পানি অভাবে পাট জাগ দিতে পারছে না কেশবপুরের কৃষকরা

Friday, September 24, 2010


পাট নিয়ে যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কম বৃষ্টিপাতের কারনে ওডাবা, খাল ,বিল ও পুকুরে পানি না জমায় চাষিরা পাট জাগত দিতে পারছেননা। জাগ দেওয়ার জায়গার অভাবে অনেক চাষি ক্ষেত থেকে পাট তুলছেননা। অনেকে পাট কেটে আমন আবাদ করেত পারেননি পানির আভাবে।

এদিকে জলবায়ুর বিরুপ প্রভাবে ভাদ্র মাসের ১৫দিন হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত বৃষ্টির দেখা মিলছেনা। কৃষকরা বলছেন,এভাবে যদি আর ৮/১০দিন বৃষ্টি না হয় তাহলে কোন কিছুই বোনা সম্ভব হবে না। পাটের দাম থাকায় এবং পাটের বীজ সহজ লভ্য থাকায় ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় বিপুল উৎসাহ নিয়ে কেশবপুরের কৃষকরা তাদের জমিতে পাট বুনেছিল। গতবার যারা এক ছিটে জমিতেও পাট চাষ করেনি তারাও এবার বিঘের পর বিঘেতে পাটের আবাদ করেছে। ফলে পাটের আবাদ এবার কেশবপুর অঞ্চলে দ্বিগুন হয়েছে।

বিগত বছরগুলোতে সোনালী আঁশ গলার ফাঁস হয়ে কৃষকদের কাছে দেখা দিয়েছিল। মিল কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কিন্তু সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপে বিশ্ব বাজারে পাটের চাহিদা বেড়ে গিয়ে ৪/৫শ টাকা মন দরের পাট ২৫/২৬শ টাকায় বিক্রি হয়। যারা পাট চাষ করেছিল তাদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছিল। কিন্তু বর্তমানে পাটের বাজার ফঁড়িয়াদের নিয়ন্ত্রনে থাকায় পাটের বাজার কমতে শুরু করেছে। তারা ইচ্ছে মত পাটের দাম নির্ধারন করে ১১/১২শ টাকায় নামিয়ে এনেছে। এতে কৃষকরা আবার হতাশ হয়ে পড়েছে। তারপর অনাবৃষ্টির কারনে তারা উৎপাদিত পাট পচন দেয়া নিয়ে তারা পড়েছেন মহা বিপাকে।

কেশবপুর কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার বাজার পাটের মূল্য বেশী থাকার কারণে গোটা কেশবপুর এলাকায় পাটের চাষ হয়েছে পাঁচ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে। খরার কারনে আগাম সেচের মাধ্যমে চাষিরা এবার পাটের আবাদ করেন। উৎপাদন খরচ ও সংসারের টানা-পোড়েনে পড়ে অনেক চাষি ক্ষেতের পাট ফঁড়িয়াদের কাছে আগেই কমদামে বিক্রি করে টাকা নিয়ে খরচ করেছেন। পাট চাষের জন্য অনুকুল আবহাওয়ার কারনে এবছর পাটের বাম্পার হয়েছে। কিন্তু উৎপাদিত পাট পানির অভাবে চাষিরা জাগ দিতে পারছেননা।

খাল বিল ডোবা পুকুর কোথাও জাগ দেবার মতো কোনো পানি নেই। ভরা বর্ষা মৌসুমে এখনো ভারি বৃষ্টিপাত হয়নি। পাটের সোনালী আঁশ বের করতে যে পরিমাণ পানির প্রয়োজন কৃষকরা তা পাচ্ছেননা। চাষিরা মেশিন দিয়ে খানা-খন্দে পানি তুলে সেখানে পাট জাগ দিচ্ছেন। অনেক চাষি দূর থেকে পানি কিনে এনে তা ডোবায় ফেলে পাট জাগ দিচ্ছে এতে খরচের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে।

বুকভরা আশা নিয়ে চাষিরা পাটের আবাদ করলেও বর্তমান বাজারে যে দামে পাট বিক্রি হচ্ছে তাতে তারা নিরাশ হচ্ছেন। কেশবপুর উপজেলার পাঁতিজয়া গ্রামের কাজল চৌধুরী পিটিবি নিউজ ডটকমকে জানান, তিনি এবার তার তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। গ্রামের কোথাও পানি না থাকায় আনেক দূর থেকে পানি এনে তার ডোবা ভরে তাতে পাট জাগ দিতে হয়েছে। যার কারনে বৃষ্টির আশায় অনেক কৃষক ও জমির মালিক জমি থেকে পাট কাটছেননা।

সরকার আলুর আমদানি নির্ভরতা কমাতে ব্রিডার বিজ উৎপাদন করবে


আমদানী নির্ভরতা হ্রাসে টিস্যু কালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে আলুর ব্রিডার বীজ উৎপাদন করতে প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার সারা দেশের ২৯টি জেলার ৮৭টি উপজেলায় ৬৮ হাজার ৮৫৫ মে. টন ব্রীডার ও ফাউন্ডেশন সীড এবং টিএলএস বীজ উৎপাদন, ক্রয় ও সংরক্ষণ করবে। একই সঙ্গে ৫৬ হাজার ৫৩৯.২৯ মে. টন ব্রীডার ও ফাউন্ডেশন সীড এবং টিএলএস বীজ বিতরণ করা হবে।

এতে করে প্রকল্প এলাকায় ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও ভুমিহীন চাষীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। ‌‌‌’কন্দাল’ নামে এই ফসল উৎপাদন ও বিতারনের সঙ্গে সরাসরি চাষীদেরও সম্পৃক্ত করা হবে। এছাড়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে উচ্চ ফলনশীল ও রোগবালাই প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন এবং লবণাক্ত ও খরাসহিষ্ণু বিশেষ ধরণের জাত উদ্ভাবনের লক্ষ্যে স্থানীয় এবং বিদেশী জার্মপ্লাজম সংগ্রহ করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশে বলা হয়, দানা জাতীয় ফসলের তুলনায় কন্দাল ফসল অধিক লাভজনক। এদেশের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠির খাদ্যের যোগান হিসেবে আলু, মিষ্টি আলু ও কচু ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। কৃষিভিত্তিক শিল্প উৎপাদনের কাচামাল হিসেবে এবং রপ্তানির মাধ্যমে বৈদাশিক মুদ্রা অর্জনেও বিশেষ ভুমিকা রয়েছে। কাজেই কন্দাল ফসলের বীজের মান উন্নয়নকল্পে গবেষণা, উৎপাদন, বিতারণ ও সম্প্রসারণে কন্দাল ফসল উন্নয়ণ নামে এই প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে সরকার।

এই প্রকল্পটি কৃষি মন্ত্রণালযের আওতাধীন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ণ করর্পোরেশন (বিএডিসি), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) বাস্তবায়ন করবে। ৪২১ কোটি ৪২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ব্যয় সম্বলিত প্রকল্পটি চলতি অর্থ বছরের জুলাই থেকে শুরু করে ২০১৩ সালের জুন মাসে শেষ করতে কমিশন থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রকল্পে সরকারের অভ্যন্তরীণ উৎস (জিওবি) থেকে ব্যয় হবে ২৬৮ কোটি ৮১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা এবং বিএডিসি থেকে ১৫২ কোটি ৬০ লাখ ৯৬ হাজার টাকা।

কমিশনের প্রস্তাবনায় বলা হয়, কন্দাল ফসল হিসেবে আলু, মিষ্টি আলু ও মুখীকচু, কাসাভা ইত্যাদিকে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। ধান ও গমের তুলনায় আলু অধিক লাভজনক ফসল এবং জাতীয় অর্থনীতিতে এর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। প্রতি বছর সবজি হিসেবে বাংলাদেশের মানুষ মাতাপিছু ৪০ কেজি আলু খেয়ে থাকে।

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতি হেক্টরে আলুর জাতীয় ফলন হচ্ছে ১৫ মে. টন। যা বিশ্বের উন্নত দেশ এমনকি উন্নয়নশীল দেশের তুলনায়ও অনেক কম। আলুর জাতীয় ফলন ও খামারের ফলনের পার্থক্য অপেক্ষাকৃত বেশি বিধায় উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে তা কমিয়ে আনা সম্ভব। আলু ফসলের উন্নয়ণের লক্ষ্যে ৬০ দশকে বিএডিসি কর্তৃক বীজ আলু আমদানীর কার্যক্রম গ্রহণ করে।

বর্তমানে দেশে বীজ আলুর চাহিদা রয়েছে প্রায ৭.৫ লক্ষ মে. টন। মানসম্পন্ন বীজের অভাব ও উচ্চ মূল্যের কারণে প্রায় ৯০ শতাংশের অধিক কৃষক তাদের নিজেস্ব সংরক্ষিত নিম্ম মানের বীজ ব্যবহার করে। আলু বীজের মান উন্নয়নকল্পে অংশগ্রহণমূলক গবেষণা, উৎপাদন, বিতারন ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এই প্রকল্পটি গ্রহণ করা হযেছে।


চিতলমারীতে করলার কেজি ১ টাকা বিক্রি না করে নদীতে নিক্ষেপ


চলতি মৌসুমে চিতলমারী উপজেলার কৃষকেরা সবজি উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করলেও দাম পাচ্ছেন না। প্রতিমণ করলার দাম ৪০ টাকা। বুধবার হাটের দিনে বিক্রি না করে অভিমানী অর্ধশত কৃষক প্রায় ২০০ মণ করলা স্থানীয় মরা চিত্রা নদীতে ফেলে দিয়েছেন। চিতলমারী কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৮০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রকার সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে করলা ৭৫ হেক্টর, শশা ৬০ হেক্টর, চাল কুমড়া ৩০ হেক্টর, বেগুন ২০ হেক্টর, লাউ ১৫ হেক্টর, মিষ্টি কুমড়া ১০ হেক্টর, চিচিংগা ১০ হেক্টর ও অন্যান্য সবজি ৬০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এলাকার কৃষকেরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সক্ষম হয়েছেন।

বৈরী আবহাওয়া, অনাবৃষ্টি ও লোনা পানির কারণে হেক্টর প্রতি উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। গত বছর এ সময় হেক্টর প্রতি উৎপাদন হয়েছিল সাড়ে আট মেট্রিক টন (মে.ট.)। এ বছর হেক্টর প্রতি উৎপাদন হয়েছে সাড়ে সাত মে. ট.। তারপরও দাম নেই। বুধবার চিতলমারী হাটের দিনে প্রতি মণ করলা বিক্রি হয়েছে মাত্র ৪০ টাকায়।

উপজেলার কাটাখালী গ্রামের অভিমানী কৃষক হরিপদ মন্ডল ২০ মণ, একই গ্রামের সুনীল কীর্ত্তনীয়া ১২ মণ, সদাই কীর্ত্তনীয়া ১৭ মণ, আড়–য়াবর্নী গ্রামের লিয়াকত শেখ ৮ মণ, একই গ্রামের কেরামত খাঁ ৬ মণ, গরীবপুর গ্রামের বিষ্ণু কীর্ত্তনীয়া ৭ মণ, ও মণমোহন বিশ্বাস ২০ মণ করলা বিক্রি না করে মরা চিত্রা নদীতে ফেলে দিয়েছেন। ওই সমস্ত ক্ষুব্ধ কৃষক বাড়িতে গিয়ে ক্ষেতের সম্পূর্ণ করলাগাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তাঁরা পিটিবি নিউজ ডটকমকে জানান।

সরেজমিনে দেখা যায়, নৌকায় করে চিতলমারী হাটে এনে তা বিক্রি না করেই নৌকা ডুবিয়ে ধুয়ে মুছে তাঁরা বাড়ি চলে গেছেন। ব্যয়বহুল এ করলা চাষ তাঁরা আর করবেন না বলে অনেকেই মতামত ব্যক্ত করেছেন। উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের মনোরঞ্জন মন্ডল জানান, ৮ মণ করলা ৫০০ টাকায় বিক্রি করে প্রায় ৩ ঘন্টা দাড়িয়ে আছি। তারপরও ব্যপারীরা টাকা দেননি।

ঢাকার কাওরান বাজারের বিভিন্ন আড়তে সবজি সরবরাহকারী সোহেল ব্যাপারী ও কামরুল ব্যাপারী পিটিবি নিউজ ডটকমকে জানান, তাদের এক ব্যবসায়ী কাওরান বাজারে করলা বিক্রি করতে না পেরে এক আড়ৎদারের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা নিয়ে ট্রাক ফেলে পালিয়ে গেছেন। এখান থেকে ঢাকা পর্যন্ত ট্রাকের ভাড়া দিতে হয় সাড়ে নয় হাজার টাকা।

তিনি আরো জানান, করলা নিয়ে এলাকার কৃষকেরা যেমন বিপাকে পড়েছেন তেমনি আমরাও খুব বিপদের মধ্যে রয়েছি। ঝুঁকি নিয়ে এ ব্যবসা করতে হচ্ছে।

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গমের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে : কৃষিমন্ত্রী


কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চালের পর গম দেশের দ্বিতীয় প্রধান খাদ্যশস্য। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এর উৎপাদনও বৃদ্ধি করতে হবে। বুধবার রাজধানীতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের সভাকক্ষে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে গম চাষ : রবিশস্যের আবাদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা শীর্ষক এক কর্মশালায় কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি লবণাক্ততা ও খরাসহিষ্ণু উচ্চফলনশীল জাতের গমবীজ উদ্ভাবনের জন্য কৃষিবিজ্ঞানী, গবেষক ও কৃষি প্রযুক্তিবিদদের প্রতি আহবান জানান।

কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ওয়ায়েস কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মুসতাক আহমদ।

এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এসিআইএআর সাউদার্ন বাংলাদেশ প্রকল্পের কনসালটেন্ট হাওয়ার্ড এম রওশন। অন্যদের মধ্যে জাতিসংঘের কৃষি ও গবেষণা কাউন্সিলের (ফাও) বাংলাদেশ প্রতিনিধি সিরে ফিওরিলে, ঢাকায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার জাস্টিন লি ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মো. ইউসুফ মিয়া বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে গম ও পরবর্তী ফসলে উৎপাদন কলাকৌশল নামক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।

প্রতিবছর দেশের খাদ্য চাহিদা মেটানোর জন্য মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে লাখ লাখ টন গম আমদানি করতে হয় মন্তব্য করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশীয় আবহাওয়া উপযোগী উচ্চফলনশীল জাতের গম উদ্ভাবন এবং তা কৃষক পর্যায়ে চাষের জন্য জনপ্রিয় করে তোলার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণভাবে এর উত্পাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব। এতে করে গমের আমদানিনির্ভরতা কমার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমে যাবে।

মতিয়া চৌধুরী বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকেরা এখন বারি উদ্ভাবিত লবণাক্ততাসহিষ্ণু ডাল চাষ করতে পারেন। কারণ প্রতিবছর বিপুল পরিমাণে ডাল আমদানি করতে হয়। এর চাষ বাড়িয়ে উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে আমদানিনির্ভরতা কমানো সম্ভব। এ ছাড়া মন্ত্রী লবণাক্ত এলাকায় ভুট্টার চাষ বৃদ্ধির ওপরও জোর দেন।

কৃষিমন্ত্রী দেশে খাদ্যনিরাপত্তা গড়ে তুলতে অঞ্চলভিত্তিক ফসল চাষ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপরও জোর দিয়েছেন। বিশেষ করে ভূগর্ভস্থ পানি কমে যাওয়ায় ফসল চাষে ভূ-উপরিস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, সরকার এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

চিতলমারীতে জ্বালানী হিসাবে ধনচের চাষাবাদ করছে


বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে জ্বালানী সংকট দেখা দিয়েছে। এলাকার কৃষকেরা এ সংকট নিরসনকল্পে ব্যাপক ভাবে ধনচে চাষাবাদের প্রতি আগ্রহী হয়ে পড়েছে। জানাগেছে, চিতলমারী উপজেলার লোকজন জ্বালানী হিসেবে গাছের উপর নির্ভরশীল। নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে এখন জ্বালানী সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়াও এলাকার লোকজন জ্বালানী হিসেবে গবরের মুঠে ও গাছের লতাপাতা ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু পর্যাপ্ত গো-সম্পদের অভাব এবং লতা পাতার দুঃস্প্রাপ্যতার কারনে এলাকার কৃষকেরা নিজেদের প্রয়োজনের তাগিদে ব্যাপক ভাবে ধনচে চাষাবাদ শুরু করেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর হতে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চিতলমারী উপজেলায় ২০ হেক্টর জমিতে ধুনচে গাছের চাষাবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ১০ হেক্টর জমির ধুনচে গাছ কমপোস্ট সার হিসেবে কৃষকেরা মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে এবং বাকী ১০ হেক্টর জমিতে প্রায় ১ শ মেট্রিক টন জ্বালানী উৎপাদিত হবে বলে জানাগেছে।

অপরদিকে হোটেল রেস্টুরেন্ট সমূহে জ্বালানী কাঠের বিকল্প হিসাবে বাগেরহাট বিসিক শিল্প এলাকার কারখানায় উৎপাদিত তুষ কাঠ ব্যবহার করছে।

তামাক চাষের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে-বীর বাহাদুর


চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান বীর বাহাদুর এমপি বলেছেন, তামাক চাষ, তামাক পাতা চুল্লীতে প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং তামাক সেবন পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতি’র জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কিন্তু কৃষকরা তামাক কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে সার, বীজ, কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রাপ্তি এবং তামাক পাতা প্রক্রিয়াজাতকরণ এর পর তামাক কোম্পানিগুলোর কাছে বিক্রির নিশ্চয়তার কারণে দরিদ্র কৃষকরা ক্ষতিকর তামাক চাষে ধাবিত হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের প্রতিনিধিদল প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে এর ক্ষতি সম্পর্কে কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের সচেতন করতে হবে। পাশাপাশি কৃষকদের হলুদ, আদা, রসুন এর লাভজনক বিকল্প চাষে সহযোগিতা, উৎসাহ প্রদান করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য এলাকায় নদীর ঢালে তামাক চাষ করার কারণে ক্ষতিকর তামাকের রাসায়নিক ও তামাক চাষে প্রদান করা বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য নদীর পানিতে মেশার ফলে নদীর পানিও দূষিত হয়ে পড়ছে। যে কারণে নদীতে মাছ ও জলজ প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

এ নদীর পানি ব্যবহার করার ফলে পার্বত্য এলাকার মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এ কারণে রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি-এ তিন জেলাকে কেন্দ্র করে গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড নদীর ঢালে তামাক চাষ নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে এবং এজন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট এর প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন র‌্যাক এর নির্বাহী পরিচালক একেএম শহিদুল ইসলাম, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট এর প্রকল্প সমন্বয়কারী আমিনুল ইসলাম সুজন ও ন্যাশনাল এডভোকেসি অফিসার সৈয়দা অনন্যা রহমান, জাতীয় যক্ষা নিরোধ সমিতি (নাটাব) এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক একেএম খলিল উল্লাহ, মানবিক এর প্রকল্প কর্মকর্তা মাসুদ রানা, উবিনীগ এর সহযোগী গবেষক মাহমুদা খাতুন শিউলি প্রমুখ।

আমিনুল ইসলাম বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ও লাভের লোভ দেখিয়ে কৌশলে কৃষকদের তামাক চাষে ধাবিত করছে। তামাক চাষের ফলে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এর কি কি ক্ষতি হয়-তামাক কোম্পানিগুলো তামাক চাষের কোনো ক্ষতিই কৃষকদের অবহিত করে না।

একেএম শহিদুল ইসলাম বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের ১২ নং ধারায় তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ করার কথা বলা হলেও বিগত ৫ বছরে এ ধারায় কোনো কাজ হয়নি। তাই তামাক চাষ বেড়ে গেছে।

সৈয়দা অনন্যা রহমান বলেন, গত ৫ বছরে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের অনেক দুর্বলতা চিহ্নিত হয়েছে। এখন এ আইনের দুর্বলতা দূর করা দরকার। খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে খাদ্যের জমিতে তামাক চাষ নিষিদ্ধ করা দরকার।

শেষে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট এর প্রতিনিধিদল বীর বাহাদুর এমপির হাতে একটি স্মারকপত্র ও তামাক বিরোধী প্রকাশনা তুলে দেন।

সারের জন্য কৃষককে আর জীবন দিতে হবে না : শিল্পমন্ত্রী


অতীতের মতো সারের পেছনে কৃষককে ছুটতে হবে না বা সারের জন্য জীবন দিতে হবে না। চলতি বছরের জন্য সারের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ লাখ ৩১ হাজার মেট্রিক টন। চাহিদা পূরণের জন্য দেশে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশে থেকেও বেশি পরিমাণ সার আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার শিল্প মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে গত দেড় বছরে নিজের মন্ত্রণালয়ের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে এক সংবাদ সম্মেলনে শিল্পমন্ত্রী দীলিপ বড়ুয়া এ কথা বলেন। নর্থ-ওয়েস্ট এবং ভোলার শাহবাজপুর ফার্টিলাইজার প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে মন্তব্য করে দীলিপ বড়ুয়া বলেন, গ্যাস সরবরাহের কারণে কারখানা বন্ধ থাকলেও আসন্ন ইরি-বোরো মৌসুমে সারের কোনো সঙ্কট হবে না। এ জন্য সরকারের আগাম প্রস্তুতি রয়েছে।

৪৬ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আরো তিনটি নতুন সার কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বছরে ৫ লাখ ৭৭ হাজার ৫'শ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন তিনটি নতুন গ্যাস নির্ভর সার কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ইতিমধ্যে শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।

মন্ত্রী সাংবাদিকদের কাছে ৬ সেপ্টেম্বর অনুমোদন হওয়া জাতীয় শিল্পনীতি-২০১০ সম্পর্কে বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, এ শিল্পনীতির লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি শিল্প সমৃদ্ধ মধ্য আয়ের দেশে পরিনত করা। এছাড়া বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী করাও এ শিল্পনীতির অন্যতম উদ্দেশ্য। আমরা চাই জাতীয় আয়ে শিল্পের অবদান হোক ২৮ থেকে ৪০ শতাংশ।

সিএনজি চালিত থ্রি হুইলার সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী জানান, এটলাস (বাংলাদেশ) লিমিটেড দেশেই সিএনজি চালিত থ্রি হুইলার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ব লাভজনক কোনো কারখানা সরকার বেসরকারিকরণ করবে না। অল্প দিনের মধ্যেই আরো চারটি বন্ধ পাটকল চালু করা হবে।

বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা এবং চারদলীয় জোট সরকারের অপশাসন ও দুর্নীতির মধ্যে ক্ষমতা নিয়ে বর্তমান সরকার দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে বলেও মন্তব্য করেন দীলিপ বড়ুয়া।

সিদ্ধান্ত হীনতায় ঝিনাইদহে বাঁওড় মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্পের শতকোটি টাকার সম্পদ লোপাট


মৎস্য ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের টানা হেঁচড়ায় বাঁওড় মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্প এখন বিরাণভূমি। অবকাঠামোসহ শত কোটি টাকার সম্পদের বেহাল দশা। চলতি ফিশিং মৌসুমে ৬ টি বাওড়ে না করায় লুটপাট হয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকার ৪ শ মেট্রিক টন মাছ। পথে বসেছে হাজার হাজার জেলে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ৬টি বাঁওড় বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় ‘বাঁওড় মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্প’ নামে ৩০ বছর মেয়াদে মৎস্য অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তরিত হয়।

এই প্রকল্পে ঝিনাইদহের ৫ টি ও যশোরের ১ টি বাঁওড়ে মাছ চাষ শুরু হয়। এগুলো হলো- ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার বলুহর ও জয়দিয়া বাঁওড়, মহেশপুর উপজেলার কাড়গড়া ও ফতেপুর বাঁওড়, কালীগঞ্জ উপজেলার মর্জাদ বাঁওড় ও যশোরের চৌগাছার বেড়গোবিন্দপুর বাঁওড়।

স্থানীয় জেলে সম্প্রদায় ও মৎস্যজীবিরা ৪০ শতাংশ হারে মালিকানায় বাঁওড়ের মাছ ধরার অনুমতি লাভ করে মৎস্য বিভাগের কাছ থেকে। বাঁওড় পাড়গুলোর নিবন্ধিত ১ হাজার জেলে পরিবারের প্রায় ৫ হাজার লোক জীবিকা নির্বাহ করতে থাকে। ৫ শ’ বিঘা জমির উপর এসব বাঁওড়ে গড়ে ওঠে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রেণু উৎপাদনকারী কেন্দ্রীয় মৎস্য হ্যাচারী। বিভিন্ন বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে রেণু বিক্রি ছাড়াও হ্যাচারীর রেণু সরকারি এই বাঁওড়ে দেয়া হয়।

মৎস্য বিভাগ বাঁওড় উন্নয়নের জন্য রাস্তা-ঘাট, হ্যাচারি বিল্ডিং, ব্রীজ, কালভার্ট ও পুকুর কাটে প্রায় ৫০ কোট টাকার। শতাধিক কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ করা হয় এ সব বাঁওড়ে। প্রতি বছর এসব বাঁওড় থেকে প্রায় ৫ শ’ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ সুলভে বাঁওড়ের রাণী (প্রাকৃতিক বিভিন্ন জাত) মাছসহ সু-স্বাদু মাছ পায়। এছাড়া দেশের মাছের চাহিদা পূরণে বড় ভূমিকা রাখে এসব পুরাতন বাঁওড়।

তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মৎস্য অধিদপ্তরের ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তি শেষ হয়ে যায়। ফলে জেলা প্রশাসক এক আদেশে বাঁওড়গুলি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকবে উল্লেখ করে মৎস্য বিভাগকে চিঠি দেয় এবং বাঁওড়ের মাছ ধরা ও ফিশিং কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। বাঁওড়গুলি তদারকি ও ব্যবস্থাপনার ক্ষমতা হারায় কর্তৃপক্ষ। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এসব বাঁওড়ে ফিসিং মৌসুমে মৎস্য আহরণ করা হয়নি। চলতি বছর এ সব বাঁওড়ে ৩ দফা ফিশিং না হওয়ায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ৪ শ’ মেট্রিক টন মাছ চোর চক্র ও প্রভাবশালী মহল লুটপাট করে নেয়।

ভূমি মন্ত্রণালয় গত মাসে বাঁওড়গুলি ওপেন লিজ দিতে টেণ্ডার আহবান করলেও দুটি মন্ত্রণালয়ের টানা হেচড়ায় তা বন্ধ রয়েছে। হঠাৎ করেই অভিভাবকহীন হয়ে পড়ছে বাঁওড় ও হ্যাচারী। জেলে পরিবারগুলো মাছ ধরার অনুমতি ও ‘জাল যার জলা তার’ সংক্রান্ত নীতির দাবি করলেও বিষয় গুলি থাকছে উপেক্ষিত। শত শত জেলে পরিবার হয়ে পড়েছে অসহায়।

মৎস্যজীবি যমুনা হালদার জানায়, ছেলে মেয়ে নিয়ে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। অপরদিকে প্রভাবশালীরা সব মাছ লুটপাট করছে।

কোটচাঁদপুর বলুহর বাঁওড় সহকারী ম্যানেজার সেলিম চৌধুরী জানান, ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তি শেষ হওয়ায় বাঁওড়গুলি এখন ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলে গেছে। বাঁওড়ের সব ধরণের ফিশিং কার্যক্রম বন্ধ বলে তিনি জানান।

ফতেপুর বাঁওড় ম্যানেজার আজগর আলী পিটিবি নিউজ ডটকমকে জানান, গত বছর ১৫ মেট্রিক টন মাছ আহরণ করলেও এবার ৩ মেট্রিক টন মাছ আহরণের পর সব কিছু স্থগিত হয়েছে।

কোটচাঁদপুর কেন্দ্রীয় মৎস্য হ্যাচারী কমপ্লেক্সের হ্যাচারী অফিসার তালেবুল ইসলাম পিটিবি নিউজ ডটকমকে বলেন, দুই মন্ত্রণালয়ের টানা হেচড়ায় কারণে মাছের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সেই সঙ্গে অবকাঠামোগত সম্পদগুলোও বেহাল দশায় রয়েছে।

ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক রমা রাণী রায় পিটিবি নিউজ ডটকমকে জানান, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বাঁওড়গুলো এখন ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে। বর্তমানে মৎস্য ও ভূমি এই দুই মন্ত্রণালয়ের বৈঠক ও কমিটি গঠিত হয়েছে।

বাঁওড় মৎস্য চাষ উন্নয়ন প্রকল্পের মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল খালেক পিটিবি নিউজ ডটকমকে বলেন, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে মৎস্য অধিদপ্তর সরকারের কাছে ৫০ বছরের জন্য আবারও আবেদন করেছে।

এচাড়া মৎস্য ও ভূমি আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা সরেজমিন তদন্ত ও পরির্দশন করার পরে প্রতিবেদন দিলে বিষয়টির সমাধান হবে। তিনি জানান, বর্তমানে বাঁওড়গুলির সবধরণের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কোটি কোটি মৎস্য আহরণ করা সম্ভব হয়নি।


মনের উঠোনে

সাম্প্রতিক সংযোজন

মোবাইল থেকে দেখুন

আমাদের দেশ এখন আপনার মুঠোফোনে, মোবাইল থেকে লগইন করুন আমাদের দেশ

দ র্শ না র্থী

দ র্শ না র্থী

free counters

কে কে অনলাইনে আছেন