বোয়ালমারীতে কয়েক হাজার সরকারি গাছ লোপাট

Tuesday, October 26, 2010


ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের চাঁদপুর জিসি (গ্রোথ সেন্টার) থেকে কালিনগর জিসি সড়কের ছয় কিলোমিটার অংশে দুই পাশের লাগানো কয়েক হাজার সরকারি গাছ লোপাট হয়ে গেছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এই লুটপাটে জড়িত বলে অভিযোগ আছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, গাছগুলো রক্ষায় এলজিইডি কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে এলজিইডি ওই সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির ছয় থেকে সাড়ে ছয় হাজার গাছ লাগায়। এর মধ্যে ১০০ থেকে ১৫০টি গাছ বর্তমানে টিকে আছে বলে এলজিইডির মাঠ তত্ত্বাবধায়ক মুজিবুর রহমান গতকাল সোমবার জানান। গত রোববার সরেজমিনে রাস্তার দুই পাশে কেটে নেওয়া কয়েক শ গাছের গোড়া দেখা গেছে। পশ্চিম আজলবেড়া গ্রামের আকতার হোসেন (৩০) জানান, ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছগুলো ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার-দফাদারেরা কেটে নিয়ে যান। সেই সঙ্গে কখনো কখনো তাঁরা মরা গাছও কেটে নেন। ধোপাডাঙ্গা গ্রামের কৃষক হাসিবুর রহমান জানান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তাঁর লোকজন দিয়ে বছরের পর বছর ধরে এ এলাকার হাজার হাজার সরকারি গাছ কেটে সাবাড় করছেন। এগুলো দেখার যেন কেউ নেই।
২০০৬ সালের জুনে বন বিভাগের বোয়ালমারী কার্যালয়ের ফরেস্টার শহীদুল আলমের দেওয়া এক তদন্ত প্রতিবেদনে জানা গেছে, ওই সড়কে লাগানো গাছগুলোর মধ্যে গত ছয় মাসে ৮৬৪টি মরা শিশুগাছ ও চারটি তালগাছ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নির্দেশে চৌকিদার-দফাদারেরা কেটে নিয়ে গেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ওই বছরের ১৪ জুন দাখিল করা এ প্রতিবেদনে ঘটনার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার চর চাঁদপুর গ্রামের মান্নান ঢালী, ধোপাডাঙ্গা গ্রামের মো. কাউছার, তালতলা গ্রামের আয়নাল ও চাঁদপুর গ্রামের কাশেম শেখকে দায়ী করা হয়।
চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সদস্য এস এম সামসুল আলম বলেন, ‘সড়কের দুই পাশে থাকা শিশুগাছগুলো আমাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশুগাছে মড়ক দেখা দেওয়ায় একদিকে মারা যাচ্ছে, অন্যদিকে ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছগুলো যে যার মতো কেটে নিচ্ছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন ও এলজিইডি কর্তৃপক্ষের কাছে বহু আবেদন-নিবেদন করলেও তাঁরা কর্ণপাত করে না।’
ওই তদন্ত প্রতিবেদন প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান সামসুল আলম বলেন, ‘এলাকায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে আমার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তৎকালীন সাংসদ শাহ মো. আবু জাফর ওই ফরেস্টারকে ডেকে আমার বিরুদ্ধে ভুয়া প্রতিবেদন দাখিলের কারণ জানতে চেয়েছিলেন।’
এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, ‘আমি এখানে অল্প কিছুদিন আগে এসেছি। এসব গাছ রক্ষায় এর আগে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জানি না। যেসব গাছ অবশিষ্ট আছে, সেগুলো রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহাবুবুর রহমান বলেন, চাঁদপুরে সরকারি গাছ কাটার কথা আমি শুনেছি। সহকারী কমিশনার (ভূমি) বর্তমানে ছুটিতে আছেন। তিনি ফিরে এলে এ ব্যাপারে তাঁকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হবে।’
প্রশিক্ষণকালীন ছুটিতে থাকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাব্বির ইকবাল বলেন, এলজিইডি কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও যথাসময়ে ব্যবস্থা গ্রহণে অনীহার কারণে উপজেলায় এলজিইডির লাগানো কয়েক হাজার গাছ লোপাট হয়ে গেছে।

সূত্রঃ প্রথম আলো (তারিখ: ২৬-১০-২০১০)

মনের উঠোনে

সাম্প্রতিক সংযোজন

মোবাইল থেকে দেখুন

আমাদের দেশ এখন আপনার মুঠোফোনে, মোবাইল থেকে লগইন করুন আমাদের দেশ

দ র্শ না র্থী

দ র্শ না র্থী

free counters

কে কে অনলাইনে আছেন