আধুনিক পদ্ধতিতে স্ট্রবেরীর সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ

Wednesday, March 14, 2018


স্ট্রবেরী সারা বিশ্বব্যাপি একটি জনপ্রিয় ফল। স্ট্রবেরী সাধারণত শীত প্রধান দেশের ফল। উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের নিরলস প্রচেষ্টার ফলে বর্তমানে নানা জাত উদ্ভাবিত হয়েছে যা শীতপ্রধান এমনকি ট্রপিক্যাল পরিবেশেও চাষ করা যেতে পারে। প্রতি বছর সারা পৃথিবীতে প্রায় ২,০০,০০০ হেক্ট জমিতে স্ট্রবেরীর চাষ হয় এবং প্রায় ৩০ লক্ষ মে. টন স্ট্রবেরী উৎপাদিত হয় (FAOSTAT, Database, 2011)। স্ট্রবেরী উৎপাদনে আমেরিকা প্রথম (২৭%)। এছাড়াও জাপান, রাশিয়া, পোল্যান্ড এবং সাম্প্রতিক বাংলাদেশেও অনেক স্ট্রবেরী চাষের ব্যাপারে ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

আধুনিক স্ট্রবেরীর উৎপত্তিঃ

আধুনিক স্ট্রবেরী ফলের বৈজ্ঞানিক নাম Fragaria x ananassa। এটি  Rosaceae পরিবারের অন্তর্ভূক্ত। আধুনিক স্ট্রবেরীFragaria x ananassaFrageria chiloensis এবং Frageria verginian নামক দুটি বন্য প্রজাতির  মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে পরপরাগায়নের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে। কথিত আছে যে, ফ্রেঞ্চ সেনা অফিসার আমিডে ফ্রানকোইচ ফ্রাজিয়ার, ফ্রাজারিয়া কিলোএনসিস, চিলি থেকে ফ্রান্সে নিয়ে আসেন। সে সময়ে ইউরোপে ফ্রাজারিয়া ভার্জিনিয়া নামক স্ট্রবেরীর চাষ হতো। ফ্রাজারিয়া কিলোএনসিস ইউরোপে আসার পর ফ্রাজারিয়া ভারজিনিয়ার পাশাপাশি এটির চাষ শুরু হয়। এদের মধ্যে পরপরাগায়নের ফলে সৃষ্টি হয় উন্নত বৈশিষ্ট্যাবলী যুক্ত প্রাকৃতিক হাইব্রিড। ফ্রেন্স বিজ্ঞানী নিকোলাস ডাসনে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এই হাইব্রিডটি সনাক্ত করেন এবং সুইজারল্যান্ডের বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস এটির নাম করেন Fragaria x ananass । বর্তমানে পৃথিবীতে বাণিজ্যিকভাবে চাষের জন্য ব্যবহৃত বেশীর ভাগ জাত Fragaria x ananass থেকে সৃষ্ট। উপমহাদেশের ন্যাটিভ স্ট্রবেরী জাতের বৈজ্ঞানিক নাম Fragaria indica

স্ট্রবেরী একটি অত্যন্ত রসালো ও সুস্বাদু ফল। স্ট্রবেরী গাছ দেখতে অনেকটা থানকুনি অথবা আলুর গাছের মততবে পাতা আরো বড় এবং চওড়া। এটি থানকুনি গাছের মতই রানারের মাধ্যমে চারা চারদিকে ছড়াতে থাকে। পাশ থেকে বের হওয়া পরিণত রানার কেটে আলাদা লাগিয়ে এর চাষ করা সম্ভব। তবে এর বীজ বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে। একটি স্ট্রবেরী গাছ থেকে রানারের মাধ্যমে বংশ বৃদ্ধি করলে বছরে কয়েকশত চারা উৎপাদন করা সম্ভব। স্ট্রবেরী শীত প্রধান দেশের ফল তাই বেশি তাপমাত্রার কারণে বাংলাদেশে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এ গাছ বাঁচিয়ে রাখা খুব কষ্টসাধ্য। স্ট্রবেরী ফল কাঁচা অবস্থায় সবুজ এবং পাকা অবস্থায় টকটকে লাল রঙের হয়। ফলটি দেখতে অনেকটা লিচুর মত। স্ট্রবেরী জীবন রক্ষাকারী নানা পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ। এতে আছে ভিটামিন এসিফলিক এসিডসেলেনিয়ামক্যালসিয়ামপলিফেনলএলাজিক এসিডফেরালিক এসিডকুমারিক এসিডকুয়েরসিটিনজ্যান্থোমাইসিন ও ফাইটোস্টেরল। এদের মধ্যে এলাজিক এসিড ক্যান্সারবার্ধক্যযৌনরোগ প্রতিরোধের গুণাগুণ আছে বলে জানা গেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. মনজুর হোসেন ১৯৯৬ সালে জাপান থেকে একটি স্বল্প দিবা দৈর্ঘ্য জাতের স্ট্রবেরী বাংলাদেশে আবাদের চেষ্টা করেন।

সংগ্রহ
স্ট্রবেরী নন-ক্লাইমেটিক ফল। স্ট্রবেরী দ্রুত পচনশীল ফলগুলোর অন্যতম। স্ট্রবেরী সংগ্রহের পর পরিপক্ক হয় না। সুতরাং ফলটিকে সঠিক পরিপক্কতার পর্যায়ে সংগ্রহ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন বিষয়। ফল এর ত্বক টকটকে লাল অথবা কোন সবুজ বা সাদা অংশ থাকবে না তখন ফল সংগ্রহ করলে সেই ফলের মিষ্টতা এবং স্বাদ উন্নতমানের হবে। ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি (অক্টোবর মাসের শুরু) সময়ে রোপণকৃত বারি স্ট্রবেরি-১ এর ফল সংগ্রহ পৌষ মাসে শুরু হয়ে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত চলে। ফল পেকে লাল রঙ হলে ফল সংগ্রহ করতে হয়। হাত দিয়ে সাবধানে ফল সংগ্রহ করতে হবে যাতে ফলের গায়ে কোন ক্ষতি সৃষ্টি না হয় এবং ফল সংগ্রহের সময় বাছাই করে শুধুমাত্র পরিস্কার, অক্ষত ও আকার অনুযায়ী বাছাইকৃত ফল পৃথক প্যাকেটে রাখতে হবে। স্বচ্ছ প্লাষ্টিক প্যাকেটে বাছাইকৃত ফল সংগ্রহ করে বিক্রয়ের জন্য প্রস্ত্তত করা যেতে পারে। স্ট্রবেরির সংরক্ষণকাল খুব কম হওয়ায় ফল সংগ্রহের পর পরই তা টিস্যু পেপার দিয়ে মুড়িয়ে প্লাস্টিকের ঝুড়ি বা ডিমের ট্রেতে এমনভাবে সংরক্ষণ করতে হবে যাতে ফল গাদাগাদি অবস্থায় না থাকে। ফল সংগ্রহের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাজারজাত করতে হবে। ফল সংগ্রহের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাজারজাত করতে হবে।

সংরক্ষণঃ
স্ট্রবেরী সংরক্ষণের উপযুক্ত তাপমাত্রা হচ্ছে ০-২ সেলসিয়াস এবং উপযুক্ত আর্দ্রতা হচ্ছে ৯০-৯৫%। এই সুস্বাদু ফলটিকে আমাদের বাসার ডীপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করা সম্ভব। ফলটিকে আংশিক খোলা প্লাস্টিক ব্যাগে করে ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হবে যাতে করে সঠিক আর্দ্রতা বজার রাখা সম্ভব হয়। ফলটিকে সংরক্ষণের পূর্বে পানি দ্বারা ধেৌত না করাই উত্তম। পারি দ্বারা ধেৌত করলে অতিরিক্ত আর্দ্রতা শোষনের কারনে পচন তরান্বিত হয়।

বাজারজাতকরণঃ
স্ট্রবেরী বাজারজাতকরণের বিভিন্ন পর্যায়গুলি হচ্ছে ফল সংগ্রহ, পরিবহন, ডেলিভারি, দ্রুত-প্রিকুলিং, রেফ্রিজারেটেড সংরক্ষণ, রেফ্রিজারেটেড ট্রাকে পরিবহন ইত্যাদি। বাজারজাতের জন্য ০º সে. থেকে ২º সে. তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা যাবে। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় ফল সাধারণ তাপমাত্রা ৩-৭ দিন পর্যমত্ম থাকে। রেফ্রিজারেটওে স্ট্রবেরী ফল দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়। তবে বিক্রির জন্য ফল পুরো লাল হওয়ার দরকার নেই। সেক্ষেত্রে ফলগুলো শক্ত থাকা অবস্থায় তুলতে হবে। আর ফল তুলতে হবে বোটা সমেত। ফল তোলার পর অতিদ্রুত বাজারজাত করাই উত্তম।পরে কাগজের প্যাকেটে করে বাজারজাত করতে হবে। ফল তোলার পর ১০-১২ দিন পর্যন- ভালো থাকে। গড়ে প্রতি গাছে ১৫০-২০০ গ্রাম ফল ধরে। ফলটি এদেশে নতুন তাই ঝুঁকিও বেশি। তবুও মেধা ও বুদ্ধি প্রয়োগ করে স্ট্রবেরি চাষ একদিন লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হবে সে কথা বলা যায়।  স্ট্রবেরি সংরক্ষণ গুণ ও পরিবহন সহিষ্ণুতা কম হওয়ায় বড় বড় শহরের কাছাকাছি এর চাষ করা উত্তম। 

বাংলাদেশে নাশপাতি চাষের সম্ভাবনা ও এর পুষ্টিগুন


নাশপাতি মূলত শীতপ্রধান অঞ্চলের ফল হলেও নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ায় এর সফল উৎপাদন হচ্ছে। এটির ইংরেজি নাম Pear। বহুবর্ষজীবী ও মাঝারি ধরণের গাছ। প্রতি বছর ফল ধরে। শীতে পাতা ঝরে। গ্রীষ্মে এক সঙ্গে পাতা ও ফুল আসে। ফুলের রং সাদা, ডালের যে কোন প্রান্তে গুচছবদ্ধভাবে ফুল ফোটে। ফল দেখতে অনেকটা পেয়ারার মত। এশিয়ায় নাশপাতির ২০ রকম আবাদি জাত বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে প্রধান উৎপাদক দেশ চীন ও জাপান।

বর্তমান অবস্থাঃ
বিদেশী ফল আপেলের চেয়ে ২ গুন ভিটামিন সি সমৃদ্ধ নাশপাতি পার্বত্য অঞ্চলের একটি নতুন সম্ভাবনাময় ফল হিসেবে বাংলাদেশে পরিচিতি পেয়েছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির মাটি ও আবহাওয়া বারি-১ জাতের নাশপাতি চাষের জন্য উপযোগী। বারি-১ জাতের নাশপাতি ২০০৪ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কর্তৃক অবমুক্ত হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং সিলেটের পাহাড়ি অঞ্চলে নাশপাতির চাষ হচ্ছে। তবে দেশের অন্যান্য স্থানের যে কোন উঁচু ও ঢালু জমিতে এর চাষ করা সম্ভব। পার্বত্য অঞ্চলে যে নাশপাতি হয় সেটা কিছুটা লম্বাটে, ধূসর থেকে বাদামী ও কালচে বর্ণের এবং পাকলে হালকা কপি বর্ণের হয়। সিলেট এলাকায় যে জাতটির চাষ হয় তা অনেকটা বুনো ধরনের। পার্বত্য চট্টগ্রামে ছোট ছোট পাহাড়ে দো-আঁশ ও বেলে মাটিতে নাশপাতি চাষ খুবই লাভজনক। আমাদের কৃষি গবেষনা কেন্দ্র এই জাতের ফলের চাষাবাদ সম্প্রসারণ বেশ কয়েক বছর ধরে কৃষকের মাঝে গুটি কলম বিতরণ করে আসছে।

এখানকার আবহাওয়া নাশপাতির ফলন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অন্যান্য ফলের চেয়ে বেশী হওয়ায় এই ফলের   চাষাবাদ দিন দিন বাড়ছে। তাছাড়া নাশপাতি অপেক্ষাকৃত শক্ত ফল হওয়ায় সংরক্ষণ করা যায় অনেক সময় পর্যমত পঁচনশীল নয় বলে দেরীতে বাজারে সরবরাহ করার সুযোগ থাকায় এর দামও বেশী পাওয়া যায়। তাই এটিকে অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় ফল বলে মনে করা হচ্ছে। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে রোপনের পর ৫ বছরের মধ্যে প্রতিটি নাশপাতি গাছ থেকে ৩০-৬০ কেজি ফল উৎপাদন সম্ভব। গত কয়েক বছর ধরে  এখানকার বাগান থেকে নাশপাতি বাজারে আসা শুরু করেছে।


বংশবিস্তারঃ
সাধারণত কুড়ি সংযোজনের মাধ্যমে করা হয়। তবে এয়ার লেয়ারিং বা গুটি কলমের পদ্ধতিতেও চাষাবাদ করা যায়। সাধারণত এপ্রিল-মে মাসে কলম করা হয়। জুলাই-আগষ্ট মাসে কলম কাটার উপযুক্ত সময়।


চারা রোপনঃ
সাধারণত মধ্য জুন থেকে মধ্য অক্টোবর পর্যন্ত চারা রোপন করা হয়। রোপন দুরতব হবে ৪-৬ মিটার। বসত বাড়ির আশে পাশের ঢালু জমিতেও চারা রোপন করা যায়।

সার প্রয়োগঃ
চারা রোপনের জন্য ২x২ বর্গফুট দৈর্ঘ্য-প্রস্থে গভীর করে গর্ত প্রস্ত্তত করে এ গর্তে ১০-১৫ কেজি পচা গোবর সার অথবা কম্পোষ্ট সার প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া ২৫০ গ্রাম সুপার ফসফেট, ২৫০ গ্রাম পটাশ মিশ্রিত করে দিলে ভাল ফল পাওয়া যায়। নাশপাতি গাছে নাইট্রোজেন সার অর্থ্যাৎ ইউরিয়া সারের চাহিদা বেশী তাই গাছ লাগানোর ৩০-৪০ দিন পর গাছ প্রতি ১০০ গ্রাম হারে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হবে। ১-৫ বছর বয়সী গাছে ১৫০-২০০ গ্রাম ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হবে।

অঙ্গ ছাটাইঃ
নাশপাতি গাছের অঙ্গ ছাটাই অত্যাবশ্যক। ছাঁটাই না করলে ডালপালার সংখ্যা বৃদ্ধি পায় না এবং ডালগুলো সরু ও লম্বা হয়ে উপরে দিকে বেড়ে যায়। এতে আশানুরুপ ফল পাওয়া যায় না। গাছের উচ্চতা ২-৩ ফুট হওয়ার পর প্রথম অঙ্গছাঁটাই বা ডগা কেটে ফেলতে হবে। শুষ্ক মৌসুমে গাছের গোড়ায় ২-৩ দিন পর পর সেচ দিতে হবে। তবে লক্ষণীয় যে, যেন গাছের গোড়ায় পানি জমে না থাকে কারণ নাশপাতি গাছ জমা পানি সহ্য করতে পারে না।

পোকামাকড়ঃ এক ধরণের পোকা কচি নাশপাতি ছিদ্র করে ভেতরে প্রবেশ করে। এর ফলে নাশপাতি নষ্ট হয়ে যায়। পোকার আক্রমণ দেখা দেয়ার সাথে সাথে ম্যালাথিয়ন জাতীয় কীটনাশক পানির সঙ্গে মিশিয়ে স্প্রে করলে পোকার আক্রমণ থেকে নাশপাতি রক্ষা পায়। এছাড়া কাঠবিড়ালী  এবং কোনো কোনো প্রজাতির পাখি নাশপাতি খেয়ে থাকে।

ফল সংগ্রহ ও ফলণঃ কলমের গাছ রোপনের ২ থেকে ৩ বছর পর থেকেই ফল দেয়া শুরু করে। মার্চ-এপ্রিলে ফুল আসে এবং জুলাই-আগষ্ট মাসে ফল পরিপক্ক হয়। বয়স্ক গাছে ২০০ থেকে ৩০০ টির মত ফল ধরে।


পুষ্টি গুণঃ
·        প্রচুর ভিটামিন সি, কে ও এ রয়েছে।
·        প্রচুর অ্যান্টিঅক্রি্ডেন্ট বিদ্যমান যা আমাদের শরীরের কোষ ধ্বংস হতে বিরত রাখে।
·        ১০০ গ্রাম ফলে ৮% ফাইবার/আঁশ থাকে। প্রতিদিন নাশপাতি খেলে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে।
·        প্রচুর পরিমানে কপার, আয়রণ, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ম্যাগনেসিয়াম নামক খনিজ পদার্থ ও রয়েছে।
·        এটি অত্যন্ত Low Calorie ফল মাত্র ৫৮ ক্যালোরী শক্তি থাকে ১০০ গ্রাম ফলে। Low Calorie কিন্তু বেশী আঁশ থাকায় এটি শরীরের ওজন কমাতে এবং রক্তের কোলেস্টেরল এর মাত্রা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
·        ইহা ক্যান্সার প্রতিরোধেও সহায়তা করে।
·        ইহা ডায়েবেটিক রোগীদের জন্য ভাল একটি ফল।

উপসংহারঃ
বিদেশী ফলের ওপর নির্ভরতা কমানো, মূল্যবান বিদেশী মুদ্রার সাশ্রয়, অধিক কর্মস্থল এবং লাভজনক ফল উৎপাদনে আগ্রহী উদ্যোক্ততারা নাশপাতি চাষে এগিয়ে আসবেন বলে আশা করছি।

প্রতি বছর গবেষনা কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত নাশপাতির প্রায় ২ হাজার গুটি কলম কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে খাগড়াছড়ি জেলায় সহস্রাধিক সৃজিত বাগানের কৃষকদের রোপন পদ্ধতি ও বিনামূল্যে চারা গুটি কলম বিতরণ করা হয়েছে। তাছাড়া কৃষক ভাইদেরকে চাষ পদ্ধতি সম্পর্কেও প্রশিক্ষণ দেয় হচ্ছে।


উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, বাংলাদেশে নাশপাতি চাষের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।


আমের জোড় কলম তৈরীর কলাকৌশল


সাধারনভাবে একটি গাছ থেকে আরেকটি নতুন গাছের জন্ম হওয়ার পদ্ধতিকে গাছের বংশবিস্তার বলে। অন্য কথায় যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গাছ যৌন কোষ বা তার অংগজ কোষ থেকে নতুন স্বতন্ত্র গাছ সৃষ্টি করে তাকে বংশবিস্তার বলে। বংশ বিস্তার সাধারনত ২ ধরনের হয়ে থাকে যথা-
১। যৌন বংশবিস্তার
২। অযৌন বংশ বিস্তার
যেহেতু ফল গাছ রোপণের মূল উদ্দেশ্য হলো ভালো, উন্নতমান ও মাতৃ গাছের গুনাগুন সম্পন্ন ফল পাওয়া। এ কারণে ফল গাছের ক্ষেত্রে যৌন পদ্ধতির তুলনায় অযৌন পদ্ধতির চার, কলম অধিক গুরুত্বপূর্ন। অযৌন বংশবিস্তার পদ্ধতিগুলোর মধ্যে ক্লেফট গ্রাফটিং বা ফাটল জোড় কলম এটি অন্যতম পদ্ধতি।

২। আমের জোড় কলম করার উপায়

প্রধানত জোড় কলম দুই ধরনের হয়ে থাকে যেমন :
  • সংযুক্ত জোড় কলম; সায়ন মাতৃগাছ হতে না কেটে রুটস্টকের সাথে জোড়া লাগানো হয়ে থাকে।
  • বিযুক্ত জোড় কলম; সায়ন মাতৃগাছ হতে কেটে এনে রুটস্টকের সাথে জোড়া লাগানো হয়ে থাকে।


৩। সংযুক্ত জোড় কলম
সংযুক্ত জোড় কলমের ভিতরে সংস্পর্শ জোড় (Contact grafting) কলমই প্রচলিত আছে। এটি সবচেয়ে পুরাতন পদ্ধতি। যদিও এই পদ্ধতিতে সফলতার হার বেশি তবু তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল ও বেশি পরিশ্রম লাগে বলে বর্তমানে সাধারণত এই পদ্ধতির চর্চা করা হয় না। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংযুক্ত কলম বাঞ্ছনীয়। যেমন, পেয়ারা বা রাম্বুটানের বিযুক্ত জোড় কলমের হার একেবারেই কম, কাজেই উইল্ট প্রতিরোধী জাতের সংগে কাঙ্ক্ষিত জাতের জোড় কলম করা হয় বেশি সফলতার পাওয়ার জন্য। সংযুক্ত জোড় কলমের পদ্ধতিগুলো নিচে বর্ণনা করা হলো।

৩.১ সংস্পর্শ জোড় কলম (Contact grafting)
৩.২ ভিনিয়ার গ্রাফটিং (Veneer grafting)

৩.১ সংস্পর্শ জোড় কলম (Contact grafting) এর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দিকগুলি
৩.১.১ রুটস্টক নির্বাচনঃ
  • সাধারণত ১ বৎসর বয়সের চারা নেওয়া হয়। তবে রুটস্টকের ব্যাস সায়নের মত হওয়া বাঞ্ছনীয়
  •  রুটস্টক অবশ্যই পলিব্যাগ অথবা মাটির পাত্রে হতে হবে
  • রুটস্টক রোগ বালাইমুক্ত, সতেজ, সবল হতে হবে


৩.১.২ সায়ন নির্বাচনঃ
কাঙ্ক্ষিত মাতৃগাছের সুস্থ, সবল ও চলতি মৌসুমের ডাল নির্বাচন করতে হবে। সায়ন, রুটস্টকের ব্যাসের সমান হওয়া ভাল।
৩.১.৩ সময়ঃ  গ্রীষ্ম-বর্ষাকাল (বৈশাখ-আষাঢ়)

৩.১.৪ সায়ন প্রস্তুতকরণঃ

v        প্রথমে সায়নের হালকা সবুজ ও ধুসরের মিশ্রণ স্থলে এক তৃতীয়াংশ কাঠসহ ৫-৭ সে. মি. এর মত বাকল তুলে ফেলতে হবে।
v        এর পর রুটস্টকের তেজদীপ্ত (সবুজ ও ধুসরের মিশ্রণ স্থলে) জায়গায় এবং ১-২ তৃতীয়াংশ কাঠসহ সায়নের কাটা অংশ সমপরিমাণ বাকল তুলে ফেলতে হবে।
v        এর পর রুটস্টক ও সায়নের কর্তিত অংশ দুটি পরস্পরের সঙ্গে জোড়া লাগাতে হবে।
v        দড়ি বা সুতলী দিয়ে জোড়াকৃত অংশ এমন করে বাধতে হবে যাতে জোড়ার মাঝে কোন ফাঁক না থাকে।

৩.১.৫ সতর্কতাঃ

v        রুটস্টক নতুন কুশি বের হলে ভেঙ্গে দিতে হবে।
v        রুটস্টকের পলিব্যাগ বা পাত্রে সার্বক্ষণিক ভেজা বা রস থাকতে হবে।
v        রুটস্টক বা সায়ন জোড়া লাগলে মাতৃগাছ হতে ধারালো চাকু দিয়ে এক অথবা ২-৩ বারে কেটে নামিয়ে আনতে হবে।
v        কলমটি কিছুদিন ছায়াতে রেখে দিতে হবে।
v        ২-৩ মাস পর রুটস্টকের উপরের অংশ কেটে দিতে হবে।

৩.২ ভিনিয়ার গ্রাফটিং (Veneer grafting)

সংযুক্ত জোড় কলমের ক্ষেত্রে পরবর্তীতে ভিনিয়ার পদ্ধতির কলম প্রচলন আসে। বর্তমানে প্রায় শতকরা ৮০ ভাগই আমের কলম ভিনিয়ার পদ্ধতিতে করা হয়। এই পদ্ধতিতে কাঙ্ক্ষিত জাতের গাছ থেকে সায়ন কেটে নিয়ে এসে রুটস্টকের সাথে বিশেষ পদ্ধতিতে জোড়া লাগানো হয়।

৩.২.১ সময়ঃ ভিনিয়ারের উপযুক্ত সময় বৈশাখ- জ্যৈষ্ঠ তবে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত করা যাবে।

৩.২.২ ফলঃ  আম, পেয়ারা, লেবু, কুল ইত্যাদি।

৩.২.৩ সায়ন এর বৈশিষ্টসমূহঃ

ভিনিয়ার গ্রাফটিং এর জন্যও একই ধরনের সায়ন অর্থাৎ-
(ক) সতেজ, সবল, সুস্থ, চলতি মৌসুমের ডাল নিতে হবে।
(খ) রোগ ও পোকামাকড় মুক্ত হতে হবে।
(গ) সায়ন অবশ্যই পরিপক্ক হতে হবে।
(ঘ) সায়ন শাখায় কুঁড়ি ঠিক ফোটা ফোটা অবস্থায় নিতে হবে।
(ঙ) সায়ন সাধারণত ৪-৬ ইঞ্চি হলে ভাল হয়।

 ৩.২.৪ রুটস্টক প্রস্ত্ততিঃ
ছয় থেকে বার মাস বয়সের রুটস্টক উত্তম। রুটস্টক অবশ্যই সতেব, সবল, রোগা ও পোকামাকড়মুক্ত হতে হবে। ম্যালফরমেশনযুক্ত রুটস্টক কখনও নেওয়া উচিত হবে না।
প্রথমে রুটস্টকের উপযুক্ত স্থানে অর্থাৎ-
v        যেখানে খয়েরী ও সবুজ রং এর মিশ্রণ ঘটেছে (তবে জোড়ার অংশ মাটির যত নিকটবর্তী হবে ততই ভাল) নির্দিষ্ট করতে হবে।
v        উক্ত জায়গায় প্রথমে ব্যাসের এক চতুর্থাংশ তেরছা করে ৩-৪ সে.মি. জায়গায় বাকলসহ কাঠ কেটে উঠাতে হবে।
v        পরবর্তীতে উক্ত কর্তিত অংশের নিচে একটি বিপরীতমুখী কাটা দিতে হবে।

৩.২.৫ সায়ন প্রস্ত্ততিঃ

v        অনুরুপভাবে সায়নের নিচের অংশে একটি ৩-৪ সে. মি. তেরছা কাটা দিতে হবে এবং এর বিপরীতে একটি কাটা দিতে হবে।
v        সায়নের সমস্ত পাতা একটু বোঁটা রেখে কেটে ফেলতে  হবে।
v        এখন সায়ন রুটস্টকের উপর এমন ভাবে বসাতে হবে যেন একটি অপরটির উপর মিশে যায়।
v        এরপর জোড়া লাগানো অংশ পলিথিন টেপ দিয়ে পেঁচিয়ে দিতে হবে।
v        এখন সম্পূর্ণ জোড়া লাগানো অংশ সায়নসহ পলিথিন দিয়ে ঢেকে চিকন দড়ি বা সুতলির সাহায্যে সহজ গিরা দিয়ে এমনভাবে বেঁধে দিতে হবে যেন প্রয়োজনের সময় সহজে পলিথিন খুলে পলিথিনের মধ্যে জমা থাকা পানি বের করে দেয়া যায়।
v        ৩০-৬০ দিন পর যখন সায়নের অগ্রভাগের পাতা হালকা সবুজাভ হবে তখন পলিথিনের আবরণ খুলে দিতে হবে এবং যখন সায়ন পুনরায় পাতা দেওয়া শুরু করবে তখন রুটস্টকের উপরের অংশ কেটে দিতে হবে।
v        ৬-৭ মাস পরে জোড়া লাগানো অংশ যখন সম্পূর্ণ লেগে যাবে তখন ধারালো ব্লেড দিয়ে কেটে পলিথিনের বাঁধন সরিয়ে ফেলতে হবে।


৪। সংস্পর্শ ও জোড় কলমের পর এখন কোন পদ্ধতি জনপ্রিয় হচ্ছে

হ্যাঁ সংস্পর্শ ও জোড় কলমের পর এখন ক্লেফট গ্রাফটিং (Cleft Grafting)এর প্রচলন জনপ্রিয় হচ্ছে।। এই গ্রাফটিং সহজ এবং রুটস্টকের যে কোন বয়সে করা সম্ভব। এ বিষয়ে অজ্ঞতার কারণে বর্তমানে নার্সারী পর্যায়ে এর প্রচলন কম। অনেক সময় বাজারে ক্লেফট গ্রাফটিং এর চারা বাজারে বিক্রয় করতে অসুবিধায় পড়েন কারণ এই গ্রাফটিং এ জোড়া অংশ এমন সুন্দরভাবে মিলিয়ে যায় যে ক্রেতারা চারাটি কলমের কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তবু্ও উত্তম বংশবিস্তার পদ্ধতি হিসেবে এখন থেকে ক্লেফট গ্রাফটিং এর প্রচলন বাড়ানো জরুরী।

৪.১ সময়ঃ
উপযুক্ত পরিবেশ ও সঠিক বয়সের সায়ন পেলে সার বৎসর ক্লেফট গ্রাফটিং করা যাবে। তবি উত্তম সময় এপ্রিল-জুন মাস। তবে সেচ ও ছায়ার ব্যবস্থা করা গেলে ফেব্রুয়ারী-মার্চ মাসেও করা যাবে।

৪.২ রুটস্টক ও সায়ন নির্বাচনঃ
রুটস্টকের বয়স বিশেষ করে আমের ক্ষেত্রে যে কোন বয়সের হতে পারে, তবে ১ বৎসর বয়সের রুটস্টকে কলম বেশি করা হয়। সায়নের বয়স পরিপুষ্ট হতে হবে। চলতি মৌসুমের ডালের পাতাগুলো যখন গাঢ় সবুজ হবে, ডালের ডগায় কুঁড়ি স্ফীত বা ফোটা ফোটা ভাব হবে এবং রোগ বালাই ও কীটপতঙ্গের আক্রমণ মুক্ত হবে, তখন ঐ ডালকে উপযুক্ত সায়ন হিসেবে বিবেচনা করা যাবে।

৪.৩ রুটস্টক ও সায়ন প্রস্ত্ততকরণ (১-২ বৎসর বয়সের ক্ষেত্রে)

v        সতেজ, সবল, সুস্থ রুটস্টক নিতে হবে।
v        মূল ও কান্ডের সংযোগস্থলের যথাসম্ভব কাছাকাছি কান্ডের সবুজ ও খয়েরী রং এর মিশ্রণ স্থানে রুটস্টকের মাথা কেটে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কাটা জায়গার নিচে যাতে অবশ্যই কিছু পাতা থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
v        কাটা মাথার মাঝ বরাবর পরে ধারালো চাকু দিয়ে আনুমানিক ৩-৪ সে.মি. পর্যন্ত চিরে দুভাগ করতে হবে।
v        পরিপুষ্ট সায়নের সমস্ত পাতা বোটা রেখে কেটে ফেলতে হবে।
v        এরপর সায়নের গোড়ার দিকে, দুই ধার তেরছা করে কাটতে হবে যেন সায়নের গোড়ার দিকটা ৩-৪ সে.মি. পর্যন্ত ক্রমশ মোটা থেকে পাতলা পাতের মত হয়।
v        এখন উভয় পাশে তেরছা করে কাটা গোড়ার এই পাতমত অংশটি রুটস্টকের ফাটলের ভিতর ঢুকিয়ে মাপমত বসিয়ে দিতে হবে। তারপর পলি টেপ দিয়ে শক্ত করে বেঁধে দিতে হবে।
v        এরপর জোড়া লাগানো অংশসহ সম্পূর্ণ সায়নটি পলি কভার দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।

৫। অন্যান্য পদ্ধতিঃ
স্টোন গ্রাফটিং (Stone grafting)

আসলে স্টোন গ্রাফটিং ক্লেফট পদ্ধতি থেকে তেমন আলাদা কিছু নয়। আমের চারার একেবারে ছোট অবস্থায় (৭-৩০ দিন বয়সে) অর্থাৎ যখন আটি চারার সঙ্গে সংযুক্ত থাকে ঐ সময় জোড়া কলম করাকেই স্টোন গ্রাফটিং বলে। এটি ক্লেফট পদ্ধতিতে ছোট চারার উপর করা হয়।

আমের স্টোন গ্রাফটিং এর ক্ষেত্রে যা মনে রাখতে হবে তা হলো
  • যেহেতু চারাগুলো খুবই নরম থাকে, তাই পাতলা ধারালো চাকু বা ব্লেড দিয়ে জোড়া লাগানোর জন্য কাটাকাটির কাজ করতে হবে।
  • স্টোন গ্রাফটিং এর চারার বৃদ্ধি প্রাথমিক পর্যায়ে কম তবে একেবারেই নিচে অর্থাৎ মাটির নিকটবর্তীতম জায়গায় করা যায় বিধায় গাছ ঝোপালো হয় ও অফসুট (জোড়া লাগার নিচের অংশে অনাকাঙ্ক্ষিত কচি ডগা) গজানোর সমস্যা কম হয়।
  • তবে মনে রাখতে হবে, রুটস্টক যতই কচি বা নরম হোক না কেন, সায়ন অবশ্যই আগের বর্ণনা অনুসারে পরিপুষ্ট, সঠিক বয়সের হতে হবে।


৬। আমের জোড় কলমের সফলতার জন্য কোন সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ন বিষয়গুলি

v        সায়না ও রুটস্টক বয়স ও আকার আকৃতির দিক থেকে পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। যেন তারা সহজে মিলে মিশে একাকার হতে পারে।
v         রুটস্টক অবশ্যই সঠিক বয়স ও তেজের হতে হবে।
v         সায়ন অবশ্যই সঠিক বয়স ও পরিপুষ্ট হতে হবে।
v         গ্রাফটিং অবশ্যই সঠিক সময়ে করতে হবে।

v         রুটস্টক ও সায়নের জোড়া এমনভাবে বাঁধতে হবে যাতে ভিতরে অবশ্যই যেন কোন ফাঁক না থাকে।

আয় বৃদ্ধিমূলক গরু মোটাজাতকরণ প্রকল্প

Monday, March 12, 2018


গরু মোটাজাতকরণ প্রকল্প
প্রতিটি পরিবার কিংবা ব্যক্তির একক বা একমুখী রোজগারে সংসার চালানো অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই অনেকেই বাড়তি একটা কিছু করতে চায়, কিন্তু সুযোগ হয় না কিংবা হলেও কি করবে, তা খুঁজে পায় না।

মোটাজাতকরণের জন্য গরু কিনতে গিয়ে কয়েকটি দিক খেয়াল রাখতে হবে, যেমন:
১) ১ বছর বয়সের ঊর্ধ্বে গরু কিনতে হবে (১২-১৫ মাস বয়সের গরু মোটাজাতকরনের জন্য ভালো)

২) গায়ের চামড়া ঠিলা-পাতলা, পাঁচরের হাড় চেপ্টা, পায়ের মোট এবং শুধু মাত্র খাবারের অভাবে যে সব গরু শুকিয়ে গেছে এমন গরু কম মূল্যে কিনতে হবে।

৩) মনে রাখতে হবে গর্ভবতী গাভীকে ইউরিয়া মিশ্রিত খড় খাওয়ানো যাবে না। নির্বাচিত গরুকে প্রকল্প মতে প্রক্রিয়াজাত ইউরিয়া মিশ্রিত খড় খাওয়ানোর পূর্বে কিছু চিকিৎসা দিয়ে উপকুক্ত করে নিতে হবে।

ক. গরুর শরীরে কোনো ক্ষত থাকলে সে স্থানে ডেটল বা স্যাভলন দিয়ে ধুয়ে পরিস্কার করে নেগোভোন মলম লাগিয়ে প্রয়োজনে ব্যাণ্ডেজ করে রাখতে হবে, যাতে ক্ষত স্থানে মশা-মাছি কিংবা ময়লা জমতে না পারে।
খ. ক্ষত গভীর হলে তা না শুকানো পর্যন্ত আবার পরিস্কার করে মাঝে মধ্যেই মলম ব্যবহার করতে হবে।
গ. ক্ষত সেরে যাওয়ার পর গরুর গায়ের সেসব পরজীবী যেমন-উকুন, আঠালি, সিঁদুর পোকা ইত্যাদি মুক্ত করতে হবে।

নিয়মাবলীঃ
একটি গরুর জন্য নিউসিডল বা এনোসটোল পাউডার ১০ কেজি পানিতে ২.৫ চা চামচ মিশাতে হবে। তারপর বাসতি থেকে কিছুটা দূরে ফাঁকা জায়গায় নিয়ে প্রথমে ভালোভাবে নাক-মুখ বেঁধে কান, চোখ, মুখ ছাড়া শরীরের সর্বত্র ওষুধ মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে কানের ভেতর, চোখের চতুপারর্শ্বে, নাক, মুখ লেজের গোড়া, শরীরের সঙ্গে পায়ের সংযোগস্থলসহ সকল সংকীর্ণ জায়গায় লাগাতে হবে। ওধুষ লাগিয়ে ২০-২৫ মিনিট অপেক্ষা করার পরে পরিস্কার পানি দ্বারা শরীরের সর্বত্র ভালোভাবে ধুয়ে ওষুধমুক্ত করতে হবে। ওষুধ লাগানোর ২/১ দিন পর যদি দেখা যায় ভালোভাবে বাহিত্যক পরজীবী মুক্ত হয়নি তবে ১৫ দিন পরে আবার একই নিয়মে ওষুধ লাগাতে হবে।

সর্তকতা
১. যে ব্যক্তি ঔষুধ লাগাবেন, তিনি গরুর শরীরের ক্ষতস্থান সম্পর্কে সচেতন থাকবেন, কারণ এই ঔষুধ বিষ জাতীয়।
২. গরুর শরীরে ক্ষতস্থানকে (যদি ভালোভাবে না শুকিয়ে তাকে) এড়িয়ে ঔষদ প্রয়োগ করতে হবে।
৩. গরুকে ঔষুধ প্রয়োগের পর ভালোভাবে গোসল করিয়ে উক্ত স্থান থেকে কিছুটা দূরে নিয়ে মুখের বাঁধন খুলতে হবে কারণ গরু স্বভাবত ঔষুধ লাগা ঘাস বা পানি খেয়ে বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে।

অভ্যন্তরীণ পরজীবী মুক্ত করণ
১. গোল কৃমি
২. কলিজা বা পাতা কৃমি।

গোল কৃমি
গোল কৃমি মুক্ত করতে নিচের যে কোন একটি ঔষুধ ব্যবহার করা যায়
মেনাফেঙ্ পাউডার = ১ প্যাকেট ১টি গরুর জন্য
অথবা নেমাফেক্স বড়ি = ৩টি বড়ি একটি পূর্ণ বয়স্ক গরুর জন্য = ২টি বড়ি মাঝারি ও ছোট বাছুরের জন্য
অথবা কোপেন পাউডার = ১টি প্যাকেট একটি গরুর জন্য
অথবা রিনটাল পাউডার = ৭.৫ মি গ্রাম প্রতি কেজি দৈহিক ওজনের জন্য
বিঃদ্রঃ রিনটাল পাউডার ব্যবহার করা সবচেয়ে ভাল কারণ এই ঔষুধে ছোট বড় মাঝারি সব ধরনের কৃমি মারা যায়। গোল কৃমির ঔষুধ খাওয়ানোর পরে সবল গরু ৩ দিন এবং অন্যান্য গরুর ক্ষেত্রে ৭দিন অপেক্ষা করে তবে পাতা কৃমির ঔষুধ প্রয়োগ করতে হবে।


২. কলিজা বা পাতা কৃমি মুক্তকরণের নিয়মাবলী
চামড়ার নিচে টোডাক্স ইনজেকশন করতে হবে। মাত্রা সাধারণভাবে ২/৩ সিসি প্রাপ্তবয়স্ক গরুর জন্য। মোটাতাজা করতে হলে ঙ্গ সিসি পরিমান ইনজেকশন করতে হয়। এই ঔষুধ প্রয়োগের ৩ দন অপেক্ষা করার পরে ইউরিয়া মিশ্রিত খাবার খাওয়ানো আরম্ভ করতে হবে। টোডাঙ্ ইনজেকশন ৭ দিন পর পর ২ বার দিতে হবে এবং তখন খাবার বন্ধ করার কোনো প্রয়োজন নাই। গরুকে প্রদানের জন্য দানাদার খাদ্যের মিশ্রণ তৈরির নিয়মঃ

১. নং মিশ্রণ
ক. তিলের খৈল = ৪ কেজি
খ. চালের কুঁড়া = ৪ কেজি
গ. গমের ভূষি = ৪ কেজি
ঘ. যে কোন ডালের ভূষি = ৪ কেজি

২নং মিশ্রণ
ক. গম ভাঙ্গা =৪কেজি
খ. তিলের খৈল = ৪ কেজি
গ. চালের কুঁড়া = ৪ কেজি
ঘ. ডাল ভাঙ্গা, খেসারি = ৪ কেজি
কৃমি দূর করার পরে গরুকে ইউরিয়া মিশ্রিত উন্নত খাবার দিতে হবে।

গরুকে সাধারণত তিনটি পদ্ধতিতে মিশ্রিত উন্নত খাবার দিতে হবে।
১। আঁশ জাতীয় খড় খাদ্যের সাথে মিশিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে
২। দানাদার জাতীয় খাদ্যের সাথে সরাসরিভাবে এবং
৩। ইউরিয়া মোলাসেস বুকের মাধ্যমে

খড়ের সাথে মিশিয়ে ইউরিয়া খাওয়ানোর নিয়ম
খড় প্রক্রিয়াজাতকরণ ১০ কেজি খড় ১০ কেজি পানি এবং ৫০০ গ্রাম ইউরিয়া বায়ুরোধী বড় বাঁশের ডোল (পাত্রবিশেষ) বা ইটের তৈরি হাউজে ৭-১০ দিন আবদ্ধ বায়ুরোধী অবস্থায় রেখে দিতে হবে।
তারপর ঐ খড় বের করে রৌদ্রে শুকিয়ে নিতে হবে যেন ইউরিয়া তীব্র গন্ধ কিছুটা কমে আসে। এই খড় গরু প্রথমে না খেলে কিছুটা চিড়াগুড় মিশিয়ে দেয়া যেতে পারে (২০০-৫০০ গ্রাম) গরুকে প্রথমে দৈনিক ৫ গ্রাম থেকে শুরু করে সবের্াচ্চ ৫০-৬০ গ্রাম ইউরিয়া খাওয়ানো যায়। ছোট গরুর ক্ষেত্রে ৩০-৪০ গ্রামের বেশী দৈনিক খাওয়ানো উচিত নয়।
দানাদার খাদ্যে ইউরিয়া ব্যবহার করে বিভিন্ন ওজনের গবাদি পশুর দৈনিক খাদ্যের তালিকা।

১০০ কেজি দৈহিক ওজনের গবাদিপশুর খাদ্য তালিকা।
ধানের খড় = ২ কেজি
সবুজ ঘাস = ২ কেজি (ঘাস না থাকলে খড় ব্যবহার করতে হবে
দানদার খাদ্যে মিশ্রন = ১.২-২.৫ কেজি
ইউরিয়া = ৩৫ গ্রাম (নিয়মানুযায়ী)
চিটাগুড়া = ২০০-৪০০ গ্রাম
লবণ = ২৫ গ্রাম
দানাদার খাদ্যের সাথে লবন, ইউরিয়া, চিটাগুড় এক সাথে মিশিয়ে দিনে ২ বার দিতে হবে। ধানের খড় এবং কাঁচা ঘাস ছোট ছোট করে কেটে এক সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ালে ভালো ফল পাওয়া যায়।

১৫০ কেজি ওজনের গবাদিপশুর খাদ্য তালিকা
খড় = ৩ কেজি
কাঁচা ঘাস = ৫-৬ কেজি
দানাদার খাদ্যের মিশ্রন = ১.৫-২ কেজি
চিটাগুড় = ৫০০ গ্রাম
ইউরিয়া = ৪৫ গ্রাম (নিয়মানুয়ায়ী)
লবন = ৩৫ গ্রাম

১৫০-২০০ কেজি ওজনের পশুর খাদ্য তালিকা
ধানের খড় = ৪ কেজি
কাঁচা ঘাস = ৫-৬ কেজি
দানাদার খাদ্যের মিশ্রন = ১.৫-২ কেজি
চিটাগুড় = ৫০০ গ্রাম
ইউরিয়া = ৪৫ গ্রাম (নিয়মানুযায়ী)
লবন = ৩৫ গ্রাম

মোটাতাজা করনের গরুকে সর্বক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ আঁশ জাতীয় খাবার (খড়, কাঁচা ঘাস) এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে হবে। গবাদীপশুকে ইউরিয়া প্রক্রিয়াজাত খাবার প্রদানে কিছু কিছু সর্তকতা অবলম্বন করা উচিত।

১। এক বছরের নিচে গরুকে ইউরিয়া খাওয়ানো যাবে না।
২। কখনও মাত্রাতিরিক্ত ইউরিয়া খাওয়ানো যাবে না
৩। গর্ভাবস্থায় ইউরিয়া খাওয়ানো যাবে না।
৪। অসুস্থ গরুকে ইউরিয়া খাওয়ানো যাবে না, তবে দূর্বল গরুকে পরিমাণের চেয়ে কম খাওয়ানো যেতে পারে।
৫। ইউরিয়া খাওয়ানোর প্রাথমিক অবস্থা (৭ দিন পর্যন্ত পশুকে ঠান্ডা ছায়াযুক্ত স্থানে বেঁধে রাখতে হবে এবং ঠান্ডা পানি দিয়ে নিয়মিত গোসল করাতে হবে। প্রকল্প মেয়াদ তিন মাস, শুরু হবে ইউরিয়া মিশ্রিত খাবার প্রদানের দিন থেকে।

এই খবার খাওয়ানো শুরুর ১০-১৫ দিন পর হেমাটোপিন বিএস (১০এমএল) ইনজেকশন মাংসপেশীতে প্রয়োগ করলে মোটাতাজা করণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।

উল্লেখিত তিনটি পদ্ধতির মধ্যে খড়ের প্রক্রিয়াজাত করে ইউরিয়া খাওয়ানো সহজ, ব্যয় কম এবং ফল ভালো আসে। এই প্রকল্পগুলো বিভিন্ন বয়সী হতে পারে। যেমন ৩ বা ৪ মাস মেয়াদি। নির্ভর করছে খামারি কেনা গরুটি কি রকম মোটা করে কি দামে বিক্রি করবেন। দাম বেশি চাইলে প্রকল্প মেয়াদ দীর্ঘ হবে এবং কম চাইরে প্রকল্প মেয়াদ স্বল্প হবে। তবে অনেকেই ঈদের বাজারকে চিন্তা করে তার ৪/৫ মাস আগে থেকে প্রকল্প শুরু করেন।
তথ্য সূত্র: শাইখ সিরাজ রচিত ‘মাটি ও মানুষের চাষবাস’ গ্রন্থ থেকে সংগ্রহীত

গরু মোটাতাজাকরণের প্রয়োজনীয় তথ্য

বাংলাদেশে কোরবানির মূল উপাদান হচ্ছে গরু। আর সেটা যদি হয় মোটাতাজা, নাদুস-নুদুস তবে আনন্দের সীমা থাকে না। এ উপলক্ষকে সামনে রেখে যারা গরু মোটাতাজাকরণে আগ্রহী তাদের আগে থেকেই প্রস্তুতি নেয়া দরকার। এজন্য দরকার গরু মোটাতাজাকরণে সঠিক ব্যবস্থাপনা। এটি কখন ও কিভাবে করলে বেশি লাভবান হওয়া যায় তার বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক পদ্ধতি নিম্নে দেয়া হলো-

অধিক মাংস উৎপাদনের জন্য ২-৩ বছর বয়সের শীর্ণকায় গরুকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় খাদ্য সরবরাহ করে হৃষ্টপুষ্ট গরুতে রূপান্তরিত করাকে গরু মোটাতাজাকরণ বলে আখ্যায়িত করা হয়। এটির গুরুত্ব হচ্ছে- দরিদ্রতা হ্রাসকরণ, অল্প সময়ে কম পুঁজিতে অধিক মুনাফা অর্জন, অল্প সময়ের মধ্যে লাভসহ মূলধন ফেরত পাওয়া, প্রাণিজ আমিষের ঘাটতি পূরণ, স্বল্পমেয়াদি প্রযুক্তি হওয়ার কারণে পশু মৃত্যুর হার কম, কৃষিকার্য থেকে উৎপাদিত উপজাত পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে সহজেই মাংস উৎপাদন করা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে আয় বৃদ্ধি করা।

গরু মোটাতাজাকরণের আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি সম্পর্কে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশু পালন অনুষদের পশু বিজ্ঞান বিভাগের বিজ্ঞানী ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মুজাফফর হোসেন জানান-
প্রয়োজনীয় উপাদান, পদ্ধতি ও মোটাতাজাকরণের সঠিক সময় : বয়সের ওপর ভিত্তি করে সাধারণত ৩ মাসের মধ্যে গরু মোটাতাজাকরণ করা যায়। অনেক সময় ৪-৬ মাসও লাগতে পারে। গরু মোটাতাজাকরণের জন্য সুবিধাজনক সময় হচ্ছে বর্ষা এবং শরৎকাল যখন প্রচুর পরিমাণ কাঁচা ঘাস পাওয়া যায়। চাহিদার ওপর ভিত্তি করে কোরবানি ঈদের কিছুদিন আগ থেকে গরুকে উন্নত খাদ্য ও ব্যবস্থাপনা দিয়ে মোটাতাজাকরণ লাভজনক।

স্থান নির্বাচন : খামার স্থাপনের জন্য স্থান নির্বাচনে নিম্ন লিখিত বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ শুষ্ক ও উঁচু জায়গা হতে হবে, যাতে খামার প্রাঙ্গণে পানি না জমে থাকে। হ খোলামেলা ও প্রচুর আলো-বাতাসের সুযোগ থাকতে হবে। খামারে কাঁচামাল সরবরাহ ও উৎপাদিত দ্রব্যাদি বাজারজাতকরণের জন্য যোগাযোগ সুবিধা থাকতে হবে। পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সুষ্ঠু ব্যবস্থা থাকতে হবে। সুষ্ঠু নিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকতে হবে, যেমন- পানি, মলমূত্র, আবর্জনা ইত্যাদি। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে সম্প্রসারণের সুযোগ থাকতে হবে।

গরু নির্বাচন : উন্নত দেশের মাংসের গরুর বিশেষ জাত রয়েছে। বিদেশি গরুর জন্য উন্নত খাদ্য ও ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। তাই দেশীয় গরু মোটাতাজাকরণ অধিক লাভজনক। ২-২.৫ বছরের গরুর শারীরিক বৃদ্ধি ও গঠন মোটাতাজাকরণের জন্য বেশি ভালো। এঁড়ে বাছুরের দৈহিক বৃদ্ধির হার বকনা বাছুরের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে। তবে বাছুরের বুক চওড়া ও ভরাট, পেট চ্যাপ্টা ও বুকের সঙ্গে সমান্তরাল, মাথা ছোট ও কপাল প্রশস্ত, চোখ উজ্জ্বল ও ভিজা ভিজা, পা খাটো প্রকৃতির ও হাড়ের জোড়াগুলো স্ফীত, পাঁজর প্রশস্ত ও বিস্তৃত, শিরদাঁড়া সোজা হতে হবে।

বাসস্থানের গঠন : গরুর বাসস্থান তৈরির জন্য খোলামেলা উঁচু জায়গায় গরুর ঘর তৈরি, একটি গরুর জন্য মাপ হতে হবে কমপক্ষে ১০-১২ বর্গফুট। ভিটায় ১ ফুট মাটি উঁচু করে এর ওপর ১ ফুট বালু দিয়ে ইট বিছিয়ে মেঝে মসৃণ করার জন্য সিমেন্ট, বালু ও ইটের গুঁড়া দিতে হবে। গরুর সামনের দিকে চাড়ি এবং পেছনের দিকে বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য নালা তৈরি করতে হবে। বাঁশের খুঁটি দিয়ে বেঁধে ওপরে ধারি অথবা খড় ও পলিথিন দিয়ে চালা দিতে হবে, ঘরের পাশে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা দরকার। পাশাপাশি দাঁড়ানো গরুকে বাঁশ দিয়ে আলাদা করতে হবে যাতে একে অন্যকে গুঁতা মারতে না পারে। ঘরের চারপাশ চটের পর্দার ব্যবস্থা রাখতে হবে, যাতে অতি বৃষ্টি ও অতি ঠান্ডার সময় ব্যবহার করা যায়।

খাদ্য : খাদ্যে মোট খরচের প্রায় ৬০-৭০ ভাগ ব্যয় হয়। তাই স্থানীয়ভাবে খরচ কমানো সম্ভব। এজন্য গরু মোটাতাজাকরণের একটি সুষম খাদ্য তালিকা নিচে দেয়া হলো-

শুকনা খড় : ২ বছরের গরুর জন্য দৈহিক ওজনের শতকরা ৩ ভাগ এবং এর অধিক বয়সের গরুর জন্য শতকরা ২ ভাগ শুকনা খড় ২-৩ ইঞ্চি করে কেটে এক রাত লালীগুড়-চিটাগুড় মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে প্রতিদিন সরবরাহ করতে হবে। পানিঃচিটাগুড়=২০:১।

কাঁচা ঘাস : প্রতিদিন ৬-৮ কেজি তাজা ঘাস বা শস্য জাতীয় তাজা উদ্ভিদের উপজাত দ্রব্য যেমন- নেপিয়ার, পারা, জার্মান, দেশজ মাটি কলাই, খেসারি, দুর্বা ইত্যাদি সরবরাহ করতে হবে।

দানাদার খাদ্য : প্রতিদিন কমপক্ষে ১-২ কেজি দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। নিচে ১০০ কেজি দানাদার খাদ্যের তালিকা দেয়া হলো-
গম ভাঙা-গমের ভুসি ৪০ কেজি চালের কুঁড়া ২৩.৫ কেজি খেসারি বা যে কোনো ডালের ভুসি ১৫ কেজি তিলের খৈল-সরিষার খৈল ২০ কেজি লবণ ১.৫ কেজি।
উল্লিখিত তালিকা ছাড়াও বাজারে প্রাপ্ত ভিটামিন মিনারেল মিশ্রণ ১% হারে খাওয়াতে হবে। তাছাড়া বিভিন্ন রকমের ইউরিয়া মোলাসেস বক ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি হচ্ছে ৩৯ ভাগ চিটাগুড়, ২০ ভাগ গমের ভুসি, ২০ ভাগ ধানের কুঁড়া, ১০ ভাগ ইউরিয়া, ৬ ভাগ চুন ও ৫ ভাগ লবণের মিশ্রণ।

রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা : প্র্রতিদিন নিয়মিতভাবে পশুর গা ধোয়াতে হবে। গোশালা ও পার্শ¦বর্তী স্থান সর্বদা পরিষ্কার রাখতে হবে। নিয়মিতভাবে গরুকে কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়াতে হবে। বাসস্থান সর্বদা পরিষ্কার রাখতে হবে। স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পরিমিত পরিমাণে পানি ও সুষম খাদ্য প্রদান করতে হবে। রোগাক্রান্ত পশুকে অবশ্যই পৃথক করে রাখতে হবে। খাবার পাত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। খামারের সার্বিক জৈব নিরাপত্তা রক্ষা করতে হবে। পশু জটিল রোগে আক্রান্ত হলে পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

বাজারজাতকরণ : মোটাতাজাকরণ গরু লাভজনকভাবে সঠিক সময়ে ভালো মূল্যে বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ হচ্ছে আরেকটি উল্লেখ্যযোগ্য বিষয়। বাংলাদেশে মাংসের জন্য বিক্রয়যোগ্য গবাদিপশুর বাজার মূল্যেও মৌসুমভিত্তিক হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। কাজেই একজন প্রতিপালককে গরু মোটাতাজাকরণের জন্য অবশ্যই গরুর ক্রয় মূল্য যখন কম থাকে তখন গরু ক্রয় করে বিক্রয় মূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে বিক্রয়ের ব্যবস্থা নিতে হবে। সাধারণত কোরবানির ঈদের সময় গরুর মূল্য অত্যধিক থাকে এবং এর পরের মাসেই বাজার দর হ্রাস পায়। তাই এখন গরু মোটাতাজাকরণের উপযুক্ত সময়। স্বল্প সময়ে অধিক লাভবান হওয়ার সহজ এবং সুবিধাজনক উপায়ের মধ্যে গরু মোটাতাজাকরণ একটি অত্যন্ত যুগোপযোগী পদ্ধতি।

কিন্তু প্রচলিত এবং অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণের তুলনায় আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণ অধিক লাভজনক। সুতরাং কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে আমাদের দেশের কৃষকরা যদি ওই পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণ করতে পারে তাহলে প্রতি বছর কোরবানি ঈদের সময় গরু আমদানি কমানো সম্ভব হবে এবং এর ফলে দেশ আর্থিকভাবে বিরাট সফলতা লাভ করতে সক্ষম হবে।
লেখক: মো. শাহীন আলম

গ্রোথ হরমোনের ব্যবহার ছাড়া গরু মোটাতাজাকরণ

কোনোভাবেই ইনজেকশন বা কোনো গ্রোথ হরমোন ব্যবহার করে গবাদিপশু মোটাতাজাকরণের উদ্যোগ নেওয়া যাবে না। এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার ছাড়াও স্বাভাবিক ও জৈব পদ্ধতিতেই গরু মোটাতাজাকরণ সম্ভব। এজন্য দরকার শুধু কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলা।
কোনো গ্রোথ হরমোন ব্যবহার ছাড়াই যেভাবে গবাদিপশুর বেশি মাংস নিশ্চিত করা যায়, সে সম্পর্কে কিছু পদ্ধতি স্বল্প পরিসরে আলোকপাত করা হল: অধিক মাংস উৎপাদনের জন্য ২ থেকে ৩ বছর বয়সের শীর্ণকায় গরুকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় খাদ্য সরবরাহ করে হৃষ্টপুষ্ট গরুতে রূপান্তরিত করাকে গরু মোটাতাজাকরণ বলে। এটির গুরুত্ব হচ্ছে- দারিদ্রতা হ্রাসকরণ, অল্প সময়ে কম পুঁজিতে অধিক মুনাফা অর্জন, অল্প সময়ের মধ্যে লাভসহ মূলধন ফেরত পাওয়া, প্রাণীজ আমিষের ঘাটতি পূরণ, স্বল্পমেয়াদি প্রযুক্তি হওয়ার কারণে পশু মৃত্যুর হার কম, কৃষিকার্য হতে উৎপাদিত উপজাত পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে সহজেই মাংস উৎপাদন করা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে আয় বৃদ্ধি করা প্রভৃতি।

মোটাতাজাকরণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান পদ্ধতি: মোটাতাজাকরণের সঠিক সময়: বয়সের উপর ভিত্তি করে সাধারণত ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে গরু মোটাতাজাকরণ করা যায়। অনেক সময় ৫ থেকে ৬ মাসও সময় লাগতে পারে। গরু মোটাতাজাকরণের জন্য সুবিধাজনক সময় হচ্ছে বর্ষা এবং শরৎকাল যখন প্রচুর পরিমাণ কাঁচাঘাস পাওয়া যায়। চাহিদার উপর ভিত্তি করে কোরবানী ঈদের ৫ থেকে ৬ মাস পূর্ব থেকে গরুকে উন্নত খাদ্য ও ব্যবস্থাপনা দিয়ে মোটাতাজাকরণ লাভজনক।

স্থান নির্বাচন: গরু রাখার স্থান নির্বাচনে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে: ১. শুষ্ক ও উঁচু জায়গা হতে হবে, যাতে খামার প্রাঙ্গণে পানি না জমে থাকে
২. খোলামেলা ও প্রচুর আলো বাতাসের সুযোগ থাকতে হবে।
৩.খামারে কাঁচামাল সরবরাহ ও উৎপাদিত দ্রব্যাদি বাজারজাতকরণের জন্য যোগাযোগ সুবিধা থাকতে হবে
৪. পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সুষ্ঠু ব্যবস্থা থাকতে হবে;
৫. সুষ্ঠু পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকতে হবে। গরু নির্বাচন: উন্নত দেশের মাংসের গরুর বিশেষ জাত রয়েছে। বিদেশি গরুর জন্য উন্নত খাদ্য ও ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। তাই দেশীয় গরু মোটাতাজাকরণ অলাভজনক। ২ থেকে ২.৫ বছরের গরুর শারীরিক বৃদ্ধি ও গঠন মোটাতাজাকরণের জন্য বেশি ভাল। এঁড়ে বাছুরের দৈহিক বৃদ্ধির হার বকনা বাছুরের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে। তবে বাছুরের বুক চওড়া ও ভরাট, পেট চ্যাপ্টা ও বুকের সাথে সমান্তরাল, মাথা ছোট ও কপাল প্রশস্ত, চোখ উজ্জ্বল ও ভেজা ভেজা, পা খাটো প্রকৃতির ও হাড়ের জোড়াগুলো স্ফীত, পাজর প্রশস্ত ও বিস্তৃত, শিরদাড়া সোজা হতে হবে। গরুর খাদ্যের ধরণ: খাদ্যে মোট খরচের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ভাগ ব্যয় হয়। তাই স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত খাদ্য দ্বারা খরচ কমানো সম্ভব।

এজন্য গরু মোটাতাজাকরণের একটি সুষম খাদ্য তালিকা নিচে দেওয়া হল: ক) শুকনো খড়: দুই বছরের গরুর জন্য দৈহিক ওজনের শতকরা ৩ ভাগ এবং এর অধিক বয়সের গরুর জন্য শতকরা ২ ভাগ শুকনো খড় ২ থেকে ৩ ইঞ্চি করে কেটে একরাত লালীগুড়/চিটাগুড় মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে প্রতিদিন সরবরাহ করতে হবে। পানি: চিটাগুড় = ২০ : ১।
খ) কাঁচাঘাস: প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ কেজি তাজা ঘাস বা শস্যজাতীয় তাজা উদ্ভিদের উপজাত দ্রব্য যেমন- নেপিয়ার, পারা, জার্মান, দেশজ মাটি কালাই, খেসারি, দুর্বা ইত্যাদি সরবরাহ করতে হবে।
গ) দানাদার খাদ্য: প্রতিদিন কমপক্ষে ১ থেকে ২ কেজি দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে।

নিচে ১০০ কেজি দানাদার খাদ্যে তালিকা দেওয়া হল: ১. গম ভাঙা/গমের ভূসি-৪০ কেজি;
২. চালের কুঁড়া-২৩.৫ কেজি;
৩. খেসারি বা যেকোনো ডালের ভূসি-১৫ কেজি:
৪. তিলের খৈল/সরিষার খৈল-২০ কেজি; লবণ-১.৫ কেজি।
তাছাড়াও বিভিন্ন রকমের ইউরিয়া মোলাসেস ব্লক ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি হচ্ছে ৩৯ ভাগ চিটাগুড়, ২০ ভাগ গমের ভূসি, ২০ ভাগ ধানের কুঁড়া, ১০ ভাগ ইউরিয়া, ৬ ভাগ চুন ও ৫ ভাগ লবণের মিশ্রণ।

রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা: ক. প্রতিদিন নিয়মিতভাবে পশুর গা ধোয়াতে হবে;
খ. গো-শালা ও পার্শ্ববর্তী স্থান সর্বদা পরিস্কার রাখতে হবে:
গ. নিয়মিতভাবে গরুকে কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়াতে হবে;
ঘ. বাসস্থান সর্বদা পরিস্কার রাখতে হবে।
ঙ. স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পরিমিত পরিমাণে পানি ও সুষম খাদ্য প্রদান করতে হবে।
চ. রোগাক্রান্ত পশুকে অবশ্যই পৃথক করে রাখতে হবে।
ছ. খাবার পাত্র পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
জ. খামারের সার্বিক জৈব নিরাপত্তা রক্ষা করতে হবে।
ঝ. পশু জটিল রোগে আক্রান্ত হলে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

বাজারজাতকরণ: মোটাতাজাকরণ গরু লাভজনকভাবে সঠিক সময়ে ভাল মূল্যে বাজারজাতকরণের ব্যবস্থাগ্রহণ হচ্ছে আরেকটি উল্লেখ্যযোগ্য বিষয়। বাংলাদেশে মাংসের জন্য বিক্রয়যোগ্য গবাদিপশুর বাজারমূল্যেও মৌসুমভিত্তিক হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। কাজেই একজন প্রতিপালককে গরু মোটাতাজাকরণের জন্য অবশ্যই গরুর ক্রয়মূল্য যখন কম থাকে তখন গরু ক্রয় করে বিক্রয়মূল্যের উর্ধ্বগতির সময়ে বিক্রয়ের ব্যবস্থা নিতে হবে। সাধারণত কোরবানীর ঈদের সময়ে গরুর মূল্য অত্যাধিক থাকে এবং এর পরের মাসেই বাজার দর হ্রাস পায়। তাই এখন গরু মোটাতাজাকরণের উপযুক্ত সময় এবং কোরবানীর সময় তা বিক্রি করে দেওয়া ভাল।
লেখক: আব্দুস সালাম সাগর, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ 

তথ্য সুত্রঃ এগ্রোবাংলা ডটকম

বেলি ফুল চাষ


বাংলাদেশের অধিকাংশ উৎসব অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত ফুলের তোড়া, ফুলের মালাতে সুগন্ধীফুল হিসাবে বেলির কদর আছে। উৎসব ও অনুষ্ঠান বেলিফুল ব্যবহৃত হয়। এটি একটি অর্থকরী ফুল। 

জাত: তিন জাতের বেলি ফুল দেখা যায়। যথা: 
১। সিঙ্গল ধরনের ও অধিক গন্ধযুক্ত। 
২। মাঝারি আকার ও ডবল ধরনের। 
৩। বৃহদাকার ডবল ধরনের

বংশ বিস্তার: বেলি ফুল গুটি কলম, দাবা কলম ও ডাল কলম পদ্ধতির মাধ্যমে বংশবিস্তার করা হয়।

জমি চাষ ও সার প্রয়োগ বেলে মাটি ও ভারী এঁটেল মাটি ব্যতীত সব ধরনের মাটিতে বেলি ফুল চাষ করা যায়। জমিতে পানি সেচ ও পানি নিকাশের ব্যবস্থা থাকা ভালো। জমি ৪-৫টি চাষ ও মই দিয়ে ঝুরঝুরা ও সমান করতে হবে। জমি তৈরির সময় জৈব সার, ইউরিয়া, ফসফেট এবং এমপি প্রযোগ করতে হবে। প্রায় ১ মিটার অন্তর চারা রোপণ করতে হবে। চারা লাগনোর পর ইউরিয়া প্রয়োগ করে পানি সেচ দিতে হবে।

কলম বা চারা তৈরি: গ্রীষ্মের শেষ হতে বর্ষার শেষ পর্যন্ত বেলি ফুলের কলম বা চারা তৈরি করা যায়। চারা থেকে চারা ও সারি থেকে সারির দূরত্ব ৫০ সেমি. হতে হবে। চারা লাগনোর জন্য গর্ত খুঁড়ে গর্তের মাটির রোদ খাইয়ে, জৈব সার ও কাঠের ছাই গর্তের মাটির সাথে মিশিয়ে গর্ত ভরাট করতে হবে। এরপর প্রতি গর্তে বেলির কলম বসাতে হবে। বর্ষায় বা বর্ষার শেষের দিকে কলম বসানোই ভালো। তবে সেচের ব্যবস্থা ভালো হলে বসন্তকালেও কলম তৈরি করা যায়।

টবে চারা লাগনো: জৈব পদার্থ যুক্ত দোআঁশ মাটিতে ইউরিয়া, টিএসপি ও এমপি সার পরিমাণমতো মিশিয়ে টবে বেলি ফুলের চাষ করা যায। টব ঘরের বারান্দা বা ঘরের ছাদে রেখে দেওয়া যায়।

পরিচর্যা 

সেচ দেওয়া: বেলি ফুলের চাষে জমিতে সবসময় রস থাকা দরকার। গ্রীষ্মকালে ১০-১২ দিন পরপর শীতকালে ১৫-২০ দিন পর পর ও বর্ষাকালে বৃষ্টি সময়মতো না হলে জমির অবস্থা বুঝে ২-১ টি সেচ দেওয়া দরকার।

আগাছা দমন: জমি বা টব থেকে নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। খড় কেটে কুচি করে জমিতে বিছিয়ে রাখলে সেচের প্রয়োজন কম হয় এবং আগাছাও বেশি জন্মাতে পারে না।

অঙ্গ ছাঁটাইকরণ: প্রতিবছরই বেলি ফুলের গাছের ডাল-পালা ছাঁটাই করা দরকার। শীতের মাঝামাঝি সময় ডাল ছাঁটাই করতে হবে। মাটির উপরের স্তর থেকে ৩০ সেমি. উপরে বেলি ফুলের গাছ ছাঁটাই করতে হবে। অঙ্গ ছাঁটাইয়ের কয়েকদিন পর জমিতে বা টবে সার প্রয়োগ করতে হবে।

রোগ বালাই ব্যবস্থাপনা: বেলি ফুল গাছে ক্ষতিকারক কীট তেমন দেখা যায় না। তবে মাকড়ের আক্রমণ হতে পারে। এদের আক্রমণে পাতায় সাদা আস্তরণ পড়ে, আক্রান্ত পাতাগুলো কুঁকড়ে যায় ও গোল হয়ে পাকিয়ে যায়। গন্ধক গুঁড়া বা গন্ধক ঘটিত মাকড়নাশক ঔষধ যেমন- সালট্যাফ, কেলথেন ইত্যাদি পাতায় ছিটিয়ে মাকড় দমন করা যায়।
বেলি ফুলের পাতায় হলদে বর্ণের ছিটে ছিটে দাগযুক্ত এক প্রকার ছত্রাক রোগ দেখা যায়। এগ্রোসান বা ট্রেসেল-২ প্রয়োগ করে এ রোগ দমন করা যায়।

ফলন: ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত গাছে ফুল ফোটে। ফলন প্রতি বছর বাড়ে। লতানো বেলিতে ফলন আরও বেশি হয়। সাধারণত ৫-৬ বছর পর গাছ কেটে ফেলে নতুন চারা লাগানো হয়। 
এগ্রোবাংলা

তথ্য সুত্রঃ আগ্রবাংলা

ধান-আলুর এলাকায় তরমুজ-বিপ্লব

Friday, May 18, 2012


জ্যৈষ্ঠের গরমে রসাল ফল তরমুজ যেন প্রাণে শীতল পরশ বুলিয়ে দেয়। গরমে তরমুজ পছন্দ করে না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। এই সময়টায় বাজারে তরমুজের কদরও তাই অন্য রকম।

এবার তরমুজ চাষের একরকম বিপ্লব ঘটে গেছে ধান-আলু চাষের প্রসিদ্ধ এলাকাখ্যাত জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায়। এখানকার প্রত্যন্ত এলাকার মাঠজুড়ে এখন তরমুজখেতে সবুজের সমারোহ। বিঘার পর বিঘা চাষ করা খেত থেকে ইতিমধ্যেই তরমুজ উঠাতে শুরু করেছেন চাষিরা। আশাতীত ফলন পেয়ে তাঁদের মুখে হাসির ঝিলিক। বাম্পার ফলনের পাশাপাশি ভালো দামও পাচ্ছেন তাঁরা।

কালাইয়ে তরমুজ চাষ শুরু যেভাবে: কালাই এলাকার তিন ফসলি জমিতে বোরো, আমন ও আলু চাষ করছিলেন স্থানীয় চাষিরা। সম্প্রতি আলু ও ধানের ভালো দাম না পেয়ে তাঁরা বিকল্প ফসল আবাদের চিন্তাভাবনা করছিলেন। এরই মধ্যে কয়েক মৌসুম থেকে পাশের গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ‘বাগদা ফার্মে’ তরমুজ চাষ শুরু করেছিলেন সেখানের চাষিরা। বাগদা ফার্মে তরমুজ চাষের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে কালাই উপজেলার তেলীহার, আকলাপাড়া, কুঁকরাইল, ভুষাসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা বছর চারেক আগে বোরোর বদলে তরমুজের চাষ শুরু করেন। আর সেই তরমুজের চাষ ক্রমে ছড়িয়ে পড়ে করমকা, বেউরগ্রাম, পুর, টাকাহুত, মালটিয়া, শেখপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে।
সরেজমিন: সম্প্রতি সরেজমিনে কালাই উপজেলার মোসলেমগঞ্জ-মালটিয়া সড়ক ধরে বেশ কিছু মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এবার তরমুজ চাষ হয়েছে। চাষিরা খেতের এক পাশে বা খেতের মাঝখানে তাঁবু টানিয়ে তরমুজ পাহারা দিচ্ছেন।

তীরখোলা মাঠে কথা হলো পুরগ্রামের তরমুজচাষি আবদুল বাতেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আশপাশের সব জায়গায়ই বিঘার পর বিঘা জমিতে বোরোর বদলে তরমুজের চাষ হয়েছে। অনেকেই খেত থেকে তরমুজ বিক্রি করছেন। আমি নিজেও দুই বিঘা জমিতে তরমুজের চাষ করেছি। ফলন ভালো হওয়ায় ৭০-৮০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি।’
আবদুল বাতেন বলেন, ‘তরমুজ চাষে কিছু সমস্যাও রয়েছে। প্রথম ফুল আসার পরপরই ছত্রাকজাতীয় রোগ এবং জাব পোকার আক্রমণ বেড়ে যায়। এ কারণে খেতে কী ধরনের কীটনাশক প্রয়োগ করব, তা বুঝতে পারছিলাম না। এ সময় কৃষি বিভাগের কাউকে পাশে পাওয়া যায়নি।’

টাকাহুত চকপাড়ার বাদশা সরকার বলেন, ‘এবার এলাকায় তরমুজ-বিপ্লব হয়েছে। আমি প্রায় দুই বিঘা জমিতে তরমুজ আবাদ করেছি। বোরো চাষে খরচ হতো ২০ হাজার টাকা, তরমুজ চাষে খরচ হয়েছে মাত্র ছয় হাজার টাকা। ২৫ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেছি, খেতের সব তরমুজ বিক্রি করে আরও ২৫ হাজার টাকা লাভ হবে বলে আশা করছি।’

তরমুজের উৎপাদন ও বাজার: চাষিদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, তরমুজ চাষে বিঘাপ্রতি খরচ গড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকা। বিঘায় তরমুজ ধরেছে গড়ে সাড়ে ৪০০টি করে। একেকটি তরমুজের ওজন গড়ে সাত থেকে আট কেজি। প্রতিটি তরমুজ গড়ে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। চাষিরা পরিপক্ব তরমুজ তুলে খেতের এক পাশে জড়ো করছেন। ব্যবসায়ীরা খেত থেকেই আকার অনুযায়ী তরমুজ কিনে নিচ্ছেন। খেত থেকে তরমুজ কিনতে আসা গোবিন্দগঞ্জের কাঁচামাল ব্যবসায়ী আখের আলী বলেন, ‘খেত থেকে তোলা একটি তরমুজ মাপা হয়। এরপর সেই আকারের তরমুজ আলাদা করে ভটভটি ভ্যানে তুলে মোকামে নেওয়া হয়। খেত থেকে বড় আকারের তরমুজ কেনা হচ্ছে ১৪-১৫ টাকা কেজি দরে।’

খোঁজ রাখেনি কৃষি বিভাগ: কালাই উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় তরমুজ-বিপ্লব ঘটে গেলেও খোঁজ রাখেনি কৃষি বিভাগ। জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক দেলবর হোসেন স্বীকার করেন, কালাই উপজেলায় তরমুজের চাষ হচ্ছে, এমন তথ্য তাঁর জানা নেই। তিনি বলেন, ধান-আলুর এলাকায় নতুন ফসল হিসেবে কৃষকেরা তরমুজ চাষ শুরু করায় কৃষি বিভাগে সঠিক তথ্য না-ও থাকতে পারে। কালাই এলাকার তরমুজের আবাদ সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হবে।

তথ্য সূত্র: প্রথম আলো পত্রিকা, তারিখ: ১৮-০৫-২০১২

মনের উঠোনে

সাম্প্রতিক সংযোজন

মোবাইল থেকে দেখুন

আমাদের দেশ এখন আপনার মুঠোফোনে, মোবাইল থেকে লগইন করুন আমাদের দেশ

দ র্শ না র্থী

দ র্শ না র্থী

free counters

কে কে অনলাইনে আছেন