আম রাজ্যে উৎসব

Saturday, July 9, 2011


চাঁপাইনবাবগঞ্জের 'আম অর্থনীতি' এখন চাঙ্গা। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার বেচাকেনার পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষের আম-কাজ আর পর্যটকদের পদচারণায় এখন রীতিমতো মহোৎসব চলছে সেখানে। এ বছর আমের ফলন ভালো হয়েছে।
জেলার প্রায় ২৩ হাজার হেক্টর আম বাগান আর চারটি প্রধান আমের বাজারে এ বছর বেচাকেনা হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আম নিয়ে ব্যস্ততা চলবে আরো দুই মাস। মাটি ও আবহাওয়ার কারণে সুস্বাদু আম উৎপাদনের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জের খ্যাতি সেই প্রাচীনকাল থেকে। রুক্ষ-লাল মাটির বরেন্দ্র অঞ্চলেও ঘটে চলেছে আম বিপ্লব। নতুন করে যোগ হয়েছে চরাঞ্চল। সব মিলিয়ে জেলায় এখন আমগাছের সংখ্যা প্রায় ১৮ লাখ। এ বছর আম উৎপন্ন হবে প্রায় সোয়া দুই লাখ মেট্রিক টন।

আমের বাজার
চাঁপাইনবাবগঞ্জে চারটি প্রধান বাজারসহ বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় অর্ধশত বাজার রয়েছে। এর মধ্যে দেশের প্রধান আমের বাজার শিবগঞ্জের কানসাট। এটি আমের আদি বাজার। জেলা সদর থেকে ২৭ কিলোমিটার দূরের এ বাজারে এখন আম আর আম। প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তার দুই ধারজুড়ে বাজার। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে কেনাবেচা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের মোট আমের ৬০ শতাংশ উৎপাদিত হয় শিবগঞ্জে এবং কানসাট বাজারটি উপজেলার মাঝামাঝি স্থানে থাকায় এখানে প্রতিদিন প্রচুর আম আসে এবং বিক্রি হয়। জেলার ভোলাহাট, গোমস্তাপুর ও সদর উপজেলায়
উৎপাদিত আমের একটা বড় অংশ বিক্রি হয় কানসাট বাজারে।
কানসাট আম আড়তদার সমিতি সূত্র জানিয়েছে, এখানে প্রতিদিন প্রায় ছয় কোটি টাকার আম কেনাবেচা হয়। আম মাপার হিসাবটাও আলাদা। ৪৫ থেকে ৪৮ কেজিতে এক মণ ধরা হয়। এখন প্রতিদিন প্রায় দেড় শ ট্রাক বোঝাই আম যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের আমের বড় বাজারটি বসে পুরান বাজারে। মহানন্দা নদীর তীরে গড়ে ওঠা প্রাচীন এ আমের বাজার এখন রমরমা। সদর, শিবগঞ্জ ও গোমস্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নৌকায় বাজারে আসছে আম, যাচ্ছে টাকা।
জেলা সদর থেকে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার দূরে রহনপুর। এখানে রেলস্টেশনের সামনে আমের বাজার। গোমস্তাপুর, ভোলাহাটসহ প্রভৃতি এলাকা থেকে আম আসে। এখানে গড়ে ওঠা প্রায় ১২৫টি আড়ত থেকে দেশের পাইকারি ক্রেতারা আম কিনে নিয়ে যায়। সরগরম রহনপুর, তবে ফজলি আম বাজারে এলে এই বাজার আরো তেজি হয়ে উঠবে। সীমান্ত উপজেলা ভোলাহাট। এখানকার আম প্রতিদিন ফাউন্ডেশন বাজারে বেচাকেনা হয়।

ব্যস্ত সবাই
তিন মাসের আম মৌসুম। প্রায় ছয় লাখ মানুষের ব্যস্ত সময় কাটছে। মুকুল পরিচর্যা থেকে শুরু করে আম কেনাবেচা ও মধ্যস্থতার কাজ_এসব নিয়েই কেটে যায় দিন। এ অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষ তাকিয়ে থাকে এ সময়ের জন্য। আম মৌসুম মানেই তাদের সুখের দিন।
আমকর্মী কাশেম জানান, 'বাগানে কাজ করার সময় ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া পাই আর ম্যালাই (প্রচুর) আম খাইয়্যা শরীরখানটাও তাজা হইয়া য়ায়। বাগান শ্যাষ কোর‌্যা যখন বাড়ি যায় তখন বাড়িআলীট্যা (স্ত্রী) মুখের দিকে তাকিয়্যা থাকে। তাজা মুখখানটা দেখ্যা খুশিই হয়।'

বালাই নিয়ে বিপাকে
রোগবালাই নিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হয়। সম্প্রতি গাছে আঠাঝরা রোগসহ কয়েকটি রোগের কারণে প্রচুর গাছ নষ্ট হয়েছে। এ বছর মৌসুমের শুরুতে বাগানে বাগানে পরাগায়ন সমস্যার বাইরে ব্যাপক হারে ফুদকি পোকার আক্রমণে মহালাগা রোগের বিস্তার ঘটে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বালাই দমনের নামে অধিক মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহারের কারণে জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে। মৌমাছির অভাবে এ বছর রেকর্ডসংখ্যক মুকুল এলেও পরাগায়নে সমস্যা দেখা দেয়। ফলে কয়েকটি জেলায় মুকুলে মুকুলে চিনি স্প্রে করার ঘটনাও ঘটেছে। এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ার কারণেও হাজার হাজার বিঘার শত শত মণ আম বিকৃত হয়ে গেছে। ভাটার কালো ধোঁয়ায় সৃষ্ট 'ব্ল্যাকট্রিপ' রোগে আক্রান্ত আম নিয়ে বিপাকে এখানকার চাষিরা।
গবেষণাকেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সফিকুল ইসলাম জানান, ইটভাটার চিমনি থেকে বের হওয়া বিষাক্ত কালো ধোঁয়া আম চাষে ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। চিমনি থেকে বের হওয়া কার্বন মনোক্সাইড, ইথিলিন গ্যাস আমকে আঘাত করলে বা স্পর্শে এলে আমের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়। আম নিজস্ব গঠন অনুযায়ী বেড়ে উঠতে পারে না। নিচের অংশ বিকৃত আকার ধারণ করে। শুধু তা-ই নয়, ধোঁয়ার কারণে আমের নিচের অংশ হলুদ আকার ধারণ করে এবং পরে তা কালো হয়ে যায়। যার শেষ পরিণতি পচন। ইটভাটার কালো ধোঁয়া বাগানকে আক্রান্ত করলে প্রতিলিটার পানিতে পাঁচ থেকে ১০ গ্রাম বোরিক এসিড মিশিয়ে চার থেকে পাঁচবার স্প্রে করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

গবেষণা
১৯৮৫ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৯০ বিঘা জমির ওপর আম গবেষণাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণাকেন্দ্র। দীর্ঘ গবেষণায় কেন্দ্রের সাফল্য ও ব্যর্থতা নিয়ে নানা কথা থাকলেও সাতটি নতুন জাতের উদ্ভাবন হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, জনবল সংকট আর নানামুখী জটিলতা নিয়েই এখানে চলছে গবেষণা কার্যক্রম।

শেষ কথা
আমের মৌসুম মানেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরগরম। কিন্তু ফলন যদি হয় বাম্পার তখন গোটা জেলায়ই চলে বাহারি জাতের সুস্বাদু ও রসাল আমের মহোৎসব। আমশিল্পকে ঘিরে কয়েক বছরে আম প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য একাধিক ছোট-বড় কারখানা গড়ে উঠলেও স্থানীয়দের দাবি, আম সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক; কিন্তু সে দাবি আলোর মুখই দেখছে না।

তথ্য সুত্র : কালের কন্ঠ

বিখ্যাত ১০ আম

গোপালভোগ : শাঁস রসালা আঁশহীন ও সুগন্ধি বলে এই আম অনেকেরই প্রিয়। মাঝারি আকারের এই আমের গড় ওজন ১৮৯ গ্রাম। আঁটি পাতলা, খাদ্যাংশ ৬২ শতাংশ, মিষ্টতা ২১ দশমিক ৮ শতাংশ। বাজারে আসে মধ্য জ্যৈষ্ঠ থেকে আষাঢ়ের প্রথম দিকে।

হিমসাগর : আকারে মাঝারি, গড় ওজন ২১৯ গ্রাম। শাঁস হলুদাভ সবুজ, বেশ রসাল। আঁটি মাঝারি। এই আমের খাদ্যাংশ ৬২ শতাংশ এবং মিষ্টতা ১৬ দশমিক ২ শতাংশ।

খিরসাপাত : হিমসাগরের মতো খিরসাপাতও মাঝারি আকারের আম। এটি বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলে হয়। গড় ওজন ২৪৪ গ্রাম, আঁটি পাতলা। এই আম আঁশহীন, রসাল ও সুগন্ধি। মিষ্টতা ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ, খাদ্যাংশ ৭১ শতাংশ।

ল্যাংড়া : বাজারে বেশ কদর আছে এই আমের। আকারে মাঝারি এই আম খেতে সুস্বাদু। সুগন্ধি ও আঁশহীন। গড় ওজন ২৪০ গ্রাম। আঁটি ছোট। এর খাদ্যাংশ ৭২ শতাংশ আর মিষ্টতা ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ। পাকে জ্যৈষ্ঠের শেষে। রাজশাহীতে এই আম ভালো হয়।

ফজলি : আমের মধ্যে ফজলি খুব বড় আকারের। গড় ওজনও বেশি, ৬১০ গ্রাম। এর খাদ্যাংশ ৮১ শতাংশ, মিষ্টতা ১৯ শতাংশ। সুগন্ধি ও রসাল এই আম পাকে শ্রাবণ ও ভাদ্রে। ভালো হয় বৃহত্তর রাজশাহীতে।

আম্রপালি : নীলম ও দশহরি জাতের সংকর আম এটি। ভারতে ছাড়া হয় ১৯৭৮ সালে। এর গাছ খুব ছোট এবং ঝাঁকালো। এক গাছে আম ধরে প্রচুর। পাকলে শাঁস গাঢ় কমলা রঙের হয়। স্বাদে মিষ্টি আর খাদ্যাংশও ভালো, ৭৪ দশমিক ৮ শতাংশ। আম্রপালির গড় ওজন ৩০৭ গ্রাম। মিষ্টতা ১৭ দশমিক ২ শতাংশ। সারা দেশেই এই আম হয়ে থাকে।

সূর্যপুরী : ছোট আকারের আম, দেখতে সরু। গড় ওজন মাত্র ১২৫ গ্রাম। আঁটি পাতলা ও সরু। এই আমের খাদ্যাংশও কম, ৫৬ শতাংশ; মিষ্টতা ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ। শাঁস পুরু, আঁশযুক্ত হলেও বেশ রসাল। পাকে আষাঢ়ের শেষ থেকে শ্রাবণ পর্যন্ত। ঠাকুরগাঁওয়ের বিখ্যাত আম এটি। অন্য অঞ্চলে হয় না বললেই চলে।

নীলাম্বরী : গাছপাকা আম খাওয়া দায়। কারণ বেশি পাকলে খাওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়ে। কাঁচা আম পেড়ে পাকাতে হয়। ছোট থেকে মাঝারি আকারের এই আমের গড় ওজন হয় ২০০ থেকে ৩৬০ গ্রামের মধ্যে। দেখতে গোল এই আমের অগ্রভাগ সুচালো। বাজারে আসে সাধারণত মৌসুমের শেষ দিকে। নীলাম্বরী হয় যশোর ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে।

গোলাপখাস : পাকলে গোলাপ ফুলের গন্ধ আসে বলেই বুঝি এর নাম গোলাপখাস। আকার মাঝারি, গড় ওজন ৩০০ গ্রাম। দেখতে লম্বাটে, বোঁটার দিকের অনেকটা জায়গা গাঢ় লাল, নিচের দিকটা হলুদ। হলদে শাঁসের এই আম খেতে সামান্য টক-মিষ্টি। মৌসুমের শুরুতেই বাজারে আসে। পাকে বৈশাখের শেষ থেকে জ্যৈষ্ঠ পর্যন্ত।

সিন্ধু : ছোট আকারের এই আম খেয়ে যদি ভাবেন চারা করবেন, সম্ভব নয়। কারণ এর আঁটি নেই বললেই চলে। নামমাত্র আঁটি, ভেতরে বীজপত্র নেই। তাই গাছ হয় না। অনেকেই একে আঁটিহীন আম বলে। পাকলেও দেখতে গাঢ় সবুজ, শুধু ওপরের দিকে কিছুটা লালচে হয়। আমটি আঁশবিহীন, স্বাদে খুব মিষ্টি আর গন্ধটাও আকর্ষণীয়।


বগুড়ায় সৌদি খেজুরের বাগান

Wednesday, May 25, 2011


ময়মনসিংহের পর এবার বগুড়ায় সৌদি আরবের খেজুরও চাষ শুরু হয়েছে। দুই দেশের বিপরীত আবহাওয়ার মধ্যেও খেজুর চাষ সম্ভব এমন অদম্য উৎসাহ নিয়ে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বড়ুইল ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম তুলাসন ধুন্ধারে সৌদি আরবের নানা জাতের খেজুরের বাগান গড়ে তুলেছেন আবদুর রউফ হিরো। প্রায় তিন বিঘা জমিতে গড়া বাগানটিতে সাড়ে ৪০০ খেজুরের গাছ ও প্রায় ২৫ হাজার নানা জাতের খেজুর গাছের চারা রয়েছে। বেশকিছু গাছে খেজুর আসতে শুরু করেছে।

খেজুর চাষি আবদুর রউফ জানান, তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৬ সালে চারুকলা বিভাগ থেকে বিএফএ পাস করেন। এরপর ১৯৯৯ সালে সৌদি আরবের একটি বেসরকারি কোম্পানিতে ডিজাইনার হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। সেখানে মরু ভূমিতে খেজুরের চাষ দেখে তিনি পরিকল্পনা করেন দেশের মাটিতে খেজুরের চাষ করার। এক্ষেত্রে ময়মনসিংহের ভালুকাতে গড়ে ওঠা মোতালেব হোসেনের খেজুর বাগান তাকে অনুপ্রাণিত করে। ২০০৮ সালে দেশে ফেরার সময় তিনি উন্নত জাতের খেজুর নিয়ে এসে তার বীজ থেকে শুরু করেন খেজুরের বাগান। নাম দেন 'মা সৌদি খেজুরের বাগান ও নার্সারি'। গত বছর বাগানে ২০-২২টি গাছে খেজুর ধরে। এ বছর আড়াই বছর বয়সী শতাধিক গাছে খেজুর আসবে বলে আশা করছেন তিনি। তিনি জানান, বাগানের কাজে তাকে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করেন স্ত্রী আসমা খানম। বাগান করতে তাদের অনেক টাকাও খরচ হয়েছে। এরজন্য মাঝেমধ্যেই চিন্তিত হতেন। কিন্তু গত বছর বাগানের বেশ কিছু গাছে ফল আসায় আশার সঞ্চার হয়েছে। তবে এলাকায় খেজুর চারার প্রচুর চাহিদা রয়েছে। গত বছর বৃক্ষমেলায় ও আগ্রহীদের মধ্যে একেকটি খেজুর চারা ২০০ থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছেন। বর্তমানে বাগানে শাখাই, মগরুম ও সুপ্রি তিনটি জাতের ছোটবড় খেজুর গাছের চাষ হচ্ছে। সবচেয়ে উন্নতমানের খেজুর হলো মগরুম। বাগানটি সবসময় পরিচর্যা করেন ৩-৪ জন শ্রমিক। নন্দীগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, মরুভূমির এ ফসল বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়ার সঙ্গে খাপখেয়ে কতটুকু ফলানো সম্ভব তারই ওপর নির্ভর করছে অদম্য উৎসাহী আবদুর রউফের স্বপ্নের বাস্তবায়ন।


তথ্য সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন, তারিখ: ২৫ মে ২০১১




চিবিয়ে খাওয়া জাতের আখ চাষ

Saturday, May 21, 2011


চিবিয়ে খাওয়ার আখ বসতবাড়ির আশপাশে সীমিত উর্বর জমিতে চাষ হয়ে থাকে। চিবিয়ে খাওয়ার আখ চাষ খুবই লাভজনক। যথাযথ যত্ন সহকারে চাষাবাদ করা হলে অন্য যে কোনো ফসলের তুলনায় চিবিয়ে খাওয়া আখ থেকে অর্থ উপার্জন করা সম্ভব। তুলনামূলক চিবিয়ে খাওয়া আখের ফলন জাতীয় গড় ফলনের (৪০.২১ মে. টন/হেক্টর) তুলনায় অনেক বেশি। প্রতি ১০০ গ্রাম আখের রসে ৩৯ ক্যালরি, ৯.১ গ্রাম শর্করা, আমিষ চর্বি, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ পাশাপাশি রিবোফ্লোবিন এবং ক্যারোটিন বিদ্যমান। পরিপক্ব আখে শতকরা ৮০ ভাগ পানি, ৮-১৬ ভাগ সুক্রোজ, ০.৫-২ ভাগ রিডিউসিং সুগার এবং ০.৫-১ নন সুগার থাকে।

আখের অভ্যন্তরীণ বৈশিষ্ট্যের মধ্যে মিষ্টতা, ছোবড়ার হার ও মসৃণতা, কম আঁশযুক্ত, নরম রসালো, কম মিনারেল ও অধিক চিনিযুক্ত। আখ জাতসমূহই চিবিয়ে খাওয়া আখের আঁশের পরিমাণ নরম এবং রসের পরিমাণ বিভিন্ন জাত বিভিন্ন রকম হয়। আবাদকৃত জাতসমূহের মধ্যে উৎকৃষ্ট সিও-২০৮, বনপাড়া গেন্ডারি, অমৃত, সিও-৫২৭, মিশ্রিমালা ও কাজলাজাত। স্বল্প আয়ের লোকদের অপুষ্টিরোধে আখের রসের ব্যাপক ব্যবহারে অত্যন্ত সহায়ক। উপজেলার বামনীকাঠী গ্রামের গনি শিকদার ৫ একর জমিতে আখ চাষ করে ৫ লাখ টাকা বিক্রি করেন। ওই বছর তার আখ চাষে ২ লাখ টাকা খরচ শেষে তার লাভ হয়েছে ৩ লাখ টাকা। ১৯৯৬ সাল থেকে আখ চাষ করে আসছেন তিনি। ব্যবসার উদ্দেশ্যে যশোর গেলে সেখানকার আখ চাষ দেখে বসতভিটায় ৫ শতাংশ জমিতে আখ চাষ শুরু করেন। এলাকার মালেক মৃধা, ছিদ্দিক সিকদার, শাহ আলম মৃধা, আবু তাহের প্যাদাও আখ চাষ করছেন। চাষি গনি মলি্লক আখ চাষ সম্পর্কে জানান, আখ চাষ শুধু চিনির জন্য নয়, চিবিয়ে খাওয়ার জন্য। প্রতিজন কৃষক ১০ থেকে ১৫ শতাংশ আখ চাষ করে আসছেন। আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র মাসে উপজেলার হাটবাজারে আখ বিক্রি করে থাকেন। ২৫টি করে আখের আঁটি বাধা হয়। ৪টি আঁটি অর্থাৎ ১শ আখ ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা বিক্রি করা হয়। আখ চাষের জমি নির্বাচনের পর ভালোভাবে জমি চাষ করে উপযুক্ত বীজতলা তৈরি করতে হবে। শেকড় যাতে অবাধে বিস্তার লাভ করে প্রচুর খাদ্যরস গ্রহণ করতে পারে সেজন্য জমি উত্তম ও গভীরভাবে চাষ করতে হবে। জমি চাষের গভীরতা কমপক্ষে ৮ ইঞ্চি হওয়া দরকার। তিন খণ্ড চোখবিশিষ্ট বীজখণ্ড নালার মধ্যে একই লাইনের মাথায় স্থাপন করে আখ চাষ করা হয়। হেক্টর প্রতি ৬-৭ মে: টন বীজের আখের প্রয়োজন। চারা ৪ পাতা বিশিষ্ট হলে জমিতে রোপণ করা উপযোগী হবে। সাধারণত কমপক্ষে ১ মাস বা ততোধিক যে কোনো বয়সের চারা রোপণ করা যেতে পারে। তবে ৪-৮ সপ্তাহ বয়সের চারা রোপণ করা ভালো। সরাসরি জমিতে বীজখণ্ড রোপণ বা সরাসরি চারা রোপণ করা যেতে পারে। ফাঁকা জায়গা পূরণ, মাটি আলগা করে দেওয়া, আগাছা পরিষ্কারকরণ, সার প্রয়োগ, চারার গোড়ায় মাটি দেওয়া, আখ বাঁধা দেওয়ার মাধ্যমে পরিচর্যা করা। মারাত্মক ক্ষতিকারক মাজরা পোকা, শুষক পোকা, মাটিতে বসবাসকারী পোকা চিহ্নিত করে কীটনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় রোগ বালাই দমনের ব্যবস্থা করা। আখ বাণিজ্যিকভাবে ও ব্যবহারের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধায় এটি গবেষকদের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। আখের উচ্চ ফলনশীল ও প্রতিকূল পরিবেশ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন জাত উন্নয়নের জন্য বিজ্ঞানীরা নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। জাতীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রশস্ত হবে। সবকিছু মিলিয়ে বিএসআরআই উদ্ভাবিত আধুনিক প্রযুক্তি ও জাতগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে আখের উৎপাদন বাড়ানো এখন সময়ের চাহিদা।


তথ্য সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন, তারিখ: ২১ মে ২০১১

ঝলকে উঠেছে ঝলক ধান


শস্যভাণ্ডারখ্যাত চলনবিলে চলতি বোরো মৌসুমে বিআর-২৮, মিনিকেট, বিআর হীরা ও বোরো ধানের পাশাপাশি উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড ধান ঝলকেরও বাম্পার ফলন হয়েছে। এবারই প্রথম ঝলক ধান চাষ করেছে এ অঞ্চলের কৃষকরা। সময়মতো বৃষ্টিপাত ও প্রকৃতির অনুকূল পরিবেশ থাকায় ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। পাকা ফসলগুলো এখন সোনালি আভায় ঝলমল করছে। সিরাজগঞ্জে কয়েকশ কৃষক এবার ঝলক ধান চাষ করেছে। বীজ কোম্পানি এনার্জি প্যাক এগ্রো লিমিটেড চীনের উইনেক হাইটেড সিড কোম্পানি উৎপাদিত ঝলক নামের এ বীজ বাজারজাত করে। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চন্ডিদাসগাতী গ্রামের কৃষক হায়দার আলী, শালুয়াভিটা গ্রামের সুমন আলী, জাহাঙ্গীর হোসেন, উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ীর কৃষক হেলাল উদ্দিন, মোখলেসুর রহমান, এমদাদুল হক, জাফর শেখ, শাহজাদপুর উপজেলার কৃষক রুবেল খন্দকার, মাহবুব আলম, আলিম শেখ, কামারখন্দ উপজেলার কৃষক মোতালেব হোসেন, ফারুক ইসলাম, বেলকুচি উপজেলার সবুর হোসেন, আলী মাস্টার, ইব্রাহীম হোসেন, রায়গঞ্জ উপজেলার কৃষক মঞ্জুরুল ইসলাম, কালাম মাস্টার, হাই তালুকদার, তাড়াশ উপজেলার কৃষক খলিকুর রহমান, মোখলেস হোসেন, আইয়ুব আলী, সোবহান শেখ, আবু বকর শেখ সবাই ৩-৪ বিঘা জমিতে ঝলক ধান চাষ করেছেন। শাহজাদপুর উপজেলার কৃষক রুবেল খন্দকার জানান, এবারই প্রথম সে তার ৪ বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ঝলক ধান চাষ করেছেন। ফলনও বেশ ভালো। প্রতি শতকে প্রায় ১ মণের বেশি ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

এনার্জি প্যাক এগ্রো লিমিটেড কোম্পানির সিরাজগঞ্জের মার্কেটিং অফিসার মিন্টু মিয়া জানান, সিরাজগঞ্জ জেলায় মোট সাড়ে ১০ হাজার কেজি ঝলক ধানের বীজ বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ সদরে ২ হাজার, শাহজাদপুরে ২ হাজার ৫০০ কেজি, উল্লাপাড়ায় ২ হাজার কেজি, কামারখন্দে ৫০০ কেজি, বেলকুচি ৫০০ কেজি, তাড়াশে ৩ হাজার কেজি বীজ বিক্রি হয়েছে। ঝলক ধান বোরো মৌসুমে সবচেয়ে আগাম জাতের ধান। জেলায় কয়েকশ কৃষক ঝলক ধান চাষ করেছেন। আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলনও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সিরাজগঞ্জ কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দুলাল চন্দ্র রায় জানান, এ বছর সিরাজগঞ্জে প্রায় সাড়ে ৭শ হেক্টর জমিতে ঝলক ধান চাষ করা হয়েছে। কৃষকরা টিএসপি ও পটাশ সার সুষমভাবে ব্যবহার করায় এ ফলন সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও পরিবেশ অনুকূলে ছিল।


তথ্য সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন, তারিখ: ২১ মে ২০১১

তরমুজের বাম্পার ফলন


গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ বছর জেলায় প্রায় ৬শ' হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ করেছে কৃষকরা। জমি থেকে তুলে তরমুজ বিক্রির জন্য নৌকা করে কালীগঞ্জের পাইকারী বাজারের আড়তদারের কাছে আনা হচ্ছে। এখান থেকে তরমুজ ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাচ্ছে। এখানে উৎপাদিত তরমুজ আকারে বড়, খেতে সুস্বাদু ও মিষ্টি হওয়ায় দিনদিন এ এলাকার তরমুজের চাহিদা বাড়ছে। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার শেওড়াবাড়ী, পিঠাবাড়ি, ডোমরাশুর, ডেমাকুড়, পানাইল, পুইশর এলাকায় তরমুজ চাষ হয়েছে। প্রতি কেজি তরমুজ পাইকারী ১০-১২ টাকায় এবং খুচরা প্রতি কেজি ১৩-১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব তরমুজ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ও বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। তরমুজচাষি চিন্ময় হাজরা জানিয়েছেন, এ এলাকার কৃষকরা তরমুজ চাষ করে লাভবান হয়েছেন। গোপালগঞ্জ কৃষি-সমপ্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ভাস্কর চক্রবর্তী জানান, আমরা তরমুজচাষিদের আধুনিক প্রযুক্তিতে চাষাবাদের জন্য সব ধরণের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। ওই এলাকায় একটি বিশেষ টিম কৃষকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক কাজ করছে। এ বছর প্রতি হেক্টর জমিতে প্রায় ৫০-৬০ টন তরমুজের ফলন হয়েছে। তরমুজচাষিদের জন্য পর্যাপ্ত ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করলে তরমুজ চাষ আরও সমপ্রসারিত হবে।


তথ্য সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন, তারিখ: ২১ মে ২০১১

সাজনা শুধু সবজিই নয়

Friday, April 22, 2011


ইংরেজিতে সাজনার নাম 'ড্রামস্টিক' যার অর্থ ঢোলের লাঠি। সাজনার ইংরেজি নামটি অদ্ভুত হলেও এটি একটি অতি প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী উদ্ভিদ। বাংলাদেশে এ নিয়ে তেমন গবেষণা না হলেও বিশ্বের বহু দেশে নানা রকমের গবেষণা হয়েছে; বিশেষ করে এ গাছ হরমোন বর্ধক ঔষধি গুণসম্পন্ন, কাগজ তৈরি ইত্যাদি বিষয় ছাড়াও প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের দেশে এটি সবজির পাশাপাশি ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। দেশের সর্বত্রই সাজনা পাওয়া যায়। বিশেষ করে গ্রামের রাস্তার ধারে এবং বসতবাড়ির আঙিনায় যত্ন ছাড়াই বেড়ে ওঠে এ বৃক্ষটি। সাজনার ফুল ও পাতা শুধু শাক হিসেবেই নয়, পশু খাদ্য হিসেবেও ব্যবহার হয়। এর পাতা শাক হিসেবে ব্যবহার করা যায়_ এতে শারীরিক শক্তি ও আহারের রুচিবর্ধক হয়। এর মধ্যে আছে ভিটামিন এ, বি, সি, নিকোটিনিক এসিড, প্রোটিন ও চর্বি জাতীয় পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট ইত্যাদি। ভারতীয়রা এটির স্যুপ খেয়ে থাকে। এ সময় ঋতু পরিবর্তনের কারণে আমাদের অনেকেরই মুখে স্বাদ থাকে না। আর এ স্বাদকে ফিরিয়ে আনতে সাজনার জুড়ি নেই। সজিনা গাছটির প্রতি আমাদের তেমন আগ্রহ না থাকলেও এর ডাঁটা সব মানুষই পছন্দ করে। আমরা জানি, সবজি মাত্রই পুষ্টিকর খাদ্য। তবে সাজনা শুধু পুষ্টিকর সবজি নয় এটি ওষুধি বৃক্ষও বটে।

সাজনার ফুল বসন্তকালে খাওয়া ভালো কারণ এটি বসন্ত প্রতিষেধক। এটি সর্দি কাশিতে, যকৃতের কার্যকারিতায়, কৃমি প্রতিরোধে, শক্তি বৃদ্ধিতে ফলদায়ক। এর ডাঁটা বা ফলে প্রচুর এমাইনো এসিড আছে। এটি বাত রোগীদের জন্য ভালো। সাজনার বীজ থেকে তেলও পাওয়া যায়, যা বাতের ওষুধ তৈরির কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে এবং ঘড়ি ঠিক করার জন্য যে বেল ওয়েল ব্যবহার হয় তা এর বীজ হতে পাওয়া যায়। সাজনা চরম পরিবেশগত অবস্থা সহ্য করতে সক্ষম। তবে ২০ হতে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ভালো জন্মায় এবং যেসব এলাকায় ২৫০ থেকে ১৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয় সেখানে ভালো জন্মায়। মাটি বেলে দোঁআশ থেকে দোঁয়াশ এবং পিএইচ ৫.০ থেকে ৯.০ সম্পন্ন মাটি সহ্য করতে পারে। সজিনা চাষে সারের তেমন প্রয়োজন হয় না। কারণ সজনার বিস্তৃত ও গভীর শিকড় রয়েছে। তবে ইউরিয়া এবং জৈব সার প্রয়োগ করলে গাছ ভালো হয়। এ বৃক্ষটি বীজ ও ডালের মাধ্যমে বংশবিস্তার করা সম্ভব। তবে আমাদের দেশে বীজ থেকে চারা তৈরি করে চাষাবাদের রীতি এখনো অনুসরণ করা হয় না। কারণ বীজ থেকে চারা তৈরি ব্যয়বহুল। বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তারের ক্ষেত্রে এপ্রিল-মে মাসে গাছ থেকে পাকা ফল সংগ্রহ করতে হবে, তারপর সেটিকে শুকিয়ে ফাটলে বীজ পাওয়া যাবে। এ বীজ শুকনো বায়ুরোধী পাত্রে ১-৬ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করে রাখতে পারি। তার পর জুলাই-আগস্টে বীজতলায় অথবা পলি ব্যাগে বপন করতে পারি। বীজ বপনের আগে বীজগুলোকে ২৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। এতে বীজ থেকে চারা গজাতে সুবিধা হয়। বীজ থেকে চারা বের হতে সময় লাগে ১০ থেকে ২০ দিন। চারা বের হওয়ার পর নিয়মিত সেচ, সার প্রয়োগ ও অন্যান্য যত্ন পরিচর্যা করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো যে, বীজ থেকে সজিনা উৎপাদনের ক্ষেত্রে ডাল পুঁতে অঙ্গজ বংশবিস্তারের চেয়ে দেরিতে ফল আসে। আমাদের দেশে ডাল পুঁতে অঙ্গজ উপায়ে বংশ বিস্তার পদ্ধতিটি বেশি ব্যবহৃত হয়। তার কারণ হলো, এটি করতে তেমন দক্ষতার প্রয়োজন হয় না। আর খরচও কম, অঙ্গজ বংশবিস্তারের জন্য ৪-৫ ব্যাসের বা বেডের ৫-৬ হাত লম্বা নিরোগ ডাল এবং আঘাতমুক্ত ডাল ব্যবহার করা ভালো। নতুন লাগানো গাছে সেচের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে শীঘ্রই শিকড় গজাতে পারে। শুষ্ক ও গ্রীষ্ম মৌসুমে প্রায় দুই মাস সেচ দিতে হবে। তবে সাজনার গাছ একবার লেগে গেলে তেমন পানির প্রয়োজন হয় না। সজিনার গাছে তুলনামূলক কীট-পতঙ্গ ও রোগ সহনশীলভাবে মাঝে মাঝে প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। যেমন জলাবদ্ধ মাটিতে শিকড় পচা রোগ দেখা দিতে পারে এর কারণ ডিপ্লোডিয়া। কীট-পতঙ্গ শুষ্ক ও ঠাণ্ডায় বেশি আক্রমণ করে। কীট-পতঙ্গ দ্বারা গাছে হলুদ রোগ দেখা যায়। কীট-পতঙ্গের মধ্যে টারমাইটস, এফিড, সাদা মাছি প্রধান। সজিনার পাতা বেটে ফোঁড়া বা টিউমারে লাগালে বহু ক্ষেত্রে মিলিয়ে যায় এবং ফোলা ও ব্যথার উপশম হয়। স্বাদে ও গুণে ভরপুর সজিনা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন করা লাভজনক। কারণ অন্যান্য সবজির মতো এর উৎপাদনে তেমন ঝুঁকি নেই এবং লাভজনক।

আমের মুকুলে ভরে গেছে আঙিনা


দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর গ্রামগঞ্জে আমগাছ মুকুলে মুকুলে ভরে উঠেছে। সেই সঙ্গে বাতাসে ছড়াচ্ছে মুকুলের মৌ-মৌ গন্ধ। বাড়ির আনাচে-কানাচে এমন কোনো আমগাছ নেই যেখানে গাছে মুকুল দেখা যায় না। ম্যাংগো হুপার মুকুলের ক্ষতি না করলে এ বছর এ অঞ্চলে দেশীয় আমের ফলন ভালো হবে বলে আশা করা যায়। কিন্তু সামান্যতম সচেতনতার অভাবে এ এলাকার আম চাষিরা আমের বাম্পার ফলন থেকে বঞ্চিত হোন প্রতি বছর। অথচ সামান্য সচেতন হলেই আমরা আম উৎপাদনের সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আমের উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতে পারি। আরও পারি উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে আমের বাজারজাতকরণ ও পরিবারের আর্থিক উন্নয়ন ঘটাতে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ও ফল বিশেষজ্ঞ ড. মাহবুব রব্বানী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, আম গাছের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এক বছর অন্তর অন্তর ফুল ও ফল ধারণ করে। অর্থাৎ এক বছর ফল ভালো হয় পরের বছর ফল কম হয়। গত বছর দক্ষিণাঞ্চলে আমের ছিল অফ-ইয়ার। গত বছর এ অঞ্চলে আমের ফলন ছিল না বললেই চলে। এ বছর দক্ষিণাঞ্চলে আমের অন-ইয়ার। যে কারণে এ বছর প্রতিটি আম গাছে মুকুল ধরেছে। ড. রব্বানী আরো বলেন, বর্তমানে প্রতি বছর আম গাছে যাতে আম ধরে সে জন্য চান্স সিডলিং এর মাধ্যমে উন্নত জাতের যেমন_ ফজলি, ল্যাংরা ও মোহন ভোগ প্রভৃতি আমের বাগান তৈরি হচ্ছে। এতে প্রতি বছরই মুকুল ও আম ধরে। বাউফল উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণাঞ্চলের জেলাসমূহ বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, বরগুনা, পিরোজপুর ও ঝালকাঠীতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কেউ উন্নত জাতের আম বাগান তৈরি করে না। তবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উন্নত জাতের আমের বাগান তৈরি হয়। ভবিষ্যতে আবহাওয়া বিরূপ না হলে আমের বাম্পার ফলনই আশা করছি। এলাকার যেসব আম গাছে এখন মুকুল বের হচ্ছে অথচ ফোটেনি এমন গাছে প্রতি ১০ লিটার পানিতে ২ ছিপি (কর্ক) হারে রিফকর্ড / একতারা / ওস্তাদ / শিমবুস-এর যে কোনো একটির সঙ্গে প্রতি ১০ লিটার পানিতে ৪০ থেকে ৪৫ গ্রাম যে কোনো ধরনের ছত্রাক নাশক যেমন থিয়োভিট / রনোভিট/ এগ্রোভিট / নয়িন ইত্যাদি স্প্রে করা যেতে পারে। এরপর যখন আমের মুকুল ফুটে তা মোটর দানার আকার ধারণ করবে; তখন আমের অ্যানথার্ক নোজ বা কালো দাগ ধরা রোধে প্রতি ১০ লিটার পানিতে ১০ মিলি লিটার হারে ফলিকুর বা স্টিল্ট প্রয়োগ করা যেতে পারে। অবশেষে আম পাকার ঠিক আগে এক ধরনের মাছির আক্রমণে আমের গায়ে ছিদ্র দেখা যায়। আর ওই ছিদ্রে ওই সব মাছি ডিম পেড়ে যায়। আর তা থেকে এক ধরনের পোকা জন্মে। ওই পোকার আক্রমণে আম ঝরে পড়ে। ওই ঝরে পড়া রোধে আবার প্রতি ১০ লিটার পানিতে ২ ছিপি (কর্ক) হারে রিফকর্ড / একতারা / ওস্তাদ / শিমবুস-এর যে কোনো একটি স্প্রে করতে হবে। আমচাষি ভাইয়েরা যদি উপরি বর্ণিত পদ্ধতি মেনে চলেন তাহলে আমের বাম্পার ফলন নিশ্চিত সম্ভব হবে।

মনের উঠোনে

সাম্প্রতিক সংযোজন

মোবাইল থেকে দেখুন

আমাদের দেশ এখন আপনার মুঠোফোনে, মোবাইল থেকে লগইন করুন আমাদের দেশ

দ র্শ না র্থী

দ র্শ না র্থী

free counters

কে কে অনলাইনে আছেন