নিম্নমানের বীজে তরতাজা গাছ, নেই ফলন

Saturday, October 30, 2010


‘প্যাকেটের বেছন কিনে আমাগেরে কপাল ভাঙ্গিছে, খালি বড় বড় গাছ হইছে, ফুল-ফল কিছুই নাই।’ কথাগুলো পাবনার সদর উপজেলার ভজেন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক মো. হাসান আলীর। চলতি মৌসুমে তিনি দুই বিঘা জমিতে মাষকলাইয়ের আবাদ করেছিলেন। জমিতে গাছ হলেও ফুল ও ফল নেই। এই সমস্যা শুধু হাসান আলীর একার নয়, পাবনা সদর ও আটঘরিয়া উপজেলার আরও কয়েক হাজার কৃষকের মাষকলাইয়ের খেতেও ফলন হয়নি।
কৃষকদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন সংস্থার (বিএডিসি) বীজ বিপণন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে স্থানীয় ডিলার বিএডিসির প্যাকেটে আমদানি করা নিম্নমানের বীজ সরবরাহ করায় তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পাবনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর পাবনার নয়টি উপজেলায় মোট ১০ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে মাষকলাইয়ের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় দুই হাজার ৬৮০ এবং আটঘরিয়া উপজেলায় ৯৫০ হেক্টর জমিতে মাষকলাইয়ের আবাদ করা হয়।
কৃষকেরা আরও অভিযোগ করেন, সদর ও আটঘরিয়া উপজেলায় মাত্র ৩০ শতাংশ জমিতে ফলন হয়েছে। যেসব কৃষক বীজ সংরক্ষণ করেননি, তাঁরা বিএডিসির আটঘরিয়া উপজেলার বিএডিসির ডিলার মেসার্স হাবিব বীজ ভান্ডার থেকে বীজ কিনেছিলেন। হাবিব বীজ ভান্ডার আটঘরিয়া উপজেলার দায়িত্বে থাকলেও সদর উপজেলার কৃষকেরাও তাঁর কাছ থেকে বীজ কিনেছেন। এসব বীজ থেকে জমিতে শুধু মাষকলাইয়ের বড় বড় গাছ হয়েছে। যেসব কৃষক নিজেরা বীজ সংরক্ষণ করে বপন করেছেন, তাঁরাই শুধু ফলন পেয়েছেন।
সদর ও আটঘরিয়া উপজেলার কয়েকটি এলাকায় দেখা গেছে, মাঠজুড়ে শত শত একর জমিতে শুধু মাষকলাইয়ের গাছ রয়েছে।
বিএডিসি পাবনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হাবিব বীজ ভান্ডারকে এ বছর মাষকলাইয়ের এক মেট্রিক টন বীজ সরবরাহ করা হয়েছিল।
কৃষকেরা অভিযোগ করেন, বীজের চাহিদা বেশি থাকায় ডিলার মেসার্স হাবিব বীজ ভান্ডারের মালিক হাবিবুর রহমান আমদানি করা নিম্নমানের বীজ সরবরাহ করেন। হাবিবুর রহমানকে এক টন বীজ দেওয়া হলেও তিনি কৃষকদের কাছে কমপক্ষে ১০ টন বীজ বিক্রি করেছেন।
আটঘরিয়ার কৃষক আনসার আলী অভিযোগ করেন, বীজের ডিলার হাবিব বিএডিসির প্যাকেট নকল করে তাতে আমদানি করা নিম্নমানের বীজ ঢুকিয়ে কৃষকদের কাছে বিক্রি করেছেন। এতে এই বীজে কোনো ফলন হয়নি।
আটঘরিয়ার শ্রীকান্তপুর গ্রামের কৃষক কামাল হোসেন জানান, তিনি মোট ১৩ বিঘা জমিতে মাষকলাইয়ের আবাদ করেছিলেন। এর মধ্যে তিন বিঘা জমিতে তিনি সংরক্ষণ করা বীজ বপন করেছেন এবং ওই তিন বিঘায় ভালো ফলনও পেয়েছেন। বাকি ১০ বিঘা জমিতে তিনি হাবিব বীজ ভান্ডার থেকে আনা বীজ বপন করেছেন। ওই ১০ বিঘায় কোনো ফলন হয়নি।
সদর উপজেলার মালীগাছা ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, ‘যেসব জমিতে পরিবেশকের বীজ বপন করা হয়েছে, সেবব জমিতে ফলন না হওয়ার বিষয়টি আমাদের কাছেও পরিষ্কার নয়। আমাদের প্রদর্শনী খামারেও ফলন হয়েছে।’
বিএডিসির সহকারী পরিচালক (বীজ বিপণন) আবদুল হালিম বলেন, বিএডিসি ডিলারদের মোট চাহিদার দুই শতাংশ বীজ সরবরাহ করে। বিএডিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ডিলার কৃষকদের কাছে আমদানি করা নিম্নমানের বীজ বিক্রি করেছেন বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে, সে অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।
পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জামান আজম বলেন, ‘আমরা বিষয়টি জেনেছি। মাঠ পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।’
বীজের ডিলার মেসার্স হাবিব বীজ ভান্ডারের মালিক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা বিএডিসির সরবরাহ করা বীজ বিক্রি করেছি। অতিরিক্ত কোনো বীজ বিক্রি করিনি। আবহাওয়ার কারণেই কৃষকের জমিতে মাষকলাইয়ের ফলন হয়নি।’ তিনি বিএডিসির প্যাকেট নকল করে তাতে নিম্নমানের বীজ ঢুকিয়ে কৃষকদের কাছে বিক্রি করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তথ্য সূত্রঃ প্রথম আলো, তারিখ: ৩০-১০-২০১০

ফসলি জমি, বধ্যভূমি হুমকিতে ফেলে বালু উত্তোলন

Friday, October 29, 2010


বগুড়ার সদর উপজেলার ফুলবাড়ী এলাকায় ফসলি জমি এবং করতোয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এভাবে অবাধে বালু তুলছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ইতিমধ্যে ওই এলাকার ৫০ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং আরও শতাধিক বিঘা জমি ও একটি বধ্যভূমি নদীতে বিলীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই কারণে কয়েক শ বিঘা জমিতে ফসলের আবাদ বন্ধ হয়ে গেছে।
এলাকাবাসী জানান, বগুড়া শহরতলির ফুলবাড়ী এলাকার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে করতোয়া নদী। ছোট বালু নামে পরিচিত এই গ্রামে রয়েছে একটি বধ্যভূমি। সম্প্র্রতি এই বধ্যভূমি সংরক্ষণের জন্য জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে ফলক স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু এলাকার কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ওই নদী থেকে বালু তোলায় বধ্যভূমি বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় এক চাষি জানান, চার-পাঁচ বছর ধরে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এ এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে বালু তুলছেন। বালু তোলার জন্য প্রথমে এক বছরের জন্য জমি ইজারা নেওয়া হয়। এরপর জমিতে বোরিং করে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত যন্ত্র দিয়ে বালু তোলা হয়। এতে জমিতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় ফসলের আবাদ বন্ধ রয়েছে। কোথাও জমি ধসে গেছে। একই কারণে নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে এ পর্যন্ত এলাকার প্রায় ৫০ বিঘা জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বালু তোলা অব্যাহত থাকায় শতাধিক বিঘা জমি বিলীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কয়েকজন স্থানীয় কৃষক জানান, বালু তোলার কারণে আমতলী এলাকায় ৩৫ একর জমি নদীতে চলে গেছে।
২১ অক্টোবর সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীতে ড্রেজিং মেশিন বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। কোথাও কোথাও ফসলি জমিতে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত শতাধিক যন্ত্র বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। এলাকাবাসী ভয়ে এই বালু তোলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নাম বলতে চান না।
এলাকার এক মুদির দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জমি থেকে বালু তোলার ফলে ফসলি জমি শেষ হয়ে যাচ্ছে। এখানকার বধ্যভূমি ও শ্মশানঘাট বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
বগুড়া সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আবদুুল কাদের বলেন, বধ্যভূমি এলাকা থেকে বালু তোলার বিষয়টি মৌখিকভাবে প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। কিন্ত কোনো কাজ হয়নি।
বালু ব্যবসায়ী ও ফুলবাড়ী এলাকার জমির মালিক মোরশেদুল ইসলাম বলেন, ‘একসময় এই বালু তোলার প্রতিবাদ করেছিলাম। কিন্তু বালু তোলা বন্ধ হয়নি। বালু তোলার কারণে নিজের জমিও নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। বাধ্য হয়ে নিজেই বালু তুলছি।’
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম খালেকুজ্জামান বলেন, এসব বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য পুলিশ সব সময় তৎপর রয়েছে। তিন দিন আগেই সাতটি শ্যালো মেশিন আটক করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক নাজমুল হক জানান, ফসলি জমি থেকে বোরিং করে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত যন্ত্র দিয়ে বালু তোলার বৈধতা নেই। এভাবে বালু তুললে ভূমিধস হবে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা পারভীন জানান, সদর উপজেলায় কোনো বালুমহাল নেই। তার পরও আমতলী এলাকায় বালু তোলা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিবার উপজেলা সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় আলোচনা হয়েছে। কিন্তু ব্যক্তিগত জমি হওয়ায় বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।
ইউএনও সুলতানা পারভীন আরও বলেন, ‘বালু তোলার কারণে জমি ধসে পড়ায় বেশ কয়েকবার ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে বালু তোলার কাজে ব্যবহূত যন্ত্র আটক করা হয়েছে। বালু তোলা বন্ধ করার জন্য আমরা ওই এলাকায় গিয়ে সচেতনতামূলক সভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

বোয়ালমারীতে কয়েক হাজার সরকারি গাছ লোপাট

Tuesday, October 26, 2010


ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের চাঁদপুর জিসি (গ্রোথ সেন্টার) থেকে কালিনগর জিসি সড়কের ছয় কিলোমিটার অংশে দুই পাশের লাগানো কয়েক হাজার সরকারি গাছ লোপাট হয়ে গেছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এই লুটপাটে জড়িত বলে অভিযোগ আছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, গাছগুলো রক্ষায় এলজিইডি কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে এলজিইডি ওই সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির ছয় থেকে সাড়ে ছয় হাজার গাছ লাগায়। এর মধ্যে ১০০ থেকে ১৫০টি গাছ বর্তমানে টিকে আছে বলে এলজিইডির মাঠ তত্ত্বাবধায়ক মুজিবুর রহমান গতকাল সোমবার জানান। গত রোববার সরেজমিনে রাস্তার দুই পাশে কেটে নেওয়া কয়েক শ গাছের গোড়া দেখা গেছে। পশ্চিম আজলবেড়া গ্রামের আকতার হোসেন (৩০) জানান, ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছগুলো ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার-দফাদারেরা কেটে নিয়ে যান। সেই সঙ্গে কখনো কখনো তাঁরা মরা গাছও কেটে নেন। ধোপাডাঙ্গা গ্রামের কৃষক হাসিবুর রহমান জানান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তাঁর লোকজন দিয়ে বছরের পর বছর ধরে এ এলাকার হাজার হাজার সরকারি গাছ কেটে সাবাড় করছেন। এগুলো দেখার যেন কেউ নেই।
২০০৬ সালের জুনে বন বিভাগের বোয়ালমারী কার্যালয়ের ফরেস্টার শহীদুল আলমের দেওয়া এক তদন্ত প্রতিবেদনে জানা গেছে, ওই সড়কে লাগানো গাছগুলোর মধ্যে গত ছয় মাসে ৮৬৪টি মরা শিশুগাছ ও চারটি তালগাছ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নির্দেশে চৌকিদার-দফাদারেরা কেটে নিয়ে গেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ওই বছরের ১৪ জুন দাখিল করা এ প্রতিবেদনে ঘটনার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার চর চাঁদপুর গ্রামের মান্নান ঢালী, ধোপাডাঙ্গা গ্রামের মো. কাউছার, তালতলা গ্রামের আয়নাল ও চাঁদপুর গ্রামের কাশেম শেখকে দায়ী করা হয়।
চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সদস্য এস এম সামসুল আলম বলেন, ‘সড়কের দুই পাশে থাকা শিশুগাছগুলো আমাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশুগাছে মড়ক দেখা দেওয়ায় একদিকে মারা যাচ্ছে, অন্যদিকে ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছগুলো যে যার মতো কেটে নিচ্ছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন ও এলজিইডি কর্তৃপক্ষের কাছে বহু আবেদন-নিবেদন করলেও তাঁরা কর্ণপাত করে না।’
ওই তদন্ত প্রতিবেদন প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান সামসুল আলম বলেন, ‘এলাকায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে আমার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তৎকালীন সাংসদ শাহ মো. আবু জাফর ওই ফরেস্টারকে ডেকে আমার বিরুদ্ধে ভুয়া প্রতিবেদন দাখিলের কারণ জানতে চেয়েছিলেন।’
এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, ‘আমি এখানে অল্প কিছুদিন আগে এসেছি। এসব গাছ রক্ষায় এর আগে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জানি না। যেসব গাছ অবশিষ্ট আছে, সেগুলো রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহাবুবুর রহমান বলেন, চাঁদপুরে সরকারি গাছ কাটার কথা আমি শুনেছি। সহকারী কমিশনার (ভূমি) বর্তমানে ছুটিতে আছেন। তিনি ফিরে এলে এ ব্যাপারে তাঁকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হবে।’
প্রশিক্ষণকালীন ছুটিতে থাকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাব্বির ইকবাল বলেন, এলজিইডি কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও যথাসময়ে ব্যবস্থা গ্রহণে অনীহার কারণে উপজেলায় এলজিইডির লাগানো কয়েক হাজার গাছ লোপাট হয়ে গেছে।

সূত্রঃ প্রথম আলো (তারিখ: ২৬-১০-২০১০)

হাঁসের ঝাঁকে সুখের হাসি

Friday, October 22, 2010

খামারের হাঁসগুলোকে খাবার দিচ্ছেন শামসুল আলম

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উত্তর-পশ্চিম এলাকা পুরোটাই হাওরবেষ্টিত। গত বোরো মৌসুমে ওই এলাকার চারটি হাওরের ফসল রক্ষায় ছিল একটি বেড়িবাঁধ। প্রকৃতির কৃপায় বাঁধ টিকলে চার হাওরের বোরো রক্ষা পায়। কিন্তু এবার আর শেষরক্ষা হলো না। অন্যান্য হাওরের মতো বাঁধ ভেঙে ফসলডুবির ঘটনা ঘটে এখানেও। ভবিষ্যতের চিন্তায় অস্থির হয়ে ওঠে হাওরপারের কৃষক। এর মধ্যেও ব্যতিক্রম আছে। শামসুল আলম (৩৫) নামের এক কৃষক ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় ব্রতী হলেন। যে বৈরী প্রকৃতি তাঁর ধানের গোলা শূন্য করেছে, সেই প্রকৃতিকে উপজীব্য করে ধানশূন্য গোলায় হাঁসপালন শুরু করলেন তিনি।
ফসলডুবির পর টানা দুই মাসের চেষ্টায় শামসুল তাঁর হাঁসের ঝাঁকে সংখ্যা বাড়িয়ে এক হাজার পূর্ণ করলেন। শুধু দেখভাল করার মধ্য দিয়ে হাওরের জল-প্রকৃতিতে বেড়ে উঠছে হাঁস। কার্তিক মাস থেকে এক হাজার হাঁস তিন মাসে অন্তত ৭০০-৭৫০টি ডিম দেবে। পরে পুরো হাঁসের ঝাঁকে বিক্রি করে ফসলডুবির আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে, বোরো রোপণের পুঁজি সংগ্রহ হবে। এতে কোনো ধারদেনারও দরকার পড়বে না। যে পানি কেড়ে নিল ধান, সেই পানিই যেন শামসুলকে দিল স্বচ্ছলতার ‘নিদান’।
শামসুল আলমের বাবা আবদুল বশির মারা গেছেন প্রায় ১০ বছর আগে। ধান চাষ ছাড়া গৃহস্থ পরিবারের ছেলে হিসেবে বাড়তি কিছু শিক্ষা তিনি ছেলে শামসুলকে জীবদ্দশায় দিয়ে গিয়েছিলেন। প্রয়াত বাবার কথা স্মরণ করে ফসলহারা শামসুল ভাবলেন, যে প্রকৃতি ফসল কেড়ে নিয়েছে, সেই প্রকৃতিকে অবলম্বন করে হাঁস পালন করবেন। যৌথ পরিবারের তিন ভাইকে সঙ্গে নিয়ে নেমে পড়লেন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায়। একটি ব্যাংক থেকে ছয় মাসের জন্য কিছু টাকা ঋণ নিয়ে গোয়ালঘরে পুষতে শুরু করলেন হাঁস। ৫০ থেকে ১০০ এভাবে শুরু। পর্যায়ক্রমে তিন দিন বয়সী হাঁসের ছানা কিনে এক হাজার পূর্ণ করেন শামসুল।
হাঁসের ঝাঁকে খাবার দেওয়ার সময় শামসুল জানান, প্রতিটি হাঁসের ছানা ৩৩ টাকা করে কেনা। আর তিন মাস পর প্রতিটির দাম পড়বে ২০০ টাকার বেশি। মাঝখানে লাভ হিসেবে তিন মাস পাওয়া যাবে ডিম। এ লাভ থেকে দেনা শোধ করে আগামী মৌসুমে বোরো ফলানোর পুঁজি হয়ে গেল।
হাঁস বেশি খায়—এ ভয়ে গৃহস্থরা হাঁস পালতে সাহস পান না বলে জানান শামসুল। গেল বার ফসলডুবির পর প্রকৃতি তাঁদের বেকার করে দেয়। তখন অনেকটা জেদের বশে হাঁসপালন শুরু করেন। জেদ কার সঙ্গে? প্রশ্ন শুনে সহাস্যে শামসুল বলেন, ‘যে পানিতে ধান নিল, হেই পানিই তো হাঁস পালার সুযোগ করি দিল...!
শামসুলের প্রতিবেশী শিবপুরের ধীরেন্দ্র বিশ্বাস জানান, গৃহস্থ পরিবারের কোনো সদস্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে সাধারণত ফসলাদি নিয়েই কথা হয়। কিন্তু শামসুলের সঙ্গে কারও সাক্ষাৎ হলে কুশলাদি বিনিময়ের পর পরই ‘হাঁসের খবর কিতা...?’ বলে জানতে চান অনেকে।
ফসল হারিয়ে একজন শামসুলের হাঁসপালনের এ উদ্যোগ ঘুরে দাঁড়ানোর অনন্য একটি চেষ্টা বলে অভিহিত করেন সিলেট কৃষক কল্যাণ সংস্থার আহ্বায়ক আবদুল হান্নান আনসারী। তাঁর মতে, হাওরাঞ্চলে বর্ষার এ সময়টা হচ্ছে অলস সময়। কিন্তু এবারকার চিত্র ভিন্ন। ফসলডুবির পর কৃষক পরিবারে সেই আরাম-আয়েশ আর নেই। হাওরে হাঁসপালন প্রতি গৃহস্থ পরিবারেই বিচ্ছিন্নভাবে দেখা যায়। হাওরপারের মানুষের এ উদ্যোগ, এই শিক্ষা কোনো দপ্তর দেয়নি, প্রকৃতি থেকে অর্জিত।

তথ্য সূত্রঃ প্রথম আলো, তারিখ: ২২-১০-২০১০

মরিচ

Thursday, October 21, 2010


মরিচ কী জিনিস, ইউরোপীয়রা তা জেনেছে খুব বেশিদিন আগে নয়_ এমন ধারণা বিলকুল ভুল। চূর্ণকৃত গোলমরিচ খাওয়ার অভ্যাস তাদের দীর্ঘদিনের। গ্রিক ও রোমান সভ্যতার যুগে ঝালযুক্ত খাবারের প্রচলন ছিলো। ইউরোপে গোলমরিচ আমদানি হতো এশিয়ার মসলা দ্বীপপুঞ্জ থেকে। আর এই বস্তুটিই সচল রেখেছিলো আলেকজান্দ্রিয়া, জেনোয়া ও ভেনিস বন্দরের অর্থনীতিকে। মধ্যযুগে এসে গোলমরিচ বনে যায় বিলাসী পণ্য। তখন শস্যের বিনিময়ে এটি কিনতে হতো এবং সেজন্য আলাদা ভাড়া আর করও গুনতে হতো। অটোমান সাম্রাজ্যের উত্থানের ফলে এশিয়াতে আসার ভূমি ও নৌপথগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিলো। যে কারণে ভারতে পৌঁছার নতুন পথ খুঁজতে শুরু করলো ইউরোপীয় বণিকরা। উদ্দেশ্য ছিলো_ গোলমরিচ ছাড়াও অন্যান্য আকর্ষণীয় মসলা এবং রেশম ও আফিম সংগ্রহ করা।

ভারতে পেঁৗছার পশ্চিমাভিমুখী রাস্তা খুঁজে পেতে ক্রিস্টোফার কলম্বাস ১৪৯২ সালে যাত্রা শুরু করেছিলেন স্পেন থেকে। ইউরোপের রন্ধনকে নিশ্চিত করাই ছিলো তার লক্ষ্য, রন্ধনের কোনো পরিবর্তন নয়। কিন্তু ঘটনাক্রমে তার এ সফরের মাধ্যমেই ইউরোপের রান্নার প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন সূচিত হয়েছিলো। ইতালিয়ান নাবিক কলম্বাসের ভারত পৌছানোর সৌভাগ্য আর হয়নি। নতুন যে জায়গায় তিনি গেলেন, সেখানে সন্ধান পেলেন এক অভিনব রঙিন বস্তুর (যার বাংলা নামকরণ মরিচ)। কয়েক বছরের মধ্যেই দক্ষিণ ইউরোপের খাবারে মরিচের স্বাদ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিলো। এই মরিচ ভারত, চীন এবং থাইল্যান্ডের রন্ধন প্রণালীতেও বিপস্নব ঘটিয়ে দিতে খুব একটা সময় নেয়নি।

মরিচ শব্দের ইংরেজি হচ্ছে 'চিলি'। উচ্চারণ অভিন্ন হলেও বানানে রয়েছে রকমফের (Chili, Chilli, Chile, Chile Pepper) । কিন্তু বানান ও নামে কী আসে যায়! বৈশ্বিকরণ গল্পের আগ্রহ-সঞ্চারক অধ্যায় হলো মরিচ। এতো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ইতিহাস পৃথিবীর অন্য কোন খাবারেরই নেই। কতো অঞ্চলের, কতো লোক যে এখন মরিচ ভক্ষণ করছে, তার কোন সঠিক পরিসংখ্যান নেই। চীন, ভারত কিংবা থাইল্যান্ডের মরিচপ্রেমীকে জিজ্ঞেস করলে উত্তর একটিই আসবে, 'মরিচ আমাদের দেশজ বস্তু, আমাদের মাতৃভূমির অবিচ্ছেদ্য অংশ। পুরোপুরি মিশে আছে আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে। ইউরোপ ও আমেরিকায় মরিচ আসক্তের সংখ্যা কম, কিন্তু তারাও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে ঝালের ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে।

কয়েকশ কোটি লোকের পেট ভরায় ধান এবং গমের মতো শস্য। এগুলোর সঙ্গে মরিচের কোন তুলনা চলে না, এমনকি আলুর সঙ্গেও নয়। কিন্তু মূল উপকরণে ঝাল যুক্ত করে গরিবী খানাতেও একটু বড়লোকি আমেজ দিতে মরিচের জুড়ি নেই। কোটি কোটি লোকের কাছে মরিচই একমাত্র বিলাসী উপকরণ, যা তারা নিত্যদিন যোগাড় করতে পারে। এশিয়ার বস্তি থেকে শুরু করে পশ্চিম আফ্রিকার গো-চরণ ভূমিতেও বস্তুটির দেখা মেলে। বর্ণিল খোসার ভেতরই যতো রহস্য। রাসায়নিকগুলো ঝাল উৎপাদন করার মাধ্যমে নিজের প্রতি মানুষকে আসক্ত করে ফেলে। বিখ্যাত ভারতীয় কুক মধুর জেফরি মনে করেন, একবার ঝাল খাবারের স্বাদ নিলে আর পেছনে তাকানোর উপায় নেই। আস্তে আস্তে অভ্যাসে পরিণত হবে। ঝাল না খেলে তখন আর ভালোই লাগবে না।

উৎস দক্ষিণ আমেরিকায়, অধিকাংশ মরিচ বিশেষজ্ঞই এ ব্যাপারে একমত। চিলি নামের দেশটিই তো তার বড় প্রমাণ। ছয় হাজার বছর আগেও দক্ষিণ আমেরিকায় মরিচ উৎপাদিত হতো এবং এর বেচাকেনা চলতো। ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্টরির আর্কিওবায়োলজি বিভাগের পোস্ট ডক্টরাল ফেলো লিনডা পেরি ক্যারিবীয় অঞ্চলসহ ভেনিজুয়েলার মরিচের মাইক্রোফসিল চিহ্নিত করেছেন। এই ভদ্রমহিলার দেয়া তথ্যানুসারে, ৬ হাজার ২শ' ৫০ বছর আগে ইকুয়েডরের দক্ষিণাঞ্চলে মরিচের আবাদ হতো। তখন পর্যন্ত ইকুয়েডরের দক্ষিণাঞ্চলে জংলি মরিচের দেখা মেলেনি। পেরু কিংবা বলিভিয়া থেকে মরিচ গিয়েছিলো এই দেশটিতে। পুরো দক্ষিণ আমেরিকা জয় করার পর সেন্ট্রাল আমেরিকাতে পৌছুতেও খুব বেশি সময় লাগেনি এটির। লিনডা পেরি গবেষণায় পেয়েছেন যে, মরিচ সবার আগে ব্যবহার করেছিলো ব্রাজিল।

মরিচ ক্যাপসিকাম বর্গে অন্তভর্ুক্ত এবং নাইটশেড পরিবারের সদস্য। একই পরিবারে রয়েছে টম্যাটো, আলু ও বেগুন গাছ। ক্যাপসিকামের ২৫টি প্রজাতির মধ্যে মাত্র পাঁচটির আবাদ হয়। দক্ষিণ আমেরিকায় অধিকাংশ বনমরিচের দেখা মেলে এখনও। ক্লাসিক বাঁকা লাল অথবা সবুজ মরিচের ব্যবহার হয় মেক্সিকোর রান্নায়। থাইল্যান্ডের লোকজন যেটি ব্যবহার করে সেটি দেখতে বুলেটের মতো, কিন্তু নাম 'বার্ডস আই'। কোনো কোনোটি দেখতে মটর কিংবা হূৎপিন্ডের মতো রং পাল্টে হয়ে যায় একেক স্তরে একেক রকম। তবে মরিচের সাধারণ রঙগুলো হলো_ বিবর্ণ লাল, হলুদ, কালো, উজ্জ্বল কমলা এবং লেবু সবুজ। নিউ মেক্সিকো ইউনিভার্সিটির চিলি পিপার ইনস্টিটিউটের পল বসল্যান্ডের মন্তব্য, হাজারো রকমের মরিচ আছে। নিত্য-নতুন ধরন আবিষ্কৃত হচ্ছে প্রায়ই। মিষ্টি সবুজ ও হলুদ মরিচ এবং ক্যাপসিকামের ব্যবহার হয় সালাদে। অনেকে বেছে নেয় সরাসরি তরকারি হিসেবে।
পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষ দিকে কলম্বাস পৌঁছুলেন ক্যারিবীয় অঞ্চলে। আমেরিকা জুড়ে তখন মরিচের ব্যাপক প্রচলন। আবিষ্কৃত জগৎ থেকে ফিরে আসার সময় ভয়ংকর স্বাদযুক্ত নতুন মসলাটি নিতে ভুললেন না কলম্বাস। নিজেরা এর প্রেমে পড়েননি খুব দ্রুত, কিন্তু বংশবিস্তার করান সোৎসাহে। পতর্ুগীজ বণিকরা এটি ছড়িয়ে দিয়েছিলেন পশ্চিম আফ্রিকা, ভারত এবং পূর্ব এশিয়ায়। কলম্বাসের আমেরিকা পৌঁছানোর ৩০ বছরের মধ্যেরই ভারতের পশ্চিম উপকূলে পর্তুগীজ উপনিবেশ গোয়ায় তিন ধরনের মরিচ চাষ করা হয়েছিলো। থাইল্যান্ডে কিছুদিনের উপস্থিতিতে পর্তুগীজরা স্থানীয়দের খ্রিস্টান বানাতে সমর্থ না হলেও রান্নাঘরে ঠিকই বিপস্নব ঘটিয়ে দিয়েছিলো। ইউরোপীয় ব্যবসায়ীরা মরিচ নিয়ে গিয়েছিলেন জাপান, ইন্দোনেশিয়া, তিব্বত ও চীনে। ৫০ বছরের মধ্যে মরিচ ছড়িয়ে পড়ে পুরো ইউরোপে। ঝাল মরিচ আসার কারণে ভারতে গোলমরিচের ব্যবহার এক পর্যায়ে প্রায় উঠেই গিয়েছিলো।

মাঝে মরিচের ব্যবহার প্রায় ভুলতেই বসেছিলো ইউরোপ। সাম্প্রতিক সময়ে অভ্যাসটা আবার ফিরে এসেছে ইন্ডিয়ান ও থাই রেস্টুরেন্টগুলোর কল্যাণে। ব্রিটিশদের কাছে ভারতীয় খাবার এখন খুবই পছন্দের। সময় ও সুযোগ পেলেই তারা ভারতীয়দের দোকানে ঢু মারে। ২০০১ সালে ব্রিটেনের বিদেশমন্ত্রী রবিন কুক তার পছন্দের খাবারের নাম বলতে গিয়ে চিকেন টিক্কা মাসালার উলেস্নখ করেছিলেন। এ খাবারটি এখন ব্রিটিশ নারীরাও তৈরি করতে পারেন। চিকেন, ক্রিম ও টমেটোর সঙ্গে মরিচসহ অন্যান্য মসলা মিশ্রণ করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক হাজার বছর আগে মরিচের প্রচলন শুরু হলেও এখন তারা নিজেদের তৈরি খাবারে খুব একটা ঝাল দেয় না। তবে ভোজনরসিকদের সপ্তায় অন্তত একদিন মেক্সিকান খাবার চাই-ই চাই। মেক্সিকান খাবারে যে ঝাল থাকে সে কথা সবাই জানে।

ঝাল পরিমাপেরও ব্যবস্থা আছে। আমেরিকান কেমিস্ট উইলবার ১৯১২ সালে ঝাল মাপার স্কেল আবিষ্কার করেন। তার নামানুসারেই নামকরণ হয়েছে স্কভিল হিট ইউনিটস (এস এইচ ইউ)। পৃথিবীর অনেক মরিচের এসএইচইউ হচ্ছে শূন্য। ইতালিয়ানরা পাস্তা তৈরিতে ৫০০ এস এইচ ইউ-এর পিপারোনসিনো নামক মরিচ ব্যবহার করে। থাইল্যান্ডের রান্নায় ব্যবহার করা মরিচের গড় এসএইচ ইউ এক লাখ। দুই লাখের বেশি হলে যে চোখ দিয়েই জল ঝরবে। ঝালের রেকর্ডটি দীর্ঘদিন ধরে রেখেছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার এক বাণিজ্যিক মরিচ ব্যবসায়ী। তার ক্ষেতে উৎপাদিত হচ্ছিলো ৫ লাখ ৭৭ হাজার এসএইচইউ'র মরিচ। উৎপাদিত বস্তুর নাম দিয়েছিলেন তিনি 'রেড সাবিনা'।

আগের সব রেকর্ড মস্নান করে দিয়েছে ভারতের 'ভূত জলোকিয়া'। যার বাংলা অর্থ ভূত মরিচ। এর দেখা মেলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে। সেনা শহর তেজপুরের ডিফেন্স রিসার্চ ল্যাবরেটরি ২০০০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঝালের শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করে বসে। প্রথমে তাদের কথা কেউ কানেই তুলছিলো না। ২০০৫ সালে ঝালের তীব্রতা পরীক্ষা করতে রাজি হয় নিউ মেক্সিকো চিলি ইনস্টিটিউট। ফলাফল আসে অবিশ্বাস্য, ৮ লাখ ৫৫ হাজার এসএইচইউ। এখানেই শেষ নয়, নাগাল্যান্ডের আদিবাসীরা 'নাগা চিলি' নামের এক প্রকার মরিচ খায়, যার এসএইচইউ ১০ লাখেরও (আনুমানিক) বেশি। আদিবাসীরা শখে খায় না এটি, তরকারি রান্না করে নিয়মিতভাবে। তবে নাগা চিলির ঝালের তীব্রতা এখনো পরীক্ষিত হয়নি। খুব শিগগিরই এটিকে পাঠানো হবে নিউ মেক্সিকো চিলি ইনস্টিটিউটে।

তেজপুরের ডিফেন্স রিসার্চ ল্যাবরেটরির পরিচালক আরবী শ্রীবাস্তবা টাইম ম্যাগাজিনকে জানিয়েছেন, ভূত জলোকিয়া (ঠযঁঃ লড়ষড়শরধ) ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে খুবই জনপ্রিয়। মরিচের রাজা বলা হয় এটাকে। বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে এই মরিচকে ঘিরে উৎসবও হয়। অদ্ভুত কথা বলেছেন তিনি-টিয়ার গ্যাসে ভূত জলোকিয়া ব্যবহার করা যেতে পারে। দাঙ্গার সময় একটি ছেড়ে দিলে এক কিলোমিটার অঞ্চলে আর কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার আগে সৈন্যদের একটি খাইয়ে দিলে দ্বিগুণ তেজে যুদ্ধ করবে। তবে সতর্ক সংকেত শুনিয়েছেন, 'অনভ্যস্ত কাউকে খাওয়ালে টয়লেট হয়ে যাবে তার স্থায়ী ঠিকানা। পাঁচ সেন্টিমিটার লম্বা ভূত জলোকিয়ার রঙ পোড়াটে হলুদ। স্বাভাবিক মরিচের তুলনায় এটি ব্যবহার করতে হয় এক-দশমাংশ। আনাড়ি যে কেউ একটি চিবিয়ে খেলে সারাদিনের জন্য তার জিহবাটাকে অচেতন মনে হতে পারে। ক্রিস্টোফার কলম্বাস আমেরিকা থেকে আলু ও ট্যামেটোসহ অনেক শাক-সবজি নিয়ে গিয়েছিলেন স্পেনে, কিন্তু কোন কিছুই মরিচের মতো এতো দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। পাঁচশত বছর পর মরিচ আজ সারা বিশ্বে রাজত্ব করছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে; ঝালের প্রতি আমাদের এতো মোহ কেন? যে জিনিস খেলে আমরা আহত হই, সেই জিনিস আমরা খাই কেনো? প্রশ্ন দুটির সুনিশ্চিত উত্তর কারওই জানা নেই।

আজ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ

Friday, October 15, 2010


আজ শুক্রবার থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ডিম ছাড়ার মৌসুমে উপকূলীয় এলাকায় ইলিশ মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এই দুই সপ্তাহ যেসব স্থানে ইলিশ মাছ ডিম ছাড়ে, সেসব স্থান থেকে মাছ না ধরতে জেলেদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ সরকারের এ নির্দেশ না মানে, তবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে সরকার।
গতকাল মৎস্য ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আবদুল লতিফ বিশ্বাস এসব কথা জানান। এ সময় মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, গত বছর ইলিশের ডিম ছাড়ার ভরা মৌসুমে মাছ ধরা নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছিল। তাই গত বছরের চেয়ে এবার ১৮ হাজার টন বেশি ইলিশ মাছ উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া এবার রপ্তানিও হয়েছে গতবারের চেয়ে দ্বিগুণ, অর্থাৎ প্রায় ৩০০ কোটি টাকা।
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘কাউকে শাস্তি দেওয়া আমাদের লক্ষ্য নয়, আমরা চাই জেলেদের সচেতন করতে। যদি ভরা মৌসুমে ইলিশ না ধরা হয়, তবে মাছ বেশি পাওয়া যাবে। আর ইলিশের উৎপাদন বাড়ার ফলে লাভবান হবেন জেলেরাই।’ প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ার পরও মাছের দাম এত বেশি কেন জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, দাম এখন আগের চেয়ে অনেক কম।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, এবার যদি ডিম ছাড়ার মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ রাখা যায়, তবে ভবিষ্যতে ইলিশের দাম আরও কমবে।

তথ্য সূত্রঃ প্রথম আলো, তারিখ: ১৫-১০-২০১০

রায়পুরে ৫০ হেক্টরের পানের বরজ নষ্ট

Thursday, October 14, 2010


সাম্প্রতিক নিম্নচাপের সময় অস্বাভাবিক জোয়ার ও টানা বর্ষণে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ৫০ হেক্টর জমির পানের বরজ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে পানচাষিদের প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আর পান চাষের ওপর নির্ভরশীল এখানকার ৬০০ পরিবার চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার উত্তর চর আবাবিল, দক্ষিণ চর আবাবিল, উত্তর চরবংশী ও রায়পুর ইউনিয়নের ৩১০ হেক্টর জমিতে প্রায় আড়াই হাজার পানের বরজ আছে। এসব ইউনিয়নের ৬০ শতাংশ লোক পান চাষ এবং পানের ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। একেকটি পানের বরজ তৈরি করতে ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা ব্যয় হয়। সাম্প্রতিক নিম্নচাপের সময় টানা তিন দিনের বৃষ্টি এবং অস্বাভাবিক জোয়ারের সময় অনেক বরজে পানি উঠে যায়। এতে ৮১ লাখ ৬৭ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে বেসরকারি হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকারও বেশি।
চর আবাবিল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন মাঝি জানান, পানচাষিদের ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকারও বেশি হবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইকবাল বলেন, ৫০ হেক্টর জমির পানের বরজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পানচাষিদের তালিকা করা হচ্ছে।

তথ্য সূত্রঃ প্রথম আলো, তারিখ: ১৪-১০-২০১০

খামারির ক্ষতি, শিকারির লাভ


চার দিনের টানা বৃষ্টি ও অস্বাভাবিক জোয়ারে ভোলার ৯০ শতাংশ পুকুর ও ঘের ডুবে গিয়ে মাছ ও চিংড়ি ভেসে গেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মৎস্য খামারিরা। তাঁদের প্রায় ১২০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। অপরদিকে ভেসে যাওয়া মাছ ধরে লাভবান হচ্ছেন শিকারিরা। তাঁরা বিভিন্ন জাল দিয়ে সাত দিন ধরে প্রচুর মাছ ধরছেন।
জেলার লালমোহন পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সহিদুল ইসলাম জানান, তাঁর উত্তর ফুলবাগিচা ও দত্তপাড়ার ইজারা নেওয়া পুকুর ডুবে দুই লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। লালমোহনের ৯৫ শতাংশ পুকুর ডুবে গেছে বলে জানান তিনি।
দৌলতখান উপজেলার সৈয়দপুর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কাশেমের চারটি বড় পুকুর ডুবে গিয়ে ১২ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। ভবানীপুর ইউনিয়নের আবুল কালাম ও মো. জাকির হোসেনের তিনটি পুকুরের মাছ ভেসে গিয়ে প্রত্যেকের দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দৌলতখানের মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামাল জানান, এ উপজেলায় প্রায় সাড়ে সাত হাজার পুকুর ও ঘের ডুবে প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
৭ অক্টোবর ভোর থেকে ভোলা শহরের খালে, কালীবাড়ি রোড, পাখিরপুল, আগারপুল, আবহাওয়া অফিস রোড, অফিসার পাড়া ও ভোলা-দৌলতখান-বোরহানউদ্দিনের বিভিন্ন সড়কে, খালে-বিলে, উঠানে, নর্দমায় শিকারিদের মাছ ধরতে দেখা গেছে। গতকাল বুধবারও এসব শিকারিকে কারেন্ট জাল, ধর্মজাল, ঝাইজাল দিয়ে মাছ ধরতে দেখা গেছে। শিকারিদের মধ্যে এক ধরনের উৎসবের আমেজ লক্ষ করা গেছে।
১০ অক্টোবর থেকে ভোলা সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের বোর্ডের ঘর এলাকায় সুলতান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা মিলে প্রতিদিন প্রচুর মাছ ধরছেন। গত তিন-চার দিনে তাঁরা কয়েক হাজার টাকার মাছ বিক্রি করেছেন।
মাছ ধরছিলেন মুছাকান্দি এলাকার আবদুল ওয়াদুদ। তিনি বলেন, ‘কিচ্ছু নাই। আমার চাইড্ডা পুকুরের পাঁচ লাখ টাকার মাছ শ্যাষ। দেড় কানি (দুই একর ৪০ শতাংশ) খেতের ফসল, বাড়ির হাঁস-মুরগি সব শ্যাষ। এ্যাহোন মাছ ধরি, কিছু বিক্রিও করি।’ ওই এলাকার বাসিন্দা কৃষ্ণপদ দে ও ভবরঞ্জন ঝাইজাল দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার টাকার মাছ ধরছেন বলে দাবি করেছেন। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রতিশ চন্দ্র মল্লিক বলেন, ভোলার প্রায় ৫০ হাজার পুকুর ও ঘের ডুবে গিয়ে ১২০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে কমপক্ষে ২০ হাজার শিকারি ভেসে যাওয়া ওই সব মাছ ধরছেন।

তথ্য সূত্রঃ প্রথম আলো, তারিখ: ১৪-১০-২০১০

মনের উঠোনে

সাম্প্রতিক সংযোজন

মোবাইল থেকে দেখুন

আমাদের দেশ এখন আপনার মুঠোফোনে, মোবাইল থেকে লগইন করুন আমাদের দেশ

দ র্শ না র্থী

দ র্শ না র্থী

free counters

কে কে অনলাইনে আছেন