প্রাকৃতিক গোলাপ

Saturday, December 24, 2011


গোলাপকে ‘পুষ্পরানি’র সিংহাসনে অভিষিক্তকারিণী সাফো। কী গোলাপ দেখে সুপ্রাচীন এই গ্রিক কবি উচ্ছ্বসিত গোলাপ-প্রশস্তি লিখে ফুলের সিংহাসনে গোলাপকে চিরস্থায়ী করলেন এবং নিজেও গোলাপের মতোই নিত্য উদ্ধৃত রইলেন?

প্রথমে গোলাপের লিখিত ইতিহাসটা একনজর দেখা যাক। খ্রিষ্টপূর্ব সপ্তবিংশতি শতকী সারগনের আমলের রাজসমাধিভূমে স্যার লেনার্ড উলির প্রাচীনতম আবিষ্কার-পরবর্তী বেশ কটি শতাব্দীই পুষ্পরানির দলিলবিহীন। তবে ধরে নেওয়া চলে যে ইরাকি-তুর্কি মাতৃভূমি থেকে হাঁটি-হাঁটি-পা-পা করে তার জয়যাত্রা শুরু করে জলে-স্থলে বাণিজ্যপথ ধরে উদ্যমী পুষ্পটি পৌঁছে গিয়েছিল ক্রিটে, গ্রিসে, আফ্রিকার উত্তরে, মিসরে—সওদাগরি কারোয়ানের সখের সঙ্গিনী হয়ে। এমনি করে হাজার বছর ধরে অলখে লুকিয়ে থাকার পরে অবশেষে গোলাপের দেখা মেলে খ্রিষ্টপূর্ব ষোলো শতকের ক্রিটের দেয়ালচিত্রে আর মৃৎপাত্রের গায়ে আঁকা ছবিতে।
খ্রিষ্টের সাত শ বছর আগের মহাকাব্য ইলিয়াড-ওডিসির দুটিতেই গোলাপের উল্লেখ রয়েছে, তবে বিশেষ গোলাপের নয়, গোলাপবিশেষের। শৈলীগত বাগ্ভঙ্গিমায়—যেমন ‘দ্য রোজি ফিঙ্গারড ডন’। হোমারের বর্ণনায় অ্যাকিলিসের ঢাল ছিল গোলাপখচিত, নিহত হেক্টরের সর্বাঙ্গে আফ্রোদিতি লেপন করেছিলেন গোলাপেরই মলম। প্রেমের অধিষ্ঠাত্রী গ্রিক দেবী আফ্রোদিতি এবং রোমান দেবী ভিনাস—উভয়ের প্রতি উৎসর্গিত পুষ্পটি ছিল বিকল্পহীন গোলাপ। গ্রিসের স্মির্নাবাসী হোমারের গোলাপগুলো ছিল অবশ্যই সাদামাটা প্রাকৃতিক গোলাপ।
খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকের প্রথম দিকে গ্রিসের লেসবসবাসিনী গীতিকবি সাফোর (খ্রিষ্টপূর্ব ৬১০-৫৮০) বাণীবন্দনাতেই পুষ্পকুলের রানিরূপে প্রথম অধিষ্ঠান গোলাপের। সেই থেকে, বিগত ২৭০০+ বছরের ইতিহাসে, এই পৃথিবীতে গোলাপই একমাত্র রাজন্য যিনি তাঁর রাজমুকুটখানি হারাননি—বরং সাম্রাজ্যটিও নিরবধিই বিস্তার করে চলেছেন।
লেসবসের এই কালজয়ী গীতিকবির যে গানে গোলাপের পুষ্পরানি হিসেবে অভিষেক ঘটেছিল সেটির উদ্ধৃতি দেওয়া গেল সরাসরি গ্রিক থেকে ইংরেজি অনুবাদে:
Song of Rose
‘Would Jove appoint some flower to reign,
In matchless beauty on the plain,
The Rose (mankind will all agree),
The rose the queen of flowers should be;...
(Translation : F. Fawkes)
পরবর্তীকালের কবি, খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতকের অ্যানাক্রিয়নের স্তবগানে গোলাপের ধরাধামে আবির্ভাব বর্ণিত হয়েছে সবিস্তারে—যেমন কীভাবে প্রেমদেবী আফ্রোদিতির সমুদ্র থেকে অভ্যুত্থানের অভিঘাতপ্রসূত শুভ্র সমুদ্রফেনা থেকে অভ্যুদয় ঘটেছিল তাঁর যোগ্য প্রতিনিধি গোলাপের। এ কবির গোলাপও ছিল প্রাকৃতিক, বৈজ্ঞানিক মূল্য সংযোজিত নয়।
গোলাপকে ‘পুষ্পরানি’র সিংহাসনে অভিষিক্তকারিণী সাফোর এ গান যতবার পড়ি ততবারই ভালো লাগে এবং ততবারই প্রশ্ন জাগে: কী গোলাপ দেখে সুপ্রাচীন এই গ্রিক কবি এমন উচ্ছ্বসিত গোলাপ-প্রশস্তি লিখে ফুলের সিংহাসনে গোলাপকে চিরস্থায়ী করলেন এবং নিজেও গোলাপের মতোই নিত্য উদ্ধৃত রইলেন? তাঁর দেশ ও কালের খ্যাতিমান অন্য কবি কি সে গোলাপ দেখেননি? যেমন তাঁর সমসাময়িক কবি আলসিউস? যিনি বিখ্যাত হয়েছিলেন সমকালীন রাজনৈতিক ডামাডোল নিয়ে লিখে?
আগে দ্বিতীয় প্রশ্নটির জবাব দেওয়া যাক। আসলে যার যা দেখার তিনি তা-ই দেখেছেন। রোমান্টিক প্রকৃতির ইন্দ্রিয়সেবী গীতিকবি সাফো মানুষের দলাদলির বদলে গোলাপের ঢলাঢলি দেখেছেন। যেমন দেখেছেন পারস্য কবি ওমর খৈয়াম (খ্রিষ্ট ১০৪৮-১১৩১)। তিনিও গোলাপ নিয়ে মাতামাতি করেছেন সরল সৌন্দর্যের প্রতীক প্রাকৃতিক গোলাপ দেখে।
জটিল সৌন্দর্যের গোলাপ নিয়ে প্রথম কাব্য রচনা করেছেন সম্ভবত চীন দেশের সং বংশের রাজত্বকালের (৯৬০-১২৭৯) কবিকুল, যাঁদের দেশে তাঁদের কালের আগে থেকেই প্রকৃতির কাজে হাত লাগিয়ে সংকর-প্রজনকগণ সিঙ্গেল গোলাপের বহুগুণ বেশি পাপড়িসংবলিত একালের সেমিডাবল, ডাবল, ফুল, ভেরি ফুল ইত্যাদি সংজ্ঞায়িত গোলাপের জটিল সৌন্দর্য সৃষ্টি করে ফেলেছিলেন।
ওমর খৈয়ামের কবিতাকে প্রমথ চৌধুরী বলেছেন ফুলের মতো ফুটে ওঠা দর্শন, যেমন হালকা, যেমন ফুরফুরে, তেমনি সুন্দর, তেমনি রঙিন:
‘এর প্রতিটি হচ্ছে ইরানদেশের গোলাপ,—এ গোলাপের রঙের সম্বন্ধে ওমর জিজ্ঞাসা করেছেন, “দীর্ণ-হিয়া কোন সে রাজার/ রক্তে নাওয়া এই গোলাপ—/ কার দেওয়া সে লালচে আভা,/ হূদয়-ছ্যাঁচা শোণিত-ছাপ’। ওমরের কবিতার রস ফুলের আসব, সে রস পান করলে মানুষের মনে গোলাপি নেশা ধরে...।’
যেমন কান্তি ঘোষের অনুবাদে:
সদ্য ফোটা এই যে গোলাপ, গন্ধ-প্রীতি-উজল মুখ,
বলছে না কি—মিথ্যা এসব, এই ক্ষণিকের দুঃখ সুখ।
পৃথ্বী-বুকে উঠছে ফুটে গর্্বে পরি রঙিন সাজ—
—পাপড়ি টুটে ছড়িয়ে মোদের জীবন-রেণু পথের মাঝ।
ঐহিক প্রেমী ওমরের (যিনি বলেন ‘নগদ যা’ পাও হাত পেতে নাও,/ বাকির খাতায় শূন্য থাক/ দূরের বাদ্য লাভ কি শুনে?/ মাঝখানে যে বেজায় ফাঁক) নগদ চাহিদার তালিকায় গোলাপের বাইরে আছে শুধু একটি দিওয়ান, মানে একটি কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যও আমার মতে কেবল একটি শৈলীর, তথা গজল নামক গীতিকবিতার—যা সুর সহযোগে শ্রাব্য।
উল্লেখযোগ্য গজল রচনার সূচনা বস্তুত জ্যোতির্বিদ কবি এই ওমর খৈয়াম থেকেই। আজ পর্যন্তও ফারসি কাব্যের শ্রেষ্ঠতম ফসল গজল। বলা হয়, ‘পারস্য হয়ে ভারতবর্ষে আগত মুসলমানদের শ্রেষ্ঠতম উপহার তাজমহলের পরে গজল।’
আসল কথা কাব্যজগতের ঐহিক প্রেমের একমাত্র ঘরানা গজলই মেলে পুষ্পভুবনের জাগতিক প্রেমের একমাত্র সখী গোলাপের সঙ্গে। গজলের প্রতিটি দ্বিপদী সার্বভৌম একটি শব্দার্থগত সত্তা, একটা আলাদা কবিতা। তেমনি প্রতিটি গোলাপও যেন স্বতন্ত্র একটি নন্দনতত্ত্বগত সত্তা, জনৈকা অন্যরূপা নায়িকা।
এ জন্য আমার মনে হয়—প্রতিটি গোলাপ যেন একটি গান। আবার প্রতিটি গানই যেন একটি গোলাপ। পুষ্পের ভুবনে যেমন কেবল গোলাপই দৈহিক প্রেমের অবিমিশ্র প্রেরণা, কাব্যের জগতেও তেমনি কেবল গজলই শরীরী প্রেমের অবিমিশ্র অভিব্যক্তি—তবে কেবল অপুরস্কৃত প্রেমের। কিন্তু যত পুরস্কারহীনতার হাহাকারই হোক না কেন গজল, তার কাঙ্ক্ষিত প্রতিদান অবশ্য ইন্দ্রিয়জ বাসনারই। গোলাপও এমনি ইন্দ্রিয়জ বাসনারই প্রতীক।
তেমনি ইন্দ্রিয়জ কামনার প্রতিমূর্তি গীতিকবি সাফোই তো হবেন গোলাপের সমঝদার, গাইবেন গোলাপের গান। যেমন তাঁর রাজনৈতিক গোলযোগপূর্ণ কালের অন্য কবি লিখেছেন রাজনৈতিক প্রলাপের কথা।
কে ছিলেন এই নারী? মহামতি সক্রেটিসেরও (খ্রিষ্টপূর্ব ৪৭০-৩৯৯) ১৪০ বছর আগের, মহাকবি হোমারের খ্রিষ্টপূর্ব সপ্তম শতক ছোঁয়া—অর্থাৎ আজ থেকে ২৮০০ বছর আগের জীবনধারিণী? নানাবিধ বিষয়ে ইতিহাস সৃষ্টিকারিণী? কী তাঁর পরিচয়?
তিনি ছিলেন খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ-সপ্তম শতকের গ্রিসের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র লেসবস দ্বীপবাসিনী। বিত্তবান সারকাইলাসের স্ত্রী সাফো জীবনের যাপনে, চলনে-বলনে ছিলেন জনৈকা সম্ভ্রান্ত ‘অ্যারিস্টোক্র্যাট’। তাই তিনি চলতে পারতেন যেমন খুশি তেমনি। ছিলেন সহজাত গীতিকবি এবং নিবেদিতচিত্ত শিক্ষয়িত্রী। পরিচালনা করতেন লেসবসের প্রধান শহর মিটিলিনে নিজের প্রতিষ্ঠা করা, অবিবাহিতা মেয়েদের একাডেমি।
তাঁর ছাত্রী হিসেবে দূর দূর থেকে আসা কুমারীদের সঙ্গে কবিতা লেখা, আবৃত্তি করা ছাড়াও নিত্য মিথস্ক্রিয়াতেই কাটত সাফোর প্রতিটি দিন। (এঁর আদলেই তো সক্রেটিসের দিন কাটত ছেলেদের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়াতে? এ ব্যাপারে সাফোর ভাবশিষ্যও তো ভাবা যায় সক্রেটিসকে!)।
‘আনওয়েড’ ছাত্রীদের সঙ্গে এই শিক্ষিকার অন্তরঙ্গতা এতখানি বেড়ে যেত যে বিদায়কালে প্রত্যেককেই একটি করে ‘ওয়েডিং সং’ লিখে দিতেন সাফো। গানগুলোর কাব্যভাষা হতো ব্যক্তিগত আবেগ প্রকাশে খোলামেলা, যেমন:
Please
Come back to me, Gongyla, here tonight,
You, my rose, with your Lydian lyre.
There hovers forever around you delight :
A beauty desired.
...
—Translated by Paul Roche

হোমারের মতো দেবতাকে সম্বোধন নয়, মহাকাব্যিক বয়ানও নয়; সাফোর কবিতায় ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির কথা, ব্যক্তির প্রতি ব্যক্তির বারতা—সবই ব্যক্তিগত প্রেমবিষয়ক। গীতিকবিতার ইতিহাসে এটা প্রথম ঘটে সাফোর লিরিকেই। তিনি গান লিখতেন এবং সুর দিতেন ‘লায়ার’ বা বীণা বাজিয়ে সোলো গাওয়ার জন্য। গীতিকবিতার Lyric নামকরণ হয় সাফোর Lyre থেকেই। লিরিকের জন্য নিজস্ব একটি ছন্দও উদ্ভাবন করেছেন এই কালজয়ী লিরিসিস্ট, যেটি ‘সাফিক মিটার’ নামে প্রচলনে এসে অব্যবহিত পরবর্তী গীতিকবিদের ওপর বিপুল প্রভাব বিস্তার করেছিল। নীলনয়না রূপসী সাফোর দৃষ্টান্তেই ‘নীলকান্তমণি’ নামী প্রেশাস স্টোনের নামকরণ হয় Sapphire।
সাফো তাঁর প্রয়াণ-পরবর্তী দুই শ বছর সাফার করেন সমকামিতার রটনায়। তবু খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় ও দ্বিতীয় শতকে তাঁর নয়টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। সেগুলো বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার প্রথম কারণ হোমারিক ও অ্যাট্টিক গ্রিক ভাষার উত্থান ও জটিল ইয়োলিয়ান (লেসবিয়ান) আঞ্চলিক ভাষার পতন—যে আঞ্চলিক সুরেলা ভাষায় সাফো গান লিখতেন। তাঁর কাব্যভাষা ছিল আন্তরিক আঞ্চলিক, আনুষ্ঠানিক সাহিত্যিক নয়।
দ্বিতীয় কারণ, কবি অ্যানাক্রিয়ন কর্তৃক আনীত সমকামিতার অভিযোগে তাইতিয়ান নামক চার্চম্যানের আদেশে ১৪১ খ্রিষ্টাব্দে সাফোর পাণ্ডুলিপি ধ্বংসকরণ। তেমনি ‘কামোদ্দীপক’ জ্ঞান করে সাফোর ভক্তদের স্মৃতিবাহিত বাকি কবিতাগুলোও ১০৭৩ সালে পোপ গ্রেগরির নির্দেশে দাহন।
আবার তার অনেকখানি পুনরুদ্ধার সম্ভব হয় অক্সিরাইনচুস-স্তূপের প্রাচীন রাবিশের মধ্যে পাওয়া ইজিপ্সিয়ান প্যাপিরাসের টুকরাটাকরা থেকে, ১৮৯৮ সালে। এই উনিশ শতকেই নারীসমাজের সমকামিতার পরিভাষা হিসেবে সমগ্র বিশ্বের নিয়মিত ব্যবহারে চলে আসে Lesbian ও Sapphic শব্দ দুটি এবং স্থায়ীভাবে। এর অন্যতম কারণ ইউরোপিয়ান রেনেসাঁসের পর থেকে সাফোর আদৃতি ও উদ্ধৃতি দিন দিন বেড়ে চলা।
সাফোর আদৃতির বহরটা ইতিহাসজুড়েই দেখুন। প্লেটো তাঁর অ্যান্থলজিয়া প্যালাটিনার এক এপিগ্রামে বলেছেন:
Some say the Muses are nine : how careless!
Look, there’s Sappho too, from Lesbos, the tenth.
এথেন্সের শাসক ও কবি সোলন (খ্রিষ্টপূর্ব ৬৩৮-খ্রিষ্টপূর্ব ৫৫৮) সাফোর একটা গান শুনে বলেছেন এটা আমাকে শেখাও। কারণ I want to learn it and die। রোমান কবি কাতুল্লুস (খ্রিষ্টপূর্ব ৮৪-৫৪) সাফোর গান অনুবাদ করেছেন জাঁকজমকের সঙ্গে। মার্কিন কবি ও লেখিকা গার্টুড স্টিন সাফোর স্বকাল থেকে অনেক অগ্রসর ‘ও মুন’, ‘ও সি’, ‘ও লাভ’ সম্বোধিত কবিতা পড়ে মুগ্ধবিস্মিত হয়ে মন্তব্য করেছেন: এপিক কবি হোমারের ‘রোজি ফিঙ্গার্স’ থাকে বীর্যের প্রতীক সূর্যোদয়ের সঙ্গে, আর লিরিক কবি সাফোর ‘রোজি ফিঙ্গার্স’ থাকে প্রেমের প্রতীক চন্দ্রোদয়ের সঙ্গে—সাফোর কাব্যের বাতাসে প্রেম এমনি সতত ভাসে।
সাফোর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আনা, এমনকি তাঁকে সিসিলিতে নির্বাসিত করা; এসবের মূল কারণ—তিনি ছিলেন তাঁর কাল থেকে অনেক অনেক এগিয়ে। তাঁর ‘সিঙ্গল উইমেনস অ্যাকাডেমি’ একাই যথেষ্ট ছিল সমাজকে খেপানোর জন্য। যেমন একালের রবীন্দ্র-বিদূষণের প্রধান কারণও ছিল তাঁর স্বকাল থেকে বেজায় বেশি এগিয়ে থাকা—যথা ভদ্র ঘরের শিক্ষিত মেয়েদের নৃত্যশিল্পীরূপে মঞ্চস্থ করা।
তা ছাড়া গোলাপপ্রেমী সাফো যে বৈকৃতকাম ছিলেন না, তার চূড়ান্ত প্রমাণ হলো তাঁর বিবাহ ও সন্তান জনন। লেসবিয়ান নারী যেখানে পুরুষকে অন্তরঙ্গ সান্নিধ্যে ঘনিষ্ঠ হতে দেন না—সেখানে পুরুষের ঔরসে তাঁর গর্ভে সন্তান ধারণ করার কথা ভাবাও যায় না। এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার অষ্টম খণ্ড মাইক্রোপিডিয়া লিখেছে—এটা নিশ্চিত যে সাফো এক কন্যাসন্তানের জননী হয়েছিলেন। কন্যাটির নাম রেখেছিলেন নিজের মায়ের নামে, ক্লিস।
এ ছাড়া ল্যাটিন কবি ওভিদ (খ্রিষ্টপূর্ব ৪৩-খ্রিষ্ট ১৮) বর্ণিত লেজেন্ডে আছে—ফাওন নামের এক তরুণ নাবিক কর্তৃক প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে মাত্র তিরিশ বছর বয়সে সাফো সমুদ্র-তীরবর্তী অতি উচ্চ এক পর্বতগাত্র থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন। পুরুষের জন্য কোনো সমকামী নারীর আত্মহত্যা করা অকল্পনীয়।
আমি প্রাণবন্ত এই কালজয়ী গীতিকবির কামবিকৃতির সত্যমিথ্যা গল্পগাছা শুনতেও প্রস্তুত নই। কারণ, তাঁর সঙ্গে দেখা না হলে গোলাপের দেশটা আমার দেখা হতো না, তিনি দেখিয়ে না দিলে গোলাপের পথে আমার চলা হতো না। স্বতন্ত্র শ্রেণীর গানের স্রষ্টা জটিলেশ্বর মুখোপাধ্যায় হয়তো সাফো আর গোলাপকে মনে রেখেই এই অবিস্মরণীয় গানটির কথা আর সুর রচনা করেছিলেন, ‘তোমার সঙ্গে দেখা না হলে/ ভালোবাসার দেশটা আমার দেখা হতো না/ তুমি না হাত বাড়িয়ে দিলে/ এমন একটি পথে আমার চলা হতো না’/।
আনীত অভিযোগ সমকামিতার চিহ্নমাত্র দ্রষ্টব্য নয়, তাঁর অবিনষ্ট কবিতানিচয়ের কোথাও। তবু ইউরোপের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠা নারী গীতিকবি লেসবসের সাফোকেই সমকামী নারীর প্রোটোটাইপ বা আদিরূপ জ্ঞান করে নারীসমাজের সমকামিতার জাত্যর্থরূপে সর্বকালের জন্যই স্থায়ী হয়ে গেল ‘সাফিফজম’ বা ‘লেসবিয়ানিজম’ শব্দদ্বয়। অসত্য এভাবেই ইতিহাসের ঘাড়ে চেপে বেঁচে থাকে কাল থেকে কালে।
এবারে প্রথম প্রশ্নটির জবাব দেওয়া যাক। এককালের এশিয়া মাইনরের অংশ, লেসবস দ্বীপে খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে সাফো দেখেছিলেন পাঁচ-পাপড়ির সহজ সরল বিনম্র সুন্দর প্রাকৃতিক গোলাপ, যে আপন খেয়ালে নিজে নিজে ফোটে—কি অরণ্যে কি উদ্যানে। যাকে ব্রিড করে কেউ ফোটায় না। বন্য অভিহিত এই গোলাপ প্রাকৃতিক উদ্ভিদবিশ্বের সুন্দরতম অংশটি। এর বৈজ্ঞানিক ও প্রায়োগিক নাম স্পিশিজ রোজ।
কেউ ফোটায় না বলেই বর্তমান বিশ্বে ওয়াইল্ড বা স্পিশিজ-রোজের টাইপ মাত্র ১০০, যেখানে ব্রিড-রোজের ভ্যারাইটি প্রায় তিন হাজার। আদিম গোলাপের পাপড়ির সংখ্যা সর্বোর্ধ্ব পাঁচ, কদাচিৎ চারও দেখা যায়। কিন্তু পাঁচের বেশি দেখলেই বুঝতে হবে ওটা নির্ভেজাল আদিম নয়, কৃত্রিম বা ব্রিড গোলাপ। মাত্র পাঁচটি পাপড়ি অনুভূমিক থাকে বলে প্রতিটি পাপড়ির পূর্ণ রূপ একনজরে দর্শন ও রসাস্বাদন সম্ভব হয় একমাত্র এই বন্য গোলাপেই।
সাফো এই ন্যাচারেল স্পিশিজ রোজ বা প্রাকৃতিক বুনো গোলাপ ছাড়া কোনো কালচার্ড বা কাল্টিভার রোজ দেখেননি। কারণ, রোজ-কালচারের সূচনাই হয় সাফোর কাল থেকে দেড় হাজার বছর পরে, সেও তাঁর দেশ থেকে বহু হাজার মাইল দূরে—দূরপ্রাচ্যের সুদূর চীনদেশে। তাঁর উপমহাদেশ ইউরোপে কাল্টিভার রোজ বা বর্ণ-সংকর গোলাপের চর্চা শুরু হয় সাফোর সময়ের আড়াই হাজার বছর পরে।
জাপানি উদ্ভিদবিদ মিকিনোরি ওগিসু তাঁর ‘মাই ওয়ার্ল্ড অব প্লান্টস’ নামক গ্রন্থে লিখেছেন: চীনদেশের জনগণ প্রাচীন গোলাপের সংকরায়ণ-পদ্ধতি শিখে কাল্টিভার বা আধুনিক গোলাপের উদ্ভাবন ও উৎপাদন করে আসছেন হাজার বছর আগে থেকে, যেখানে ইউরোপ-আমেরিকায় কাল্টিভার রোজের ইতিহাসের বয়স মাত্র শ-দুয়েক বছর।
প্রতিটি রাজবংশেই চৈনিক বিবুধম-লি মনমাতানো সৌরভময় প্রাকৃতিক গোলাপের সৌন্দর্যে আবিষ্ট ছিলেন। কাব্যে কেবল গোলাপেরই গান গাইতেন তাঁরা। আজ সেসব কবিতা পড়েই আমরা বুঝতে পারি সেকালের জনগণ কেমন বিমোহিত ছিলেন অনাড়ম্বর প্রাকৃতিক গোলাপের মনোহর পারিপাট্য দেখে। সং বংশের রাজত্বকালের (৯৬০-১২৭৯) মহৎ কবি চেন কানজেং কর্তৃক আদিম গোলাপ উৎকীর্তিত হয়েছে বিশ্বের সমস্ত পুষ্পের চেয়ে বেশি রোমান্টিক বলে। উত্তর চীনের সং ডিনেস্টিতে গোলাপের সম্মানে অন্যান্য অনেক স্বনামধন্য উদ্ভিদকেই অনেক জায়গা ছেড়ে দিতে হয়েছে।
চীনের জিয়াংসু প্রদেশের ফরেস্ট্রি অ্যাকাডেমির প্রফেসর ওয়াং গুয়োলিয়াং তাঁর ত্রিশ বছরের গবেষণার ফসল ‘হাজার বছর আগের চায়নিজ সং ডিনেস্টির প্রাচীন গোলাপ’ শীর্ষক একটি মিমিয়োগ্রাফে বলেছেন যে চীনের প্রাকৃতিক গোলাপের বৈচিত্র্য এবং সৌন্দর্য এখনো তাঁকে স্তম্ভিত করে। মিমিয়োগ্রাফটিতে তিনি চীনের শাংরি-লা ডিস্ট্রিক্টের আদিম গোলাপ আর রোজ কাল্টিভেশনের সুদীর্ঘ ইতিহাসসমৃদ্ধ প্রাচীন গোলাপের কিছু নির্বাচিত ভ্যারাইটি নিয়ে চাঞ্চল্যকর আলোচনা করেন।
আলোচনার ফোরামটি ছিল ম্যানহাটন রোজ সোসাইটি কর্তৃক এই ‘প্রাকৃতিক গোলাপ’ বিশেষজ্ঞের সম্মানে আয়োজিত ‘ডিনার উইথ ডক্টর ওয়াং গুয়োলিয়াং’। এই ইভেন্ট থেকেই আমি জানলাম: গোলাপবিশ্বের প্রবীণ ও নবীন দুই নেতা চীন ও যুক্তরাষ্ট্র প্রাকৃতিক গোলাপের প্রতি এখনো কত গভীরভাবে উৎসাহী। জানলাম ‘ম্যানহাটন রোজ সোসাইটি’র ‘স্কাইস্ক্রেপার্স অ্যান্ড রোজেস’ নামক নিউজলেটারে প্রকাশিত ইভেন্টটির ওপর দীর্ঘ প্রতিবেদন থেকে।
ভেবে বিস্মিত হলাম যে যুক্তরাষ্ট্র গোলাপ বানানোতেও বোমা বানানোর মতোই পারদর্শী। এ কারণেই বাকি বিশ্ব কর্তৃক উদ্ভাবিত গোলাপের নিবন্ধনও করতে হয় ‘আমেরিকান রোজ সোসাইটি’ কর্তৃক প্রবর্তিত ও পরিচালিত ইন্টারন্যাশনাল চেকলিস্টে। প্রযুক্তির প্রতীক স্কাইস্ক্রেপার্সের সঙ্গে প্রকৃতির প্রতীক গোলাপের এই মেলবন্ধন সর্বগ্রাসী বিভ্রান্তির চলমান এই কালটিতে মানবজাতির জন্য পথপ্রদর্শক হতে পারে।
কদাচিৎ সাদা দেখা গেলেও বন্য গোলাপ সাধারণত গোলাপি রঙেরই হয়। বরং ‘গোলাপি রং’ কথাটি সাফো বর্ণিত সেই প্রাকৃতিক গোলাপেরই সৃষ্টি। যেকোনো মিশ্র রঙে গোলাপি আভা বর্ণনাটাও আদিম গোলাপেরই অবদান, যেমন গোলাপি লাল, গোলাপি বেগনি।
এই না-শুঁকে পাওয়ার মতো সুরভি-বিলানো প্রাকৃতিক গোলাপ আজ সবার বাগান থেকেই নির্বাসিত। অথচ ওয়াইল্ড রোজ এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার মতো সব বড় মহাদেশেরই নেটিভ। এশিয়া-ইউরোপের সহজাত গোলাপগুলোর কথা আমার গোলাপসংগ্রহ গ্রন্থে সবিস্তারে বলা হয়েছে। এখানে তাই শুধু আমেরিকার কিছু প্রাকৃতিক গোলাপের উল্লেখ করছি।
যেমন—ইস্ট কোস্টের রোজা ক্যারোলাইনা, রোজা পালুস্ট্রিস বা সোয়াম্প রোজ (ক্যারোলাইনার মতো এটাও শ্রাবরোজ), রোজা আরকানসানা বা প্রেইরি রোজ (মধ্য-যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয়), রোজা ভার্জিনিয়ানা বা ভার্জিনিয়া রোজ, রোজা উডসি বা উডস ওয়াইল্ড রোজ (রকি মাউন্টেন রোজ), রোজা নুটকানা বা নুটকা রোজ (প্যাসিফিক কোস্টের আলাস্কা থেকে ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত)।
একই মৌসুমে বারবার ফোটার আধুনিক গোলাপ উদ্ভাবনের পর বাগানে প্রাকৃতিক গোলাপের জনপ্রিয়তা হ্রাসের এক কারণ তো এর বছরে কেবল একটিবার ফোটা, তাও মাত্র দুসপ্তাহের জন্য।
কিন্তু প্রাকৃতিক গোলাপের নিরিবিলি সৌন্দর্য তো অবিকল্প। মনে মনে পাঁচ-পাপড়িবিশিষ্ট সিঙ্গলরোজ ‘ইলেন উইলমট’ অথবা ‘অল্টিসিমো’র নীরব সৌন্দর্যের সঙ্গে ১০০+ পাপড়িসংবলিত হাইব্রিড-টি রোজ ‘বেলিন্ডাজ ড্রিম’ বা ‘কোয়ায়েটনেস’-এর সরব ঐশ্বর্যের পার্থক্যটা পরখ করে বুঝে নিন।
উদ্যানের ল্যান্ডস্কেপশিল্পীগণ তাই এশিয়ার জাপান-কোরিয়া-চায়নার ওয়াইল্ড রোজ রুগোসার সঙ্গে ক্রসব্রিডিঙের মাধ্যমে সিঙ্গল-ব্লুমিং বন্য গোলাপকে রিপিট-ব্লুমিং রোজ বানানোর চেষ্টায় কিছুটা সাফল্য অর্জন করে সুন্দর একটি ভিন্ন রূপের গোলাপ পেয়ে যথাযোগ্য নাম দিয়েছেন ‘নিয়ারলি ওয়াইল্ড রোজ’।

তথ্য সুত্র: প্রথম আলো, তারিখ: ২৩-১২-২০১১

টবে শীতের ফুল

Wednesday, November 30, 2011


গ্রামে শীত আসে খেজুর রসের হাঁড়িতে চড়ে, আর নগরের শীত নামে রংবেরঙের ফুলের টবে চড়ে। ছোট পরিসরেই রকমারি সেসব ফুলকে জায়গা দিতে হয় টবের ভেতরে।
নগরের বিভিন্ন নার্সারিতে এখন নানা রকমের গাঁদা ফুলের চারা পাওয়া যাচ্ছে। গাঁদার সবচেয়ে আকর্ষণীয় হাইব্রিড ইনকা জাতের গাছ এখন ফুলসহ পাওয়া যাচ্ছে। ইনকা গাঁদা টবে লাগানোর জন্য খুবই ভালো। তবে এ ফুলের প্রস্ফুটনকাল অন্য জাতের গাঁদার চেয়ে কম। একটা গাছে দেশি বল গাঁদার যত ফুল ফোটে, ইনকার তত ফুল ফোটে না এবং ফুলও দেশি গাঁদার মতো অত দিন থাকে না।

জাম্বো গাঁদার গাছ খুব খাটো ও প্রচুর ডালপালা নিয়ে ছড়িয়ে বড় হয়, অনেক দিন ধরে প্রচুর ফুল ফোটে। টবে খুব ভালো হয়। জাম্বো গাঁদার ফুলের রং ইনকার মতো শুধু সরষে হলুদ, হলুদ বা কমলা নয়, খয়েরি বা মেরুন রঙে চিত্রিত। এই বৈচিত্র্যের জন্য জাম্বো গাঁদাকে অনেকেই পছন্দ করেন।
পুরোপুরি মেরুন রঙের ছোট ফুলের গাঁদা এ দেশে রক্তগাঁদা নামে পরিচিত, আসলে ওটা চায়নিজ গাঁদা। এটাও টবের জন্য ভালো, অনেক দিন ধরে প্রচুর ফুল পাওয়া যায়।

অন্য যত ফুল
শীতের ফুলের মধ্যে ডালিয়া ও চন্দ্রমল্লিকা অন্যতম। ডালিয়ার খাটো থেকে লম্বা—অনেক জাতের গাছ আছে। ছোট টবের জন্য খাটো গাছ ও বড় টবের জন্য লম্বা গাছ বেছে নিতে পারেন। ডালিয়ার কাটিং পলিব্যাগে বিভিন্ন নার্সারিতে পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো কিনে টবের মাটিতে বসিয়ে যত্ন নিলে মাস খানেক পর থেকেই ফুল ফুটতে শুরু করবে এবং জাতভেদে মার্চ পর্যন্ত ফুল দেবে। চন্দ্রমল্লিকার অসংখ্য জাত রয়েছে। বড় ফুলের কোঁকড়ানো পাপড়ির স্নোবল জাতটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়। চন্দ্রমল্লিকা ফুল অনেক দিন টবে ফোটা থাকে, ফুলও ফোটে অনেক। শীতের অন্যান্য ফুলের মধ্যে লাগাতে পারেন ইউরোপ থেকে আসা অ্যান্টিরিনাম, দক্ষিণ আফ্রিকার ডেইজি, মেক্সিকোর ন্যাস্টারশিয়াম, চীনের অ্যাস্টার, যুক্তরাষ্ট্রের ক্লার্কিয়া, পপি, লুপিন, ফ্রান্স থেকে আসা কারনেশন ও প্যানজি, ইতালির সিসিলির সুইটপি প্রভৃতি ফুলের গাছ। এসবই এখন আমাদের দেশে সুলভ। এমনকি বাহারি রূপের গাজানিয়া, পিটুনিয়া, ভারবেনা, ফ্লক্স, হলুদ পপি, স্যালভিয়া, ডায়ান্থাস, ক্যালেন্ডুলা, হেলিক্রিসাম, কসমস, জারবেরা ইত্যাদিও লাগাতে পারেন। এর সব ফুলই টবে লাগানো যায়। এমনকি কলকের মতো নীলরঙা মর্নিং গ্লোরি বা পার্বতী লতানো ফুল হলেও শীতে টবে লাগাতে পারেন। চারা লাগিয়ে টবের ভেতর কাঠি পুঁতে জিআই তারের রিং দিয়ে ছোট্ট মাচার মতো করে তাতে লতিয়ে দিলে সে গাছও দেখতে বেশ লাগে। পুরো শীতেই এর ফুল ফুটবে।

টবে ফুল ফোটানোর সহজ পাঠ
শীতের ফুল লাগানোর জন্য ৮ থেকে ১২ ইঞ্চি মাপের টবই যথেষ্ট। ছোট আকৃতির গাছ, যেমন—ডায়ান্থাস, জাম্বো গাঁদা, পিটুনিয়া, গাজানিয়া ইত্যাদি ছোট টবে লাগাতে পারেন। ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, ইনকা গাঁদা ইত্যাদি লাগাতে পারেন ১০-১২ ইঞ্চি টবে। টবের আকৃতি অনুযায়ী, মাটির সঙ্গে টবপ্রতি ১৫০ থেকে ২৫০ গ্রাম প্যাকেটের জৈব সার, কম্পোস্ট বা ভার্মিকম্পোস্ট মিশিয়ে টব ভরবেন। পলিব্যাগের চারা টবের মাঝখানে সোজা করে লাগিয়ে চারার গোড়ার মাটি দুই হাতের আঙুল দিয়ে চেপে শক্ত করে দেবেন। এরপর পানি দেবেন। টবে আর কোনো সার দেওয়ার দরকার হবে না। তবে গাছের বাড়-বাড়তি কম মনে হলে কুঁড়ি আসার আগেই আরও কিছু কম্পোস্ট বা জৈব সার টবের মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেবেন। জৈব সার কয়েক দিন পরপর অল্প করে গাছের গোড়ার চারদিকে দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেবেন, অন্তত কুঁড়ি না আসা পর্যন্ত। টব রাখবেন রোদে, ছাদে বা ব্যালকনিতে। গাছে পানি দেওয়ার সময় শুধু গাছের গোড়ায় পানি না দিয়ে ঝাঁঝরি দিয়ে গাছের ওপর থেকে বৃষ্টির মতো গাছ-পাতা ভিজিয়ে নিয়মিত হালকা পানি দিন। এতে গাছ বেশি সতেজ হবে। ডালিয়া ও চন্দ্রমল্লিকা গাছে কাঠি পুঁতে ঠেস দেবেন। গাঁদা ফুলের আকার বড় করতে চাইলে প্রথম কুঁড়িগুলো নখ দিয়ে খুঁটে ভেঙে দিন। এতে ফুল বড় হবে এবং বেশি ফুল ফুটবে। ফুল শুকাতে শুরু করলে দ্রুত তা গাছ থেকে কেটে ফেলুন।

টব, সার ও চারার খোঁজ
ঢাকায় আগারগাঁওয়ে রোকেয়া সরণিতে ২০-২৫টি নার্সারি গড়ে উঠেছে, যেগুলোতে এখন শীতের মৌসুমি ফুলের পর্যাপ্ত চারা পাওয়া যাচ্ছে। ইনকা গাঁদার জন্য দেখতে পারেন আরণ্যক, খামারবাড়ী, আদর্শবন, তানজিলা, মাগুরা, গার্ডেনিয়া ইত্যাদি নার্সারি। সাদা গাঁদা ও ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার পাবেন কৃষিবিদ উপকরণ নার্সারিতে, চন্দ্রমল্লিকা ও স্নোবল পাবেন গ্রিন ওয়ার্ল্ড নার্সারিতে, গাজানিয়া ও স্যালভিয়া পাবেন মাগুরা নার্সারিতে, ডালিয়া পাবেন মমতাজ ও বৃষ্টি নার্সারিতে। শীতের প্রায় সব ফুলের প্রতিটি চারার দামই পলিব্যাগে ৬-১০ টাকার মধ্যে, তবে গাজানিয়া ও পিটুনিয়ার দাম ৩০ টাকা। টবে ইনকা গাঁদার ফুলসহ গাছ পাবেন ৪০-৮০ টাকার মধ্যে। প্যাকেটের কম্পোস্ট বা জৈব সার প্রতি কেজি ৪০ টাকা। মাটির টব ২০-৬০ টাকা, সিমেন্টের টব ৬০-৩০০ টাকা, পারটেক্স ব্র্যান্ডের প্লাস্টিকের পুনরায় ব্যবহারযোগ্য টব আট ইঞ্চি ৮০ টাকা, ১২ ইঞ্চি ১৭০ টাকা। পাবেন গ্রিনওয়ার্ল্ড নার্সারিতে। এ ছাড়া ফার্মগেটের কাছে খামারবাড়ীর পাশে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট চত্বরে ভোসড নার্সারিতেও শীতের ফুলের চারা ও সার পাবেন। সাভার ও ঢাকার বাইরের নার্সারিগুলোতে চারার দাম কিছুটা কম।

জাফরান ভেবে দইগোটা!

Wednesday, November 16, 2011


অনেক সময় নার্সারিতে দেখে ভালো লাগার চারাটি কিনে ফেলা হয়, এর পরিচয় না জেনেই। বিদেশি গাছের বেলায় তো প্রায়ই এমন ঘটে। আশ্চর্য ব্যাপার হচ্ছে, প্রকৃত নামের পরিবর্তে গাছটিকে যে নামে ডাকা হয়, সেই নামের গাছের সঙ্গে প্রকৃত গাছটির কোনো ধরনের সাদৃশ্য বা সম্পর্ক থাকে না।

এমন একটি গাছের নাম দইগোটা।একে আবার লটকনও বলে অনেকে। এই রঞ্জক উদ্ভিদটি এখানে ভুল করে জাফরান ভাবা হয়। কিন্তু আকার-আকৃতিতে গাছ দুটি একেবারেই আলাদা। আদতে জাফরান বেশ দুষপ্রাপ্য এবং নামীদামি সুগন্ধি। জানামতে, দেশে এখন পর্যন্ত জাফরান চাষের কোনো রেকর্ড নেই। বর্ষজীবী এই কন্দজ গাছ সাধারণত শীতের দেশেই জন্মে। সেখানকার পরিকল্পিত বাগানগুলোতে প্রাকৃতিকভাবে জন্মাতে দেখেছি।
ঢাকার কোনো পার্কে বেড়াতে গেলে দইগোটার গাছ দৃষ্টি এড়িয়ে যেতে পারে। কারণ, চোখে পড়ার মতো তেমন আকর্ষণীয় কিছুই থাকে না প্রায় সারা বছর। শুধু চিরুনির ফলার মতো খোলসওয়ালা লালচে রঙের কতগুলো ফল চোখে পড়ে গাছে। তা-ও আবার উপাদেয় কোনো ফল নয় বলে মানুষের উৎসাহ খানিকটা কম। তবে বর্ষার শেষভাগ থেকে হেমন্ত পর্যন্ত ঈষৎ গোলাপি রঙের ফুলগুলো ফুটতে থাকে।
লটকন বা দইগোটা (Bixa orellana) সারা দেশে রঞ্জক হিসেবেই চাষ হয়। কিন্তু দেশি ফল লটকা বা লটকনের সঙ্গেও এর কোনো সম্পর্ক নেই। ধারণা করা হয়, বীজের রং দই রাঙানোর কাজে বেশি ব্যবহূত হতো বলেই এমন নামকরণ। প্রাচীনকালে মানুষ যে কয়েকটি গাছ থেকে প্রাকৃতিক রং সংগ্রহ করত, দইগোটা তার মধ্যে অন্যতম। রঞ্জক উদ্ভিদ সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে গিয়েই প্রথমে এ গাছ সম্পর্কে জানতে পারি। ঢাকায় রমনা পার্ক, বলধা গার্ডেন, বোটানিক্যাল গার্ডেনসহ কারও কারও ব্যক্তিগত সংগ্রহেও দেখা যায়।
এটি ক্রান্তীয় আমেরিকার প্রজাতি। সতেরো শতাব্দীর দিকে স্প্যানিশদের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। গাছ ছোট, ঝোপাল, চার থেকে পাঁচ মিটার উঁচু ও চিরসবুজ। পাতা বড়। ফুল ফোটে শরৎ থেকে শীতের প্রথমভাগ অবধি। ফুল একসঙ্গে অল্প কয়েকটি ফোটে। দেখতে গোলাপি, ঈষৎ বেগুনি বা সাদাটে। পাপড়ির মাঝখানে হলুদ-সোনালি রঙের একগুচ্ছ পুংকেশর থাকে। ফল লালচে বাদামি, নরম কাঁটায় ভরা। বীজ লাল শাঁসে জড়ানো। এই বীজ থেকেই পাওয়া যায় রং।
এবার জাফরান প্রসঙ্গ। এরা পেঁয়াজের মতো পাতা ও কাণ্ডবিশিষ্ট বহুবর্ষজীবী গুল্ম। মাটির নিচে মূলে কন্দ ও অনেক শিকড় থাকে। অন্য নাম কুমকুম বা কুঙ্কুম। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে এই গণের ৬০টি প্রজাতি রয়েছে। জাফরান (Crocus sativus) স্বাদে তেতো, ঝাঁজালো, পিচ্ছিল ও সুগন্ধময়। দামি রান্নায় ও সুগন্ধের জন্য পরিমাণমতো ব্যবহার করা হয়। ভালো জাফরান রক্তাভ-পীত রঙের এবং পদ্মগন্ধযুক্ত। প্রাচীনকাল থেকেই কাশ্মীরে এ ধরনের উৎকৃষ্ট মানের জাফরান জন্মে। তা ছাড়া ইরান, ইতালি, ফ্রান্স ও স্পেনেও এর ব্যাপক চাষ হয়।
খাদ্যদ্রব্য ছাড়াও দামি প্রসাধন সামগ্রী হিসেবে জাফরান ব্যবহার্য। প্রাচীনকালে জাফরান গায়ে মাখা হতো শরীরের সৌষ্ঠব বাড়ানোর জন্য। ত্বক এর গুণে লাবণ্যময় হয়ে ওঠে। এ ছাড়া নানা রোগেও জাফরানের বহুমাত্রিক ব্যবহার লক্ষ করা যায়। চড়া মূল্যের কারণে ইদানীং জাফরানের ব্যবহার অনেক কমেছে।
এবার নিশ্চয়ই আর জাফরান ভেবে অন্য কোনো গাছ নিয়ে বাড়ি ফিরবেন না।

তথ্য সুত্র: প্রথম আলো , তারিখ: ১৫-১১-২০১১

ইলিশের প্রজনন মৌসুম ২০ দিন করার পরামর্শ

Friday, October 28, 2011


প্রজনন মৌসুম শেষ হওয়ার পরও নদ-নদীতে ডিমওয়ালা প্রচুর মা-ইলিশ ধরা পড়ছে। এ অবস্থায় মা-ইলিশ ধরা বন্ধ করে নদ-নদীতে ইলিশের সরবরাহ বাড়াতে প্রজনন মৌসুম ১০ দিন থেকে বাড়িয়ে ২০ দিন করা উচিত। মৎস্য কর্মকর্তা, ইলিশ গবেষক ও জেলেরা এ মতামত দিয়েছেন।

জেলেরা ইলিশ প্রজনন মৌসুমের ওই ২০ দিন তাঁদের পরিবারের জন্য চাল সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন। কারণ, এ কয়েক দিন বেকার থাকায় তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাতে হয়।
ভোলা জেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ১৫ থেকে ২৪ অক্টোবর—এই ১০ দিন ইলিশ প্রজনন মৌসুম ধরে মেঘনা-তেঁতুলিয়াসহ সাগরের মোহনার সাত হাজার বর্গকিলোমিটার জলসীমায় জাল ফেলা নিষিদ্ধ করেছে। এ বছর সময় পাল্টে ৬ থেকে ১৬ অক্টোবর—এই ১১ দিন জাল ফেলা বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু ওই ১১ দিন পার হওয়ার পরও নদ-নদী ও সাগরের মোহনায় ডিমওয়ালা প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। এতে ইলিশের প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে।
চাঁদপুর ইলিশ গবেষণাকেন্দ্রের প্রধান আমিনুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ইলিশ সারা বছরই নদীতে এসে ডিম ছাড়ে। তবে আশ্বিন মাসের ভরা পূর্ণিমার আগের ১০ দিন এবং পরের ১০ দিন ইলিশের ডিম পাড়ার প্রকৃত সময়। তাই ইলিশ প্রজনন মৌসুম ১০ দিন থেকে বাড়িয়ে ২০ দিন করা উচিত। কিন্তু জেলেদের অভাব-অনটনের কথা চিন্তা করে সময় কমানো হয়েছে। তার পরও এ বছর এক দিন বাড়ানো হয়েছে।
সরেজমিনে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর পারের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জেলেরা যেসব ইলিশ শিকার করছেন, এর পেটে ডিম পাওয়া যাচ্ছে।
সদর উপজেলার তুলাতুলি মাছঘাটের বশির মাঝি জানান, এ বছর যে প্রজনন মৌসুম ধরা হয়েছে, সে সময়ের মধ্যে সব ইলিশ ডিম ছাড়তে পারেনি। ডিম ছাড়ার সময় বাড়ানো উচিত।
তজুমদ্দিন উপজেলার স্লুইসঘাট মাছঘাটের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, ইলিশ প্রজনন মৌসুম হিসেবে এবারের সময় সঠিক হয়েছে। তবে এ সময় বাড়ানো উচিত। কারণ, ইলিশ আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা ও অমাবস্যার সময় পরিমাপ করে নদীতে ডিম ছাড়ার জন্য আসে।
দৌলতখান উপজেলার চৌকিঘাটার জেলে আবদুল কাদের মাঝি জানান, ইলিশ ডিম ছাড়ার আগেই জালে ধরা পড়ছে। এ জন্য সময়সীমা বাড়ানো উচিত। একসময় জেলেরা ডিম ছাড়া মৌসুমে নদীতে জাল পাততেন না। এখন তাঁদের পেটে খিদে। এ জন্য সরকার আইন করে প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা দিয়েও মাছ ধরা বন্ধ করতে পারছে না।
কয়েকজন জেলে দাবি করেন, প্রজনন মৌসুমের সময় বাড়ালে তাঁদের কোনো সমস্যা নেই। তবে যে কদিন মাছ ধরা বন্ধ থাকবে, সে কয়দিন সরকারের পক্ষ থেকে তাঁদের জন্য চাল সরবরাহ করতে হবে। ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মাধ্যমে চাল বা টাকা বিতরণ বন্ধ করতে হবে।
দৌলতখান উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামাল বলেন, এ বছর প্রজনন মৌসুমে কোনো ঝড়-বৃষ্টি ছিল না, এ জন্য সব মা-ইলিশ ডিম ছাড়তে পারেনি। প্রজনন মৌসুমের সময় শেষ হওয়ার পরও ইলিশের পেটে ডিম পাওয়া যাচ্ছে।

তথ্য সুত্র: প্রথম আলো, তারিখ: ২৮-১০-২০১১

মন রাঙানো লাল ঝুমকা

Tuesday, September 27, 2011


প্রবীণ বৃক্ষপ্রেমী জয়নাল আবেদিন একদিন ভরদুপুরে একটি অচেনা ফুল দেখাতে নিয়ে গেলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডে অবস্থিত ব্রিটিশ কাউন্সিলের উত্তর পাশের দেয়াল-লাগোয়া শিক্ষকদের আবাসিক ভবনের পেছনে গিয়ে দেখা মিলল ফুলগুলোর। ফুলগুলো এতটাই আড়ালে যে তাঁর অনুসন্ধানের প্রশংসা না করে উপায় নেই। চিনতে কষ্ট হলো না, এগুলো লাল ঝুমকা। বছর খানেক আগে মিরপুর উদ্ভিদ উদ্যানে দেখেছি। এই লতাও সেখান থেকে সংগৃহীত। তুলনামূলকভাবে দুর্লভ। আর কোথাও চোখে পড়েনি। তবে ঝুমকালতার আরও তিনটি প্রকরণ দেখেছি বিভিন্ন স্থানে। যে প্রকরণটি থেকে ট্যাং ফল হয়, সেটি দেখেছি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্মপ্লাজম সেন্টারে। সব প্রকরণের ফুল গড়নের দিক থেকে প্রায় একই রকম হলেও টক স্বাদের ফলওয়ালা প্রজাতিটি এ ক্ষেত্রে অনেকটাই ব্যতিক্রমী। ফলের রস থেকে শরবত বানানো যায় বলেই এমন নামকরণ। আর বেগুনি রঙের প্যাসিফ্লোরা সেরুলিয়া প্রকরণটির (ঝুমকালতা নামেই পরিচিত) ফুলগুলো প্রায় সারা দেশেই দেখা যায়, ফোটে বর্ষায়। নওয়াজেশ আহমদ ওয়াইল্ড ফ্লাওয়ার্স অব বাংলাদেশ গ্রন্থে জংলি ঝুমকা নামের আরেকটি ফুলের সন্ধান দিয়েছেন। এটি পার্বত্য চট্টগ্রামে সহজলভ্য। এরা একই প্রজাতির ফুল হলেও পাতার রকমফের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।

বসন্তের মাঝামাঝি সময় ঢাকায় মিরপুর উদ্ভিদ উদ্যান কার্যালয়ের পশ্চিম পাশে গেলে এই ফুল পাবেন। তত দিনে উদাল, মাধবী, রামডালুর মৌসুম শেষ; গ্লিরিসিডিয়াও রং হারিয়ে বিবর্ণপ্রায়। এই শূন্যতা ঘোচাতে সেখানে চারপাশ আলোকিত করে ফোটে লাল ঝুমকা ফুল (Passiflora coccinea)। একটি-দুটি নয়, অনেকগুলো। চারপাশে নিবিড় সবুজের ভেতর হঠাৎ লাল রঙের বর্ণিল উচ্ছ্বাস সত্যিই মনোহর। এই চটকদার রঙে আকৃষ্ট হয়ে আসে মৌমাছি, প্রজাপতি আর পাখিরা। পৃথিবীজুড়ে প্রায় ৫০ রকম ঝুমকালতার ফুল রয়েছে। সে তুলনায় আমাদের দেশেরগুলো হাতেগোনা। এখানে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় বেগুনি রঙের সুগন্ধি ফুলগুলো। পাহাড়ি প্রজাতিটি সমতলে খুব একটা দেখা যায় না। প্যাসিফ্লোরা বা প্যাশন ফ্লাওয়ার নামের এই ফুল এখন পৃথিবীর বিভিন্ন উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। ইংরেজি নাম স্কারলেট প্যাশন ফ্লাওয়ার এবং রেড প্যাশন ফ্লাওয়ার। আলোচ্য লাল ঝুমকা পাতার গড়নে অন্যান্য ঝুমকা থেকে অনেকটাই আলাদা।
বহুবর্ষজীবী লতানো গাছ, পাতা পুরু, লম্বা আয়তাকার, কিনারা অগভীরভাবে কাটা কাটা। ফুল ফোটার প্রধান মৌসুম চৈত্র থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত। গাঢ় লাল রঙের লম্বাটে পাপড়িগুলো ওপর-নিচে দুই স্তরে সুসজ্জিত থাকে। মাঝখানের একগুচ্ছ পরাগকেশর সাদা ও কালো রঙের। একসঙ্গে অসংখ্য ফুল ফোটে বলে অনেক দূর থেকেই আমাদের নজর কাড়ে। বর্ণবৈচিত্র্য তৈরির জন্য অন্যান্য বাগানেও প্রচুর পরিমাণে রোপণ করা প্রয়োজন। আদি আবাস আমাজনের ব্রাজিল, পেরু, বলিভিয়া অঞ্চল।

তথ্য সুত্র: প্রথম আলো , তারিখ: ১৯-০৪-২০১১

মাশরুম চাষ- ২

Monday, September 19, 2011


আমাদের দেশের গ্রামাঞ্চলে বসতবাড়ির আনাচে-কানাচে ছায়াযুক্ত স্যাঁতসেঁতে জায়গায় কিংবা স্তূপীকৃত গোবর রাখার স্থানে ছাতার আকৃতির সাদা রংয়ের এক ধরনের ছত্রাক জন্মাতে দেখা যায়। একে আমরা ব্যাঙের ছাতা বলে অভিহিত করে থাকি। আগাছার মতো যত্রতত্র গজিয়ে ওঠা এসব ছত্রাক খাবার উপযোগী নয়। অনুরূপ দেখতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষের মাধ্যমে যে ব্যাঙের ছাতা উত্পাদিত হয়, তা অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং বিশ্বে সবজি হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এই ব্যাঙের ছাতাকে ইংরেজিতে বলা হয় ‘মাশরুম’। মাশরুমের চাষে এবং এর ব্যবহার আমাদের দেশে তেমন প্রসার ঘটেনি। এখন পর্যন্ত আমাদের দেশে শুধু চায়নিজ রেস্তোরাঁগুলোয় মাশরুম স্যুপ একটি উপাদেয় খাবার হিসেবে পরিবেশন করা হয়। তবে পৃথিবীর বহু দেশে স্যুপ ছাড়াও এটা অন্যান্য সবজির মতো খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। মাশরুম একদিকে যেমন অত্যন্ত কম সময়ে উত্পাদিত হয়, তেমনি এগুলো রান্না করতেও সময় কম লাগে। মাত্র তিন-চার মিনিটেই মাশরুম সিদ্ধ হয়ে যায়।

মাশরুম একটি পুষ্টিকর খাবার। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ, উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আমিষ এবং হজমে সাহায্যকারী এনজাইম রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম মাশরুমে থাকে ৩.১ গ্রাম আমিষ, ০.৮ গ্রাম স্নেহ, ১.৪ গ্রাম খনিজ পদার্থ, ০.৪ গ্রাম আঁশ, ৪.৩ গ্রাম শর্করা, ৬ মি. গ্রাম কেলসিয়াম, ১১০ মি. গ্রাম ফসফরাস, ১.৫ মি. গ্রাম লৌহ, ০.১৪ মি. গ্রাম ভিটামিন বি১, ০.১৬ মি. গ্রাম বি২, ২.৪ মি. গ্রাম নায়াসিন, ১২ মি. গ্রাম ভিটামিন সি। এছাড়া খাদ্যশক্তি থাকে ৪৩ কেলোরি। সাধারণত মাশরুমে মাছ-মাংসের চেয়ে কিছু বেশি এবং প্রচলিত শাক-সবজির চেয়ে দ্বিগুণ খনিজ পদার্থ থাকে। আমিষের পরিমাণ থাকে বাঁধাকপি ও অন্যান্য শাক-সবজির চেয়ে চারগুণ। এছাড়াও এতে যে ফলিক এসিড থাকে তা অ্যামিনিয়া প্রতিরোধে সহায়তা করে। বহুমুত্র রোগী এবং যারা মোটা তাদের জন্য মাশরুম একটি উত্তম খাবার। এটা খেতে বেশ সুস্বাদু এবং সহজেই হজম হয়।

মাশরুম চাষ অত্যন্ত লাভজনক। মাত্র ১০-১৫ দিনেই খাবার উপযোগী হয়। এটা চাষের জন্য আবাদী জমির প্রয়োজন হয় না। চাষের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সহজলভ্য। বেকার যুবক-যুবতী এবং মহিলারা ঘরে বসেই এর চাষ করতে পারেন। অন্যান্য সবজির তুলনায় বাজারে এর দাম অনেক বেশি, এজন্য এটা চাষ করা অত্যন্ত লাভজনক। অভ্যন্তরীণ বাজার ছাড়াও বিদেশে রফতানির সুযোগ বিদ্যমান। গ্রীষ্মকালে যে কোনো চালা ঘরের নিচে এবং বারান্দায় চাষ করা যায়। বর্ষাকালে পানি প্রবেশ করে না অথচ বাতাস চলাচলের সুবিধা আছে এমন ঘরে এর চাষ করতে হয়। শীতকালে ভেজা স্যাঁতসেঁতে অন্ধকার ঘরে এর চাষ হয়ে থাকে। বাংলাদেশে গ্রীষ্ম এবং বর্ষাকালে ‘স্ট্র মাশরুম’ এবং শীতকালে ‘ওয়েস্টার’ জাতের মাশরুম চাষ উপযোগী।

মাশরুম পুষ্টিকর এবং ওষুধিগুণসম্পন্ন একটি উৎকৃষ্ট সবজি। বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু মাশরুম চাষের জন্য উপযোগী। মাশরুম চাষের উপকরণ খড়, কাঠের গুঁড়া, আখের ছোবড়া অত্যন্ত- সস্তা ও সহজে পাওয়া যায়। এ সবজিটি ঘরের মধ্যে চাষ করা যায় এবং মাত্র ৭-১০ দিনের মধ্যেই মাশরুম পাওয়া যায় যা অন্য ফসলে পাওয়া যায় না। চাষাবাদে কোন খরচ নেই বললেই হয়। জমির প্রয়োজন হয় না।

বর্তমানে বাংলাদেশে চাষকৃত মাশরুম হচ্ছে কিং ওয়েস্টার, বাটন, শিতাকে, ইনোকি, মিল্কী হোয়াইট, বীচ, স্যাগী, নামেকো, পপলার ও স্ট্র ।

খড়ের বেডে মাশরুম চাষ সাধারণত দুধাপে সম্পন্ন হয়ে থাকে। প্রথম ১৭ থেকে ২০ দিন ওমঘর ঘরে তারপর ফসল উৎপাদনের জন্য চাষঘরে ২১ দিন থেকে ৪৫ দিন। ওমঘর ব্যবস্থাপনা এবং চাষঘর ব্যবস্থাপনা তথা স্ব স্ব ক্ষেত্রে যথাযথভাবে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণই হল এ চাষের মূল কৌশল।

মাশরুম চাষা করতে বীজ, ধানের খড়, পাতলা পলিথিন ব্যাগ, ঝুলন- শিকা বা বাঁশ, ছিদ্রযুক্ত কালো পলিথিন সিট, ঘরের উষ্ণতা ও আদ্রর্তা পরিমাপের জন্য হাইগ্রোমিটার, ঘরের উষ্ণতা ও আদ্রর্তা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য হ্যান্ড সপ্রেয়ার, জীবাণুনাশক, ব্লেড বা ছোট ছুরি, বালতি, আনুসাঙ্গিক অন্যান্য উপকরণ।

প্রয়োজনীয় উপকরণঃ ক. মাশরুমের বীজ বা স্পন।
খ. বেড বা মাদা তৈরির জন্য ধানের শুকনা খড়।
গ. বেডের স্তরে ও উপরে ব্যবহারের জন্য মিলের ছাঁট তুলা/শিমুল তুলা এবং ধানের কুড়া/ছোলার বেসন।
ঘ. খড় ভেজানোর জন্য ড্রাম বা মাটির বড় চাড়ি/গামলা।
ঙ. বেডের তলায় ও উপরে ব্যবহারের জন্য পলিথিন কাগজ।
চ. মাপ মতো বেড তৈরির জন্য একটি কাঠের তলাবিহীন বাক্স (১ মিটার ঢ৩০ সে.মি. ঢ ৩০ সে.মি. আয়তনের)।

মাশরুম উৎপাদন পদ্ধতি: বীজ প্যাকেট প্রস-তকরণ; সাদা মাইসেলিয়াম সমৃদ্ধ মাশরুমের বীজ প্যাকেটের মুখ বন্ধ থাকলে রাবার ব্যান্ড, কাগজ, তুলা ও প্লাস্টিক নেক খুলে আলাদা করে আবার প্যাকেটের মুখটি শুধু রাবার ব্যান্ড দিয়ে পেচিয়ে ভালভাবে আটকাতে হবে; তারপর কম্পোস্ট প্যাকেটের উপরের দুপাশে (বিপরীত দিকে) ব্লেড দিয়ে গোলাকার বা চোখের আকৃতি করে ৩-৪ সে.মি. পলিথিন ব্যাগ কেটে ফেলতে হবে; কাটা অংশে চা চামচ দিয়ে ১ সে.মি. গভীর করে কম্পোস্ট চেঁছে ফেলতে হবে। এ ব্যবস্থাকে মাশরুম উৎপাদনের জন্য উদ্দিপ্তকরণ বলে; কম্পোস্ট প্যাকেট গুলো এবার একটি সুবিধামত পাত্রে পরিষ্কার পানিতে ৩০ মিনিট পর্যন- ডুবিয়ে রাখতে হবে; পানির পাত্র থেকে প্যাকেটগুলো উঠিয়ে পরিষ্কার স্থানে ৩০ মিনিট পর্যন- উল্টো করে রাখতে হবে যাতে প্যাকেটের বাড়তি পানি ঝরে পড়ে; এখন কম্পোস্ট প্যাকেটগুলো মাশরুম চাষের জন্য প্রস্তুত হল। মাশরুম উৎপাদনের ঘরে মাচার উপর প্রয়োজন অনুযায়ী একটি ভেজা পলিথিন পেতে উক্ত কম্পোস্ট প্যাকেটগুলো মাচার উপর রাখতে হবে এবং আর একটি পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।

পলিথিন দিয়ে প্যাকেটগুলোকে ২-৩ দিন ঢেকে রাখতে হবে। তবে প্রতিদিন সকাল-দুপুর-বিকেল মোট ৩ বার প্যাকেটের উপরের ঢাকনা ১০ মিনিট পর্যন- সরিয়ে রাখতে হবে যেন এ সময় বাতাস চলাচল করতে পারে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে পলিথিনের উপরে হালকাভাবে পানি সপ্রে করতে হবে, অথবা ঘরের ভেতরের চারপাশে চট ভিজিয়ে রাখা যেতে পারে।

মাশরুম উঠানোর পর গোড়া থেকে ১-২ সে.মি. মত কেটে বোঁটাসহ ছিদ্রযুক্ত পলিথিন ব্যাগে বাজারজাত করা ভাল। তবে বিশ্বাসযোগ্যতা ও দূষণমুক্ত রাখার জন্য পলিথিন প্যাকেটের মুখ বন্ধ করে বাজারজাত করা দরকার। সাধারণ তাপমাত্রায় মাশরুম ১২-১৫ ঘন্টা ভাল থাকে। ফ্রিজের সবজি রাখার স্থানে রাখলে ৩-৪ দিন পর্যন- ভাল থাকে। তবে এ মাশরুম রোদে শুকিয়ে অনেকদিন রাখা যায়। মাশরুম উঠানোর পর সুন্দর করে বোঁটা কেটে রোদে প্রতিদিন ৭-৮ ঘন্টা করে ৩-৪ দিন শুকিয়ে সংরক্ষণ করলে ১ বছর পর্যন- শুকনো মাশরুম ভাল থাকে।

মাশরুম চাষ পদ্ধতির আরো কিছু টিপস >> পরিমাণমত শুকনো পরিষ্কার ধানের খড় সংগ্রহ করে পানিভর্তি ড্রামের মধ্যে কিংবা মাটির বড় চাড়ির মধ্যে ভালোভাবে নেড়েচেড়ে ভিজিয়ে নিন।
>> ভেজানো খড়গুলো একটা ঝুড়িতে রেখে অতিরিক্ত পানি বের হতে দিন।
>> এবার ভেজা খড়গুলো একটা পরিথিন কাগজের ওপর স্তূপ করে রেখে তার ওপর আরেকটি পলিথিন কাগজ দিয়ে ভালোভাবে ঢেকে ২৪ ঘণ্টা রেখে দিন।
>> পরিমাণমত শিমুল তুলা কিংবা মিলের পরিত্যক্ত তুলা একটি পাত্রে ভিজিয়ে রাখুন।
>> যে ঘরে বা স্থানে মাশরুম চাষ করা হবে সে জায়গা ভালোভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে মেঝেতে পলিথিন বিছিয়ে দিন।
>> এক মিটার লম্বা, এক মিটার চওড়া এবং ৩০ সি.মি. উঁচু তলাবিহীন কাঠের ফরমা বা বাক্সটি পলিথিন বিছানো কাগজের ওপর রাখুন।
>> এখন কাঠের ফরমার মধ্যে সমানভাবে ভিজা খড় একটু চাপ দিয়ে সাজাতে থাকুন যেন বিছানো খড়ের স্তর ৮-১০ সে.মি. পুরু বা উঁচু হয়।
>> চারদিকে খড়ের স্তূপের কিনার থেকে ৫ সে.মি. ছেড়ে এক সে.মি. পুরু ও ৫ সে.মি. চওড়া করে ভিজা তুলা ঠিকমত বিছিয়ে দিন।
>> বীজ ছিটানোর পর একই নিয়মে আবার ৮-১০ সে.মি. করে খড় বিছিয়ে ২য় স্তর তৈরি করে একইভাবে তুলা বিছিয়ে তাতে মাশরুম বীজ ছড়িয়ে দিন।
>> এরপর একইভাবে ৩য় স্তর তৈরি হলে বেডের উপরের সব অংশে তুলা ছড়িয়ে তার ওপর মাশরুম বীজ বুনে আবার হালকাভাবে সামান্য খড় ছিটানোর পর বাক্সটি ভরে গেলে সাবধানে তুলে নিন।
>> একই নিয়মে পাশাপাশি ১০ সে.মি. ফাঁকে ফাঁকে একটির পর একটি বেড প্রয়োজনমত বসাতে থাকুন।
>> প্রয়োজনীয় সংখ্যক সাজানো শেষ হলে বেডগুলো পলিথিন কাগজ অথবা চট দিয়ে ঢেকে দিন।

মাশরুমের পরিচর্যা >> মাশরুম বেডে বীজ বপনের পর থেকে গজানোর আগ পর্যন্ত তাপমাত্রা ৩৫ক্র-৪৫ক্র সে.-এর মধ্যে রাখা দরকার এবং মাশরুম গজাতে শুরু করলে তাপমাত্রা ৩০ক্র-৩৫ক্র সে.-এর মধ্যে রাখতে হবে।
>> পলিথিন দ্বারা ভালোভাবে ঢেকে তাপ বাড়ানো এবং খুলে দিয়ে তাপ কমানো যায়। কাজেই অবস্থার প্রেক্ষিতে তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
>> মাশরুম বেডকে পোকা-মাকড় ও জীব-জন্তুর উপদ্রব থেকে রক্ষা করুন।
>> মাশরুম বেড সব সময় ভেজা থাকা দরকার। বেডের উপরিভাগ শুকিয়ে গেলে মাঝে মাঝে হালকাভাবে পানি ছিটিয়ে আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।

মাশরুম সংগ্রহ >> মাশরুম বেডে বীজ বপনের ১০-১৫ দিনের মধ্যে আলপিনের মাথার আকারে মাশরুম গজানোর লক্ষণ দেখা যায়। মাত্র ২ দিনের মধ্যে এ অবস্থা পেরিয়ে মাশরুম দেশীয় মুরগির ডিমের আকার ধারণ করে। এ অবস্থা মাশরুম সংগ্রহের উপযুক্ত সময়।
>> সংগ্রহে বিলম্ব হলে মাশরুম ছাতার মতো হয়ে ফুটে যায় এবং এর স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। কাজেই সময়মত মাশরুম সংগ্রহ করা আবশ্যক।
>> একটা বেড থেকে ২ সপ্তাহ পর্যন্ত দফায় দফায় মাশরুম সংগ্রহ করা যায়।
>> মাশরুম সংগ্রহ শেষ হলে বেডের সব আবর্জনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সেখানে পরের বারের জন্য মাশরুম চাষের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়।

মাশরুম সংরক্ষণ >> মাশরুম তাজা অবস্থায় খাওয়া উত্তম।
>> পলিথিন ব্যাগে সাধারণভাবে মাশরুম ১০-১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত ভালো থাকে।
>> রিফ্রিজারেটরে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত মাশরুম অনায়াসে সংরক্ষণ করা যায়।
>> রোদে শুকিয়ে নিয়ে মাশরুম দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষণ করা যায়।
>> রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ছোট ছোট টিনে বহুদিন ধরে সংরক্ষণ করে খাওয়া চলে।

অন্য তথ্যাবলী >> ৫ মিটার লম্বা ও ৪ মিটার চওড়া ঘরের মেঝেতে পূর্বে বর্ণিত পরিমাপের ৩০টি বেডে একত্রে মাশরুম চাষ করা যায়।
>> তাক বা র্যাক তৈরি করে তাতে চাষ করলে এ সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি করা যায়।
>> প্রতি বেডে গড়ে এক কেজি ’স্ট্র’ জাতের মাশরুম ফলে।
>> বেড প্রতি ৩-৪ কেজি খড়, ২০০ গ্রাম তুলা এবং ১০০-১৫০ গ্রাম মাশরুম বীজের প্রয়োজন হয়।
>> বীজ বপন থেকে শুরু করে মাশরুম সংগ্রহ পর্যন্ত একটা ফসল চক্র শেষ হতে সর্বমোট ২০ দিন সময় লাগে। অন্য কোনো সবজি এত তাড়াতাড়ি পাওয়া সম্ভব নয়।
>> এক কেজি মাশরুম উত্পাদনে খরচ হয় প্রায় ১০০ টাকা।
>> ৫ মিটার ঢ৪ মিটার আয়তনের একটা ঘরে বাঁশের তাক তৈরি করে (৩০×৪) ১২০টি বেডে মাশরুম চাষ করে প্রতি ২০ দিনে ১২০ কেজি মাশরুম উত্পাদন করা সম্ভব হবে। উত্পাদিত মাশরুম প্রতি কেজি বর্তমান বাজার মূল্য ২০০ টাকায় বিক্রি করলে (২০০ টাকা × ১২০টি বেড)=২৪,০০০ টাকা পাওয়া যাবে, যা থেকে ১২,০০০ টাকা খরচ বাদ দিয়ে ১২০০০ টাকা নিট মুনাফা অর্জন করা সম্ভব।

মাশরুমে রোগ-বালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ অনেক কম। শুধু খড়ের বেড তৈরির সময় আগাছা বাছাই করে ফেললে আগাছার প্রকোপ থাকবে না। আর মাছিপোকা ও তেলাপোকা দমনের জন্য আঠার ফাঁদ, নকরোচ ব্যবহার করলেই চলে।

মাশরুম দিয়ে মাশরুম ফ্রাই, আমিষ সমৃদ্ধ সু্যপ, মাশরুম চিকেন সু্যপ, মাশরুম চিংড়ি, মাশরুম স্যান্ডউইচ, মাশরুম সস, মাশরুম পোলাও ও মাশরুম ওমলেট তৈরি করা যায়।

বর্তমানে সারা পৃথিবীতে মাশরুম খাদ্য হিসেবে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করছে। কারণ, মাশরুমে অনন্য শাকসবজি ও ফলের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি আমিষ থাকায় উন্নত বিশ্বের লোকেরা একে সবজি মাংস হিসেবে অভিহিত করে। তাছাড়া রোগমুক্ত স্বাস্থ্যের জন্য নিয়মিত মাশরুম রাখতে হবে আমাদের খাবার তালিকায়।
এগ্রোবাংলা ডটকম
মাশরুম চাষে ভাগ্য উন্নয়নের সম্ভাবনা

জীবন ধারণের জন্য প্রত্যেকটি মানুষই কর্ম খুঁজে এবং সেই কাজের মাধ্যমেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। সেই চাওয়া-পাওয়ার আচ্ছাদনে বিচার বিবেচনায় সর্বাপেক্ষা উৎকৃষ্ট কাজগুলোই সবাইকে আকর্ষণ করে। মাশরুম চাষের মাধ্যমে যে কেউ আত্দনির্ভরশীল হতে পারে।

মাশরুম পরিচিতি: মাশরুম এক প্রকার ছত্রাক। এটা একটি সুস্বাদু খাবার। বর্তমানে বাংলাদেশেও মাশরুম খাবার হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে; কিন্তু সবধরনের মাশরুম খাবার হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। পৃথিবীতে প্রায় ৩ লাখ প্রজাতির মাশরুম রয়েছে। এগুলোর মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার প্রজাতি খাওয়ার অযোগ্য। আনুমানিক ১০ হাজার প্রজাতির মাশরুমের ওপর গবেষণা চলছে। এদের ভেতরে মাত্র ১০ প্রজাতির মাশরুম খাবার হিসেবে গ্রহণ করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশে ঋষি মাশরুম, গুটি বা বাটন মাশরুম, মিল্ক হোয়াইট মাশরুম, ওয়েস্টার মাশরুম, স্ট্র মাশরুমের চাষ করা হচ্ছে। অধিক পরিমাণ লাভজনক হওয়ায় অনেক লোক মাশরুম চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। মাশরুম চাষ একটি লাভজনক ব্যবসা। ক্ষুদ্র বা ব্যাপক পরিসরে মাশরুম চাষ করা যায়। স্পূন থেকে মাশরুম চাষ করা হয়। এই স্পূনগুলো ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা হয়।

মাশরুম চাষ পদ্ধতি: মাশরুম চাষ করতে গেলে সর্বপ্রথম সঠিক কর্মপরিকল্পনা করা প্রয়োজন। সঠিকভাবে কাজ পরিচালনা করার জন্য হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেওয়া জরুরি। কিছু লোক একত্রে মিলেমিশে মাশরুম চাষ করলে দ্রুত লাভবান হওয়া সম্ভব। ঘরে বসে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা মূলধন নিয়ে প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু করা যায়। গ্রাম বা শহরের বেকার যুবকরা এই মাশরুম চাষ করে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেন। পুরুষের পাশাপাশি মহিলারাও ঘরে বসে অল্প মূলধনে মাশরুম চাষ শুরু করতে পারেন। মাশরুম চাষ করার জন্য আলোহীন স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ প্রয়োজন, তবে খেয়াল রাখতে হবে ঘরে যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে, শহর ও গ্রামে সব জায়গায় মাশরুম চাষ করা সম্ভব। স্পূনগুলোকে রাখার জন্য ছোট ছোট মাচা ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলো হতে পারে লোহা, বাঁশ কিংবা কাঠের। অতিরিক্ত গরম মাশরুম চাষের জন্য প্রতিকূল; এজন্য প্রয়োজন হলে ফ্যান ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি মাশরুম চাষের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি প্রয়োজন। হ্যান্ড স্প্রে মেশিনের সাহায্যে স্পূনগুলোতে নিয়মিত পানি দিয়ে স্যাঁতসেঁতে করে রাখতে হবে।

এভাবে আসা যাক উৎপাদন সম্পর্কে সাধারণত ভালো মানের স্পূন থেকে গ্রীষ্মকালে প্রতি আড়াই মাসে ৯০ থেকে ১০০ গ্রাম মাশরুম পাওয়া সম্ভব। শীত ও বর্ষাকালে মাশরুম উৎপাদন অধিক পরিমাণে হয়ে থাকে এ সময় একটি ভালো মানের স্পূন থেকে প্রতি আড়াই মাসে ২০০-২৫০ গ্রাম মাশরুম উৎপাদন করা যায়। ১০-১২ টাকা মূল্যের এই স্পূনগুলো প্রতি আড়াই মাস পর পর পরিবর্তন করতে হয়। বাংলাদেশের অনেক এলাকায়ই বর্তমানে মাশরুম চাষ করা হয়। এগুলোর মধ্যে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, রাজবাড়ী, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, রাজশাহীসহ সারাদেশেই বর্তমানে মাশরুম চাষ করা হচ্ছে। ঢাকা শহরে বিভিন্ন এলাকায় যেমন গোড়ান, কোর্ট কাচারি এলাকা, রামপুরা, বনশ্রী, সাভার, টঙ্গীতে অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে মাশরুম চাষ করছে।

মাশরুম বিপণন পদ্ধতি: মাশরুম চাষের পাশাপাশি মাশরুম বিপণন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে বিপণন করতে না পারলে মাশরুম থেকে অধিক পরিমাণ লাভ করা সম্ভব নয়। এজন্য চাষের পাশাপাশি বিপণন বা মার্কেটিং পদ্ধতিটিও ভালোভাবে জানা প্রয়োজন। মাশরুম কোথায় কোথায় বিক্রি করা যায়। কোথায় বিক্রি করলে লাভ বেশি এগুলো জানা প্রয়োজন। সাধারণত বিভিন্ন হোটেলে মাশরুম বিক্রি করা যায়। এছাড়া বড় বড় ডিপার্টমেন্টাল স্টোর যেমন_ আগোরা, নন্দন, মিনা বাজার ইত্যাদি জায়গায় ভালো ও অধিক পরিমাণে মাশরুম সরবরাহ করতে পারলে বিক্রির সুযোগ আছে। খোলাবাজারে নিজ উদ্যোগেও মাশরুম বিক্রি করা সম্ভব। সাধারণত বাজারে প্রতিকেজি মাশরুম ১৫০-২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়ে থাকে। যদি কোনো কারণে কখনো মাশরুম বিক্রি করা না যায়, সেক্ষেত্রে মাশরুম শুকিয়ে রাখা সম্ভব। এটাকে ড্রাই মাশরুম বলে। বাজারে ড্রাই মাশরুমের দাম কেজিপ্রতি ১,০০০-১,২০০ টাকা। ড্রাই মাশরুম পানিতে ভিজালে আবার কাঁচা মাশরুমের মতো হয়ে যায়। বিক্রির অসুবিধা হলে মাশরুম সংরক্ষণ করা সম্ভব বলেই এটা একটি লাভজনক ব্যবসা। কোনো সুখ্যাত প্রতিষ্ঠানে মাশরুম সরবরাহ করতে হলে দুটি বিষয় ভালো করে মনে রাখতে হবে। একটি দ্রব্যের মান ও অপরটি দ্রব্যের উৎপাদনের পরিমাণ। যখন ভালো মানের মাশরুমের চাহিদা তৈরি হবে তখন প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান তা অধিক পরিমাণে আশা করবে। একজন ক্ষুদ্র মাশরুম চাষির পক্ষে যা পূরণ করা কষ্টকর। এ জন্যই কিছুসংখ্যক লোক মিলেমিশে চাষাবাদ করতে পারলে অধিক পরিমাণ মাশরুম সরবরাহ করা সম্ভব।

মাশরুম চাষ ও প্রশিক্ষণ স্থান: মাশরুম চাষ ও প্রশিক্ষণের জন্য সরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সাভারে কৃষি সম্প্র্রসারণ অধিদপ্তর 'মাশরুম চাষ সেন্টার' নামে একটি প্রকল্প চালু করেছে। এখানে প্রশিক্ষণের জন্য প্রশিক্ষণার্থীকে আগে থেকে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। এই প্রশিক্ষণ প্রকল্পের মেয়াদ তিন দিন পর্যন্ত। এখানে প্রশিক্ষণার্থীদের সরকারিভাবে সার্টিফিকেট প্রদানের মাধ্যমে কিভাবে মাশরুম চাষ করা যায়, কিভাবে বিপণন করা যায়, মাশরুম চাষের সমস্যা সুবিধা ইত্যাদি বিষয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা প্রদান করে থাকে। সরকারিভাবে এই প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা অধিক সময় না হওয়ায় বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও মাশরুম চাষের ওপর হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। এগুলোর মধ্যে ঢাকার মৌচাকে মুকুল টাওয়ারে 'হিউম্যান ওয়েলফেয়ার এন্ড ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি, সাভার বাসস্ট্যান্ডে পুরাতন কাস্টমস অফিসের পাশে 'শেফা মাশরুম' ইত্যাদি অন্যতম। মাশরুমের চাষ সম্পর্কে বলতে গিয়ে 'হিরার' চেয়ারম্যান ব্রজেন বিশ্বাস বলেন, মাশরুম অত্যন্ত সুস্বাদু ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার। এর চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে; কিন্তু সরকারিভাবে সবসময় প্রশিক্ষণ না হওয়ায় 'হিরা' নিজস্ব উদ্যোগে মাশরুম চাষ ও গবেষণা শুরু করেছে। বর্তমানে 'হিরা' থেকে মাশরুম চাষের ওপর প্রশিক্ষণও চালু হয়েছে। এ ব্যাপারে 'হিরার' চেয়ারম্যান ব্রজেন বিশ্বাস আরো বলেন, ২০০৬ সাল থেকে তারা মাশরুম চাষের ওপর প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু করেন। প্রতিবছর এখান থেকে ২০০-২৫০ লোক, মাশরুম চাষের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন। বছরের যেকোনো সময়ই এখানে মাশরুম চাষের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন। প্রতি ব্যাচে ৫-২০ জন প্রশিক্ষণার্থী নিয়ে প্রশিক্ষণ শুরু হয়। চারদিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে প্রশিক্ষণার্থীকে জনপ্রতি ১ হাজার ৫০ টাকা করে প্রদান করতে হয়।

সম্ভাবনা: মাশরুম চাষ আমাদের দেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় দিক। সরকার সঠিকভাবে মাশরুম চাষের দিকে নজর দিলে মাশরুম চাষ একটি অন্যতম সাফল্যমণ্ডিত ক্ষেত্রে পরিণত হবে। এখান থেকে হাজার হাজার বেকার নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো মাশরুম চাষের দিকে নজর দিলে সম্ভাবনাময় মাশরুম চাষ আরো অনেক দূর এগিয়ে যাবে এটাই সবার প্রত্যাশা এবং এই প্রত্যাশার প্রাপ্তি যেন ঘটে।
লেখক: বকুল হাসান খান
এগ্রোবাংলা ডটকম
বিস্ময়কর সবজি মাশরুম


মাশরুম

বিশ্বে যত স্বাস্খ্যকর খাবার আছে তার মধ্যে অন্যতম হলো মাশরুম। অথচ না জেনে না চিনে ব্যাঙের ছাতা মনে করে আমরা এটিকে কত না অবজ্ঞার চোখে দেখি। মাশরুমের যে কত রকম ওষুধিগুণ আছে তার কোনো ঠিক নেই। পুষ্টিমানও অনেক। অন্য যেকোনো সবজির মতো এটিকে খুব সহজেই সবজি হিসেবে খাওয়া যায়। নানান পুষ্টিগুণে ভরপুর মাশরুমের যেসব ওষুধিগুণ আছে সেটা একবার দেখে নেয়া যাক।
১. নিয়মিত মাশরুম খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধব্যবস্খা উন্নত হয়। গর্ভবতী মা ও শিশুদের জন্য মাশরুম একটি দারুণ দাওয়াই।
২. মাশরুমে চর্বি ও শর্করা কম এবং আঁশ বেশি থাকায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আদর্শ খাবার।
৩. মাশরুমে আছে শরীরের কোলেস্টেরল কমানোর অন্যতম উপাদান ইরিটাডেনিন, লোভাস্টটিন এবং এনটাডেনিন। তাই নিয়মিত মাশরুম খেলে হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ নিরাময় করে।
৪. মাশরুমে আছে প্রচুর ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ভিটামিন-ডি, যা শিশুদের দাঁত ও হাড় গঠনে অত্যন্ত কার্যকর।
৫. মাশরুমে আছে প্রচুর ফলিক অ্যাসিড ও লৌহ। ফলে মাশরুম খেলে রক্তশূন্যতা দূর হয়। এ ছাড়া লিঙ্কজাই-৮ পদার্থ থাকায় এটি হেপাটাইটিস-বি জন্ডিস প্রতিরোধক।
৬. মাশরুমে আছে বি-ডি গ্লুকেন, ল্যাম্পট্রোল, টারপিনওয়েড ও বেনজোপাইরিন, যা ক্যান্সার ও টিউমার প্রতিরোধ করে।
৭. মাশরুমে ট্রাইটারপিন থাকায় এটি বিশ্বে এইডস প্রতিরোধক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
৮. মাশরুমে ইলুডিন এম এবং এস থাকাতে আমাশয়ের উপকারী।
৯. মাশরুমে প্রচুর গ্লাইকোজেন থাকায় শক্তিবর্ধক হিসেবে কাজ করে। তাই যৌন অক্ষম রোগীদের জন্য মাশরুম একটি মহৌষধ।
১০. মাশরুমে এডিনোসিন থাকায় ডেঙ্গুজ্বরের প্রতিরোধক।
১১. মাশরুমে স্ফিঙ্গলিপিড এবং ভিটামিন বি-১২ বেশি থাকায় স্নায়ুতন্ত্র ও স্পাইনাল কর্ড সুস্খ রাখে। তাই মাশরুম খেলে হাইপারটেনশন দূর হয় এবং মেরুদণ্ড দৃঢ় করে।
১২. মাশরুমে আছে এনজাইম, যা হজমে সহায়ক, রুচি বর্ধক ও পেটের পীড়া নিরাময় করে।
১৩. মাশরুমে নিউক্লিক অ্যাসিড এবং অ্যান্টি-এলার্জেন থাকায় কিডনি রোগ ও এলার্জি প্রতিরোধক।
১৪. মাশরুমে প্রচুর সালফার সরবরাহকারী অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকায় চুল পড়া ও পাকা প্রতিরোধ করে।
লেখক : শহীদুর রহমান ভূঁইয়া, মাশরুম চাষি
এগ্রোবাংলা ডটকম
মাশরুম চাষ ও এ সংক্রান্ত বিষয়ে যাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন

মাশরুম চাষ প্রশিক্ষন, বীজ ও লোনসহ ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য
গ্রীন বাংলা মাশরুম কর্নার
মাশরুম লাভলু
বি-১৯, বিটিআরসি মার্কেট, বগুড়া
মোবাইল: ০১৭১৬-৮৮৪৩৬৮

বীজ, তাজা, শুকনা ও পাউডার মাশরুম পাইকারী ক্রয়-বিক্রয় এবং প্রশিক্ষন
খাদেম মাশরুম সেন্টার
শফিউল আজম খান
মোবাইল: ০১৯১৬-৮২০৪৫৮, ০১৭১৫-৪৭৫০১২
৫৮১/সি, খিলগাঁও, ঢাকা-১২২৯

মাশরুম উৎপাদন এবং ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্র
সৈকত মাশরুম প্রকল্প
মো: সোহরাব আলী
মোবাইল: ০১৭১৬-৪০৮৮৮০
১০৪/১ কাতলাপুর, সাভার, ঢাকা

মাশরুম স্পন ও পাইকারী ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্র
এম. আর. টি মাশরুম প্রজেক্ট
রতন ইসলাম
মোবাইল: ০১৭১৫-৮৭৩৭৮০
মডেল কলেজ রোড, ডগড়মোড়া, সাভার, ঢাকা

তাজা, শুকনা এবং মাশরুম স্পন (বীজ) বিক্রয় কেন্দ্র
সুখী মাশরুম
আবদুল হালিম
মোবাইল: ০১৯১২-৪১১৭৫৫
১৯/৯, আই ব্লক, ব্যাংক কলোনী, সাভার, ঢাকা

মাশরুম বীজ, মাশরুমের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম (অটোক্লেভ মেশিন, পিপি, নেক, তুলা, রাবার) বিক্রয় কেন্দ্র
উদ্যম মাশরুম কর্নার
মো: সাইফুল ইসলাম (জামান)
মোবাইল: ০১৮১৬-৪৩০২৬৬, ০১৭১৬-৫০৩৮৩০, ০১১৯৯-১৬১২৯১
বি-১১১, সোবাহানবাগ, সাভার, ঢাকা
এ ব্যাপারে আরো বিস্তারিত জানতে হলে ফোন করা যেতে পারে। মোবাইল নং-০১৭১০৪০৭০৭৪, ০১১৯৯৪২৫৫২৩, ০১৯১১৪০৫৩৬৬

পেপের নানা গুণ

Sunday, September 18, 2011


যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের জন্য মিষ্টি খাওয়া হারাম। যেকোনো রকম সুগারজাত খাদ্যদ্রব্য খাওয়ার নিষেধজালে আটকা পড়েন তারা। কিন্তু আমাদের দেশে অত্যন্ত সহজলভ্য একটি ফল পেঁপে, যা মিষ্টি হলেও ডায়াবেটিস রোগীরা খেতে পারেন। এমন আরো নানা গুণ আছে দেশীয় এই ফলের। আসুন জেনে নেয়া যাক তেমনই কিছু গুণ-

আমাদের দেশে নানারকম ফল পাওয়া যায়। তার মধ্যে পেঁপে অন্যতম। পেঁপের রয়েছে নানা গুণ। যাদের পেটে গোলমাল দেখা দেয়, তারা পেঁপে খেতে পারেন। অন্যান্য ফলের তুলনায় পেঁপেতে ক্যারোটিন অনেক বেশি থাকে। কিন্তু ক্যালরির পরিমাণ বেশ কম থাকায় যারা মেদ সমস্যায় ভুগছেন তারা পেঁপে খেতে পারেন অনায়াসে। এই ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ ও সি আছে। চোখের সমস্যা বা সর্দিকাশির সমস্যা থাকলে পেঁপে খেতে পারেন, কাজে দেবে। যারা হজমের সমস্যায় ভোগেন তারা পেঁপে খেলে উপকার পাবেন। এই ফলে কোনো ক্ষতিকর উপাদান নেই। পেঁপেতে আছে পটাশিয়াম। তাই এই ফল রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি হাইপারটেনশন কমায় অনেকখানি। শরীরে থাকা বিভিন্ন ক্ষতিকর কোলেস্টরলের মাত্রা কমিয়ে দেয় পেঁপে। তাই নিয়মিত পেঁপে খেলে হৃদযন্ত্রের নানা সমস্যা যেমন হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। যাদের কানে ঘন ঘন ইনফেকশন হয় তারা পেঁপে খেয়ে দেখতে পারেন, উপকার পাবেন। পেঁপে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ ফল, তাই ত্বকের লাবণ্য ও উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে। এছাড়া পেঁপে আরো নানা গুণের অধিকারী।


১০০ গ্রাম পাকা পেঁপের পুষ্টিগুণ


প্রোটিন ০.৬ গ্রাম


ফ্যাট ০.১ গ্রাম


মিনারেল ০.৫ গ্রাম


ফাইবার ০.৮ গ্রাম


কার্বোহাইড্রেট ৭.২ গ্রাম


খাদ্যশক্তি ৩২ কিলো ক্যালরি


ভিটামিন সি ৫৭ মিলিগ্রাম


সোডিয়াম ৬.০ মিলিগ্রাম


পটাশিয়াম ৬৯ মিলিগ্রাম


আয়রন ০.৫ মিলিগ্রাম

বিষ ঢেলে ৫০ লাখ টাকার পোনা নিধন

Sunday, September 11, 2011


পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় একটি হ্যাচারির মালিকানাধীন ১৪টি ঘেরে বিষ ঢেলে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের ১০ লক্ষাধিক পোনা মেরে ফেলা হয়েছে। হ্যাচারির মালিকের কাছে চাঁদা দাবি করে না পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে একদল দুর্বৃত্ত এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

মাছের পোনা মেরে ফেলায় প্রায় ৫০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে হ্যাচারির মালিক দাবি করেছেন। এ ঘটনায় হ্যাচারির মালিকের বড় ভাই আবদুল বারেক বাদী হয়ে নয়জনের নাম উল্লেখ করে গতকাল শনিবার দুমকি থানায় মামলা করেছেন।
স্থানীয়রা জানায়, ১০ থেকে ১২ বছর আগে পাংগাশিয়া নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসাসংলগ্ন এলাকায় প্যাসিফিক একুয়া ফিশারিজ নামের একটি হ্যাচারির ১৪টি ঘেরে মাছ চাষ করে আসছে। বৃহস্পতিরার রাতে কোনো এক সময়ে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা হ্যাচারির ১৪টি ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে। পরের দিন সকালে ঘেরে মাছ মরে ভেসে উঠতে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসে।

প্যাসিফিক একুয়া ফিশারিজের মালিক জাকির হোসেন অভিযোগ করেন, একদল সন্ত্রাসী বেশ কিছুদিন ধরে তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। তিনি চাঁদা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় তারা এ ঘটনা ঘটায়।
জাকির হোসেন আরও জানান, তাঁর হ্যাচারিতে রুই, কাতলসহ দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির ১০ লক্ষাধিক মাছের পোনা চাষ করা হয়েছিল। এতে তাঁর প্রায় অর্ধ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে। একই কারণে হ্যাচারির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত অর্ধশতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দুমকি উপ-জেলার ম ৎ স্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহজাহান জানান, যে ভাবে বিষ প্রয়োগ করে মাছ মারা হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। কি ধরনের বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে তা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দুমকি থানার উপপরিদর্শক ছালাম মোল্লা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ পোনা নিধনের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

তথ্য সুত্র: প্রথম আলো, তারিখ: ১১-০৯-২০১১

মনের উঠোনে

সাম্প্রতিক সংযোজন

মোবাইল থেকে দেখুন

আমাদের দেশ এখন আপনার মুঠোফোনে, মোবাইল থেকে লগইন করুন আমাদের দেশ

দ র্শ না র্থী

দ র্শ না র্থী

free counters

কে কে অনলাইনে আছেন