ্টিগুণেও এটি অনন্য। স্বল্প পুঁজি আর অল্প পরিশ্রম শসা চাষিদের সফলতার মন্ত্র।

তিনি জানান, চাষিদের কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ টাকা কেজিতে শসা কেনা হচ্ছে। ময়মনসিংহের বিভিন্ন বাজারে সেই শসাই বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজিতে। 

তবে এনামুলেরও দাবি, বস্তা কেনা থেকে শুরু করে পরিবহন ও শ্রমিক খরচের পর লাভের অঙ্কটা খুব বেশি নয়। 

স্থানীয় ঢাকুয়া ইউনিয়নের বারইপানা গ্রামের আবুল কালাম (৪২) এবার দেড় বিঘা জমিতে শসা চাষ করেছেন। ফলন ভালো হলেও পয়সা পাচ্ছেন না তিনি। 

এ চাষি জানান, জমি তৈরি, বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক মিলিয়ে উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। মণপ্রতি ৩২০ টাকা আর কেজি হিসেবে ৮ টাকায় শসা বিক্রি করতে হচ্ছে তাকে। অথচ তার উৎপাদন খরচই পড়েছে কেজি প্রতি ১০ টাকার উপরে।   
একই রকম কথা জানান, অনন্তপুর গ্রামের চাষি আব্দুল মালেক (৫০), গোয়াতলার মোহাম্মদ ইসমাইল (৩৫), হাসিম উদ্দিন (৩২) ও একই এলাকার আতিকুল ইসলাম। 

তারা জানান, প্রতি কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা লোকসানে শসা বিক্রি করতে হলেও মধ্যস্বত্বভোগীরা কেজিতে হাতিয়ে নিচ্ছে ১৫-২০ টাকা। 

এসব চাষিদের লাভের গুড় মধ্যস্বত্বভোগীদের পেটে যাওয়ায় হতাশার কথা জানিয়ে তারা বলেন, শসা চাষ এখন লাভজনক। কিন্তু চাষিদের রাত-দিন পরিশ্রম আর মূলধন খাটানো অর্থে উৎপাদিত এ সবজির লাভের টাকায় ফায়দা তুলছে অন্যরা। বাজারে শসার ব্যাপক চাহিদার পুরো সুবিধাই নিচ্ছেন তারা। 

স্থানীয় গোয়াতলা শসা বাজারের এ চালচিত্র দেখার পর সরেজমিনে ময়মনসিংহ শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, এ শসা বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে।

সূত্র: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম , এপ্রিল ০২, ২০১৮

সাভারে মাশরুমের জমজমাট হাট


সাভার: ঢাকার অদূরে সাভারের সোবহানবাগে মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে জমে উঠেছে মাশরুমের হাট। হাটে তিন প্রজাতির মাশরুমের পসরা বসেছে। এই তিনটে প্রজাতি হচ্ছে ওয়েস্টার, বাটন ও ঋষি মাশরুম। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা আসছেন মাশরুম কিনতে। পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও ঔষধি গুণ সম্পন্ন হওয়ায় আমাদের দেশে দিনকে দিন বেড়েই চলছে মাশরুমের চাহিদা।

বাংলাদেশ মাশরুম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিনই চলে মাশরুমের খুচরা ও পাইকারী কেনা-বেচা।

হাট ঘুরে দেখা গেছে, এক কেজি তাজা ওয়েস্টার মাশরুমের মূল্য ২৫০ টাকা ও শুকনো বা গুঁড়ো ওয়েস্টার মাশরুমের মূল্য ১৪০০ টাকা। এক কেজি তাজা বাটন মাশরুমের মূল্য ৫০০ টাকা। এক কেজি শুকনো বা গুঁড়ো ঋষি মাশরুম ৪০০০ টাকা। এক কেজি তাজা কান মাশরুম ২০০ টাকায় এবং শুকনো কান মাশরুম ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

মাশরুমের হাটে দেখা মিলল লাকী বেগমের। তিনি তিন জাতের মাশরুমের পসরা নিয়ে বসেছেন হাটে। প্রায় তের বছর ধরে তিনি মাশরুম চাষ করছেন বলে জানান।


মাশরুম চাষের শুরুর দিকটা কেমন ছিল জানতে চাইলে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, প্রথম দিকে অনেকটা ছোট পরিসরে চাষ শুরু করেছিলাম। তখন মধুর ক্যান্টিন, হিমুর ক্যান্টিন ও আবুলের ক্যান্টিনে মাশরুম বিক্রি করতাম। এখন বড় পরিসরে চাষ করছি। আমার কাছে বিভিন্ন জাতের এক হাজার মাশরুমের বীজ আছে। ঢাকার বিভিন্ন সুপার শপে আমি মাশরুম সরবরাহ করি। এখন প্রতিমাসে প্রায় বিশ হাজার টাকা আয় করি।

মাশরুমের হাট সম্পর্কে তিনি বলেন, আগে ঢাকা থেকে অর্ডার না এলে মাশরুম বিক্রি করতে পারতাম না। বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় আমাদের একেক সময় একেক জায়গায় বসতে হতো। তবে এখন নির্দিষ্ট জায়গা পেয়ে আমাদের অনেক লাভ হচ্ছে। প্রতিদিনই ক্রেতার সংখ্যা বাড়ছে। 

লাকী বেগমের মতো এখন অনেক অসহায় ও বেকার পুরুষ-মহিলা  মাশরুম হাট থেকে মাশরুম কিনছেন একজন নারী। ছবি: বাংলানিউজ

উন্নয়ন ইনস্টিটিউট থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে মাশরুম চাষ করে সাবলম্বী হয়েছেন। এই ইনস্টিটিউট থেকে এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাঁচ হাজার পাঁচশ একাশি জন মাশরুম চাষের উপর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এসব চাষী তাদের উৎপাদিত মাশরুমের একটি অংশ দিয়ে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করছেন। অবিক্রিত যে মাশরুম বিক্রির জন্য তারা পাঠিয়ে দেন সাভারের এই হাটে। এছাড়া ২৮জন চাষী প্রতিদিনই  তাদের উৎপাদিত মাশরুম এই হাটে বিক্রি করেন।

মাশরুমের এ হাটটির তত্ত্বাবধানে রয়েছেন  মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক ড. নিরোদ চন্দ্র সরকার। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, বিশ্বের ছত্রাকবিদরা এ পর্যন্ত প্রায় তিন লক্ষ প্রজাতির ছত্রাক শনাক্ত করেছেন। এসবের মধ্যে মাশরুম হলো মানুষের খাওয়ার উপযোগী ছত্রাকের ফলন্ত অঙ্গ। মাশরুম চাষ করা সহজ, সাশ্রয়ী ও পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি হালাল খাবার। বাসাবাড়িতে সহজেই এটি চাষ করা যায়। যারা মাশরুম চাষ করতে চান, আমরা তাঁদের সব ধরনের কারিগড়ি সহায়তা দিয়ে থাকি।

বারডেম-পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ওয়েস্টার মাশুরুম লিভার ও কিডনিকে ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত রাখে। এ মাশরুম রক্তের সুগার, কোলেস্টরেল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে, যা ডায়াবেটিস ও হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য খুবই উপকারী।

ইনস্টিটিউটে ঢুকতেই ডান পাশে চোখে পড়বে মাশরুম ফুড কর্ণার। এটি পরিচালনা করছেন সাভারের নবীনগরের কুলসুম বিবি। তিনি বিধবা। তাঁর একমাত্র সন্তান আগামী বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে। প্রতিদিন এ খাবার দোকান থেকে পনেরশ থেকে দুই হাজার টাকা আয় করেন। এ আয় দিয়েই চলে তাঁর সংসার। এই ফুড কর্নারে তিনি মাশরুম দিয়ে রোল, পাকোড়া, বার্গার, চপ, সমুচা তৈরি করেন। সকাল ১০টা থেকে রাত ৯ পর্যন্ত দোকান খোলা রাখেন বলে জানান তিনি।

মাশরুম একটি ঔষধি গুণসম্পন্ন আদর্শ খাবার। এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। মাশরুমে প্রায় ২৫ শতাংশ আমিষ রয়েছে। যাতে মানুষের শরীরের জন্য ৯টি অত্যন্ত জরুরি অ্যামাইনো এসিড রয়েছে।

বিভিন্ন মাশরুমের দামঃ তাজা (টাকা)  শুকনো বা গুঁড়ো (টাকা) ওয়েস্টার  মাশরুম ২৫০ ১৪০০, বাটন  মাশরুম  ৫০০,  শুকনো বিক্রি হয় না। ঋষি মাশরুম তাজা বিক্রি হয় না ৪০০০, কান মাশরুম  ২০০ -১২০০।

সূত্র: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম , এপ্রিল ০৪, ২০১৮

লাভ জনক মরিচ চাষ পদ্ধতি


মরিচ বাংলাদেশের একটি অর্থকরী ফসল। এটি বাংলাদেশের নিত্য ব্যবহৃত মশলা। মরিচ কাঁচা ও পাকা দুই অবস্থায় খাওয়া হয়। বাংলাদেশের সব জায়গায়ই এর চাষ হয়। মরিচ শুধু মশলা বা রসনাতৃপ্তিতে ব্যবহার হয় না। পরিমিত এবং নিয়মিত খেলে এটি ভিটামিন এ, বি, সি-এর যোগান দেয়।

ব্যবহারঃ রান্না-বান্না ও মুখরোচক খাবার তৈরি ছাড়াও মরিচ বিভিন্ন ধরনের আচার তৈরির উপাদান হিসেবে ব্যবহার হয়। অনেকে মরিচের আচারও করে থাকেন।
উপযুক্ত জমি ও মাটিঃ প্রচুর আলো-বাতাস এবং পানি,সেচ ও নিকাশের ব্যবস্থা আছে এমন দো-আঁশ মাটি মরিচ চাষের জন্য উপযোগী।

যে সব জায়গায় বেশি পরিমাণে চাষ হয়ঃ মরিচ চাষে বৃহত্তর বরিশাল জেলা অনেক এগিয়ে। তাছাড়া বগুড়া, ফরিদপুর, নোয়াখালী,জামালপুর,মেহেরপুর,বরিশাল,কুমিলস্না,চট্রগ্রাম এবং ময়মনসিংহে প্রচুর পরিমাণে মরিচ চাষ হয়।

জাত পরিচিতিঃ ঝাল ও মিষ্টি এ ধরনের মরিচ দেখা যায়। ঝাল মরিচের মধ্যে বগুড়া,চাঁদপুরী,ফরিদপুরী উল্লেখযোগ্য। এছাড়া কামরাংগা, আকালী ও কালো মরিচ খুব ঝাল।

চারা তৈরিঃ জমি ভালভাবে চাষ ও ও মই দিয়ে ও আগাছা বাছাই করে ৩x১ মিটার আকারের বীজতলা করে সেখানে বীজ বপন করা হয়। শীতকালের জন্য ভাদ্র-আশ্বিণ মাসে ও বর্ষা মৌসুমের জন্য ফাল্গুন-চৈত্র মাসে বীজতলায় বীজ বপন করা হয়। চারা ১০ সে.মি. উঁচু হলে রোপণের উপযোগী হয়।

চারা রোপণঃ আগাছা পরিষ্কার করে ৪-৫ টি চাষ ও মই দিয়ে জমি প্রস্ততির পর চারা রোপণ করা হয়। চারা রোপণে সারি থেকে সারির দূরত্ব ৬০-৭০ সে.মি. ও চারা থেকে চারার দূরত্ব ৩০-৪০ সে.মি. রাখা হয়। চারা বিকেলে লাগাতে হবে এবং ২-৩ দিন সকাল বিকাল পানি দিতে হবে।

সার ব্যবস্থাপনাঃ মরিচের জমিতে প্রতি হেক্টরে গোবর ১০ টন, ইউরিয়া ২৫০ কেজি, টিএসপি ২০০ কেজি এবং এমওপি সার ১৫০ কেজি প্রয়োগ করা হয়। জমি তৈরির সময় সমুদয় গোবর, টিএসপি ও ৫০ কেজি এমওপি সার প্রয়োগ করা হয়। চারা রোপণের ২৫ দিন পর ৮৪ কেজি ইউরিয়া ও ৩৪ কেজি এমওপি সার প্রথম উপরি প্রয়োগ করা হয়। লাগানোর ৫০ দিন পর ২য় ও ৭০ দিন পর তৃতীয় কিস্তির উপরি সার প্রয়োগ করা হয়। ২য় ও ৩য় কিস্তির প্রতিবারে ৮৩ কেজি ইউরিয়া ও ৩৩ কেজি এমওপি সার প্রয়োগ করা হয়।

সেচ ব্যবস্থা ও আগাছা দমনঃ গ্রীষ্মকালে ৪ থেকে ৫ দিন এবং শীতকালে ১০ থেকে ১২ দিন পরপর সেচ দিতে হবে। তাছাড়া প্রতি কিস্তি সার প্রয়োগের পরে সেচ দেয়া প্রয়োজন। সেচের কয়েক দিন পর মাটিতে চটা দেখা দিলে ভেঙ্গে দিতে হবে যাতে শিকড় প্রয়োজনীয় আলো ও বাতাস পায়। এতে গাছের বৃদ্ধি বেশি হয়। আগাছা দেখা দিলে তা পরিষ্কার করতে হবে এবং উপরি সার প্রয়োগের সময় কোদাল দিয়ে কুপিয়ে আলগা করে দিতে হবে।
লক্ষ্যণীয়ঃ ছে ফুল আসার সময় এবং তার ২০ থেকে ৩০ দিন পর অনুমোদিত হরমোন জাতীয় ওষুধ ১০ থেকে ১২ লিটার পানিতে ২ মিলি হারে বা ৪ থেকে ৫ লিটার পানিতে ১ মিলি সেলমন দ্রবন তৈরি করে গাছে প্রয়োগ করলে মরিচ অকালে ঝরে পড়ে না ও ফলন বাড়ে।

রোগবালাই ব্যবস্থাপনাঃ

পোকার নামঃ সাদা মাছি
খুব ছোট আকারের এ পোকা পাতার রস চুষে খায়। ফলে গাছের বাড়বাড়তি ব্যহত হয়। তাছাড়া এ পোকা কালো সুটি মোল্ড নামক ছত্রাক পাতায় জন্মাতে সহায়তা করে এবং ভাইরাস রোগ ছড়ায়। সাদা রংয়ের এ পোকা গাছের পাতার নিচের দিকে থাকে। লম্বায় ১ মিলিমিটারের চেয়ে সামান্য বড়। গাছের পাতা সামান্য নাড়া দিলে উড়ে চলে যায়। এ সকল পোকার শরীর সাদা মোম জাতীয় পদার্থ দ্বারা ঢাকা থাকে।

ক্ষতির নমুনাঃ পাতার নিচের দিক হতে প্রাপ্ত বয়স্ক ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক (নিম্ফ) পোকা পাতার রস চুষে খায় ফলে পাতা কুঁচকে যায় এবং গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। আক্রমণে প্রথমে পাতায় সাদা বা হলদেটে রং দেখা যায় পরে দাগগুলো একত্রে হয়ে সবুজ শিরাসহ পাতা হলুদ হয়ে যায়। এ পোকা খাওয়ার সময় আঠালো মিষ্টি রস নি:সরণ করে বিধায় ঐ আঠাতে কালো ছত্রাক জন্মাতে সহায়তা করে। এ পোকা ভাইরাস রোগ ছড়ায়। উষ্ণ ও শুষ্ক আবহাওয়া এ পোকা বিস্তারের জন্য সহায়ক।

জীবন চক্রঃ এ পোকা সাধারনত পাতার নিচের দিকে অতি ক্ষুদ্র সাদা ডিম পাড়ে। ডিম পরে বাদামী রং ধারণ করে ও ৩-১৭ দিন পর ডিম ফুটে নিম্ফ (বাচ্চা) বের হয়। বাচ্চা সবুজাভ সাদা, ২-৬ সপ্তাহ নিম্ফ অবস্থায় থেকে পূর্ণাঙ্গ পোকায় পরিণত হয়। পূর্নাঙ্গ পোকা ১০-১৫ দিন বাঁচে।

ব্যবস্থাপনাঃ হলুদ রংয়ের আঠালো ফাঁদ ব্যবহার করতে হবে। প্রতি লিটারের ৫ গ্রাম কাপড় কাঁচা সাবান মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। অনুমোদিত কীটনাশক নির্ধারিত মাত্রায় ব্যবহার করতে হবে।

পোকার নামঃ থ্রিপস
এ পোকা ছোট কিন্তু পাতার রস চুষে খায় বিধায় গাছ দূর্বল হয়ে পড়ে। সে কারনে ক্ষেতের মধ্যে পাতা বিবর্ণ দেখালে কাছে গিয়ে মনোযোগ সহকারে দেখা উচিৎ, তা না হলে ফলন অনেক কমে যাবে। পোকা আকৃতিতে খুব ছোট। স্ত্রী পোকা সরু, হলুদাভ। পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ গাঢ় বাদামী। বাচ্চা সাদা বা হলুদ। এদের পিঠের উপর লম্বা দাগ থাকে।

ক্ষতির নমুনাঃ এরা রস চুষে খায় বলে আক্রান্ত পাতা রূপালী রং ধারণ করে। আক্রান্ত পাতায় বাদামী দাগ বা ফোঁটা দেখা যায়। অধিক আক্রমণে পাতা শুকিয়ে যায় ও ঢলে পড়ে। রাইজোম আকারে ছোট ও বিকৃত হয়।

জীবন চক্রঃ স্ত্রী পোকা পাতার কোষের মধ্যে ৪৫-৫০ টি ডিম পাড়ে। ৫-১০ দিনে ডিম হতে নিম্ফ (বাচ্চা) বের হয়। নিম্ফ ১৫-৩০ দিনে দুটি ধাপ অতিক্রম করে। প্রথম ধাপে খাদ্য গ্রহণ করে এবং দ্বিতীয় ধাপে খাদ্য গ্রহণ না করে মাটিতে থাকে। এরা বছরে ৮ বার বংশ বিস্তার করে। এবং স্ত্রী পোকা পুরুষ পোকার সাথে মিলন ছাড়াই বাচ্চা দিতে সক্ষম।

ব্যবস্থাপনাঃ সাদা রংয়ের আঠালো ফাঁদ ব্যবহার। ক্ষেতে মাকড়সার সংখ্যা বৃদ্ধি করে এ পোকা দমন করা যায়। আক্রমণ বেশি হলে পারফেকথিয়ন/মেটাসিসটক্স এক চা চামচ ৫ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

পোকার নামঃ জাব পোকা
র্পূনাঙ্গ ও নিম্ফ (বাচ্চা) পাতা, ফুল, কচি ফল ও ডগার রস চুষে খায়। অধিক আক্রমনে গাছের বাড় বাড়তি কমে যায় ও ফলন কম হয়। এ পোকা ভাইরাস রোগ ছড়ায়। জাব পোকা অতি ছোট, দেহ নরম ও উজ্জ্বল কাল রংয়ের হয়ে থাকে। পাখাওয়ালা জাব পোকা উড়তে পারে কিন্তু নিম্ফ বা পাখা বিহীন উড়তে পারে না। এরা দল বদ্ধ ভাবে বাস করে।

ক্ষতির নমুনাঃ পূর্নাঙ্গ ও নিম্ফ পাতা, ফুল কচি ফল ও ডগার রস চুষে খায়। পাতা কুঁকড়ে যায়, গাছের বৃদ্ধি ও ফুল, ফল ধারণ বাধাগ্রস্থ হয়। এ পোকা থেকে নি:সৃত মধুরসে কালো শুটি মোল্ড ছত্রাক জন্মায়। বাতাসে আর্দ্রতা বেশী ও মেঘলা আকাশ থাকলে পোকার আক্রমণ বেশি হয়।

জীবন চক্রঃ এ পোকা কোন যৌন মিলন ছাড়াই ১০-১২ দিনের মধ্যে ৮-৩০ টি নিম্ফ জন্ম দিতে পারে। নিম্ফ অবস্থা ৫-৮ দিন থাকে। পাখা বিহীন জাব পোকা ২৪ ঘন্টার মধ্যে বাচ্চা দিতে পারে। এরা সারা বছর বংশ বিস্তার করে।
ব্যবস্থাপনাঃ আক্রমনের প্রাথমিক অবস্থায় হাত দিয়ে পিষে মেরে ফেলা। লেডি বার্ড বিটলের পূর্নাঙ্গ ও কীড়া (গ্লাব) এবং সিরফিড ফ্লাই এর কীড়া জাব পোকা খায় বিধায় এদের সংরক্ষণ ও সংখ্যা বাড়ানো গেলে জাবপোকা অতিদ্রুত খেয়ে ফেলে। আক্রমণ বেশি হলে অনুমোদিত কীট নাশক ব্যবহার করতে হবে।

পোকার নামঃ ফলছিদ্রকারী পোকা
এ পোকার মথ নিশাচর এবং রাতের আলোতে আকৃষ্ট হয়। পোকার কীড়ার আক্রমণে মরিচ ছিদ্র যুক্ত দেখায় ও বাজার মূল্য কমে যায়। মা পোকাকে (মথ) সাধারনত রাত ছাড়া দেখা যায় না। কীড়াকে (বাচ্চা) ফলের মধ্যে দেখা যায়। কীড়া লম্বায় প্রায় ২ ইঞ্চি। কীড়ার গায়ের রং কালচে ধূসর থেকে হালকা বাদামী এবং শরীরের উভয় পার্শ্বে লম্বালম্বি হালকা কাল ও বাদামী রংয়ের দাগ দেখা যায়।

ক্ষতির নমুনাঃ কীড়া ফলের বোটার কাছে ছিদ্র করে ভেতরের অংশ খায়। একটি পোকা একাধিক ফলে আক্রমন করতে পারে এবং ফলের ভেতর কীড়ার বিষ্ঠা ও পচন দেখা যায়। আক্রান্ত ফল অসময়ে পাকে।
জীবন চক্রঃ মথ পাতার নিচে ২০০-৩০০ ডিম পাড়ে। ৩-৪ দিনে ডিম ফোটে কীড়া বের হয়। ছোট কীড়া একত্রে থাকে তবে বড় হলে সারা মাঠ ছড়িয়ে পড়ে। কীড়া ১৪-১৬ দিন পর পুত্তলিতে পরিণত হয়। পুত্তলি ২-৩ ইঞ্চি মাটির গভীরে থাকে। ১০-১৫ দিন পর পুত্তলি হতে পূর্ণাঙ্গ মথ বের হয়। জীবনচক্র সম্পন্ন করতে ৩০-৩৫ দিন লাগে। এরা বছরে ৮ বার বংশ বিস্তার করে।

ব্যবস্থাপনাঃ জমি থেকে ডিম ও কীড়া সংগ্রহ করে নষ্ট করা। প্রতি বিঘায় ১৫ টি হারে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে পুরুষ মথ মেরে ফেলা। প্রতি সপ্তাহে একবার করে পরজীবী পোকা,ট্রাইকোগ্রামা কাইলোনিজ ব্যবহার (প্রতি হেক্টরে ১ গ্রাম ডিম) করা। আক্রমণ বেশি হলে অনুমোদিত কীট নাশক ব্যবহার করতে হবে।

নামঃ চওড়া মাকড়
এদের পা ৮ টি বলে মাকড় বলে। বালিকণার মত ক্ষুদ্র বলে দেখা যায় না কিন্তুু এদের আক্রমণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে থাকে। মাকড় অতি ক্ষুদ্র, খালি চোখে দেখা যায় না, রং সাদা বা হলদে। এরা পাতার নিচে মধ্য শিরা ঘিরে দলবদ্ধভাবে বসবাস করে। দেহ নরম, ডিম্বাকৃতির। এরা কাঁকড়ার মত দেখায়।

ক্ষতির নমুনাঃ পাতার নীচে থেকে রস চুষে খায় ফলে পাতার শিরার মধ্যকায় এলাকার বাদামী রং ধারণ করে ও শুকিয়ে যায়। আক্রান্ত পাতা কুঁকড়িয়ে যায় এবং কচি পাতার নীচের দিকে বেঁকে পেয়ালা আকৃতির হয়ে যায় ও পাতা সরু হয়। ব্যাপক আক্রমণে পাতা ভেঙ্গে যায়। ফলন ব্যাপকভাবে কমে যায়।

জীবন চক্রঃ স্ত্রী মাকড় পাতার নীচে ৩০-৭৬ টি ডিম পাড়ে। ২-৩ দিনের মধ্যে ডিম থেকে কীড়া বের হয়। ২-৩ দিন পর কীড়াগুলো নিম্ফে পরিণত হয় এবং ১ দিন পর পূর্ণাঙ্গ মাকড়ে পরিণত হয়। পূর্ণাঙ্গ স্ত্রী মাকড় ৮-১৩ দিন বাঁচে ও পুরুষ মাকড় ৫-৯ দিন বাঁচে।

ব্যবস্থাপনাঃ আক্রমণের শুরুতে হাত দিয়ে আক্রান্ত পাতা সংগ্রহ করে ধ্বংশ করতে হবে। প্রতি লিটার পানিতে নিম তেল ৫ মিলি+৫ মিলি ট্রিকস্ মিশিয়ে পাতার নিচের দিকে স্প্রে করতে হবে। পাইরিথ্রয়েড জাতীয় কীটনাশক প্রয়োগ যথা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। অনুমোদিত মাকড়নাশক প্রয়োগ করতে হবে।

রোগের নামঃ ক্ষত, এনথ্রাকনোজ বা ডাইব্যাক
কলিটোট্রিকাম ক্যাপসিসি নামক ছত্রাক দ্ধারা এ রোগ হয়। এ রোগের আক্রমণে গাছ বড় হয় না, পাতায় দাগ পড়ে ও ডগা থেকে শুরু হয়ে পুরো গাছ মরে যেতে পারে। মরিচে আক্রমন হলে মরিচের ফলন কম হয় এবং রং বিবর্ণ হওয়ায় বাজার মূল্য কমে যায়।

ক্ষতির নমুনাঃ চারা ও বয়স্ক গাছের পাতা, ডাল, ফুল ফল আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত পাতা ঝরে যায় ও ডগা উপর হতে মরতে শুরু করে। আক্রান্ত গাছ ফ্যাকাশে বর্ণ ধারণ করে, দুর্বল হয়ে যায় ও ফল ধারণ ক্ষমতা কমে যায়। ফলের উপর গোলাকার কাল দাগ পড়ে এবং দাগের চারিদিকে গাঢ় হলুদ রিং বা বলয় থাকে। এ দাগ বৃদ্ধি পেয়ে ফল পঁচিয়ে দেয় ও ঝরে পড়ে। আক্রান্ত গাছ দ্রুত মরে যায়। আর্দ্র আবহাওয়া ও অধিক বৃষ্টিপাত এ রোগ বিস্তারে সহায়তা করে। গাছের পরিত্যাক্ত অংশ, বিকল্প পোষক হতে বায়ু, পানি, ইত্যাদির মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে। তাছাড়া বীজের মাধ্যমে ও এ রোগের বিস্তার হয়।

ব্যবস্থাপনাঃ সুস্থ গাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হবে। আক্রান্ত গাছের পরিত্যাক্ত অংশ ধ্বংশ করতে হবে। অনুমোদিত ছত্রাকনাশক দ্ধারা বীজ শোধন করে বীজ বপন করতে হবে। ক্ষেতে রোগের আক্রমণ দেখা মাত্র টিল্ট-২৫০ ইসি (০.০৫%) ব্যাভিস্টিন (০.১%) বা নোইন (০.২%) ১০ দিন পরপর স্প্রে করতে হবে।

রোগের নামঃ পাতা পঁচাঃ ছত্রাকের আক্রমনে এ রোগ হয়। ক্ষেতে আক্রমণ বেশী হলে সম্পূর্ণ ফসল নষ্ট হয়ে যাবার সম্ভাবনা আছে। এ কারনে রোগের আক্রমনের শুরু থেকেই সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।

ক্ষতির নমুনাঃ চারা ও বয়স্ক গাছের শাখা প্রশাখা, পাতা ফুল ও ফল এ রোগে আক্রান্ত হয়। প্রথমে পাতায় পানি ভেজা দাগ দেখা যায়। পরে এ দাগ বৃদ্ধি পায় ও আক্রান্ত অংশ বিবর্ণ হয়ে কালচে রং ধারন করে এবং পাতা দ্রুত পঁচে যায়। অনুকুল পরিবেশে ৫-৭ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ গাছ মরে যেতে পারে। উচ্চ তাপ মাত্রা ও স্যাঁত স্যাঁতে আবহাওয়ায় এ রোগ দ্রুত ছড়ায়। বায়ু, আক্রান্ত অংশের মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়।

ব্যবস্থাপনাঃ ফসলের পরিত্যাক্ত অংশ নষ্ট করতে হবে। আক্রান্ত অংশ টিল্ট-২৫০ (০,০৫%), রিডোমিল গোল্ড (০.২%), কুপ্রাভিট (১.০%) অথবা ডাইথেন এম-৪৫ (০.২%) স্প্রে করতে হবে।

রোগের নামঃ লিফ কার্ল
একপ্রকার ভাইরাসের আক্রমণে এ রোগ হয়। যে কোন বয়সের গাছ আক্রান্ত হতে পারে তবে বয়স্ক গাছই বেশী আক্রান্ত হয়। পাতা কুঁকড়িয়ে যায় বলে গাছের সাধারণ বৃদ্ধি ব্যহত হয় ও ফলন কমে যায়।

ক্ষতির নমুনাঃ আক্রান্ত গাছের পাতা কুঁকড়িয়ে যায় ও সাধারণ পাতা অপেক্ষা পুরু হয়। গাছের পর্ব মধ্য ছোট হয় ও গাছ খাট আকারের হয়। ফুল ও ফল ধারণ ক্ষমতা কমে যায়। ভাইরাস আক্রান্ত গাছ মরে যায় না তবে পুনরায় স্বাভাবিক ও হয় না।

ব্যবস্থাপনাঃ আশপাশের সোলানেসি পরিবারের (বেগুন জাতীয়) অন্যান্য পোষক উদ্ভিদ ধ্বংশ করতে হবে। চারা অবস্থা থেকে পারফেকথিয়ন-৪০ ইসি বা টাফগার-৪০ ইসি জাতীয় কীটনাশক ১ লিটার পানিতে ১ মিলি স্প্রে করে বাহক পোকা দমন করতে হবে।

ফসল সংগ্রহঃ ফুল আসার পর ১৫-২০ দিনের মধ্যে কাঁচা মরিচ তোলা হয়। তবে মরিচের রং লাল হলে তুলে রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা যায়। প্রতি হেক্টরে ফলন কাঁচা ১০-১১ টন ও শুকনো ১.৫-২.০ টন।

ফসল সংগ্রহের পর করণীয়ঃ মরিচ সাধারণতঃ অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা, ছায়াযুক্ত এবং শুকানো জায়গায় ২৮ সে. তাপমাত্রা ৬০% আপেক্ষিক আর্দ্রতায় ১ থেকে ২ সপ্তাহ রাখলে মরিচের কোন ক্ষতি হয় না।
বাছাই করাঃ কাঁচা মরিচ সংগ্রহের পর ‘ভাঙ্গা ও পঁচা’ এবং ‘ভালো’ এই দুইভাবে ভাগ করতে হবে। শুধুমাত্র ভালগুলি বাজারে বিক্রি করতে হবে।

শুকনো মরিচ দুইভাবে বাছাই করা হয়-
১) সাদা হয়ে যাওয়া ও বোটা খুলে যাওয়াগুলো নিজের ব্যবহারের জন্য রেখে দেওয়া যায় এবং ২) শুধুমাত্র ভালগুলি সংরক্ষণ করতে হবে।

সংরক্ষণ পদ্ধতিঃ মরিচের পাকা ফল গাছ থেকে তুলে, শুকিয়ে তা সংরক্ষণ করা হয়। সূর্য্যের আলোর সাহায্যে ফল শুকানো আমাদের দেশে একটি প্রচলিত পদ্ধতি। কিন্তু একটু খেয়াল না করলে বেশি সূর্যের তাপে ফল সাদাটে রং ধারন করে। সংগ্রহকৃত ফলে বৃষ্টি বা শিশির পড়লে ‘ফল পঁচা’ রোগ দেখা দেয়। মরিচ শুকানোর সময় মরিচের বোটা যেন খুলে না যায় সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। মরিচ ৬৫০ সে. তাপমাত্রার গরম পানির মধ্যে ৩ মিনিট রাখলে ফলের শুকানোর সময়টা কমে যায় ফলে মরিচের রং ধারন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং মরিচ সংগ্রহের পরের ক্ষতি কম হয়। মরিচ শুকানোর পর মাচার উপরে টিনের ডোল, গোলা, বেড়ি, পলিথিন বা ড্রামে রাখতে হবে। মরিচের গোলা এমন হওয়া উচিৎ যেন বাইরে থেকে বাতাস ঢুকতে না পারে। যে সব ঘরের উপর গাছের ছায়া পড়ে না এবং স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় অবস্থিত নয় কেবলমাত্র সেসব ঘরেই মরিচের গোলা তৈরী করা দরকার।

বীজ উৎপাদনঃ মরিচ চাষীরা সহজেই এর বীজ উৎপাদন করতে পারে। তবে বীজ উৎপাদনের সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন এই জাতের মরিচের জমির চারপাশে অন্ততঃ ১৩০০ ফুটের মধ্যে অন্য কোন মরিচের জাত না থাকে। পরিপক্ক, পুষ্ট এবং উজ্জ্বল লাল রং-এর মরিচ থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হবে।
সাধারণতঃ একটি মরিচে ৭০ থেকে ৭৫ টি বীজ থাকে এবং ১০০০টি বীজের ওজন প্রায় ৫ গ্রাম। প্রতি একরে ৩২ থেকে ৩৫ কেজি বীজ উৎপাদন করা সম্ভব।

তথ্যসূত্রঃ firmsupdate

কম সেচেও ধানের ফলন বাড়ানো সম্ভব

Wednesday, April 4, 2018


মাটি ছাড়াই সবজি চাষ সম্ভব। এবার পানি ছাড়াই ধান চাষ করলে কেমন হয়। অবাক হচ্ছেন! এটি আবার কীভাবে সম্ভব। হ্যাঁ, এটি অবিশ্বাস্য হলেও সত্য। নামমাত্র পানি ব্যবহার করে বোরো ধান চাষের নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়েছে। আর এ প্রযুক্তিটি অ্যারোবিক বা শুকনো পদ্ধতি নামে অভিহিত করা হয়েছে। দীর্ঘ ৫ বছর গবেষণার পর এমন একটি কার্যকর পদ্ধতি উদ্ভাবনে সফল হয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি গবেষকরা। ডিএই (এইসি)-ডানিডা এএসপিএসের অর্থায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ মশিউর রহমানের সঙ্গে এ প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গবেষণায় সহযোগিতা করেন পিএইচডি শিক্ষার্থী মোঃ মেহেদী মাসুদ ও মাস্টার্স শিক্ষার্থী মোঃ হাফিজুর রহমান। প্রযুক্তি উদ্ভাবনের কাজ প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ গবেষণাগারে সফলভাবে শেষ করার পর দিনাজপুরের সুন্দরবন, রাজশাহীর বিজয়নগর, নেত্রকোনার নারান্দিয়া ও টাঙ্গাইলের নরকোনায় পরীক্ষামূলক মাঠপর্যায়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কৃষকরা এ পদ্ধতিতে আর্থিকভাবে লাভবান হবে বলে জানিয়েছেন। এ পদ্ধতিতে প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে সেচের পানি ৬০ শতাংশ কম লাগে। ফলনও প্রতি ধানের গোছায় বেশি হয়। বিদ্যুত্ সঙ্কটের এ সময় এ পদ্ধতি সারা দেশে সমপ্রসারণ করলে প্রতি বছর দেশের ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকার ডিজেল ও বিদ্যুত্ সাশ্রয় হবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

জানা যায়, বোরো ধান চাষের জন্য ভূগর্ভ থেকে প্রচুর পরিমাণ পানি উত্তোলনের প্রয়োজন হয়, যার জন্য বিপুল পরিমাণ বিদ্যুত্, ডিজেল বা জ্বালানি লাগে, সে কারণে বোরো মৌসুমে বিদ্যুত্ ও জ্বালানির ঘাটতি বেড়ে যায়। তাছাড়া অনেক সময় বিপুল পরিমাণ পানি উত্তোলনের ফলে পানির স্তর নিচে নেমে যায় এবং ফসলহানি ঘটে থাকে। অন্যদিকে প্রচুর পানি উত্তোলনের ফলে অনেক সময় ভূমি দেবে যায়, মাটিতে লবণাক্ততা, আয়রন, আর্সেনিক দূষণ ইত্যাদি পরিবেশগত সমস্যার সৃষ্টি হয়। সেচের জন্য সেচ সাশ্রয় করতে পারলে একদিকে বিদ্যুত্, ডিজেল ইত্যাদি সাশ্রয় হবে এবং উত্পাদন খরচ কমে যাবে, অন্যদিকে পরিবেশগত সমস্যা দূর করা সম্ভব হবে।

বোরো ধান চাষে সেচ সাশ্রয়ের জন্য বিভিন্ন উপায় অবলম্বনের চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে অডউ (ম্যাজিক পাইপ) পদ্ধতিটি ব্যাপকভাবে গ্রহণের জন্য সরকারিভাবে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ ২০ থেকে ৩০ ভাগ সেচের পানি সাশ্রয় হয় বলে জানা গেছে। কিন্তু বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের গবেষণার মাধ্যমে অ্যারোবিক বা শুকনা পদ্ধতিতে বোরো ধান চাষ করলে কমপক্ষে ৫০ থেকে ৬০ ভাগ সেচের পানি সাশ্রয় হবে ও ধানের ফলন প্রচলিত বা অডউ পদ্ধতির সমান বা বেশি হবে।

এ পদ্ধতির জন্য ব্রিধান ২৯ সবচেয়ে ভালো। তবে বিনা ধান ৬, ব্রিধান ৪৭ ও ব্রিধান ২৮ জাতের চাষ করা যেতে পারে। ধানের বীজ প্রথমে ২৪-৩০ ঘণ্টা পানিতে ভিজানো হয় ও পরে ২৪-৩০ ঘণ্টা জাগ দিয়ে ধান বীজের মুখ ফাটা অবস্থা তৈরি করা হয়। আমন ধান কাটার পর জো অবস্থায় প্রয়োজন মতো চাষ ও মই দিয়ে ভালোভাবে জমি তৈরি করতে হবে। জমিতে রস না থাকলে সেচ দিয়ে পরে জো অবস্থা তৈরি করতে হবে। হাতে অথবা যন্ত্রের সাহায্যে ২৫ সে.মি. দূরে দূরে লাইন এবং লাইনে ১৫ সে.মি. দূরে দূরে ৩-৫ সে.মি. গভীর গর্তে ও প্রতিগর্তে ৪-৬টি বীজ বপন করা হয়। জমির উর্বরতা ও ধানের জাতভেদে সারের মাত্রা নির্ধারিত হবে। গোবর, কম্পোস্ট, টিএসপি, এমপি, জিপসাম ও দস্তা সার জমি তৈরির সময় প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া ৪ কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। যন্ত্র/নিড়ানির মাধ্যমে আগাছা দমন করা যাবে। শুকনো পদ্ধতিতে আগাছার আক্রমণ রোধ করতে প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় ২ বা ৩টি বেশি নিড়ানি দরকার হয়। নিড়ানি খরচ বেশি হলেও পানি ও চারা রোপণের খরচ কম লাগে বলে অধিক মুনাফা পাওয়া যাবে। চীন ও ভারতে বিভিন্ন আগাছা নাশক যেমন- বাই স্পাইরিকেব সোডিয়াম, ট্রাইফ্লুরালিন, পেনক্সসুলাম ইত্যাদি ব্যবহার করে কম খরচে সফলতার সঙ্গে শুকনো পদ্ধতির ধানের জমিতে আগাছা দমন করা হয়। বপনের পর জমিতে রস না থাকলে হালকা সেচ দিতে হবে। এরপর ৬০-৭০ দিন পর হতে প্রয়োজন মতো ৭-১০টি সেচ দিতে হবে।

উল্লেখ্য, অ্যারোবিক পদ্ধতিতে বপন থেকে ৯০ দিন পর্যন্ত খুব অল্প পরিমাণ সেচ লাগে। থোড় আসার সময় থেকে বীজ পুষ্ট হওয়ার সময় পর্যন্ত জমিতে সামান্য পানি রাখা ভালো। প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় এ পদ্ধতিতে পোকামাকড় ও রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ কম হয়। পোকামাকড় ও রোগের আক্রমণ হলে আইপিএম অথবা আইসিএম পদ্ধতি অনুসরণ করে দমন করতে হবে। এ পদ্ধতিতে প্রচলিত বা এডব্লিউডির তুলনায় বীজ থেকে বীজ পর্যন্ত ১৫-২০ দিন কম সময় লাগে। প্রচলিত বা এডব্লিউডি পদ্ধতিতে ৩০ দিনের চারা রোপণের দিন থেকে ফসল কর্তন পর্যন্ত যে সময় লাগে শুকনো পদ্ধতিতে বীজ বপন থেকে ফসল কর্তন পর্যন্ত তার থেকে ১০-১৫ দিন বেশি সময় লাগে। অ্যারোবিক পদ্ধতিতে অবস্থাভেদে প্রচলিত বা এডব্লিউডি পদ্ধতির সমান অথবা কিছুটা বেশি ফলন পাওয়া যাবে।
লেখক: এমএস আলম
এগ্রোবাংলা ডটকম

ধানের ক্ষেতে কম সেচ দিয়েও ভালো ফলন সম্ভব

বোরো ধান উত্পাদনে সেচের জন্য ব্যাপকভাবে পানি ব্যবহার হয়ে থাকে। প্রচলিত পদ্ধতিতে কৃষকরা বোরো ধান ক্ষেতে কিছু না কিছু দাঁড়ানো পানি রেখে থাকেন। ফলে ধান উত্পাদন করতে প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়। অঞ্চল বা মাটি ভেদে ১ কেজি ধান উত্পাদন করতে কৃষকদের ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার লিটার পানি ব্যবহার করতে হয়। যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি বলে গবেষণায় পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণায় দেখা গেছে, ভালো ফলন পাওয়ার জন্য ধান ক্ষেতে সব সময় দাঁড়ানো পানি রাখার প্রয়োজন নেই।

দেশে-বিদেশে বিজ্ঞানীরা ধান উত্পাদনের জন্য অনেক পানি সাশ্রয়ী সেচ পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। যা ব্যবহার করে কম পানি দিয়ে ধানের চাহিদামত ফলন পাওয়া যায়। এমন একটি পদ্ধতি হলো অল্টারনেট ওয়েটিং অ্যান্ড ড্রায়িং বা পর্যায়ক্রমে পরিমিতভাবে জমি ভিজানো ও শুকানো সেচ পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে সেচ প্রদান করলে সনাতন পদ্ধতির চেয়ে প্রায় ২০/২৫ ভাগ পানি সাশ্রয় করা যায়। এ পদ্ধতিটি মাঠ পর্যায়ে ব্যবহার কর সহজ। বাঁচানো পানি দিয়ে অধিক জমি চাষ করা যেতে পারে। অল্টারনেট ওয়েটিং অ্যান্ড ড্রায়িং বা (এ ডাব্লিউডি) সেচ পদ্ধতি হলো ধান ক্ষেতে প্রয়োজনমত সেচ দেয়া। মাটিতে পর্যাপ্ত রস বা পানি থাকলে ধান গাছ শিকড়ের মাধ্যমে তার প্রয়োজনীয় পানি গ্রহণ করতে পারে। ধান ক্ষেতে একটি ছিদ্রযুক্ত প্লাস্টিক বা বাঁশের পাইপ বসিয়ে মাটির ভেতরে পানির স্তর পর্যবেক্ষণ করে সেচ দেয়াই হলো এ পদ্ধতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

পর্যবেক্ষণ পাইপের মাধ্যমে সেচ প্রদানের জন্য একটি প্লাস্টিক বা বাঁশের পাইপ লাগবে। পাইপের দৈর্ঘ্য হবে ৩০ সেন্টিমিটার ও চওড়া হবে ৮ থেকে ১০ সেন্টিমিটার। পাইপটির উপরের ১০ সেন্টিমিটারের মধ্যে কোনো ছিদ্র করা যাবে না। ছিদ্র করতে হবে নিচের ২০ সেন্টিমিটারের মধ্যে। পাইপটির ৫ সেন্টিমিটার পরপর ৩ সুতা চওড়া ড্রিল মেশিনের আল দিয়ে ছিদ্র করতে হবে। কৃষক নিজেই বা স্থানীয় ওয়ার্কশপে গিয়ে ছিদ্র করে আনতে পারেন।

পাইপটি এমনভাবে ধান ক্ষেতে বসাতে হবে যেন এর উপরের ছিদ্রহীন ১০ সেন্টিমিটার মাটির উপরে থাকে। যাতে সেচের পানির সঙ্গে খড়কুটো বা অন্যান্য আবর্জনা পাইপের মধ্যে প্রবেশ করতে না পারে। নিচের ছিদ্রযুক্ত ২০ সেন্টিমিটার মাটির নিচে থাকবে। যাতে মাটির ভেতরের পানি ছিদ্র দিয়ে পাইপে সহজে প্রবেশ করতে বা বেরিয়ে আসতে পারে।

সেচ প্রদান পদ্ধতি 
১. ধান রোপণের আগে জমি ভালোভাবে সমতল করে নিতে হবে। তারপর একই সমতলে অবস্থিত এক একর পরিমাণ ধান ক্ষেতের ৩/৪ জায়গায় গর্ত করে প্লাস্টিক বা বাঁশের পাইপ খাড়াভাবে বসাতে হবে।

২. ধানের চারা রোপণের ১০ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত জমিতে ২/৪ সেন্টিমিটার দাঁড়ানো পানি রাখতে হবে। তারপর থেকে এডব্লিউডি পদ্ধতিটি কার্যকর হবে। এভাবে প্রথমদিকে জমিতে দাঁড়ানো পানি রাখলে জমিতে আগাছা কম হবে। এরপরও এডব্লিউডি পদ্ধতিতে সেচ প্রদান করলে ধান ক্ষেতে কখনও কখনও আগাছার উপদ্রব বেশি হতে পারে। তাই আগাছা দমনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

৩. সেচ সাশ্রয়ী এ পদ্ধতি চালুর পর প্রত্যেকবার সেচ দেয়ার সময় এমন পরিমাণ পানি দিতে হবে যাতে জমিতে ৫ সেন্টিমিটার গভীরতায় পানি থাকে। পানি কমতে কমতে পানির স্তর যখন পর্যবেক্ষণ পাইপের ভেতর ২০ সেন্টিমিটার নিচে নেমে যাবে তখন আবার সেচ দিতে হবে। এ অবস্থায় মাটি ভেদে আসতে ৫ থেকে ৮ দিন সময় লাগবে। এভাবে সম্পূর্ণ আসা পর্যন্ত সেচ দিতে হবে।

৪. ফুল আসার পর ২ সপ্তাহ পর্যন্ত জমিতে সব সময় ২ থেকে ৪ সেন্টিমিটার পানি রাখতে হবে। এ সময় কোনো অবস্থাতেই যেন পানির ঘাটতি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

৫. এভাবেই পানি দিতে হবে ধান কাটার দুই সপ্তাহ আগ পর্যন্ত।
লেখক: ইরশাদ আলী

তথ্যসূত্রঃ এগ্রোবাংলা

সজনা

Tuesday, April 3, 2018


ইংরেজীতে সজনার নাম ‘‘ড্রামস্ট্রিক’’ যার অর্থ ঢোলের লাঠি। সজিনার ইংরেজী নামটি অদ্ভুত হলেও এটি একটি অতি প্রয়োজনীয় জীবন রক্ষাকারী উদ্ভিদ। বাংলাদেশে এটি নিয়ে তেমন গবেষণা না হলেও বিশ্বের বহু দেশে এ নিয়ে অনেক গবেষনা হয়েছে বিশেষ করে গাছ বৃদ্ধিকারক হরমোন, ঔষধ, কাগজ তৈরী ইত্যাদি বিষয়ে। বহু দিন হতেই আমাদের দেশে এটি সব্জির পাশাপাশি ঔষধ হিসেবে ব্যাবহার হয়ে আসছে।

দেশের সবত্রই এ সবজিকে আমরা দেখতে পাই। বিশেষ করে গ্রামের রাস্তার ধারে এবং বসত বাড়ির আঙ্গিনায় যত্ন ছাড়াই বেড়ে ওঠে এ বৃক্ষটি। সজিনার ফুল ও পাতা শুধু শাক হিসেবেই নয়, পশু খাদ্য হিবেবেও ব্যবহার হয়ে থাকে। এর পাতা শাক হিসেবে ব্যবহার করা যায় এতে শারীরিক শক্তি ও আহারের রুচির উন্নতি হয়। এর মধ্যে আছে ভিটামিন এ, বি, সি, নিকোটিনিক এসিড, প্রোটিন ও চর্বি জাতীয় পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট ইত্যাদি। ভারতীয়রা এটির স্যুপ খেয়ে থাকে। এ সময়ে ঋতু পরিবর্তনের কারনে আমাদের অনেকেরই মুখে স্বাদ থাকে না। আর এ স্বাদকে ফিরিয়ে আনতে সজিনার জুড়ি নাই। সজিনার গাছটির প্রতি আমাদের তেমন আগ্রহ না থাকলে ও এর ডাটার প্রতি আগ্রহ নেই এমন মানুষ খুজে পাওয়া কঠিন। আমরা জানি সবজি মাত্রই পুষ্টিকর খাদ্য। তবে সজিনা শুধু পুষ্টিকর সবজি নয় এটি ওষুধী বৃক্ষও বটে।

সজিনার বহুমুখী ব্যবহারঃ
ফুলঃ সজনার ফুল বসন্তকালে খাওয়া ভাল কারন এটি বসন্ত প্রতিষেধক। এটি সর্দি কাশিতে, যকৃতের কার্যকারীতায়, কৃমি প্রতিরোধে, শক্তি বৃদ্ধিতে কার্যকারীতা রয়েছে।
ডাটাঃ এর ডাটা বা ফলে প্রচুর এমাইনো এসিড আছে। এটি বাতের রুগীদের জন্য ভাল।
বীজঃ এর বীজ থেকে তেল ও পাওয়া যায় যা বাতের ওষুধ তৈরির কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে এবং ঘড়ি ঠিক করার জন্য যে বেল ওয়েল (Ben oil) ব্যবহার হয় তা এর বীজ হতে পাওয়া যায়।
ছাল: সজিনার ছাল থেকে তৈরি হয় দড়ি।

জলবায়ুঃ সজিনা চরম পরিবেশ গত অবস্থা সহ্য করতে সক্ষম তবে ২০ হতে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ভাল জন্মায় এবং যে সব এলাকায় ২৫০ হতে ১৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয় সেখানে ভাল জন্মায়। মাটি বেলে দোঁআশ হতে দোয়াঁশ এবং পিএইচ ৫.০ হতে ৯.০ সম্পন্ন মাটি সহ্য করতে পারে। সজিনাচাষে সারের তেমন প্রয়োজন হয়না। কারন সজনার বিস্তৃত ও গভীর শিকড় রয়েছে। তবে ইউরিয়া এবং জৈব সার প্রয়োগ করলে গাছ ভাল হয় ।

বংশ বিস্তারঃ এ বৃক্ষটি বীজ ও ডাল এর মাধ্যমে বংশ বিস্তার করা সম্ভব। তবে আমাদের দেশে বীজ থেকে চারা তৈরি করে চাষাবাদের রীতি এখন ও পর্যন্ত অনুসরন করা হয় না। কারন বীজ থেকে চারা তৈরি ব্যয়বহুল, কষ্ঠসাধ্য এবং সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। বীজের মাধ্যমে বংশ বিস্তারের ক্ষেত্রে এপ্রিল-মে মাসে গাছ থেকে পাকা ফল সংগ্রহ করতে হবে, তারপর সে টিকে শুকিয়ে ফাটলে বীজ পাওয়া যাবে। এ বীজ শুকনো বায়ুরোধী পাত্রে ১-৬ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করে রাখতে পারি। তার পর জুলাই-আগষ্ট মাসে বীজ তলায় অথবা পলি ব্যাগে বপন করতে পারি। তবে বীজ বপনের আগে বীজগুলোকে ২৪ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। এতে বীজ থেকে চারা গজাতে সুবিধা হয়। বীজ থেকে চারা বের হতে সময় লাগে ১০থেকে ২০ দিন। চারা বের হবার পর নিয়মিত সেচ, সার প্রয়োগ ও অন্যান্য যত্ন পরিচর্যা করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে বলে রাখা ভাল যে, বীজ থেকে সজিনা উৎপাদনের ক্ষেত্রে ডাল পুঁতে অঙ্গজ বংশ বিস্তারের চেয়ে দেরিতে ফল আসে।

আমাদের দেশে ডাল পুঁতে অঙ্গজ উপায়ে বংশ বিস্তার পদ্ধতিটি বেশি ব্যবহৃত হয়। তার কারন হল এটি করতে তেমন দক্ষতার প্রয়োজন হয় না। আর খরচ ও কম, অঙ্গজ বংশ বিস্তারের জন্য ৪-৫// ব্যাসের বা বেডের ৫-৬ হাত লম্বা নিরোগ ডাল এবং আঘাত মুক্ত ডাল ব্যবহার করা ভাল। এটিতে যখন পাতা আসে তখন ছাগল এটিকে খেয়ে নষ্ট করে ফেলে। ডালটি লাগানোর সময় যে বিষয়টি খেয়াল রাখা হবে সেটি হল ডালটি গাছে থাকা অবস্থায় এর আগা বা মাথা এবং গোড়া যে দিকে ছিল পুঁতার সময় যেন ঠিক সেই ভাবেই থাকে। লাগানোর আগে ডালের গোড়ায় একটি ধারালো কিছু দিয়ে তেড়ছা কাট দিতে হবে তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন থেঁতলে না যায়। এ কাজটি করলে ডালটি টিকে যাবার সমাভবনা অনেকগুন বেড়ে যায়। ডালটির গোড়ার প্রায় এক হাত যেন মাটির নিচে থাকে। এবং পুঁতার পর যেন এটি নাড়াচড়া না করে সে দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। ডাল এর মাধ্যমে বংশ বিস্তারের কাজটি আমাদের দেশে করা হয়ে থাকে এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি থেকে শেষ পর্যন্ত। কারন এ সময় ডাটা সংগ্রহের পর গাছগুলোকে ছাঁটাই করে দেওয়া হয়। ফলে অঙ্গজ বংশ বিস্তারের জন্য এর সহজ প্রাপ্যতা বেড়ে যায়। তাছাড়া ও এ সময়ে দু‘ একটি বৃষ্টি হয়ে থাকে যার ফলে লাগানো ডালটি সহজেই টিকে যায়।

সেচঃ নতুন লাগানো গাছে সেচের ব্যবস্থা করতে হবে যাতে শীঘ্রই শিকড় গজাতে পারে। শুস্ক ও রৌদ্রজ্জ্বল সময় প্রায় দুই মাস সেচ দিতে হবে। তবে সজনার গাছ একবার লেগে গেলে তেমন পানির প্রয়োজন হয় না।

কীট পতঙ্গ ও রোগ নিয়ন্ত্রনঃ সজনার গাছ তুলনামূলক কীট পতঙ্গ ও রোগ সহনশীল ভাবে মাঝে মাঝে পা্রর্দুভাব দেখা যায়। যেমন জলাবদ্ধ মাটিতে শিকড় পচা রোগ দেখা দিতে পারে এর কারন ডিপ্লোডিয়া। কীট পতঙ্গ শুস্ক ও ঠান্ডায় বেশী আক্রমন করে। । কীট পতঙ্গ দ্বারা গাছে হলুদ রোগ দেখা যায়। কীটপতঙ্গের মধ্যে টারমাইটস্, এফিড, সাদা মাছি প্রধান। উপদ্রুপ বেশী হলে রাসায়নিক দমন ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

ঔষধি গুনাগুনঃ
হাই ব্লাড প্রেসারেঃ সজনার পাকা পাতার টাটকা রস পানির মধ্যে নিয়ে নিংরে নিতে হবে এবং দুইবেলা আহারের পূর্বে ২ বা ৩ চামচ খেলে সপ্তাহের মধ্যে প্রেসার কমে যাবে। তবে যাদের প্রস্রাবে বা রক্তে গ্লুকোজ আছে তাদের খাওয়া যাবে না।

টিউমার ও ফোড়ার ক্ষেত্রেঃ পাতা বেটে ফোঁড়া বা টিউমারে লাগালে বহু ক্ষেত্রে মিলিয়ে যায় এবং ফোলা ও ব্যাথার উপশম হয়।
জ্বর জ্বর ভাবেঃ এক্ষেত্রে পাতার ঝোল বা শাক রান্না করে খেলে উপশম পাওয়া যায়।

হিক্কায়ঃ পাতার রস ২-৫ ফোটার সাথে দুধ মিশ্রিত করে ২-৩ বার খেলে উপকার পাওয়া যায়।

অর্শে ( Piles): অর্শে যন্ত্রনা আছে অথচ রক্ত পড়ে না ,এক্ষেত্রে নিন্মাঙ্গে তিল তৈল লাগিয়ে পাতা সিদ্ধ ক্বাথ দ্বারা সিক্ত করলে ব্যাথা কমে যায়।

চোখে ব্যথা বা পিটুনি পড়াঃ এক্ষত্রে পাতা সিদ্ধ করে পানি সেচন দেয়া।
দাঁদেঃ এর মূলের ছালের প্রলেপ দিলে এর উপকার পাওয়া যায়। তবে এটি প্রত্যহ ব্যবহার করা ঠিক নয়। এছাড়াও এর বহু বিধ ব্যবহার রয়েছে।

তাছাড়া সজনাতে প্রতি ১০০ গ্রামে খাদ্যপোযোগী পুষ্টি উপাদান হচ্ছে –
জ্বলীয় অংশ = ৮৩.৩ গ্রাম
খনিজ = ১.৯ গ্রাম
আঁশ = ৪.৮ গ্রাম
খাদ্যশক্তি = ৬০ কিলোক্যালোরি
প্রোটিন = ৩.২ গ্রাম
চর্বি = ০.১ গ্রাম
শর্করা = ১১.৪ গ্রাম
ক্যলশিয়াম = ২১.০ মিলিগ্রাম
লোহা = ৫.৩ মিলিগ্রাম
ক্যারোটিন = ৭৫০ মাইক্রোগ্রাম
ভিটামিন=বি=১ = ০.০৪ মিলিগ্রাম
ভিটামিন=বি=১ = ০.০২ মিলিগ্রাম
ভিটামিন=সি = ৪৫.০ মিলিগ্রাম

শেষ কথাঃ স্বাদে ও গুনে ভরপুর এ সবজিটির প্রতি আমদের সকলের আগ্রহ থাকলে ও এর চাষাবাদের আমদের অনাগ্রহের কথা অস্বীকার করা যায় না। তাই অন্যান্য সবজির মত এটি আমাদের দেশে এখনও পর্যন্ত বানিজ্যিক ভাবে উৎপাদন করা সম্ভব হয় নি। তবে আমাদের দেশে গ্রামের বাড়ি গুলোতে এটির ব্যাপক ভাবে চাষ হয়ে থাকে এবং সজিনা বিহীন বাড়ি না পাওয়ারই কথা। তবে এসবজি চাষে যদি আমরা একটু মনোযোগী হই অর্থাৎ এর বানিজ্যিক উৎপাদন সন্বদ্ধে চিন্তা করি তবে অন্যান্য যে কোন সবজি উৎপাদনের থেকে এটি লাভজনক। কারন অন্যান্য সব্জির মত এর উৎপাদনে তেমন ঝুঁকি নেই এবং লাভজনক।

সূত্রঃ ফার্মস আপডেট কম

সোনার ধান বাংলামতি


নতুন উদ্ভাবিত বাংলামতি ধানের চাল বিদেশে রপ্তানি করে বছরে হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বাসমতিসদৃশ এ ধান কৃষকের ভাগ্য ফেরাতে পারে বলেও আশা করছেন ব্রি'র সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এবং মাঠ পর্যায়ে প্রথম চাষকারী কৃষকরা।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বোরো মৌসুমে চাষ উপযোগী বাসমতিসদৃশ এ ধান মাঠ পর্যায়ে প্রথমবার চাষে এ বছর আশাতীত ফলন ও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ফলে তা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ বা বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন-বিএডিসি'র হাতে এর বীজ পৌঁছানোর আগেই কৃষক পর্যায়ে সংরক্ষিত বীজ সংশ্লিষ্ট এলাকা ছাড়াও সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। কেবল খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার মেছাঘোনা গ্রামের যে কৃষকের জমিতে এবার বোরো মৌসুমে বাংলামতি ধানের চাষ করা হয় সেখান থেকে এ পর্যন্ত দেশের ২১ জেলার কমপক্ষে ২০০ আগ্রহী চাষি, বিভিন্ন পেশাজীবী ও শৌখিন ব্যক্তি সংগ্রহ করেছেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এ ধানের আবাদ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে এবং ব্রি ধান-২৮ বা বোরো মৌসুমে আবাদকৃত অন্যান্য জাতের ধানের স্থলাভিষিক্ত হবে। এমনকি হাইব্রিড জাতের ধানের আবাদও কমে যেতে পারে। কারণ এ ধানের ফলন হাইব্রিড ধানের কাছাকাছি। এছাড়া বাংলাদেশের বাংলামতি ভারত ও পাকিস্তানের বাসমতি চালের অন্যতম প্রতিযোগী হয়ে উঠার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলামতি ধান থেকে যে চাল পাওয়া যাবে তা বাসমতির মতো সুগন্ধি ও উন্নতমানের হওয়ায় এ চাল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানির সুযোগ তৈরি করবে বলেও আশা করা হচ্ছে। তাই সরকারি পর্যায়ে বিশেষ করে বিএডিসির মাধ্যমে উন্নতমানের বীজ তৈরি এবং কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মাঠ প্রদর্শনী ও মাঠ দিবসের মাধ্যমে এ ধানের সঠিক চাষ পদ্ধতি সম্প্রসারণ প্রয়োজন। তা না হলে কেবল কৃষক পর্যায়ে সংরক্ষিত বীজ ও চাষ সম্প্রসারণ করে এ ধান চাষে যে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে তা কাজে লাগানো যাবে না এবং বীজের মান রক্ষা করে অধিক ফলন ধরে রাখা যাবে না বলেও বিশেষজ্ঞদের অভিমত । গত মৌসুমে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক মাঠ পর্যায়ে যশোরে পরীক্ষামূলকভাবে চাষের পর এবার ব্যক্তি আগ্রহে যশোরের বাইরে মাত্র ১০-১২ জন কৃষক এ ধানের চাষ করেছেন। যার প্রায় সবই পদ্মার দক্ষিণ পাড়ে চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সব চাষির ধান কর্তন ও মাড়াই শেষ হয়েছে। ব্রি'র ঈপ্সিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৬ মে. টন ছাড়িয়ে গড় উৎপাদন ৭ টনে পৌছেছে, যা খুবই আশাব্যঞ্জক বলে মনে করেন কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। কয়েক জায়গায় উৎপাদন ৮ টনে পেঁৗছেছে। ভারত ও পাকিস্তানের বাসমতির সর্বোচ্চ একরপ্রতি ফলন ৩০-৪০ মণ। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের বাংলামতির উৎপাদন একরে ৭০-৮০ মণ পর্যন্ত পাওয়া যাবে। ফলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের তুলনায় কম দামে চাল বিক্রি করলেও বেশি লাভবান হবে আমাদের দেশের কৃষকরা। আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের দেরাদুন বাসমতি বা পাকিস্তানের বাসমতি চালের প্রতি কেজির বিক্রয় মূল্য তিন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকার মানে ২০০ টাকার উপরে। বাংলাদেশ বছরে যদি ৪০-৫০ হাজার মে. টন বাংলামতি চাল রপ্তানি করতে পারে তবে হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে। আর এই ৫০ হাজার মে. টন চাল রপ্তানিতে যে ঘাটতি হবে তা আউশ মৌসুমে ধান চাষ সম্প্রসারণ করে মেটানো সম্ভব। ব্রি'র জেনেটিকস রিসার্চ ডিভিশনের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. খায়রুল বাসার জানান, ১৯৭৬ সালে আমন মৌসুমে চাষ উপযোগী সুগন্ধী ধান দুলাভোগ বা ব্রি-৬ উৎপাদনের দীর্ঘদিন পর আমন মৌসুমে চাষ উপযোগী সুপার অ্যারোমেটিক রাইস হিসেবে আমরা বাংলামতি উদ্ভাবনে সক্ষম হয়েছি।

এ ধান বাসমতির প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে। খুলনা অঞ্চলে বাংলামতি ধানের চাষ প্রবর্তক খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের উপরিচালক এসএম আতিয়ার রহমান জানান, তার পৈতৃক জমিতে বাংলামতি চাষ করে এ বছর ফলন পাওয়া গেছে একরে ৭২ মণ যা হেক্টরপ্রতি ৭ মে. টন। পত্র-পত্রিকায় এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় খবর প্রকাশের পর এ পর্যন্ত তাদের বাড়ি থেকে বগুড়া, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, শেরপুর, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, পাবনা, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, ঢাকা, মানিকগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, মুন্সীগঞ্জ, পিরোজপুর, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, নড়াইল, ফরিদপুর থেকে এসে অথবা ফোনে যোগাযোগ করে কুরিয়ারের মাধ্যমে বীজ সংগ্রহ করেছেন।
লেখক: মুহাম্মদ শাহ জামান, খুলনা
এগ্রোবাংলা ডটকম

বাংলামতির ধান থেকে চাল রুপান্তরে করণীয়

বাংলামতি এক ধরনের সুগন্ধিজাতীয় ধান। এ ধানের ফলন একর প্রতি প্রায় ৭০ থেকে ৯০ মণ অর্থাৎ বিঘা প্রতি ২৫ থেকে ৩০ মণ। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশের অনেক এলাকায় বাংলামতি ধান চাষ হচ্ছে। এ ধান মৃদু লবণসহিষ্ণু। উৎপাদনের দিক থেকে বাসমতির চেয়ে বাংলামতি প্রায় দ্বিগুণ। অন্য ধানের চেয়ে এ ধানের উৎপাদন খরচও অনেক কম। দুই বছর আগে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এই ধান উদ্ভাবনের পর ফলন হেক্টরপ্রতি সাড়ে ৬ থেকে ৭ মেট্রিক টন নির্ধারণ করলেও বাস্তবে তা ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে দেশের প্রায় ৫৫টি জেলায় এ ধানের বীজ ছড়িয়ে পড়েছে। এ ধান চাষে প্রাথমিকভাবে সাফল্য অর্জিত হলেও এ ধান থেকে চাল করাই প্রধান সমস্যা ছিল। তবে এর সমাধান নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে বাংলামতি ধান থেকে উন্নতমানের চাল বের করার উপায় উদ্ভাবন করেছে।

ব্রি’র তথ্য ও মাঠপর্যায়ে মিলিং অভিজ্ঞতা থেকে বলা হয়েছে, এ ধান কাটার পর যাতে বৃষ্টির পানিতে ভিজে না যায় সে দিকে নজর রাখতে হবে। ধানে শিশির লাগানো যাবে না এবং কাটার পরপরই তা পালাজাত করে রাখা যাবে না। এ ক্ষেত্রে ধান কাটার পরপরই তা মাড়াই করে কমপক্ষে এক দিন রোদে শুকিয়ে রাখতে হবে। এ ছাড়া বাংলামতি ধান মিলিংয়ের আগে ঠিকমতো শুকাতে হবে। সেদ্ধ চাল করতে অবশ্য তেমন কোনো সমস্যা নেই। আতপ চাল করার ক্ষেত্রে চাল ভেঙে যাওয়ার কিছুটা সমস্যা রয়েছে। তবে আতপ চালের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কিছু সতর্কতার কথা বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ১৮-২০ ঘণ্টা রোদে শুকানো প্রয়োজন। একসাথে টানা চার-পাঁচ ঘণ্টার বেশি রোদ লাগানো যাবে না। তাই প্রতিদিন চার-পাঁচ ঘণ্টা করে চার-পাঁচ দিন সময় নিয়ে মোট ১৮-২০ ঘণ্টা রোদ দিলেই যথেষ্ট। ১৫-১৬ ঘণ্টা রোদের পর চাল বের করে দেখতে হবে তা শুকিয়েছে কি না। দাঁতে চাপ দিয়েই তা বোঝা যায়। যদি এ-পর্যায়ে ধান ভালোভাবে শুকিয়ে যায় আর রোদে না দিলেও চলে। এরপর যে অটো রাইস মিলে রাবার হোলার আছে সেখানে আতপ চাল ভালোভাবে করা যাবে। এ ধান থেকে চাল করার প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে চাল প্রক্রিয়া ও বাজারজাতকরণে দেশের খ্যাতনামা কয়েকটি আধুনিক অটো রাইস মিল এগিয়ে আসায় চলতি বোরো মওসুমে দেশে বাংলামতি ধানের আবাদ এক লাখ হেক্টর অতিক্রম করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গাজীপুরের চাচাভাতিজা অটো রাইস মিলে পরীক্ষামূলক মিলিং করে উন্নতমানের চাল তৈরি করা হয়। ফলে কৃষকের দুশ্চিন্তা অনেকটা দূর হয়েছে। রাবার হোলার আছে এমন অটো রাইস মিলে এ ধান থেকে চাল করার ক্ষেত্রে এখন তেমন কোনো অসুবিধা নেই। মাঠপর্যায়ে এ ধানের প্রতি কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে।

ব্রি’র মতে, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত যত ধরনের ধান চাষ হয় তার মধ্যে বাংলামতি (ব্রি ধান-৫০) হচ্ছে শ্রেষ্ঠ ধান। ধানের আকার, গুণগতমান, ফলন ও অন্য সব দিক মিলিয়ে বাংলামতি হচ্ছে বাংলার ধানের রানী বা বাংলামতি। এতটা চিকনমানের লম্বা সুগন্ধি ধান যেমন আর বাংলাদেশে নেই, তেমনি নন-হাইব্রিড হওয়া সত্ত্বেও বাংলামতির ফলন হাইব্রিড ধানের কাছাকাছি। নন-হাইব্রিডের মধ্যে একমাত্র ব্রি-২৯ ছাড়া অন্য কোনো ধানের ফলন এর ওপরে নেই। বাংলামতি ধানের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর চালে হালকা সুগন্ধি রয়েছে। ফলে আমাদের দেশের কালোজিরা, চিনি আতপ বা কাটারির চালের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

বাংলামতি ধানের চাল বাজারজাতকরণে এগিয়ে এসেছে আধুনিক অটো রাইস মিলগুলো। এ বছর নওগাঁর ম্যাবকো গ্রুপ ও কুষ্টিয়ার স্বর্ণা অটো রাইস মিল প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে বাংলামতি চাল বাজারজাত করা শুরু করেছে। স্বর্ণার পরিচালক সাফায়েত হোসেন বলেন, তাদের প্রক্রিয়াজাত করা বাংলামতি চাল প্রধানত ঢাকার বাজারে চাহিদা বাড়ছে। এবার বোরো ফসল তোলার পর তারা এককভাবে এ ধান সংগ্রহ ও চাল বাজারজাত করবেন। একই এলাকায় অবসি'ত আধুনিক অটো রাইস মিল রশিদ অ্যাগ্রো ফুড কর্তৃপক্ষ জানান, তারা মূলত এত দিন মিনিকেট চাল প্রক্রিয়া ও বাজারজাত করে আসছেন। গত বছর প্রয়োজনীয় পরিমাণ বাংলামতি ধান না পাওয়ায় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বাংলামতি চাল বাজারজাত করতে পারেননি। চলতি বোরো মওসুমে উৎপাদিত বাংলামতি ধান সংগ্রহ এবং এর চাল তারা বাজারজাত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যশোরের নওয়াপাড়ায় অবসি'ত আধুনিক মজুমদার অটো রাইস মিল কর্তৃপক্ষ জানান, পর্যাপ্ত বাংলামতি ধান পেলে তারাও আগামী মওসুমে এ ধান সংগ্রহ ও নিজস্ব ব্র্যান্ডে চাল বাজারজাত করবেন। নাটোর, নওগাঁ ও দিনাজপুরে আতপ চাল তৈরির প্রসিদ্ধ মিলের মধ্যে কয়েকটি আগামী মওসুমে আতপ চাল বাজারজাত করবে বলে জানিয়েছে। দেশীয় মিলার ও চাল ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আসায় বাংলামতি ধান ও চালের অভ্যন্তরীণ বাজার সম্প্রসারণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলামতি ধান চাষের অগ্রবর্তী উদ্যোক্তা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক এস এম আতিয়ার রহমান জানান, গত মওসুমে বাংলামতি ধানের উৎপাদন আশাব্যঞ্জক হলেও চাষিরা এ ধান বিক্রি করতে সমস্যায় পড়েন। অপরিচিত ধান হওয়ায়, তার ওপর আতপ চাল ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা বেশি থাকায় অনেকেই হতাশ হয়েছেন। এটি ঠিক, যেহেতু নন-হাইব্রিড ধান হিসেবে বাংলামতি ধানের ওপর আর কোনো সরু ও সুগন্ধি ধান নেই। তাই এ ধানের চাল অবশ্যই ভোক্তারা পছন্দ করবেন। দেশীয় বড় বড় অটো রাইস মিলার ও বাজারজাতকারীরা এগিয়ে আসায় আগামী মওসুমে বাংলামতি ধান বিক্রি ও চাল তৈরিতে সমস্যা এতটা থাকবে না বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি আরো জানান, তার ক্ষেতের সংরক্ষিত বীজ ধান এ বছরও রাজশাহী, দিনাজপুর, মাগুরা, ফরিদপুর, নাটোর এলাকার কৃষকেরা নিয়ে যাচ্ছেন। চিকন ও সুগন্ধি ধানের দেশের প্রধান আবাদ অঞ্চল হিসেবে দিনাজপুর ও নাটোর এলাকায় এ ধানের আবাদ বাড়লে আতপ চাল বাজারজাতকরণে সুবিধা হবে এবং রফতানিতেও অনেকে এগিয়ে আসবেন বলে তিনি মনে করেন। এক মণ বাংলামতি ধান থেকে প্রায় ২৫ থেকে ২৮ কেজি আতপ চাল পাওয়া যায়। উন্নতমানের মিলে চাল ভাঙার পরিমাণ ৩ থেকে ৫ শতাংশ এবং সাধারণ অটো রাইস মিলে ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত। যেহেতু এতটা লম্বা মানের ধান ভাঙানোর প্রযুক্তি এখনো মিলে সংযোজন হয়নি, তাই আতপ চালে ভাঙার পরিমাণটা একটু বেশি। ভাঙা চাল দিয়ে উন্নতমানের সুজি বা চালের গুঁড়া তৈরি ছাড়াও ফিরনি তৈরিতে কাজে লাগানো সম্ভব। যেকোনো অটো রাইস মিলে প্রচলিতভাবে এক মণ বাংলামতি ধান থেকে ২৬ কেজি সেদ্ধ উন্নতমানের চাল পাওয়া সম্ভব। 

তথ্যসূত্রঃ এগ্রোবাংলাএগ্রোবাংলা ডটকম

আমন ধানে সার ব্যবস্থাপনা ও অধিক ফলনে করণীয়

Monday, April 2, 2018

আমন ধানে সুষম সার ব্যবস্থাপনা

আমন মৌসুমে ধানের ফলন বাড়ানোর জন্য সুষম সার ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা জরুরি। আজকের নিবন্ধে আমন ধানের সুষম সার ব্যবস্থাপনা এবং পরিচর্যাগত কয়েকটি নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হলো।

বীজতলায় সার ব্যবস্থাপনা পরিমিত ও মধ্যম মাত্রার উর্বর মাটিতে বীজতলার জন্য কোনো সার প্রয়োগ করতে হয় না। তবে নিম্ন, অতিনিম্ন অথবা অনুর্বর মাটির ক্ষেত্রে গোবর অথবা খামারজাত সার প্রতি শতকে ২ মণ হিসেবে প্রয়োগ করতে হবে। বীজতলায় চারা হলুদ হয়ে গেলে প্রতি শতকে ২৫০ গ্রাম ইউরিয়া সার চারা গজানোর ২ সপ্তাহ পর মাটিতে ছিটিয়ে প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া প্রয়োগের পরও বীজতলায় চারা হলুদ হয়ে গেলে প্রতি শতকে ৪০০ গ্রাম জিপসাম সার প্রয়োগ করতে হবে।

মূল জমিতে সার ব্যবহার মাত্রা ও প্রয়োগ পদ্ধতি আমন ধানের অধিক ফলন পেতে শুধু ইউরিয়া নয়, দরকার সঠিক সময়ে সুষমমাত্রায় বিভিন্ন জৈব ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করা অপরিহার্য। রাসায়নিক সারের মধ্যে ডাই এমোনিয়াম ফসফেট, ট্রিপল সুপার ফসফেট, মিউরেট অব পটাশ, জিপসাম, ম্যাগনেশিয়াম সালফেট (ম্যাগসার, অ্যাগ্রোম্যাগভিট), জিংক সালফেট (মনো বা হেপ্টা) বা চিলেটেড জিংক (লিবরেল জিংক), বরিক এসিড, সলিউবর বোরন (লিবরেল বোরন) ইত্যাদি সার সঠিক সময়ে সুষমমাত্রায় ব্যবহার করতে হবে। তবে অধিকাংশ কৃষক অতিমাত্রায় ইউরিয়া সার ব্যবহার করতে আগ্রহী। কিন্তু জানা দরকার, অতিমাত্রায় ইউরিয়া প্রয়োগের ফলে ওই জমিতে ফসফরাস ও পটাশজাতীয় সারের পরিমাণ মারাত্মক হারে কমে যায়। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য মতে, উফশী জাতের আমনের উচ্চ ফলন পেতে বিঘাপ্রতি (৩৩ শতক) ২১ কেজি ইউরিয়া, ৭-১০ কেজি টিএসপি/ ডিএপি, ৩.৫-১৩.৫ কেজি মিউরেট অব পটাশ, ৪-১১ কেজি জিপসাম, ১-২ কেজি জিংক সালফেট এবং ৩৫ মণ জৈবসার প্রয়োগ করতে হবে।

রাসায়নিক সার সাশ্রয়ী কয়েকটি নতুন প্রযুক্তি উদ্ভিদে নাইট্রোজেন পুষ্টি উপাদানের অভাব পূরণে জমিতে ইউরিয়া ব্যবহার করা হয়। ইউরিয়া সাশ্রয় করতে গুটি ইউরিয়া প্রযুক্তি, লিফ কালার চার্ট অনুযায়ী ইউরিয়া প্রয়োগ, বিভিন্ন ধরনের জৈবসার (সবুজ সার, আবর্জনা পচা সার, পচা গোবর), নাইট্রোজেন ফিক্সিং ব্যাকটেরিয়াল ইনোকুলাম, ধানের জমিতে অ্যাজোলার চাষ ব্যবহার বাড়ানো যেতে পারে। গুটি ইউরিয়া প্রয়োগের মাধ্যমে শতকরা ২৫-৩০ ভাগ কম ইউরিয়া প্রয়োগে ১৫-২০ ভাগ ফলন বৃদ্ধি পায়। সবুজ সার হিসেবে ধইঞ্চার চাষ, গ্রীষ্মকালীন মুগ/মাষকলাই চাষ করলে ইউরিয়ার ব্যবহার অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

অন্যদিকে ডাই এমোনিয়াম ফসফেট বা ডিএপি ব্যবহার করলে একই সঙ্গে ইউরিয়া ও ফসফরাসের অভাব পূরণ করা সম্ভব। জিংক সালফেট (মনো বা হেপ্টা) সার ফসফরাস জাতীয় সারের সঙ্গে একত্রে ব্যবহার করা যায় না। এ সমস্যা সমাধানে জিংক ও বোরনের সর্বশেষ প্রযুক্তি চিলেটেড জিংক যেমন-লিবরেল জিংক ও সলিউবর বোরন, যেমন-লিবরেল বোরন প্রয়োগ করা যেতে পারে। মূল জমিতে ধানের চারা রোপণের ২০-২২ দিন পর ১ম বার এবং ৪০-৪৫ দিন পর ২য় বার ১ লিটার পানিতে ১ গ্রাম লিবরেল জিংক ও ২ গ্রাম লিবরেল বোরন একত্রে মিশিয়ে স্প্রে করলে সুফল পাওয়া যাবে। রোপা আমন ধানের জমি তৈরির সময় বিঘাপ্রতি (৩৩ শতক) ৩০০ কেজি জৈবসার ব্যবহার করলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার শতকরা ৩০ ভাগ কমানো সম্ভব। এছাড়া রাসায়নিক সারের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে জৈব সার সহায়ক ভূমিকা রাখে, মাটির স্বাস্থ্য উন্নতি হয় এবং নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম সরবরাহ ছাড়াও অন্যান্য মাধ্যমিক ও গৌণ পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে।

রোপা আমনের সার প্রয়োগের ৩টি সাধারণ নিয়ম ১. চারা রোপণের আগে জমি তৈরির চূড়ান্ত পর্যায়ে সমুদয় টিএসপি/ডিএপি, মিউরেট অব পটাশ, জিপসাম ও জিংক সালফেট প্রয়োগ করে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে। জমি তৈরির সময় জিংক সালফেট না দিলে স্প্রে আকারে চিলেটেড জিংক, যেমন-লিবরেল জিংক ব্যবহার করা যায়।

২. ইউরিয়া সার কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। অতি নিম্ন ও নিম্ন পুষ্টিমানসম্পন্ন মাটির ক্ষেত্রে ইউরিয়া সার সমান তিন কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। জমি তৈরির চূড়ান্ত পর্যায়ে অথবা চারা রোপণের ৭-১০ দিন পর প্রথম কিস্তি এবং ২৫-৩০ দিন পর দ্বিতীয় কিস্তির সার প্রয়োগ করতে হবে। উভয় কিস্তির সারই জমিতে ছিটিয়ে প্রয়োগ করতে হবে এবং জমি তৈরির চূড়ান্ত পর্যায়ে ও আগাছা দমনকালে ভালোভাবে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে। তৃতীয় কিস্তির সার কাইচ থোড় আসার ৫-৭ দিন আগে ছিটিয়ে প্রয়োগ করতে হবে। মধ্যম ও পরিমিত পুষ্টিমানসম্পন্ন মাটির ক্ষেত্রে ইউরিয়া সার দুই কিস্তিতে উপরি প্রয়োগ করতে হবে। প্রথম কিস্তি দ্রুত কুশি গজানোর সময় আগাছা দমনকালে এবং দ্বিতীয় কিস্তি কাইচ থোড় আসার ৫-৭ দিন আগে ছিটিয়ে প্রয়োগ করতে হবে।

৩. নাইট্রোজেন সারের উত্স হিসেবে গুটি ইউরিয়া ব্যবহার করলে ধানের চারা রোপণের ৮-১০ দিন পর একবার ১টি মেগা গুটি (২ গ্রাম) বা ৩টি ছোট গুটি (১ গ্রাম) ইউরিয়া ৪-৫ সে.মি. গভীরে প্রয়োগ করতে হবে। গুটি প্রথমে ধানক্ষেতের ১ম ও ২য় সারির মাঝে এবং তারপর ৩য় ও ৪র্থ সারির মাঝে এভাবে ক্রমান্বয়ে স্থাপন করতে হবে।

আরও করণীয় আমনের অধিক ফলন পেতে উপরোলিল্গখিত নিয়মে সুষম সার ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি সম্পূরক সেচ এবং সময়মত বালাইনাশক প্রয়োগ করতে হবে। ধানের আগাছা নিয়ে সব সময় কৃষকরা চিন্তিত থাকেন। আমন ধানের আগাছা দমন করতে মূল জমিতে চারা রোপণের ৫-৭ দিনের মধ্যে কম্বাইন্ড আগাছা নাশক ‘সুপার ক্লিন’ বিঘাপ্রতি (৩৩ শতক) ১০০ গ্রাম হারে প্রয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে ধানবীজ উত্পাদন করতে ইউরিয়া শতকরা ১৫ ভাগ কম প্রয়োগ করতে হবে। ধান পাকার ঠিক আগে প্রতি ১০ লিটার পানিতে ৪০-৪৫ গ্রাম এগ্রিসাল/ থিওভিট/মাইকোসাল (৮০% সালফার) স্প্রে করলে বীজের বর্ণ উজ্জ্বল হবে, ধানের গায়ে কালো বা বাদামি দাগ পড়বে না। ধান কাটার পর ঠিকমত মাড়াই-ঝাড়াই করে কড়া রোদে শুকাতে হবে।
এরপর বস্তাবন্দি করে গুদামে

রাখতে হবে। গুদামে ফসটক্সিন জাতীয় গ্যাস ট্যাবলেট প্রতিটনে ৪টি হারে প্রয়োগ করলে ধানের গুদামজাত পোকার আক্রমণ রোধ করা সম্ভব। একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, হাইব্রিড ধানের বীজ পরবর্তী মৌসুমের জন্য বীজ হিসেবে রাখা যাবে না।
লেখক: কৃষিবিদ ড. মোঃ শহিদুল ইসলাম, কৃষিবিদ মোঃ কামরুল আহসান ভূঁইয়া
তথ্যসূত্র: দৈনিক আমার দেশ

আমন:বেশি ফলনের জন্য করণীয়

আমন মৌসুমে ধানের ফলন বাড়ানোর জন্য সুষম সার ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি নতুন ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করার বিকল্প নেই। আর এতে ফলন বাড়বে।

বীজতলা তৈরি : পরিমিত ও মধ্যম মাত্রার উর্বর মাটিতে বীজতলার জন্য কোনো সার প্রয়োগ করতে হয় না। তবে নিম্ন, অতি নিম্ন অথবা অনুর্বর মাটির ক্ষেত্রে গোবর অথবা খামারজাত সার প্রতি শতকে ২ মণ হিসাবে প্রয়োগ করতে হবে। বীজতলায় চারা হলুদ হয়ে গেলে প্রতি শতকে ২৫০ গ্রাম ইউরিয়া সার চারা গজানোর ২ সপ্তাহ পর মাটিতে ছিটিয়ে প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া প্রয়োগের পরও বীজতলায় চারা হলুদ হয়ে গেলে প্রতি শতকে ৪০০ গ্রাম জিপসাম সার প্রয়োগ করতে হবে।

সার ব্যবস্থাপনা : আমন ধানের অধিক ফলন পেতে শুধু ইউরিয়া নয়, দরকার সঠিক সময়ে সুষমমাত্রায় বিভিন্ন জৈব ও রাসায়নিক সার। এর মধ্যে ডাই এমোনিয়াম ফসফেট, ট্রিপল সুপার ফসফেট, মিউরেট অব পটাশ, জিপসাম, ম্যাগনেশিয়াম সালফেট (ম্যাগসার, এগ্রোম্যাগভিট), জিংক সালফেট (মনো বা হেপ্টা) বা চিলেটেড জিংক (লিবরেল জিংক), বরিক এসিড, সলিউবর বোরন (লিবরেল বোরন) ইত্যাদি সার সঠিক সময়ে সুষমমাত্রায় ব্যবহার করতে হবে। তবে অধিকাংশ কৃষক অতিমাত্রায় ইউরিয়া সার ব্যবহার করতে আগ্রহী। কিন্তু জানা দরকার যে, অতিমাত্রায় ইউরিয়া প্রয়োগের ফলে ওই জমিতে ফসফরাস ও পটাশ জাতীয় সারের পরিমাণ মারাত্মক হারে কমে যায়। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) তথ্য মতে, উফশী জাতের আমনের উচ্চ ফলন পেতে বিঘাপ্রতি (৩৩ শতক) ২১ কেজি ইউরিয়া, ৭-১০ কেজি টিএসপি-ডিএপি, ৩.৫-১৩.৫ কেজি মিউরেট অব পটাশ, ৪-১১ কেজি জিপসাম, ১-২ কেজি জিংক সালফেট এবং ৩৫ মণ জৈবসার প্রয়োগ করতে হবে।

সাশ্রয়ী সার ব্যবহারে কয়েকটি প্রযুক্তি : আমরা জানি, উদ্ভিদের নাইট্রোজেন পুষ্টি উপাদানের অভাব পুরনে জমিতে ইউরিয়া ব্যবহার করা হয়। ইউরিয়া সাশ্রয় করতে ধানের জমিতে গুটি ইউরিয়া প্রযুক্তি, লিফ কালার চার্ট অনুযায়ী ইউরিয়া প্রয়োগ, বিভিন্ন ধরনের জৈব সার (সবুজ সার, আবর্জনা পচা সার, পচা গোবর), নাইট্রোজেন ফিক্সিং ব্যাকটেরিয়াল ইনোকুলাম প্রয়োগ এবং অ্যাজোলার চাষ বাড়ানো যেতে পারে। ব্রির তথ্য মতে, গুটি ইউরিয়া প্রয়োগের মাধ্যমে শতকরা ২৫-৩০ ভাগ কম ইউরিয়া প্রয়োগে ১৫-২০ ভাগ ফলন বৃদ্ধি পায়। সবুজ সার হিসেবে ধঞ্চের চাষ, গ্রীষ্মকালীন মুগ-মাসকলাই চাষ করলে ইউরিয়ার ব্যবহার অনেকাংশে কমানো সম্ভব। অন্যদিকে ডাই এমোনিয়াম ফসফেট বা ডিএপি ব্যবহার করলে একই সঙ্গে ইউরিয়া ও ফসফরাসের অভাব পুরন করা সম্ভব। জিংক সালফেট (মনো বা হেপ্টা) সার ফসফরাস জাতীয় সারের সঙ্গে একত্রে ব্যবহার করা যায় না। এ সমস্যা সমাধানে জিংক সারের সর্বশেষ প্রযুক্তি চিলেটেড জিংক বা লিবরেল জিংক প্রয়োগ করা যেতে পারে। মূল জমিতে ধানের চারা রোপণের ২০-২২ দিন পর প্রথমবার এবং ৪০-৪৫ দিন পর দ্বিতীয়বার ১ লিটার পানিতে ১ গ্রাম লিবরেল জিংক স্প্রে করলে সুফল পাওয়া যাবে। রোপা আমন ধানের জমি তৈরির সময় বিঘাপ্রতি (৩৩ শতক) ৩০০ কেজি জৈব সার ব্যবহার করলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার শতকরা ৩০ ভাগ কমানো সম্ভব। এ ছাড়া জৈব সার ব্যবহারে রাসায়নিক সারের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়, নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম সরবরাহ ছাড়াও অন্যান্য মাধ্যমিক ও গৌণ পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে, মাটির বুনট ও গঠন প্রকৃতি উন্নত হয়।

রোপা আমনে সার প্রয়োগের নিয়ম : ১. চারা রোপণের আগে জমি তৈরির চূড়ান্ত পর্যায়ে সমুদয় টিএসপি-ডিএপি, মিউরেট অব পটাশ, জিপসাম ও জিংক সালফেট প্রয়োগ করে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে। জমি তৈরির সময় জিংক সালফেট না দিলে স্প্রে আকারে চিলেটেড জিংক বা লিবরেল জিংক ব্যবহার করা যায়।
২. ইউরিয়া সার কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। অতি নিম্ন ও নিম্ন পুষ্টিমানসম্পন্ন মাটির ক্ষেত্রে ইউরিয়া সার সমান ৩ কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। জমি তৈরির চূড়ান্ত পর্যায়ে অথবা চারা রোপণের ৭-১০ দিন পর প্রথম কিস্তি এবং ২৫-৩০ দিন পর দ্বিতীয় কিস্তির সার প্রয়োগ করতে হবে। উভয় কিস্তির সারই জমিতে ছিটিয়ে প্রয়োগ করতে হবে এবং জমি তৈরির চূড়ান্ত পর্যায়ে ও আগাছা দমনকালে ভালভাবে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে। তৃতীয় কিস্তির সার কাইচ থোড় আসার ৫-৭ দিন আগে ছিটিয়ে প্রয়োগ করতে হবে। মধ্যম ও পরিমিত পুষ্টিমানসম্পন্ন মাটির ক্ষেত্রে ইউরিয়া সার দুই কিস্তিতে উপরি প্রয়োগ করতে হবে। প্রথম কিস্তি দ্রুত কুশি গজানোর সময় আগাছা দমনকালে এবং দ্বিতীয় কিস্তি কাইচ থোড় আসার ৫-৭ দিন আগে ছিটিয়ে প্রয়োগ করতে হবে।
৩. নাইট্রোজেন সারের উৎস হিসেবে গুটি ইউরিয়া ব্যবহার করলে ধানের চারা রোপণের ৮-১০ দিন পর একবার ১টি মেগা গুটি (২ গ্রাম) বা ৩টি ছোট গুটি (১ গ্রাম) ইউরিয়া ৪-৫ সেন্টিমিটার গভীরে প্রয়োগ করতে হবে। গুটি প্রথমে ধান ক্ষেতের প্রথম ও দ্বিতীয় সারির মাঝে এবং তারপর তৃতীয় ও চতুর্থ সারির মাঝে এভাবে ক্রমান্বয়ে স্থাপন করতে হবে।

আরো কিছু করণীয় : আমনের অধিক ফলন পেতে উপরোল্লিখিত নিয়মে সুষম সার ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে সম্পূরক সেচ এবং সময়মত বালাইনাশক প্রয়োগ করতে হবে। ধানের আগাছা নিয়ে সব সময় কৃষকেরা চিন্তিত থাকেন। আমন ধানের আগাছা দমন করতে মূল জমিতে চারা রোপণের ৫-৭ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের কম্বাইন্ড আগাছানাশক বিঘাপ্রতি (৩৩ শতক) ১০০ গ্রাম হারে প্রয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে ধান বীজ উৎপাদন করতে ইউরিয়া শতকরা ১৫ ভাগ কম প্রয়োগ করতে হবে। ধান পাকার ঠিক আগে প্রতি ১০ লিটার পানিতে ৪০-৪৫ গ্রাম এগ্রিসাল/থিওভিট/মাইকোসাল (৮০ শতাংশ সালফার) স্প্রে করলে বীজের বর্ণ উজ্জ্বল হবে, ধানের গায়ে কালো বা বাদামী দাগ পড়বে না। ধান কাটার পর ঠিকমত মাড়াই-ঝাড়াই করে কড়া রোদে শুকাতে হবে। এরপর বস্তাবন্দি করে গুদামে রাখতে হবে। গুদামে ফসটক্সিন জাতীয় গ্যাস ট্যাবলেট প্রতি টনে ৪টি হারে প্রয়োগ করলে ধানের গুদামজাত পোকার আক্রমণ রোধ করা সম্ভব। একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, হাইব্রিড ধানের বীজ পরবর্তী মৌসুমের জন্য বীজ হিসেবে রাখা যাবে না।
লেখক: কৃষিবিদ বকুল হাসান খান 

তথ্যসূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

মনের উঠোনে

সাম্প্রতিক সংযোজন

মোবাইল থেকে দেখুন

আমাদের দেশ এখন আপনার মুঠোফোনে, মোবাইল থেকে লগইন করুন আমাদের দেশ

দ র্শ না র্থী

দ র্শ না র্থী

free counters

কে কে অনলাইনে আছেন