পানি অভাবে পাট জাগ দিতে পারছে না কেশবপুরের কৃষকরা

Friday, September 24, 2010


পাট নিয়ে যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কম বৃষ্টিপাতের কারনে ওডাবা, খাল ,বিল ও পুকুরে পানি না জমায় চাষিরা পাট জাগত দিতে পারছেননা। জাগ দেওয়ার জায়গার অভাবে অনেক চাষি ক্ষেত থেকে পাট তুলছেননা। অনেকে পাট কেটে আমন আবাদ করেত পারেননি পানির আভাবে।

এদিকে জলবায়ুর বিরুপ প্রভাবে ভাদ্র মাসের ১৫দিন হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত বৃষ্টির দেখা মিলছেনা। কৃষকরা বলছেন,এভাবে যদি আর ৮/১০দিন বৃষ্টি না হয় তাহলে কোন কিছুই বোনা সম্ভব হবে না। পাটের দাম থাকায় এবং পাটের বীজ সহজ লভ্য থাকায় ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় বিপুল উৎসাহ নিয়ে কেশবপুরের কৃষকরা তাদের জমিতে পাট বুনেছিল। গতবার যারা এক ছিটে জমিতেও পাট চাষ করেনি তারাও এবার বিঘের পর বিঘেতে পাটের আবাদ করেছে। ফলে পাটের আবাদ এবার কেশবপুর অঞ্চলে দ্বিগুন হয়েছে।

বিগত বছরগুলোতে সোনালী আঁশ গলার ফাঁস হয়ে কৃষকদের কাছে দেখা দিয়েছিল। মিল কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কিন্তু সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপে বিশ্ব বাজারে পাটের চাহিদা বেড়ে গিয়ে ৪/৫শ টাকা মন দরের পাট ২৫/২৬শ টাকায় বিক্রি হয়। যারা পাট চাষ করেছিল তাদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছিল। কিন্তু বর্তমানে পাটের বাজার ফঁড়িয়াদের নিয়ন্ত্রনে থাকায় পাটের বাজার কমতে শুরু করেছে। তারা ইচ্ছে মত পাটের দাম নির্ধারন করে ১১/১২শ টাকায় নামিয়ে এনেছে। এতে কৃষকরা আবার হতাশ হয়ে পড়েছে। তারপর অনাবৃষ্টির কারনে তারা উৎপাদিত পাট পচন দেয়া নিয়ে তারা পড়েছেন মহা বিপাকে।

কেশবপুর কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার বাজার পাটের মূল্য বেশী থাকার কারণে গোটা কেশবপুর এলাকায় পাটের চাষ হয়েছে পাঁচ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে। খরার কারনে আগাম সেচের মাধ্যমে চাষিরা এবার পাটের আবাদ করেন। উৎপাদন খরচ ও সংসারের টানা-পোড়েনে পড়ে অনেক চাষি ক্ষেতের পাট ফঁড়িয়াদের কাছে আগেই কমদামে বিক্রি করে টাকা নিয়ে খরচ করেছেন। পাট চাষের জন্য অনুকুল আবহাওয়ার কারনে এবছর পাটের বাম্পার হয়েছে। কিন্তু উৎপাদিত পাট পানির অভাবে চাষিরা জাগ দিতে পারছেননা।

খাল বিল ডোবা পুকুর কোথাও জাগ দেবার মতো কোনো পানি নেই। ভরা বর্ষা মৌসুমে এখনো ভারি বৃষ্টিপাত হয়নি। পাটের সোনালী আঁশ বের করতে যে পরিমাণ পানির প্রয়োজন কৃষকরা তা পাচ্ছেননা। চাষিরা মেশিন দিয়ে খানা-খন্দে পানি তুলে সেখানে পাট জাগ দিচ্ছেন। অনেক চাষি দূর থেকে পানি কিনে এনে তা ডোবায় ফেলে পাট জাগ দিচ্ছে এতে খরচের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে।

বুকভরা আশা নিয়ে চাষিরা পাটের আবাদ করলেও বর্তমান বাজারে যে দামে পাট বিক্রি হচ্ছে তাতে তারা নিরাশ হচ্ছেন। কেশবপুর উপজেলার পাঁতিজয়া গ্রামের কাজল চৌধুরী পিটিবি নিউজ ডটকমকে জানান, তিনি এবার তার তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। গ্রামের কোথাও পানি না থাকায় আনেক দূর থেকে পানি এনে তার ডোবা ভরে তাতে পাট জাগ দিতে হয়েছে। যার কারনে বৃষ্টির আশায় অনেক কৃষক ও জমির মালিক জমি থেকে পাট কাটছেননা।

সরকার আলুর আমদানি নির্ভরতা কমাতে ব্রিডার বিজ উৎপাদন করবে


আমদানী নির্ভরতা হ্রাসে টিস্যু কালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে আলুর ব্রিডার বীজ উৎপাদন করতে প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার সারা দেশের ২৯টি জেলার ৮৭টি উপজেলায় ৬৮ হাজার ৮৫৫ মে. টন ব্রীডার ও ফাউন্ডেশন সীড এবং টিএলএস বীজ উৎপাদন, ক্রয় ও সংরক্ষণ করবে। একই সঙ্গে ৫৬ হাজার ৫৩৯.২৯ মে. টন ব্রীডার ও ফাউন্ডেশন সীড এবং টিএলএস বীজ বিতরণ করা হবে।

এতে করে প্রকল্প এলাকায় ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও ভুমিহীন চাষীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। ‌‌‌’কন্দাল’ নামে এই ফসল উৎপাদন ও বিতারনের সঙ্গে সরাসরি চাষীদেরও সম্পৃক্ত করা হবে। এছাড়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে উচ্চ ফলনশীল ও রোগবালাই প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন এবং লবণাক্ত ও খরাসহিষ্ণু বিশেষ ধরণের জাত উদ্ভাবনের লক্ষ্যে স্থানীয় এবং বিদেশী জার্মপ্লাজম সংগ্রহ করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশে বলা হয়, দানা জাতীয় ফসলের তুলনায় কন্দাল ফসল অধিক লাভজনক। এদেশের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠির খাদ্যের যোগান হিসেবে আলু, মিষ্টি আলু ও কচু ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। কৃষিভিত্তিক শিল্প উৎপাদনের কাচামাল হিসেবে এবং রপ্তানির মাধ্যমে বৈদাশিক মুদ্রা অর্জনেও বিশেষ ভুমিকা রয়েছে। কাজেই কন্দাল ফসলের বীজের মান উন্নয়নকল্পে গবেষণা, উৎপাদন, বিতারণ ও সম্প্রসারণে কন্দাল ফসল উন্নয়ণ নামে এই প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে সরকার।

এই প্রকল্পটি কৃষি মন্ত্রণালযের আওতাধীন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ণ করর্পোরেশন (বিএডিসি), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) বাস্তবায়ন করবে। ৪২১ কোটি ৪২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ব্যয় সম্বলিত প্রকল্পটি চলতি অর্থ বছরের জুলাই থেকে শুরু করে ২০১৩ সালের জুন মাসে শেষ করতে কমিশন থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রকল্পে সরকারের অভ্যন্তরীণ উৎস (জিওবি) থেকে ব্যয় হবে ২৬৮ কোটি ৮১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা এবং বিএডিসি থেকে ১৫২ কোটি ৬০ লাখ ৯৬ হাজার টাকা।

কমিশনের প্রস্তাবনায় বলা হয়, কন্দাল ফসল হিসেবে আলু, মিষ্টি আলু ও মুখীকচু, কাসাভা ইত্যাদিকে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। ধান ও গমের তুলনায় আলু অধিক লাভজনক ফসল এবং জাতীয় অর্থনীতিতে এর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। প্রতি বছর সবজি হিসেবে বাংলাদেশের মানুষ মাতাপিছু ৪০ কেজি আলু খেয়ে থাকে।

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতি হেক্টরে আলুর জাতীয় ফলন হচ্ছে ১৫ মে. টন। যা বিশ্বের উন্নত দেশ এমনকি উন্নয়নশীল দেশের তুলনায়ও অনেক কম। আলুর জাতীয় ফলন ও খামারের ফলনের পার্থক্য অপেক্ষাকৃত বেশি বিধায় উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে তা কমিয়ে আনা সম্ভব। আলু ফসলের উন্নয়ণের লক্ষ্যে ৬০ দশকে বিএডিসি কর্তৃক বীজ আলু আমদানীর কার্যক্রম গ্রহণ করে।

বর্তমানে দেশে বীজ আলুর চাহিদা রয়েছে প্রায ৭.৫ লক্ষ মে. টন। মানসম্পন্ন বীজের অভাব ও উচ্চ মূল্যের কারণে প্রায় ৯০ শতাংশের অধিক কৃষক তাদের নিজেস্ব সংরক্ষিত নিম্ম মানের বীজ ব্যবহার করে। আলু বীজের মান উন্নয়নকল্পে অংশগ্রহণমূলক গবেষণা, উৎপাদন, বিতারন ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এই প্রকল্পটি গ্রহণ করা হযেছে।


চিতলমারীতে করলার কেজি ১ টাকা বিক্রি না করে নদীতে নিক্ষেপ


চলতি মৌসুমে চিতলমারী উপজেলার কৃষকেরা সবজি উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করলেও দাম পাচ্ছেন না। প্রতিমণ করলার দাম ৪০ টাকা। বুধবার হাটের দিনে বিক্রি না করে অভিমানী অর্ধশত কৃষক প্রায় ২০০ মণ করলা স্থানীয় মরা চিত্রা নদীতে ফেলে দিয়েছেন। চিতলমারী কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৮০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রকার সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে করলা ৭৫ হেক্টর, শশা ৬০ হেক্টর, চাল কুমড়া ৩০ হেক্টর, বেগুন ২০ হেক্টর, লাউ ১৫ হেক্টর, মিষ্টি কুমড়া ১০ হেক্টর, চিচিংগা ১০ হেক্টর ও অন্যান্য সবজি ৬০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এলাকার কৃষকেরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সক্ষম হয়েছেন।

বৈরী আবহাওয়া, অনাবৃষ্টি ও লোনা পানির কারণে হেক্টর প্রতি উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। গত বছর এ সময় হেক্টর প্রতি উৎপাদন হয়েছিল সাড়ে আট মেট্রিক টন (মে.ট.)। এ বছর হেক্টর প্রতি উৎপাদন হয়েছে সাড়ে সাত মে. ট.। তারপরও দাম নেই। বুধবার চিতলমারী হাটের দিনে প্রতি মণ করলা বিক্রি হয়েছে মাত্র ৪০ টাকায়।

উপজেলার কাটাখালী গ্রামের অভিমানী কৃষক হরিপদ মন্ডল ২০ মণ, একই গ্রামের সুনীল কীর্ত্তনীয়া ১২ মণ, সদাই কীর্ত্তনীয়া ১৭ মণ, আড়–য়াবর্নী গ্রামের লিয়াকত শেখ ৮ মণ, একই গ্রামের কেরামত খাঁ ৬ মণ, গরীবপুর গ্রামের বিষ্ণু কীর্ত্তনীয়া ৭ মণ, ও মণমোহন বিশ্বাস ২০ মণ করলা বিক্রি না করে মরা চিত্রা নদীতে ফেলে দিয়েছেন। ওই সমস্ত ক্ষুব্ধ কৃষক বাড়িতে গিয়ে ক্ষেতের সম্পূর্ণ করলাগাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তাঁরা পিটিবি নিউজ ডটকমকে জানান।

সরেজমিনে দেখা যায়, নৌকায় করে চিতলমারী হাটে এনে তা বিক্রি না করেই নৌকা ডুবিয়ে ধুয়ে মুছে তাঁরা বাড়ি চলে গেছেন। ব্যয়বহুল এ করলা চাষ তাঁরা আর করবেন না বলে অনেকেই মতামত ব্যক্ত করেছেন। উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের মনোরঞ্জন মন্ডল জানান, ৮ মণ করলা ৫০০ টাকায় বিক্রি করে প্রায় ৩ ঘন্টা দাড়িয়ে আছি। তারপরও ব্যপারীরা টাকা দেননি।

ঢাকার কাওরান বাজারের বিভিন্ন আড়তে সবজি সরবরাহকারী সোহেল ব্যাপারী ও কামরুল ব্যাপারী পিটিবি নিউজ ডটকমকে জানান, তাদের এক ব্যবসায়ী কাওরান বাজারে করলা বিক্রি করতে না পেরে এক আড়ৎদারের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা নিয়ে ট্রাক ফেলে পালিয়ে গেছেন। এখান থেকে ঢাকা পর্যন্ত ট্রাকের ভাড়া দিতে হয় সাড়ে নয় হাজার টাকা।

তিনি আরো জানান, করলা নিয়ে এলাকার কৃষকেরা যেমন বিপাকে পড়েছেন তেমনি আমরাও খুব বিপদের মধ্যে রয়েছি। ঝুঁকি নিয়ে এ ব্যবসা করতে হচ্ছে।

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গমের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে : কৃষিমন্ত্রী


কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চালের পর গম দেশের দ্বিতীয় প্রধান খাদ্যশস্য। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এর উৎপাদনও বৃদ্ধি করতে হবে। বুধবার রাজধানীতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের সভাকক্ষে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে গম চাষ : রবিশস্যের আবাদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা শীর্ষক এক কর্মশালায় কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি লবণাক্ততা ও খরাসহিষ্ণু উচ্চফলনশীল জাতের গমবীজ উদ্ভাবনের জন্য কৃষিবিজ্ঞানী, গবেষক ও কৃষি প্রযুক্তিবিদদের প্রতি আহবান জানান।

কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ওয়ায়েস কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মুসতাক আহমদ।

এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এসিআইএআর সাউদার্ন বাংলাদেশ প্রকল্পের কনসালটেন্ট হাওয়ার্ড এম রওশন। অন্যদের মধ্যে জাতিসংঘের কৃষি ও গবেষণা কাউন্সিলের (ফাও) বাংলাদেশ প্রতিনিধি সিরে ফিওরিলে, ঢাকায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার জাস্টিন লি ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মো. ইউসুফ মিয়া বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে গম ও পরবর্তী ফসলে উৎপাদন কলাকৌশল নামক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।

প্রতিবছর দেশের খাদ্য চাহিদা মেটানোর জন্য মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে লাখ লাখ টন গম আমদানি করতে হয় মন্তব্য করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশীয় আবহাওয়া উপযোগী উচ্চফলনশীল জাতের গম উদ্ভাবন এবং তা কৃষক পর্যায়ে চাষের জন্য জনপ্রিয় করে তোলার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণভাবে এর উত্পাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব। এতে করে গমের আমদানিনির্ভরতা কমার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমে যাবে।

মতিয়া চৌধুরী বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকেরা এখন বারি উদ্ভাবিত লবণাক্ততাসহিষ্ণু ডাল চাষ করতে পারেন। কারণ প্রতিবছর বিপুল পরিমাণে ডাল আমদানি করতে হয়। এর চাষ বাড়িয়ে উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে আমদানিনির্ভরতা কমানো সম্ভব। এ ছাড়া মন্ত্রী লবণাক্ত এলাকায় ভুট্টার চাষ বৃদ্ধির ওপরও জোর দেন।

কৃষিমন্ত্রী দেশে খাদ্যনিরাপত্তা গড়ে তুলতে অঞ্চলভিত্তিক ফসল চাষ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপরও জোর দিয়েছেন। বিশেষ করে ভূগর্ভস্থ পানি কমে যাওয়ায় ফসল চাষে ভূ-উপরিস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, সরকার এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

চিতলমারীতে জ্বালানী হিসাবে ধনচের চাষাবাদ করছে


বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে জ্বালানী সংকট দেখা দিয়েছে। এলাকার কৃষকেরা এ সংকট নিরসনকল্পে ব্যাপক ভাবে ধনচে চাষাবাদের প্রতি আগ্রহী হয়ে পড়েছে। জানাগেছে, চিতলমারী উপজেলার লোকজন জ্বালানী হিসেবে গাছের উপর নির্ভরশীল। নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে এখন জ্বালানী সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়াও এলাকার লোকজন জ্বালানী হিসেবে গবরের মুঠে ও গাছের লতাপাতা ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু পর্যাপ্ত গো-সম্পদের অভাব এবং লতা পাতার দুঃস্প্রাপ্যতার কারনে এলাকার কৃষকেরা নিজেদের প্রয়োজনের তাগিদে ব্যাপক ভাবে ধনচে চাষাবাদ শুরু করেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর হতে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চিতলমারী উপজেলায় ২০ হেক্টর জমিতে ধুনচে গাছের চাষাবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ১০ হেক্টর জমির ধুনচে গাছ কমপোস্ট সার হিসেবে কৃষকেরা মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে এবং বাকী ১০ হেক্টর জমিতে প্রায় ১ শ মেট্রিক টন জ্বালানী উৎপাদিত হবে বলে জানাগেছে।

অপরদিকে হোটেল রেস্টুরেন্ট সমূহে জ্বালানী কাঠের বিকল্প হিসাবে বাগেরহাট বিসিক শিল্প এলাকার কারখানায় উৎপাদিত তুষ কাঠ ব্যবহার করছে।

তামাক চাষের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে-বীর বাহাদুর


চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান বীর বাহাদুর এমপি বলেছেন, তামাক চাষ, তামাক পাতা চুল্লীতে প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং তামাক সেবন পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতি’র জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কিন্তু কৃষকরা তামাক কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে সার, বীজ, কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রাপ্তি এবং তামাক পাতা প্রক্রিয়াজাতকরণ এর পর তামাক কোম্পানিগুলোর কাছে বিক্রির নিশ্চয়তার কারণে দরিদ্র কৃষকরা ক্ষতিকর তামাক চাষে ধাবিত হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের প্রতিনিধিদল প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে এর ক্ষতি সম্পর্কে কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের সচেতন করতে হবে। পাশাপাশি কৃষকদের হলুদ, আদা, রসুন এর লাভজনক বিকল্প চাষে সহযোগিতা, উৎসাহ প্রদান করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য এলাকায় নদীর ঢালে তামাক চাষ করার কারণে ক্ষতিকর তামাকের রাসায়নিক ও তামাক চাষে প্রদান করা বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য নদীর পানিতে মেশার ফলে নদীর পানিও দূষিত হয়ে পড়ছে। যে কারণে নদীতে মাছ ও জলজ প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

এ নদীর পানি ব্যবহার করার ফলে পার্বত্য এলাকার মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এ কারণে রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি-এ তিন জেলাকে কেন্দ্র করে গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড নদীর ঢালে তামাক চাষ নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে এবং এজন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট এর প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন র‌্যাক এর নির্বাহী পরিচালক একেএম শহিদুল ইসলাম, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট এর প্রকল্প সমন্বয়কারী আমিনুল ইসলাম সুজন ও ন্যাশনাল এডভোকেসি অফিসার সৈয়দা অনন্যা রহমান, জাতীয় যক্ষা নিরোধ সমিতি (নাটাব) এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক একেএম খলিল উল্লাহ, মানবিক এর প্রকল্প কর্মকর্তা মাসুদ রানা, উবিনীগ এর সহযোগী গবেষক মাহমুদা খাতুন শিউলি প্রমুখ।

আমিনুল ইসলাম বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ও লাভের লোভ দেখিয়ে কৌশলে কৃষকদের তামাক চাষে ধাবিত করছে। তামাক চাষের ফলে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এর কি কি ক্ষতি হয়-তামাক কোম্পানিগুলো তামাক চাষের কোনো ক্ষতিই কৃষকদের অবহিত করে না।

একেএম শহিদুল ইসলাম বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের ১২ নং ধারায় তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ করার কথা বলা হলেও বিগত ৫ বছরে এ ধারায় কোনো কাজ হয়নি। তাই তামাক চাষ বেড়ে গেছে।

সৈয়দা অনন্যা রহমান বলেন, গত ৫ বছরে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের অনেক দুর্বলতা চিহ্নিত হয়েছে। এখন এ আইনের দুর্বলতা দূর করা দরকার। খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে খাদ্যের জমিতে তামাক চাষ নিষিদ্ধ করা দরকার।

শেষে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট এর প্রতিনিধিদল বীর বাহাদুর এমপির হাতে একটি স্মারকপত্র ও তামাক বিরোধী প্রকাশনা তুলে দেন।

সারের জন্য কৃষককে আর জীবন দিতে হবে না : শিল্পমন্ত্রী


অতীতের মতো সারের পেছনে কৃষককে ছুটতে হবে না বা সারের জন্য জীবন দিতে হবে না। চলতি বছরের জন্য সারের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ লাখ ৩১ হাজার মেট্রিক টন। চাহিদা পূরণের জন্য দেশে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশে থেকেও বেশি পরিমাণ সার আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার শিল্প মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে গত দেড় বছরে নিজের মন্ত্রণালয়ের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে এক সংবাদ সম্মেলনে শিল্পমন্ত্রী দীলিপ বড়ুয়া এ কথা বলেন। নর্থ-ওয়েস্ট এবং ভোলার শাহবাজপুর ফার্টিলাইজার প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে মন্তব্য করে দীলিপ বড়ুয়া বলেন, গ্যাস সরবরাহের কারণে কারখানা বন্ধ থাকলেও আসন্ন ইরি-বোরো মৌসুমে সারের কোনো সঙ্কট হবে না। এ জন্য সরকারের আগাম প্রস্তুতি রয়েছে।

৪৬ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আরো তিনটি নতুন সার কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বছরে ৫ লাখ ৭৭ হাজার ৫'শ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন তিনটি নতুন গ্যাস নির্ভর সার কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ইতিমধ্যে শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।

মন্ত্রী সাংবাদিকদের কাছে ৬ সেপ্টেম্বর অনুমোদন হওয়া জাতীয় শিল্পনীতি-২০১০ সম্পর্কে বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, এ শিল্পনীতির লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি শিল্প সমৃদ্ধ মধ্য আয়ের দেশে পরিনত করা। এছাড়া বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী করাও এ শিল্পনীতির অন্যতম উদ্দেশ্য। আমরা চাই জাতীয় আয়ে শিল্পের অবদান হোক ২৮ থেকে ৪০ শতাংশ।

সিএনজি চালিত থ্রি হুইলার সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী জানান, এটলাস (বাংলাদেশ) লিমিটেড দেশেই সিএনজি চালিত থ্রি হুইলার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ব লাভজনক কোনো কারখানা সরকার বেসরকারিকরণ করবে না। অল্প দিনের মধ্যেই আরো চারটি বন্ধ পাটকল চালু করা হবে।

বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা এবং চারদলীয় জোট সরকারের অপশাসন ও দুর্নীতির মধ্যে ক্ষমতা নিয়ে বর্তমান সরকার দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে বলেও মন্তব্য করেন দীলিপ বড়ুয়া।

সিদ্ধান্ত হীনতায় ঝিনাইদহে বাঁওড় মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্পের শতকোটি টাকার সম্পদ লোপাট


মৎস্য ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের টানা হেঁচড়ায় বাঁওড় মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্প এখন বিরাণভূমি। অবকাঠামোসহ শত কোটি টাকার সম্পদের বেহাল দশা। চলতি ফিশিং মৌসুমে ৬ টি বাওড়ে না করায় লুটপাট হয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকার ৪ শ মেট্রিক টন মাছ। পথে বসেছে হাজার হাজার জেলে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ৬টি বাঁওড় বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় ‘বাঁওড় মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্প’ নামে ৩০ বছর মেয়াদে মৎস্য অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তরিত হয়।

এই প্রকল্পে ঝিনাইদহের ৫ টি ও যশোরের ১ টি বাঁওড়ে মাছ চাষ শুরু হয়। এগুলো হলো- ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার বলুহর ও জয়দিয়া বাঁওড়, মহেশপুর উপজেলার কাড়গড়া ও ফতেপুর বাঁওড়, কালীগঞ্জ উপজেলার মর্জাদ বাঁওড় ও যশোরের চৌগাছার বেড়গোবিন্দপুর বাঁওড়।

স্থানীয় জেলে সম্প্রদায় ও মৎস্যজীবিরা ৪০ শতাংশ হারে মালিকানায় বাঁওড়ের মাছ ধরার অনুমতি লাভ করে মৎস্য বিভাগের কাছ থেকে। বাঁওড় পাড়গুলোর নিবন্ধিত ১ হাজার জেলে পরিবারের প্রায় ৫ হাজার লোক জীবিকা নির্বাহ করতে থাকে। ৫ শ’ বিঘা জমির উপর এসব বাঁওড়ে গড়ে ওঠে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রেণু উৎপাদনকারী কেন্দ্রীয় মৎস্য হ্যাচারী। বিভিন্ন বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে রেণু বিক্রি ছাড়াও হ্যাচারীর রেণু সরকারি এই বাঁওড়ে দেয়া হয়।

মৎস্য বিভাগ বাঁওড় উন্নয়নের জন্য রাস্তা-ঘাট, হ্যাচারি বিল্ডিং, ব্রীজ, কালভার্ট ও পুকুর কাটে প্রায় ৫০ কোট টাকার। শতাধিক কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ করা হয় এ সব বাঁওড়ে। প্রতি বছর এসব বাঁওড় থেকে প্রায় ৫ শ’ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ সুলভে বাঁওড়ের রাণী (প্রাকৃতিক বিভিন্ন জাত) মাছসহ সু-স্বাদু মাছ পায়। এছাড়া দেশের মাছের চাহিদা পূরণে বড় ভূমিকা রাখে এসব পুরাতন বাঁওড়।

তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মৎস্য অধিদপ্তরের ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তি শেষ হয়ে যায়। ফলে জেলা প্রশাসক এক আদেশে বাঁওড়গুলি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকবে উল্লেখ করে মৎস্য বিভাগকে চিঠি দেয় এবং বাঁওড়ের মাছ ধরা ও ফিশিং কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। বাঁওড়গুলি তদারকি ও ব্যবস্থাপনার ক্ষমতা হারায় কর্তৃপক্ষ। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এসব বাঁওড়ে ফিসিং মৌসুমে মৎস্য আহরণ করা হয়নি। চলতি বছর এ সব বাঁওড়ে ৩ দফা ফিশিং না হওয়ায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ৪ শ’ মেট্রিক টন মাছ চোর চক্র ও প্রভাবশালী মহল লুটপাট করে নেয়।

ভূমি মন্ত্রণালয় গত মাসে বাঁওড়গুলি ওপেন লিজ দিতে টেণ্ডার আহবান করলেও দুটি মন্ত্রণালয়ের টানা হেচড়ায় তা বন্ধ রয়েছে। হঠাৎ করেই অভিভাবকহীন হয়ে পড়ছে বাঁওড় ও হ্যাচারী। জেলে পরিবারগুলো মাছ ধরার অনুমতি ও ‘জাল যার জলা তার’ সংক্রান্ত নীতির দাবি করলেও বিষয় গুলি থাকছে উপেক্ষিত। শত শত জেলে পরিবার হয়ে পড়েছে অসহায়।

মৎস্যজীবি যমুনা হালদার জানায়, ছেলে মেয়ে নিয়ে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। অপরদিকে প্রভাবশালীরা সব মাছ লুটপাট করছে।

কোটচাঁদপুর বলুহর বাঁওড় সহকারী ম্যানেজার সেলিম চৌধুরী জানান, ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তি শেষ হওয়ায় বাঁওড়গুলি এখন ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলে গেছে। বাঁওড়ের সব ধরণের ফিশিং কার্যক্রম বন্ধ বলে তিনি জানান।

ফতেপুর বাঁওড় ম্যানেজার আজগর আলী পিটিবি নিউজ ডটকমকে জানান, গত বছর ১৫ মেট্রিক টন মাছ আহরণ করলেও এবার ৩ মেট্রিক টন মাছ আহরণের পর সব কিছু স্থগিত হয়েছে।

কোটচাঁদপুর কেন্দ্রীয় মৎস্য হ্যাচারী কমপ্লেক্সের হ্যাচারী অফিসার তালেবুল ইসলাম পিটিবি নিউজ ডটকমকে বলেন, দুই মন্ত্রণালয়ের টানা হেচড়ায় কারণে মাছের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সেই সঙ্গে অবকাঠামোগত সম্পদগুলোও বেহাল দশায় রয়েছে।

ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক রমা রাণী রায় পিটিবি নিউজ ডটকমকে জানান, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বাঁওড়গুলো এখন ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে। বর্তমানে মৎস্য ও ভূমি এই দুই মন্ত্রণালয়ের বৈঠক ও কমিটি গঠিত হয়েছে।

বাঁওড় মৎস্য চাষ উন্নয়ন প্রকল্পের মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল খালেক পিটিবি নিউজ ডটকমকে বলেন, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে মৎস্য অধিদপ্তর সরকারের কাছে ৫০ বছরের জন্য আবারও আবেদন করেছে।

এচাড়া মৎস্য ও ভূমি আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা সরেজমিন তদন্ত ও পরির্দশন করার পরে প্রতিবেদন দিলে বিষয়টির সমাধান হবে। তিনি জানান, বর্তমানে বাঁওড়গুলির সবধরণের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কোটি কোটি মৎস্য আহরণ করা সম্ভব হয়নি।


কুষ্টিয়া জোনে তুলার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা


চলতি মওসুমে কুষ্টিয়া জোনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও তুলার বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছে তুলা উন্নয়ন বোর্ড। নানা সমস্যা কাটিয়ে তুলাচাষিরা এ বছর উন্নত হাইব্রিড জাতের তুলাচাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হবে বলে আশা করছে তারা। কুষ্টিয়া জোনে এ মওসুমে ৮ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে তুলা চষের কথা থাকলেও আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৪৭২ হেক্টর জমিতে, উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড জাতের আবাদ হয়েছে ৩৮৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলাতে ৮১৫ হেক্টর, মেহেরপুর জেলায় ৮৪৯ হেক্টর ও কুষ্টিয়া জেলায় ৭০২ হেক্টর।

তুলাচাষিদের মধ্যে বিভাগীয় ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ১৫ লাখ টাকা, বিকেবি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ১০ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি ১৫ লাখ টাকার ওষুধ দিয়েছে। এবার ১৯ হাজার ১শ মেট্রিকটন তুলা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো। অর্জিত হবে ৬ হাজার মেট্রিকটন, যা আঁশ তুলা ১০ হাজার বেল, যার বর্তমান বাজার মূল্য ৩০ কোটি টাকা।

তুলা অফিস সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া জোন অঞ্চলের মাটি তুলাচাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে, উন্নত জাতের তুলাবীজ না পাওয়া ও তুলার সঠিক মূল্য না পাওয়ায় এ অঞ্চলের তুলাচাষিরা তুলাচাষ বাদ দিয়ে অন্যান্য চাষে ঝুঁকে পড়েছেন।

আশির দশকে এ অঞ্চলে ব্যাপক তুলাচাষ হতো। বর্তমান বাজারে অন্য কৃষি ফসলের দামের তুলনায় তুলার দাম অনেক কম। ব্যাপক সম্ভবনাময় তুলার চাষ হওয়া সত্বেও চাষিরা তুলার আবাদ বাদ দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে সরকার সঠিক দাম নির্ধারণ করে দিলে এ অঞ্চলের মানুষ আবার তুলাচাষে ঝুঁকে পড়বে।

দামুড়হুদা উপজেলার দেউলী গ্রামের তুলাচাষি নুরুল হক মোল্লা পিটিবি নিউজ ডটকমকে জানান, বর্তমান আধুনিক প্রযুক্তির যুগে কৃষিপণ্যের অনেক জাত কৃষিবিজ্ঞানীরা উদ্ভাবন করছেন। কিন্তু তুলার কোনো উন্নত জাত আজও বের হয়নি, লাগেনি কোনো আধুনিকতার ছোঁয়া। আশির দশকে সিবি-৯ জাতের ছাড়া অন্য কোনো জাত উদ্ভাবন হয়নি।

নুরুল হক আরো বলেন, একই জমিতে একই জাত বারবার আবাদ করলে ভালো ফলন হয় না। এছাড়া অন্য ফসলের তুলনায় তুলার দাম কম। এ বছর দু বিঘা জমিতে হাইব্রিড জাতের চায়না রূপালি-১ জাতের তুলা আবাদ করেছি যার গাছ ও গাছের গোড়ার গ্রোথ ফুল ও ফল খুব ভালো হয়েছে। বিঘা প্রতি ১৫/১৬ মন তুলা পাওয়া যাবে। যার খরচ বাদ দিয়ে ৪৫-৫০ হাজার টাকা লাভ হবে।

নুরুল হক মোল্লা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, এতো কষ্ট করে তুলার আবাদ করছি আজও পর্যন্ত কোনো তুলা উন্নয়ন অফিসার তুলাক্ষেত দেখতে আসেননি। তবে ইউনিট অফিসার মাঝে মধ্যে তুলা ক্ষেত পরিদর্শন করেন। চুয়াডাঙ্গা জোন অফিস থাকাকালে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বারবার তুলাক্ষেত পরিদর্শনে চাষিদের সুযোগ-সুবিধা ও সহযোগিতা করতেন।

তুলা উন্নয়ন বোর্ডের যশোর অঞ্চলের উপপরিচালক আক্তারুজ্জামান পিটিবি নিউজ ডটকমকে বলেন, চলতি বছর তুলাচাষের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা দেয়া হয়েছে। দেশি জাতের পাশাপাশি উন্নত হাইব্রিড জাতের তুলার বীজ সরবরাহ দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে রূপালি-১ জাতের তুলা খুবই ভালো ও উন্নতমানের। দেশি জাতের তুলার আগেই রূপালি-১ জাতের তুলা ফুটে যায়। এছাড়া কীটনাশক কম লাগে।

উপপরিচালক আরো বলেন, বর্তমানে তুলার দাম ভালো। তুলার মান উন্নত হলে বিক্রির নিশ্চয়তা আছে। তুলাচাষ বাড়াতে হলে তুলা উন্নয়ন বোর্ড বিটিএমসি এবং তুলাচাষিদের সমন্বয়ে যৌথ পরিকল্পনা গ্রহণ করলে দেশের চাহিদার ৫০ ভাগ তুলা উৎপাদন সম্ভব হবে। তিনি দেশের স্বার্থে কৃষকদের তুলাচাষ বাড়ানোর আহবান জানান।

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় সার সংকট, হতাশ মাছ চাষীরা


সাতক্ষীরার কলারোয়ার মৎস্য চাষীরা রাসায়নিক সারের তীব্র সংকটের কারনে চরম বিপাকে পড়েছেন। ফলে চলতি মৌসুমে মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশংঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিগত চার মাসে প্রয়োজনীয় পঁচিশ মেট্রিক টন রাসায়নিক সারের বিপরীতে বরাদ্দ মেলেনি এক কেজিও। উৎপাদন ব্যহত হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছে এলাকার মাছ চাষীরা। মাছ চাষিরা জানান, তারা মৎস্য ঘেরে তাদের বিনিয়োগ করা অর্থ ঘরে তুলতে পারবেন কিনা তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কয়েকটি মৎস্য ঘেরে কর্মরত মাছ চাষিরা বলেন, সার সংগ্রহের জন্য তারা উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরে গেলে কৃষি কর্মকর্তা সাফ জানিয়ে দেন কৃষি বিভাগের জন্য বরাদ্দকৃত সার মৎস্য ঘেরে ব্যবহারের জন্য নয়।

উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, কলারোয়ায় বেসরকারী পুকুরের সংখ্যা সাত হাজার আটশ। যার আয়তন ৯শ ৪৭ দশমিক ৩৬ হেক্টর। এখানে চলতি মৌসুমে মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে দুই হাজার মে. টন। বেসরকারী মৎস্য খামার (বাণিজ্যিক) রয়েছে ৫০ হেক্টর আয়তন বিশিষ্ট ৩০টি। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা একশ ৫০ মেট্রিক টন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড নিয়ন্ত্রিত জলাশয়ের সংখ্যা ৮ টি। এক দশমিক ৭৭ হেক্টর আয়তন বিশিষ্ট এই জলাশয়ের মৎস্য উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পাঁচ দশমিক ৫০ মে: টন।

ধান ক্ষেতে সমন্বিত চিংড়ী সহ অন্যান্য মাছ চাষ হচ্ছে একশ হেক্টরে ৬০ টি ব্লকে বিভক্ত করে। সেখান থেকে ৩০ মে. টন মাছ উৎপাদনের আশা করছেন সংশ্লিষ্ট মৎস্য চাষীরা। দুই হাজার আটশ ১৪ টি মৎস্য ঘেরে গলদা সহ মিশ্র মৎস্য চাষে দুই হাজার একশ ৫১ হেক্টরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৯শ মে. টন।

উপজেলার সাতটি প্রাকৃতিক জলাশয়ে (খাল) ১৫০ হেক্টরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৪০ মে. টন। এ ছাড়া কলারোয়ায় ৬৫ দশমিক ৪২ হেক্টর আয়তন বিশিষ্ট তিনটি বাওড়ে এবার উৎপাদন লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ৪১ মে. টন। ছয়শ ৩০ হেক্টর আয়তন বিশিষ্ট আটটি প্লাবন ভূমিতে (বিল) উৎপাদন হতে পারে ৭০ মে. টন এমনটিই ধারণা সংশ্লিষ্ট মহলের।

উপজেলায় রয়েছে ১০টি বেসরকারী মৎস্য খামার (হ্যাচারী)। পাঁচ হেক্টর আয়তন বিশিষ্ট এই খামার গুলো হতে চার মে. টন মৎস্য পোনা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন পিটিবি নিউজ ডটকমকে জানান, প্রতি হেক্টর জলাশয়ে প্রতি মাসে মৎস্য চাষে প্রয়োজন দুই বস্তা (একশকেজি) ইউরিয়া, এক বস্তা (৫০ কেজি) পটাশ ও ফসফেট এক বস্তা (৫০ কেজি)।

সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা নির্মল কুমার ঘোষ পিটিবি নিউজ ডটকমকে বলেন, চলতি মৌসুমে কলরোয়া মৎস্য অধিদপ্তরের চাহিদাপত্রে গত চার মাসে ২৫ মেট্রিক টন রাসায়নিক সারের বিপরীতে এক কেজি সারও বরাদ্দ মেলেনি। প্রায় আড়াই লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত কলারোয়ার এই বিপুল জনসংখ্যার পুষ্টি চাহিদা মেটাতে কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশংঙ্কা প্রকাশ করলেন এই মৎস্য কর্মকর্তা।

কলমি

Tuesday, September 21, 2010


কলমি শাক (Ipomoea aquatica বা water spinach) এক প্রকারের অর্ধ জলজ উষ্ণমণ্ডলীয় লতা। এর পাতা আমরা শাক হিসেবে গ্রহণ করি। এই লতার আদিনিবাস সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায় না। তবে সারাবিশ্বের নিরক্ষীয় ও উপনিরক্ষীয় অঞ্চলে এটির ব্যাপক চাষ হয়। কলমি লতা স্বল্প পানিতে যেমন জন্মে, তেমনি আর্দ্র মাটিতেও এর ফলন ভালো হয়। এর ডাঁটা ২ থেকে ৩ মিটার লম্বা হয়। তবে শাকের পাতা অনেকটাই লম্বাটে ও ত্রিকোণাকার হয়ে থাকে। গাছ ৫-১৫ সে.মি. দীর্ঘ এবং ২-৮ সে.মি. চওড়া হয়। ফুল হয় অনেকটা কলসি আকারের এবং তা ৩-৫ সে.মি. ব্যাসের। ফুলের বর্ণ হয় সাদা। মালয়ী ও চীনা খাবারে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। বাংলাদেশেও এটি শাক হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়।

প্যারোট ফুল


বিস্ময়কর এক জাতীয় ফুল দেখতে পাওয়া যায় থাইল্যান্ডে যার নাম Parrot ফুল। ফুলটি দেখতে হুবুহু Parrot পাখির মতো। বিরল প্রজাতির ফুলের গাছটির পরিচর্যা খুবই কঠিন। এটি বার্মা, ইষ্ট ইন্ডিয়া ও থাইল্যান্ডে ছাড়া অন্য কোথাও দেখা যায়না। তাছাড়া আবহাওয়া বা পরিবেশগত কারনে বিশ্বের অন্য কোথাও ফুল গাছটির ফলন হয় না। থাইল্যান্ডের The Royal Botanical Gardem Kew -তে ফুলটির দেখা পাওয়া যায়। আসুন নিচের চিত্র থেকে দেখে নেয়া যাক Porrot ফুল।
গাছটি লম্বায় 6 feet (1.8) meters মত হয় আর পাতার সাইজ 6 cm। ফুল ফোটে অক্টবর-নভেম্বরের দিকে যা প্রায় 2 inches (5cm) আকারের। এর বৈজ্ঞানিক নাম Impatiens pasittacina এটি parrot balsam বা flying cockatoo বা Flower Bird Parrot নামে পরিচিত আর Thai ভাষায় বলে Dork Nok Khaew।

কৃষকের জন্য ক্ষতিকর কোনো কাজ করবে না সরকার

Monday, September 20, 2010


বিদেশী প্রকল্প পাওয়ার লোভে, চলমান কোন কৃষি প্রকল্প বাতিল না করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। এছাড়া সরকার এমন কিছু করবে না যা কৃষি ও কৃষকের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে বলেও জানান তিনি।

বুধবার সকালে, রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে গম চাষ সম্প্রসারণ বিষয়ক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।



কৃষিমন্ত্রী সময় দেশী-বিদেশী এনজিও ও দাতা সংস্থার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আমাদের দেশের কৃষক গরীব। তাদের সামর্থ নেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য জমি ব্যবহার করার। তাই নতুন নতুন জাতের খাদ্যশষ্যের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গিয়ে কৃষক সর্বশান্ত হয়, এমন প্রকল্প হাতে নিবেন না।



খাদ্য নিরাপত্তা বর্তমান সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ এ কথা উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, শুধু গবেষণা নয় বাস্তবে কৃষকের জন্য লাভজনক হলে দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলে গম চাষের পদক্ষেপ নেয়া হবে।



মন্ত্রী বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা জন্য ধানের পাশাপাশি গম চাষের ওপর জোর দিতে দাতা সংস্থাগুলো বিভিন্ন সময়ে পরামর্শ দিয়ে আসছে। তারই আলোকে ২০০৪ সালে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কিছু জেলায় প্রথমবারের মতো গম আবাদ করা হয় বলে জানান তিনি।



সভায় গম গবেষণা প্রকল্পের অস্ট্রেলিয়ান গবেষক ড. হাওয়াড এম রাওসন দাবি করেন, প্রাথমিক অবস্থায় এর সুফল পাওয়া না গেলেও ২০০৬-২০১০ সালের আরেকটি গবেষণা প্রকল্পে এর সাফল্য এসেছে।



তবে মতিয়া চৌধুরী এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, গম উৎপাদনে তাপমাত্রা ও লবণাক্ততা এখনও বড় বাধা। তাই দেশের কৃষি ও কৃষকের স্বার্থ ছাড়া বিদেশি পরামর্শে বা কিছু পাওয়ার লোভে কোনো প্রকল্প হাতে নেয়া হবে না।



শীতকালে পানি সরবরাহের বিষয়টি সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধানের ওপর চাপ কমাতে সরকার অঞ্চল অনুযায়ী ভূট্টা, বার্লিসহ নানা প্রকারের শষ্য আবাদের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।



দেশের দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা সহিষ্ণু উচ্চ ফলনশীল ধান উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান কৃষিমন্ত্রী।



কর্মশালায় দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অনাবাদি জমিতে, ধান চাষের পর রবি মৌসুমে গম চাষের মাধ্যমে কৃষকদের জীবন মানের উন্নয়নের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কৃষি সচিব সি কিউ কে মুসতাক, কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নিবার্হী চেয়ারম্যান ডক্টর ওয়ায়েস কবীর, অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনার জাস্টিন লি এবং ফুড এন্ড এগ্রিকালচার,ফাও-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি সিরে ফিওরিলো।


গাজানিয়া

Friday, September 17, 2010


গাজানিয়া গাছের উচ্চতা ১৫ থেকে ২৫ সেন্টিমিটারের মধ্যে, তবে গাছের একটু লতানো স্বভাব আছে। পাতা সরু, লম্বা ও নিচের পাশ রুপালি সূক্ষ্ম পশমে আবৃত। ফুল বেশ বড়, দেখতে কিছুটা জারবেরা ও ডেইজির মতো। ফুলের মাঝের চাকতি থেকে পাপড়ির মধ্যখান বরাবর গাঢ় খয়েরি রঙের রশ্মির মতো লম্বা রেখা গাজানিয়াকে বেশি মোহনীয় করে তুলেছে। তবে দাগ ছাড়া একরঙা পাপড়ির জাতও গাজানিয়ার আছে। ফুলের রঙ সাধারণত হলুদ থেকে কমলা, তবে ঘিয়া, লাল, সাদা ও বাদামি রঙের ফুলও আছে। হাইব্রিড জাতগুলোর ফুলের পাপড়িতে লাল, কমলা, সাদা ইত্যাদি রঙের শেড থাকে। ফুল একটা ডাঁটার মাথায় ফোটে, ফোটার পর অনেকক্ষণ তাজা থাকে, বিকেলে শুকিয়ে যায়। বীজ সরাসরি বুনে গাছ তৈরি করা যায়, তবে কাটিং করেও নতুন চারা পাওয়া যায়। গাজানিয়া লাগাতে হবে রোদেলা জায়গায় এবং যেখানে পানি জমে না। গাজানিয়ার উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Gazania splendens এবং পরিবার কম্পোজিটি। ফুলটি এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে।

স্টেভিয়া

Thursday, September 16, 2010


স্টেভিয়া একটি গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদের নাম যেটা ন্যাচারাল সুইটেনার হিসাবে পরিচিত। নামটি এসেছে স্প্যানিশ উদ্ভিদবিদ “পেদ্রো জাইমি এস্টেভ” এর নাম থেকে, যিনি প্রথম এই স্টেভিয়া উদ্ভিদটি নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। এই গাছের পাতায় আছে এক ধরণের মিষ্টি গ্লাইকোসাইডস যেটা খাবার চিনি ‘সুক্রোস’ থেকে ৩০ থেকে ৪৫ গুণ বেশি মিষ্টি এবং ক্যালরির পরিমাণ শুন্য। অর্থাৎ যেখানে আমরা ১গ্রাম সুক্রোস থেকে পেয়ে থাকি ৪ ক্যালরি, সেখানে স্টেভিয়া থেকে প্রাপ্ত ক্যালরি হবে শুন্য। এটাতে ক্যালরি শুন্য তার কারণ হল এটি সুক্রোসের মত স্টোমাকে ডাইজেস্ট হতে পারে না। এদের গ্লাইকোসাইডটির নাম স্টেভিওসাইডস এবং রিবাউডিওসাইড, এটি অন্যান্য কৃত্রিম সুইটেনার যেমন সাইক্ল্যামেট, স্যকারিন থেকে আলাদা যেগুলো কিনা সম্ভাব্য ক্যান্সার সৃষ্টিকারক। এখন এই স্টেভিয়া বিভিন্ন স্বল্প ক্যালরি ফুড আইটেম এ ব্যাবহৃত হোয়ে আসছে। বিভিন্ন গ্রোসারি স্টোরে ও এটি পাওয়া যায় স্টেভিয়া/পিওরভিয়া বা অন্য কোন নামে।

স্টেভিয়া সাধারণতঃ ট্রপিকাল এবং সাবট্রপিকাল অঞ্চলের, এটি সূর্যমুখি পরিবার ভুক্ত, স্টেভিয়া জেনাসের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ। এটি সাধারণতঃ উত্তর আমেরিকা থেকে দক্ষিন আমেরিকায় জন্মায়। এই হল স্টেভিয়া প্লান্ট এর পরিচিতি অতি সংক্ষিপ্ত আকারে।

মসুর

Tuesday, September 14, 2010


পুষ্টি মূল্য:
মসুর ডালে প্রচুর পরিমানে খাদ্য শক্তি ও প্রোটিন আছে।
ব্যবহার:
ডাল হিসেবে প্রধানত খাওয়া হয়। এ ছাড়াও পিয়াজু বা বিভিন্ন মুখরোচক খাবারে ব্যবহৃত হয়।
উপযুক্ত জমি ও মাটি:
সুনিষ্কাশিত বেলে দো-আঁশ মাটি মসুর চাষের জন্য উপযোগী।
জাত পরিচিতি:
বারি মসুর-১:
গাছের আকৃতি মধ্যম এবং উপরিভাগের ডগা বেশ সতেজ। গাছের পতা গাঢ় সবুজ। কান্ড হালকা সবুজ। ফুলের রং সাদা। বারি মসুর-১ জাতটির বীজের আকার স'ানীয় জাতসমূহের চেয়ে একটু বড়। হাজার বীজের ওজন ১৫-১৬ গ্রাম। ডাল রান্না হওয়ার সময়কাল ১০-১২ মিনিট। আমিষের পরিমাণ ২৬-২৮%। এ জাতের জীবনকাল ১০৫-১১০ দিন। হেক্টরপ্রতি ফলন ১.৭-১.৮ টন।
বারি মসুর-২:
গাছের আকার মধ্যম। গাছের উপরিভাগ সামান্য লতানো হয়। পাতায় সরু আকর্ষী থাকে। গাছের পাতা গাঢ় সবুজ। কান্ড হালকা সবুজ ও ফুল সাদা। হাজার বীজের ওজন ১২-১৩ গ্রাম। ডাল রান্না হওয়ার সময়কাল ১৪-১৬ মিনিট। আমিষের পরিমাণ ২৭-২৯%। জাতটির জীবনকাল ১০৫-১১০ দিন। হেক্টরপ্রতি ফলন ১.৫-১.৭ টন।
বারি মসুর-৩:
বারি মসুর-৩ জাতটি একটি সংকর জাত। পাতার রং সবুজ। বীজের রং ধূসর এবং বীজে ছোট ছোট কালচে দাগ আছে। বীজের আকার স'ানীয় জাত অপেক্ষা বড়। হাজার বীজের গড় ওজন ২২-২৫ গ্রাম। ডাল রান্না হওয়ার সময়কাল ১০-১২ মিনিট। আমিষের পরিমাণ ২৪-২৬%। জাতটির জীবনকাল ১০০-১০৫ দিন। ফলন হেক্টরপ্রতি ১.৫-১.৭ টন।
বারি মসুর-৪:
গাছের রং হালকা সবুজ। পত্রফলক আকারে বড় এবং পাতার শীর্ষে আকর্ষী আছে। ফুলের রং বেগুনি। বীজের আকার স'ানীয় জাত হতে বড় ও চেপ্টা ধরনের। বীজের রং লালচে বাদামি। হাজার বীজের ওজন ১৮-২০ গ্রাম। এ জাতটি মরিচা ও স্টেমফাইলিয়াম ব্লাইট রোগ প্রতিরোধী। ডাল রান্না হওয়ার সময়কাল ১১-১৩ মিনিট। আমিষের পরিমাণ ২৪-২৬%। জাতটির জীবনকাল ১১০-১১৫ দিন। ফলন হেক্টরপ্রতি ১.৬-১.৭ টন।
বীজ বপন:
ছিটিয়ে অথবা সারি করে বীজ বপন করা যায়। সারিতে বপনের ক্ষেত্রে সারি থেকে সারির দূরত্ব ৩০ সে.মি রাখতে হবে। বীজের হার ৩০-৩৫ কেজি/হেক্টর। ছিটিয়ে বপনের ক্ষেত্রে বীজের পরিমাণ সামান্য বেশি দিতে হবে। তবে বারি মসুর-৩ এর বেলায় হেক্টরপ্রতি ৩৫-৪০ কেজি বীজ ব্যবহার করতে হবে।
কার্তিক মাসের দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় সপ্তাহ (অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ) পর্যন- মসুর বীজ বপন করা যায়।
সার ব্যবস্থাপনা:
জমিতে শেষ চাষের সময় হেক্টরপ্রতি নিম্নরূপ সার ব্যবহার করতে হবে।
সারের নাম সারের পরিমাণ কেজি/হেক্টর
ইউরিয়া ৪০-৫০
টিএসপি ৮০-৯০
এমওপি ৩০-৪০
অণুজীব সার সুপারিশ মত
সমুদয় সার শেষ চাষের সময় প্রয়োগ করতে হবে। যে জমিতে আগে মসুর চাষ করা হয় নাই সেখানে প্রতি কেজি বীজের জন্য ৯০ গ্রাম হারে অনুমোদিত অণুজীব সার প্রয়োগ করা যেতে পারে। ইনোকুলাম ব্যবহার করলে সাধারণতঃ ইউরিয়া সার ব্যবহার করতে হয় না।
সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনা:
বপনের ৩০-৩৫ দিনের মধ্যে নিড়ানি দ্বারা একবার আগাছা দমন করা প্রয়োজন। অতিবৃষ্টির ফলে জমিতে যাতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয় সেজন্য পানি বের করে দেওয়ার ব্যবস'া করতে হবে।
রোগ ব্যবস্থাপনা:
রোগের নাম: মসুরের গোড়া পচা রোগ
ক্ষতির নমুনা: গাছ আক্রান- হলে পাতা ক্রমান্বয়ে হলদে রং ধারণ করে। আক্রান- গাছ ঢলে পড়ে ও শুকিয়ে যায়। মাটি ভিজা থাকলে গাছের গোড়ায় ছত্রাকের সাদা মাইসেলিয়াম ও সরিষার দানার ন্যায় স্কেলেরোসিয়াম গুটি দেখা যায়। এ জীবাণু গাছের অবশিষ্টাংশে, বিকল্প পোষক ও মাটিতে বেঁচে থাকে এবং পরবর্তী বছরে ফসল আক্রমণ করে।
অনুকুল পরিবেশ: ভিজা স্যাঁতস্যাঁতে মাটি রোগ বিস-ারের সহায়ক।
ব্যবস্থাপনা: ফসলের পরিত্যক্ত অংশ পুড়িয়ে ফেলতে হবে। অধিক পরিমাণে পচা জৈব সার ব্যবহার করতে হবে। ভিটাভেক্স-২০০ প্রতি কেজি বীজে ২.৫-৩.০ গ্রাম (০.২৫%) মিশিয়ে বীজ শোধন করতে হবে।
রোগের নাম: মসুরের মরিচা রোগ
ক্ষতির নমুনা: আক্রান- গাছের পাতায় বিভিন্ন আকৃতির ছোট ছোট মরিচা রংয়ের গুটি দেখা যায়। পরবর্তীতে তা গাঢ় বাদামি ও কালো রং ধারণ করে। কান্ডেও এ রকম লক্ষণ দেখা যায়।
অনুকুল পরিবেশ: আর্দ্র আবহাওয়ায় এ রোগের প্রকোপ বেশি হয়।
ব্যবস্থাপনা: ফসলের পরিত্যক্ত অংশ পুড়িয়ে ফেলতে হবে। রোগ প্রতিরোধী জাত যেমন বারি মসুর-৩ ও বারি মসুর-৪ চাষ করতে হবে। টিল্ট-২৫০ ইসি (০.০৪%) ১২-১৫ দিন পরপর ২-৩ বার সেপ্র করতে হবে।
রোগের নাম: মসুরের স্টেমফাইলাম ব্লাইট রোগ
ক্ষতির নমুনা: আক্রান- গাছের পাতায় সাদা ছত্রাকের জালিকা দেখা যায়। দূর থেকে আক্রান- ফসল আগুনে ঝলসানো মনে হয়। আক্রমণের শেষ পর্যায়ে গাছ কালচে বাদামি রং ধারণ করে। ভোর বেলায় পাতা এবং কান্ডে এক ধরনের সাদা ছত্রাক জালিকার উপসি'তি দ্বারা সহজেই স্টেমফাইলাম ব্লাইট রোগ সনাক্ত করা যায়।
অনুকুল পরিবেশ: বীজ, বিকল্প-শোষক, বায়ু প্রভৃতির মাধ্যমে এ রোগ বিস-ার লাভ করে।
ব্যবস্থাপনা: ফসলের পরিত্যক্ত অংশ পুড়িয়ে ফেলতে হবে। আক্রমণ দেখা দেওয়া মাত্র রোভরাল-৫০ ডব্লিউপি নামক ছত্রাকনাশক (০.২%) ১০ দিন পরপর ২-৩ বার সেপ্র করতে হবে।
গুদামজাত ডালের পোকা ব্যবস'াপনা
ভূমিকা: পূর্ণবয়স্ক পোকা ও কীড়া উভয়ই গুদামজাত ডালের ক্ষতি করে থাকে।
ক্ষতির নমুনা: এ পোকা ডালের খোসা ছিদ্র করে ভিতরে ঢুকে শাঁস খেতে থাকে। ফলে দানা হাল্কা হয়ে যায়। এর ফলে বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় এবং খাওয়ার অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে।
ব্যবস্থাপনা: গুদামজাত করার আগে দানা ভালভাবে পরিষ্কার করতে হয়। ডালের দানা শুকিয়ে পানির পরিমান ১২% এর নিচে আনতে হবে। বীজের জন্য টন প্রতি ৩০০ গ্রাম ম্যালাথিয়ন বা সেভিন ১০% গুড়া মিশিয়ে পোকার আক্রমণ প্রতিরোদ করা যায়। ফসটক্সিন ট্যাবলেট ২টি বড়ি প্রতি ১০০ কেজি গুদামজাত ডালে ব্যবহার করতে হয়। এ বড়ি আবদ্ধ পরিবেশে ব্রবহার করতে হয়।
বীজ সংরক্ষণ পদ্ধতি:
বীজ ভালোভাবে রোদে শুকিয়ে আর্দ্রতার পরিমাণ আনুমানিক ১০% এর নীচে রাখতে হবে। তারপর টিনের পাত্র ও পলিথিনসহ চটের ব্যাগ অথবা আলকাতরার প্রলেপ দেওয়া মাটির পাত্রে বীজ সংরক্ষণ করতে হবে।
ফসল তোলা:
মধ্য-ফাল্গুন থেকে মধ্য-চৈত্র (মার্চ) মাসে ফসল সংগ্রহ করা যায়।
শুষ্ক ভূমি অঞ্চলে প্রাইম পদ্ধতিতে মসুর চাষ
শুষ্ক ভূমি অঞ্চলে জমিতে প্রয়োজনীয় রসের অভাব একটি উল্লেখযোগ্য সমস্যা। আমাদের দেশে সাধারণত: রোপা আমন ধান কাটার পরই রবি শস্যের আবাদ হয়ে থাকে। কিন' অনেক ক্ষেত্রে ধান কাটার পর জমিতে পরিমিত রস থাকে না। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে উঁচু জমিতে বপন সময়ের আগেই জমির রস শুকিয়ে যায়। তবে এ ধরনের জমিতে বীজ প্রাইমিং (বীজ ভিজানো) করে বপন করলে স্বাভাবিক পদ্ধতির চেয়ে ৩-৪ দিন আগে বীজ গজায় এবং গাছের পরবর্তী বৃদ্ধিও ভালো হয়, যা উচ্চ ফলনের সহায়ক। প্রাইম পদ্ধতিতে মসুরের চাষ নিম্নরূপ :
জাত
বারি মসুর-৩ এবং বারি মসুর-৪।
বপনের সময়
অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ (কার্তিক মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত) বীজ বপনের উপযুক্ত সময়।
জমি নির্বাচন
সুনিষ্কাশিত দো-আঁশ মাটি মসুর চাষের জন্য বেশি ভালো।
বীজের পরিমাণ
জমিতে পরিমিত পরিমাণ গাছের জন্য প্রতি হেক্টরে ৩০ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়।
বীজ প্রাইমিং পদ্ধতি
রাত্রে প্রয়োজনীয় বীজ বালতি/গামলা অথবা অনুরূপ পাত্রে ৮-১০ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। পরের দিন সকালে পাত্র থেকে বীজগুলি উঠিয়ে ছায়াতে রেখে শুধুমাত্র বীজের গায়ের পানি শুকিয়ে ঐ দিনই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বীজ বপন করতে হবে।
সার প্রয়োগ
জমি তৈরির শেষ চাষের সময় হেক্টরপ্রতি ৪৫ কেজি ইউরিয়া, ৯০ কেজি টিএসপি এবং ৩৫ কেজি এমওপি সার একসাথে ছিটাতে হবে। কোন জমিতে প্রথমবার মসুর চাষ করলে মসুরের প্রতি কেজি বীজের সাথে ৫০ গ্রাম জীবাণুসার, ভাতের মাড়/চিটাগুড় মিশিয়ে বপন করতে হবে।
জমি চাষ ও বপন পদ্ধতি
মাটির প্রকারভেদে ৩-৪টি চাষ ও ভালোভাবে মই দিয়ে জমি তৈরি করতে হবে। জমি তৈরির শেষ চাষের পর পরিমাণ মত বীজ ছিটিয়ে বপন করতে হবে। তারপর একটি চাষ ও আড়াআড়িভাবে দুটি মই দিতে হবে। এতে করে জমির রস ধারণ ক্ষমতা বাড়ে এবং বীজ গজাতে সাহায্য করে। এছাড়া ২৫ সেমি দূরে দূরে সারি করেও বীজ বপন করা যায়। তবে জমিতে রস কম থাকলে বীজ ছিটিয়ে বপন করাই ভালো।
আন্তপরিচর্যা
সাধারণত: মসুর বৃষ্টি নির্ভর ফসল হিসেবে চাষ করা হয়ে থাকে। তবে মাটিতে যদি রসের অভাব হয় এবং রসের অভাবে গাছে বৃদ্ধি কম হয় সেক্ষেত্রে চারা গজানোর ২৫-৩০ দিন পর একবার হালকা সেচ দিতে হবে। সেচ দেওয়ার পর জমি নিড়ানি দিয়ে মাটি আলগা করে দিতে হবে। জমিতে পানি বের করে দেওয়ার ব্যবস'া থাকতে হবে। কারণ মসুর জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। আগাছার প্রকোপ বেশি হলে বীজ গজানোর ২৫-৩০ দিন পর একবার নিড়ানি দিতে হবে।

চীনা হ্যাট ফ্লাওয়ার

Sunday, September 12, 2010


চীনা হ্যাট ফ্লাওয়ার লতানো স্বভাবের গাছ। তাই একে ফুল ফোটা অবস্থায় হঠাত্ দেখলে দূর থেকে বাগানবিলাস ফুলেরই কোনো একটা প্রজাতি বলে ভুল হতে পারে। কিন্তু কাছে গেলেই সে ভুল ভাঙে। পাতাটা হুবহু বাগানবিলাসের মতো নয়, ফুল তো নয়ই। পোড়া ইটের মতো লালচে রঙের গোল গোল চাকতি আকৃতির ফুল ফোটে ডালে ডালে। ফুলের রঙ কখনো লাল বা হলুদ হয়। ফিনফিনে পাতলা পাপড়ি আর তা বসানো একটা খাটো সরু নলের মাথায়। চীনা টুপি ফুলের গাছ লতানো, লতিয়ে লতিয়ে ১০ মিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে মূল কাণ্ড থেকে শাখা-প্রশাখা চারদিকে দুলে পড়ে। চাকতির মতো গোলাকার বা ফুল দেখতে সসার বা পিরিচের মতো হলেও চারপাশে কিনারায় হালকা পাঁচটি খাঁজ থাকে। এ জন্য এ ফুলের আরেক নাম ‘Cup and Saucer plant’. ফলের রঙ বাদামি, চ্যাপটা গোল। প্রতিটি ফলের চারটি অংশ থাকে। কাটিং ও গুটি কলম করে চারা তৈরি করা যায়। হিমালয়ের দক্ষিণ ঢালে এ ফুলের জন্ম এবং সেখান থেকে আসাম হয়ে বাংলাদেশে বিস্তৃত। এ গাছের উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Holmskioldia sangunea, ইংরেজি নাম Chinese Hat plant, পরিবার লেমিয়েসি।

অ্যাজালিয়া

Friday, September 10, 2010


লাল, গোলাপি, কমলা এবং সাদা রঙের অ্যাজালিয়া ফুল দেখতে খুবই আকর্ষণীয়। কিন্তু গাছ তত আকর্ষণীয় নয়। জীর্ণশীর্ণ গাছে যে অমন বাহারি ফুল ফুটতে পারে, তা ফুল ফোটা অবস্থায় গাছটিকে না দেখলে বোঝা যায় না। এ জন্য এ ফুল ফুটলে তা গাছের চেয়ে ভালো দেখায়। গুচ্ছবদ্ধ হয়ে অনেকগুলো ফুল একত্রে কাট ফ্লাওয়ার হিসেবে ফুলদানিতে ভালো মানায়। সেদিক দিয়ে অ্যাজালিয়ার কদর রয়েছে। বিশেষ করে ক্রিসমাসের উত্সবের উপহারে অ্যাজালিয়ার জুড়ি মেলা ভার। অ্যাজালিয়া শীতের ফুল। কলকে বা চোঙার মতো কোনো কোনো জাতের ফুলে আছে নানা রঙের বৈচিত্র্য। গাছে ফুল থাকা অবস্থায় গোড়ার মাটি সব সময় ভেজা রাখতে হয়। টবে ও বাগানে অ্যাজালিয়া লাগানো যায়। শুকিয়ে যাওয়া ফুলগুলো সব সময় তুলে ফেলতে হবে। শাখা কলম করে অ্যাজালিয়ার নতুন চারা তৈরি করা যায়। টবে লাগানো গাছ সংগ্রহ করতে পারলে এ শীতেই হয়তো আপনার বাগানে ফুটতে পারে অ্যাজালিয়া ফুল। তবে গাছ রাখতে হবে একটু ছায়া ছায়া জায়গায় এবং খুব যত্নে। হাজার হলেও এ দেশে নতুন অতিথি। খাপ খাইয়ে নিতে একটু সময় তো দিতে হবে। অ্যাজালিয়ার উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Rhododendron sp, পরিবার ইরিয়েসি। ফুলটি এসেছে চীন, তিব্বত বা জাপান থেকে।

ক্যামেলিয়া

Thursday, September 9, 2010


ক্যামেলিয়াকে 'শীতের গোলাপ' বলা হয়। ওর ডাকনাম 'বুরবন ক্যামেলিয়া'। গোলাম, কার্নেশন, চন্দ্রমলি্লকা, আজেলিয়ার পাশে ক্যামেলিয়ার গর্বিত আসন নির্দিষ্ট আছে। শীতে ফুল ফোটে তবে বর্ষার বৃস্টি তার প্রিয়, কিন্তু গাছের গোড়ায় বৃষ্টির পানি জমা চলবে না। চা গাছের মতো এর পরিচর্যা চাই। আবাদিত ক্যামেলিয়ার মধ্যে 'এলিগানস' হলো বড় টকটকে লাল, তাতে মাঝে মাঝে সাদা ডোরা দাগও থাকে। 'গুলিও নুসিও' হলো লাল থেকে পিংক পাপড়ির এবং পুংকেশর হলদে। 'মাথোটিনা আলবা' হলো ধ্রুপদী সাদা ফুল। 'দ্য সিজার' হলো হালকা ক্রিমসন সেমি-ডাবল পাপড়ির ফুল। এরা ক্যামেলিয়া-জগতের রূপসী তারকা। তবে সবচেয়ে মূল্যবান বা গৌরবময়ী বলা হয় 'আলবা প্লিনা' ক্যামেলিয়াকে, তার সৌন্দর্যখ্যাতি বিশ্বজুড়ে। কমনীয় সৌন্দর্য তার ভূষণ।

ক্যামেলিয়া নামটি এসেছে জেস্যুইট পাদ্রি ও উদ্ভিদবিদ জর্জ ক্যামেল থেকে। উদ্ভিদবিদ কার্ল লিনেয়াস একে তাই 'ক্যামেলিয়া জাপোনিকা' নামে অভিহিত করেন। জাপোনিকা নামাংশটি এসেছে এনপেলবার্ট ক্যাসপার থেকে, যেহেতু জাপানে এই ফুলের প্রথম বর্ণনা বিশ্ববাসীকে শুনিয়েছিলেন সে জন্য। জাপানি সামুরাই যোদ্ধারা যুদ্ধে যাওয়ার সময় লাল ক্যামেলিয়া দেখলে অশুভ বলে বিশ্বাস করতেন। এ জন্য তাঁদের যুদ্ধযাত্রার সময় লাল ফুলের টব ঘর থেকে বের করে বাগানের পেছনে রেখে দেওয়া হতো। লাল ক্যামেলিয়া রোয়া হতো বাগানের পেছনের সারিতে। কিন্তু সাদা কেমেলিয়া শুভ। আর যত অশুভ বেশি বয়সী গাছে। বুড়ো গাছে ভূত-প্রেত থাকে, কিন্তু তরুণী ক্যামেলিয়ার সেই বদনাম নেই। আর টকটকে লাল ক্যামেলিয়া বাসি হয়ে ঝরে পড়লে কেমন শব্দ হয়, জানেন? নরম ঘাসের ওপর শক্ত জিনিস পড়লে যেমন 'ধুপ' শব্দ হয়। অর্থাৎ তীক্ষ্ন তরবারির এক কোণে কাটা মুণ্ড ঘাসের ওপর পড়লে এ রকম শব্দ হয়। প্রাচীন জাপানি সাহিত্যে এই কল্পনাচিত্র পাওয়া যায়।

ফুলের সৌন্দর্যের জন্যই প্রাণসম্রাজ্ঞী চায়ের জাতবোন ক্যামেলিয়ার সুনাম ও গর্ব। অন্তত হাজার বছর ধরে চীন-জাপানের অভিজাত মহলে এর উজ্জ্বল অভিসার চলে। ইংল্যান্ডের রবার্ট জেমস নিজ দেশে ক্যামেলিয়ার চারা নিয়ে যান ১৭৩৯ সালে। সেই শুরু ক্যামেলিয়ার ইউরোপ জয়। ১৮০৭ সালে আমেরিকার নার্সারিতে গ্রিনহাউস উদ্ভিদ হিসেবে চাষ শুরু। এখন ইউরোপের বনেদি বাগানে ক্যামেলিয়া থাকবেই। রবীন্দ্রনাথের লেখা 'ক্যামেলিয়া' কবিতায় দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ফুল ফুটলে সেটি সাঁওতাল মেয়েটি খোঁপায় পরে নেয়। জাপানিরা ১১ শতাব্দীতে চিত্রকলা ও চীনামাটির বাসনপত্রে ক্যামেলিয়া আঁকতে শুরু করেন। চায়ের পেয়ালা, ফুলদানি প্রভৃতি তৈজসপত্রে তার কী দাপট! এতে একস্তর পাপড়ির ফুলই প্রথম আঁকা হয়। চীনে সং রাজবংশ সাদা পাপড়ির ক্যামেলিয়াকে প্রথম প্রতিষ্ঠা করেন। চীনা নববর্ষ ও বসন্ত উৎসবে এই ফুল দেবতার উদ্দেশে নিবেদন করা হতো। নববর্ষের শুভর প্রতীক এই ফুল। কিন্তু চীনা নারীরা ক্যামেলিয়াকে কখনো খোঁপায় গুঁজতেন না। কারণ ক্যামেলিয়া কুঁড়ি থেকে ফুল হয়ে ফুটতে দীর্ঘ এক মাস সময় নেয়। তার অর্থ_যে মেয়ে এই ফুল পরবেন, তিনি সহজে সন্তানবতী হতে পারবেন না। ক্যামেলিয়া গাছ না ছাঁটলে ২০-৩০ ফুট উঁচু হয়ে যায়।কাজেই ক্যামেলিয়া ও চা গাছকে ক্ষুপজাতীয় বলা যাবে না। বাঁচে অন্তত এক শ বছর। বাড়তে দিলে এত উঁচু হয়ে যেত যে ক্যামেলিয়া ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করা যেত না। চা গাছ থেকে চা পাতা আহরণ করা যেত না। একস্তর পাপড়ি ও বহু পাপড়ির ফুল হয়। চীন, জাপান, কোরিয়া ছাড়াও সারা বিশ্বে ২০০০ রকমের বেশি আবাদিত ও হাইব্রিড ফুল হয়। আর বেশি দেরি নেই নীল ও কালো রঙের ক্যামেলিয়া উৎপন্ন হবে। মনকাড়া, নজরকাড়া ক্যামেলিয়া চা বাগানে উৎপন্ন হবে খুব সহজে। কারণ ক্যামেলিয়া হলো চা-পরিবারের গরবিণী কন্যারত্ন। গোলাপ, চেরি, আপেলও একই বড় পরিবারের গর্বিত সদস্য। ক্যামেলিয়াকে আদরণীয় ভালোবাসায় সিক্ত করেছেন জাপানি ও চীনারা।

গ্লাডিওলাস

Tuesday, September 7, 2010

বর্তমান সময়ে গ্লাডিওলাস ফুলের চাহিদা ব্যাপক। লাল, হলুদ, সাদা, গোলাপি, বেগুনি, ম্যাজেন্টাসহ নানা রঙের চমৎকার এই ফুল সবার কাছে প্রিয়। যে কোনো উৎসবে এই ফুলের উপস্থিতি দেখা যায়। টিনা, পুনম, ফ্রেন্ডশিপ, হোয়াইট ফ্রেন্ডশিপসহ বিভিন্ন প্রজাতির গ্গ্ন্যাডিওলাস ফুল রয়েছে। এই ফুল চাষ করে আপনিও আয়ের পথ সুগম করতে পারেন।

জমি নির্বাচন ও বপন পদ্ধতি : এই ফুল চাষের জন্য প্রায় সব ধরনের মাটিই উপযুক্ত। তবে বেলে ও কাদামাটিতে চাষ না করাটাই ভালো। বেশি জৈব পদার্থযুক্ত মাটিই গ্লাডিওলাস ফুল চাষের জন্য ভালো। যে জমিতে এই ফুল চাষ করা হবে তাতে যেন পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকে এ বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। এই ফুলের চারা সাধারণত কন্দ থেকে তৈরি হয়। কন্দ লাগানোর আগে জমি ভালো করে তৈরি করে নিতে হবে। কন্দের আকৃতির ওপর সাধারণত নির্ভর করে ফুলের আকার ও আকৃতি। বিঘাপ্রতি ২ থেকে ৩ টন গোবর সার, ৫০ কেজি সুপার ফসফেট ও ১৫ কেজি ইউরিয়া সার মিশিয়ে জমি তৈরি করে নিতে হবে। জমি তৈরি হয়ে গেলেই কন্দ রোপণ করা যায়।
সেচ ও আগাছা দমন : কন্দ রোপণের পর সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে সেটা যেন মাত্রাতিরিক্ত না হয়। আগাছা ভালোমতো পরিষ্কার করাটা জরুরি।
ফুল সংগ্রহ : এগাছ থেকে ফুল ৭০-৯০ দিনের মধ্যেই সংগ্রহ করা যায়। দুপুরে গাছ থেকে ফুল তোলা যাবে না। ফুল সংগ্রহ করতে হবে সকাল বা বিকেলে।

ফুল বাজারজাতকরণ : ফুলের সবচেয়ে বড় বাজার হচ্ছে শাহবাগ। এছাড়া দেশের সব জেলাতেই রয়েছে অসংখ্য ফুলের দোকান। আর এসব দোকানে বর্ণিল গ্গ্ন্যাডিওলাস ফুলের চাহিদা প্রচুর। এসব দোকানে ফুল সরবরাহ করে আয় করতে পারেন।

সবজি চাষে ভাগ্য বদল



সব সাধকের বড় সাধক আমার দেশের চাষা
দেশ মাতারই মুক্তিকামী দেশের সে যে আশা।”

হ্যাঁ, সব সাধকের চেয়ে বড় সাধক হলেন আমার দেশের কৃষক। রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে যে কৃষক শরীরের ঘাম ঝরিয়ে উৎপাদন করেন সোনার ফসল। পুরো জাতি তাকিয়ে থাকে ওই কৃষকের দিকে, যে কৃষকের কারণে অর্থনৈতিক মুক্তি আসে নিজের, পরিবারের এবং সমাজের। ফলে বদলে যায় একটি জনপদ, উৎসাহিত হয় আশেপাশের অগণিত মানুষ। এমনই একজন কৃষকের নাম মোঃ খাইরুল ইসলাম। যিনি শাক-সবজি চাষাবাদ, মুরগি আর মাছের খামার করে বছরে আয় করছেন ১২/১৪ লাখ টাকা। নিজে বদলে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবারে এনেছেন সুখের হাসি।

কালিয়াকৈর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের খাইরুল ইসলাম ২০০৩ সালে এইচএসসি পাশ করার পর ডিগ্রিতে ভর্তি হয়ে পড়াশুনার পাশাপাশি ঢাকায় একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি নেন। কিন্তু পরাধীন ওই চাকরিতে নিজেকে মানিয়ে নিতে না পেরে বাড়িতে ফিরে মাত্র ৫ হাজার টাকা মূলধন নিয়ে সাড়ে ৩ বিঘা পৈত্রিক জমিতে শুরু করেন পেঁপে চাষ। ছোটবেলা থেকেই কৃষি কাজের প্রতি খাইরুলের ছিল প্রচণ্ড রকম দুর্বলতা। কঠোর পরিশ্রম আর দক্ষতার কারণেই প্রথমবার পেঁপে চাষে খাইরুল দেখেন সফলতার মুখ। সব খরচ বাদে তার লাভ হয় প্রায় ১ লাখ টাকা। পরের বছর অন্যের জমি লিজ নিয়ে ব্যাপকভাবে শুরু করেন পেঁপে চাষ। সাথী ফসল হিসেবে নানা জাতের শাক-সবজি চাষ করেন। লাভ হয় প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। লাউ, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাল শাক, পালং শাক ইত্যাদি ফসল ফলিয়ে খাইরুল আনেন অর্থনৈতিক সচ্ছলতা। তার উৎসাহে এলাকার অন্য বেকার যুবকরাও ঝুঁকতে থাকেন শাক-সবজি চাষে। ইতিমধ্যে খাইরুল গড়ে তোলেন ব্রয়লার মুরগি এবং মাছের খামার। মাত্র ৫শ’ বাচ্চা নিয়ে তার পোল্ট্রি খামারের যাত্রা শুরু। বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার মুরগি রয়েছে খামারে। এক বিঘা জলাশয়ে মাছের খামার শুরু হলেও সেটা সম্প্রসারিত হয়ে বর্তমানে প্রায় ১৫ বিঘায় দাঁড়িয়েছে। তাছাড়াও খাইরুল আখ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। সব মিলিয়ে এই কৃষকের সকল প্রকার খরচ বাদে বার্ষিক আয় দাঁড়িয়েছে ১২/১৪ লাখ টাকা। খাইরুলের বাগান ও খামারে ১০/১২ জন দিনমজুর কাজ করে মেটাচ্ছেন তাদের পরিবারের চাহিদা।

এলাকার বেকার যুবক ও তার সমবয়সীদের কৃষি কাজে আত্মনিয়োগ করার জন্য খাইরুল উৎসাহিত করেন নিয়মিত। আদর্শ একজন কৃষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চান তিনি। দেশের বেকার যুবকদের যদি সরকার সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে কৃষি কাজে উৎসাহিত করেন তাহলে অসংখ্য বেকার যুবক নিজের ভাগ্য বদলাতে পারবে বলে মনে করেন সফল সবজি চাষি খাইরুল ইসলাম।

গোলাপ

Monday, September 6, 2010

সাদা গোলাপ
গোলাপ এক প্রকারের গুল্ম জাতীয় Rosaceae পরিবারের Rosa গোত্রের কাঁটা যুক্ত কান্ড বিশিষ্ট গাছের ফুল।এর পাতার কিনারাতেও ক্ষুদ্র কাঁটা রয়েছে। গোলাপের আদি নিবাস এশিয়া মহাদেশে। অল্প কিছু প্রজাতির আদি বাস ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, ও উত্তরপশ্চিম আফ্রিকা মহাদেশে।

লাল গোলাপ
ফুলের রানী গোলাপের সৌন্দর্য ও সুবাসের জন্য চাহিদা রয়েছে সারা বিশ্বজুড়ে| ফুলের জগতে বর্ণ-গন্ধ আভিজাত্যে এর সমাদরই সব চেয়ে বেশী|রোম সম্রাট নিরো আর মিসরের সুন্দরী ক্লিওপেট্রারও প্রিয় ছিল গোলাপ। নিরো তাঁর প্রাসাদের এমন কোনো জায়গা ছিল না যেখানে গোলাপগাছকে ঠাঁই দেননি। ঘরের মেঝেতে গোলাপের পাপড়ি ছিটিয়ে রাখতেন সারাক্ষণ, গোলাপের সুরভি নেওয়ার জন্য। অতিথি মার্ক অ্যান্টনির আগমনে মিসরের রানি ক্লিওপেট্রা তাঁকে তাঁর হাঁটু পর্যন্ত গোলাপ বিছিয়ে দিয়ে অভিবাদন জানিয়েছিলেন। সেসব আজ অলীক কল্পনার মতোই।

গাঢ় মেরুন গোলাপ
গোলাপের আছে অসংখ্য জাত। প্রায় ১০০ প্রজাতির বিভিন্ন বর্ণের গোলাপ ফুল রয়েছে। এর কোনোটা বুনো, ছোট ছোট প্রচুর ফুল ফোটে। কোনোটার ফুল অনেক বড়। এগুলো হাইব্রিড ‘ট্রি’ শ্রেণীর। কোনোটার গাছ লতানো, কোনোটার ঝোপালো। শীতে ফোটার জন্য আশপাশের নার্সারিতে গোলাপি(গ্ল্যাডিয়েটর), গাঢ় গোলাপি(ফাস্টরেড), লাল(খৃশ্চান ডিয়ার), মেরুন(মন্টেজুমা), খয়েরি, ঘিয়া, হলুদ, সাদা, দুইরঙা, মিশ্রবর্ণা অনেক রকমের গোলাপ পাবেন। যেহেতু গোলাপ ফোটে শীতকালে তাই তীব্র শীতে অনেক সময় এদের বর্ণ খয়েরী বা কালো হয়ে যায়।

বুনো গোলাপ
খয়েরী গোলাপ
কলম গোলাপ টবেই লাগানো যায়।টবের জন্য ছোট গাছবিশিষ্ট মিনিয়েচার শ্রেণীর গোলাপই ভালো। এতে চাষ ও যত্ন করতে সুবিধা হয়, প্রদর্শনীতেও নেওয়া যায় সহজে। এসব শ্রেণীর গোলাপ কলম লাগানোর জন্য বড় টবের দরকার নেই, আট থেকে ১০ ইঞ্চি মুখের টব হলেই চলবে। কিন্তু হাইব্রিড টি এবং ফ্লোরিবানদা শ্রেণীর গোলাপের জন্য চাই বড় মুখের টব, যার মুখের ব্যাস ১২ ইঞ্চি বা তার বেশি। মাটির টবই ভালো।

মিনিয়েচার গোলাপ
গোলাপের জন্য সার-মাটি অন্য ফুলের মতো নয়, একটু আলাদা। মাটি তৈরির আগে সার জোগাড় করতে হবে। পচা গোবর বা প্যাকেটজাত জৈব সার, কাঠের ছাই, পাতা পচা সার বা পচা আবর্জনা সার অথবা ফেলে দেওয়া চায়ের পাতি টবের মাটিতে মেশানো যেতে পারে। খৈল দেওয়া যায়, তবে খৈল দিলে পিপড়ার উপদ্রব হতে পারে, ওরা শিকড় নষ্ট করে দেয়।। টবে কোনো রাসায়নিক সার দেওয়ার দরকার নেই। জমির গর্তে লাগানোর অন্তত ১০ দিন আগে জৈব সারের সঙ্গে দুই-তিন চাচামচ করে টিএসপি ও এমপি সার মিশিয়ে দিতে পারেন। তিনভাগ দো-আঁশ মাটির সঙ্গে একভাগ জৈব সার ও একভাগ কাঠের ছাই মিশিয়ে টবের জন্য সার-মাটি তৈরি করতে পারেন

বেগুনি গোলাপ
টবের ঠিক মাঝখানে গোলাপের কলম লাগিয়ে হালকা সেচ দেবেন। লাগানোর পর টবসমেত গাছটিকে দিনকয়েক ছায়ায় রাখতে হবে। এ সময় কিছু পাতা ঝরিয়ে দিতে পারেন। এতে কলম দ্রুত বেঁচে উঠবে। নতুন পাতা ছেড়ে গাছ বাড়তে শুরু করলে রোদে বের করে দিতে পারেন। শীত শেষে যখন গাছে নতুন ডালপালা গজানো শুরু করবে, সে সময় অল্প করে ইউরিয়া সার (এক চিমটি সার প্রতি লিটার পানিতে গুলে) গাছের গোড়ায় দিতে পারেন। এতে গাছ দেখতে ভালো হবে, বাড়বে ভালো। তবে সার বেশি হলে ক্ষতি হবে। আজকাল বাজারে বিভিন্ন রকমের ট্যাবলেট সার পাওয়া যাচ্ছে। দুটি সার বড়ি কিনে গাছের গোড়ার মাটিতে দুই ইঞ্চি গভীরে পুঁতে দিতে পারেন। এটা দিলে এক বছরের মধ্যে আর কোনো সার দিতে হবে না। মাঝেমধ্যে অল্প করে চায়ের পচা পাতি টবের ওপরের মাটি হালকা করে নিড়িয়ে তার সঙ্গে মিশিয়ে দিতে পারেন। টবের মাটি যাতে একবারে শুকিয়ে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। নিয়মিত সেচ দেবেন। বেয়াড়া ডালপালা অবশ্যই ছেঁটে দেবেন। জুন আর সেপ্টেম্বরে গোলাপগাছ ছাঁটতে পারেন। না হলে ভালো ফুল ফুটবে না। দুই-তিন বছর পর টবের মাটি পুরো বদলে দেবেন। পুরোনো মাটি রাখলে তাতে ফুল ভালো হবে না। তবে আমার পরামর্শ হলো—একঘেয়েমি কাটাতে শুধু মাটি বদল নয়, নতুন জাতের অন্য গোলাপের কলম এনে লাগাতে পারেন। ঠান্ডা কমে এলে ফেব্রুয়ারি থেকেই গোলাপ বাগানের কাজ শুরু করতে পারেন। তবে বর্ষাকালের আগে লাগানো ভালো। ওই সব গাছে আগামী শীতজুড়ে প্রচুর ফুল ফুটবে।

মিশ্রবর্ণা গোলাপ
গোলাপের খোঁজ:
কৃষিবিদ উপকরণ নার্সারি, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট চত্ব্বর, ফার্মগেট, ঢাকা। ফোন: ০১৮৯১৯৪৩০৩।
ভোসড নার্সারি, গ্রিনফিঙ্গার নার্সারি, এগ্রিটেক, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট চত্বর, ফার্মগেট, ঢাকা।
ডালিয়া নার্সারি, কেডিএ আউটার বাইপাস রোড, সোনাডাঙ্গা, খুলনা। ফোন: ০১৭১৪০৫৭৭৮৩
রাঙাবন নার্সারি, সাভার বাসস্ট্যান্ড, সাভার, ঢাকা।

হলুদ গোলাপ
গোলাপের চাহিদার কারণে একে বাণিজ্যিকভাবেও চাষাবাদ করা হয়।আতর শিল্পেও রয়েছে এর বহুল ব্যবহার। ঢাকার খুব কাছেই সাভারের তুরাগ নদীর তীরে সাদুল্লাপুরে হয় গোলাপের বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ।

ভাং



দোল বা হোলি তথা হিন্দু সংস্কৃতির এক অবিচ্ছ্যেদ্দ অংশ ভাং। বলা হয় আনুমানিক ১০০০ খ্রীষ্টপূর্বে প্রথম ভাং ব্যাবহার করা হয় ।অথর্ব বেদের উল্লেখিত এটি একটি ‘উদ্বেগনাশক’ ভেষজ। ভাং এর প্রধান উপাস্য দেবতা শিব, বলা হয় তিনিই প্রথম আবিষ্কার করেন এই বিভিন্ন ভেষজের সংমিশ্রন ।তাই তিনিই ‘ভাং-এর দেবতা’।তাই তার অনুসারী রুপে সাধু সমাজে ভাং অত্যন্ত জনপ্রিয় ।এমনকি এটি সুফি সমাজেও বহুকাল ধরেই প্রচলিত আধ্যত্মিক উপকরন হিসেবে। আধ্যাত্মিক মতে বহু জিনিসের বার্তা বহন করে ভাং , মনে করা হয় , কেউ ভাং বহন করছে এমন কারো সাথে যদি সাক্ষাত হয়- তাহলে তা অত্যন্ত শুভসংকেত ।

এছাড়াও মনে করা হয় সঠিক মাত্রায় ভাং গ্রহন করেল এটি মহৌষধ , জ্বর, আমশা, সানস্ট্রোক থেকে শরীরকে রক্ষা করে । এছাড়াও এটি হজমশক্তি বারায়, ক্ষিদে বারায়,এমনকি তোতলামির ক্ষেত্রেও তা নিরাময়কারী।নিয়মিত ভাং গ্রহনে বাড়বে বুদ্ধি, সতর্কতা । ভাং মুলত সমগুনসম্পন্ন তিনটি ভেষজের সমষ্টি ।

মুলত পানীয় হিসেবে গ্রহন করাহলেও এটি দ্বারা ধুমপান করাও হয়ে থাকে, মিষ্টিতে মিশিয়ে খাওয়া হয় । মুঘল আমলের কিছু ছবিতে এমনও দেখানো হয়েছে , এক নারী ও পুরুষ একান্ত নিবীড়ভাবে রতিক্রীয়ার সময়ে ভাং-এর ধুম্রপান করছেন ।

ভাং বানানোর জন্য চাই বিশেষ নিষ্ঠা, প্রথমে ভাঙ্গের পাতা ও শিষগুলিকে বেটে একটী পেস্ট তৈরী করতে হবে,তারপর তা মেলানো হবে দুধ, ঘি ও নানান মশলার সাথে ,কিছু পরিমান ক্ষীর বা খোয়া ও বাদাম দিলে তা প্রস্তুত হয়ে ওঠে একটি অতি উপাদেয় মাদকহীন পানীয়ে ।যার সর্বভারতীয় নাম “ঠান্ডাই”।
মানবজাতি ইতিহাসে ভাং একটি অতিপ্রাচীন ভেষজ , যার নিদর্শন পাওয়া গেছে চীনে নিওলিথিক যুগেও , চাষ করা হত ঔষধের জন্য এমনকি খাদ্য হিসেবেও।
ভাং মূলত পাওয়া যায় মধ্য এশিয়ায়, এবং এখন প্রায় সমগ্র বিশ্বে ।

চামেলি

Sunday, September 5, 2010

চামেলি ফুলকে হিমালয়কন্যা বলে অভিহিত করেছেন। চামেলি হিন্দি নাম। ফুলের সেই হিন্দি নামটিই আমাদের দেশে প্রচলিত ও জনপ্রিয়। তবে বাংলায় কেউ কেউ জাঁতি বলে ডাকে। ইংরেজি নাম জেসমিন। মারমা সম্প্রদায় বলেন বিলাই লোকচারী। চামেলি ফুলটি স্প্যানিশ জেসমিন নামেও পরিচিত। অনেকটা লতানো ধরনের এবং ক্ষুদ্র ও সরু আকৃতির পাতাসংবলিত গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। উচ্চতা দুই থেকে চার মিটার। গাঢ় সবুজ পাতার ছোট ও সুদৃশ্য চামেলির গাছ দেখলেও অভিভূত হতে হয়। দুধ-সাদা রঙের চামেলি ফুল একেকটি আলাদা করে ফুটে সারা গাছ ছেয়ে যায়। এর স্নিগ্ধ গন্ধ ফুল শুকিয়ে গেলেও পাওয়া যায়। ফুলের চমৎকার সৌরভের জন্যই এর আদর বেশি। পুজোয় ব্যবহারের জন্য এর কদর রয়েছে। এ ছাড়া চামেলির পাতা আয়ুর্বেদিক হারবাল ওষুধ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। প্রসাধন সামগ্রীতেও এ ফুলের ব্যবহার রয়েছে। সুগন্ধিশিল্পে চামেলি ফুলের চাহিদা পৃথিবীজুড়ে। চামেলি Oleaceae পরিবারের সদস্য। চামেলির বৈজ্ঞানিক নাম Jasminum Grandiflorum. পাকিস্তানে যাকে বলা হয় ফ্লোরা অব পাকিস্তান। কমপক্ষে ৩০০ প্রজাতির এই চিরহরিৎ বৃক্ষের আদিবাড়ি এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশ।

মাধবী

Saturday, September 4, 2010


সুন্দরীতমা চিরযুবতী মাধবীর রূপ-গুণ-সৌরভ কিছুরই অভাব নেই। কোনো মোক্ষম বিশেষণই তার উপযুক্ত নয়। কোনো একটি নামেই তার রূপ-গুণ সম্পূর্ণ প্রকাশ পায় না। কত কত তার নাম! বাসন্তী, পুণ্ড্রক, মণ্ডক, অতিমুক্ত, বিমুক্ত, কামুক ও ভ্রমরোৎসব_এসব তার মনের ভাব প্রকাশক নাম। বাসন্তী বা হলদে রঙে রঞ্জিত বলে সে বাসন্তী, আবার বসন্তকালে ফোটে সেই ভাবপ্রকাশক।
পুণ্ড্রদেশে জন্ম বলে পুণ্ড্রক। সম্পূর্ণ বিকশিত হয় বলে অতিমুক্ত। বন্ধনহীন বা নানা রোগের বন্ধন মোচন করে বলে বিমুক্ত। কামনাশীল, ইচ্ছু, দয়িত, প্রিয় বলে সে কামুক। তার ফুল ফুটলে দলে দলে ভ্রমরেরা মধু সংগ্রহে আসে বলে ভ্রমরোৎসব নাম। আবার সমার্থবাচক নাম হলো_চন্দ্রবল্লী (চন্দ্রলতা), সুগন্ধা, ভৃঙ্গপ্রিয়া (ভ্রমরপ্রিয়া), ভ্রমরোৎসব, ভদ্রলতা। আবার কামী, কার্মুক (ধনুক), অতিমুক্ত, অবিমুক্ত (অপরিত্যক্ত), সুবসন্ত, মণ্ডন, পরাশ্রয়_এসবও মাধবীর নাম। কামী নাম কেন হলো? কাকে সে কামনা করে, কার প্রতি কামনাশীল? কার জন্য কামুকী? মাধবী মদকারক সুগন্ধবিশিষ্ট বলে এই নাম? আবার মাধবী পিত্ত, কাস, ব্রণ, দাহ ও তৃষ্ণা নিবারক। মধুর, শীতবীর্য, লঘু এবং ত্রিদোষ নাশক। ত্রিদোষ অর্থ বাত, পিত্ত ও কফ নাশ করে। ওষধি গুণের জন্যও সে সবার কামী বা কাম্য।
মজার ব্যাপার হলো পুণ্ড্রক নামটি। এটি তার জন্মস্থান বা বাসস্থানের বর্ণনাদ্যোতক। পুণ্ড্র বা ময়মনসিংহ অঞ্চলে এক সময় মাধবীর প্রাচুর্য ছিল। এখন সেখানে দুর্লভ হয়ে গেছে। মাধবীকে অবহেলার পরিণাম। মাধবীদের অবহেলা করলে সে চলে যাবেই। ওই তারারা তাকে আকাশে বরণ করে নেবে। পূর্ণিমার চাঁদ বলবে, ও দেশে তুমি থেক না। দখিনা বাতাস যাওয়ার সময় তাকে সঙ্গে নিয়ে যাবে। দখিনা হাওয়ার নামই তো মলয় সমীরণ। তেমনি পারুল ফুলও এখন নেই।
বসন্ত ঋতু পর্যায়ের আর একটি গানে রবি ঠাকুর গেয়েছেন, 'হে মাধবী, দ্বিধা কেন, আসিবে কি ফিরিবে কি_'। এই গানে আরো আছে, 'বাতাসে লুকায়ে থেকে কে যে তোরে গেছে ডেকে,/পাতায় পাতায় তোরে পত্র সে যে গেছে লেখি\' বসন্তের মাধবীকে নিয়ে গাওয়া গানের বাণী লিখে কি অর্থ বোঝানো যায়! তাকে ভালোবাসতে হলে চাই গানের আসর। এ জন্যই বোধকরি বসন্তোত্সব। রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনে বসন্তোৎসব প্রবর্তন করে গেছেন। ক্ষণিকের কাম্য অতিথির জন্যও চাই উপাচার, উপকরণ ও উপহার। বসন্তের জন্যও, বাসন্তীর জন্যও, মাধবীর জন্যও। মালতি, পারুল, জুঁই, জাতি, মলি্লকা, নবমলি্লকা, শারদ মলি্লকার জন্যও চাই উৎসব-উপহার। আর মনের বনে হলেও এদের জন্য উৎসব প্রয়োজন।
ঢাকায় এখন মাধবীকে পাবেন বলধা গার্ডেন, রমনা পার্ক, বাংলাদেশ শিশু একাডেমী ও ধর্মরাজিক বৌদ্ধ বিহারে। ছবিটি ধর্মরাজিকের ঝোপালো গাছ থেকে তোলা। শিশু একাডেমী ও ধর্মরাজিকে আমি উদ্যোগ নিয়ে রুয়েছি। গত দুই বছর ধরে ধর্মরাজিকের গাছটিকে আমি ইচ্ছে করে ডালপালা ছেঁটে দেইনি। তাতে গাছটি বড় ও ঘন ঝোপালো হয়ে গেছে তার খেয়াল-খুশি মতো। তাতেই থরে থরে ফুল ফুটেছে, হয়ে উঠেছে দুর্দান্ত উসকানিমূলক যৌবনবতী সুন্দরী। ফুলের সোমত্ত গুরুভারে তার বক্ষ বিদীর্ণ হওয়ার সুগন্ধ সৌন্দর্যে ভরপুর। ডাল না ছাঁটলে তাকে বশে রাখাই দুরূহ মুশকিল। অমনি ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে উদ্যত, বারণ করেও ধরে রাখা মুশকিল।
তার লতা লকলক করে বেড়েই চলে। সরল লম্বা লম্বা ডালের পর্বের মাথায় পাতা ও ফুল ফোটে। ফুল আসার আগে এলোচুলে বড্ড বেমানান মনে হতে পারে, কিন্তু বসন্তে দেখবেন তাতে ফুলের যৌবনধন্য জৌলুস। কোমল রোমশ পাপড়ির স্পর্শে পার্থিব ও অপার্থিব সুখ অনুভবযোগ্য। তবে আপনি যদি মাধবীর দেখা ও স্পর্শের দুর্লভ সুযোগ পেয়ে যান। পাবেন না, কারণ মাধবীরা দুর্লভ। মাধবীরা হারিয়ে যাচ্ছে অনাদরে, অবহেলায়। এখন শৌখিন ও সৌন্দর্যপিপাসু ছাড়া মাধবীদের কেউ মনে করে না। মাধবী তাই যাকে ধরা দেয় শুধু তাকেই আকুল করা সুখ-সম্ভোগ দিতে রাজি হয়।
মাধবীকে নিয়ে রাধার বিরহ বেদনা ও পূর্ব রাগের চিত্র দিয়ে এই লেখা শেষ করলে আমাকে দোষ দেবেন না যেন,
এই তো মাধবী তলে/আমার লাগিয়া পিয়া
যোগী যেন সদাই ধেয়ায়।
পিয়া বিনে হিইয়া-কোণ/ফাটিয়া না পড়ে গো
নিলাজ পরাণ নাহি যায়।
সখি হে! বড় দুঃখ রহল মরমে
আমারে ছাড়িয়া পিয়া/মথুরা রহল গিয়া
মাধবী রহিছে আজও ভরমে।
আর মাধবী কুঞ্জে প্রিয়তম কৃষ্ণকে দেখে চন্দ্রাবলী কী বলেছিলেন শুনুন, 'ওরে সখি পদ্ম! স্বপ্নে দেখলাম মোষের গায়ের রঙের একটি নদী, তার তীরে মাধবীলতার কুঞ্জ, ফুলে ফুলে ভরা, তাই ভ্রমরের দল চারদিক মুখরিত করছে গুণ গুণ স্বরে। তারপর দেখি, ওই কুঞ্জের ভিতর বসে আছে কালোয় কালো মিশে যাওয়া এক স্বরূপ। পরণে তার হলুদ রঙের অপূর্ব বস্ত্র। অনেকক্ষণ চেয়ে চেয়ে দেখছি, সেও বোধহয় আমার দিকে চেয়ে আমারই মতো স্তব্ধ হয়ে রয়েছে।'
মাধবীর দুধ-সাদা পেলব পাপড়িতে আছে হলুদ রঙের জ্বলন্ত বসন্ত-উদ্ভাস। ওকে আপন চোখে ঘন সবুজ পাতার পটভূমিতে না দেখতে পেলে বৃথাই হবে এই বাগাড়ম্বর।
আর, অতি জরুরি বিষয়টি হলো মধুমালতীকে (কুইসকুয়ালিস ইন্ডিকা লিন, ফ্যামিলি কমব্রেটাসে) মাধবী (বৈজ্ঞানিক নাম হিপটাজে বেঙ্গলেনসিস, ফ্যামিলি মেলপিখিয়াসে) বলে অনেকে ভুল করেন। এখানে মাধবীর কথাই বলা হলো। মধুমালতী বা মধুমঞ্জরীর নয়।

চার কোটিপতি চাষির গল্প

Wednesday, September 1, 2010

গাছে ফল, মাঠে সবজিন্ধ এই নিয়ে ঈশ্বরদী। মাঠের পর মাঠ শুধু সবজি আর সবজি। গ্রামের পর গ্রাম চোখে পড়বে বিভিন্ন রকম ফলবাগান। এখানকার এমন কোনো বাড়ি নেই, যার চার পাশের পতিত জায়গায় কোনো সবজি কিংবা ফলের চাষ করা হয়নি। শুধু পাবনা জেলা নয়, দেশের বিভিন্ন জেলায় এখানকার সবজির সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে। বহু শিক্ষিত যুবক সবজি চাষে নেমে স্বনির্ভর হয়েছেন। এমন সবজি ও ফল বিপ্লবের পেছনে ঈশ্বরদীর চার দিকে চারজন পরিশ্রমী ও অগ্রণী চাষির অবদান রয়েছে। তারা নিজেরা হয়েছেন সফল ও কোটিপতি, অন্য দিকে তৈরি করেছেন আরো অনেক সফল চাষি।

কলেজ পালানো ছেলে কোটিপতি লিচুচাষি ১৯৮৩ সাল। ঈশ্বরদীর মিরকামারি গ্রামের অবস্খাপন্ন চাষি তোরাব মণ্ডল ছেলে আবদুল জলিল কিতাবকে পড়াশোনার জন্য রাজশাহী কলেজে ভর্তি করিয়েছিলেন। কিন্তু ছেলে পড়াশোনা বাদ দিয়ে কলেজ ছেড়ে পালালেন। বাড়ি এসে শুরু করলেন লিচুচাষ। ছেলের এমন পাগলামি দেখে বাবা খুব ক্ষুব্ধ হলেন। ছেলে লেখাপড়া করে চাকরি করবে, তা না করে শুরু করল লিচু বাগান। বাবা ধরে নিলেন এ ছেলে দিয়ে আর কিছু হবে না। কিন্তু কী অবাক ব্যাপার, বাবার সব আশঙ্কা ভুল প্রমাণ করে ছেলে এখন দেশখ্যাত লিচুচাষি।
শুরু করেছিলেন এক বিঘা জমিতে ১০টি চারা লাগিয়ে। কিন্তু ১৯৯০ সালের মধ্যে ৫০ বিঘা জমিতে লিচু বাগান করে সবাইকে অবাক করে দেন। কিতাব মণ্ডল এ বছর পর্যন্ত ৬৫ বিঘা জমিতে লিচু বাগান করেছেন। তিনি জানালেন, ঈশ্বরদীতে তার বাগানেই সবচেয়ে বেশি জাতের লিচু রয়েছে। খরচ বাদ দিয়ে প্রায় এক কোটি টাকার লিচু বিক্রি হবে বলে আশা করছেন।
বাগান পরিচর্যায় ২২ জন শ্রমিক কাজ করে। পরিচর্যা খরচের বেশ কিছুটা উঠে আসে বাগানে সাথী ফসল হিসেবে চাষ করা হলুদের মাধ্যমে। ১৫ বিঘায় চাষ হয়েছে আপেল কুল ও বাউকুল।
লিচু নিয়ে কোনো গবেষণা নেই। লিচুর পরিচর্যার জন্য কোনো আলাদা ওষুধ বাজারে পাওয়া যায় না। কিতাব বললেন, যে পরিমাণ লিচু নষ্ট হয় তা থেকে অনায়াসে অ্যালকোহল উৎপাদন সম্ভব। বাইরে থেকে স্পিরিট আমদানির প্রয়োজনও পড়বে না। এ জন্য সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ছাড়া লিচু গাছ থেকে উত্তোলনের সাথে সাথে বাজারজাত করা হয়। উন্নত সংরক্ষণ ব্যবস্খা থাকলে দু-তিন মাস ধরে লিচু বাজারজাত করা যেত। এতে চাষি-ভোক্তা উভয়েই লাভবান হতেন।

ধনিয়া চাষে ধনী ময়েজ অপ্রধান মসলা ধনিয়া পাতার চাষ করেও দারিদ্র্য বিমোচন করা সম্ভব। তবে ধনিয়া পাতার জাতটি হতে হবে হাইব্রিড আর চাষ করতে হবে আগাম। তাহলেই বাজিমাত! যেমন করেছেন পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার বড়ই চড়া গ্রামের চাষি সিদ্দিকুর রহমান ময়েজ। তিনি আগাম হাইব্রিড জাতের ধনিয়া পাতা চাষ করেই ভূমিহীন থেকে কোটিপতি। হাইব্রিড ধনিয়ার পাশাপাশি তিনি অন্যান্য মসলা ও সবজি চাষ করেন। মাত্র মাধ্যমিক পাস এ চাষি ঈশ্বরদীর এক সফল ও মডেল চাষি। ধনিয়া চাষ কেমন লাভজনকন্ধ এমন প্রশ্নে তিনি জানান, প্রতি বিঘায় ২০ থেকে ২৫ মণ ফলন পাওয়া যায়। প্রতি মণ পাতা গড়ে চার-পাঁচ হাজার টাকা বিক্রি হয়। ধনিয়া আবাদের জন্য সাধারণ চাষিরা যখন ক্ষেতে চাষ শুরু করে তার অন্তত পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে একজন সবজি চাষি হিসেবে তিনি ধনিয়া পাতার জন্য চাষ শুরু করেন। একই জমিতে দুই-তিন দফা ধনিয়ার আবাদ হয়। গাছের বয়স দুই মাস হলেই বিক্রি করে দেয়া হয়। খরচ যায় জমির লিজমানিসহ প্রায় ছয় থেকে সাত হাজার টাকা।
ধনিয়া পাতার আবাদে অভাবনীয় সাফল্যের পর চাষি ময়েজ অন্যান্য সবজি ও ফল চাষেও এগিয়ে এসেছেন। এর মধ্যে কুল, গাঁজর, পেঁপে, চিচিংগা, বারোমাসী পিঁয়াজ উল্লেখযোগ্য। ২০০৪ সালে ৪১ বিঘাতে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ করে তিন লাখ টাকা লাভ করেন। ২০০৬ সালে ৮০ বিঘা জমিতে এক বিরাট কুল বাগান গড়ে তোলেন। ২০০৭ সালে কুল বিক্রি করে এক কোটি ১৫ লাখ টাকা আয় করেন। এ বছর তার গাজর চাষে ১০ লাখ টাকা লাভ হয়। ২০০৮ সালে কুল চাষে তার ৯৫ লাখ টাকা আয় হয়েছিল। ২০০৯ সালে ১০০ বিঘাতে কুল চাষ করেন। দাম পড়ে যাওয়ায় লোকসান হয়েছে। পেয়ারা বাগান করেছেন ২০ বিঘাতে। সবে পেয়ারা উঠতে শুরু হয়েছে।

গরুর ব্যাপারী এখন গাজর বাদশা সাত থেকে আট বছর আগে লোকে তাকে চিনত গরুর দালাল হিসেবে। বিত্ত-বৈভব ছিল না, ছিল না সামাজিক মর্যাদা। থাকার মধ্যে ‘শুধু বিঘে দুই ভুঁই ছিল’ তার। সেই দুই বিঘা জমি আজ জায়দুলকে গরুর ব্যাপারীর পরিচিতি মুছে করেছে গাজর বাদশা। ঈশ্বরদী উপজেলার ভাড়ইমারী গ্রামের ছাত্তারের ছেলে জায়দুল ইসলাম এখন দেশের অন্যতম প্রধান গাজর চাষি। জায়দুল জানান, লেখাপড়া না জানায় চাকরি বা অন্য ব্যবসায় যেতে না পারায় গরুর ব্যবসা ধরি। লোকে এ ব্যবসাকে বাঁকা চোখে দেখত। তারও খুব ভালো লাগেনি সে ব্যবসা। এরকম সময়ে এলাকার কৃষি কর্মী আব্দুল খালেক তাকে সবজি চাষের পরামর্শ দেন। জায়দুল ছেড়ে দেন গরুর ব্যবসা। কোমর বেঁধে নামেন সবজি চাষে। দুই বিঘা জমিতে গাজর চাষ করে প্রথম ৫০ হাজার টাকা মুনাফা পান। পাঁচ বছরের মাথায় ৩০ বিঘা জমিতে গাজর চাষ করেন। এখন তিনি চল্লিশ বিঘা জমিতে গাজর চাষ করেন। এই আট বছরের মাথায় তার নিজস্ব সম্পত্তির পরিমাণ ২৫ বিঘা। গাজর চাষাবাদ ও বিপণন সম্বধে জায়দুল আমাদের জানান, একই ক্ষেতে দুই দফায় গাজর আবাদ করা হয়। প্রথম ধাপে ভাদ্র মাসের প্রথম সপ্তাহে ক্ষেতে বীজ বোনা হয়। এই গাজর আগাম সবজি হিসেবে চড়া দামে (প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে) বিক্রি করা হয়। প্রথম দফায় গাজর তোলার পর দ্বিতীয় দফায় গাজর বোনা হয়। এই শেষের বার যখন গাজর তোলা হয় তত দিনে গাজরের বাজার নেমে যায়। এ জন্য গাজর কোল্ড স্টোরেজে রেখে দেন। জায়দুল জানান, প্রতি বিঘায় ৫০ থেকে ১২০ মণ ফলন পাওয়া যায়। বিভিন্ন খরচ বাদ দিয়ে বিঘাপ্রতি ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা মুনাফা থাকে।

পেঁপের রাজা বাদশা মিয়া ছাত্রজীবন থেকেই শাকসবজি আলু, টমেটো, গাজর, বেগুন ইত্যাদির চাষ করতেন। আজ শাহজাহান আলী ওরফে বাদশা মিয়ার নিজস্ব ৪০ বিঘা জমির ওপর শুধুই পেঁপের বাগান।
বাদশা মিয়া জানালেন, ৭৭ সালে বেগুন চাষে সাফল্য অর্জন করি। এক বিঘা জমিতে ৩৩ হাজার টাকা মুনাফা অর্জন করেছিলাম। মূলত তখন থেকেই সবজি চাষ পেশা হিসেবে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিই। ৮৮-৮৯ সালে ধনিয়ার জমি লিজ নিয়ে ৮০ বিঘা জমিতে শাকসবজি উৎপাদন করি। এতে সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার লাভ করি। ১৯৯৭-৯৮ সালে বঙ্গবìধু কৃষি পদক লাভ করি। এখন ৮২ একর জমির ওপর গড়ে তুলেছেন মা-মনি কৃষি খামার। যেখানে প্রায় ৩৫ প্রকার সবজি ও ছয় থেকে সাত জাতের ফল চাষ হচ্ছে। গড়ে তুলেছেন একটি ডেয়ারি ফার্ম। দেশের মধ্যে তিনিই প্রথম বাণিজ্যিক ভিত্তিতে শরিফা বাগান করছেন। তার খামারে সব মিলিয়ে ৫০ থেকে ৬০ জন লোকের কর্মসংস্খান হয়েছে। বাদশা মিয়া আমাদের জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, বারি, বিনা, বিএডিসি, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় তিনি খামার পরিচালনায় সাফল্য লাভ করেছেন।

লেখক:আমিনুল ইসলাম জুয়েল
তথ্যসূত্র: দৈনিক নয়াদিগন্ত

মনের উঠোনে

সাম্প্রতিক সংযোজন

মোবাইল থেকে দেখুন

আমাদের দেশ এখন আপনার মুঠোফোনে, মোবাইল থেকে লগইন করুন আমাদের দেশ

দ র্শ না র্থী

দ র্শ না র্থী

free counters

কে কে অনলাইনে আছেন