ভেষজ বালাইনাশক

Tuesday, August 31, 2010


অন্যান্য সবজির জমির তুলনায় রহিমেরকান্দী গ্রামের সবজির জমিগুলোর চেহারা ভিন্ন। জমির সবজি গাছগুলো মোটা-তাজা, ফলনের আকার বড় ও দেখতে সুন্দর। বাজারেও এসব জমির সবজির চাহিদা ব্যাপক। ভালো ফলনের পাশাপাশি ভালো দাম পাওয়ায় সবজি চাষিরাও খুশি। তবে সবজির ভালো ফলনের জন্য অন্য চাষিদের মতো জমিতে কীটনাশক ব্যবহার করেন না এ গ্রামের চাষিরা। তারা যে কীটনাশক ব্যবহার করে, তা পরিবেশবান্ধব এবং মানব দেহের কোনো ক্ষতি করে না। তেঁতুলের পাতা ও শসার পাতা থেকে এ বালাইনাশক তৈরি করা হয়। ব্যতিক্রমী এ ভেষজ বালাইনাশক উদ্ভাবন করেছেন নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মখলেছুর রহমান। ইতিমধ্যে সবজির জন্য বিখ্যাত নরসিংদীর বিভিন্ন উপজেলার শাকসবজির জমিতে, ফলের বাগানে ও পানের জমিতে ব্যবহৃত হয়েছে এ ভেষজ বালাইনাশক। এ থেকে কৃষকরা বেশ উপকৃত হওয়ায় দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ভেষজ বালাইনাশক। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরাও শসা ও তেঁতুল পাতার রসের পোকা দমন এবং রোগ প্রতিরোধের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে সন্তোষজনক ফল পেয়েছেন।

অনুপ্রেরণা ও উদ্ভাবন ফসলে বিশেষ করে সবজিতে বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে কীটনাশক ব্যবহৃত হয়। এতে মানুষের স্বাস্থ্যগত ও পরিবেশগত ক্ষতি হচ্ছে। সম্প্রতি বিষযুক্ত সবজি খেয়ে শিশু মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ক্যান্সারের প্রধান কারণ হচ্ছে বিষযুক্ত সবজি। এ কারণে দেশে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন শুরু হয়েছে। কিন্তু দেশে যেসব পদ্ধতিতে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করা হয়, সেসব পদ্ধতিতে পোকার আক্রমণ ও রোগের প্রতিরোধ সম্ভব নয়। প্রচলিত পদ্ধতিতে সব পোকা দমনও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বালাইনাশক প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও জমিতে বিষ প্রয়োগ করতে হচ্ছে। তাই মখলেছুর রহমান প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে এমন একটি বালাইনাশক পদ্ধতি আবিষ্কারের বিষয়ে ভাবছেন, যাতে কৃষকদের জমিতে কোনো বিষ দিতে না হয়।

মখলেছুর রহমান জানান, এসব বিবেচনা করে বিষয়টি নিয়ে জেলার শিবপুরের কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সত্য রঞ্জন সাহার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এমন একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করার, যার দ্বারা ক্ষতিকর পোকা ধ্বংস হবে কিন্তু উপকারী পোকার ক্ষতি হবে না। এরই অংশ হিসেবে তেঁতুল ও শসা পাতাসহ বিভিন্ন পাতার রস থেকে তৈরি ভেষজ বালাইনাশক পরীক্ষামূলকভাবে সবজির জমিতে ব্যবহার করা হয়। সব জমির প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, তেঁতুল ও শসার ক্ষেত্রে ভালো ফল পাওয়া যায়। এ বালাইনাশকে অপকারী পোকা মারা গেলেও উপকারী পোকার কোনো ক্ষতি হয়নি। বিভিন্ন সবজির জমিতে ব্যবহার করেও ভালো ফল পাওয়া যায়।

তৈরি হয় যেভাবে মুখ খোলা পাত্রে এক লিটার পানিতে ১২ গ্রাম শুকনো শসার পাতা সাত দিন ভিজিয়ে রাখতে হবে। সাত দিন পর এক ঘণ্টা ১৫ মিনিট ঢাকনা দিয়ে রাখতে হবে। এরপর সাত দিন ছিদ্রবিহীন রঙিন দুই-তিন পর্দা পলিথিন দিয়ে পাতিলের মুখ এমনভাবে বন্ধ করে রাখতে হবে, যেন বায়ুবদ্ধ অবস্থায় থাকে। এরপর ছেঁকে সরাসরি বালাই দমনে ব্যবহার করা যায় অথবা বোতলজাত করে রেখে ব্যবহার করা যাবে। এক লিটারের বেশি পানি হলে পরিমাণমতো শসার পাতা দিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা ভিজিয়ে সিদ্ধ করতে হবে। শসার পাতার বালাইনাশক প্রস্তুতের মতোই তেঁতুল পাতার বালাইনাশক প্রস্তুত করা হয়।

ব্যবহার স্প্রে মেশিনে প্রতি লিটার পানিতে আড়াই মিলিলিটার বালাইনাশক ভালোভাবে পানির সঙ্গে মিশিয়ে পুরো গাছ ভালোভাবে ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে। পোকার আক্রমণ থাক বা না থাক পাঁচ দিন পর পর অবশ্যই স্প্রে করতে হবে। অবস্থাভেদে প্রতিদিন অথবা এক দিন পর পরও স্প্রে করা যায়। বেলা ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে স্প্রে করলে উপকার বেশি। তেঁতুলের পাতার ক্ষেত্রে প্রতি লিটার পানিতে চার থেকে পাঁচ মিলিলিটার বালাইনাশক তিন দিন পর পর স্প্রে করতে হবে।

মখলেছুর রহমানের সংগ্রাম অধিকাংশ কৃষক তৈরি কীটনাশক ব্যবহারে বেশি আগ্রহী। ভেষজ বালাইনাশক তৈরি করতে ১৭ দিন সময় লাগার কারণে অনেকে এ পদ্ধতি ব্যবহারে অনাগ্রহ দেখান। কিন্তু মখলেছুর রহমান থেমে যাননি, তিনি দিনের পর দিন জেলার বিভিন্ন গ্রামে কৃষকদের কাছে ছুটে গেছেন, বুঝিয়েছেন বালাইনাশক ব্যবহারের সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং এর সুবিধা। পাশাপাশি কৃষকদের ভেষজ বালাইনাশক ব্যবহারের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। ফলে কৃষকরা জমিতে ভেষজ বালাইনাশক ব্যবহার করছেন এবং ভালো ফল পাওয়ায় তারা ধীরে ধীরে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।

মখলেছুর রহমান জানান, দীর্ঘ সংগ্রামের পর বর্তমানে বেলাব উপজেলার রহিমেরকান্দী গ্রামে ১০০ একর জমিতে কৃষকরা এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করছেন। পাশাপাশি মনোহরদী উপজেলায় পানের বরজসহ বিভিন্ন উপজেলায় শাকসবজি, ফলের বাগানে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ পদ্ধতি ব্যবহারে ভালো ফল পাওয়ায় দিন দিন বাড়ছে বিষমুক্ত সবজি চাষির সংখ্যা।

কৃষকরা যা বলেন বেলাব উপজেলার রহিমেরকান্দী গ্রামের কৃষক সাহাব উদ্দিন জমিতে সারা বছরই বিভিন্ন সবজির চাষ করেন। জমিতে কীটনাশক ব্যবহারের ফলে ধীরে ধীরে জমির ফসলের উৎপাদন কমে যায়। পাশাপাশি বাজারে কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভের অধিকাংশই কীটনাশকের পেছনে ব্যয় হয়ে যায়। ফলে দুচিন্তায় পড়েন কৃষক সাহাব উদ্দিন। একদিন গ্রামে মখলেছুর রহমান সবজির জমি পরিদর্শক করতে আসেন এবং পরামর্শ দেন ভেষজ বালাইনাশক ব্যবহার করার জন্য। মখলেছুর রহমানের কথামতো তিনি জমিতে ভেষজ বালাইনাশক ব্যবহার করেন। ফলে জমিতে বেড়ে গেছে ফলনের পরিমাণ। পাশাপাশি বর্তমানে গ্রাম থেকে প্রতিদিন সকালে ট্রাকে বিষমুক্ত সবজি যাচ্ছে ঢাকার বিভিন্ন মাল্টি সুপারমলে।

কৃষক সাহাব উদ্দিন বলেন, 'মখলেছ স্যারের কথামতো আমরা জমিতে তেঁতুল ও শসা পাতার রস ব্যবহার করে বিষমুক্ত সবজির মধ্যে সাফল্যের আলো খুঁজে পেয়েছি। জমিতে ফলন বাড়ার পাশাপাশি দাম পাচ্ছি সাধারণ সবজির চেয়ে বেশি। আমরা শুধু ঢাকায় নয়, বিদেশেও বিষমুক্ত সবজি বিক্রি করতে চাই।'
নরসিংদীর মনোহরদী পান চাষের জন্য বিখ্যাত। পানে কীটনাশক ব্যবহারের ফলে আমরা সরাসরি বিষ খাচ্ছি। কিন্তু বর্তমানে মখলেছুর রহমানের পরামর্শে মনোহরদীর পান চাষিরা কীটনাশকের বদলে তেঁতুল পাতা ও শসা পাতার বালাইনাশক ব্যবহার শুরু করেছেন।
উপজেলার চরমান্দালিয়ার পান চাষি শহিদুল্লাহ ও আলাউদ্দিন বলেন, শসা পাতার রস ব্যবহারের ফলে এবার পাশের কীটনাশক ব্যবহার করা জমির চেয়ে আমাদের জমি থেকে ভালো পান উঠছে। গাছের আগাগোড়া হয়েছে মোটা, আকারে বড় হচ্ছে। পাশাপাশি শোষক পোকার আক্রমণ থেকেও রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের কথা নরসিংদীর শিবপুর কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সত্য রঞ্জন সাহা বলেন, আমরা উপপরিচালক মখলেছুর রহমানের কথামতো বেগুনের চারটি পৃথক জমিতে সাধারণ, তেঁতুল পাতার রস, শসা পাতার রস ও কীটনাশক ব্যবহার করি। দেখা গেছে, সাধারণ জমিতে পোকামাকড়ের আক্রমণ সবচেয়ে বেশি, কীটনাশকের জমিতে কম এবং তেঁতুল পাতা ও শসা পাতার রস ব্যবহার করা জমিতে পোকার আক্রমণ কম ও ভালো ফলন পাওয়া যায়। এ পরীক্ষা থেকে সবজিতে তেঁতুল ও শসা পাতার রস কার্যকরী মনে হচ্ছে।

বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা ইনস্টিটিউট ঢাকার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. জহুরুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, শসার পাতার রসে সেফনিন ও তেঁতুলের পাতার রসে টেনিন যৌগ রয়েছে। এ দুটি যৌগই বালাইনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গবেষণাগারে শসা ও তেঁতুল পাতার রসের পোকা দমনের কার্যকারিতার ওপর লেটাল ড্রোস ৫০ ভাগ (খউ৫০) পরীক্ষা করে সন্তোষজনক ফল পাওয়া গেছে।

তিকিলা


টাকিলা , টেকিলা অথবা তিকিলা একটি মেক্সিকান জাতীয়তার আইকন , মেক্সিকান জাতীয়তার প্রাইড এন্ড কালচার । অনেকে মেক্সিকানরা বলেন ইট'স দ্যা অনলি প্রোডাক্ট দ্যাট আইডেন্টিফাইস আস এজ এ কালচার । টাকিলা শব্দটা androgynous , এল টাকিলা এবং লা টাকিলা দুই ভাবেই বলে , তবে মেসকুলিন ফর্মে বেশী উচ্চারিত হয় । মেক্সিকোর Jalisco প্রদেশের টাকিলা শহর এবং তার আশপাশে ( প্রায় চল্লিশ মাইলের বেল্ট ) মেক্সিকো সরকারের কড়া নযরদারীতে নিদৃস্ট স্ট্যান্ডার্ডের ভিত্তিতে টাকিলা উতপাদিত হয় । agave plant থেকে Agave পিনাস সংগ্রহ করা হয় ( সাধারনতঃ ৭/৮ বছর বয়স )।এই agave প্লান্টের চাষ , রক্ষনাভেক্ষন এবং হারভেস্ট সবই ওল্ড ফ্যাশন অর্থাৎ কোন মডার্ন টেকনোলজিব্যাবহার করা হয়না । বেশী সান লাইটের জন্য agave plant পশ্চিম মুখি করে রোপন করা হয় । এই agave প্রথমে মাটির গর্তে পোড়ানো হয় পরে পানির সাথে মিশিয়ে গ্রাইন্ডিং করা হয় । এইভাবে প্রথম এবং দ্বিতীয়বার মন্ড থেকে নির্ঝাস ডিস্টিল করা হয় । প্রথমে ওক ব্যারেল পরে স্টেনলেস স্টিল ব্যারেলে রাখা হয় । আমরা সাধারনতঃ টাকিলা বিয়াঙ্কো (সাদা) এবং টাকিলা গোল্ড দুই ধরনের টাকিলা বাজারে পাই । বিশ্বজুড়ে আজ টাকিলার জনপ্রিয়তা । বিশেষ করে নিনটেন্ডো জেনারেশন ডিসকোতে গেলে টাকিলা সট নেবেই এবং অনেকর কাছে টাকিলা পারফেক্ট ওয়ার্ম আপ শট । ২০০৪ সালে মেক্সিকো সরকার কোয়ালিটি কন্ট্রোলের দোহাই দিয়ে আমেরিকায় ওক ব্যারেলের পরিবর্তে বোতলজাত করে টাকিলা এক্সপোর্ট অরার জন্য এক অধ্যাদেশ জারি করে এবং এই অধ্যাদেশ আমেরিকার সাথে মেক্সিকোর ট্রেড ওয়ার শুরু হয় । পরে নাফতা সন্মেলনে আমেরিকান প্রেসিডেন্টের অনুরোধে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট অধ্যাদেশ তুলে নেন এবং আমেরিকান মিডিয়া ঐ সন্মেলনকে টাকিলা সন্মেলন নাম দেয় ।Worms in tequila ? মেক্সিকান সরকার টাকিলার জন্য যে সব ইনগ্রিডিয়েন্টস এপ্রুভ করেছে তার মধ্যে Worm নেই কিন্তু জেনেরিক টাকিলা যা Jalisco প্রদেশের অন্যান্ন শহরে তৈরি হয় সেখানে প্রতি বোতলে একটা করে Worm দেয়া হয় । agave plant এ একধরনের Worm পাওয়া যায় যা টাকিলা প্রসেসিং এর সময় মেল্টেড হয় এবং অনেকে মনে করে এইসব Worm এর জন্যই টাকিলার স্বাদ অনেক বেশী । জেনুইন agave Worm দেখতে উজ্জ্বল কোরাল , কিন্তু বোতলে দেয়ার কিছুদিন পর পিংক আকার ধারন করে আবার কেউ কেঊ সাদা Worm ব্যাবহার করে । এই Worm সহ টাকিলা শট নেয়ার জন্য ক্রেজি এবং ওয়াইল্ড ড্রিংকারের অভাব নেই । টাকিলা Worm খাওয়ার জন্য নিরাপদ । এই Wormকে ডিপ ফ্রাই করে স্পাইসি ছালসা সস দিয়ে খাওয়া হয় । অনেক ব্র্যান্ডের টাকিলা বাজারে আছে কিন্তু Jose Cuervo ( হোজে কুয়েরবো ) নুয়েমেরো উনো ( নাম্বার ওয়ান ) । প্রচন্ড সর্দি কাশিতে টাকিলা শট খুব কাজে লাগে । টাকিলা দিয়ে বানানো প্রায় প্রতিটি ড্রিংকের সাথে ট্রিপলসেক নামে একটা মিস্টি লিকার এড করে । পান্তা ভাতের সাথে যেমন নুনের রিলেশন তেমনি টাকিলার সাথে ট্রিপলসেকের রিলেশন । ট্রিপলসেকের মুল ইনগ্রিডিয়েন্টস আখ ।এবার আসুন আমার প্রিয় কিছু টাকিলা ককটেলের কথা বলি । প্রথমেই মারগারিতার কথা বলি । আপনী দুই ভাবে মারগারিতা এনজয় করতে পারেন , নরমাল উইথ আইস এবং ফ্রোজেন । আপনী যদি শ্লো ড্রিংকার হন তাহলে একটা ফ্রোজেন মারগারিতা নিয়ে ২/৩ ঘন্টা পার করে দিতে পারেন । সাধারন বারে বারটেন্ডার ব্লেন্ডারে আইস এবং এল্কোহল এক সাথে ব্লেন্ড করবে। আর মেক্সিকান বারে যান তাহলে মেশিনে তৈরী ফ্রোজেন মারগারিতা পাবেন । নরমাল কিম্বা ফ্রোজেন যে ভাবেই চান উইথ সল্ট বলতে ভুল করবেননা কারন আমাদের মত ট্রপিক্যাল কান্ট্রির ড্রিংকার সল্ট ছাড়া টাকিলা খেতে পারবেনা ।টাকিলা সানরাইজ আমার দ্বিতীয় পছন্দ। এছাড়া টাকিলার কিছু আপ স্কেল ড্রিংকস এর নাম দিলাম যা আপনারা ট্রাই করে দেখতে পারেন । ক্যাকটাস , বর্ডার ক্রসিং , ক্যালিফোর্নিয়া স্কাই , ডিভাইন প্লেজার ,দি এক্সপ্লোরার , গালফ অব মেক্সিকো ,লা বোম্বা ,মাফিয়া , নিউ ইয়র্ক স্কাই লাইন, ওলমেকা গোল্ড, সাউজা-ব্লান্কো, সাউজা- এক্সট্রা গোল্ড, কাজাদোরেস রেপোসাদো, হেরাদুরা রেপোসাদো ।

ফণিমনসা


ফণিমনসা মূলত উষ্ণ অঞ্চলের উদ্ভিদ- যা ক্যাকটাস নামে বেশি পরিচিত। সব প্রজাতির ক্যাকটাসে ফুল হয় না।বিশেষ প্রজাতির ক্যাকটাস গাছে বছরে মাত্র দু’বার দৃষ্টিনন্দন ফুল ফোটে।

 দেশি মাছের কৃত্রিম প্রজননে সাফল্য


বিলুপ্তপ্রায় ও বিপদাপন্ন দেশীয় কৈ, মেনি (ভ্যাদা), পাবদা, শিং ও মাগুর মাছের শুক্রাণু হিমায়িতকরণ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করে পুনরায় পোনা উৎপাদনে সফল হয়েছেন গবেষকেরা। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের ওই গবেষকেরা জানিয়েছেন, হিমায়িতকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১০০ বছর পরও ওই সব প্রজাতির মাছ পুনঃ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।
গতকাল সোমবার দুপুরে মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পড়েন প্রধান গবেষক অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম সরদার। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) অর্থায়নে এ গবেষণা করা হয়। ২০০৮ সালে এ গবেষণা শুরু হয় জানিয়ে তাঁরা দাবি করেন, বিশ্বে এ ধরনের গবেষণা এটাই প্রথম।
অধ্যাপক রফিকুল জানান, দেশীয় প্রাকৃতিক জলাশয়ের মাছ অত্যন্ত সুস্বাদু হলেও প্রতিনিয়তই আমরা চাষ করা মাছের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি। এ দেশে প্রায় ২৬৫ প্রজাতির মাছ থাকলেও প্রায় ২৫ প্রজাতির মাছ ইতিমধ্যেই জলাশয় থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। হুমকির সম্মুখীন আরও প্রায় ৫০ প্রজাতির মাছ। জলাশয় ভরাট ও আবাসন সৃষ্টির কারণে অন্যান্য প্রজাতির মাছের উৎপাদনও কমে যাচ্ছে। মৎস্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যমতে, ২০০৭-০৮ সালে দেশীয় শিং, কৈ ও মাগুর মাছের উৎপাদন ছিল প্রায় ৭৬ হাজার মেট্রিক টন, যা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই কম। এসব দিক বিবেচনা করেই হিমায়িতকরণ পদ্ধতিতে দেশীয় প্রজাতির কৈ, মেনি, পাবদা, শিং ও মাগুর মাছের বংশ সংরক্ষণের এ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন তাঁরা।
রফিকুল আরও জানান, হিমায়িত পদ্ধতি বর্তমান সময়ের হ্যাচারিতে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে উৎপাদিত পোনার চেয়ে ভালো। কারণ, কৃত্রিম প্রজননের ফলে পোনার মধ্যে ইনব্রিডিং (আত্মীয় সম্পর্কের মধ্যে প্রজনন) এবং হাইব্রিডাইজেশনের (সংকরায়ণ) সৃষ্টি হয়। ফলে উৎপাদন কমার পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব দিন দিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু হিমায়িত মাছের শুক্রাণু দিয়ে প্রজনন করালে দেশীয় প্রজাতির এসব মাছ বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পাবে।
গবেষণায় সহকারী হিসেবে ছিলেন ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী সংকর কুমার সাহা, মো. ফজলে মনোয়ার সরকার, মো. আবুল কালাম আজাদ ও মনিরুজ্জামান।

সূত্রঃ প্রথম আলো

অর্জুন


দেশজ গাছগুলোর মধ্যে অর্জুনের উপকারের কথা বলে শেষ করা যাবে না। কমব্রিটেসি গোত্রের অন্তর্ভুক্ত এ গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Terminalia arjuna , সংস্কৃত নাম ককুভ। বিরাটাকৃতির পত্রমোচী বৃক্ষ। কা- মসৃণ, মৃদু বাদামি কিংবা সবুজাভ ধূসর। পাতা সরল, ৩-৬ ইঞ্চি লম্বা, ডিম্বাকৃতি, চামড়ার মতো, প্রায় স্থূলকোণী, মসৃণ এবং বিন্যাসে বিপ্রতীপ। পুষ্পমঞ্জরী উৎক্ষিপ্ত, বহু পৌষ্পিক, প্রান্তিক, খাটো এবং অনিয়ত। ফুল অতি ক্ষুদ্র, অনাকর্ষী, মৃদু হলুদ রঙের, খাটো এবং ঘনবদ্ধ। বৃত্যংশ ৫টি, প্রায় মসৃণ। ফল ডিম্বাকৃতি, কাঠের মতো কঠিন, শুষ্ক এবং ৫টি শিরবিশিষ্ট। শীতের শেষেই সাধারণত গাছ নিষ্পত্র হয়ে যায় এবং বসন্তে নতুন পাতায় গাছ ভরে যায়। নতুন পাতা গজানোর সময়েই গাছের শাখাগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে ভরে ওঠে।
অর্জুন উপকারী ভেষজ। যাদের বুক ধড়ফড় করে অথচ হাই ব্লাডপ্রেসার নেই, তাদের জন্য অর্জুন বাকল কাঁচা
হলে ১০-১২ গ্রাম আর শুকনো হলে ৫-৬ গ্রাম একটু থেঁতো করে, ১২৫ মিলিলিটার দুধ আর আধালিটার পানি একসঙ্গে সিদ্ধ করে, আন্দাজ ১২৫ মিলিলিটার থাকতে নামিয়ে, ছেঁকে বিকালের দিকে খেতে হবে। তবে গরম অবস্থায় সিদ্ধ দুধটা ছেঁকে রাখা ভালো। এর দ্বারা বুক ধড়ফড়ানি অবশ্যই কমবে। তবে পেটে বায়ু না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। অর্জুনের বাকল এ পদ্ধতিতে সেবন করলে লো ব্লাডপ্রেসারও স্বাভাবিক হবে। প্রাচীন বৈদ্যরা বাকলের গুঁড়ো, বাসক পাতার রসে ভিজিয়ে সেটা কমপক্ষে ৭ বার শুকিয়ে রেখে দিতেন। দমকা কাশির রোগীকে এর সঙ্গে একটু ঘি ও মধু বা মিছরির গুঁড়ো মিশিয়ে চাটতে দিতেন। ৪-৫ গ্রাম অর্জুন বাকলের ক্কাথে ছাগলের দুধ মিশিয়ে সেবন করালে রক্ত আমাশয় উপশম হয়। জেনে রাখা ভালো যে অর্জুন গাছের সব অংশই কষায় রস (
Astringent), এজন্য অর্জুন ক্কাথে অনেকের কোষ্ঠকাঠিন্য হয়। তবে দুধে সিদ্ধ অর্জুন বাকলের ব্যবহারে কোষ্ঠকাঠিন্য হয় না। শরীরের কোথাও মচকে গেলে কিংবা হাড়ে চিড় খেলে অর্জুন বাকল ও রসুন বেটে অল্প গরম করে ওখানে লাগিয়ে বেঁধে রাখলে ওটা সেরে যায়। তবে সেই সঙ্গে অর্জুন বাকলের চূর্ণ ২-৩ গ্রাম মাত্রায় আধাচামচ ঘি ও সিকি কাপ দুধ মিশিয়ে অথবা শুধু দুধ মিশিয়ে খেলে আরো ভালো হয়। অর্জুন ফলের শুকনো টুকরো কলকে করে তামাকের মতো ধোঁয়া টানলে হাঁপানির টান কমে যায়। অর্জুনের বাকল মিহি করে গুঁড়ো করে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে মুখের মেচতায় লাগালে মেচতার দাগগুলো চলে যায়। শরীরের কোথাও ফোড়া হলে অর্জুনের পাতা দিয়ে ঢাকা দিলে ফোড়া ফেটে যায়, তারপর তাতে পাতার রস দিলে তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়। এত উপকারী একটি গাছ অর্জুন অথচ আমরা কত নিষ্ঠুর ! বাকল সংগ্রহের জন্য অর্জুনের কচি চারাগাছগুলোকেও রেহাই দেই না আমরা। পার্ক, বাগান কিংবা রাস্তার ধারের অর্জুন গাছ সব জায়গার একই চিত্র।

সর্পগন্ধা

Monday, August 30, 2010


সর্পগন্ধা একটি উপকারী বৃক্ষের নাম। এ গাছকে ইংরেজিতে রাউলফিয়া বলা হয়। খ্রিস্টের জন্মের কয়েকশ' বছর আগে চরক সংহিতায় সর্পগন্ধা নামে গাছটির উল্লেখ ছিল। সর্পগন্ধা আমাদের দেশের ছোট এক বুনো গাছ। বহু বছর ধরে হোমিওপ্যাথিক, অ্যালোপ্যাথিক এবং আয়ুর্বেদিক ওষুধের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে এ গাছ। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপালসহ উপমহাদেশের অন্যান্য দেশে মোট পাঁচ রকমের সর্পগন্ধা পাওয়া যায়। সাপকে নিয়ে এ গাছটির সঙ্গে আমাদের দেশে অনেক উপকথা ছড়িয়ে আছে। যেমন, সাপের সঙ্গে লড়ার আগে নেউল নাকি সর্পগন্ধার পাতা চিবিয়ে নেয়। সাপ মানে অবশ্যই বিষধর সাপ। এর জন্যই নাকি সাপের বিষ নেউলকে কাবু করতে পারে না। অনেকের বিশ্বাস, সর্পগন্ধা গাছের পাতা বেটে গোড়ালিতে লাগালে সাপ ও বোলতার বিষ ক্ষতি করতে পারে না। গাছটির শিকড় সাপের মতো অনেকটা আঁকাবাঁকা বলেই হয়তো এসব ধারণার জন্ম হয়েছে।

এ উপমহাদেশের বেশিরভাগ দেশেই বুনো অবস্থায় সর্পগন্ধা গাছ জন্মায়। সর্পগন্ধা বৃক্ষ বড় জোর ৪ ফুট লম্বা, পাতাগুলো বেশ বড়। কদম গাছের পাতার মতো দেখতে অনেকটা। গোছা গোছা সাদা রঙের ফুল ফোটে গাছের মাথায়। ফুলের কুঁড়ি ও পাপড়ির নিচের দিক গোলাপি।


রক্তচাপ কমানোর ওষুধ হিসেবে সারা বিশ্বে এখন সর্পগন্ধা থেকে তৈরি রেসার পিন ব্যবহার করা হচ্ছে। উন্মাদদের মাথা ঠাণ্ডা রাখার জন্য প্রথমে এই ওষুধ ব্যবহার করা হয়েছিল। এখন অনিদ্রা রোগের ওষুধ হিসেবেও রেসার পিন প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয়। সর্পগন্ধা গাছের পাতার নির্যাস চোখের ছানি সারাতেও কাজে লাগে। তবে রেসার পিন সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় সর্পগন্ধা গাছের শিকড়ের ছালে। এ গাছ পাহাড়ি অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি জন্মায়। সর্পগন্ধা গাছে ফলও হয়ে থাকে। এ ফলগুলো প্রথমে সবুজ, তারপর লাল এবং সবশেষে কালো হয়ে যায়। একসঙ্গে প্রচুর ফুল ও তিন রঙের ফলসহ দেখতেও সর্পগন্ধা গাছ বেশ সুন্দর।

নাসপাতি


নাসপাতি ( Pyrus communis) - বাংলার একটি পরিচিত সুস্বাদু ফল । এটি মাঝারি আকারে গাছ। বিদেশী ফল আপেলের চেয়ে দ্বিগুণ ভিটামিন সি ও প্রোটিন সম্পন্ন নাসপাতি পার্বত্য এলাকায় একটি নতুন সম্ভাবনাময় ফল হিসেবে কৃষকের মাঝে পরিচিতি পেয়েছে। কৃষি বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে, খাগড়াছড়ি বারি-১ জাতের নাসপাতি এখানকার মাটি ও আবহাওয়া এই ফলের জন্য বেশ উপযোগী ।
পাবর্ত্য চট্টগ্রামের পতিত ছোট ছোট পাহাড়ি দোঁ-আশ ও বেলে মাটিতে নাসপাতি চাষ খুবই উপযোগী। পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র খাগড়াছড়ি সম্ভাবনাময় এই জাতের ফলের চাষাবাদ সম্প্রসারণে বেশ কয়েক বছর ধরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে গুটি কলম বিতরণ করে আসছে।
এখানের আবহাওয়া নাসপাতি’র ফলন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও অন্যান্য ফলের চেয়ে বেশি হওয়ায় এই ফলের চাষবাদ দিনদিন বাড়ছে। তাছাড়া নাসপাতি অপেক্ষাকৃত শক্ত ফল হওয়ায় সংরক্ষণ ক্ষমতাও বেশি। কৃষকদের দেরিতে বাজারে সংরক্ষণ করার সুযোগ থাকায় অনেকেই এটি অর্থনৈতিকভাবে সম্ভাবনা বলে মনে করছেন। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে রোপণের ৫ বছরেই প্রতিটি নাসপাতির গাছ থেকে ৩০ থেকে ৬০ কেজি ফল উৎপাদন সম্ভব।

ছয় বিঘার ফসল কেটে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা

Saturday, August 28, 2010


ইসরাইল হোসেন প্রায় এক বিঘা জমিতে কলা আর মরিচের চাষ করেছিলেন। সন্ত্রাসীরা বৃহস্পতিবার রাতে তার সেই কলা আর মরিচগাছগুলো কেটে নষ্ট করে দিয়েছে। একটি হত্যা মামলার সাক্ষী হওয়ায় তাঁর ক্ষেতের ফসল নষ্ট করা হয়েছে বলে অভিযোগ ইসরাইল হোসেনের।
শুধু ইসরাইলের একার নয়, ঝিনাইদহের শৈলকুপার উত্তর বোয়ালিয়া গ্রামের সাতজন কৃষকের প্রায় ছয় বিঘা জমির ফসল এভাবে কেটে নষ্ট করেছে সন্ত্রাসীরা। ক্ষতির পরিমাণ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। যাঁদের ফসল নষ্ট করা হয়েছে তাঁদের অধিকাংশই গ্রামের একটি হত্যা মামলার সাক্ষী। ওই মামলার আসামিরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের। সন্ত্রাসীরা মামলায় জামিন পাওয়ার পর থেকেই হুমকি দিয়ে আসছিল।
বোয়ালিয়া গ্রামের কৃষক ইসরাইল হোসেন জানান, চলতি বছরের ২৬ জুন গ্রামের একটি গোলমালে আবদুল কুদ্দুস নামের এক কৃষক গুরুতর আহত হন। তাঁকে উন্নত চিকিত্সার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে ১২ জুলাই তিনি মারা যান। আহত হওয়ার পর আবদুল কুদ্দুসের ভাই বাদলা শেখ বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। আসামিরা আদালত থেকে জামিন পেয়ে মামলার সাক্ষীদের নানাভাবে হুমকি দিতে থাকে। তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর ৪০ শতক ছাড়াও জালাল আহম্মদের ২০ শতক, রবিউল ইসলামের ১৩ শতক, লাভলুর রহমানের ৪০ শতক, সোলাইমান হোসেনের ৪৪ শতক, নেকবার আলীর ৩০ শতক ও আফজাল হোসেনের ৩০ শতক জমির ফসল কেটে নষ্ট করা হয়েছে। এঁদের মধ্যে জালাল আহম্মদ ও নেকবার আলী ছাড়া অন্যরা আবদুল কুদ্দুস হত্যা মামলার সাক্ষী। জালাল ও নেকবার সাক্ষীদের পরিবারের সদস্য।
শুক্রবার সকালে তাঁরা খবর পান মাঠে সবার ফসল কেটে নষ্ট করা হয়েছে। খবর পেয়ে তাঁরা মাঠে ছুটে যান। সেখানে দেখেন, জালাল আহম্মদকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। জালাল আহম্মদ জানান, তিনি ভোরে সেহির খাওয়ার পর খেত দেখতে এসেছিলেন। এ সময় দেখেন জমিতে লোকজন ঘোরাঘুরি করছে। জিজ্ঞাসা করা মাত্রই তাঁকে বেঁধে ফেলা হয়। এরপর সন্ত্রাসীরা ফসল কেটে দ্রুত চলে যায়। জালাল আহম্মদ জানান, তাঁর মাত্র ২০ শতক জমি আছে, যে জমিতে মরিচের চাষ করেছিলেন। সেখানে ধারদেনা করে প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ করেছেন। আশা করেছিলেন খরচের দ্বিগুণ টাকার মরিচ বিক্রি করতে পারবেন। এখন কীভাবে ধার পরিশোধ করবেন তা নিয়ে চিন্তিত। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে শৈলকুপার কচুয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান জানান, খবর পেয়ে তিনি খেত দেখতে গিয়েছিলেন। কারা এই ফসল নষ্টের সঙ্গে জড়িত তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি জড়িতদের উপযুক্ত বিচারের ব্যবস্থা করা হবে।

সূত্রঃ প্রথম আলো

মেথি চাষাবাদ

Friday, August 27, 2010


মেথি (Trigonella foenum-graecum)

পরিচিতিঃ মাঝারী জাতীয় মৌসুমী গাছ, একবার ফুল ও ফল হয়ে মরে যায়


বৈ
শি
উচ্চতায় ৩০-৬০ সেমি (১২-২৪ ইঞ্চি), পাতা হালকা সবুজকিছুটা মোটা ধরণের পাতা সোজা হয়ে ৩ টি একসাথে জন্মায়শাক হিসাবে খাওয়া যায়

ফুলঃ স্ত্রী, পুরুষ দুই ধরণের ফুলই হয়, সাদা-হলুদ রং৩ টি পাঁপড়ি


ফলঃ শুঁটি জাতীয় ফল, প্রায় ২০-৩০ মি. মি. লম্বা


বীজঃ
বাদামি-হলুদ রং এর চৌ-কোনা বীজ, প্রায় ৩ মিমি লম্বা প্রতিটি ফলে ১০-২০ টি বীজ থাকতে পারে


ব্যবহারঃ মশলা হিসাবে ব্যাপক ব্যবহারপাঁচ ফোড়নের একটি উপাদানইউনানী, কবিরাজী ও লোকজ চিকিৎসায় বহু রকমের ব্যবহার আছেপ্রসাধনীতেও ব্যবহার হয়মেথি থেকে ষ্টেরয়েডের উপাদান তৈরী হয়


যে অংশটি ব্যবহার হয়ঃ শুকনো বীজ


পরিবেশঃ
প্রচুর রোদ লাগে এমন যে কোন সমতল জমি


মাটিঃ
যে কোন মাটিতেই জন্মায়


বপন সময়ঃ
কার্তিকের শেষ থেকেই লাগানো ভাল


জমি তৈরীঃ
কার্তিকের মাঝামাঝি সময়ে মাটিতে জোআসলে জমি তৈরী আরম্ভ করা যেতে পারেভাল করে কুপিয়ে বা লাঙ্গল দিয়ে মাটি মিহি করতে হবেনিড়ানি দিয়ে ঘাস ও আগাছা পরিষ্কার করতে হবে১০ শতাংশ জমিতে ১০ কেজি পচা গোবর ও ২ কেজি পচা খৈল, অথবা ১০ কেজি পরিমাণ যে কোন কম্পোস্ট মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে বেড তৈরী করা যেতে পারেসার মেশানোর ১ সপ্তাহ পরে প্রয়োজন হলে একবার নিড়ানি দিয়ে বেড তৈরী শেষ করতে হবে

বপনঃ ১ ফুট বা ৩০ সেমি, দূরে দূরে ১-৪ ইঞ্চি গর্ত করে প্রতি গর্তে ২-৩টি করে বীজ পুঁততে হবে, খেয়াল রাখতে হবে বীজ বেশী গভীরে যেন না যায়


বীজের পরিমাণঃ ১০ শতাংশ জমিতে ৪৫০-৫০০ গ্রাম বীজ

বীজ শোধনঃ
বোনার আগে ভাল করে ধুলাবালি ও চিটা বীজ সরিয়ে নিয়ে হালকা গরম পানিতে ১০-১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবেবীজ ছায়ায় রেখে শুকিয়ে বপন করা উচিৎ


পরিচর্যাঃ
বীজ লাগানোর পরই হালকা করে মাটি দিয়ে গর্ত ঢেকে দিতে হবেপাখিতে বীজ খেতে না পারে, সতর্ক থাকতে হবেপ্রয়োজন হলে আগাছা পরিস্কার করতে হবে


সেচঃ
সেচের প্রয়োজন নেইতবে নতুন চারা লাগানোর পর রোদ বেশি হলে ছিটিয়ে পানি দেওয়া যেতে পারে; সন্ধ্যায় পানি ছিটিয়ে দেওয়া ভাল


সার প্রয়োগঃ
জমি তৈরীর সময় ছাড়া পরে সার দেওয়া প্রয়োজন নেই


পোকা মাকড় ও রোগবালাইঃ
চারা অবস্থায় এ্যাফিড জাতীয় পোকার জন্য ০.০৩% ডাইমিথোয়েট অথবা ০.০২৫% মিথাইল-ডেমিটোন মিশ্রণ ব্যবহার করা যেতে পারেপরিণত অবস্থায় ছত্রাক সমস্যা হলে ২৫ গ্রাম ছত্রাকবিনাশী যেকোন ওষুধ (ডিনোক্যাপ বা ডাইফলটান ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে


সময় কালঃ

অংকুরোদগম/ চারা গজানোঃ ৬-৮ দিন/ ০-১ সপ্তাহের মধ্যে

ফুল আসবেঃ ৪০-৫৫ দিন/৬-৮ সপ্তাহের মধ্যে

ফল আসবেঃ ৫৫- ৭০ দিন/৮-১০ সপ্তাহের মধ্যে

ফল পাকবেঃ ৭৫-১১০ দিন/ ১১-১৬ সপ্তাহের মধ্যে

বীজ বপনের পর সর্বমোট ১৬ সপ্তাহের মধ্যে ফসল পাকবে ও তোলার সময় হবে অর্থাৎ কার্তিকের শেষে চাষ করলে ফাল্গ্হনে ফসল তোলা যাবে


ফলনঃ
১০ শতাংশ জমিতে উপরোক্ত বর্ণনা অনুযায়ী চাষ করলে গড়ে ৭০-৮০ কেজি মেথি পাওয়া যাবে


ফসল সংগ্রহঃ
ফাল্গ্হনে গাছ শুকিয়ে আসলে জমি থেকে তুলে বাতাসে ঝুলিয়ে রেখে ২/৩ দিন রোদে শুকিয়ে নিয়ে হাতে মাড়াই করে বীজ সংগ্রহ করা যায়
গাছে সামান্য রস থাকতেই ফল সংগ্রহ করা উচিত, নয়ত বীজ জমিতে ঝরে পড়তে পারেঅনেক দিন ধরে ফল পাকে বলে একবারে ফসল তোলা যায়না


সংরক্ষণঃ
চটের বস্তায় বা মাটির পাত্রে বীজ সংরক্ষণ করা যেতে পারে
অন্তত: ৬ মাস পর্যন্ত বীজ সংরক্ষণ করা যায়শুকনো, অন্ধকার জায়গায় রাখতে হবে


আয়-ব্যয় হিসাবঃ

বীজের খুচরা মূল্যঃ ১০০ টাকা কেজি

পাইকারী মূল্যঃ ৮০ টাকা কেজি

বীজের আড়ত মূল্যঃ ৬০ টাকা কেজি

১০ শতাংশ জমিতে চাষের খরচঃ

বীজ ৫০০ গ্রাম = ৫০ টাকা

গোবর ২০ কেজি = ৮০ টাকা

খল ২ কেজি = ১৬ টাকা

মজুরী যদি প্রয়োজন হয় = ৩০০ টাকা (আনুমানিক)

সর্ব মোট খরচ = ৪৪৬ টাকা

৮০ কেজি মেথির বিক্রয় মূল্য = (৮০ x ৬০) = ৪,৮০০/= টাকা

অর্থাৎ ১০ শতাংশ জমি থেকে ১৬ সপ্তাহে রোজগার = প্রায় ৪.৩০০/= টাকা


সূত্রঃ চলতি বাজারদর, সেপ্টেম্বর ২০০৭

কালোজিরা চাষাবাদ


কালোজিরা (Nigella Sativa Linn.)

পরিচিতিঃ মাঝারী জাতীয় নরম মৌসুমী গাছ, একবার ফুল ও ফল হয়ে মরে যায়

বৈশিষ্ট্যঃ উচ্চতায় ২০-৩০ সেমি (৮-১২ ইঞ্চি), পাতা সরু ও চিকন, সবুজের মধ্যে ছাই- ছাই রং মেশানোজোড়া ধরে সোজা হয়ে পাতা জন্মায়


ফুলঃ স্ত্রী, পুরুষ দুই ধরণের ফুল হয়, নীলচে সাদা (জাত বিশেষে হলুদাভ) রং পাঁচটি পাঁপড়ি

ফলঃ গোলাকার ফল, কিনারায় আঁকর্শির মত রাড়তি অংশ থাকে

বীজঃ কালো রং এর প্রায় তিন-কোনা আকৃতির বীজবীজকোষ খাঁজ আকারে ফলের সাথে লম্বালম্বি ভাবে থাকে প্রতিটি ফলে ২০-২৫ টি বীজ থাকতে পারে


ব্যবহারঃ মশলা হিসাবে ব্যাপক ব্যবহারপাঁচ ফোড়নের একটি উপাদানইউনানী, কবিরাজী ও লোকজ চিকিৎসায় বহু রকমের ব্যবহার আছে প্রসাধনীতেও ব্যবহার হয়

যে অংশটি ব্যবহার করা হয়ঃ শুকনো বীজ ও বীজ থেকে পাওয়া তেল

পরিবেশঃ প্রচুর রোদ লাগে এমন যে কোন সমতল জমি

মাটিঃ যে কোন মাটিতেই জন্মায় বেলে-দোঁআশ মাটিতে ফলন ভাল হয়

বপন সময়ঃ অগ্রহায়নের শেষ থেকেই লাগানো যায়বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে পৌষের প্রথমে লাগানো ভাল

জমি তৈরীঃ ভাল করে কুপিয়ে বা লাঙ্গল দিয়ে মাটি মিহি করতে হবেনিড়ানি দিয়ে ঘাস ও আগাছা পরিষ্কার করতে হবে অল্প পরিমান, অর্থাৎ ১০ শতাংশ বা তার কম জমিতে চাষ করলে ৫ সেমি/ ২ ইঞ্চি উঁচু বেড তৈরী করা ভাল১০ শতাংশ জমিতে ১০ কেজি পচা গোবর ও ২ কেজি পচা খৈল, অথবা ১০ কেজি পরিমাণ যে কোন কম্পোস্ট মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে বেড তৈরী করা যেতে পারেমিহি মাটি দিয়ে সামান্য উঁচু বেড তৈরী করলে বেশি সার লাগবে নাখেয়াল রাখতে হবে যাতে কমপক্ষে ৬ ইঞ্চি (১৫ সেমি) মাটি আলগা থাকেঅগ্রহায়নের মাঝামাঝি সময়ে মাটিতে জোআসলে জমি তৈরী করা আরম্ভ করা যেতে পারে সার মেশানোর ১ সপ্তাহ পরে প্রয়োজন হলে একবার নিড়ানি দিয়ে বেড তৈরী শেষ করতে হবে

বপনঃ ১ ফুট বা ৩০ সেমি, দূরে দূরে ১-৪ ইঞ্চি গর্ত করে প্রতি গর্তে ২-৩টি করে বীজ পুঁততে হবে, খেয়াল রাখতে হবে বীজ বেশী গভীরে যেন না যায়

বীজের পরিমানঃ ১০ শতাংশ জমিতে ৩৫০-৪০০ গ্রাম বীজ

বীজ শোধনঃ আলাদা করে শোধনের দরকার নেইতবে বোনার আগে ভাল করে ধূয়ে ধূলাবালি ও চিটা বীজ সরিয়ে নেওয়া ভালভেজা বীজ বপন করা উচিৎ

পরিচর্যাঃ বীজ লাগানোর পরই হালকা করে মাটি দিয়ে গর্ত ঢেকে দিতে হবে পাখিতে বীজ খেতে না পারে, সতর্ক থাকতে হবেপ্রয়োজন হলে আগাছা পরিষ্কার করতে হবে

সেচঃ সেচের প্রয়োজন নেইতবে নতুন চারা লাগানোর পর রোদ বেশি হলে ছিটিয়ি েপানি দেওয়া যেতে পারে; সন্ধ্যায় পানি ছিটিয়ে দেওয়া ভাল

সার প্রয়োগঃ জমি তৈরীর সময় ছাড়া পরে আর সার দেওয়া প্রয়োজন নেই

পোকা মাকড় ও রোগবালাই ঃ কালোজিরা সহজে পোকা মাকড়ে আক্রান্ত করে নাবরং এর স্বাভাবিক পোকা মাকড় ধ্বংসের ক্ষমতা আছে সেরকম রোগ বালাই হয় না


সময় কালঃ

অংকুরোদগম/ চারা গজানো ঃ ১২-১৬ দিন/ ০-২ সপ্তাহের মধ্যে

গাছের বৃদ্ধিঃ ৩০-৪০ দিন/২-৫ সপ্তাহের মধ্যে

ফুল আসবেঃ ৩৫-৪২ দিন/ ৬-৭ সপ্তাহের মধ্যে

ফল আসবেঃ ৪২- ৫৫ দিন/৭-৮ সপ্তাহের মধ্যে

ফল পাকবেঃ ৬০-৮৫ দিন/ ৯-১২ সপ্তাহের মধ্যে

বীজ বপনের পর সর্বমোট ১২ সপ্তাহের মধ্যে ফসল পাকবে ও তোলার সময় হবে অর্থাৎ পৌষের প্রথমে চাষ করলে ফাল্গুন-চৈত্রে ফসল তোলা যাবে

ফলনঃ ১০ শতাংশ জমিতে উপরোক্ত বর্ণনা অনুযায়ী চাষ করলে গড়ে ৩০-৩৫ কেজি কালোজিরা পাওয়া যাবে

ফসল সংগ্রহঃ ফাল্গ্হন-চৈত্রে গাছ মরে গেলে গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করে ২ দিন রোদে শুকিয়ে নিয়ে হাতে মাড়াই করে বীজ সংগ্রহ করা যায়গাছে সামান্য রস থাকতেই ফল সংগ্রহ করা উচিত, নয়ত বীজ জমিতে ঝরে পড়তে পারে

সংরক্ষণঃ চটের বস্তায় বা মাটির পাত্রে বীজ সংরক্ষণ করা যেতে পারে অন্তত: এক বছর পর্যন্ত বীজ সংরক্ষণ করা যায় শুকনো, অন্ধকার জায়গায় রাখতে হবে

আয়-ব্যয় হিসাবঃ

বীজের খুচরা মূল্যঃ ১৫০ টাকা কেজি

পাইকারী মূল্যঃ ১২০ টাকা কেজি

বীজের আড়ত মূল্যঃ ১০০ টাকা কেজি

১০ শতাংশ জমিতে চাষের খরচঃ

বীজ ৪০০ গ্রাম = ৬০ টাকা

গোবর ২০ কেজি = ৮০ টাকা

খল ২ কেজি = ১৬ টাকা

মজুরী যদি প্রয়োজন হয় = ৩০০ টাকা (আনুমানিক)

সর্ব মোট খরচ = ৪৬৫ টাকা

৩৫ কেজি কালোজিরার বিক্রয় মূল্য = (৩৫ x ১০০) = ৩,৫০০/= টাকা

অর্থাৎ ১০ শতাংশ জমি থেকে ১২ সপ্তাহে রোজগার = ৩০০০/= টাকা

সূত্রঃ চলতি বাজারদর, সেপ্টেম্বর ২০০৭

মে ফ্লাওয়ার


মে মাসে ফোটে, তাই হয়তো ফুলটির নাম 'মে ফ্লাওয়ার'

লেডি’স স্লিপার


লেডি’স স্লিপার নামের এই অর্কিডটির ল্যাটিন নাম সাইপ্রিপেডিয়াম ক্যালকিওলাস। অর্কিডটির বয়স এখন ২শ’ বছর পেরিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হয়। বলা হয়, মধ্য ইউরোপ থেকে এটি এনে ক্যানফোর্থের ওই জায়গায় লাগানো হয়েছিল।
বৃক্ষবিশারদরা এই অর্কিডের চারা লাগাতে চেয়েছিলেন অন্যান্য অঞ্চলে। কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো তাদের ওই প্রচেষ্টা সফল হলেও ওগুলোতে একবারও ফুল ফোটেনি। লেডি’স স্লিপার নামের এই অর্কিডটি দেখতে প্রতিবছর ক্যানফোর্থের এই জায়গায় প্রচুর লোক আসে।

অশোক

Wednesday, August 25, 2010


অশোক শব্দটির অর্থ বীতশোক অর্থাত্ শোকহীন। মানবজন্মের দুঃখ-শোক অবসানের জন্য যিনি কঠিন তপস্যায় বোধিসত্ত্ব লাভ করেছিলেন, সেই গৌতম ভূমিষ্ঠ হয়েছিলেন এই অশোকতরুতলে। অনেকেই ভাবতে পারেন, ঘটনাটি কাকতালীয়। কিন্তু সে যা-ই হোক, এ ঘটনার পর অশোকতরুর জগত্খ্যাত হতে আর কি কিছু লাগে? উপরন্তু কথিত আছে, এই তরুতলেই তপস্যা করে গৌরী তাঁর শোকতাপ মুক্ত হয়ে সিদ্ধি লাভ করেছিলেন। সেই থেকে নাকি এর নাম হয়েছে অশোক (অমরকোষ)। ভগবান বিষ্ণুরও এক নাম অশোক। আর মগধের রাজা অশোকের কীর্তি তো অক্ষয় হয়েই আছে ইতিহাসের পাতায়। অশোক নিয়ে পুরাণ কাব্যে উচ্ছ্বাসের অন্ত নেই। সংস্কৃত কবিরা ভাবতেন, অশোক ফোটে লাস্যময়ী তরুণীদের পদস্পর্শে। দেবেন্দ্রনাথ সেন অশোক গুচ্ছ নামে কাব্যই রচনা করেছেন। এতে আছে, ‘হে অশোক, কোন রাঙ্গা চরণচুম্বনে মর্ম্মে মর্ম্মে শিহরিয়া হলি লালে লাল।’ আর রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, ‘আসতো তারা কুঞ্জবনে চৈত্র জ্যোত্স্নারাতে/ অশোক শাখা উঠত ফুটে প্রিয়ার পদাঘাতে।’ প্রিয়ার পদস্পর্শ পাক আর না-ই পাক, বসন্তের স্পর্শে এখন রক্তিম হয়ে আছে অশোকের শাখা।
অশোক একসময় প্রচুর ছিল দেশে। এখন তার দেখা পাওয়া যায় না খুব একটা। ঢাকায় বেশ কিছু অশোক আছে রমনা উদ্যানে, জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানেও। উদ্ভিদবিজ্ঞানী দ্বিজেন শর্মা তাঁর শ্যামলী নিসর্গ বইতে অশোকের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। এর বৈজ্ঞানিক নাম সারাকা ইন্ডিকা লিন (Saraca Indica Lin)। মাঝারি আকারের ঝাঁকড়া চিরসবুজ গাছ। কাণ্ড ধূসর, মসৃণ। পাতা লম্বা ধরনের। হালকা তামাটে রঙের অশোকের কচিপাতাও খুব সুন্দর দেখায়। ঘন পাতার সন্নিবেশে থোকায় থোকায় ফুল ফোটে। নতুন ফুল কমলা রঙের, দিনে দিনে রক্তিম হয়ে ওঠে। অনেক সময় কাণ্ডের বাকল ফেটেও থোকা থোকা ফুল ফুটতে দেখা যায়। বাসন্তী হাওয়ায় ছড়িয়ে পড়ে তার মধুর সৌরভ। দ্বিজেন শর্মা তাঁর বইতে জানিয়েছেন, বসন্ত ও হেমন্তেই অশোকের প্রধান প্রস্ফুটনকাল। তবে সারা বছরই অল্পবিস্তর ফুল ফোটে। ফল শিমের মতো।
বীজ থেকে সহজেই চারা গজায়, বাড়ে খুবই ধীরে।
অশোক শুধু দর্শনদারিই নয়, ঔষধিগুণেও অনন্য। দেশের প্রাচীন ইউনানি চিকিত্সা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তিব্বিয়া হাবিবিয়া কলেজের সহকারী অধ্যাপক হাকিম ফেরদৌস ওয়াহিদ জানিয়েছেন, ফুল ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। এ ছাড়া আন্ত্রিক রোগ, উদরাময়, গর্ভধারণের সমস্যা ও স্ত্রীরোগের চিকিত্সায় এর উচ্চমানের কার্যকারিতা রয়েছে। বিখ্যাত আয়ুর্বেদিক ওষুধ অশোকারিস্ট।
বসন্ত যেমন প্রেমের ঋতু, তেমনি অশোকও প্রেমের ফুল। প্রেমের দেবতা কন্দর্পের পঞ্চশরের অন্যতম রক্তিম অশোক (অরবিন্দ, অশোক, চূত, নবমল্লিকা, নীলোত্পল)। আবার অশোক আছে পঞ্চবটীতেও (অশ্বত্থ, অশোক, বট, বিল্ব, আমলকী)।

মণিরাজ

Tuesday, August 24, 2010


বাংলায় মণিরাজ বলা হলেও এটির বৈজ্ঞানিক নাম ফাইকাস সাধারণত শুষ্ক মণ্ডলীয় এলাকার উদ্ভিদ এটি গাছ থেকে ফুল বের হতে সময় লাগে ১০ থেকে ১২ বছর তবে একটি গাছ একবার ফুল দিয়েই মারা যায় ওষধি গুণ সমৃদ্ধ এ ফুলের রেণুতে রয়েছে তীব্র ঘ্রাণ

আপেল জামরুল

Monday, August 23, 2010


আপেল জামরুল বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্মপ্লাজম সেন্টারে উৎপাদিত লাল রঙের মনোলোভা এ ফলটি 'আপেল জামরুল' নামে পরিচিত, যার প্রাতিষ্ঠানিক নাম এফটিআইপি বাউ জামরুল-২।
প্রতিটি ফলের ওজন ২০ থেকে ৪০ গ্রাম। এই গাছ বছরে দুইবার একই পরিমাণ ফল ধারণ করে। এক থোকায় দুই থেকে ১০টি ফল থাকে। প্রতি একক জমিতে দেশি জামরুলের চেয়ে তিন গুণের বেশি গাছ লাগানো যায়। অর্ধড্রামে বাণিজ্যিকভাবেও চাষ সম্ভব। সাধারণত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে ফুল আসে এবং মে-জুন মাসে ফল পাকে।

রসুন

Saturday, August 21, 2010


রান্নার উপকরন হিসেবে রসুনের ব্যবহার আবহমান কাল থেকেই। শুধু রান্নায় স্বাদের তারতম্য আনার জন্য নয়, রসুনের পুষ্টিগুণও রসুনকে পৌঁছে দিয়েছে উপাদেয় মসলার তালিকায়। তাই রান্নার অনুষঙ্গের পাশাপাশি রসুন(Garlic) স্বাস্থ্য ভাল রাখার মন্ত্র হিসেবেও কাজ করছে।
রসুনে রয়েছে ময়শ্চার, প্রোটিন, ফ্যাট, মিনারেল ফাইবার ও কার্বোহাইড্রেট। ভিটামিন ও মিনারেলের মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, থিয়ামিন, রিবোফ্লোভিন, ভিটামিন সি। এছাড়া আয়োডিন, সালফার ও ক্লোরিনও রয়েছে অল্প পরিমানে।
  • রসুন ক্ষুধা মন্দা তৈরী করে।
  • অ্যাজমা, কানে কম শোনা প্রভৃতি থেকে সুরক্ষা করে রসুন।
  • রসুন ফুসফুস, ব্রঙ্কিয়াল টিউব, সাইনাসের গহ্বরে মিউকাস জমতে দেয়না।
  • টিউবার কিউলোসিস, নিউমোনিয়া, হুপিং কাশির মতো অসুখে রসুন উপকারী।
  • রসুন ঘা, আলসার সহজে সারায়।
  • হজমে গোলমাল যেমন আমাশয় ও কৃমির সমস্যাতেও এটি উপকারী।
  • ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করতেও রসুন উপযোগী।
  • রক্ত সঞ্চালন সঠিক রেখে শরীরে টক্সিন কমায়।
  • ক্যানসার প্রতিরোধক হিসেবেও রসুনের সুনাম রয়েছে।

# রসুনের অপকারীতা
রসুন বেশী খেলে অনেক সময় মাইগ্রেনের সমস্যা দেখা দেয়।
  • রসুন থেকে অ্যালার্জি হতে পারে।
লক্ষ্য রাখুন
  • রসুন নরম হয়ে গেলে বা সবুজ রঙ দেখা দিলে সেই রসুন কিনবেন না। কারণ এসব রসুনের কার্যগুন নষ্ট হয়ে যায়। কেনার সময় মাঝারি আকারের রসুন কিনুন।
  • বন্ধ পাত্রে না রেখে খোলা পাত্রে রসুন রাখুন। ভুলেও রেফ্রিজারেটরে রসুন রাখবেন না। এতে করে রসুন নরম হয়ে যাবে।
  • কাঁচা রসুন স্বাস্থ্যকর নয়। ভাজার জন্য বা কারি পেস্টের জন্য রসুন ব্যবহার করা হয়।

আদা


মসলা জাতিয় ফসলের মধ্যে আদা (Ginger) অন্যতম। আদা (Zingiber officinale) খাদ্যশিল্পে, পানীয় তৈরীতে, আচার, ঔষধ ও সুগন্ধি তৈরীতে ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও মুখের রুচি বাড়াতে ও বদহজম রোধে আদাশুকিয়ে চিবিয়ে খাওয়া হয়। এছাড়াও সর্দি, কাশি, আমাশয়, জন্ডিস, পেট ফাঁপায় আদা চিবিয়ে বা রস করে খাওয়া হয়।অন্যান্য ফসলের চেয়ে আদা চাষ করা লাভজনক।আদার প্রধান উপকারিতা এই যে, এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আদা চা ক্লান্তি দূর করে। এটি শরীরে উষ্ণতা বাড়ায়। ফলে যাদের পিত্ত সমস্যা আছে তাদের এটি কম খাওয়া উচিত।

বাংলাদেশের টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী, পঞ্চগড় ও পার্বত্য জেলাগুলোতে ব্যাপকভাবে আদা চাষ হয়ে থাকে।আদা বীজ রোপণের প্রায় ৭-৮ মাস পর ফসল পরিপক্ক হয়। আদা এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে মে মাস পর্যন্ত রোপণ করা হয়। সাধারণত ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে আদা উত্তোলন করা হয়। আদায় আমিষ ২·৩%, শ্বেতসার ১২·৩% , আঁশ ২·৪% , খনিজ পদার্থ, ১·২% পানি ৮০·৮% ইত্যাদি উপাদান বিদ্যমান।

দারুচিনি


এলাচের পাশাপাশি রান্নায় ব্যবহার করা হয় দারুচিনি। দারুচিনিতে অল্প পরিমাণে প্রোটিন, প্রচুর পরিমাণে মিনারেল এবং ভিটামিন রয়েছে। দারুচিনি রক্তে কোলেস্টেবল ২ ঘন্টার মধ্যে ১০% কমায়। দারুচিনিতে রয়েছে এসেনশিয়াল অয়েল অ্যান্টি মাইক্রোবায়াল যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। দারুচিনির নিউট্রিশন প্রপার্টির জন্য ব্লাড সুগার কমে। আর্থারাইটসের জন্য দারচিনি খুবই উপকারী। ব্লাডার ইনফেকশন কমাতে সাহায্য করে দারুচিনি গুড়ো ইউটেরাসকে শক্ত করতে সাহায্য করে। এর গুড়ো মাড়িতে লাগালে মেয়েদের প্রজনন ক্ষমতা বাড়ে। খাওয়ার আগে দারচিনি খেলে পেট ঠিক থাকে। দারচিনি রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রেখে হার্টকে সুস্থ রাখে।

লালসোনাইল


লালসোনাইলের ফুল, পাতা ও গাছের গড়ন বেশ নান্দনিক। অল্প বয়সী গাছগুলো দেখতে ছাতার মতো। উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে এদের বীথি বেশ দর্শনীয় হয়ে ওঠে। তা ছাড়া কচি পাতার সঙ্গে গুচ্ছবদ্ধ ফুলের প্রাণবন্ত উপস্থিতিও দারুণ উপভোগ্য। ঢাকার হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে লালসোনাইলের একটি সুদর্শন বীথি চোখে পড়ে। চন্দ্রিমা উদ্যানে লেকের ধারেও একটি সুদৃশ্য বীথি আছে। বিক্ষিপ্তভাবে আরও কয়েকটি আছে রমনা উদ্যান ও পূর্ত ভবন প্রাঙ্গণে।
সোনালু, সোনাইল বা বান্দরলাঠি আমরা যতটা চিনি, ঠিক ততটাই অচেনা লালসোনাইল। এর অবশ্য একাধিক কারণ আছে। এদের পোশাকি নাম পিংক ক্যাশিয়া বা পিংক শাওয়ার। বৈজ্ঞানিক নাম ক্যাশিয়া জাভানিকা (Cassia javanica. Syn. C nodosa)। জাভা দ্বীপপুঞ্জের এই উদ্ভিদের এত দিন কোনো বাংলা নাম ছিল না। এই ফুল নিয়ে কিছু মনগড়া নাম তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও নাম ‘মে ফ্লাওয়ার’। অর্থাৎ মে মাসে ফোটে বলেই এমন নামকরণ! লালসোনাইল নাম রাখেন অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মা। আকৃতির দিক থেকে এরা সোনাইলের মতো, তবে রঙ গোলাপি বা কোমল লাল।
লালসোনাইলের বিস্তৃতি পূর্ব ভারত থেকে মিয়ানমার হয়ে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত। গাছ দ্রুত বর্ধনশীল, মাঝারি আকৃতির, ১০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। মাথা ছড়ানো, পত্রমোচী, যৌগপত্র এক-পক্ষল, ১৫ থেকে ৩০ সেমি লম্বা, পত্রিকা ১৬ থেকে ২৮টি, মসৃণ ও ৩ থেকে ৫ সেমি লম্বা। শীতকাল পাতা ঝরার মৌসুম। গ্রীষ্মের শুরুতে কচি পাতার সঙ্গে গোলাপি রঙের ফুলের ছোট ছোট খাড়া থোকায় ভরে ওঠে গাছ। ফুল প্রায় ৩ সেমি চওড়া, সুগন্ধি, পাপড়ি ও পুংকেশর অসমান। বাসি ও তাজা ফুল মিলে চমৎকার বর্ণবৈচিত্র্য তৈরি করে। ফল গোলাকার, লম্বা, গাঢ়-ধূসর ও শক্ত। বংশ বৃদ্ধি বীজের মাধ্যমে।

ফুল চাষ আয়বর্ধক কৃষিপণ্য


ফুল বিশ্বের মানুষের কাছে অতি প্রিয় এক বস্তু। ফুলকে সবাই ভালবাসে। আগে আমাদের দেশে ফুলের তেমন কদর ছিল না। বর্তমানে ফুলের চাহিদা অনেক বেশি। মানুষ এখন বিয়ের গাড়ি সাজাতে, গুণীজনদের বরণ করে নিতে, বিয়ে বাড়ি সাজাতে, জন্মদিনের অনুষ্ঠানে, পূজা-পার্বণে, গায়ে হলুদে, একুশে ফেব্রুয়ারিতে, সভা-সমিতি ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ফুলের ব্যবহার আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। বর্তমানে চাহিদার আলোকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ফুল চাষ করে লাভবান হওয়া খুবই সহজসাধ্য ব্যাপার। আমাদের দেশে বিভিন্ন ফুলের জন্মে যেমন- গোলাপ, গাঁদা, চামেলী, বেলি, জুঁই, শেফালি, রজনীগন্ধা, গন্ধরাজ, গ্লাডিওলাস, শেফালি, দোপাট্টি, হাসনা-হেনা, চন্দ্রমলি্লকা, ডালিয়া, রঙ্গন, দোলনচাঁপা, কনকচাঁপা, অপরাজিতা, মৌ-চণ্ডাল, টগর, মর্নিংরোজ, জবা, কসমস, মালতি, কামিনী ইত্যাদি। এর ভেতরে কিছু আছে বর্ষজীবী এবং কিছু মৌসুমী।
কোন কোন ফুল এমনিতেই জন্মে আবার কোন কোন ফুলের চাষ করতে হয়। আমাদের দেশে বিভিন্ন জাতের গোলাপ, রজনীগন্ধা, গাঁদা, রঙ্গন, গ্লাডিওলাস ইত্যাদি খুলনা ও যশোরসহ কয়েকটি অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে। অর্থনৈতিকভাবে রাখছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। বেকাররা পাচ্ছে কাজ।

মাত্র ২৫ বছর আগের কথা। এখানকার অধিকাংশ মানুষই ভারত থেকে চোরাচালানী করে বিভিন্ন ধরনের ফুল আনতো আমাদের দেশে। এই ফুল ঢাকার বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে তারা মোটা অংকের টাকা লাভ করতো। এথন বাংলাদেশে ই হচ্ছে বাণিজ্যিকভাবে ফুলের চাষ।

রোপণের সময়:
অধিকাংশ ফুলের বীজ, চারা, কলম বা কন্দ অশ্বিন থেকে অগ্রহায়ণ পর্যন্ত রোপণের উপযুক্ত সময়।

জমি নির্বাচন:
এমন জমি নির্বাচন করতে হবে যেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পায়। উঁচু দো-আঁশ মাটি ফুল চাষের জন্য উপযোগী। মনে রাখতে হবে, ফুল চাষের জন্য জমি নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাগানের আকার-আকৃতি মানানসই হলে ভাল দেখায়।

বেড়া দেয়া:
গবাদি পশুর বা অবাঞ্ছিত আক্রমণ থেকে ফুল গাছকে বাঁচাতে হলে শক্ত বাঁশের/কাঁটাতার/লোহার বেড়া দিতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে গরু-ছাগল যেন সে বেড়া ভেঙ্গে না ফেলে।

জমি তৈরি ও চারা রোপণ:
জমির পরিমাণ বেশি হলে বিভিন্ন জাতের ফুলের জন্য আলাদা আলাদা জায়গা ভাগ করে পরিকল্পনা মাফিক (নিয়ম মাফিক) চারা রোপণ করতে হবে। কন্দ, চারা বা কলম রোপণের ২০/২৫ দিন আগে জমি ভালভাবে কুপিয়ে উপযুক্ত ও পরিমিত সার যেমন- পচা গোবর, টিএসপি, হাড়ের গুঁড়া, এম,পি, ইউরিয়া, খৈল, চা-পাতির উচ্ছিষ্টাংশ, ছাই ইত্যাদি মিশিয়ে মাটি ঝরঝরে করতে হবে। সার প্রয়োগে জৈব সারের প্রাধান্য দেওয়া উচিত। সব সময় স্বাস্থ্যবান ও নিরোগ চারা বা কন্দ লাগাতে হবে। চারা লাগিয়ে উপরে চাপ না দিয়ে পাশের মাটি চাপ দিয়ে শক্তভাবে চেপে দিতে হবে এবং প্রয়োজনমত পানি দিতে হবে। চারাভেদে খুঁটি পুঁতে চারার গায়ে বেঁধে দিতে হবে।

প্রাপ্তিস্থান:
শহরে বা গ্রামে বর্তমানে ভাল নার্সারিতে উন্নতজাতের বীজ, কলম ও চারা পাওয়া যায়। কৃষি সমপ্রসারণ অফিসে যোগাযোগ করলে চারার সন্ধান পাওয়া যাবে।

পরিচর্যা:
আগাছা নিড়ানী দিয়ে তুলে ফেলতে হবে এবং গোড়ার মাটি মাঝে-মধ্যে আলগা করে দিতে হবে। প্রয়োজনে পানি সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। পিঁপড়া ও মাকড়সার আক্রমণ থেকে গাছকে রক্ষার জন্য হিপ্টেক্লোন-৪০ পরিমাণমত দেওয়া যায়। সাধারণ পোকার জন্য মেলতিয়ন বা ডাইমেক্রন ওষুধ প্রয়োগ করা যেতে পারে। রোগ অনুযায়ী প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে। সার প্রয়োগের কলাকৌশল জেনে চাহিদামত কয়েক দফা সুষম সার ও সেচ দিতে হবে। ফুল ধরার বেশ আগে হতে বিশেষ যত্ন নিতে হবে। ফুলের পরিমাণ ও মান উভয় দিকেই খেয়াল রাখা দরকার। গাছভেদে পুরানো ও রোগা ডাল-পালা ছাঁটাই করে দিতে হবে।

ফুল সংগ্রহ:
ফুল সম্পূর্ণ ফোটার আগে ডাঁটাসহ কেটে ফুল সংগ্রহ করা যায়। ডাঁটার নিচের অংশ পানিতে ডুবিয়ে রাখলে ফুল সজীব থাকে। মান ভাল রাখার জন্য ডাঁটাসহ ফুল আঁটি বেঁধে পরিপাটি করে কালো পলিথিনে মুড়ে বাজারে পাঠাতে হবে।

টবে ফুল চাষ:
জমির অভাবে দালানের ছাদে, বারান্দার টবে সৌখিন বা বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন ধরনের ফুলের চাষ করা যায়। বিভিন্নজাতের বা বর্ণের গোলাপ ও গাঁদা। এছাড়া ডালিয়া, রঙ্গন, চন্দ্রমলি্লকা, মৌ-চণ্ডাল, রজনীগন্ধা, বিভিন্ন আর্কিড, নানাজাতের আকর্ষণীয় ক্যাকটাস ও বনসাই। বর্তমানে বাজারে এসবের ভাল চাহিদা রয়েছে। সময় বাঁচানো এবং নির্মল আনন্দের জন্য বর্ষজীবি বা স্থায়ী ফুলের চাষ করা যায়। যেমন- গোলাপ, জবা, চেরি, দোলনচাঁপা, মালতি, কামিনী রঙ্গন, পাতাবাহার, বিভিন্ন আর্কিড ও নানাজাতের ক্যাকটাস। ক্যাকটাস জাতীয় গাছের জন্য সার খুবই কম লাগে। ফলে ব্যয়ও হয় খুব কম।

উপসংহার:
আমাদের দেশে ফুল চাষ করে আত্মকর্ম সংস্থানের মাধ্যমে বেকারত্ব ঘুচানো সম্ভব। দেশে ফুলের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করা যায়। আসে বৈদেশিক মুদ্রা। সবচেয়ে বড় কথা ফুল মানুষের খারাপ মনকে ভাল করে দেয়।

লেখক: মোঃ মোসলেম উদ্দিন, হরিণাকুণ্ডু, ঝিনাইদহ
তথ্য সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

আমলকী

Friday, August 20, 2010


আমলকীর রয়েছে প্রচুর ঔষধি গুণ। এর রস যকৃৎ ও পেটের পীড়া, হাঁপানি, কাশি, বহুমূত্র, অজীর্ণ ও জ্বর নিরাময়ে বিশেষ উপকারী। আমলকীর পাতার রস আমাশয় প্রতিষেধক ও বলকারক। আমলকীর রসের শরবত জন্ডিস, বদহজম ও কাশির জন্য হিতকর। হাঁপানি, কাশি বহুমূত্র ও জ্বর নিরাময়ে আমলকীর বীজ ব্যবহার করা যায়।
চর্মরোগের চিকিৎসায় আমলকীর ফল ব্যবহৃত হয়। আধাচুর্ণ শুষ্ক আমলকী ৫ থেকে ৬ গ্রাম নিয়ে এক কাপ পানিতে মিশিয়ে এক ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে ভালোভাবে কচলিয়ে ছেঁকে পানিটুকু প্রতিদিন তিন-চারবার খেলে হজমশক্তি বাড়ে ও বমিভাব দূর হয়। দুই থেকে তিন চা-চামচ কাঁচা আমলকীর রস প্রতিদিন দুবার চিনি বা মধুসহ সেবন করলে ভিটামিন বি ও সির অভাব দূর হয়। কাঁচা বা শুকনো আমলকী বেটে দুধ ও মাখনসহ মিশিয়ে মাথায় লাগালে তাড়াতাড়ি ঘুম আসে।

সর্পগন্ধা


সর্পগন্ধা একটি উপকারী বৃক্ষের নাম। এ গাছকে ইংরেজিতে রাউলফিয়া বলা হয়। খ্রিস্টের জন্মের কয়েকশ' বছর আগে চরক সংহিতায় সর্পগন্ধা নামে গাছটির উল্লেখ ছিল। সর্পগন্ধা আমাদের দেশের ছোট এক বুনো গাছ। বহু বছর ধরে হোমিওপ্যাথিক, অ্যালোপ্যাথিক এবং আয়ুর্বেদিক ওষুধের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে এ গাছ। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপালসহ উপমহাদেশের অন্যান্য দেশে মোট পাঁচ রকমের সর্পগন্ধা পাওয়া যায়। সাপকে নিয়ে এ গাছটির সঙ্গে আমাদের দেশে অনেক উপকথা ছড়িয়ে আছে। যেমন, সাপের সঙ্গে লড়ার আগে নেউল নাকি সর্পগন্ধার পাতা চিবিয়ে নেয়। সাপ মানে অবশ্যই বিষধর সাপ। এর জন্যই নাকি সাপের বিষ নেউলকে কাবু করতে পারে না। অনেকের বিশ্বাস, সর্পগন্ধা গাছের পাতা বেটে গোড়ালিতে লাগালে সাপ ও বোলতার বিষ ক্ষতি করতে পারে না। গাছটির শিকড় সাপের মতো অনেকটা আঁকাবাঁকা বলেই হয়তো এসব ধারণার জন্ম হয়েছে।

এ উপমহাদেশের বেশিরভাগ দেশেই বুনো অবস্থায় সর্পগন্ধা গাছ জন্মায়। সর্পগন্ধা বৃক্ষ বড় জোর ৪ ফুট লম্বা, পাতাগুলো বেশ বড়। কদম গাছের পাতার মতো দেখতে অনেকটা। গোছা গোছা সাদা রঙের ফুল ফোটে গাছের মাথায়। ফুলের কুঁড়ি ও পাপড়ির নিচের দিক গোলাপি।

রক্তচাপ কমানোর ওষুধ হিসেবে সারা বিশ্বে এখন সর্পগন্ধা থেকে তৈরি রেসার পিন ব্যবহার করা হচ্ছে। উন্মাদদের মাথা ঠাণ্ডা রাখার জন্য প্রথমে এই ওষুধ ব্যবহার করা হয়েছিল। এখন অনিদ্রা রোগের ওষুধ হিসেবেও রেসার পিন প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয়। সর্পগন্ধা গাছের পাতার নির্যাস চোখের ছানি সারাতেও কাজে লাগে। তবে রেসার পিন সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় সর্পগন্ধা গাছের শিকড়ের ছালে। এ গাছ পাহাড়ি অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি জন্মায়। সর্পগন্ধা গাছে ফলও হয়ে থাকে। এ ফলগুলো প্রথমে সবুজ, তারপর লাল এবং সবশেষে কালো হয়ে যায়। একসঙ্গে প্রচুর ফুল ও তিন রঙের ফলসহ দেখতেও সর্পগন্ধা গাছ বেশ সুন্দর।

ভয় দেখিয়ে ধান কাটার অভিযোগ


চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এক কৃষকের খেত থেকে ধান কেটে নিয়ে গেছে একদল দুর্বৃত্ত। গত মঙ্গলবার উপজেলার ভুজপুর থানার আন্দারমানিক মৌজার বড়বিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ইউএনও’র কাছে গতকাল বুধবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক শফিউল আলম অভিযোগে উল্লেখ করেন, তিনি পৈতৃক সূত্রে বিএস ১৩৫ খতিয়ানভুক্ত ১৬৫৮ ও ১৬৫৯ দাগের ৩৮ শতক জমির মালিক। ওই জমিতে তিনি আউশ ধান চাষ করেছেন। উপজেলার ধুরুং গ্রামের মোবারক হোসেন ওরফে কাঞ্চনের নেতৃত্বে রমজান আলী, হারুন, ইউনুছসহ আরও কয়েকজন মঙ্গলবার সকালে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাঁর জমির ধান কেটে নিয়ে যায়।

সূত্রঃ প্রথম আলো

ফসল নিয়ে ঘরে ফেরাশুকনো মৌসুমে তীব্র খরা

Wednesday, August 18, 2010

ফসল নিয়ে ঘরে ফেরা

শুকনো মৌসুমে তীব্র খরা, বর্ষাকালে অতিবৃষ্টি, সেই সঙ্গে ছিল পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়াসহ প্রকৃতির নানা বৈরিতা প্রায় সব ফসলেরই উৎপাদন বেড়েছে তবে কৃষকরা বলছেন, ধান-চালের সংগ্রহ মূল্য সরকার বিলম্বে ঘোষণা করায় এবং বিপণন ব্যবস্থার সঙ্গে সরকারের সরাসরি সম্পৃক্ততা না থাকায় তাঁরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এর পরও মাঠপর্যায়ে কৃষি উপকরণের জোগান বাড়ায় গত তিন বছরে দেশে কৃষি খাতে সাফল্য এসেছে


কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবের উদ্ধৃতি দিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, দেশে বছরে চাষ হওয়া অন্তত ৩৮ জাতের কৃষি ফসলের মধ্যে গত তিন অর্থবছরে অধিকাংশেরই ফলন বেড়েছে।
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘবে এক কোটি ৮২ লাখ কৃষক পরিবারকে কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড দেওয়া হয়েছে। ১০ টাকায় কৃষককে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে গত অর্থবছরের বোরো মৌসুমে ৭৪৮ কোটি ৭০ লাখ ৭৭ হাজার টাকা কৃষকের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী সারের উচ্চমূল্যের কারণে দুই দফায় দাম প্রায় অর্ধেক কমানো হয়েছে। এর ফলে গত দুই অর্থবছরের প্রতি মৌসুমে চার হাজার কোটি টাকারও বেশি ভর্তুকি দিয়েছে সরকার। এ ছাড়া বিদ্যুতের ঘাটতির সময়েও সেচ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। কৃষকের দোরগোড়ায় সার পেঁৗছাতে প্রতি ইউনিয়নে পাঁচ থেকে ৯ জন পর্যন্ত খুচরা বিক্রেতা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সরকারের নির্দেশে মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারাও কৃষকের পাশে ছিলেন। এসবের ফলেই ফসলের উৎপাদন বাড়ে বলে কৃষিমন্ত্রী দাবি করেন।
তবে জাতীয় বীজ বোর্ডের তালিকাভুক্ত কৃষক প্রতিনিধি যশোরের আলতাব হোসেন, নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার দোডাঙ্গী গ্রামের কৃষক অ্যাডভোকেট শাহরিয়ার সিমু, ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল সদর উপজেলার কৃষক মোবারক আলীসহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে জানা যায় তাঁদের হতাশার কথা। তাঁরা জানিয়েছেন, গত বোরো মৌসুমে তীব্র কুয়াশায় চারা মরে যায়। ফলে আবার চারা রোপণ করে দেরিতে ধান চাষ করেন কৃষকরা। তারপর পানি সংকট ছিল তীব্র। তাই তাঁদের রাত জেগে জমিতে সেচ দিয়ে তারপর চুরি ঠেকাতে পাহারা দিতে হয়েছে। এ ছাড়া তাঁদের ডিজেল কিনতে হয় পাম্প ও দোকানে লাইন দিয়ে, সরকার নির্ধারিত ৪৪ টাকার বদলে প্রতি লিটারে পাঁচ-সাত টাকা বেশি দরে। জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে বীজ, চারা, সার, কীটনাশকসহ সব উপকরণে বাড়তি খরচ করতে গিয়ে অনেককেই ঋণ করতে হয়। ঋণ পরিশোধ করতে তাঁরা মাঠ থেকে মাড়াই করা ধান সরকার নির্ধারিত দামের মণপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা কমে বিক্রি করতে বাধ্য হন। কৃষকরা আরো জানান, তিন বছর ধরে ফসলের উৎপাদন বাড়লেও কৃষকের ভাগ্যের পরিবর্তন তেমন ঘটেনি। সরকারের সরাসরি বিপণনব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় 'লাভ টিয়ায় খেয়ে যাচ্ছে'।
দেশের কৃষকদের বক্তব্যের সঙ্গে অনেকটাই একমত পোষণ করেন ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক (গবেষণা) ড. এম এ ছালাম। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, কয়েক বছর ধরে ফসলের উৎপাদন বেড়েছে। কৃষির প্রতি সরকারের তুলনামূলক বেশি ইতিবাচক ভূমিকা, ফসলের চাষ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে নানা উপকরণ সহায়তা, ফসলব্যবস্থাপনার ব্যাপারে কৃষকের সচেতন হওয়াসহ কিছু বিষয় এতে ভূমিকা রাখে। গত বোরো মৌসুমের উদ্ধৃতি দিয়ে ড. ছালাম বলেন, ফসলের উৎপাদন বাড়লেও কৃষকের দুর্দশা ছিল অবর্ণনীয়। সেচ, বীজ ও চারার সংকটের পাশাপাশি কুয়াশায় অসংখ্য বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। চলতি আমন মৌসুমেও কৃষক নানা সংকটের আবর্তে রয়েছে।
খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে সরকার। ধান-চালের সংগ্রহ মূল্য বিলম্বে নির্ধারণের অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ধান চাষে খরচ ও লাভ হিসাব করে সংগ্রহ মূল্য ঘোষণা করা হয়। আর ধান ওঠার সময়টায় বেশি 'ময়েশ্চার' (আর্দ্রতা) থাকে, যা গুদামজাতের জন্য উৎকৃষ্ট হয় না। গুদামজাতের জন্য উপযুক্ত ময়েশ্চার ধানে এলেই দাম ঘোষণা করা হয়। এতে কৃষকের তেমন আর্থিক ক্ষতি হয় না দাবি করে মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনে ধান-চালের সংগ্রহ মূল্য আরো আগে (ধান ওঠার সময়ই) নির্ধারণের চেষ্টা করা হবে।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের সাবেক নির্বাহী চেয়ারম্যান ও কৃষি বিশেষজ্ঞ ড. জহুরুল করিম ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) জাতীয় উপদেষ্টা কৃষিবিদ ড. শহীদুল ইসলামও মনে করেন, ফসল উৎপাদন বাড়লেও বেশি তুষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই। তাঁরা বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন কৃষি খাতকে ক্রমেই বিপন্ন করে তুলছে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা ক্রমেই বাড়ছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে খরার প্রভাব তীব্র হচ্ছে। আশঙ্কাজনকহারে নিচে নেমে যাচ্ছে পানির স্তর। এ দুই কৃষি বিশেষজ্ঞ মনে করেন, খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে সব ধরনের ফসল চাষেই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, জ্বালানি, কৃষি উপকরণ নিশ্চিত করতে সরকারকেই সার্বিক ব্যবস্থা নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, কৃষকদের শারীরিক শ্রমে অর্জিত ফসল দেশবাসীর খাদ্যের জোগান দেয়। এ ফসলের ন্যায্যমূল্যই যদি না জোটে, চাষে আগ্রহ হারাবে কৃষক। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সরকারও।
সিপিডির গবেষণা বিভাগের প্রধান ড. উত্তম কুমার দেব বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়াও অনেক সময় ফসলের অনুকূলে আসায় ফসলের উৎপাদন বেড়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে সরকার ও কৃষকের যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত ছিল বলে তিনি জানান। ড. উত্তম কুমার দেব মনে করেন, কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে ফসলের খরচ ও লাভ উল্লেখ করে সঠিক সময়ে ক্রয়মূল্য নির্ধারণে সরকারকে আরো আন্তরিক হতে হবে।
বাংলাদেশ সিড গ্রোয়ার, ডিলার অ্যান্ড মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব আনাম বলেন, ২০০৯ সালের বোরো মৌসুমে হাইব্রিড ধান চাষের পরিমাণ (প্রায় আট লাখ হেক্টর) বাড়লেও উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য দিতে না পারায় ২০১০ সালের তা কমে পাঁচ লাখ হেক্টরে নেমেছে। তবে উচ্চ ফলনশীল বেশ কয়েকটি জাত চাষে উৎপাদন তুলনামূলক ভালো হয়েছে।
বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান উপদেষ্টা কফিল উদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকার মোটা অঙ্কের ভর্তুকি দিয়ে ৮০ টাকা কেজির সার মাত্র ২০-৩০ টাকায় কৃষককে দিয়েছে। টিএসপি, এমওপি, ডিএপিসহ ইউরিয়া সারের দাম সাধ্যের মধ্যে থাকায় ফসলে 'সারের সুষম' ব্যবহার হয়েছে। ফলে উৎপাদনও বাড়ছে। আগের বছরগুলোতে দু-একটি সারের উচ্চমূল্যের কারণে ফসলে সারের ব্যবহার 'সুষম' হয়নি। ফলে ধানে চিটাসহ নানা ধরনের রোগ লেগেই থাকত। উৎপাদনও আশানুরূপ হতো না।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বীজ শাখার মহাপরিচালক আনোয়ার ফারুক দাবি করেছেন, মানসম্মত বীজের সরবরাহ বাড়ার ফলেই ফলন বেড়েছে। আগে মোট বীজের চাহিদার মাত্র ১৫ শতাংশ পূরণ করত সরকার; এখন তা বেড়ে ২৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ধানবীজের ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশের স্থলে ৪০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। সারা দেশের কৃষকের মাঝে মানসম্মত বীজ সরবরাহ অব্যাহত রাখতে পারলে ফসলের উৎপাদন আরো বাড়ানো সম্ভব।
বৈরী পরিবেশের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পানির স্তর নেমে যাওয়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের একাধিক গবেষণা ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একাধিক গবেষণা থেকে জানা গেছে, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার পানির স্তর আশঙ্কাজনক হারে নিচে নেমেছে এর মধ্যে মোট ধানের ৩৬ শতাংশ জোগান দেওয়া উত্তরাঞ্চল রয়েছে স্পর্শকাতর অবস্থায় দেশের সমতল ভূমির তুলনায় উত্তরাঞ্চলের ভূমি স্থানবিশেষে ১২ থেকে ৪৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু ফলে শুষ্ক মৌসুমের আগেই পানিশূন্য হয়ে পড়ে নদ-নদী, পুকুর ও জলাশয় পানির স্তর গভীরে চলে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমের আগেই সেচ পাম্পগুলোও হারিয়ে ফেলে পানি উত্তোলনের ক্ষমতা গবেষণায় বলা হয়, উত্তরাঞ্চলের বরেন্দ্রভূমিতে ১৯৯১ সালে পানির স্তর ছিল ভূগর্ভের ৬২ ফুটের মধ্যে ২০০০ সালে ৪৮ ফুট নিচে গিয়ে ১১০ ফুটে দাঁড়ায় এখন এ স্তর স্থানভেদে ১২০ থেকে ১৫০ ফুটের মধ্যে

সূত্রঃ কালের কন্ঠ

মনের উঠোনে

সাম্প্রতিক সংযোজন

মোবাইল থেকে দেখুন

আমাদের দেশ এখন আপনার মুঠোফোনে, মোবাইল থেকে লগইন করুন আমাদের দেশ

দ র্শ না র্থী

দ র্শ না র্থী

free counters

কে কে অনলাইনে আছেন