কেঁচো চাষে লাখপতি

Wednesday, September 1, 2010


স্ত্রীকে নিয়ে কেঁচো পরিচর্যায় ব্যস্ত আবদুল করিম। মেহেরপুরের এই কৃষক কেঁচো চাষের মাধ্যমে তৈরি করেছেন কৃষিবান্ধব পরিবেশ
ছবি: প্রথম আলো

কেঁচোর মধ্যে গা-ঘিনঘিন ভাব যতই থাকুক, প্রাণীটি কৃষকের পরম বন্ধু। মাটির উর্বরা শক্তি বাড়াতে প্রাকৃতিক লাঙল হিসেবে কাজ করে কেঁচো। মাটির জৈব সার তৈরিতেও এর জুড়ি নেই। একটা সময় ছিল, যখন মাটি খুঁড়লেই কেঁচো বের হতো। বর্ষাকালে যেখানে-সেখানে কিলবিল করত এগুলো। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে এখন জমির উর্বরা শক্তি যেমন কমেছে, কেঁচোও কমেছে অনেক। এর কুফল ভোগ করছেন কৃষকেরা। এসব কৃষককে কেঁচো সরবরাহ করে জমির উর্বরতা শক্তি বাড়াতে সহায়তা করছেন মেহেরপুরের ভূমিহীন চাষি আবদুুল করিম (৫৫)। একই সঙ্গে কেঁচো চাষকে তিনি একটি লাভজনক কৃষিবান্ধব ব্যবসায় নিয়ে গেছেন।

যেভাবে শুরু: ২০০০ সালের বন্যার সময় মেহেরপুর সদর উপজেলার গোপালপুর গ্রাম ছেড়ে ভূমিহীনদের জন্য গড়া আমঝুপি ইউনিয়নের রঘুনাথপুর আশ্রয়ণে আশ্রয় নেন করিম। সেখানে অন্যের এক বিঘা জমি ইজারা নিয়ে তিনি চাষাবাদ শুরু করেন। একই সঙ্গে শ্রম বিক্রি করেও জীবিকা চালাতেন। ২০০৭ সাল পর্যন্ত করিম ২০ হাজার টাকা জমান। তাঁর ইচ্ছা ছিল, ওই টাকা দিয়ে আরও দুই বিঘা জমি ইজারা নেবেন। কিন্তু সে বছর সার ও বীজের তীব্র সংকট দেখা দেয়। তখন মেহেরপুর সদর উপজেলার কৃষি কার্যালয়ের ব্লক সুপারভাইজার আশরাফুল ইসলাম তাঁকে লালা (লাল) জাতের কেঁচো সংগ্রহ করে তা গোবরে চাষ করে জৈব সার তৈরির পরামর্শ দেন।

পরামর্শ মনে ধরে করিমের। শুরু হয় তাঁর কেঁচো খোঁজা। একই বছর অক্টোবরে তিনি ভারতের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগর থানার শান্তিপুরের বাসিন্দা প্রদীপের বাড়ি যান। সেখানে ২০ দিন থেকে তিনি কেঁচো চাষের ওপর প্রশিক্ষণ নেন। এ সময় এলাকায় ঘুরে তিনি দেখেন, অধিকাংশ বাড়িতে কেঁচো দিয়ে জৈব সার তৈরি করা হচ্ছে। এ সার ব্যবহারের গুণে আশাব্যঞ্জক ফল পাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের কৃষকেরা।

প্রশিক্ষণ শেষে পাঁচ হাজার টাকায় ২০ হাজার কেঁচো কিনে দেশে ফেরেন করিম। কেঁচোর প্রজনন ও জৈব সার তৈরির জন্য তিনি ১২ হাজার টাকায় একটি গাভি কেনেন। শুরু হয় তাঁর গোবরে কেঁচো চাষ করে সার তৈরি। এসব কেঁচো দেখতে লাল। গোবর খেয়ে এগুলো যে মল ছাড়ে, এটিই জৈব সার। দেখতে চায়ের দানার মতো লালচে কালো। প্রথমে ইজারা নেওয়া জমিতে এ সার ব্যবহার করে কাঙ্ক্ষিত ফল পান করিম। তাঁর জমিতে বাড়তি ফলন দেখে আশপাশের চাষিরা এ ব্যাপারে উত্সাহী হন। তাঁরা এসে কেঁচো ও সারের জন্য ধরনা দেন করিমের কাছে। এতে তাঁর আয়ের পথ সুগম হয়।
সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে: নিজের গরু থাকায় কেঁচো চাষ ও সার উত্পাদনে করিমের কোনো ব্যয় নেই। শীতকাল ছাড়া সারা বছরই কেঁচোর বাচ্চা হয়। আর এগুলোর বংশবিস্তারও খুব দ্রুত ঘটে। এ কারণে মাত্র দুই বছরে করিমের ২০ হাজার কেঁচো পাঁচ লাখে পৌঁছে।

প্রতিটি কেঁচো তিন টাকা দরে তাঁর পাঁচ লাখ কেঁচোর দাম এখন ১৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে এক লাখ কেঁচো তিনি তিন লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন। সার বিক্রি করে পেয়েছেন প্রায় এক লাখ টাকা। এই টাকা দিয়ে তিনি পাঁচটি গরু কিনেছেন এবং চাষাবাদের জন্য ইজারা নিয়েছেন ২০ বিঘা জমি। স্ত্রী ও সন্তানেরা এসব কাজে তাঁকে সহযোগিতা করছে।
করিম বলেন, ‘যে গরুতে দুধ দেয়, তার লাথিও ভালো। তাই সারা দিন কেঁচো নাড়াচাড়া করতে খারাপ লাগে না। মনে হয় যেন টাকা নাড়াচাড়া করছি।’

উপকার পেলেন যাঁরা: করিমের জৈব সার ব্যবহারকারী আমঝুপি ইউনিয়নের চাষি আলামিন হোসেন, জাহিদুর ইসলাম, শাহজাহান আলী, কাওসার আলী ও আশরাফুল ইসলাম বলেন, তাঁরা এখন জমিতে রাসায়নিক সারের বদলে করিমের উত্পাদিত জৈব সার ব্যবহার করছেন। এতে তাঁদের উত্পাদন ব্যয় যেমন কমেছে, তেমনি জমির উর্বরতা শক্তি বেড়ে ফসলের পুষ্টিমানও বহু গুণ বেড়েছে।
আমঝুপি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন বলেন, করিমের জৈব সার এ অঞ্চলের মাটি ও কৃষককে বাঁচিয়েছে।

মেহেরপুর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জাহিদুল আমিন বলেন, আদর্শ মাটিতে পাঁচ ভাগ জৈব উপাদান থাকে। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে মেহেরপুরের মাটিতে এখন জৈব উপাদান আছে মাত্র এক ভাগ। গোবরে চাষ করা করিমের কেঁচো-সারে জৈব উপাদান আছে ৩০ ভাগ। আবার এই সারে মাটির আরও ১০ ধরনের উপাদান থাকায় ফসল বাড়ার সঙ্গে এর পুষ্টিমানও বাড়ছে। এ সার ব্যবহারে মাটির উর্বরতা শক্তিও বাড়ছে বহু গুণ। তিনি আরও বলেন, আমঝুপি ইউপির সহায়তায় মেহেরপুর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্র্রসারণ বিভাগ প্রতিটি ওয়ার্ডে করিমের মতো কেঁচো-সার উত্পাদনের ভাটি (বেড) তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে। দেশের কয়েক জেলায় আবর্জনা পচিয়ে কেঁচো-সার তৈরি করা হলেও একমাত্র করিম গোবরে কেঁচো চাষ করে উত্কৃষ্টমানের জৈব সার তৈরি করছেন, যা একটি অনুকরণীয় উদাহরণ।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো

এনজিওর বিরুদ্ধে চিংড়ি খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগ


খুলনায় চারটি হিমায়িত মৎস্য রপ্তানিকারক কোম্পানি শ্রমিক সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম পরিচালনাকারী দুটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) বিরুদ্ধে শ্রমিক অসন্তোষ উসকে দেওয়ার অভিযোগ এনেছে। গত সোমবার খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওই চার কোম্পানির কর্মকর্তারা এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন জাহানাবাদ সি ফুডস লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক সোয়েব মাহমুদ, অর্গানিক শ্রিম্পস এক্সপোর্ট লিমিটেডের মহাপরিচালক মো. জয়নাল উদ্দিন, মডার্ন সি ফুডস লিমিটেডের মহাপরিচালক লুৎফর রহমান এবং সাউদার্ন সি ফুডস লিমিটেডের মহাপরিচালক মো. মনোয়ার হোসেন।
তাঁদের অভিযোগ, সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ ফর এনভায়রনমেন্ট (সেফ) এবং আমেরিকান সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল লেবার সলিডারিটি নামের দুটি এনজিও হিমায়িত খাদ্যশিল্পে অসন্তোষ ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে তারা চিংড়িশিল্প ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তারা চিংড়িশিল্পের শ্রমিকদের অনর্থক প্রতিষ্ঠানবিরোধী বিক্ষোভ করতে উৎসাহিত করছে।
সেফের প্রকল্প সমন্বয়কারী আসাদুজ্জামান বলেন, তাঁরা শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন গঠনে সচেতন করে তোলায় ওই চারটি কোম্পানি তাঁদের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে এসব অভিযোগ এনেছে। এ ক্ষেত্রে সলিডারিটিও তাদের সঙ্গে অভিন্ন মত পোষণ করে।

সূত্রঃ প্রথম আলো

একটি মৎস্য খামারের জন্য হাজার একরে জলাবদ্ধতা


নরনইর বিল। চারধারে একরের পর একর আমন খেত। সেই খেতের ধানই বাঁচিয়ে রেখেছে পাঁচ শতাধিক কৃষকের পরিবারকে। তাই শত প্রতিকূলতায় ফসল আগলে রাখেন তাঁরা। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুরের নরনইর বিলের সেই আমন খেত শুধু একটি মাছের খামারের কারণে এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
গ্রামবাসীর ভাষ্যমতে, নরনইর বিলের পানি নিষ্কাশনের রাস্তায় একটি মাছের খামারের জন্য পুকুর খনন করে পাড় উঁচু করায় এলাকার এক হাজার একর জমিতে সৃষ্টি হয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। ইতিমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে ৫০০ একর জমির আমনের চারা। এতে দুই হাজার টন ধান কম হবে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নরনইর বিলে রহিমানপুর ইউনিয়নের ফকদনপুর, লক্ষ্মীপুর, গোয়ালপাড়া, মড়লডোবা, দেবাডাঙ্গী, খালপাড়া, মোলানি, দাসপাড়া ও বিলপাড়া গ্রামের ৫০০ কৃষক পরিবারের এক হাজার একর জমি রয়েছে। বিল এলাকায় রয়েছে বিভিন্ন মাপের ৩৫টি পুকুর। বিলের ২০ একর পতিত জমিতে গত জুনে বিলের পানি নিষ্কাশনের জায়গায় রাজা ফ্লাক্সজেন ফিশারিজ চারটি নতুন পুকুর খনন করে। পুকুরগুলো বিলের পশ্চিম থেকে পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ায় পুকুরটির উঁচু পাড় অলিখিতভাবে এলাকার বাঁধ হিসেবে গড়ে উঠেছে। এতে সেখানে পানি বাধা পায়। আর সেই পানি বিল এলাকার জমির ফসল তলিয়ে দেয়, সৃষ্টি করে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিলের চারদিকে বিস্তৃত আমন খেত পানিতে তলিয়ে আছে। বিলের মধ্যখানে খনন করা হয়েছে পাশাপাশি চারটি পুকুর। সেই পুকুরের উঁচু পাড় পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি করেছে। বিলের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে খনন করা হয়েছে ২০ ফুট প্রস্থের এটি খাল। কিন্তু বিলের পানির তুলনায় নিষ্কাশনের পথ পর্যাপ্ত না হওয়ায় পানি জমে সেই আমন খেতে সৃষ্টি হয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা।
লক্ষ্মীপুর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম (৪৫) পচে যাওয়া আমনের চারা দেখিয়ে বলেন, ‘প্রাচীন এই বিলের জমিতে প্রতিবছর ধানের বাম্পার ফলন হয়। এ বছর নয় বিঘা জমিতে আমন লাগিয়েছিলাম। কিছুদিন আগে চারাগুলো পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে যায়। এরপর আবার রোপা লাগাই। এবারও ঢলের পানিতে জমির ধান নষ্ট হয়ে গেল। স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় একটি কোম্পানি এখানে মাছের খামার গড়ে তুলেছে, যা এলাকায় পানি বের হওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করেছে। প্রভাবশালীরা সেই কোম্পানির সঙ্গে থাকায় এলাকার লোকজন কিছু বলতে পারছে না।’ এ বিষয়ে ফ্লাক্সজেন ফিশারিজের প্রকল্প পরিচালক ইকবাল জাহাঙ্গীর জানান, নতুন চারটি পুকুর খননের পর থেকে নরনইর বিলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, এমন নয়। অনেক আগে থেকেই এলাকায় এ মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। তবুও তাঁরা পানি নিষ্কাশনের জন্য তিন একর জমি নষ্ট করে একটি খাল খনন করে দিয়েছেন। কিন্তু দক্ষিণ দিক অপেক্ষাকৃত উঁচু বলে সে দিক দিয়ে পানি রেব হতে পারছে না।
জেলা প্রশাসক মুহা. শহীদুজ্জামান জানান, বিলের মধ্যে পুকুর খননের পর নরনইর বিল এলাকার জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, এমন অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি বিল এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ও রহিমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যাকে সব পক্ষের সঙ্গে বসে বিষয়টির মীমাংসা করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সূত্রঃ প্রথম আলো

ভেষজ বালাইনাশক

Tuesday, August 31, 2010


অন্যান্য সবজির জমির তুলনায় রহিমেরকান্দী গ্রামের সবজির জমিগুলোর চেহারা ভিন্ন। জমির সবজি গাছগুলো মোটা-তাজা, ফলনের আকার বড় ও দেখতে সুন্দর। বাজারেও এসব জমির সবজির চাহিদা ব্যাপক। ভালো ফলনের পাশাপাশি ভালো দাম পাওয়ায় সবজি চাষিরাও খুশি। তবে সবজির ভালো ফলনের জন্য অন্য চাষিদের মতো জমিতে কীটনাশক ব্যবহার করেন না এ গ্রামের চাষিরা। তারা যে কীটনাশক ব্যবহার করে, তা পরিবেশবান্ধব এবং মানব দেহের কোনো ক্ষতি করে না। তেঁতুলের পাতা ও শসার পাতা থেকে এ বালাইনাশক তৈরি করা হয়। ব্যতিক্রমী এ ভেষজ বালাইনাশক উদ্ভাবন করেছেন নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মখলেছুর রহমান। ইতিমধ্যে সবজির জন্য বিখ্যাত নরসিংদীর বিভিন্ন উপজেলার শাকসবজির জমিতে, ফলের বাগানে ও পানের জমিতে ব্যবহৃত হয়েছে এ ভেষজ বালাইনাশক। এ থেকে কৃষকরা বেশ উপকৃত হওয়ায় দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ভেষজ বালাইনাশক। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরাও শসা ও তেঁতুল পাতার রসের পোকা দমন এবং রোগ প্রতিরোধের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে সন্তোষজনক ফল পেয়েছেন।

অনুপ্রেরণা ও উদ্ভাবন ফসলে বিশেষ করে সবজিতে বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে কীটনাশক ব্যবহৃত হয়। এতে মানুষের স্বাস্থ্যগত ও পরিবেশগত ক্ষতি হচ্ছে। সম্প্রতি বিষযুক্ত সবজি খেয়ে শিশু মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ক্যান্সারের প্রধান কারণ হচ্ছে বিষযুক্ত সবজি। এ কারণে দেশে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন শুরু হয়েছে। কিন্তু দেশে যেসব পদ্ধতিতে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করা হয়, সেসব পদ্ধতিতে পোকার আক্রমণ ও রোগের প্রতিরোধ সম্ভব নয়। প্রচলিত পদ্ধতিতে সব পোকা দমনও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বালাইনাশক প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও জমিতে বিষ প্রয়োগ করতে হচ্ছে। তাই মখলেছুর রহমান প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে এমন একটি বালাইনাশক পদ্ধতি আবিষ্কারের বিষয়ে ভাবছেন, যাতে কৃষকদের জমিতে কোনো বিষ দিতে না হয়।

মখলেছুর রহমান জানান, এসব বিবেচনা করে বিষয়টি নিয়ে জেলার শিবপুরের কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সত্য রঞ্জন সাহার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এমন একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করার, যার দ্বারা ক্ষতিকর পোকা ধ্বংস হবে কিন্তু উপকারী পোকার ক্ষতি হবে না। এরই অংশ হিসেবে তেঁতুল ও শসা পাতাসহ বিভিন্ন পাতার রস থেকে তৈরি ভেষজ বালাইনাশক পরীক্ষামূলকভাবে সবজির জমিতে ব্যবহার করা হয়। সব জমির প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, তেঁতুল ও শসার ক্ষেত্রে ভালো ফল পাওয়া যায়। এ বালাইনাশকে অপকারী পোকা মারা গেলেও উপকারী পোকার কোনো ক্ষতি হয়নি। বিভিন্ন সবজির জমিতে ব্যবহার করেও ভালো ফল পাওয়া যায়।

তৈরি হয় যেভাবে মুখ খোলা পাত্রে এক লিটার পানিতে ১২ গ্রাম শুকনো শসার পাতা সাত দিন ভিজিয়ে রাখতে হবে। সাত দিন পর এক ঘণ্টা ১৫ মিনিট ঢাকনা দিয়ে রাখতে হবে। এরপর সাত দিন ছিদ্রবিহীন রঙিন দুই-তিন পর্দা পলিথিন দিয়ে পাতিলের মুখ এমনভাবে বন্ধ করে রাখতে হবে, যেন বায়ুবদ্ধ অবস্থায় থাকে। এরপর ছেঁকে সরাসরি বালাই দমনে ব্যবহার করা যায় অথবা বোতলজাত করে রেখে ব্যবহার করা যাবে। এক লিটারের বেশি পানি হলে পরিমাণমতো শসার পাতা দিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা ভিজিয়ে সিদ্ধ করতে হবে। শসার পাতার বালাইনাশক প্রস্তুতের মতোই তেঁতুল পাতার বালাইনাশক প্রস্তুত করা হয়।

ব্যবহার স্প্রে মেশিনে প্রতি লিটার পানিতে আড়াই মিলিলিটার বালাইনাশক ভালোভাবে পানির সঙ্গে মিশিয়ে পুরো গাছ ভালোভাবে ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে। পোকার আক্রমণ থাক বা না থাক পাঁচ দিন পর পর অবশ্যই স্প্রে করতে হবে। অবস্থাভেদে প্রতিদিন অথবা এক দিন পর পরও স্প্রে করা যায়। বেলা ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে স্প্রে করলে উপকার বেশি। তেঁতুলের পাতার ক্ষেত্রে প্রতি লিটার পানিতে চার থেকে পাঁচ মিলিলিটার বালাইনাশক তিন দিন পর পর স্প্রে করতে হবে।

মখলেছুর রহমানের সংগ্রাম অধিকাংশ কৃষক তৈরি কীটনাশক ব্যবহারে বেশি আগ্রহী। ভেষজ বালাইনাশক তৈরি করতে ১৭ দিন সময় লাগার কারণে অনেকে এ পদ্ধতি ব্যবহারে অনাগ্রহ দেখান। কিন্তু মখলেছুর রহমান থেমে যাননি, তিনি দিনের পর দিন জেলার বিভিন্ন গ্রামে কৃষকদের কাছে ছুটে গেছেন, বুঝিয়েছেন বালাইনাশক ব্যবহারের সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং এর সুবিধা। পাশাপাশি কৃষকদের ভেষজ বালাইনাশক ব্যবহারের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। ফলে কৃষকরা জমিতে ভেষজ বালাইনাশক ব্যবহার করছেন এবং ভালো ফল পাওয়ায় তারা ধীরে ধীরে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।

মখলেছুর রহমান জানান, দীর্ঘ সংগ্রামের পর বর্তমানে বেলাব উপজেলার রহিমেরকান্দী গ্রামে ১০০ একর জমিতে কৃষকরা এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করছেন। পাশাপাশি মনোহরদী উপজেলায় পানের বরজসহ বিভিন্ন উপজেলায় শাকসবজি, ফলের বাগানে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ পদ্ধতি ব্যবহারে ভালো ফল পাওয়ায় দিন দিন বাড়ছে বিষমুক্ত সবজি চাষির সংখ্যা।

কৃষকরা যা বলেন বেলাব উপজেলার রহিমেরকান্দী গ্রামের কৃষক সাহাব উদ্দিন জমিতে সারা বছরই বিভিন্ন সবজির চাষ করেন। জমিতে কীটনাশক ব্যবহারের ফলে ধীরে ধীরে জমির ফসলের উৎপাদন কমে যায়। পাশাপাশি বাজারে কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভের অধিকাংশই কীটনাশকের পেছনে ব্যয় হয়ে যায়। ফলে দুচিন্তায় পড়েন কৃষক সাহাব উদ্দিন। একদিন গ্রামে মখলেছুর রহমান সবজির জমি পরিদর্শক করতে আসেন এবং পরামর্শ দেন ভেষজ বালাইনাশক ব্যবহার করার জন্য। মখলেছুর রহমানের কথামতো তিনি জমিতে ভেষজ বালাইনাশক ব্যবহার করেন। ফলে জমিতে বেড়ে গেছে ফলনের পরিমাণ। পাশাপাশি বর্তমানে গ্রাম থেকে প্রতিদিন সকালে ট্রাকে বিষমুক্ত সবজি যাচ্ছে ঢাকার বিভিন্ন মাল্টি সুপারমলে।

কৃষক সাহাব উদ্দিন বলেন, 'মখলেছ স্যারের কথামতো আমরা জমিতে তেঁতুল ও শসা পাতার রস ব্যবহার করে বিষমুক্ত সবজির মধ্যে সাফল্যের আলো খুঁজে পেয়েছি। জমিতে ফলন বাড়ার পাশাপাশি দাম পাচ্ছি সাধারণ সবজির চেয়ে বেশি। আমরা শুধু ঢাকায় নয়, বিদেশেও বিষমুক্ত সবজি বিক্রি করতে চাই।'
নরসিংদীর মনোহরদী পান চাষের জন্য বিখ্যাত। পানে কীটনাশক ব্যবহারের ফলে আমরা সরাসরি বিষ খাচ্ছি। কিন্তু বর্তমানে মখলেছুর রহমানের পরামর্শে মনোহরদীর পান চাষিরা কীটনাশকের বদলে তেঁতুল পাতা ও শসা পাতার বালাইনাশক ব্যবহার শুরু করেছেন।
উপজেলার চরমান্দালিয়ার পান চাষি শহিদুল্লাহ ও আলাউদ্দিন বলেন, শসা পাতার রস ব্যবহারের ফলে এবার পাশের কীটনাশক ব্যবহার করা জমির চেয়ে আমাদের জমি থেকে ভালো পান উঠছে। গাছের আগাগোড়া হয়েছে মোটা, আকারে বড় হচ্ছে। পাশাপাশি শোষক পোকার আক্রমণ থেকেও রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের কথা নরসিংদীর শিবপুর কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সত্য রঞ্জন সাহা বলেন, আমরা উপপরিচালক মখলেছুর রহমানের কথামতো বেগুনের চারটি পৃথক জমিতে সাধারণ, তেঁতুল পাতার রস, শসা পাতার রস ও কীটনাশক ব্যবহার করি। দেখা গেছে, সাধারণ জমিতে পোকামাকড়ের আক্রমণ সবচেয়ে বেশি, কীটনাশকের জমিতে কম এবং তেঁতুল পাতা ও শসা পাতার রস ব্যবহার করা জমিতে পোকার আক্রমণ কম ও ভালো ফলন পাওয়া যায়। এ পরীক্ষা থেকে সবজিতে তেঁতুল ও শসা পাতার রস কার্যকরী মনে হচ্ছে।

বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা ইনস্টিটিউট ঢাকার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. জহুরুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, শসার পাতার রসে সেফনিন ও তেঁতুলের পাতার রসে টেনিন যৌগ রয়েছে। এ দুটি যৌগই বালাইনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গবেষণাগারে শসা ও তেঁতুল পাতার রসের পোকা দমনের কার্যকারিতার ওপর লেটাল ড্রোস ৫০ ভাগ (খউ৫০) পরীক্ষা করে সন্তোষজনক ফল পাওয়া গেছে।

তিকিলা


টাকিলা , টেকিলা অথবা তিকিলা একটি মেক্সিকান জাতীয়তার আইকন , মেক্সিকান জাতীয়তার প্রাইড এন্ড কালচার । অনেকে মেক্সিকানরা বলেন ইট'স দ্যা অনলি প্রোডাক্ট দ্যাট আইডেন্টিফাইস আস এজ এ কালচার । টাকিলা শব্দটা androgynous , এল টাকিলা এবং লা টাকিলা দুই ভাবেই বলে , তবে মেসকুলিন ফর্মে বেশী উচ্চারিত হয় । মেক্সিকোর Jalisco প্রদেশের টাকিলা শহর এবং তার আশপাশে ( প্রায় চল্লিশ মাইলের বেল্ট ) মেক্সিকো সরকারের কড়া নযরদারীতে নিদৃস্ট স্ট্যান্ডার্ডের ভিত্তিতে টাকিলা উতপাদিত হয় । agave plant থেকে Agave পিনাস সংগ্রহ করা হয় ( সাধারনতঃ ৭/৮ বছর বয়স )।এই agave প্লান্টের চাষ , রক্ষনাভেক্ষন এবং হারভেস্ট সবই ওল্ড ফ্যাশন অর্থাৎ কোন মডার্ন টেকনোলজিব্যাবহার করা হয়না । বেশী সান লাইটের জন্য agave plant পশ্চিম মুখি করে রোপন করা হয় । এই agave প্রথমে মাটির গর্তে পোড়ানো হয় পরে পানির সাথে মিশিয়ে গ্রাইন্ডিং করা হয় । এইভাবে প্রথম এবং দ্বিতীয়বার মন্ড থেকে নির্ঝাস ডিস্টিল করা হয় । প্রথমে ওক ব্যারেল পরে স্টেনলেস স্টিল ব্যারেলে রাখা হয় । আমরা সাধারনতঃ টাকিলা বিয়াঙ্কো (সাদা) এবং টাকিলা গোল্ড দুই ধরনের টাকিলা বাজারে পাই । বিশ্বজুড়ে আজ টাকিলার জনপ্রিয়তা । বিশেষ করে নিনটেন্ডো জেনারেশন ডিসকোতে গেলে টাকিলা সট নেবেই এবং অনেকর কাছে টাকিলা পারফেক্ট ওয়ার্ম আপ শট । ২০০৪ সালে মেক্সিকো সরকার কোয়ালিটি কন্ট্রোলের দোহাই দিয়ে আমেরিকায় ওক ব্যারেলের পরিবর্তে বোতলজাত করে টাকিলা এক্সপোর্ট অরার জন্য এক অধ্যাদেশ জারি করে এবং এই অধ্যাদেশ আমেরিকার সাথে মেক্সিকোর ট্রেড ওয়ার শুরু হয় । পরে নাফতা সন্মেলনে আমেরিকান প্রেসিডেন্টের অনুরোধে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট অধ্যাদেশ তুলে নেন এবং আমেরিকান মিডিয়া ঐ সন্মেলনকে টাকিলা সন্মেলন নাম দেয় ।Worms in tequila ? মেক্সিকান সরকার টাকিলার জন্য যে সব ইনগ্রিডিয়েন্টস এপ্রুভ করেছে তার মধ্যে Worm নেই কিন্তু জেনেরিক টাকিলা যা Jalisco প্রদেশের অন্যান্ন শহরে তৈরি হয় সেখানে প্রতি বোতলে একটা করে Worm দেয়া হয় । agave plant এ একধরনের Worm পাওয়া যায় যা টাকিলা প্রসেসিং এর সময় মেল্টেড হয় এবং অনেকে মনে করে এইসব Worm এর জন্যই টাকিলার স্বাদ অনেক বেশী । জেনুইন agave Worm দেখতে উজ্জ্বল কোরাল , কিন্তু বোতলে দেয়ার কিছুদিন পর পিংক আকার ধারন করে আবার কেউ কেঊ সাদা Worm ব্যাবহার করে । এই Worm সহ টাকিলা শট নেয়ার জন্য ক্রেজি এবং ওয়াইল্ড ড্রিংকারের অভাব নেই । টাকিলা Worm খাওয়ার জন্য নিরাপদ । এই Wormকে ডিপ ফ্রাই করে স্পাইসি ছালসা সস দিয়ে খাওয়া হয় । অনেক ব্র্যান্ডের টাকিলা বাজারে আছে কিন্তু Jose Cuervo ( হোজে কুয়েরবো ) নুয়েমেরো উনো ( নাম্বার ওয়ান ) । প্রচন্ড সর্দি কাশিতে টাকিলা শট খুব কাজে লাগে । টাকিলা দিয়ে বানানো প্রায় প্রতিটি ড্রিংকের সাথে ট্রিপলসেক নামে একটা মিস্টি লিকার এড করে । পান্তা ভাতের সাথে যেমন নুনের রিলেশন তেমনি টাকিলার সাথে ট্রিপলসেকের রিলেশন । ট্রিপলসেকের মুল ইনগ্রিডিয়েন্টস আখ ।এবার আসুন আমার প্রিয় কিছু টাকিলা ককটেলের কথা বলি । প্রথমেই মারগারিতার কথা বলি । আপনী দুই ভাবে মারগারিতা এনজয় করতে পারেন , নরমাল উইথ আইস এবং ফ্রোজেন । আপনী যদি শ্লো ড্রিংকার হন তাহলে একটা ফ্রোজেন মারগারিতা নিয়ে ২/৩ ঘন্টা পার করে দিতে পারেন । সাধারন বারে বারটেন্ডার ব্লেন্ডারে আইস এবং এল্কোহল এক সাথে ব্লেন্ড করবে। আর মেক্সিকান বারে যান তাহলে মেশিনে তৈরী ফ্রোজেন মারগারিতা পাবেন । নরমাল কিম্বা ফ্রোজেন যে ভাবেই চান উইথ সল্ট বলতে ভুল করবেননা কারন আমাদের মত ট্রপিক্যাল কান্ট্রির ড্রিংকার সল্ট ছাড়া টাকিলা খেতে পারবেনা ।টাকিলা সানরাইজ আমার দ্বিতীয় পছন্দ। এছাড়া টাকিলার কিছু আপ স্কেল ড্রিংকস এর নাম দিলাম যা আপনারা ট্রাই করে দেখতে পারেন । ক্যাকটাস , বর্ডার ক্রসিং , ক্যালিফোর্নিয়া স্কাই , ডিভাইন প্লেজার ,দি এক্সপ্লোরার , গালফ অব মেক্সিকো ,লা বোম্বা ,মাফিয়া , নিউ ইয়র্ক স্কাই লাইন, ওলমেকা গোল্ড, সাউজা-ব্লান্কো, সাউজা- এক্সট্রা গোল্ড, কাজাদোরেস রেপোসাদো, হেরাদুরা রেপোসাদো ।

ফণিমনসা


ফণিমনসা মূলত উষ্ণ অঞ্চলের উদ্ভিদ- যা ক্যাকটাস নামে বেশি পরিচিত। সব প্রজাতির ক্যাকটাসে ফুল হয় না।বিশেষ প্রজাতির ক্যাকটাস গাছে বছরে মাত্র দু’বার দৃষ্টিনন্দন ফুল ফোটে।

 দেশি মাছের কৃত্রিম প্রজননে সাফল্য


বিলুপ্তপ্রায় ও বিপদাপন্ন দেশীয় কৈ, মেনি (ভ্যাদা), পাবদা, শিং ও মাগুর মাছের শুক্রাণু হিমায়িতকরণ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করে পুনরায় পোনা উৎপাদনে সফল হয়েছেন গবেষকেরা। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের ওই গবেষকেরা জানিয়েছেন, হিমায়িতকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১০০ বছর পরও ওই সব প্রজাতির মাছ পুনঃ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।
গতকাল সোমবার দুপুরে মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পড়েন প্রধান গবেষক অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম সরদার। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) অর্থায়নে এ গবেষণা করা হয়। ২০০৮ সালে এ গবেষণা শুরু হয় জানিয়ে তাঁরা দাবি করেন, বিশ্বে এ ধরনের গবেষণা এটাই প্রথম।
অধ্যাপক রফিকুল জানান, দেশীয় প্রাকৃতিক জলাশয়ের মাছ অত্যন্ত সুস্বাদু হলেও প্রতিনিয়তই আমরা চাষ করা মাছের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি। এ দেশে প্রায় ২৬৫ প্রজাতির মাছ থাকলেও প্রায় ২৫ প্রজাতির মাছ ইতিমধ্যেই জলাশয় থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। হুমকির সম্মুখীন আরও প্রায় ৫০ প্রজাতির মাছ। জলাশয় ভরাট ও আবাসন সৃষ্টির কারণে অন্যান্য প্রজাতির মাছের উৎপাদনও কমে যাচ্ছে। মৎস্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যমতে, ২০০৭-০৮ সালে দেশীয় শিং, কৈ ও মাগুর মাছের উৎপাদন ছিল প্রায় ৭৬ হাজার মেট্রিক টন, যা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই কম। এসব দিক বিবেচনা করেই হিমায়িতকরণ পদ্ধতিতে দেশীয় প্রজাতির কৈ, মেনি, পাবদা, শিং ও মাগুর মাছের বংশ সংরক্ষণের এ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন তাঁরা।
রফিকুল আরও জানান, হিমায়িত পদ্ধতি বর্তমান সময়ের হ্যাচারিতে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে উৎপাদিত পোনার চেয়ে ভালো। কারণ, কৃত্রিম প্রজননের ফলে পোনার মধ্যে ইনব্রিডিং (আত্মীয় সম্পর্কের মধ্যে প্রজনন) এবং হাইব্রিডাইজেশনের (সংকরায়ণ) সৃষ্টি হয়। ফলে উৎপাদন কমার পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব দিন দিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু হিমায়িত মাছের শুক্রাণু দিয়ে প্রজনন করালে দেশীয় প্রজাতির এসব মাছ বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পাবে।
গবেষণায় সহকারী হিসেবে ছিলেন ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী সংকর কুমার সাহা, মো. ফজলে মনোয়ার সরকার, মো. আবুল কালাম আজাদ ও মনিরুজ্জামান।

সূত্রঃ প্রথম আলো

অর্জুন


দেশজ গাছগুলোর মধ্যে অর্জুনের উপকারের কথা বলে শেষ করা যাবে না। কমব্রিটেসি গোত্রের অন্তর্ভুক্ত এ গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Terminalia arjuna , সংস্কৃত নাম ককুভ। বিরাটাকৃতির পত্রমোচী বৃক্ষ। কা- মসৃণ, মৃদু বাদামি কিংবা সবুজাভ ধূসর। পাতা সরল, ৩-৬ ইঞ্চি লম্বা, ডিম্বাকৃতি, চামড়ার মতো, প্রায় স্থূলকোণী, মসৃণ এবং বিন্যাসে বিপ্রতীপ। পুষ্পমঞ্জরী উৎক্ষিপ্ত, বহু পৌষ্পিক, প্রান্তিক, খাটো এবং অনিয়ত। ফুল অতি ক্ষুদ্র, অনাকর্ষী, মৃদু হলুদ রঙের, খাটো এবং ঘনবদ্ধ। বৃত্যংশ ৫টি, প্রায় মসৃণ। ফল ডিম্বাকৃতি, কাঠের মতো কঠিন, শুষ্ক এবং ৫টি শিরবিশিষ্ট। শীতের শেষেই সাধারণত গাছ নিষ্পত্র হয়ে যায় এবং বসন্তে নতুন পাতায় গাছ ভরে যায়। নতুন পাতা গজানোর সময়েই গাছের শাখাগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে ভরে ওঠে।
অর্জুন উপকারী ভেষজ। যাদের বুক ধড়ফড় করে অথচ হাই ব্লাডপ্রেসার নেই, তাদের জন্য অর্জুন বাকল কাঁচা
হলে ১০-১২ গ্রাম আর শুকনো হলে ৫-৬ গ্রাম একটু থেঁতো করে, ১২৫ মিলিলিটার দুধ আর আধালিটার পানি একসঙ্গে সিদ্ধ করে, আন্দাজ ১২৫ মিলিলিটার থাকতে নামিয়ে, ছেঁকে বিকালের দিকে খেতে হবে। তবে গরম অবস্থায় সিদ্ধ দুধটা ছেঁকে রাখা ভালো। এর দ্বারা বুক ধড়ফড়ানি অবশ্যই কমবে। তবে পেটে বায়ু না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। অর্জুনের বাকল এ পদ্ধতিতে সেবন করলে লো ব্লাডপ্রেসারও স্বাভাবিক হবে। প্রাচীন বৈদ্যরা বাকলের গুঁড়ো, বাসক পাতার রসে ভিজিয়ে সেটা কমপক্ষে ৭ বার শুকিয়ে রেখে দিতেন। দমকা কাশির রোগীকে এর সঙ্গে একটু ঘি ও মধু বা মিছরির গুঁড়ো মিশিয়ে চাটতে দিতেন। ৪-৫ গ্রাম অর্জুন বাকলের ক্কাথে ছাগলের দুধ মিশিয়ে সেবন করালে রক্ত আমাশয় উপশম হয়। জেনে রাখা ভালো যে অর্জুন গাছের সব অংশই কষায় রস (
Astringent), এজন্য অর্জুন ক্কাথে অনেকের কোষ্ঠকাঠিন্য হয়। তবে দুধে সিদ্ধ অর্জুন বাকলের ব্যবহারে কোষ্ঠকাঠিন্য হয় না। শরীরের কোথাও মচকে গেলে কিংবা হাড়ে চিড় খেলে অর্জুন বাকল ও রসুন বেটে অল্প গরম করে ওখানে লাগিয়ে বেঁধে রাখলে ওটা সেরে যায়। তবে সেই সঙ্গে অর্জুন বাকলের চূর্ণ ২-৩ গ্রাম মাত্রায় আধাচামচ ঘি ও সিকি কাপ দুধ মিশিয়ে অথবা শুধু দুধ মিশিয়ে খেলে আরো ভালো হয়। অর্জুন ফলের শুকনো টুকরো কলকে করে তামাকের মতো ধোঁয়া টানলে হাঁপানির টান কমে যায়। অর্জুনের বাকল মিহি করে গুঁড়ো করে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে মুখের মেচতায় লাগালে মেচতার দাগগুলো চলে যায়। শরীরের কোথাও ফোড়া হলে অর্জুনের পাতা দিয়ে ঢাকা দিলে ফোড়া ফেটে যায়, তারপর তাতে পাতার রস দিলে তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়। এত উপকারী একটি গাছ অর্জুন অথচ আমরা কত নিষ্ঠুর ! বাকল সংগ্রহের জন্য অর্জুনের কচি চারাগাছগুলোকেও রেহাই দেই না আমরা। পার্ক, বাগান কিংবা রাস্তার ধারের অর্জুন গাছ সব জায়গার একই চিত্র।

মনের উঠোনে

সাম্প্রতিক সংযোজন

মোবাইল থেকে দেখুন

আমাদের দেশ এখন আপনার মুঠোফোনে, মোবাইল থেকে লগইন করুন আমাদের দেশ

দ র্শ না র্থী

দ র্শ না র্থী

free counters

কে কে অনলাইনে আছেন